কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- সকল বিষয়ে নোবেল-বিজয়ীসহ গ্যালিলিও-নিউটন-আইনস্টাইনের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের কেউই কোনো ধর্মবিদ্বেষী ছিলেন না, এখনো নেই। গ্যালিলিও ও নিউটন বরং আস্তিক ছিলেন। আর আইনস্টাইন অন্তত স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন না। এদিকে তিন জন বিজ্ঞানীসহ যে'কজন মুসলিম নামধারী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের সকলেই ইসলামে বিশ্বাসী।
- বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে শুরু করে বিজ্ঞান-ভিত্তিক সেমিনার-কনফারেন্স, বিজ্ঞানের পাঠ্য বই-পুস্তক, সারা বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, নাসা, কিংবা জাতিসংঘের অধিবেশনেরও কোথাও ইসলামবিদ্বেষ বা ধর্মবিদ্বেষ নেই। বৈজ্ঞানিক জার্নালে বরং কুরআন-হাদিসের পক্ষেই আলোচনা আছে। [সূত্র]
- সর্বোচ্চ প্রতিভাবান (Great Genius) ব্যক্তিরা কখনো ধর্মবিদ্বেষী হয় না। যেমন, নোবেল ও অস্কার পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই। অনুরূপভাবে, খেলাধূলা ও অভিনয়-সহ যেকোনো বিষয়ে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্তদের মধ্যেও কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই। আবার কৃষক-শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যেও সহসা কোনো ধর্মবিদ্বেষী খুঁজে পাওয়া যাবে না। তার মানে ধর্মবিদ্বেষীরা বড়জোর মাঝারি মানের (mediocre quality) হয় - বিশেষ করে মুসলিম নামধারী থেকে যারা ইসলামবিদ্বেষী হয়েছে তাদের সকলেই নিম্ন থেকে মাঝারি মানের। ইট'স আ ফ্যাক্ট!
১. অভিরায়ের 'বিজ্ঞানমনস্ক' মুরিদদের আইডিগুলো যদি যাচাই করা হয় তাহলে সেখানে ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী আবর্জনা আর হাবিজাবি প্রলাপ ছাড়া বিজ্ঞান নিয়ে নিজেদের গবেষণামূলক কিছু তো দূরে থাক, এমনকি বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখিরও তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না। তবে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লিখার উদ্দেশ্যে কারো কারো ব্লগে বিজ্ঞান বা বিবর্তনবাদ নিয়ে কিছু বিনোদন পাওয়া যেতে পারে। অথচ অভিরায় নাকি তাদেরকে 'বিজ্ঞানমনস্ক' বানিয়েছে! 'বিজ্ঞান'-এর নামে এর চেয়ে বড় শুভঙ্করের ফাঁকি আর কী হতে পারে?
নিচে 'আবুল কাশেম' ছদ্মনামে অভিরায়ের বাবার বয়সী এক বিশিষ্ট (এক্স-মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট) মুরিদের বিশাল গুবেষণা ভাণ্ডারের একটি নমুনা সবাই দেখে রাখেন। তার ইংরেজীতে লিখা 'কামকেলি ভাণ্ডার' আবার কোনো এক কামসূত্র-প্রেমী বাংলায় অনুবাদ করে 'খেলারাম পাঠক' নিকে ধর্মের মতো করে সারা অন্তর্জালে প্রচার করেছে। এজন্য তাকে কী পরিমাণ সময় ব্যয় করতে হয়েছে, ভাবা যায়!
অভিরায়ের এই সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ মুরিদের 'মানসিকতা' বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার নিজের যৌনউন্মাদীয় চিন্তাভাবনাকে ইসলামের নবীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছে! হাবিবুর রহমান নামে অভিরায়ের আরেক বাবার বয়সী মুরিদও ছদ্মনামের আড়ালে একই ধরণের আকাম-কুকাম করেছে। আর 'থাবা বাবা' নিকে রাজীব হায়দারের লেখার 'বিষয়বস্তু' সম্পর্কেও অনেকেই অবগত। অভিরায় এগুলোকে দিনে দুপুরে সবার সামনে 'মুক্তচিন্তার চর্চা' নামে চালিয়ে দিয়েছে! তার নিজের গুবেষণা ভাণ্ডার থেকেও 'মুক্তচিন্তার চর্চা'-র একটি নমুনা দেখা যাক-
ইসলাম ও ইসলামের নবীকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ চটি লেখাকে কেউ 'যুক্তিবিহীন অশ্লীল' বললে, তাতে অভিরায়ের চরম প্রতিক্রিয়াশীল মগজের অনুভূতিতে আঘাত লাগে! ক্যামনে কী! এজন্য কুরআনের মধ্যে অশ্লীল আর মিথ্যা তথ্য গুঁজে দিয়ে 'প্রমাণ' করে দেয় যে, রাজীবের চেয়ে ঢের আশ্লীল, কুৎসিত এবং বিদ্বেষী বক্তব্য কুরআনেই আছে! অভিরায় এভাবে মিশন্যারী স্ট্যাইলে কুরআন-হাদিসের নামে অসংখ্য মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য প্রচার করেছে।
যাইহোক- বিজ্ঞানীরা যেখানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রাতদিন গবেষণা আর পরিশ্রম করে মানব কল্যানে একের-পর-এক আবিষ্কার করছেন, ভিনগ্রহে পানি ও জীবের সন্ধান করছেন — সেখানে 'নাস্তিক-মুক্তমনা-বিজ্ঞানমনস্ক'রূপী বঙ্গাল অভিগ্যাং বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চৌদ্দশ' বছর পেছনে যেয়ে ইসলাম ও ইসলামের নবীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুবেষণা করে 'বিশ্বাসের ভাইরাস' আর 'কামকেলি' আবিষ্কার করেছে!!! 😛 শুধু তা-ই নয়, অভিরায়ের মুরিদরা কোনো এক ভারতীয়র দুটি প্যাটেন্ট চুরি করে নিজেদের ধর্মগুরুর নামে চালিয়ে দিয়ে তাকে 'বিজ্ঞানী' বানাতে যেয়ে হাতেনাতে ধরাও খেয়েছে! [সূত্র] বিজ্ঞানের ইতিহাসে এইটা সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারীগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হয়ে থাকবে।
২. অভিরায়ের 'বিজ্ঞানমনস্ক' মুরিদরা বিজ্ঞানের বই-পুস্তক ছেড়ে 'গভীর অনুধাবন'-সহকারে মাতৃভাষা বাংলায় সমগ্র কুরআন পাঠ শেষ করে মুসলিমদেরকেও একই আহ্বান জানিয়েছে! বাব্বাহ্! মুসলিমদের মধ্যে যারা এখনো মাতৃভাষা বাংলায় একটিবারের জন্যেও সমগ্র কুরআন বুঝে পড়েনি তাদের জন্য সত্যিই করুণা হয়! তাদের মনে কি ইচ্ছাটুকুও জাগে না?
৩. 'রায়হান আবীর' নামে এক যুবক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কোনো একটি বিষয় থেকে পাশ করে ঢাবি-তে পিএইচডি শুরু করেছিল। কিন্তু অভিরায়ের খপ্পরে পড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখতে যেয়ে আম-ছালা (পিএইচডি-গবেষণা) সব খুইয়ে অবশেষে কাহিনী ফেঁদে অ্যাসাইলাম ভিসায় স্ত্রী-সন্তানসহ ক্যানাডায় আশ্রয় নিয়ে দান-খয়রাতের জন্য হাত পাততেছে! [সূত্র] এদিকে 'দাঁড়িপাল্লা ধমাধম' নামে অনেক পুরাতন একটি 'খাঁটি মুক্তমনা' আইডি থেকে অভিরায় হত্যার পেছনে তাকেই দায়ি করা হয়েছে! [সূত্র] ল্যাও ঠ্যালা! আমার নামের সাথে মিল থাকার কারণে অভিরায় প্রায়ই তার ঘাড়ে বন্দুক রেখে আমাকে বিভিন্নভাবে ব্যক্তি-আক্রমণ ও হেয় করতো। একই কাজ সে তার মডারেটমনা মুরিদ আজীম মাহমুদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গেও করেছে।
(আহ্! আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম আর যেখানে সেখানে হয়রান হতাম!)
একজন সাম্প্রদায়িকমনা মিশন্যারীর কাছে নোবেল-বিজয়ী বিজ্ঞানী কিংবা জামাল নজরুল ইসলামের মতো পদার্থবিদের চেয়ে নিম্ন থেকে মাঝারি মানের খৎনাধারী নাস্তিকরা অনেক বেশি মূল্যবান ছিল! কেননা নিম্ন থেকে মাঝারি মানের খৎনাধারীদেরকে বিজ্ঞানের নামে সহজেই মস্তক ধোলাই করে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়।
৪. কিছুদিন আগে একজন একটি পোস্টের লিঙ্ক শেয়ার দিয়ে বলেছে যে, বন্যা আহমেদ TEDx-এ লেকচার দিয়েছেন। আমি খুশী হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধরে নিয়েছি যে, লেকচারটি অবশ্যই বিবর্তনবাদ নিয়ে হবে। কেননা অভিরায়ের সার্বিক সহযোগিতায় তার (দ্বিতীয়) স্ত্রী বিবর্তনবাদ নিয়ে মিশন্যারী স্ট্যাইলে একটি বই লিখেছেন। সেই বই পড়ে মুসলিম পরিবারের কিছু তরুণ নাস্তিক হয়েছে। তো যাইহোক, বিবর্তনবাদ নিয়ে লেকচার শোনার আশায় সেই লিঙ্কে ক্লিক করে শোনা শুরু করি। প্রথম বাক্যটা শুনে কিছুটা সন্দেহ হয়। উনি শুরু করেছেন এভাবে-
"In 2015 February, my husband Avijit Roy Avi and I were attacked by the Islamist fundamentalists…" (নোট: এখানে অভিরায় স্ট্যাইলে অপরাধীদের ধর্মীয় পরিচয়কে হাইলাইট করা হয়েছে, তাও আবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই।)
এটুকু শুনে মনে করলাম পরে অবশ্যই বিবর্তনবাদ নিয়ে উনার নিজস্ব গবেষণামূলক কিছু বক্তব্য থাকবে। কিন্তু না! শুনতে শুনতে পুরোটাই শোনা হয়ে গেল, অথচ বিবর্তনবাদ নিয়ে একটি বাক্যও কানে এলো না! প্রচণ্ড হতাশ হয়ে সেই পোস্টের সূত্র ধরে TEDx-এর সাইটে যেয়ে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। উনি বিবর্তনবাদ নিয়ে 'গবেষণা' ছেড়ে দিয়ে টেক্সাসের অস্টিনে ইসলামিক মৌলবাদ নিয়ে গোবেষণা করছেন! চোখের সামনে এমন বিবর্তনও দেখতে হলো! তবে মজার বিষয় হচ্ছে উনার এহেন 'বিবর্তন' নিয়ে মনাদের মধ্যে কোথাও কোনো রকম অভিযোগ, অনুযোগ, বিকার বা হাসিঠাট্টা জাতীয় কিছুই নেই as though it's absolutely alright!
মোদ্দা কথা হচ্ছে অভিরায়ের নিজ হাতে তৈরী একজন মুসলিম নামধারী (বাম-নাস্তিক) মুরিদ ও বিজ্ঞানের ছাত্রী বিজ্ঞানকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক মৌলবাদ নিয়ে গোবেষণা করছেন! বিজ্ঞান-বিবর্তনবাদ চুলায় যাক! তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ স্কলার হিসেবে সুযোগ পেতে হলে সেই বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে নাকি? উনি ঠিক কী যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতা নিয়ে ইসলামিক মৌলবাদের উপর গোবেষণার সুযোগ পেয়েছেন, কে জানে! উনার 'আহমেদ' নাম আর 'নাস্তিক' পরিচয়টাই হয়তো এক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে! উনি হয়তো বুঝে গেছেন যে, বিবর্তনবাদ নিয়ে অভিরায় স্ট্যাইলে সারা জীবন ধরে 'গবেষণা' করেও কিছুই করা যাবে না। তার চেয়ে বরং তসলিমা নাসরিন বা আয়ান হিরসী আলীর মতো মাথা না-খাটানো সহজ পথ ধরলে রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়া যাবে। ফলাফলও হাতেনাতে পেয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত উনি বিবর্তনবাদ নিয়ে 'গবেষণা' করেছেন ততদিন পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের কোনো মহল থেকেই লেকচারের জন্য ডাক পড়েনি! অথচ (দ্বিতীয়) স্বামীর হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে ইসলামিক মৌলবাদ নিয়ে গোবেষণা শুরুর পর ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন মহল থেকে উনার 'জ্ঞানগর্ভ লেকচার' শোনার জন্য একের-পর-এক ডাক পাওয়া শুরু করেছেন!
৫. বছর খানেক আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নায়ক রাজ্জাক এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়ক আব্দুল জব্বার মারা গেলেন। এর আগে-পরে সাংস্কৃতিক জগতের আরো কিছু জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বও মারা গেছেন। অথচ তাদের কাউকে নিয়েই মনাব্লগে কোনো লেখা আসেনি! কেউ কেউ বড়জোর তাদের কোনো একটি গানের ইউটিউব লিঙ্ক দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে!!! অর্থাৎ বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক ও গায়ককে নিয়ে তারা একটি লাইনও ব্যয় করার প্রয়োজন মনে করেনি! কিন্তু কেন? কারণ: ১মত- তাদের কেউই ইসলামবিদ্বেষী কিংবা স্বঘোষিত নাস্তিকও ছিলেন না, ২য়ত- তাদের কারো বিরুদ্ধে হুজুরদের কোনো ফতোয়া নেই, এবং ৩য়ত- তাদের কেউই অভিরায়ের ভাষায় 'সহি ইসলামিক চাপাতি'র কোপে নিহত হয়নি। এই তিনটি কারণের কোনো একটির পক্ষে যদি পরোক্ষভাবেও কিছু প্রমাণ থাকতো তাহলে সেটিকে পুঁজি করে ঠিকই বেশ কিছু লেখা দেখা যেত। এই হচ্ছে অভিরায়ের তৈরী 'বিজ্ঞানমনস্ক' মুরিদদের অবস্থা। অথচ তাদের প্রায় প্রত্যেকেই তাদের গুরুজীকে নিয়ে হাজার হাজার লাইন ব্যয় করেছে।
যাইহোক- খোঁজ নিলে দেখা যাবে অভিরায়ের খপ্পরে পড়ে মুসলিম পরিবারের অনেক তরুণ-যুবকের সর্বনাশ হয়েছে। 'ঈশ্বরহীন' ওরফে সামীর মানবাদী নামে এক যুবক তো আত্মহত্যাই করেছে। তাছাড়া স্বয়ং অভিরায়ের ১ম স্ত্রীর আত্মহত্যার পক্ষেও জোরালো যুক্তি আছে। তার ছড়ানো ভাইরাসে আক্রান্ত রুগীরা কোনো এক স্বর্গের লোভে বছরের-পর-বছর ধরে ইসলামের বিরুদ্ধে লেগে আছে। তাদেরকে পেছন থেকে লাইক-কমেন্ট-সুরসুরি দিয়ে চাঙ্গা রাখছে অভিরায়ের স্বগোত্রীয়রা। অন্যান্য ধর্মীয় পরিবারের নাস্তিকদের কাউকেই টানা ১৬-১৮ বছর তো দূরে থাক, এমনকি একটানা দু-এক বছর ধরেও তার সাবেক ধর্মের বিরুদ্ধে মিথ্যা-বিদ্বেষপূর্ণ প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়াতে দেখা যায় না। এতেই প্রমাণ হয় যে, ইসলামবিদ্বেষ একটি রোগের মতো। তবে এই রোগে আক্রান্ত রুগীদের চিকিৎসার জন্য কোনো ঔষধপত্রের দরকার নাই। তাদেরকে শুধু বিজ্ঞান-মুখী করতে পারলেই এই রোগ এমনি এমনি সেরে যাবে, কেননা বিজ্ঞানে ইসলামবিদ্বেষ বলে কিছু নেই। বৈজ্ঞানিক জার্নালে বরং ইসলামের পক্ষেই আলোচনা আছে। [সূত্র]
পয়েন্টস টু বি নোটেড: অভিরায়দের দাবি অনুযায়ী মুসলিমরা বিজ্ঞান বোঝে না, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে না। এমনকি তারা ইসলামও বোঝে না! তারা বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত রুগী, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, অসভ্য, বর্বর, অন্ধকারের যাত্রী, পশ্চাৎপদ। তারা সপ্তম শতাব্দীর প্রাচীন একটি ধর্মগ্রন্থের মধ্যে মাথা গুঁজে থাকে। ইত্যাদি। ইত্যাদি। এজন্য সে নিজে 'নাস্তিক-মুক্তমনা' সেজে 'আলোর মশাল' হাতে অন্ধকারের যাত্রীদেরকে ইসলাম ও বিজ্ঞান শিখিয়ে থাবা বাবা আর আবুল কাশেমের মতো 'আলোকিত' করার মিশন হাতে নিয়েছিল। অথচ সে নিজে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা না করে অধিকাংশ সময় সপ্তম শতাব্দীর 'অন্ধকার গুহা'র মধ্যে মাথা গুঁজে থেকেছে! তার মুরিদরাও তার দেখানো পথ অনুসরণ করছে।
"Alif. Lam. Ra'. This is a Book (Al-Qur'an) which We have revealed to you (Muhammad) that you may bring forth mankind from every kind of darkness into light, and direct them, with the leave of their Lord, to the Way of the Mighty, the Innately Praiseworthy." [Qur’an 14:1]
কুরআনের এই আয়াত পড়ার পর অভিরায় নিজেই 'নবী' (আলোর মশাল!) সেজে মুসলিম নামক অন্ধকারের যাত্রীদেরকে 'আলোর পথ' দেখানোর মতো গুরুদায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিল কি-না, কে জানে!
উপসংহার:
-অভিরায় পারিবারিক সূত্রে ব্রাহ্মণ থেকে নিজেকে 'নাস্তিক-মুক্তমনা' দাবি করে বিভিন্ন ইস্যুকে পুঁজি করে কথায় কথায় ইসলামকে 'ভাইরাস', 'অযৌক্তিক', 'অবৈজ্ঞানিক', 'অমানবিক', 'নারী-বিদ্বেষী', 'নাস্তিক-বিদ্বেষী', 'ইহুদী-খ্রিস্টান-বিদ্বেষী', ইত্যাদি বানিয়ে দিয়ে বিশাল বিশাল প্রবন্ধ লিখেছে। তার সাথে ভারত-বাংলাদেশের তার স্বগোত্রীয় ধার্মিকরাও যোগ দিয়েছে। অথচ ভারতে এ পর্যন্ত কয়েক জন মুক্তচিন্তককে হত্যা করা হয়েছে। গোমাংস খাওয়ার বা বহন করার গুজব তুলে একের-পর-এক মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। নিম্ন বর্ণের মানুষদেরকেও নিয়মিত হত্যা-নির্যাতন করা হচ্ছে। আর এগুলোর সবই করা হচ্ছে ধর্মের নামে। অথচ এগুলোকে পুঁজি করে মুক্তমনা ব্লগে কিংবা ভারতীয় কোনো ব্লগেও সেই ধর্মের বিরুদ্ধে অভিরায় স্ট্যাইলে কোনো পোস্ট দেখা যায় না। এ থেকে যেকারো বুঝার কথা যে, বাংলা অন্তর্জালে ইসলামবিদ্বেষের নেপথ্যে-নেতৃত্বে আছে তারাই।
-অভিরায় তার নামের কারণে সব সময় নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানকে 'ঢাল' বানিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লিখেছে। এজন্য তাকে 'বিজ্ঞান' নিয়ে অনেক লেখালেখিও করতে হয়েছে। নামের কী জ্বালা-রে বাবা! অন্যদিকে সে তার খৎনাধারী মুরিদদেরকে ধর্ম নিয়ে লিখার জন্য তাগাদা দিয়েছে। যার কারণে তার মুরিদরা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা ছেড়ে দিয়ে - বা গবেষণা না করে - ইসলাম ও ইসলামের নবীকে নিয়ে গুবেষণা করছে, চটি লিখছে, বিদ্বেষপূর্ণ মিথ্যাচার করছে। কেউ কেউ দীর্ঘ ১৬-১৮ বছর ধরে, কেউ কেউ বা ৮-১০ বছর ধরে চাবি মেরে দেওয়া অটো-মেশিনের মতো বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে থেকে অভিরায় পেয়েছে 'বিজ্ঞানী'-সহ অসংখ্য ভালো ও মহান খেতাব, অনন্ত বিজয় দাশ পেয়েছে 'বিজ্ঞানমনস্ক লেখক' খেতাব, নিলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় পেয়েছে 'সমাজকর্মী' খেতাব — আর অন্যদিকে রাজীব হায়দার (থাবা বাবা), ওয়াশিকুর বাবু, ও নাজিমুদ্দিন সামাদের মতো খৎনাধারীরা পেয়েছে 'কচু' খেতাব! ইসলামে 'কাম ও কামকেলি'-র আবিষ্কারক আবুল কাশেম মোল্লা কী খেতাব পেতে পারে, পাঠক?
-এদিকে অভিরায়ের অন্যান্য ইসলামবিদ্বেষী মুরিদদের প্রায় সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে 'জামাতী', 'বামাতী', 'বামৈসলামিক', 'বামছাগু', 'লালছাগু', 'রাজাকারের বাচ্চা', 'আইসিস' ইত্যাদি খেতাব পেয়েছে! পান থেকে চুন খসার সাথে সাথে এই 'খেতাবগুলো' দিচ্ছে অভিরায়ের স্বগোত্রীয়রাই। যাদের জন্য চুরি-চামারি করা, তারাই আবার কথায় কথায় 'চোর-ছ্যাঁচ্চর' বলে গালি দিচ্ছে! এমনকি মুক্তমনা ব্লগের দীর্ঘদিনের মডুকে তো একাধারে 'জামাতী', 'বামাতী', 'ছুপা ইসলামিস্ট', 'পার্ভার্ট', এবং 'আইসিস' পর্যন্ত বলা হয়েছে! তাহলে দেখা যাচ্ছে দিন শেষে অভিরায় একজন 'বিজ্ঞানী', আর তার ইসলামবিদ্বেষী মুরিদরা নামের কারণে 'ছাগু-জঙ্গি'-ই রয়ে গেছে! অভিরায় তার ধর্মান্তরিত মুরিদদের গা থেকে 'ছাগু-জঙ্গি' গন্ধটাই মুছে যেতে পারেনি! কী লজ্জা! কী লজ্জা! নাম ও খৎনা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত তাদেরকে সারা জীবন ধরে 'ছাগু', 'বামাতী', 'বামৈসলামিক', 'বামছাগু', 'লালছাগু', 'রাজাকারের বাচ্চা', 'আইসিস' ইত্যাদি হয়েই থাকতে হবে যে! 😛
(আমুব্লগের 'মানবতাবাদী'-সহ মনাব্লগের 'রফিক', 'রাহাত খান', ও 'ফাহিম রেজা' আইডিগুলোর কথা আজীম মাহমুদ বেমালুম ভুলে গেছে! আফসোস! অথচ এই আইডিগুলো থেকে তার মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে কত কিছুই না করা হয়েছে! এমনকি তাকে ঘোল খাইয়ে 'নরেশ মন্ডলের হিন্দু পোলা'ও বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল! আজীম মাহমুদ অবশ্য তাতে কোনো আপত্তি করেনি! আজীম মাহমুদের দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস যে, এই আইডিগুলোর আড়ালে একেক জন করে 'ছাগু' ছিল যারা অভিরায় ও সুশান্তের ব্লগে ঢুকে পড়ে ইসলাম ও মুসলিম ব্লগারদের উপর অতর্কীতে হামলে পড়েছিল! সেই আইডিগুলোর সাথে অভিরায়ের নাম উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে তারা আজীম মাহমুদকে ঘোল খাইয়ে 'নরেশ মন্ডলের হিন্দু পোলা' বানিয়ে দিয়ে অক্কা গেছে! অভিরায়ের দ্বারা মস্তক ধোলাই হওয়া অন্ধ পূজারীরা ঠিক এভাবেই বিশ্বাস করে আমাদেরকে গালিগালাজ করেছে!)
-অভিরায়ের খপ্পরে পড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করার পর আজ পর্যন্ত কারো পিএইচডি বা বৈজ্ঞানিক জার্নালে পেপার প্রকাশ করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার পরিবর্তে বরং কাউকে কাউকে পিএইচডি গবেষণা ছেড়ে দিয়ে ইসলাম নিয়ে গুবেষণা করতে দেখা যাচ্ছে! বাকিরাও বিজ্ঞান ছেড়ে মূলত ইসলাম ও ইসলামের নবীকে নিয়ে গুবেষণা করছে। কেউ কেউ বিজ্ঞান ছেড়ে কলাবিজ্ঞান নিয়ে লিখছে! কেউ কেউ আবার অ্যাসাইলাম ভিসায় উন্নত বিশ্বে আশ্রয় নিয়েও ইসলাম নিয়ে গুবেষণা করছে। কিন্তু কোথাও বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা নাই!
-অভিরায়ের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার পঞ্চাশোর্ধ-ষাটোর্ধ মুরিদদের কেউ কেউ যৌনউন্মাদের মতো আচরণ করা শুরু করেছে। তারা ইসলামের নবী ও তাঁর একজন স্ত্রীকে নিয়ে চরম অশ্লীল কার্টুন শেয়ার দিয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের যৌনউন্মাদীয় চিন্তাভাবনাকে ইসলামের নবীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ ইসলামের নবীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে চেঙ্গিস খানকে 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানব' আখ্যা দিয়েছে। কেউ কেউ আবার জার্মানিতে বসে গুবেষণা করে কুরআনকে 'সেরা চটিগ্রন্থ (দ্যা হলি শিট্)' প্রমাণ করেছে। [সূত্র] এগুলোই হচ্ছে অভিরায়ের মৌলিক শিক্ষা। অভিরায় নিজেসহ তার মুরিদরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করেছে, মুসলিমদের অনেকেই তার একাংশ সময়ও ইসলামের পক্ষে ব্যয় করে না!
যাইহোক- এই পোস্টের পাঠকদেরকে সাক্ষী রেখে অভিরায়ের 'বিজ্ঞানমনস্ক' মুরিদদেরকে বিজ্ঞান (Natural Science) নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। মুসলিম ব্লগাররা তাদের আইডিগুলোর দিকে নজর রাখতে পারেন। তারা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি শুরু করে কি-না, দেখুন।
দ্যা ট্রিলিয়ন-ডলার প্রশ্ন: 'নাস্তিক-মুক্তমনা'রাই যেখানে বিজ্ঞান ছেড়ে ইসলাম নিয়ে গুবেষণা করে 'বিজ্ঞানমনস্ক' হচ্ছে, সেখানে মুসলিমরা কোন্ যুক্তিতে ইসলাম ত্যাগ করে 'বিজ্ঞানমনস্ক' হবে!?
সত্যি বলতে- আধুনিক যুগে ইসলাম ছাড়া বিজ্ঞানের আলোচনা তেমন একটা জমে না! মুক্তমনা ব্লগের বিজ্ঞান নিয়ে পোস্টগুলোই তার পক্ষে জ্বলন্ত সাক্ষী হয়ে আছে। যে'সকল পোস্টে বিজ্ঞান আছে কিন্তু ইসলাম নাই, সেগুলো মোটেও জমেনি! কিন্তু যে পোস্টগুলোতে ইসলাম ও বিজ্ঞান উভয়ই আছে, সেগুলো বেশ জমেছে! তবে যেগুলোতে শুধুই ইসলাম আছে, সেগুলো মনে হয় আরো বেশী জমেছে! তাহলে দেখা যাচ্ছে 'নাস্তিক-মুক্তমনা-বিজ্ঞানমনস্ক'দের কাছে ইসলাম ছাড়া বিজ্ঞানের তেমন কোনো কদর নাই! তাদের প্রত্যেকের আইডি ধরে একে একে চ্যালেঞ্জ করা হলে তাদের অবস্থা যে কতটা নাজুক হতে পারে, সেটা বুদ্ধিমান পাঠক ইতোমধ্যে বুঝতে পারার কথা।

এস. এম. রায়হান
আগস্ট ১৬, ২০১৮ at ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধর্মবিদ্বেষীরা যে বড়জোর মাঝারি মানের (mediocre quality) হয়, তার পক্ষে প্রমাণ:
-- নোবেল-বিজয়ী'সহ বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- অস্কার পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত দাবারুদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত ক্রিকেটারদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত ফুটবলারদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত সাঁতারুদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত অ্যাথলেটদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বিখ্যাত মানবতাবাদীদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই।
-- বঙ্গবন্ধু'সহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, ও বীরপ্রতীক উপাধিপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই। ৫২-র ভাষা-শহীদদের মধ্যেও কোনো ধর্মবিদ্বেষী ছিল না। এমনকি মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ীদের মধ্যেও কোনো ধর্মবিদ্বেষী নেই। তার মানে ধর্মবিদ্বেষীরা কাপুরুষও হয়!
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ১৬, ২০১৮ at ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বন্যা আহমেদের প্রতি কিছু প্রশ্ন:
১. বিজ্ঞানে বা কোনো বিষয়েই আপনার পিএইচডি নাই। বৈজ্ঞানিক জার্নালে কোনো পেপার আছে বলেও মনে হয় না। আর থাকলেই বা কী! এই অবস্থায় মুসলিমদেরকে বিজ্ঞান বা বিবর্তনবাদ শেখানোর জন্য নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন কি?
২. বিবর্তনবাদ নিয়ে আপনি দীর্ঘদিন ধরে গোবেষণা করছেন। বিবর্তনবাদের উপর বই পর্যন্ত লিখেছেন। এই বিষয়ের উপর বৈজ্ঞানিক জার্নালে কোনো পেপার পাঠিয়েছেন কি-না? না পাঠিয়ে থাকলে এতদিন ধরে আপনার ভূমিকা-টা তাহলে কী ছিল?
৩. ধরা যাক, বিয়ের অল্প দিনের মাথায় একজন পুরুষের স্ত্রী আকস্মিকভাবে মারা গেছে। তারপর দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরে সে তার প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে একটি লাইনও লিখার প্রয়োজন মনে করেনি। অথচ সে বিশেষ একটি ধর্মের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ঘন্টা সময় ব্যয় করেছে, অসংখ্য বিতর্ক করেছে, ক্যাম্পেইন করেছে, বই-পুস্তক লিখেছে, ইত্যাদি। শুধু তা-ই নয়, তার নিজ ধর্মের নারীদের মৌলিক কিছু অধিকার (যেমন: সম্পত্তির অধিকার, তালাকের অধিকার, ইত্যাদি) নিয়েও কিছু লিখেনি। অথচ সে ভিন্ন একটি ধর্মের নারীদের অধিকার নিয়ে মায়াকান্না করেছে, সেই ধর্মকে কথায় কথায় 'ভাইরাস' প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। এমন একজন পুরুষকে আপনি 'নাস্তিক' বা 'মুক্তমনা' বা 'মানবতাবাদী' মনে করেন কি?
৪. আপনি একজন বামপন্থী বা বাম আদর্শের। অন্যদিকে আপনার দ্বিতীয় স্বামী ছিল একজন অ্যান্টি-বাম ও মার্ক্সবাদের কঠোর সমালোচক। অথচ আপনি আপনার দ্বিতীয় স্বামীর 'আদর্শ' বাস্তবায়নের জন্য লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নিজে বামপন্থী হয়ে একজন অ্যান্টি-বামের ঠিক কোন্ 'আদর্শ'টা বাস্তবায়ন করতে চান? সেই 'আদর্শ'টা আসলে কী? কোন্ দেশে সেটি বাস্তবায়ন করতে চান? সেই 'আদর্শ'টা কি বামপন্থার মধ্যে নেই? একটু পরিস্কার করে বলা যাবে কি? তাছাড়া যারা নবী-রাসূল বা দেবতা-অবতারের আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বলে, তাদের সাথে আপনার পার্থক্য কোথায়?
৫. আপনি আপনার দ্বিতীয় স্বামীকে 'Intellectually fulfilled atheist' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে কিছু প্রশ্ন: ক. কেউ 'Intellectually fulfilled atheist' নাকি 'Intellectually unfulfilled atheist', সেটা কীভাবে প্রমাণ করা যাবে? খ. আপনি নিজে কি তাহলে 'Intellectually fulfilled atheist' না!? গ. সারা বিশ্বের নাস্তিকদের মধ্যে কতজন 'Intellectually fulfilled atheist' আর কতজন 'Intellectually unfulfilled atheist'? এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র-সহ কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া যাবে কি? রাজীব ওরফে থাবা বাবা, তসলিমা নাসরিন, আবুল কাশেম, অনন্ত বিজয়, নিলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়, ও ওয়াশিকুর বাবু-রাও কি 'Intellectually fulfilled atheist'? উত্তর যদি 'না' হয়, তাহলে কেন নয়? আর উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয়, সেক্ষেত্রে বিশেষ একজনকে 'Intellectually fulfilled atheist' আখ্যা দেওয়ার পেছনে ঠিক কী কারণ থাকতে পারে?
৬. আপনার দাবি: "বিবর্তনবাদ প্রচলিত ধর্মগুলোকে (বিশেষভাবে আব্রাহামিক ধর্মগুলোকে) বাতিল করে দিয়েছে। ইত্যাদি। ইত্যাদি। ইত্যাদি।" এই লিঙ্কে আপনার মন্তব্যগুলো দ্রষ্টব্য। আপনার এই দাবিগুলোর পক্ষে পীয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। সেই লিঙ্কের পোস্টে আসলে অনেক আগেই প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। আমরা দেখতে চাই বৈজ্ঞানিক জার্নালের কোথায় বিবর্তনবাদ দিয়ে প্রচলিত ধর্মগুলোকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে কোনো প্রমাণ দিতে না পারলে ঠিক কীসের ভিত্তিতে ও কী উদ্দেশ্যে এই দাবিগুলো করেছেন?
আগস্ট ১৬, ২০১৮ at ৮:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই জার্নালের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল অভিরায় তার গ্যাং নিয়ে ক্যাম্পেইন করতে যেয়ে পরাস্ত হয়েছে। তারা জার্নালের জবাব জার্নাল দিয়ে না দিয়ে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেই জার্নালের বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগও করেছিল। ম্লেচ্ছ-যবনদের 'নোংরা' হাত থেকে 'বিজ্ঞানের জাত উদ্ধার'-এর নামে অভিরায়ের সেই বিজ্ঞান-বিরোধী ও মিথ্যাচারপূর্ণ ক্যাম্পেইনে তার 'বিশিষ্ট অসাম্প্রদায়িক বুদ্ধিজীবী' ব্রাহ্মণ বাবাও যোগ দিয়েছিলেন! অভিরায় ইসলামের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ সময় দিয়েছে, তার অতি সামান্য একটি নমুনা এখানে পাওয়া যাবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে- এর জন্য পাকিস্তানী পারভেজ হুডবয়কেও সাথে নিতে হয়েছিল! এক সময়ের হিরো হুমায়ুন আজাদের ফতোয়াকে অস্বীকার করে নিজ স্বার্থে 'শূয়রের' সাথে সহবাসে অভিরায়ের কোনোই আপত্তি ছিল না! এরূপ প্রমাণ একাধিক আছে। মনাদের দেবতার লীলাখেলা বলে কথা!
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ১৮, ২০১৮ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অভিরায়ের এক মুক্তমনা বাম-কম্যুনিস্ট মুরিদ ('আমিই অভিজিৎ' দাবিদার) জার্মানিতে বসে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে গুবেষণা করে নিম্নের আবিষ্কারগুলো করেছে:
অভিরায় তার খৎনাধারী মুরিদদেরকে কখনোই বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা কিংবা লেখালেখির জন্য অনুপ্রাণিত করেনি। তার প্রমাণ হচ্ছে অভিরায়ের ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী মুরিদদের কেউই বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে না। অভিরায়ের এই খৎনাধারী মুক্তমনা মুরিদকে আমি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। মুসলিম ব্লগাররা এই আইডি-টার প্রতি নজর রাখেন। দেখুন, সে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা বা লেখালেখি শুরু করে কি-না। তবে দয়া করে কেউ তাকে গালি বা হুমকি দেবেন না। অভিরায়ের ভাইরাস থেকে মুক্ত করতে হলে তাদেরকে বিজ্ঞানের পথে নিয়ে আসতে হবে।