প্রচলিত সুবিধাভোগী ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী-ভিত্তিক সম্প্রদায়ের কায়েমি স্বার্থে আঘাত করে ইসলাম মানবতাকে অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল। স্বার্থহানীর কারণে কায়েমি স্বার্থবাদীরা ইসলামের এই অগ্রযাত্রাকে ইসলামের সূচনা কাল থেকেই থামিয়ে ফেলতে বা পৃথিবী থেকে এই দর্শনকে বিলীন করে দেবার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এবং এখনও চালিয়ে যাচ্ছে।
৬১০ খৃঃ থেকেই প্রতিবিপ্লবী ইসলাম-বৈরী শক্তি, যখন যেভাবে পারে সেভাবেই ইসলামের মহান মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছে; কখনও পুরো মিথ্যা ঘটনার আমদানি করে, কখনও বা সত্য ঘটনার সাথে কৌশলে মিথ্যার প্রলেপ দিয়ে মিথ্যাচার করে।
শত শত মিথ্যাচারের মধ্যে এমনি একটি রটনা- মুহাম্মদ সাঃ-এর এক স্ত্রী হাফসা রাঃ-এর মারিয়া নামের এক অতীব সুন্দরী দাসী ছিল। যাকে দেখে মুহাম্মদ সাঃ অনুরক্ত হয়ে পড়েন। তাই মারিয়াকে ভোগের জন্য একদিন হাফসা রাঃ-কে মিথ্যা কথা বলেন যে, হাফসা রাঃ-এর বাবা উমর রাঃ নাকি হাফসা রাঃ-এর সাথে কথা বলতে চান। তাই হাফসা রাঃ-কে মদিনা থেকে ১.৫/২ মাইল দূরে আপার মদিনার আল আলিয়া/ওয়ালিয়ার উনার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হাফসা রাঃ সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে তাঁর বাবা তাকে খবর দেননি। বাড়িতে ফিরে এসে মুহাম্মদ সাঃ-কে মারিয়া সহ উনার বিছানায় দেখতে পান। আর তা দেখে হাফসা রাঃ মেনে নিতে পারেন নাই। এই নিয়ে হাফসা রাঃ উচ্চ কণ্ঠে শোরগোল শুরু করলে তিনি হাফসা রাঃ-এর কাছে শপথ করে মারিয়া রাঃ-কে উনার জন্য হারাম করেন। এবং এই ঘটনাটি যেন আর কাউকে না বলে গোপন রাখেন এই অনুরোধ করেন। কিন্তু এই অনুরোধ হাফসা রাঃ রক্ষা করতে পারেননি, তিনি তা আয়েশা রাঃ-এর কাছে বলে দেন। এবং আয়েশা রাঃ মুহাম্মদ সাঃ-এর অন্যান্য স্ত্রীদের নিয়ে কষ্ট দেওয়া শুরু করেন। যার কারণে মুহাম্মদ সাঃ রাগান্বিত হয়ে তাদেরকে শাস্তি দেবার জন্য একমাস স্ত্রীদেরকে যৌন সম্পৃক্ততা থেকে দূরে রাখেন। এবং সুরা আত তাহরিমের প্রথম ৫ আয়াত নাজিল করে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসেন।
এই অপপ্রচারের জবাব দেবার আগে সূরা আত-তাহরীমের প্রথম পাঁচ আয়াত নাজিলের কারণ নিয়ে কিছু আলোচনার প্রয়োজন। ঐতিহাসিক তথ্য থেকে উল্লেখিত আয়াত সমূহের নাজিলের কারণ হিসাবে দুটি ঘটনার উল্লেখ পাচ্ছি-
এক- মধু খাওয়া সংক্রান্ত এবং দুই- মারিয়া রাঃ সংক্রান্ত ঘটনা।
হাদিস বিশারদগণ জানাচ্ছেন যে মারিয়া রাঃ সংক্রান্ত সব হাদিস বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাবীঈদের থেকে 'মুরসাল' হাদিস (মুরসাল হাদিস: যে হাদিসের সনদে তাবীঈ রঃ এবং রসূল সাঃ-এর মাঝখানে সাহাবি রাঃ-এর বর্ণনাকারীর নাম উহ্য থাকে তাকে মুরসাল হাদিস বলে) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৷ কিন্তু কিছু সংখ্যক হাদিস হযরত উমর রাঃ, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ এবং হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকেও আমরা দেখতে পাই৷এসব হাদিসে উল্লেখ্য থাকায় অনেক উলামায়ে কেরাম কোন না কোন সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করে গেছেন৷তবে আশ্চর্যজনক ভাবে সিহাহ সিত্তার কোন গ্রন্থেই এ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মধু সংক্রান্ত হাদিসটির মতন এবং সনদকে ইসলামের সকল জামানার হাদিস বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সহি বলেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন। উভয় ঘটনার নেতৃত্বে যে আয়েশা রাঃ ছিলেন সে তথ্য আমরা বিভিন্ন খণ্ড খণ্ড চিত্রে পাচ্ছি। মধু সম্পর্কিত হাদিস আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণনা এসেছে, তাও সে মধু বিষয়ে কোথাও যায়নাব রাঃ কোথাও হাফসা রাঃ কোথাও উম্ম সালমা রাঃ-এর ঘরের কথা উল্লেখ আছে। আর সেই কথা আমাদেরকে আয়েশা রাঃ-এর বর্ণনা মারফত জানতে পারছি। এই নিয়ে আমাদের দ্বিমত করার অবকাশ নেই। হতে পারে প্রথম দুই আয়াতের সাথে বাকি তিন আয়াতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল।
আল কোরানের অনেক আয়াতকে রাসুল সাঃ ভিন্ন ভিন্ন কারণের সমাধানের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। যেমন- পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্রই। যেদিকেই তাকাও না কেন সর্বত্র আল্লাহ্র উপস্থিতি বিদ্যমান। আল্লাহ্র [অবস্থান] সর্বব্যাপী, [তিনি] সর্বজ্ঞ। (২-১১৫)
বা,
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহ্ ও শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস কর, তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্র এবং আনুগত্য কর রাসূলের এবং [আনুগত্য কর] তাদের, তোমাদের মধ্যে যারা [আইনসংগত] ক্ষমতার অধিকারী । এবং যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মতভেদ ঘটে তবে তা পেশ কর আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট। ইহাই সর্বোত্তম এবং পরিণাম নির্ধারণের জন্য ইহাই যথাযোগ্য। (৪-৫৯)
আল কোরআন অন্যান্য বইয়ের মত নয় যে উল্লেখিত আয়াতগুলো একটির সাথে অন্য আয়াত ক্রমবিন্যাস রক্ষা করা হয়েছে। তাই ২টি পাশাপাশি আয়াতের নাজিলের কাল ভিন্ন এবং বিষয় ভিন্ন হতেও পারে।
যখন কেউ প্রশ্ন করে বসেন যে, সামান্য মধু খাওয়ার বিবাদকে কেন্দ্র করে স্বয়ং মুহাম্মদ সাঃ সকল স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে সরে গেলেন! এবং আল্লাহ স্বয়ং নেতৃত্বদানকারী দুই স্ত্রীকে সতর্ক করে দেয়া এবং এই বিষয়ে সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেবার হুমকি প্রদান কি কঠিন হয়ে গেল না? এইটি তো ইসলামের মূল স্প্রীট সামাজিক ন্যায় বিচারের পরিপন্থী হয়ে গেল না?
এই ভাবে যখন চিন্তা করি তখন আমরা ভিন্ন তিন তিনটি আয়াতকে একত্র করেই এই অভিযোগ তৈরি করছি, অথচ কোন প্রমাণ নেই যে ঐ আয়াত তিনটির ঐতিহাসিক সময় এবং প্রেক্ষাপট এক ছিল বলে। প্রমাণ না পেয়ে এই ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কি ইতিহাসের প্রতি অবিচার করা নয়?
উক্ত আয়াতগুলো যদি মারিয়া সংক্রান্ত হতো তাহলে আয়েশা রাঃ কি তা জানতেন না? ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি তিনিই ছিলেন মারিয়া রাঃ-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। যদি এই আয়াত মারিয়া যদি রাঃ সংক্রান্ত হতো তাহলে কি তিনি তার ছাত্রদেরকে সে কথা বর্ণনা করে যেতেন না? পাঠকদের মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, আয়েশা রাঃ কোরআনের আয়াতেরও ভাষ্যকার ছিলেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের কাছে কোরআনের আয়াতের অর্থ শিক্ষা দান করতেন। তাই আমি যেটি মনে করি যে, যেহেতু সূরা আত তাহরীমের ১ম এবং ২য় আয়াতটি মারিয়া রাঃ সংক্রান্ত ছিলোনা সেহেতু আল্লাহ পাক তা উল্লেখ করেনি। ইতিহাস পাঠকরা জানেন যে এর চেয়েও মারাত্মক মারাত্মক সত্য কথা তিনি অবলীলায় বর্ণনা করে গিয়েছেন।
কে এই মারিয়া কিবতিয়া?
ইসলামের প্রধান প্রতিপক্ষ মক্কার কুরাইশদের সাথে ৬২৮ খৃঃ এর মার্চ মাসে যুদ্ধ বিরতি সন্ধি হওয়ার পর মক্কা মদিনার সীমান্তে সাময়িক সময়ের জন্য শান্তি ফিরে আসে। মুহাম্মদ সাঃ স্বীকৃত রাষ্ট্র নায়কে পরিণত হন। তখন বৃহত্তর পরিসরে ইসলাম প্রচারের নিমিত্তে মুহাম্মদ সাঃ আরব উপদ্বীপের আশ পাশের শাসকদের কাছে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিতে দূত প্রেরণ করেন। তেমন একজন দূত আলোকজন্দ্রিয়ার রোমান খৃস্টান বিশপ (Patriarch) কাছেও পাঠিয়েছিলেন৷আরবরা তাকে মুকাওকিস বলে অভিহিত করত (১)৷ হাতেব ইবনে আবী বালতা রাঃ দাওয়াত পৌঁছে দেবার পর যদিও তিনি ইসলাম কবুল করেননি কিন্তু বালতার সাথে ভাল ব্যবহার করেছিলেন। দাওয়াতের উত্তর দিয়ে ছিলেন। কূটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে কিছু সোনা দানা এবং ঘোড়া দুলদুল, গাধা ইয়াফুর সহ মিশরের কিবতী খৃষ্টানদের মধ্যে থেকে সম্ভ্রান্ত বংশের দুটি মেয়েকে মুহাম্মদ সাঃ এর সম্মানে পাঠিয়েছিলেন (তাবারী, পৃঃ ১৩১)। ইবনে সা'দ মেয়ে দুটির মধ্যে একজনের নাম শিরীন এবং অপর জনের নাম মারিয়া বলে উল্লেখ করেছেন ৷
মিসর থেকে ফেরার পথে হাতিব রাঃ তাদের উভয়কে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানালে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন৷অতঃপর রসুল সাঃ এর কাছে হাজির হলে তিনি শিরীন রাঃকে হাসান ইবনে সাবিত রাঃ-এর কাছে দিয়ে দেন এবং মারিয়া রাঃ-এর সাথে আলোচনা করে সুরাইয়া (২) হিসাবে গ্রহণ করেন৷ ইসলামী আইনে আপন দুই বোনকে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে অনুমতি দেয় না। তখনকার সময়ে সুরাইয়া বেমানান অবৈধ বা বে-আইনি কিছু ছিলনা। ইব্রাহীম আঃ-এর শরীয়তে সুরাইয়া গ্রহণের অনুমতি ছিল। ইব্রাহিম আঃ স্বয়ং হাজিরাকে সুরাইয়া হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। যার সন্তান ইসমাইল আঃ থেকে বর্তমান আরব জাতীর সৃষ্টি হয়েছিল। মারিয়া রাঃ অন্য এক ভৌগলিক অঞ্চল থেকে এসে ছিলেন, তিনি হুজরা জীবনের অভ্যস্ত ছিলেন না।
রাসুল সাঃ মারিয়া রাঃ-কে হুজরায় না রেখে কিছু দিনের জন্য হুজরার নিকটে হারিছা বিন নুমান রাঃ-এর বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে মদিনার আবহাওয়ায় মারিয়া রাঃ-এর স্বাস্থ্যগত অসুবিধার কারণে তাকে মদিনা থেকে আড়াই মাইল দূরে মসজিদে কুবার নিকট উম সুলাইম বিনত মিলহানের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে ছিলেন।
খায়বরের যুদ্ধের পরে মদিনা মসজিদ সংলগ্ন হুজরা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আল আলিয়ার বানি আনাফিরের যে বাড়িতে সাফিয়া রাঃ-কে রাখা হয়েছিল, সাফিয়া রাঃ হুজরায় চলে যাওয়ার পর মারিয়া রাঃ সে বাড়িতে এসে উঠেন। সন্তান সম্ভাব্য হবার পর তাকে আবার মদিনার হুজরা সংলগ্ন হারিছা বিন নোমান রাঃ-এর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসলেও এখানে মারিয়া রাঃ স্বচ্ছন্দতা না পাওয়ায় তিনি আবার আল আলিয়ার বাড়িতেই চলে আসেন। সেখানে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত ছিলেন। এখনও সেই স্থানকে মাশরাবাত উম ইব্রাহিম নামে ডাকা হয়।
৬৩০ খৃঃ এর মার্চ মাসে তাঁর গর্ভে মুহাম্মদ সাঃ এর কনিষ্ঠ পুত্র ইবরাহীম রাঃ জন্মলাভ করেন। ৬৩২ খৃঃ ইব্রাহিম রাঃ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু কাল রোগ ভোগের পর ২৭শে ফেব্রুয়ারি মারা যান। মারিয়া রাঃ মুহাম্মদ সাঃ-কে মাত্র তিন বছর পেয়েছিলেন। মুহাম্মদ সাঃ-এর ইন্তেকালের পাঁচ বছর পরে তিনিও ইন্তেকাল করেন (১৬ হিঃ)। উমর রাঃ তাঁর নামাজে জানাজা পড়িয়ে ছিলেন। তাকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। যে পাঁচ বছর তিনি বেঁচে ছিলেন সে পাঁচ বছর তিনি নিভৃতচারিণী ছিলেন। মাঝে মধ্যে তিনি সন্তান ইব্রাহীম রাঃ ও স্বামী মুহাম্মদ সাঃ-এর কবর জিয়ারত করতে যেতেন। এবার মূল আলোচনাতে ফিরে আসছি।
এখন আমরা উপরের যদি উল্লেখিত অপপ্রচারটি লক্ষ্য করি তাহলে আমরা দেখতে পাব যে তারা তাদের অপপ্রচারে যা বলার চেষ্টা করছে তা হচ্ছে, "আত-তাহরীমের উক্ত পাঁচ আয়াত মুহাম্মদ সাঃ এবং মারিয়া রাঃ-এর মধ্যকার যৌনসংক্রান্ত বিষয় এবং যৌন ঈর্ষাকাতর অন্যান্য বিবিদের বিবাদ।" কোন একক হাদিসে প্রাপ্ত ঘটনা পড়ে তাৎক্ষণিক ভাবে হয়তো কারো কারো ভাবনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে সুরা আত তাহরীমের এই পাঁচ আয়াত শুধু হাফসা রাঃ-এর ঘরে হাফসা রাঃ-এর অবর্তমানে কিছু সময়ের মারিয়া রাঃ-এর উপস্থিতির জন্য নাজিল হয়নি। মুনাফিকরা হয়তো ইসলামের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা লালন করা জন্য সত্য উপলব্ধি করতে অক্ষম। না হয় সত্য জেনেও শুধু বিদ্বেষের কারণে ৬২৭ খৃঃ ফেব্রুয়ারি/মার্চ থেকে খন্দকের যুদ্ধের পর থেকে ৬৩১ খৃঃ - ৪ বছরে মুহাম্মদ সাঃ এর ঘরে ঘটে যাওয়া আসল নানা ঘটনাকে কৌশলে শুধু মাত্র একটি ঘটনা দিয়ে চাপা দিয়ে চায়।
আত তাহরীমের পাঁচ আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ছিল মুহাম্মদ সাঃ এর সাথে সদ্য নারী স্বাধীনতা প্রাপ্ত স্ত্রীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো ঘটনার সমাপ্তি টানার প্রেক্ষাপট। অপপ্রচারকারীরা সব সময় ইসলাম, মুসলিম, মুহাম্মদ সাঃ-কে হেয় করতে যে পন্থা অবলম্বন করে থাকে, ঠিক সেই একই ভাবে ঘটে যাওয়া কিছু সত্যের সাথে কৌশলে মিথ্যার ভেজাল দিয়ে এই ঘটনাকে সমানে প্রচার করে যাচ্ছে। তাদেরকে এই কাজের উপাদান যোগান দিচ্ছে আমাদের অতীত ইতিহাসবিদদের যাচাই বাচাই না করে রাখা বিভিন্ন সংগৃহীত সংকলিত লেখাগুলো।
১মতঃ আমি চ্যালেঞ্জ করছি সেই অপ প্রচারকারীদেরকে তারা প্রমাণ করুক যে, মারিয়া রাঃ হাফসা রাঃ-এর দাসী ছিলেন।
২য়তঃ প্রমাণ করুক যে মুহাম্মদ সাঃ মিথ্যা কথা বলে হাফসা রাঃ-কে উনার বাবার বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন।
এরা আগেও কখনও পারেনি এখনও তা পারবেনা, কারণ এই অপপ্রচারটি যিনি সর্ব প্রথম নেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই ফেইথফ্রিডমের কর্ণধার আলি সিনাও তা প্রমাণ করতে পারেনি।
আসুন তো দেখি এই আলোচিত পাঁচ আয়াতে কী আছে?
১। হে নবী, আল্লাহ যে জিনিষ হালাল করেছেন তা তুমি হারাম করছো কেন? (তা কি এর জন্য যে) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাও? আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু। প্রথমতঃ এই আয়াতে কোন একটি হালাল জিনিসকে রাসুল সাঃ উনার জন্য হারাম করে নিয়ে ছিলেন সেইটি উল্লেখ করলেও রাসুল সাঃ এর হারাম করা সে জিনিসটি কী ছিল সে কথার কোন উল্লেখ নাই।
২। আল্লাহ তোমাদের জন্য কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হওয়ার পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন৷ আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক এবং তিনি মহাজ্ঞানী ও মহা কৌশলী৷ এই আয়াতে মুহাম্মদ সাঃ-এর করা কসম থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩। (এখানে এই ব্যাপারটিও লক্ষণীয় যে) নবী তাঁর এক স্ত্রীকে (কোন্ স্ত্রী?) একটি গোপন কথা (কি ছিল সেই গোপন কথা?) বলেছিলেন। পরে সে স্ত্রী যখন অন্য আরেক স্ত্রীর কাছে (কে সেই অন্য স্ত্রী?) সেই গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। তখন নবী কিছুটা সাবধান করলেন এবং কিছুটা মাফ করে দিলেন। (ঐ স্ত্রীকে) নবী যখন তাকে এই কথা জানালেন তখন সে জিজ্ঞেস করল: কে আপনাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে? নবী বললেন আমাকে তিনি অবহিত করেছেন যিনি সব কিছু জানেন এবং সর্বাধিক অবহিত।
৩নং আয়াতে জানতে পারছি যে, মুহাম্মদ সাঃ তাঁর এক স্ত্রীকে একটি কথা গোপনে বলেছিলেন কিন্তু কী কথা বলেছিলেন তা আমরা জানতে পারিনা। যে স্ত্রীকে বলেছেন উনার কোন নাম জানা যায়না এবং অন্য যে স্ত্রীকে বলেছিলেন তাঁর কোন নাম জানা যায়না।
৪। তোমরা দুই জন যদি আল্লাহর কাছে তাওবা করো (তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম), কেননা, তোমাদের মন সরল সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছে আর যদি তোমরা নবীর বিরুদ্ধে পরস্পর সংঘবদ্ধ হও তা হলে জেনে রাখো, আল্লাহ তার অভিভাবক, তাছাড়া জিবরাঈল, নেক্কার ঈমানদারগণ এবং সব ফেরেশতা তার সাথী ও সাহায্যকারী৷
এই আয়াতেও যে দু’জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদেরও কোন নাম পাওয়া যাচ্ছেনা। এবং অভিযোগ করা হচ্ছে যে ঐ দুইজন স্ত্রী সোজাপথ থেকে সরে গেছেন এবং আরো জানতে পারছি যে তারা একত্র হয়ে মুহাম্মদ সাঃ-এর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু কিসের বিরোধিতা করেছিলেন আমরা তা জানতে পারিনা।
৫। যদি নবী তোমাদের [সকলকে] পরিত্যাগ করে, তবে আল্লাহ্ তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে উৎকৃষ্টতর স্ত্রী দেবেন ; যারা হবে আত্মসমর্পণকারী, বিশ্বাসী,অনুগত, তাওবাকারী, [বিনয়ী] এবাদতকারী, যে [ঈমানের জন্য] হিজরত করে, এবং সীয়াম পালন করে, - যারা পূর্বে বিবাহিতা এবং অবিবাহিতা কুমারী হবে।
৫নং আয়াত থেকে যা বুঝা যায় তা হচ্ছে যে, মুহাম্মদ সাঃ-এর দুই স্ত্রীর নেতৃত্বে অন্যান্য স্ত্রীদের নিয়ে কোন এক বিষয়ে তারা মুহাম্মদ সাঃ-এর সাথে চরম বাদ প্রতিবাদে চলে গিয়েছিলেন। আর ঘটনা আরও চরমে চলে যাবার আশংকায় ঘটনাকে শান্ত করতে আল্লাহ তাদের চরম ভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। পাঠক লক্ষ্য করেন যে- প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে- তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাও? (দেখুন: কারেন আর্মস্টং, মুহাম্মদ-মহানবীর জীবনী পৃঃ ২৭৪)। স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করায় বুঝা যাচ্ছে সব স্ত্রীদের কথা বলা হচ্ছে এবং তাদের অন্যায্য দাবী মেনে নেবার জন্য মুহাম্মদ সাঃ-কে আল্লাহ তম্বি করলেন।
আবার তিন/চার নং আয়াতে দুই স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মধু না খাবার বিষয়ে কসম করা মানে মধু খাওয়াকে রাসুল সাঃ এর নিজের জন্য হারাম করাকে কেউ কেউ সামান্য ভাবলেও একজন মুসলিম তা সামান্য ভাবতে পারেনা। কোন কিছু হারাম হালাল করার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই। এমনকি মুহাম্মদ সাঃ-এরও ছিলনা।
আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল জ্ঞানে ব্যবহার করা এবং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা নিজের জন্য হারাম করা মানে হচ্ছে আল্লাহর হুকুম অমান্য করা। কাজেই কোন মুসলিমের কোন অধিকার নেই আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এখন যে মধুকে আল্লাহ হালাল করেছেন তখন মুহাম্মদ সাঃ স্ত্রীদের কষ্ট লাঘব করতে সে মধু না খাওয়ার কসম করা আল্লাহর মনপুতঃ হয়নি, যদিও মুহাম্মদ সাঃ মধু খাওয়া তার উম্মতের জন্য হারাম করেননি শুধু নিজের জন্য করেছিলেন। তাই আল্লাহ মুহাম্মদ সাঃ-এর ক্ষণিক দুর্বলতায় কসম থেকে সংশোধন করে মৃদু তম্বী করেছেন মাত্র।
দ্বিতীয় আয়াত দ্বারা কেমন করে নবীর করা ভুলকে সংশোধন করা যাবে তা বলে দেন।
তৃতীয় আয়াতে কোন এক স্ত্রী মুহাম্মদ সাঃ-এর সাথে কৃত ওয়াদার বরখেলাপ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন এবং বলে দিয়েছেন যে, তোমরা যা-ই গোপন কর না কেন আল্লাহ তা মুহাম্মদ সাঃ-কে জানিয়ে দেন। কাজেই গোপনে কিছু করেও পার পাওয়া যাবেনা।
চতুর্থ আয়াতে যে কারণে যে সব স্ত্রীদের চাপের জন্য মুহাম্মদ সাঃ বশ্যতা স্বীকার করার পরও তারা তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও চাপ অব্যাহত রেখে যাচ্ছিলেন সেই নেতৃত্বদানকারী দুই স্ত্রীকে প্রথম সতর্কবাণী দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
পঞ্চম আয়াতে বুঝা যাচ্ছে যখন সকল স্ত্রী এই ঘটনায় জড়িত হয়ে পড়েছিলেন তখন তাদেরকে সংযত করতে কড়া ভাষায় সরাসরি আল্টিমেটাম দেওয়া হয় যে তারা যদি এই কাজ থেকে বিরত না হয় তাহলে তাদের বদলে মুহাম্মদ সাঃ-এর জন্য অন্য স্ত্রীর ব্যবস্থা করা হবে।
আমরা উপরের আয়াত থেকে নবীর স্ত্রীদের দ্বারা কোন পারিবারিক বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলার কথা অনুমান করতে পারলেও তারা কারা এবং কেন কিসের জন্য এই পারিবারিক বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছিলেন তা এই সব আয়াত থেকে জানতে পারিনা। হাদিসেও স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ নেই তাহলে এখানে ইসলামী-বিরোধী শক্তি মারিয়া রাঃ-এর সাথে মুহাম্মদ সাঃ-এর যৌনতার প্রেক্ষিতে হাফসা রাঃ ও আয়েশা রাঃ-এর প্রতিক্রিয়া কেমন করে আবিষ্কার করল?
তারা আব্বাস রাঃ কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস দিয়ে উল্লেখিত দুইজন স্ত্রী যে আয়েশা রাঃ আর হাফসা রাঃ ছিলেন তা প্রমাণ করতে পারলেও সে হাদিস দিয়ে কিন্তু তাদের উল্লেখিত ঘটনা প্রমাণ করতে পারেনি।
আমরা এখন দেখব বোখারি শরীফে ভল্যুম ৩ বই ৪৩ হাদিস নং ৬৪৮ হাদিসে কী উল্লেখ আছে? হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, "যে দুইজন নারী সম্পর্কে কোরআন পাকে (আয়াত ৬৬:৪) বলা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে হযরত উমর রাঃ কে প্রশ্ন করার ইচ্ছা বেশ কিছুকাল পর্যন্ত আমার মনে ছিল। অবশেষে একবার তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে আমিও সফরসঙ্গী হয়ে গেলাম। (হজ্জ থেকে ফেরার পথে) ওমর একপাশে গেলে (প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে), আমিও (ওযুর) পানি নিয়ে তার সাথে যাই। যখন তিনি ফিরলেন, আমি তার হাতে পানি ঢালছিলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, "ওহ বিশ্বাসীদের প্রধান! নবী করিম সা. এর কোন দুজন নারীর ব্যাপারে কোরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ যদি তোমরা দুজন তওবা করো।" (৬৬:৪)
তখন উমর রাঃ বললেন, "আমি এবং বনী উমাইয়া বিন জাহিদ গোত্রের আমার এক আনসারী প্রতিবেশী মদীনার আওয়ালীতে বাস করতাম ও পর্যায়ক্রমে রাসুলুল্লাহ সাঃ কাছে যেতাম। তিনি একদিন যেতেন আর আমি অন্যদিন। যেদিন আমি যেতাম রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সেদিনকার আদেশ-নির্দেশাবলী সমেত ঘটনাসমূহ তাকে (প্রতিবেশীকে) বলতাম এবং যেদিন তিনি যেতেন, তিনিও আমার কাছে অনুরূপ করতেন।
আমরা, কোরায়েশ পুরুষরা, যখন মক্কায় বাস করতাম তখন নারীদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করতাম, কিন্তু আমরা যখন মদিনায় আসলাম তখন লক্ষ্য করলাম যে, আনসার নারীরা পুরুষদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করে। ফলে, আমাদের নারীরা আনসার নারীদের অভ্যাস গ্রহণ করতে শুরু করে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি চিৎকার করলে আমার স্ত্রীও আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করলেন ও পাই পাই করে বুঝিয়ে দিলেন। আমি এটা অপছন্দ করলে তিনি বললেন, "আপনাকে প্রতি উত্তর দিলে সেটাকে আপনি খারাপ ভাবে নিচ্ছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী করিম সাঃ এর স্ত্রীরাও তাঁর সাথে মুখে মুখে তর্ক করেছেন এবং স্ত্রীদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত অবধি তাঁর সাথে কথা পর্যন্ত বলেননি।" আমার স্ত্রী যেটি বললো আমাকে ভীত করলো এবং আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তাঁদের মধ্যে যেই এমন করে, সে-ই ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।"
আমি পোশাক পরিধান করে হাফসার কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি কি দিন থেকে রাত অবধি রাসুলুল্লাহ সাঃ কে রাগান্বিত রেখেছ?" সে হ্যাঁ বোধক জবাব দিল। আমি বললাম, "তুমি বিধ্বস্ত পরাজিত নারী! তুমি কি আল্লাহর রাসুলকে রাগান্বিত করে আল্লাহর ক্রোধের কারণ হতে ভীত হও নাই? এভাবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে!
(১) আল্লাহর রাসুলকে বেশী কথা বলো না,
(২) কোন অবস্থাতেই তাঁর সাথে মুখে মুখে তর্ক করো না এবং তাঁকে অসন্তুষ্ট করো না।
(৩) তোমার যা খুশী দরকার আমার কাছে চাও এবং
(৪) কখনোই তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রা. কে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।"
——-সে সময় গুজব ছিল যে, ঘাসানরা (শ্যাম দেশের একটি গোত্র) আমাদের আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে ঘোড়া প্রস্তুত করছে। এক রাতে আমার আনসার প্রতিবেশী (তাঁর পালায় রাসুলুল্লাহ সাঃ এর বাড়ি থেকে ফিরে) খুব স্বন্ত্রস্তভাবে আমার দরজায় কড়া নাড়তে লাগলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি হয়েছে? ঘাসানেরা কি এসেছে?" তিনি বললেন, "তারচেয়েও খারাপ, আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ! রাসুলুল্লাহ সাঃ তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন।" আমি বললাম, হাফসা বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি এমনটি আগেই ভেবেছিলাম।
আমি পোশাক পরিধান করে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। এরপরে তিনি উপরের কামরায় চলে গেলেন। আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে ক্রন্দনরত পেলাম। আমি তাকে বললাম, "কেন কাঁদছ? আমি কি তোমাকে আগেই সাবধান করিনি?" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "রাসুলুল্লাহ সাঃ কি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়েছেন?" সে বললো, "আমি জানি না। তিনি সেখানে উপরের ঘরে আছেন।"
আমি বের হলাম এবং কিছু মানুষের জটলা দেখতে পেলাম যাদের কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি তাদের সাথে কিছুক্ষণ বসলাম, কিন্তু আমি পরিস্থিতি সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আমি উপরে গেলাম এবং নবীজীর এক কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে বললাম, "তুমি কি উমরের জন্য রাসুলুল্লাহ সাঃ এর অনুমতি প্রার্থনা করবে?" সে ভেতরে গেল এবং এসে বললো, "আমি আপনার কথা তাঁর কাছে বলেছি কিন্তু তিনি কোন জবাব দেন নি।" আমি জটলার কাছে ফিরে এসে বসলাম, কিন্তু পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে আবার উপরে দাসের নিকট গিয়ে বললাম, "তুমি কি ওমরের জন্য নবীজীর অনুমতি প্রার্থনা করতে পার?"সে গেল এবং ফিরে এসে একই কথা বললো। যখন আমি ফিরে আসছি, তখন দাস বললো, "রাসুলুল্লাহ সাঃ আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।"
সুতরাং আমি ভিতরে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কাছে গেলাম এবং তাকে একটি মাদুরে শয়নরত অবস্থায় পেলাম। আমি বললাম, "আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন?" তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং না বোধক উত্তর দিলেন। আমি দাঁড়িয়ে বলতে লাগলাম, "আপনি কি আমার কথা শুনবেন? হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কোরায়েশরা নারীদের উপর অধিক কর্তৃত্ব পেতাম, এবং এখানে আমরা যাদের কাছে এসেছি তাদের নারীরা তাদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করে"। এরপরে আমি পুরো ঘটনা তাঁকে বলি (তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে)। এতে তিনি হাসলেন। আমি তখন বললাম, "আমি হাফসার নিকট গিয়েছিলাম এবং তাকে বলেছি: তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রাঃ কে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।" এতে নবীজী আবার হাসলেন। আমি বসলাম এবং বললাম, "আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন আপনার অনুসারীরা অনেক উন্নতি করতে পারে, যেহেতু পারস্যয়ীয়া ও বাইজেন্টাইনরা আল্লাহকে না মেনেও কতই না উন্নতি করেছে, তাদের কতই না সম্পদ।" রাসুলুল্লাহ সাঃ উঠে বসলেন এবং বললেন, "ওহ ইবনে আল খাত্তাব! তোমার কি কোন সন্দেহ আছে (যে এস্থান দুনিয়ার মধ্যে সেরা)? মানুষ তার ভালো কাজেরই কেবল প্রতিফল পায়।" আমি তাঁকে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বললাম।
এই হাদিস থেকে তাহরীমের চার নং আয়াতের উল্লেখিত স্ত্রী দুইজন আয়েশা রাঃ ও হাফসা রাঃ ছিলেন এবং হাফসা রাঃ আয়েশা রাঃকে রাসুল সাঃ এর প্রতিপক্ষ বানানোর কথা জানতে পারলেও এই পুরা হাদিস থেকে এখানে মারিয়া রাঃ-এর কোন কথার উল্লেখ পাচ্ছিনা! এইটি কি অবাক করা বিষয় নয়, যে বা যার কারণে পাঁচ পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়েছিল বা মুহাম্মদ সাঃ এই আয়াত নাজিল করে মারিয়া রাঃ এর ঘটনাকে চাপা দিয়েছিলেন সে ঘটনার মূল পাত্রী মারিয়া রাঃ এর কোন উপস্থিতি নেই! এই হাদিস থেকে এই সব আয়াত নাজিলের যে কারণ পাচ্ছি তা হচ্ছে-
১। তোমার যা খুশী দরকার আমার কাছে চাও।
২। এবং কখনোই তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রাঃকে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।
এখান থেকে যা জানা যায় তা হচ্ছে- ১। পার্থিব সুযোগ সুবিধা দাবি করা। ২। আয়েশা রাঃকে রাসুল সাঃ এর প্রতিপক্ষ বানানো। আবার দেখি- "আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন আপনার অনুসারীরা অনেক উন্নতি করতে পারে, যেহেতু পারস্য বাসরীয়রা ও বাইজেন্টাইনরা আল্লাহকে না মেনেও কতই না উন্নতি করেছে, তাদের কতই না সম্পদ।" রাসুলুল্লাহ সাঃ উঠে বসলেন এবং বললেন, "ওহ ইবনে আল খাত্তাব! তোমার কি কোন সন্দেহ আছে (যে এস্থান দুনিয়ার মধ্যে সেরা)? মানুষ তার ভালো কাজেরই কেবল প্রতিফল পায়।" আমি তাঁকে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বললাম। এখানেও স্পষ্টত মারিয়া রাঃ এর কোন কথা উল্লেখ করা হয় নাই শুধু আছে সহায় সম্পদ, পার্থিব উন্নতির কথা। এই হাদিসের আড়ালে চাপা পড়ে আছে নবী পত্নীদের চির অভাব অনটন আর কষ্টের কথা। যদিও মর্যাদা, সুবিধা প্রাপ্তি ইত্যাদি নিয়ে স্ত্রীরা প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিলেন তথাপি তারা রাসুল সাঃকে কত গভীর ভালবাসতেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় নিম্নের ঘটনায়-
২৯ দিন বাদে যখন মুহাম্মদ সাঃ স্ত্রীদের কাছে গেলেন, তখন প্রথমে গেলেন- আয়েশা রাঃ এর কাছে। এখানের ঘটনাটি গভীর ভাবে অনুধাবন করুন- যখন ২৯ দিন অতিবাহিত হলো, তখন তিনি সর্বপ্রথম আয়েশা রাঃ এর নিকট গিয়েছিলেন। আয়েশা বললেন, "আপনি শপথ করেছিলেন যে, একমাস আমাদের কাছে আসবেন না, আজ কেবল মাত্র ২৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে। আমি এক এক করে দিন গুনে রেখেছি।" দেখুন কেমন ভালবাসা ছিল মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি আয়েশা রাঃ এর যিনি প্রতিদিন এক এক করে স্বামীর ফিরে আসার দিনের প্রতীক্ষা করে যাচ্ছিলেন! মুহাম্মদ সাঃ জবাবে বললেন, "২৯ দিনেও মাস হয়।" সে মাস ২৯ দিনে ছিল। যদি মারিয়া রাঃ এই সব ঘটনার মূল হতেন আর আয়েশা রাঃ যদি শুধু মারিয়া রাঃ এর বিরোধীতা করতেন তাহলে মুহাম্মদ সাঃ কি প্রথম আয়েশা রাঃ এর সাথে কথা বলতে যেতেন? কিংবা আয়েশা রাঃ এত ব্যকুল হয়ে এই ভাবে উনার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে পারতেন? আবার লক্ষ্য করুন- ২৯দিন পর স্ত্রীদের কাছে এসে প্রথমে রাসুলুল্লাহ সাঃ আয়েশা রাঃকে বললেন, "আমি তোমাকে কিছু বলতে যাচ্ছি, - হে নবী! তোমার স্ত্রীগণকে বলো,- "তোমরা যদি দুনিয়ার জীবনটা ও তার শোভা-সৌন্দর্য কামনা করো, তবে এসো আমি তোমাদের ভোগ্যবস্তুর ব্যবস্থা করে দিব এবং তোমাদের বিদায় করে দিব সৌজন্যময় বিদায়দানে।" (সুরা আহযাব, আয়াত ২৮) কিন্তু জবাব দেয়ার জন্য তোমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করার আগ পর্যন্ত তাড়ার কিছু নেই।
এখানে লক্ষ্য করুন ২৯ দিন বিচ্ছিন্ন থেকে স্ত্রীদের কাছে এসে যা বলছেন তা মারিয়া রাঃ এর প্রতি বৈরিতার কথা এই সব কিছু যা বলেছেন তা হচ্ছে পার্থিব সম্পদের কথা, এখানে বলেননি মারিয়া রাঃ এর কথা! বলেননি তোমরা মারিয়ার প্রতি যা করছ তা ন্যায় করনি। তবে পাঠক ভেবে নিবেন না আগের দিনের রাজা বাদশাহের হেরেমে যে ভাবে ভোগ বিলাসে তাদের নারী মত্ত হয়ে থাকতো সে ভাবে নবী পত্নীরা মত্ত ছিলেন! মুহাম্মদ সাঃ যখন গনিমতের মাল লাভ করতে থাকেন তখন তা সাধারণ গরীব জনসাধারণের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন, নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে কৃচ্ছতায় রাখতেন। আর নবী পত্নীরা সাধারণ জনসাধারণ যে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেই অধিকার পাবার জন্য নবী সাঃ এর উপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। যা মূলতঃ অন্যায় ছিলোনা। সোজা কথায় এই আয়াতগুলো এবং সুরা আযহাবের আয়াতগুলোতেও মারিয়া রাঃ বা নারী ঈর্ষার কোন কথা উল্লেখ করা হয়নি। আবার আমরা ফিরে যাচ্ছি মারিয়া রাঃ কথিত ঐদিনের ঘটনায়। যদি ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে! যাবার আগে পাঠকদের একটি ছবি দেখাচ্ছি-
A. মুহাম্মদ সাঃ এর মিরহাব
B. আয়েশা রাঃ এর হুজরা
C. হাফসা রাঃ এর হুজরা
D. যায়নাব বিনত জাহাশ রাঃ এর হুজরা
E. যায়নাব বিনত খুযাইমাহ রাঃ হুজরা
F. ফাতিমা রাঃ এর হুজরা ছবিতে নেই
G. বাব উসমান রাঃ
H. আহলুল সুফফাদের হুজরা। জুয়াইরা রাঃ এর হুজরা ছবিতে নেই
J. উম্ম হাবিবা বিনত আবু সুফিয়ান রাঃ এর হুজরা
K. সাফিয়্যা রাঃ এর হুজরা
L. বাব আল রাহমা
M. আবু বকর রাঃ এর হুজরা
N. সাদ আবী আক্কাশ রাঃ এর হুজরা
O. আ আব্বাস রাঃ এর হুজরা
P. জাফর বিন আবি সাদিক রাঃ এর হুজরা।
আমরা যদি উপরের ছবিটি দেখি তাহলে দেখতে পাব তখন মদিনার মসজিদ সংলগ্ন হুজরায় কীভাবে মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীগণ বাস করতেন। এখন আলোচ্য হুজরা C ছিল হাফসা রাঃ এর, এবং হাফসা রাঃ এর ঠিক সামনের হুজরা ছিল যায়নাব রাঃ এবং ফাতিমা রাঃ এর। এখন যদি আমরা চিন্তা করি যে সেদিন হাফসা রাঃ উনার হুজরায় ছিলেন না, মুহাম্মদ সাঃ সেই হুজরায় অবস্থান নিতেন যেদিন যে স্ত্রীর সাথে তার পালা থাকত। ঐদিন হাফসা রাঃ এর পালা ছিল। তাই মুহাম্মদ সাঃ হাফসা রাঃ এর হুজরায় ছিলেন। আমরা নিশ্চয় অনুমান করতে পারি যে হাফসা রাঃ মুহাম্মদ সাঃ এর অনুমতি নিয়েই বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। যেহেতু পূর্ব নির্ধারিত পালা থাকা সত্ত্বে তিনি বাবার বাড়ি চলে যাবার কারণে মুহাম্মদ সাঃ মারিয়া রাঃকে খবর দিয়ে নিয়ে আসেন বা হাফসা রাঃ ঘরে নাই জেনেই এমন সময় মারিয়া রাঃ সেখানে আসেন।
এক স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার জন্য নির্ধারিত ঘরে অন্য স্ত্রীকে ডেকে এনে সময় কাটানো মুহাম্মদ সাঃ কর্তৃক নিয়মের ব্যতিক্রম ছিল। তখনকার প্রচলিত সামাজিক আইনে তা বে-আইনী বা নীতি বিরুদ্ধ ছিলোনা। আমরা হাদিসে জানতে পারি যে মুহাম্মস সাঃ যে কোন আইন নিজে আমল করে তখন অন্যকে তা আমল করতে নির্দেশ দিতেন।
যখন মারিয়া রাঃ হাফসা রাঃ এর অনুপস্থিতে তার ঘরে ডেকে এনে যে ব্যতিক্রমী ঘটনার সৃষ্টি করেছেন তার পিছনে ছিলো অন্য কোন উদ্দেশ্য। কারণ ইসলাম-পূর্ব যুগে সুরাইয়া স্ত্রীর কোন অধিকার ছিলোনা আযাদ স্ত্রীর মত মর্যাদা। তখন রাসুল সাঃ প্রাক ইসলামী যুগের বৈষম্যময় এই প্রথাকে নির্মূল করার জন্য অথবা সন্তান হবার সাথে সাথে সুরাইয়া স্ত্রী আযাদ স্ত্রীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য মারিয়া রাঃকে হাফসা রাঃ এর ঘরে এনে বাস্তবে সমমর্যাদা করেন। মারিয়া রাঃ রাতের গভীরে গোপনীয় ভাবে আসেননি। তিনি যখন হাফসার ঘরে এসেছেন তখন অন্যরা দেখেছেন এবং একজন সুরাইয়ার আজাদ স্ত্রীর ঘরে অবস্থানের জন্য বর্ণবাদী চিন্তা ভাবনার কারো ইগোতে আঘাত লেগেছিল বলেই কেউনা কেউ হাফসা রাঃ এর কাছেই খবর পাঠিয়েছিলেন।
যে কারণে তিনি অসময়ে ফিরে আসেন। মুহাম্মদ সাঃ নিশ্চয় এই নিয়ে আযাদ স্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া হবে জানতেন কিন্তু ঘটনা এত তীব্র আকার ধারণ করবে বুঝতে পারেনি। এক স্ত্রীর অবর্তমানে সুরাইয়ার সাথে মিলিত হওয়া কোন বে-আইনী বা ইসলাম বিরোধী কিছু ছিলনা। মুহাম্মদ সাঃ সকল স্ত্রীরা ছিলেন তখনকার আরব সমাজের উচ্চ এবং সম্ভ্রান্ত বংশীয় আযাদ মহিলা। আর মারিয়া রাঃ এর সে মর্যাদা ছিলনা, তিনি ছিলেন উপঢৌকন প্রাপ্ত নারী। তাই একজন উপঢৌকন প্রাপ্ত নারী মর্যাদার মহিলার পক্ষে আযাদ এবং সম্ভ্রান্ত বংশের স্ত্রীর ঘরে এসে স্বামীর সাথে দেখা করাকে সে সময়ের সমাজ ব্যবস্থার মূল্যবোধে আশরাফ স্ত্রীদের কাছে চরম অপমানজনক মনে হওয়া স্বাভাবিক। তাই তো মারিয়া রাঃ যখন বের হয়ে গিয়েছিলেন তখন হাফসা রাঃ এসে সেই অভিযোগ উপস্থাপন করেছিলেন- আপনি কেন আমার ঘরে তাকে নিয়ে এসেছেন? এর জন্য তিনি নিজকে অপমানিত বোধ করতে থাকেন। আর এই ভাবে তাঁর ঘরে মারিয়া রাঃকে নিয়ে এসে অপমান করা ঠিক হয় নাই বলে তার প্রতিবাদ করতে ছিলেন।
মুহাম্মদ সাঃ যে ভাবেই হোক হাফসা রাঃকে সহজ করে আনতে পেরেছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন যে মারিয়া রাঃ এর সন্তান লাভ হওয়ার কারণে অন্যান্য স্ত্রীরাও তাদের সামাজিক পদ মর্যাদা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা ভাবতে থাকেন কোথাকার কোন্ বিদেশী মহিলা এখন মুহাম্মদ সাঃ এর প্রধান স্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে যাচ্ছে, তাই তারা সকলে মারিয়া রাঃকে আর সহজ ভাবে মেনে নিতে পারবেনা না। তাই এই বিষয়টি নিয়ে হাফসা রাঃএর অন্যান্য স্ত্রীরা মধুর ঘটনার মত এক হয়ে গিয়ে কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেললে তা মারিয়া রাঃ এবং তার অপ্রত্যাশিত ভাবে লাভকৃত সন্তান শিশু ইব্রাহিমের রাঃ এর জন্য কোন আনাকাংখিত ঘটনার জন্ম হতে পারে।
মুহাম্মদ সাঃ নবী এবং রাসুল হলেও তিনি মানুষ ছিলেন, তাই তার ঘরে যখন একাধিক গর্ভ ধারণ করার যোগ্য স্ত্রী থাকতে কারো গর্ভে সন্তান না আসায় ধরে নিয়েছিলেন যে তার আর কোন সন্তান জন্ম নিবেনা, জীবনের শেষ সময় ৬০ বছর বয়সের একজন মানুষের ঘরে যদি সন্তান আসে তাহলে যজ্ঞের ধনের মত মনে হবে সে সন্তানকে, স্বাভাবিক ভাবে সন্তানের বাবা এই সন্তানটির নিরাপত্তার ব্যাপারে উদগ্রীব থাকবেন। তাই সন্তান এবং সন্তানের মায়ের জন্য যাতে কোন বিড়ম্বনা সৃষ্টি না হয় এর জন্য যাতে বিষয়টি এখানে শেষ হয়ে যায় এবং হাফসা রাঃকে এই ঘটনা যাতে অন্য কাউকে না বলেন তার জন্য অনুরোধ করেন।
সেই সময়ে পৃথিবীতে প্রথম বারের মত মুহাম্মদ সাঃ কর্তৃক নারীদেরকে স্বাধীনতা এবং সামাজিক মর্যাদা দান করার কারণে সদ্য প্রাপ্ত নারী স্বাধীনতা এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির প্রতিদ্বন্দ্বীতা স্ত্রীদের মধ্যে চলছিল, তদুপরি মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রী হবার কারণে তাদের জীবন যাপিত করতে হচ্ছিল খুব কৃচ্ছতার মধ্য দিয়ে। তখন নবীর স্ত্রীর মর্যাদার ভিত্তিতে নয় নিজদের জীবন যাত্রা সাধারণ মদিনাবাসীদের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার মত করার জন্য মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি প্রবল চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে তখন মুহাম্মদ সাঃ এক ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছিলেন, নতুন উম্মাহের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য হুজরার চেয়ে বাইরের জীবনে সময় ব্যয় অনেক দরকারি হয়ে উঠেছিল। কাজেই এই সময়ে হাফসা রাঃ এর ঘরে মারিয়া রাঃ এর উপস্থিতির কারণে অন্যান্য স্ত্রীরা এসে এই আশরাফ আতরাফ সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিলে তখন তাকে বাইরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রেখে ঘরের সমস্যার সমাধানের জন্য অধিক সময় ব্যয় করতে বাধ্য হয়ে পড়বেন বুঝতে পেরে তিনি হাফসা রাঃকে এই ঘটনা নিয়ে অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে আলাপ আলোচনা না করার নির্দেশ দেন এবং হাফসা রাঃ কারো কাছে প্রকাশ করবেন না বলে কথা দেন। কিন্তু এই কথা হাফসা রাঃ রক্ষা করতে পারেননি, তিনি তা আয়েশা রাঃ এর কাছে জানিয়ে দেন। আর সকল ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়েশা রাঃ এবং হাফসা রাঃ।
এইখানে একটু বিরতি দিচ্ছি- আয়েশা রাঃকে বুঝতে চেষ্টা করব। ৬২৭-৬৩১ খৃঃ সময়ে তিনি ছিলেন মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে ১৮ বছর বয়সের এবং তিনি একমাত্র স্ত্রী যিনি কুমারী ছিলেন। অন্যান্য স্ত্রীদের আগে একাধিক বিয়ে হয়েছিল, এবং অন্যদের সন্তানাদিও ছিল। কিন্তু আয়েশা রাঃ এর জ্ঞান আসার পর থেকেই মুহাম্মদ সাঃকে উনার স্বামী হিসাবেই জ্ঞান করে এসেছেন এবং বয়সে ছোট হবার কারণেই তিনি মুহাম্মদ সাঃ এর অন্য সব স্ত্রীদের চেয়ে মুহাম্মদ সাঃকের বেশি কাছে পেতে কামনা করতেন। মুহাম্মদ সাঃ যখনই অন্যান্য স্ত্রীদের বিয়ে করেছেন তখন তিনি সতিনদের প্রতি জেলাসী অনুভব করতেন। উনার ভালবাসায় অন্য কেউ ভাগ বসাবে সেই আশঙ্কা করতেন। তাছাড়া অন্যান্য স্ত্রীদের সবার পূর্ব স্বামী কর্তৃক সন্তানাদি থাকলেও আয়েশা রাঃ এর কোন সন্তানাদি ছিলনা এবং তিনি সন্তানের মা হবার জন্য ব্যকুল ছিলেন। যখনই মারিয়া রাঃ সন্তানের মা হবার সংবাদ পেলেন স্বাভাবিক ভাবে তা মেনে নিতে পারছিলেন না। কাজেই সম্পূর্ণ মানবিক প্রভাবের কারণেই তিনি মারিয়া রাঃ বিরোধী ভূমিকায় অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
ব্যাপারটা ছিল এই যে, খন্দকের যুদ্ধের সময় থেকে মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীরা নিজেদের পার্থিব সুযোগ সুবিধা এবং মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কারণ মদিনার অন্যান্য সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবন যাপন করে থাকে, নবী পত্নীরা সেভাবে জীবন যাপন করতে পারছিলেন না। তাদেরকে কৃচ্ছতার মাধ্যমে চলতে হচ্ছিল। নিত্য দিন উপবাস করে থাকতে হত। যা মদিনার সাধারণ মানুষের চেয়েও হীন ছিল তাদের অবস্থা। তাই তারা দাবি জানাচ্ছিলেন তাদের জীবন যাপনের মান উন্নত করতে। মুহাম্মদ সাঃ এই সুযোগ দিতে পারছিলেন না। নিজের ঘরের চেয়ে পাড়া প্রতিবেশী এবং উম্মাহর মানুষের কল্যাণের পিছনে অধিক ব্যয় করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মুহাম্মদ সাঃ এই চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় স্ত্রীরা পারিবারিক জীবনের অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে ছিলেন। তাই মারিয়া রাঃ এর সন্তান লাভের ঘটনা, আগ থেকে চলে আসা চাপা অসহিষ্ণুতার মধ্যে অগ্নি সঞ্চালন করে।
সেই সময়ে মারিয়া রাঃকে হুজরায় নিয়ে আসার চেষ্টা করার কারণে অন্যান্য স্ত্রীদের মনে তাদের আশরাফী সংস্কারে প্রবল ধাক্কা মারে, মুহাম্মদ সাঃ সে সমাজ ব্যবস্থার সুরিয়াদের প্রতিভূ হিসাবে মারিয়া রাঃকে স্বাধীন স্ত্রী হিসেবে ঘরে প্রবেশাধিকার দিয়ে সে সমাজ ব্যবস্থায় হাজার হাজার সুরাইয়াদেরকে স্বাধীন স্ত্রীর সমমর্যাদা দান করেছিলেন। সুরাইয়াদের এই সমান মর্যাদা দানের বিষয়ে নবী পত্নীরা আপত্তি করেছিলেন। তাঁরা ভুল বুঝে উঠেন এই ভেবে যে, এইবার বোধহয় মারিয়া রাঃ এ হেরেমের সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন! বিবিরা যখন মারিয়া রাঃ এর সামাজিক মর্যাদার উত্থান আটকাতে গিয়ে পুত্র ইব্রাহীম রাঃ এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তখনই মুহাম্মদ সাঃ আর স্ত্রীদের সাথে আপোষ মূলক মনোভাব পরিত্যাগ করে তাদের ত্যাগ করে হুজরা ছেড়ে চলে আসেন। সব স্ত্রীগণ এক চরম মাত্রায় উপনীত হওয়ায় স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে শপথ করেছিলেন যে, এক মাস কাল তিনি তাদের সাথে মিলিত হবেন না।
এই দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক দ্বন্দ্ব ছিলনা। এই দ্বন্দ্ব ছিল একদিকে পুত্র ইব্রাহীমের জন্মের প্রতি মিথ্যা আরোপ যা ইসলামী দর্শনের পরিপন্থী তেমনি পত্নী সুরাইয়া যে ইসলামের দৃষ্টিতে সমান তারও পরিপন্থী। ইসলামে নীতির প্রশ্নে কারো আপোষ করার ক্ষমতা নাই এবং মুহাম্মদ সাঃ এর পারিবারিক জীবনের ঘটনা যাতে নবুয়তী কার্যের বিঘ্ন না ঘটায় এর জন্য আল্লাহতালাকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে আত তাহরীমের তিন থেকে পাঁচ নং আয়াত নাজিল হয়েছিল। আর এই ঘটনার পর থেকে বিবিরা নিজেদেরকে সকল ধরণের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
শেষ করেও শেষ করতে পারছিনা কারণ অনেকে প্রশ্ন করেন যে, মুহাম্মদ সাঃ কেন মারিয়া রাঃকে বিয়ে করেন নাই। মুসলিমদের কাছে এইটি কোন প্রশ্ন নয়। মানব সমাজে বিয়ে হচ্ছে সমাজ স্বীকৃত একটি সামাজিক রীতি যা দ্বারা একজন নর আর একজন নারী আইন সঙ্গত ভাবে পরস্পর সন্তান উৎপাদন, ঘর সংসার করেন। তবে এই বিষয়ে আলোচনা করার আগে বিয়ে কী তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
ইসলামের বিয়ে জগতের প্রচলিত অন্যান্য বিয়ে থেকে তা ভিন্ন মাত্রার, অন্যান্য জাতি ধর্মের বিয়ে মানে অলংঘনীয় অবিচ্ছেদীয় নারী পুরুষের সম্পর্ক। ইসলামের বিয়ে ঠিক সে ভাবে নয়, ইসলাম নর-নারী মেল বন্ধনকে সুখী মেলবন্ধন হিসাবে দেখে চায়, তাই বিবাহিত নর-নারী কারো যদি মনে হয় তাদের এই মেল বন্ধন সুখী মেল বন্ধন নয় তাহলে সে সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে পারে। ইসলামে নারী পুরুষের মেল বন্ধনকে বিয়ে না বলে নিকাহ বলা অধিক যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।
ইসলামে নিকাহ দুই ধরণের। এক- কোন স্বাধীন, আযাদ নারীকে নিকাহ করতে হলে সেই আযাদ নারীকে সম্মানী হিসাবে মহর দিতে হয়। দুই- কোন ব্যক্তি তার নিজের দাসীদের মধ্য থেকে কাউকে শয্যাসঙ্গিনী করতে চাইলে সে দাসীকে সামাজিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে শয্যাসঙ্গিনী হিসাবে গ্রহণ করলে সেটিও নিকাহ বলে বিবেচিত হয়ে যায়।
মারিয়া রাঃ ছিলেন স্বীকৃত মুসলিম, তিনি ছিলেন সন্তানের মা, এমনিতে ইসলামে স্বীকৃত যে কোন দাসী যখন সন্তান জন্ম দেন তখন তিনিও আযাদ হয়ে যান। সেই কারণে মুসলিমরা মারিয়া রাঃকে মুহাম্মদ সাঃ এর অন্যান্য বিবিদের মত সমান শ্রদ্ধা এবং সম্মান করে উম্মুল মুমিনিন বলে সম্মান করে থাকে। আমরা যদি ইতিহাস দেখি তাহলে দেখব যে, মারিয়া রাঃ কোন যুদ্ধ বন্দিনী ছিলেন না, তিনি কোন ক্রীতদাসী ছিলেন না। তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়ে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক উপহার হিসাবে প্রাপ্ত এবং মুহাম্মদ সাঃ এর সেবা করার জন্যই উপঢৌকন দেওয়া হয়েছিল।
ইসলামের শরীয়ত মত শুধু মাত্র আযাদ নারীরা হিযাব করার যোগ্যতা অর্জন করেন। কোন দাসী হিযাব ধারণ করতে পারেন না। এই হিযাব সাধারণ হিযাব নয়, এই হিযাব হচ্ছে সতর ঢাকার সাথে সাথে মুখের সামনে পর্দা করা। আমরা ইতিহাসে দেখি যে মারিয়া রাঃ তার মুখের উপর পর্দা করতেন যা নবী পত্নীদের জন্য প্রয়োগযোগ্য ছিল। পরবর্তীতে খলিফাদের কন্যা স্ত্রীরা এই রীতি পালন করে গেছেন। পরবর্তীতে এই প্রথা সম্ভ্রান্ত পরিবারের প্রতিভূ হিসাবে সমাজে প্রচলিত হয়ে পড়ে তাই নিজদেরকে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মহিলা হিসাবে পরিচিত লাভ করতে মুসলিম সমাজের মধ্যে প্রচলিত হয়ে পড়ে।
অন্যান্য স্ত্রীদের মত করে মারিয়া রাঃ কেন নিকাহ করেননি- তার যুক্তি হিসাবে আমরা দেখতে পারি যে,
১। মারিয়া রাঃ কোন আযাদ নারী ছিলেন না, তিনি উপটৌকন হিসাবেই আইন এবং সামাজিক রীতিনীতি মতে মুহাম্মদ সাঃ এর অধীনস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাকে নিকাহ করার সময় নতুন করে মহর দান করার প্রয়োজনীয়তা ছিলনা।
২। আল কোরআনে নির্ধারিত যাদেরকে মুহাম্মদ সাঃ মহর দ্বারা নিকাহ করতে পারবেন সেই নির্ধারিত তালিকার মধ্যে মারিয়ার রাঃ স্থান ছিলনা।
৩। সে সময় যে কারণে ইসলাম দাস প্রথা বিলুপ্ত করতে নির্দেশ দিতে পারেনি, সেই এক কারণে সুরাইয়া প্রথা বিলুপ্ত করতে পারেনি, কারণ সে সময়ে হাজার হাজার সুরাইয়া ছিল যাদেরকে মুক্ত করে দিলে তারা সামাজিক আর্থিক নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ত, কাজেই দাসদের যে ভাবে মানবিক অধিকার মর্যাদা দিয়ে বাস্তবে বৈধতা সৃষ্টি করেছিল ঠিক সে ভাবে সুরাইয়াদের মানবিক অধিকার এবং মর্যাদা মারিয়া রাঃ এর দ্বারা বাস্তবায়ন করা হয়ছিল।
৪। মুহাম্মদ সাঃ ইব্রাহিম আঃ এর জীবনী জানতেন, তাই হাজেরা নাম্নীয় মিশরীয় রাজকুমারী যে ইব্রাহিম আঃ এর সুরাইয়া ছিলেন তা জানতেন। মিশর রাজ থেকে নিজের জন্য উপটৌকন হিসাবে মারিয়া রাঃ প্রাপ্তিকে পূর্ব পুরুষ ইব্রাহিম আঃ এর সুন্নত হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। কারণ মারিয়া এবং হাজেরা দুই জনকেই নবীর প্রতি প্রেরণ করা হয়েছিল এবং দুই জনই মিশরীয় কুমারী নারী ছিলেন।
========================================================
ফুটনোট ১: মুকাওকাসের নাম ছিল- জুরাইদ বিন মাত্বা বা মিনা বা জর্জ সন অব মিনা যিনি বেঞ্জামিন ১ বলে ইতিহাসে পরিচিত। আলেক্সজান্দ্রীয়া থেকে ৬১৬ খৃঃ যখন পারসিয়ানরা বাইজাইন্টানীদের হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেই সময় আলেক্সজান্দ্রীয়ার প্রধান চার্চের খৃষ্টান বিশপ জন দ্যা অলম্যানর পালিয়ে যান। তাঁর স্থানের ব্যাঞ্জামিন ১ কে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। বেঞ্জামিন ১ ৬১৬ খৃঃ থেকে ৬৩০ খৃঃ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।
২। বাংলায় প্রচলিত শব্দ উপপত্নী বলতে বুঝায় অবৈধ প্রণয়িনী বা রক্ষীতা বৈষ্ণব মোহান্ত সন্ন্যাসী প্রভৃতির দাসী বা উপপত্নী তাই ইসলামে প্রচলিত উপপত্নী শব্দটি ব্যবহার করা যায়না, ইসলাম ঐ ধরণের নারীদের যে মর্যাদা দিয়েছে অন্য কোন ধর্ম তা দিতে পারেনি তাই এই ধরণের সম্পর্কিত নারীকে বাংলায় যা বলা যেতে পারে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্ত্রী আরবি ভাষায় যাকে সুরাইয়া বলে। যা ইংরেজিতে সেকেন্ডারি বা ইনফেরিওর ওয়াইফ বলা যেতে পারে। ইংরেজিতে কনকুবাইন বা রক্ষিতারা সমাজে গৌণ স্ত্রীর স্বীকৃতি পেলেও তারা স্বামীর সাথে কোন সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্ত্রী হিসাবে প্রতিনিধি করতে পারতোনা, সে যেমন মৃত স্বামীর সম্পদের উত্তরাধিকার হতে পারতোনা তেমনি তার গর্ভের সন্তানও মৃত স্বামীর সম্পদের অধিকার পেতো না। বরং এই ধরণের স্ত্রী স্বামীর মুখ্য স্ত্রীর গর্ভের সন্তানরা ভাগ বণ্টন করে নিত, এবং পিতার রেখে যাওয়া উপপত্নীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতো, বা মৃত ব্যক্তির সন্তান তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়ন কিংবা অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দিতে পারত। কিন্তু ইসলাম এই সব যাবতীয় অন্যায় অমানবিক প্রথাকে বাতিল করে দিয়ে এই ধরণের বিবাহিত নারীকে অন্যান্য স্ত্রীদের মত মর্যাদা দিয়েছে, এবং তার গর্ভের সন্তানরা মুখ্য স্ত্রীর সন্তানদের মত অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। পিতার রেখে যাওয়া কথিত উপপত্নীকে মুখ্য স্ত্রীর সন্তান ধারা যৌন সম্ভোগ পুরো নিষিদ্ধ করে দেয় এবং অন্যত্র বিক্রি বা তাকে দিয়ে অন্য লোকের যৌন সম্ভোগে প্রেরণ বন্ধ করে দেয়। ইসলামে বিয়েটি একটি সামাজিক চুক্তি বিশেষ, যেখানে উপযুক্ত একজন পুরুষ আর একজন নারীর মধ্যে তাদের নিজস্ব চাওয়া পাওয়ার ভিত্তিতে একে অন্যকে স্বামী স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করবে তবে শর্ত থাকে যে বিয়েটি সমাজের সবার সামনে প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে হতে হবে, তাই যে কোন এক নারী এক পুরুষকে স্বামী স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করে নিলে তা বৈধ হয়ে যাবে। ইসলামের উপপত্নী বৈধ সমাজ এবং ধর্মে তা নৈতিকতা হীন নয়। সুরাইয়া এবং পত্নীর মধ্যে শুধু ব্যবধান, পত্নী আজাদ মহিলা যাকে মোহর দ্বারা হালাল করা হয়েছে, আর মালিকানাধিন মহিলাকে মোহর ছাড়া হালাল করা হয়। যাকে কোন কারণে মোহর দ্বারা বিয়ে করা সম্ভব হয়না তাকে ইসলামে সুরাইয়া বলে। ইসলামে সুরাইয়া এবং পত্নী সামাজিক, মর্যাদা এবং অধিকার সমান, সুরাইয়ার সন্তান পত্নীর সন্তানদের মত সমান মর্যাদা এবং অধিকার লাভ করে থাকে।


শাহ্ জালাল
জুলাই ২৪, ২০১৩ at ২:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার মনে হয় আপনি অনেক গুলা বিষয় একসাথে লিখে ফেলেছেন জার কারনে অনেকর বুঝে উথতে কস্ত হতে পারে । এক একটি ঘতনাকে আলাদা আলাদা ভাবে ব্যাখ্যা করলে মনে হয় সেতা বুঝতে আর সহজ হত
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়া এবং কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। তবে এই ব্লগে বিষয় একটি তা হচ্ছে মারিয়া রাঃ সংক্রান্ত। তাই নিন্দুকেরা যা যা অপপ্রচার করে তার প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে আমাকে অন্যান্য সহযোগী ঘটনাকে পাঠকের সামনে টেনে নিয়ে আসতে হয়েছে। আবারও ধন্যবাদ।
কিংশুক
জুলাই ২৪, ২০১৩ at ১১:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
উম্মুল মুমিনিন মারিয়া (রা:) এর ব্যপারে অনেক কিছু জানতে পারলাম। সমগ্র আরবের শাসক হয়েও রাসূল (সা:) কত সাধারন জীবনযাপন করতেন, তাঁর স্ত্রীগণ কত সাধারন জীবনযাপন করতেন তা অনেক হাদিস হতে জানা যায়। বোখারী শরীফের হাদিসটি পড়লেই সব কিছু বোজা যাচ্ছে। নোংরা মনের অধিকারী ইসলাম বিদ্ধেষীরা নিজেরা অনৈতিক জীবনযাপন করায় এই ধরনের নোংরা প্রোপাগান্ডা চালাতে পারে। আপনি ইহুদি-খ্রিস্টানদের পোষা দালাল আলী সিনা'র কথা বললেন। তারা যে কত নোংরা মনের মানুষ তা ইসলামে নারী বিষয়ক তাদের লেখা এবং অতি অবশ্যই সাথে ব্যবহার করা ছবিগুলো দেখলেই বুজা যায়। আকাশ মালিকের মতো এইসব ইসলাম বিদ্ধেষী লেখকের কাজ হচ্ছে সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে নিজেদের নোংরা মনের মাধুরীতে কেলেংকারীর কাহিনী সাজিয়ে কোরআন হাদিস সম্পর্কে স্বল্প জানা কিংবা একেবারেই অজ্ঞদের বিভ্রান্ত করে ইসলাম বিদ্ধেষ ছড়িয়ে দেয়া।
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দীর্ঘ প্রবন্ধ খুব কম লোক পড়তে সময় পায়! আপনি যে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে আমার ব্লগটি পড়েছেন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য রেখেছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আব্দুর রহিম আকন্দ
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ১:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লেখাটি বেশ বড় পরতে গিয়ে এক ঘন্টা লাগলেও ভাল লেগেছে। ঘটনার আপনার নিজস্ব ভাবনা চিন্তা গুল পাঠক দেরকে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রানিত করবে।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ১১:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
Engl
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ২:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধীরে ধীরে যেভাবে ঘটনা এবং যুক্তি এসেছে তাতে লেখার প্রামান্যতা ফুটে উঠেছে আর অজ্ঞদের মুখে চপেটাঘাত। এত বিশদভাবে না লেখা হলে এ রকম সেন্সেটিভ বিষয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই লেখার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত।
ধন্যবাদ মুনিম ভাই কে।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হলো আমার দুই বছরের খাটাখাটনি শূন্যে মিলিয়ে যায়নি। ধন্যবাদ।
sami23
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ৬:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই সালাম।
রাসুল(স:)জীবনী উপর লেখা সবচেয়ে Authentic মনে হয় তা হচ্ছে সীরাত ইবনে ইসহাক এবং সীরাত ইবনে হিশাম।কিন্তু সীরাত ইবনে ইসহাকের এবং সীরাত ইবনে হিশাম মধ্যে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর স্ত্রীর তালিকায় যেমন মারিয়ার নাম নেই,তেমনি মিশরের রাজার কাছ থেকে এই নামের কাউকে উপহার হিসেবে পাওয়ার বর্ণনাও নেই। ইবনে ইসহাকের জীবনীতে মারিয়া নামের কারও কোন অস্তিত্বই নেই। কিন্তু অন্যান্য জীবনী ও ইতিহাসগ্রন্থে তাঁকে উপহার হিসেবে পাওয়ার বর্ণনা যেমন আছে, তেমনি স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার বর্ণনাও আছে,তা কিন্তু আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না।একটি ঘটনার উৎস-স্থল থেকে ‘সময় এবং দুরত্ব’ যতই বৃদ্ধি পাবে ঘটনার বিকৃতি ততই বৃদ্ধি পাবে। সে হিসাবে,ইসলামিক ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য “উৎস” হলো কুরান, ২য় সীরাত আর ৩য় হচ্ছে হাদিস।তাহলে অনন্যা ঐতাহাসিকরা কিসের উপর ভিত্তি করে মারিয়া (রা:) কে রাসুল (সঃ)স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করলেন।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রাসুল(স:)জীবনী উপর লেখা সবচেয়ে Authentic মনে হয় তা হচ্ছে সীরাত ইবনে ইসহাক এবং সীরাত ইবনে হিশাম।কিন্তু সীরাত ইবনে ইসহাকের এবং সীরাত ইবনে হিশাম মধ্যে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর স্ত্রীর তালিকায় যেমন মারিয়ার নাম নেই,তেমনি মিশরের রাজার কাছ থেকে এই নামের কাউকে উপহার হিসেবে পাওয়ার বর্ণনাও নেই। ইবনে ইসহাকের জীবনীতে মারিয়া নামের কারও কোন অস্তিত্বই নেই।
আপনি তো জানেন যে খলিফা মানসুর ইবনে ইবনে ইসহাককে হুকুম করেছিলেন যে সৃষ্টির আদি থেকে রাসুল সাঃ পর্যন্ত নবী রাসুল গণের উপর লিখতে। ইবনে ইসহাক দরবারী লেখক ছিলেন, তিনি হুকুম মাফিক লিখেছিলেন, বিরাট এক বই। যা পড়ার মত সময় খুব কম মানুষের ছিল। তারপরও তার সে বই পড়ে তখনকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ লেখককে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ইতিহাস লিখতে গিয়ে তিনি গল্প কাহিনীকেও তার অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে ছিলেন। যাক পরবর্তিতে সেই বইকে সামনে রেখে আরো কয়েকজনে তা সংশোধন করে প্রকাশ করেছিলেন।
অতএব আমরা আদৌ জানিনা যে ইবনে ইসহাকে সেই বইয়ে মারিয়া রাঃ এর কথা ছিল কি ছিলোনা। কারণ ইবনে ইসহাকের মূল বই এখন আর হাতে নেই। আর হিশাম যে সীরাত সম্পাদনা করে গেছেন সে সম্পাদনা করার সময় তিনি ইসহাকের মূল বই থেকে কি কি বর্জন করেছিলেন তা আমরা জানিনা। কাজেই তাদের বইয়ে নাম বা ঘটনা না থাকার মানে নয় যে মারিয়া রাঃ ছিলেন না।
কিন্তু অন্যান্য জীবনী ও ইতিহাসগ্রন্থে তাঁকে উপহার হিসেবে পাওয়ার বর্ণনা যেমন আছে, তেমনি স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার বর্ণনাও আছে,তা কিন্তু আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না।একটি ঘটনার উৎস-স্থল থেকে ‘সময় এবং দুরত্ব’ যতই বৃদ্ধি পাবে ঘটনার বিকৃতি ততই বৃদ্ধি পাবে। সে হিসাবে,ইসলামিক ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য “উৎস” হলো কুরান, ২য় সীরাত আর ৩য় হচ্ছে হাদিস।তাহলে অনন্যা ঐতাহাসিকরা কিসের উপর ভিত্তি করে মারিয়া (রা:) কে রাসুল (সঃ)স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করলেন।
আপনি যদি আমার প্রবন্ধ পুরোটি পড়ে আবার জিজ্ঞাসা করেন কিসের উপর ভিত্তি করে মারিয়া রাঃকে রাসুল সাঃ স্ত্রী হিসাবে উল্লেখ করেন ! তাহলে বুঝতে পারছি আমার লেখাটি সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে! কারণ এই প্রশ্নের জবাব তো আমার এই প্রবন্ধে দেয়ার চেস্টা করে ছিলাম!
আবার পড়ে দেখবেন যে আপনার প্রশ্নে উত্তর পান কিনা!!
ইতিহাস বিবেচনা করার সময় একটি কথা মনী রাখবেন- ইতিহাস লিখা হয় ব্যতিক্রমি কিছু ঘটনার জন্ম হলে। যেমন আজকাল পত্রপত্রিকায় ব মিডিয়ায় সেলিব্রেটি ছাড়া কে কি করে কি পরে কি খায় তা কেউ প্রচার করেনা। কিন্তু কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে তখন তা প্রচারে আসে। ঠিক সে ভাবে দাসীর সাথে দাম্পত্য করা সেই সময়ে স্বাভাবিক ছিল যে ভাবে এখন আপনি আমি বিয়ে করে বংশ বৃদ্ধি বা যৌন চাহিদা পূর্ন করে থাকি। আর এই গুলো লাইম লাইটে আসে ন। তাছাড়া মুহাম্মদ সাঃ আরবের একজন বিরাট সাইদ বা নেতা ছিলেন, সেই সময়ে এই ধরণের নেতার পৌরুষ প্রকাশের কালচার ছিল, অগণিত পত্নী উপপত্নী রাখা এবং অসংখ্য সন্তান জন্ম দেয়া। তাই স্বাভাবিক ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষকে তেমন উৎসাহিত করে তুলতে পারেনি বলেই সেই সময়ের মানুষ এই গুলো উল্লেখ করে যাবার মত ঘটনা বলে মনে করেন নি বলেই তা ব্যাপক ভাবে গণ মানুষের মুখে জারি থাকেনি।
আহমাদৃল্লাহ
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ৭:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার লেখার যে দিকটি আমার সবচে ভাল লাগে, সেটা হলো অতিপ্রয়োজনীয় অথচ কেউই কিছু লিখে নি-এমন বিষয় গুলো আপনি চুজ করেন। আল্লাহ আপনার কলমে আরো ধার দান করুন।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই কস্ট করে পড়্বে এবং আমাকে দুলাইনে কমেন্ট করে উৎসাহ করার জন্য ধন্যবাদ।
Saleh Hasan Naqib
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নবী রাসুলদের চরিত্রহানির চেষ্টার ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ। এই প্রচেষ্টা নিরন্তর, এবং চলতেই থাকবে। কুরআন এবং রাসুলের শিক্ষা সার্বজনীন এবং সবসময়ের জন্য। কিন্তু মনে রাখা দরকার সকল নবী রাসুল এক একটি নির্দিষ্ট স্থান-কালে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হলে সেই সময়টিকে বুঝবার দরকার আছে।
আপনার লেখাটি অত্যন্ত যৌক্তিক হয়েছে। যদিও কিছুটা দীর্ঘ। কখনো কখনো খেই হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আজ পর্যন্ত যতটি ব্লগ আমি লিখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী সময় নিয়েছে এই লেখাটি, ২ বছর ধরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন আমার সামনে এসে দাড়িয়েছে দুর্ভেদ্য দেয়ালের মত, যা ডিঙ্গাতে আমাকে দিনের পর দিন উত্তর খুজতে হয়েছে। এক একবার লেখাটি সমাপ্তি করে ভাবছি পোস্ট করব কিন্তু তখনই বুঝে পারি যে আমার যুক্তি যে কথায় ঝুলে যাচ্ছে, বা যা প্রমাণ করতে যাচ্ছি তাহলে তা সঠিক নয়। তা আবার আমায় খুজতে দেখতে হয়েছে এটুজেড।
এই লেখার প্রথম দিকে আমার লালন কৃত বা যে ভাবে আমি চাই সে ভাবে কিছু ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে তার জন্য দলিল খুজতে চেস্টা করি কিন্তু যত পড়তে থাকি তত বুঝতে পারি আমি যা চাই বা আমার ধারণা থেকে প্রকৃতি ইতিহাস ভিন্ন। তখন আমি আমার পুর্ব ধারণাকে বিসর্জন করেই যা সত্য তা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি।
খেই হারিয়ে যাবার ব্যররথতা আমার। ধন্যবাদ।
মহিউদ্দিন
জুলাই ২৭, ২০১৩ at ৯:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নি:সন্দেহে এটি একটি পরিশ্রমী লিখা। আল্লাহ আপনার পরিশ্রমকে কবুল করুন। আমিন।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৮, ২০১৩ at ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার দীর্ঘ দিনের ইসলামী ভার্চুয়াল সহযোদ্ধাদের কাউকে এই ব্লগ পড়ে তাদের ভাল মন্দ ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে না পেরে মনে আফসুস আসছে, অতীতেও আমার লেখা দীর্ঘ ব্লগে তাদের সমর্থন পেয়েছি, পরামর্শ পেয়েছি কিন্তু যে লেখাটি আমি গত দুই বছরের অধিক কাল সময় নিয়ে লিখেছি তাতে তাদের কোন মন্তব্য দেখতে পাচ্ছিনা দেখে অবাক হচ্ছি! অথচ তারা যে অন্যান্য ব্লগে অংশ নিচ্ছেন না তা তো নয়।
কেন এই দূরত্বে যাওয়া? তার মানে কি আমরা যারা এখানে ইসলামের জন্য লড়াই করে যাচ্ছি, তাদের কাছে দলীয় রাজনীতি, ধর্মীয় ক্ষুদ্র ফেরকাবাজী খুব গুরুত্বপূর্ণ!
ধন্যবাদ।
মোঃ মোস্তফা কামাল
জুলাই ২৮, ২০১৩ at ৮:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক কিছু জানতে পারলাম। যাযাক আল্লাহ খায়ের!
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ২৯, ২০১৩ at ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়া এবং কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
এস. এম. রায়হান
জুলাই ২৯, ২০১৩ at ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিশাল বড় লেখা! এত কিছু লিখার আসলে দরকার ছিল না। তথাপি কষ্ট করে পড়লাম। ভুল-শুদ্ধ ধরার মতো অবস্থানে আমি নেই যেহেতু এত কিছু নিয়ে পড়াশুনা করা হয়নি। তবে আপনার প্রচেষ্টার জন্য সাধুবাদ জানাই।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ৩০, ২০১৩ at ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যাক পড়েছেন জানতে পেরে আনন্দিত হয়েছি। ধন্যবাদ।
dilruba
আগস্ট ১, ২০১৩ at ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Byzantine Empire নবীর জন্য দুইজন সুন্দরী পাঠিয়ে দিলেন আর নবীজীও তা পুলকিত চিত্তে সাদরে গ্রহন করলেন। এটা কেমন কথা? তিনি তো ঐ সম্রাটকে এ ধরনের অমানবিক, অনৈতিক অফার/ব্রাইভ দেয়ার জন্য প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। আপনি হয়ত বলবেন সেটা ঐ জামানার সৌজন্য/রীতি। কিন্তু নবীদের আগমন হয়েছে প্রচলিত অনাচার, আবিচার ভেংগে নতুন মানবিক রিতীনীতির সমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু দুঃখজনক নবীজী তা করেন্নি, বরং সুন্দরীকে নিজের ঘরে তুলেছেন। যদিও ঐ সময় নবীজীর একাধিক পত্নি, উপপত্নি এবং সেবাদাসী ছিল।
বিষয়টি আপনি কি ভাবে ডিফেন্ড করবেন??
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ১, ২০১৩ at ৯:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলোচনার জন্য আপনাকে আমার ব্লগে স্বাগতম!
আপনি যদি আমার ব্লগটি পড়ে থাকেন তা হলে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আপনার প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে- সাত খণ্ড রামায়ণ পাঠ করার পরও আপনি জানতে চাচ্ছেন সীতা কার বাবা?
আমি আমার বক্ষ্যমান ব্লগে আপনার এই প্রশ্নের জবাব তো দিয়ে দিয়েছি তাহলে আবার প্রশ্ন কেন?
আর Byzantine Empire নয় মেয়ে দুটিকে পাঠিয়েছিলেন আলেক্সজান্দ্রিয়ার ধর্ম যাজক এবং শাসক।
আর মেয়ে দুটির প্রতি কোন অবিচার করেননি, মেয়ে দুটির মতামতের ভিত্তিতে তাদের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ধন্যবাদ।
ANIS
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৪ at ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
MARIA KIBTI CHILEN KRITODASI, KRITODASIDER MOTAMOT NIE TAKE EGYPT THEKE PATHANO HOESILO, EI VUA BEKHA APNI KOTHAI PELEN ?
এম_আহমদ
আগস্ট ১, ২০১৩ at ৯:৪০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
(১) আপনি এখানে যে কয়টি মন্তব্য করেছেন এগুলো সতততই দেখা যাচ্ছে নাস্তিক মূর্খদের মূর্খতা-প্রসূত ধারণা থেকে আসা। আপনার মন্তব্যের অংশগুলোতে সরাসরি যাচ্ছি। আপনি বলেছেন:
এখানে ‘উপপত্নী’ ‘সেবাদাসী’ –এর ধারণা হচ্ছে মুর্খামি। আপনি কোন ঐতিহাসিকতায় এই ধারণাগুলো পান তা উদ্ধৃতি সহ নিয়ে আসেন। ইতর নাস্তিকগণ তাদের মূর্খ প্রোপাগান্ডিস্ট ধারণা নিয়ে অপরের ধর্মের দিকে যখন তাকায় তখন তাদের নিজেদের ইতরামি মানসিকতা ও মূর্খতার প্রতিফলন দেখে। এক ব্যক্তির দশ স্ত্রী থাকলে সেখানে কোন কোন জন উপপত্নী হন? সেবাদাসী কি এবং কোন কোন জন “সেবাদাসী” হন? কার স্ত্রী কয়জন এটা কি সভ্যতার মানদণ্ড? এই যুগের ব্যক্তিস্বাধীন (consenting adult) কুত্তাকুত্তিদের যৌনসম্পর্ক অনেকের সাথে থাকে। অবশেষে কাউকে বিয়ে করে, কিন্তু তারপর ব্যাপকহারে বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্ক রেখে যায়। এখানে থাকে দায়িত্বহীন, অনৈতিকতা। কিন্তু আরেক সমাজে এক ব্যক্তি একাধিক বিয়ে করতে পারে, এতে সে স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে নৈতিক জীবন যাপন করে। এই দুয়ের পার্থক্য মূর্খরা এবং মস্তিষ্কশুন্যরা বুঝতে ব্যর্থ। কেননা ধুলাই করা মাথা তাই দ্বিতীয়টিকে অসভ্য মনে করে। এতে তাদের মা-বনের সাথে অপরের যৌনসম্পর্ককে inadvertently সাপোর্ট দিয়ে যায়। তাছাড়া ব্যক্তিস্বাধীন, মুক্তচিন্তক, নাস্তিক আদর্শে যৌন সম্পর্কের কোনো নৈতিকতা আছে নাকি? ফাজিলদের মুর্খামিই সভ্যতা।
(২) দাসপ্রথা ইসলাম আবিষ্কার করেনি। আমরা বিগত বছরগুলোতে বার বার বলে আসছি। এটা দেখতে পারেন। সেদিনের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় দাসপ্রথা হঠাৎ উড়িয়ে দেয়া যেত না। এটা একবিংশ শতাব্দীর ফসিলফিউয়েলের (fissile fuel) পরিবেশ দূষণের বিষয়ের মত। আজকে চরমভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, নানা রুগের সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু এই ফিউয়েলের ব্যবহার কি এখন বন্ধ করা যাবে? গত শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত এটা কি হতে পেরেছে? তাছাড়া আজকের চরম দারিদ্র্যতার সাথে অতীতের দাসপ্রথার তুলনা কিভাবে হতে পারে? এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির দাসত্বে থেকে যদি ভাল ব্যবহার পেয়ে থাকে, যদি বস্ত্র, চিকিৎসা, আবাসের সংস্থান পেয়ে থাকে এবং যদি তার প্রয়োজনের আঞ্জাম দিতে একজন মালিকও থেকে থাকে তবে বর্তমানের চরম দারিদ্র্যতার সাথে এবং ইউরোপের এক শ্রেণীর লোক যারা ঋণভারে (mortgage/loan) ঋণদাতার কব্জায় কোনো রকমে জীবন যাবন করছে তাদের তুলনা কীভাবে হতে পারে? কিন্তু তবুও ইসলাম এটাকে ধীরে ধীরে উঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দাস/দাসী মুক্তিকে অসীম সওয়াবের কাজ বলেছে। পরকালীন মুক্তির বিষয় বলেছে। দাসীকে বিয়ে করার উৎসাহ দিয়েছে। তাদের সাথে মুক্তির কন্ট্রাক্ট দেবার কথা বলেছে। তাদের সাথে ভাল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। উপহার উপঢৌকন দেবার কথা বলেছে। কাফির এবং নাস্তিকবর্গ এগুলো দেখতে পায় না। তারা কেবল মুর্খামি প্রোপাগান্ডার জন্য ইউরোপের রোমান সেবাদাসী, যৌনদাসীর প্রতিফলন ইসলামে দেখে।
(৩) সেদিনের অবস্থানিক প্রেক্ষিতে কীভাবে এই প্রথা উঠিয়ে দেয়া যেত? সেই আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেখ করে (ঐতিহাসিক সূত্রসহ) এবং টাইফ্রেম তৈরি করে, সেই নিয়ম পদ্ধতির বিকল্প দেখান। পারবেন? আমার তো মনে হয় না। পারলে করে দেখান। আমি তো দেখতে চাই আপনি সেই সমাজ, সেই সংস্কৃতি, সেই প্রথাসমূহ এবং সেই আর্থসামাজিকতা কীভাবে বুঝেন এবং এগুলোর আলোকে সেই সমাজের উন্নয়ন নবী কীভাবে বিকল্প-পদ্ধতি করতে পারতেন সেটা দেখাবেন। এটা দেখার পরে আসব, নবীকে পাঠানোর আল্লাহর কোন কোন উদ্দেশ্য ছিল এবং আপনি সেগুলো কিভাবে বেশি জানেন এবং কার কাছ থেকে জানেন? আপনার মতোরা ইন্টারনেট থেকে মূর্খ-নাস্তিকদের ফাইজলামী পাঠ করে যেখানে সেখানে গিয়ে সেগুলো বমি করেন।
(৩) নবী তা করেননি, মানি নবী আল্লাহ-অর্পিত কাজ করেননি। তার কাজ ছিল একটি কিন্তু তিনি ক্রেছেন অন্যতা! কীযে মৌলানা! আপনার কাছে ওহি নাজিল হয়? যদি হয়, তবে সেই অহীর ভিত্তিতে ৭ম শতাব্দীর আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় রূপরেখা টানেন, এবং দেখান আল্লাহর ইচ্ছা কী ছিল এবং নবী কীভাবে সেটা করেননি। দেখি “মুখস্থ রামায়ণ” থেকে কীসের বিদ্যা বাহির হয়।
আমি তো এটাও দেখতে চাই যে আপনি সেই সমাজ, সেই সংস্কৃতি, সেই প্রথাসমূহ এবং সেই আর্থসামাজিকতা কীভাবে বুঝেন এবং এগুলোর আলোকে সেই সমাজের উন্নয়ন নবী কীভাবে বিকল্প-পদ্ধতি করতে পারতেন সেটা দেখাবেন, যাতে দেখা যায় যে নবী তাঁর কাজ করেননি। পারবেন? আমার তো মনে হয় না। আপনার মতোরা ইন্টারনেট থেকে মূর্খ-নাস্তিকদের ফাইজলামী পাঠ করে যেখানে সেখানে গিয়ে সেগুলো বমি করেন। পারলে সেইকাজ করে দেখান। এটা দেখার পরে আসব, নবীকে পাঠানোর আল্লাহর কোন উদ্দেশ্য আপনি বুঝলেন যার যে কারণে আপনার উর্বর মনে জাগ্রত হয়েছে 'নবীজী দু;খজনকভাবে তা করন্নি' এবং তার পরে যাব কোথায় রল মডেল নিহিত তাতে।
(৫) তাছাড়া ঐ দুটি মেয়ের ‘ব্যক্তিস্বাধীনতা’ ক্ষুণ্ণ হল কিনা, মেয়ে-দুটোর ‘ব্যক্তি-অধিকার’ ও ‘মুক্তচিন্তার’ উপর হস্তক্ষেপ হল কিনা, তা কি দেখতে হবে না? একবিংশ শতাব্দীর মূর্খ-নাস্তিকদের দৃষ্টিতে বুঝি এভাবে গোটা মানব সভ্যতা অসভ্য বিবেচিত হবে? তাছাড়া নবীজী ‘মুক্তচিন্তক’ হয়ে, সেই মেয়েদের ‘ব্যক্তিস্বাধীনতা’, ও ‘অধিকার’ বিবেচনা করে, তাদেরকে মিশরে ফিরত পাঠাতে পারেননি –তাই তিনি ‘নাস্তিক-মূর্খদের’ কাছে রল মডেল হতে পারেন না। রল মডেলের ধারণা কী এখানে? তা কী স্ত্রী সংখ্যায়? বতা কী য়স্ক/তরুণী বিয়েতে? এগুলো করার জন্য কী নবীর শরিয়ত কোন অনুজ্ঞা সৃষ্টি করেছে? তার রল মডেল কি উট চড়াতে? মরুতে হাঁটায়? মূর্খ-সন্তানদের সাধারণ ইসলামী জ্ঞান নেই। কিন্তু বেহায়ার মত বিতর্ক করে। এদেরই বুঝি জাগ্রত বিবেক? এরা বরং নাস্তিক্য বিশ্বাসে নিরেট “অন্ধ” বিবেকহীন।
এম_আহমদ
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১০:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিষয়টির আরও দৃষ্টিকোণ রয়েছে।
এখানে কীসের সমস্যা? একটি সমাজের শাসকের মত বৈধ অথোরিটি থেকে আসা যে মেয়েদের কথা বলা হচ্ছে তাদেরকে ফিরত পাঠালে কী কয়েক হাজার বৎসর ধরে সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত দাসপ্রথা চুরমার হয়ে পড়ত? নবী ‘পুলকিত চিত্তে সাদরে গ্রহণ” করাতে কী সেই রীতি ঠিকে থেকে গেল? এমন ধারণা কেবল মূর্খরা ছাড়া আর কে করতে পারে? তাছাড়া ওরা ফিরত গেলে কি তাদের দাসত্ব মুক্ত হয়ে যেত? তারা ফিরত গিয়ে কী ওখানে ভাল ব্যবহার পাওয়ার কথা ছিল, না এখানে থেকেই অপেক্ষাকৃত ভাল ব্যবহার পাওয়ার কথা? মুক্তচিন্তা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারের আধুনিকতাবাদীদের মত অনুযায়ী তাদের ফিরত পাঠানোর ব্যাপারে কী তাদের স্বাধীন অভিমত নেয়ার কথা আসে না? মুক্তচিন্তকমূর্খরা কী আরেক সমাজের আরেক যুগের মেয়েদের বিষয় তাদের নিজ বুদ্ধিতে এভাবেই জাজম্যান্ট দিয়ে যাবে? তাদের এই বুদ্ধির বেসিসটা কী? মুক্তবুদ্ধির নামে এরা অন্ধ-নাস্তিকতার গহীনে নিমজ্জিত।
dilruba
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ জনাব মুমিন- ধন্যবাদ প্রতিমন্তব্যের জন্য।
তো ভাইজান, আপনি যে রামায়ন রচনা করেছেন তা এই সময়ের চর্বিত চর্বন। ঐ রামায়ন আমাদের মুখস্ত, হাত সাফাই করে কি হবে!।
বিষয়টিকে আসলে এ ভাবে দেখতে হবে- সম্রাট/বিশপ যেই হোন্না কেন, তিনি তার আখেরের স্বার্থে নবীজীকে খুশি করার জন্য কোন এক দুঃখিনি মায়ের কোল খালি করে উটতি বয়সের দুজন অসহায় অবলা নারীকে সোনা দানা এবং ঘোড়া দুলদুল, গাধা ইয়াফুর এর মত স্রেফ পণ্য হিসেবে এক সুদুর অজানার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন!!! ধর্মের আবেগ/ভয়/শাস্তি/পুলক এসবের এর কারনে আমি, আপনি বিষয়টির সাথে কম্প্রমাইজ হয়তো করতে পারি কিন্তু যাদের ভিতর ন্যুনতম মানবিক মমত্ববোদ আছে তারা এ ধরনের একটি অনৈতিক অমানবিক এবং পৈচাশিক মাইগ্রেশন কে কোন অবস্হায়ই মেনে নিবে না।
আপনি বলেছেন- যাত্রা পথে তারা ইসলাম ধর্ম কবুল করেন এবং তাদের মতামত নিয়েই বিলি বন্টন করা হয়। কি সুবোধ কথারে! এ ছাড়া ঐ মেয়ে দুটির আদৌ কোন চয়েস ছিল কিনা? তারপরও কথা থেকে যায়। নবীজীর আমলে আরব মুল্লুকে কি ক্লিন ছেলে পেলের এতই আকাল পরেছিল যে তাদের দুজনকেই বিবাহিত ব্যাক্তিদের হাতে তুলে দেয়া হল! এটা কি কোন সংসারে স্বামী-স্ত্রীর আদর, ভালবাসা, শুখ, শান্তির সু-মহান রোল-মডেল হতে পারে?? এমনও তো হতে পারতো যে নবীজি মেয়ে দুটিকে কোন সুপাত্রের সাথে সমতা-মমতার বিয়ে দিয়ে "সোনা দানা এবং ঘোড়া দুলদুল, গাধা ইয়াফুর" সহ তার বাবা-মা'র কাছে সসম্মানে ফিরত পাঠিয়ে দিলেন। তবেই না আমাদের নবীজী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রোল মডেল। নয় কি???
ধর্মের অন্ধ আবেগে নয়, বরং ন্যুনতম মানবিকতাবোধের তাগিদে নিজের জাগ্রত বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন তো?
ধন্যবাদ আবারো।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার নাম মুমিন নয় মুনিম!
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই সব বিষয়ে আলোচনায় যেতে হলে আমাকে জানতে হবে সামাজিক ন্যায় বিচার বলতে আপনি কি বুঝেন? আশা করি কোন একটি সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে কি ভাবে করতে হবে?
এই একবিংশ শতাব্দীর সময় উপযোগী মুল্যবোধ দিয়ে কি ১৫শত বছর আগের সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিচার করা যায়?
dilruba
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১২:০৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দুঃখিত, অনিছ্ছাকৃত ভুলের জন্য @ জনাব মুনিম(এইবার ঠিক হয়েছে?)
দেখুন, দোজকের আগুনের ভয়ে নিজের ন্যুনতম বিবেক, সত্বা, নৈতিকতা বোধকে তো বস্তাবন্ধি করে রাখা যায় না। "সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে" যে ব্যাক্তি নিজের ব্যক্তি স্বার্থে নারীকে গরু/গাধার মত পণ্য বানিয়ে অন্যের মনরঞ্জন করার জন্য উটের পিঠে চালান করে দেয় সবার আগে তাকে শায়েস্তা করতে হবে। তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে নারী কোন পণ্য নয়।
আর ন্যায় বিচার তো সব যুগেই এক ও অভিন্ন। এমন্না যে ১৫০০ বছর আগে যুদ্ধবন্ধি নারী ধর্ষন সামাজিক ন্যায় বিচার আর ১৯৯৩ এ বসোনিয়ার যুদ্ধে নারী ধর্ষন সামাজিক ব্যভিচার। উভয় ক্ষেত্রেই এটি মহা অন্যায় এবং অবিচার, নয় কি? কারন ধর্ষিতা নারীর ব্যাথ্যা-কাঁন্না সব যুগেই এক এবং এক।
ধন্যবাদ আপনাকে।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই ভাবে বললে তো হবে না, সর্বজন স্বীকৃত সমাজ বিজ্ঞান বা রাস্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় প্রকাশ করুন- যে সামাজিক ন্যায় বিচার বলতে কি বুঝায়? আজকে মূল্যবোধ দিয়ে কি ১৫শত বছর আগে সমাজের ঘটনা প্রবাহের বিচার করা যাবে কি?
dilruba
আগস্ট ১, ২০১৩ at ১১:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুনিম ভাই, আপনি সম্ভবত ঘাবড়ে গেছেন। যে কারনে আলোচনার মূল বিষয়টি পাশ কেটে যাছ্ছেন। আপনাকে বুঝতে হবে- সে যুগে নারীকে পন্য বানিয়ে কোন অজানা অন্ধকার হেরেমে চালান করে দেয়া আর আজকে ঢাকার পারুল কে দুবাই পতিতালয়ে পাচার করা এই দুই নারীর কষ্ট-বেদনা সবযুগেই এক এবং অভিন্ন। ভাবতে অবাক লাগে এই সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক কোন ওহি নাজিল হয় না।
এবার আপনার কথায় আসি ; কে কবে কোথায় উল্টা পথে হেটেছে তাদের ব্যাপারে তৃপ্তির ঢেকুর! আবার সুবিধা জনক অবস্হায় মুখ ফসকে বলে দিব "একমাত্র ইসমালই হছ্ছে ন্যায়ের বিধান", এ ধরনের এক চাকুতে দুই দিক কাটার স্ব-বিরোধিতা আমার মাঝে নেই।
দেখুন, আমরা এখানে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথা বলছি আর ইসলাম ধর্মে "সর্বজন স্বীকৃত" বলে কোন কথা নেই। এটি other way round, একমাত্র ইসলামই হছ্ছে সর্বজন স্বীকৃত, no other option. সুতরাং সামাজিক ন্যায় বিচার নিয়ে রাস্ট্র বিজ্ঞানে সক্রেটিস, এরিষ্টোটেল, হপ, রুশো, আব্রাহাম লিংকন ভাল/মন্দ কি বলেছে আমি তো সে প্রসঙ্গে যাব না- কেননা তাদের কারো উপর আল্লার ওহি নাজিল হয় নি বা তাদের কেউ দাবিও করেনা যে ঐ বিধানই দো-জাহানে মুক্তির একমাত্র পথ। আমি শ্রী কৃষ্ণের ১৬০০০ বিয়ে, মামা-ভাগ্নি লীলা অথবা পশ্চাত্যের লিভ-টুগেদার বিষয়ে অনুপ্রনিত নই, কারন ইসলাম ধর্ম মতে এসবের কোনটিই সত্য বিধান না।
আমার মূল জিজ্ঞাসা- নবীজী কে নিয়ে আপনি যে রামায়ন চরনা করেছেন তাতে বটতলা-উকিলের মত অতশত প্যাচমারা কথা ক্যান? বিষয়টি কি গৌতুম বৌদ্ধের ব্যাক্তি জীবনের মত ক্লিয়ার কাট ছোট্ট হতে পারত না????
ধন্যবাদ আপনাকে।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২, ২০১৩ at ১:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি দু'টো কাজ করেছেন যেগুলোকে ‘বালখিল্যতা’ ছাড়া আর কোন সংজ্ঞাতেই অভিহিত করা যায় না।
# আজকের সামাজিক মূল্যবোধ দিয়ে হাজার বছর আগের সামাজিক মূল্যবোধকে মূল্যায়ন করতে যাওয়া যা অবাস্তব এবং অসঙ্গত।
# যেখানে কন্যাদের পিতামাতা সন্তুষ্টচিত্তে সম্মত ছিলেন সেখানে দেড় হাজার বছর পর আপনার দরদি হয়ে ওঠার বিশেষ কোন ক্ষেত্র না থাকা সত্ত্বেও সেটিকে বার বার উপস্থাপনের করুণ চেষ্টা।
আজকের সামাজিক মূল্যবোধ দিয়ে আপনি দেড় হাজার বছর তো দূরের কথা এক শতক আগের মূল্যবোধকেও বিচার করতে পারবেন না। রবীন্দ্রনাথের বিবাহের সময় পাত্রী ভবতারিণীর বয়েস ছিল মাত্র ১০ বছর। তারও আগে থেকেই ৮/৯/১০/১১ বছরে নারীদের বিবাহ দেয়া হত বাঙ্গালি সমাজে। তাতে সংসার করতে কারোরই বিশেষ অসুবিধা হয় নি। আমাদেরও পিতামহ/প্রপিতামহের খবর নিলে দেখা যাবে ১০/১২ বছরের কন্যার পাণিগ্রহণ করতে গিয়ে তাঁরা বিশেষ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন এমনটা পাওয়া যাবে না, সেখানে দেড় হাজার বছর আগের সামাজিক মূল্যবোধকে আজকের ঘূণেধরা ক্ষয়িষ্ণু অবক্ষয়প্রাপ্ত আপাদমস্তক ভন্ড দ্বিমুখী সমাজের মূল্যবোধ দিয়ে বিচার করতে চান কিভাবে তা আমার বোধগম্য হল না।
আগের যুগে নারীদের বিবাহ পিতামাতার উদ্যোগে-সম্মতিতেই দেয়া হত, জবরদস্তি করে সাধারণতঃ দেয়া হত না। আগের যুগের নারীরা সংসারকর্মে যে পরিমাণ সাফল্যের হার দেখিয়েছেন তা এ যুগের নারীরা পারছেন না। আগের যুগের নারীরা অনেক মহামানবের জন্ম দিয়েছেন, এ যুগের নারীরা লিলিপুট জন্ম দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। যাই হোক আপনার কথা অনুযায়ী 'অল্পবয়েসে' নারীদের বিবাহ দিয়ে শ্বশুরবাড়ি গৃহকর্মে পাঠানো আর পতিতালয়ে বারোভাজা ভ্রষ্টাচারী পরিবেশে পাঠানো এক ব্যাপার, উভয়ের 'মর্মবেদনা' এক ! একটা মেয়েকে সকলের সম্মতিতে সম্মানের সঙ্গে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যেখানে সে লেজিটিমেট স্বামী-সন্তান পেয়ে ধন্য হচ্ছে আর একদল বুভুক্ষু নারীলিপ্সু মাংসের খরিদ্দারদের খোলা বাজারে সকালবিকাল অজস্রবার সেরদরে বিক্রি হওয়ার জন্য নিক্ষেপ করা এক ব্যাপার !!! এই উম্মাদ সিদ্ধান্ত যদি মেনে নিতে হয় তাহলে সেই সঙ্গে আরো অনেক অনুসিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয় যার বিস্তারিত আলোচনার অবতারণা এখানে স্বভাবতঃই সম্পূর্ণ অবান্তর মনে করছি।
এসব বস্তাপচা অসঙ্গত অভিযোগ ও তার জবাব সম্পর্কিত লেখালেখিসমূহ অজস্রবার রোমন্থনে চর্বিতচর্বণ হওয়া সত্ত্বেও একটি বিশেষ মহল এসবকে বার বার নিয়ে এসে পরিবেশ দূষণ করার নামে অহেতুক সময়ক্ষেপণের আসলেই কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না।
আপনি যদি এতই নারীদরদি হন তাহলে কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীতে যে ৫ বছরের কন্যাশিশুদের ওরাল সেক্সে বাধ্য করা হয়, দুনিয়ার অনেক দেশের পতিতালয়ে অনুর্ধ ১০ বছরের শিশুদের পুর্ণাঙ্গ যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়, ভারতের মত মহান দেশ যেখানে ৭/৮/১০ বছরের মেয়েদের 'দেবদাসী'র মহিমা এঁটে দিয়ে মন্দির সেবায়েত-পুরোহিত আর পাঁচপেঁচি ভ্রষ্টাচারীদের ভোগে লাগানো হয় 'ধর্ম' এর নামে, আমেরিকার মত দেশে অপরিণত শিশুদের যৌনকর্মে লাগানো, হাজার হাজার ওয়েবসাইটে অপরিণত বালিকাদের যৌনকর্মের ভিডিও ধারণ করে কোটি ডলারের ব্যবসা করা হয়, সারা বাংলাদেশের ধরা পড়া এবং এখনো পর্যন্ত ধরা না পড়া মাননীয় শিক্ষকগণ যাঁরা শিক্ষায়তনে আসা শত সহস্র ছাত্রীর সাথে নিজে যৌনকর্ম করে আবার সেগুলোর ভিডিও ধারণ করে বাজারে বিক্রি করছেন গার্ডিয়ানদের ব্ল্যাকমেল করছেন _ তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলেন। আশা করি এদের মর্মযাতনা আপনি ভালই বুঝবেন এবং এদের উদ্ধারের সক্রিয় চেষ্টা করতে কসুর করবেন না। 'আগের যুগ' তো চলে গেছে পাত্রপাত্রী সব মরে টরে গেছে, এখন যারা বেঁচে আছে আপনার সময়ে তাদের উদ্ধার করাকে জীবনের একমাত্র 'ব্রত' বানিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন গে যান।
নীরব সাক্ষী
আগস্ট ২, ২০১৩ at ৩:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আহমদে শরিফ ভাই,
দেশের সাহিত্য বিশারদরা আপনার কাছে ফেল মারবে। ক্ষুরধার ভাষা ও যুক্তির মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদীর অন্তরাত্না কাঁপিয়ে আপনার প্রচেষ্টা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আল্লাহ আপনার চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধকে আরো বাড়িয়ে দিন।
মুনিম ভাই,
আপনার লেখার টপিকগুলো সত্যিই আনউইজাল। অনেক কিছু জানা যায়। আল্লাহ আপনার প্রচেষ্টার যথাযোগ্য পুরুষ্কার দান করবেন।
কিংশুক
আগস্ট ২, ২০১৩ at ৯:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আহমেদ শরীফ: খুব সুন্দর বলেছেন। উনারা এই যুগের নারী নেত্রীদের মতো আদর্শ ধরে সব বিচার করেন। দেখেন হিসাব করলে দেখবেন, আমাদের মা বা দাদীদের ৯-১৩ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়েছিলো। বিয়ের আগে আত্মীয় স্বজন, একই গ্রাম বা পাশাপাশি গ্রামের না হলে কারো দেখা সাক্ষাতও হয়নি। বাবা মা মুরুব্বীরা বিয়ে ঠিক করেছিলেন। তাতেকি তাঁদের সংসার করতে, উনাদের মধ্যে ভালোবাসার কোন সমস্যা হয়েছে? বরং আজকালকার দম্পত্তিদের চাইতে উনাদের মধ্যে বড় ধরনের পারিবারিক সমস্যা অনেক কম ছিলো। বর্তমানের চাইতে উনারা এবং উনাদের মুরুব্বীরা ইসলামের অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করতেন। আদব কায়দা লজ্জাশরম এ যুগে কত কম! আর যদি ২০০ বছর আগেও যাই কোন কন্যা দায়গ্রস্থ পিতাই মেয়ে বালেগ হবার পর ঘরে রাখার চিন্তা করতেন না এটা ১০০% নিশ্চিত। কারন, বর্তমানে না প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বে সমাজের উপরের স্তরে থাকার, অন্যের নিকট হেয় না হবার, আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তার কারনে ছেলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, নিজের পায়ে দাড়ানোর জন্য ২০-২৫ বছর পর্যন্ত বাবা মার ঘানি টানতে হয়। কিন্তু ২০০ বছর আগেওতো দেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয় দুরে থাকুক, কলেজ পর্যায়ের পড়ালেখারও সুযোগ ছিলোনা। কৃষি কাজ ব্যতীত অন্য কোন পেশাও প্রায় ছিলোইনা। ২০০ বছর বাদ দেন ৫০ বছর আগেও শতকরা ১ জন হয়তো উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতো, সুযোগ পেতো। তখনকার জীবনের সাথে, বাস্তবতার সাথে যদি একবিংশ শতাব্দির মডার্ণদের বাস্তবতা এক করা হয় তাহলে তাকে পাগল বা মূর্খ বলা উচিত।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের হার প্রতি দশকে ১০ গুণ বেশি হারে বাড়ছে। কারণগুলোও খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। এটি ২০০৭ এর রিপোর্ট।
আমাদের নিকটতম পূর্বপুরুষেরাও আমাদের তুলনায় অনেক বেশি সুখী গৃহকোণ খুঁজে পেয়েছিলেন। নারীর 'মুক্তি' কতটুকু হয়েছিল জানি না তবে অনেক শান্তিতে ছিল এটুকু বলা যায়।
WHY DIVORCE RATE IS INCREASING IN INDIA?
রবীন্দ্রনাথ বিগত শতাব্দীর শুরুর দিকেই লিখেছিলেন "ফিরিয়ে দাও সে অরণ্য, লও এ নগর।" এই শতাব্দীর শুরুর দিকে আমাদের মাঝে এসে পড়লে কি লিখতেন কে জানে, বোধহয় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে থম মেরে বসে থাকতেন কিছুক্ষণ, অতঃপর খাতাকলম গুটিয়ে মন খারাপ করে চলে যেতেন।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ২, ২০১৩ at ৮:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুনিম ভাই, আপনি সম্ভবত ঘাবড়ে গেছেন। যে কারনে আলোচনার মূল বিষয়টি পাশ কেটে যাছ্ছেন।
না। আমি ঘাবড়ে যাই নি এবং মুল বিষয়কে পাশ কাটাতে চাচ্ছিনা, বরং আমি পাশ কাটাতে চাচ্ছি যা আমাদের আলোচনা যা লাউ তা কদু মার্কা না হয়ে পড়ে। আমি চাচ্ছি আলোচনা শুরু করার আগে সামাজিক ন্যায় বিচার সম্পর্কে আপনি কি ধারণা পোষণ করেন তা বুঝতে, তাই আপনাকে এই সম্পর্কে আমি প্রশ্ন করেছি।
আপনাকে বুঝতে হবে- সে যুগে নারীকে পন্য বানিয়ে কোন অজানা অন্ধকার হেরেমে চালান করে দেয়া আর আজকে ঢাকার পারুল কে দুবাই পতিতালয়ে পাচার করা এই দুই নারীর কষ্ট-বেদনা সবযুগেই এক এবং অভিন্ন। ভাবতে অবাক লাগে এই সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক কোন ওহি নাজিল হয় না।
আপনার উপরের মন্তব্য থেকে বুঝা যায় যে আপনি কালকে ধারণ করতে পারেননি।
এবার আপনার কথায় আসি ; কে কবে কোথায় উল্টা পথে হেটেছে তাদের ব্যাপারে তৃপ্তির ঢেকুর! আবার সুবিধা জনক অবস্হায় মুখ ফসকে বলে দিব "একমাত্র ইসমালই হছ্ছে ন্যায়ের বিধান", এ ধরনের এক চাকুতে দুই দিক কাটার স্ব-বিরোধিতা আমার মাঝে নেই।
কোন পথ উলটা সিদা তা নিয়ে আলোচনা করতে হলে আগে উলটা সিদার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে, এখন যখন আপনি কাউকে অভিযোক্ত করেছেন তখন আপনাকে এই তত্ত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে, বুঝতে হবে আপনার ঘটে এই বিষয়ে কি জমা আছে। মানুষের দেখার সীমাবদ্ধতার কারণে বিরাট সুর্য্যকে ফুটবল সাইজ বলে মনে হয়, তাই মানুষের কাছে বিরোধী স্ববিরোধীতা তেমন ভাবেই প্রতিভাত হয়ে থাকে।
আমার মূল জিজ্ঞাসা- নবীজী কে নিয়ে আপনি যে রামায়ন চরনা করেছেন তাতে বটতলা-উকিলের মত অতশত প্যাচমারা কথা ক্যান? বিষয়টি কি গৌতুম বৌদ্ধের ব্যাক্তি জীবনের মত ক্লিয়ার কাট ছোট্ট হতে পারত না????
এই ভাবে ঢালও কিছু না বলে আমার উল্লেখিত বিষয়কে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট উল্লেখ করে আলোচনাতে আসুন। আর আমার এই ব্লগ ধর্ম বিশ্বাসের আলোকে আমি তৈরি করিনি, আমি ইতিহাসের দৃষ্টিকোন দিয়ে তৈরি করেছি আর বিবেচনা করেছি সেই সময় এবং সেই কালকে। আপনার মত আজকের মানদণ্ড দিয়ে নয়।
নারীদের মনে আজকে যে সম অধিকারের চেতনা সেই চেতনা কি নারীদের মনে যুগে যুগে ছিলো?
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২, ২০১৩ at ২:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাবরী মসজিদ হিন্দুরা ভাঙলে , পুরো ট্রেনের মুসলমানদের আগুনে জ্বালিয়ে দিলেও প্রমাণ হয়না হিন্দু জঙ্গিবাদের দল । আজো বি জে পি ঘোষণা করে রাম মন্দির করবে বাবরী মসজিদের জায়গায় তখন হিন্দু জঙ্গিবাদের ধর্ম হয়না ।
বার্মায় মুসলমান কচু কাঁটা করলেও বৌদ্ধ ধর্ম জঙ্গিবাদের ধর্ম হয়না । আমেরিকা ঘোষণা করে বার্মা গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ।
ইরাক , আফাগানিস্তান বিনা কারণে বিনা প্রমানে আক্রমন করে লাখ লাখ মুসলমান হত্যা করলেও খৃষ্টান জঙ্গিবাদের ধর্ম হয়না । হয় শান্তির ধারক ।
অন্যায় ভাবে যুগ যুগ মুসলমানের ভূমি দখল করে প্রতিদিন শিশু কিশোর হত্যা করলেও ইহুদীরা সন্ত্রাসী হয়না । কিন্তু যে ফিলিস্তিনিরা অস্ত্র তুলে নেয় দেশ রক্ষার জন্য ওরা নিশ্চিত সন্ত্রাসী হয়ে যায়।
পোপ শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন , হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হলেও খৃষ্টান ধর্ম মিথ্যা হয়না । তা শুধু শান্তির ধর্মই থাকে ।
অন্য সকল ধর্মের মানুষ অন্যায় করলে সেখানে ঐ ধর্ম বা অনুসারীদের দোষ নাই দোষ যারা অন্যায় করে কেবল তাদের এক শুধু ইসলাম মুসলমানদের ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম এখানে একজন মুসলমান দোষ করলে সাথে সাথে তা হয়ে যায় পুরো মুসলিমজাহানের দোষ পুরো ইসলামের দোষ । পশ্চিমারা আর তাদের মিডিয়ার কারসাজিতে আজ ইসলামের এই অপপ্রচার। যার সাথে তাল মেলায় পশ্চিমাদের কাছ থেকে ভাতা প্রাপ্ত মুসলমান নামধারী ওদেরই কিছু পোষা কুকুর।
এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় ইসলাম মিথ্যা হয়ে যায়না ইসলাম শেষ হয়ে যায়না । মুসলমানের ঈমান এত হালকা না , মুসলমানের বিশ্বাস এত ঠুনকো না , যে মিথ্যা প্রচারে তা শেষ হয়ে যাবে । নবি (সঃ) আর জন্য ইসলামের জন্য ইসলামের আদর্শের জন্য প্রতিটি ইসলামের সৈনিক তাঁর জীবন দিতে প্রস্তুত তাতে কখন বিন্দু মাত্র ফাটল ধরবেনা। এত সস্তা ধর্ম এত ঠুনকো মতবাদ মুহাম্মাদ (সঃ) প্রচার করে যাননি। এত রক্ত , এত সময় ধরে শক্ত ভিতের উপর গড়া ইসলাম দুইটা মিথ্যা প্রচারে পরে যাবে শেষ হয়ে যাবে যারা ভাবে তাদের জন্য করুণা হয় । চেষ্টা করো দেখো কি হয় ? পারো কিনা ইসলামের গায়ে একটি আচড় কাটতে !
কোরআন একমাত্র গ্রন্থ যা দিয়ে অর্ধ পৃথিবী দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী নবী (সঃ) ও তাঁর অনুসারীদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। এই বিষয়টি প্রমাণ করে ধর্মের পূর্ণতার যুক্তি । পৃথিবীতে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের এই ইতিহাস নেই।
পৃথিবীতে অন্য কোন ধর্ম প্রচারক অর্ধ পৃথিবী শাসন করেনি । অন্য কোন ধর্ম প্রচারক রাখাল থেকে অর্ধ পৃথিবীর শাসক হতে পারেনি । অন্য কোন ধর্ম প্রচারক বলে যেতে পারেনি , হে লোক সকল তোমরা সাক্ষী থেকো আমি আমার দায়িত্ব পূর্ণ করে গেলাম ।
dilruba
আগস্ট ২, ২০১৩ at ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
(মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় ইসলাম মিথ্যা হয়ে যায়না ইসলাম শেষ হয়ে যায়না । মুসলমানের ঈমান এত হালকা না , মুসলমানের বিশ্বাস এত ঠুনকো না , যে মিথ্যা প্রচারে তা শেষ হয়ে যাবে । নবি (সঃ) আর জন্য ইসলামের জন্য ইসলামের আদর্শের জন্য প্রতিটি ইসলামের সৈনিক তাঁর জীবন দিতে প্রস্তুত তাতে কখন বিন্দু মাত্র ফাটল ধরবেনা। এত সস্তা ধর্ম এত ঠুনকো মতবাদ মুহাম্মাদ (সঃ) প্রচার করে যাননি। এত রক্ত , এত সময় ধরে শক্ত ভিতের উপর গড়া ইসলাম দুইটা মিথ্যা প্রচারে পরে যাবে শেষ হয়ে যাবে যারা ভাবে তাদের জন্য করুণা হয় । চেষ্টা করো দেখো কি হয় ? পারো কিনা ইসলামের গায়ে একটি আচড় কাটতে !)
তো ভাইজান- মুখে এত বড় কথা!! অথচ এক ডেনিস কার্টুনিষ্টের সামান্য টোকা সামাল দিতে পারেন্না, এ সভ্যযুগেও দা-বটি নি্যে পথে নেমে আসেন। লজ্জাস্কর………….
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২, ২০১৩ at ১:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অবশ্যই মুসলিম প্রতিবাদী নিজেদের ধর্মবোধ তাদের কাছে মূল্যবান। প্রতিবাদ করা যদি 'অসভ্যতা' হয় আমরা 'অসভ্য'। রাজা লক্ষণ সেনের বংশধরদের মত সভ্য না, যাঁরা ছিলেন অতি সভ্য ! এত বেশি সভ্য যে বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ ছাড়াই পেছনের দরজা দিয়ে সন্তপর্ণে পালিয়ে যান।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২, ২০১৩ at ২:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধর্ম , ধর্মযুদ্ধ এবং মহাপুরুষ
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ২, ২০১৩ at ৮:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিক বলেছেন। আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় হোন। তবে এরা জন্ডিস রোগী হলুদ ছাড়া আর কিছু দেখতে পাবেনা। ধন্যবাদ।
dilruba
আগস্ট ২, ২০১৩ at ২:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ জনাব আহমেদ শরীফ : আপনার হটাৎ উত্তেজিত হওয়ার কারন বুঝা গেল না।
আমি কিন্তু কখনো বলি না- এ যুগে কোন বুভুক্ষু নারীলিপ্সু মাংসের খরিদ্দারের জীবন-আদর্শ সর্ব কালের শ্রেষ্ঠ জীবন বিধান! কম্বোডিয়ার ওরাল সেক্স, ভারতের সেবাদাসী, এ্যামেরিকার যৌন ভিডিও………….এ সবই আকাশ থেকে নেমে আসা স্বর্গিয় বাণী- জীবনের সর্বক্ষেত্রে এর প্রতিফলন থাকতেই হবে এবং ইহাই দোজাহানের মুক্তির সনদ!!
এবং একই ভাবে এটাও দৃঢ় ভাবে মনে করি ১৪০০ বছর আগে অসহায়-অবলা নারীকে নিরেট ভোগের সামগ্রি হিসেবে অন্য দেশের খলিফার রাজ-হেরেমে চালান করে দেয়া যে কোন যুক্তিতেই অগ্রহনযোগ্য। এটি স্রেফ নারীনির্যাতন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একটি অন্যায়ের বিরধিতা আবার আরেকটি অন্যায়ের পক্ষে ধানাইপানাই! কি অদ্ভুত স্ববিরোধী আপনি!!!!!
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
স্ববিরোধী আমি না, আপনি ও আপনারাই।
আপনাদের মত লোকেরা নারীমুক্তির জয়গান গাইবেন নারীশিক্ষা-প্রগতির নামে নারীদের ঘর থেকে বের করতে উৎসাহ দেবেন। ঘরের বার হলে আপনারাই কখনো পরিমল হবেন কখনো সেঞ্চুরিয়ান মানিক কখনো পান্না হয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবেন, এক্সপ্লয়েট করবেন, ভিডিও ধারণ তৎপর ব্ল্যাকমেল করবেন। নারীকে 'পণ্য' বানানোর নিন্দায় উদ্ধৃতি দিয়ে প্রবন্ধ লিখবেন আবার নারীকে আকর্ষণীয় মোড়কে মুড়িয়ে হটকেক পণ্য বানানোর জন্য আপনারাই বিজ্ঞাপনী সংস্থা খুলে বসবেন। চলচিত্রের অবক্ষয়-মিডিয়া অপসংষ্কৃতিময় ইত্যাদি উচ্চকন্ঠে ধুয়া তুলবেন আবার বিউটি কনটেস্টে স্বল্পবসনা সুন্দরীদের কাছ থেকে নিবিড়ভাবে দেখার জন্য সামনের সারিতে আপনারাই বসবেন। সেকুলারদের আপাদমস্তক ভন্ডামিতে ভরা, বাইরে সুন্দর সুন্দর কথা ভেতরে কদর্য বীভৎস দগদগে সিফিলিসে জীর্ণ।
ধরুন টাইম মেশিনে করে আপনি সেই সময়ে পৌঁছে গেলেন আরো বেশ কয়েক দশক আগের ঢাকা শহরে। গিয়ে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে দেখলেন মাথা নীচু করে নারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পেছন পেছন ক্লাসরুমে ঢুকছেন। একসময় কিন্তু আসলে এভাবেই নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রবেশের রীতি ছিল। যাই হোক এই অদ্ভূত নিয়মের সাথে আপনি যেহেতু পরিচিত নন তাই সহাস্যে সবার সামনে চেঁচিয়ে ওঠেন এবং সবার সপ্রশ্ন দৃষ্টির সামনে এই রীতিকে 'হাস্যকর' 'নারীমুক্তির প্রতিবন্ধক' বলে অভিহিত করেন তাহলে কি হবে ? গণপিটুনির শিকার হবার সম্ভাবনাই প্রবল। কেননা তখনকার সামাজিক মূল্যবোধ যা তখনকার মানুষদের কর্তৃক নির্ণেয় ছিল তা আপনি প্রত্যাখান করছেন, যা স্বভাবতঃই তখনকার মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
আবার এখনকার যুগের কোন আপস্টার্ট সাতঘাটের জল খাওয়া উগ্র আধুনিকাকে যদি আপনি টাইম মেশিনে আপনার সাথে চড়িয়ে সেই সময়ের ঢাকায় পৌঁছে দিয়ে সেখানেই সংরক্ষণ করার চেষ্টা করেন তাহলে আধুনিকার কাছে মনে হবে কারাগার, দমবন্ধ হবার অবস্থা হবে তার। আপনার ওপর সরোষে চড়াও হওয়াও বিচিত্র নয়।
দেড় হাজার বছর আগের একটি বিশেষ ধর্মমত নিয়ে আপনারা কেন ব্যাকুল হন সেটি বুঝতে সচেতন পাঠকের কোন অসুবিধা হয় না। একই রকম আহাজারি নিয়ে আপনারা বার বার আসেন। তৎকালীন আরবে দাসব্যবসা ছিল, কন্যাসন্তান জীবিত দাফন করা ছিল, ভয়াবহ স্বেচ্ছাচারিতা ছিল, যথেচ্ছ ব্যাভিচার ছিল, নিজের সৎমাকে পর্যন্ত পিতা গত হবার পর বিবাহের রেওয়াজ ছিল, জঘন্য সুদব্যবস্থা কুসীদপ্রথা ছিল, সামান্য কারণে বংশপরম্পরায় হত্যাপ্রতিশোধের সংক্রমণের ধারাবাহিকতার রেওয়াজ ছিল _ এগুলো তো সামাজিক বৈধ 'বিবাহের' চেয়ে অনেক গুরুতর ব্যাপার ! কন্যাসন্তানকে সমাজব্যাপী 'জীবিত দাফন' করা কি আপনার কাছে কম গুরুতর মনে হয় ? ইসলাম ও ইসলামের নবী(সাঃ) যে সেসব বন্ধ করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন সে কথা আলোচনা করেন, পারলে সমালোচনা করেন। যেখানে কয়েক দশক আগেও আমাদেরই পূর্বপুরুষেরা(আপনার-আমারও) একটা বয়েসে নারীদের বিবাহ করার সামাজিক রেওয়াজের অনুসারী ছিলেন, এবং বলতে নেই আমাদের চেয়ে অনেক সুখী-সফল-শান্তিপূর্ণ ছিলেন _ সেখানে দেড় হাজার বছর আগের একজন ব্যক্তি যিনি যে কোন বিচারে সারা মানবজাতির মাঝে সবচেয়ে প্রভাবশালী-শ্রদ্ধেয় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন যা ওই সময়ের স্বাভাবিক রীতিরেওয়াজের বাইরে যায় নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দেড় হাজার বছর আগের সামাজিক রীতি যা আমাদের এখানেও 'স্বীকৃত' সামাজিক রীতি ছিল এমনকি কয়েক দশক আগেও, সেই সাধারণ মামুলি একটি ব্যাপারকে আজকের মূল্যবোধ দিয়ে বাঁকা পথে নিজের কায়দায় নিজস্ব বিদ্বেষ মিশিয়ে অতিরঞ্জিত করে একপেশে বিচার করলে সেটি কি চুড়ান্ত অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অপচেষ্টা হয় না ? নিজেরাই নারীর সবচেয়ে বড় ভক্ষক হয়ে লোক দেখানোর জন্য ভন্ডামি করে ‘রক্ষক’ সাজার মত বড় স্ববিরোধী ব্যাপার আর কি আছে ?
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ আহমেদ শরীফ :
ইসলাম ধর্মের অনৈতিক, অমানবিক, সাম্প্রদায়িক, অবৈজ্ঞানিক………….. নীতি বিধান সমুহ কোরান হাদীসে এতটাই সুস্পষ্ট এবং ডকুমেন্টেড যে তা থেকে সরে আসার উপায় নেই। যে কারনে জাকির নায়েকের মত চালাক ইসলামবাজরা ধোকা-ধাপ্পা দিয়ে এখন পারেতো খোদার ওহি পালটে দেয়। আপনি তাদেরই একজন, তবে একটু মোটা মাথার- যে কারনে আল্লু বাজারের কাল্লুর গহির্ত জীবন বয়ান করে নবী চরিত্রের অনৈতিক, অমানবিক দিকগুলো ডিফেন্ড করছেন।
দুঃখিত- আপনার জন্য করুনা ছাড়া আর কি করা যা????
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার এই দু'তিন লাইনের 'জ্ঞানগর্ভ' কমেন্টে একজন ভিন্নধর্মী ইসলামবিদ্বেষীর নির্জলা নগ্ন স্থুল বিদ্বেষ ছাড়া জ্ঞানের আর কোন্ কোন্ দিক উম্মোচিত হল তা সহৃদয় পাঠকই বিচার করবেন।
কাল আমি মন্তব্যে 'মহামূর্খতা' শব্দটি লিখে ফেলেও শেষ পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে নমনীয় 'বালখিল্যতা' শব্দটি ব্যবহার করি। কারণ এটি পবিত্র রমজান মাস আর মুসলমানদের সংযম প্রদর্শনের মাস। আপনি এই সংযমকে মূল্য না দিলেও আমাকে দিতে হবে। তবে আপনি নির্বোধ গোছের না হলে আমাকে একই কথা কয়েকরকমভাবে কয়েকবার বলতে হত না যা আমার জন্য বিরক্তিকর ও পরিশ্রমসাধ্য। সদালাপের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে অনেক রেখেঢেকেই কথা বলতে হয় এখানে, না হয় আরো সোজাসাপ্টাভাবে বলতে পারতাম।
ইসলাম ধর্মে যেসব "অনৈতিক, অমানবিক, সাম্প্রদায়িক, অবৈজ্ঞানিক" বিষয়সমূহ আপনি ও আপনার সমমনারা খুঁজে পেতে চান বা খুঁজে না পেলেও সেভাবেই তুলে ধরতে পছন্দ করেন সেগুলো নিতান্ত আপনাদের বোঝার ভুল। এই বোঝার ভুলের মূল্য শুধু দুনিয়াতেই নয়, মরার পরও দীর্ঘকাল ধরে দিয়ে যেতে হবে। তবে দুনিয়ায় সংশোধন করতে পারলে পরের ভোগান্তি থেকে বেঁচে যেতে পারতেন। পরে বুঝে 'বিশেষজ্ঞ' হয়ে উঠলেও তা কোন কাজে আসতে সহায়ক হবে না।
সংক্ষেপেই বলি, কোরআন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠির ওপর আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ(সাঃ) এর উপস্থিতিতে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে নাজিল হয়েছিল। এর মাঝে কিছু চিরকালীন হুকুম, কিছু সাময়িক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রযোজ্য। কোনটি কিভাবে কতটুকু কোন কোন সময়ের জন্য প্রযোজ্য তা নির্ধারণের জন্য এক শ্রেণীর বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যাঁদের ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় 'মুফতি' বলা হয়। এনাদের 'অধিকাংশের' মতামতই নিয়মানুযায়ী ইসলামের দৃষ্টিতে 'গ্রহণযোগ্য', 'পালনীয়', 'আইনসিদ্ধ', 'দলিলসিদ্ধ'। সাধারণভাবে এর বাইরে খন্ডিতভাবে অন্যান্য বিচ্ছিন্ন বিশেষজ্ঞ মতামত কিংবা সাধারণ অজ্ঞ লোক যারা আরবি ভাষা ও ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন না তাদের আলোচনার কোন ঐতিহাসিক বা অথেনটিক কোন মূল্য নেই। সেগুলোকে সাধারণভাবে আমরা অজ্ঞ লোকের 'বোঝার ভুল' বলতে পারি, সেই সবগুলোকে একসাথে গার্মেন্টসের ঝুটের মত 'বস্তাভর্তি জঞ্জাল' হিসেবে ঐতিহাসিক আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হয়ে এসেছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত হবে।
জাকির নাইক তাঁর মত ইসলামের ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন। ওনার সাথে আপনি দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। তবে এখানে হালকাভাবে বিষোদগার করে উড়িয়ে দিলেই জাকির নাইক বাস্তবে উড়ে যাবেন বলে মনে হয় না। সেটা করতে হলে আপনাকে ওনার অনুষ্ঠানে গিয়ে গোটা বিশ্বের দর্শকশ্রোতাদের সামনে ওনার যুক্তি দলিলপ্রমাণ দিয়ে 'খন্ডন' করতে হবে। সদালাপে আমিও আপনার সাথে দু'লাইন বলতেই পারি কিন্তু তাতে ওনার কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে বলে মনে হয় না। ইভেন উনি আপনার এই কমেন্ট কোনদিন পড়বেন বলেও মনে হয় না। কাজেই আপনি আত্মবিশ্বাসী হলে দ্রুত ওনার অনুষ্ঠানে যাবার প্রস্তুতি নিন। যদিও বিস্ময়কর ব্যাপার হল এই যে আপনাদের বিশালসংখ্যক সনাতনধর্মীদের মাঝে এরকম দু'চারজন এতদিনেও কেন পয়দা হল না ! যে কয়জন যাও বা পয়দা হয়েছে তারা বাইরের দুনিয়ায় কেন যেন কিছুতেই ঝড় তুলতে পারেন না ফলে আপনারাও অন্তরের জ্বালা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ লুকাতে পারেন না।
সদালাপে কমেন্ট করতে হলে একটু মাথা খাটিয়ে সুন্দরভাবে যত্নের সাথে করার চেষ্টা করবেন। সবচেয়ে ভাল হয় পুরনো কিছু পোস্ট পড়ে দেখলে। প্রাকৃত ভাষায় ফুটপাতের বিট লবণ দেয়া আমড়ার মত শস্তা ভাষা আসলে এখানে ব্যবহৃত হওয়ার রেওয়াজ নেই। শস্তা ধরণের হালকা লেখালিখি দিয়ে এখানকার পাঠকদের মন ভেজানোও যায় না। আমার কমেন্টগুলো আরো কয়েকবার পড়ুন, খুব ঠান্ডা মাথায়, তারপর 'চিন্তা' করুন। আবার পড়ে দেখুন, আবার চিন্তা করুন। তারপরও বুঝতে অসমর্থ হলে বলুন, সময় হলে আবারো আরো 'প্রাঞ্জল' করে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। বস্তুনিষ্ঠ যুক্তিনির্ভর আলোচনায় অসমর্থ হলে তার জন্য আপনাকে কেউ দোষারোপ করছে না _ তবে নিজের ব্যর্থতার কারণে নিজের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে 'বিষোদগার' জাতীয় কমেন্ট নিক্ষেপে সদালাপের পাঠকগণ বা আমি নিজে খুব একটা প্রভাবিত হই না।
রবীন্দ্রসাহিত্য বা গান্ধীকে নিয়ে সারা বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় নিত্য লেখালেখি হয়, বিশ্লেষণ-আলোচনা হয়। কিছু বিকারগ্রস্ত মানুষ সেসব আলোচনার যোগ্যতা যারা রাখে না, সবসময় 'গসিপ' খোঁজে, শস্তা ধরণের শস্তা বিষয়বস্তু নিয়ে নাড়াচাড়া করে নিজের ক্ষুদ্রতা অযোগ্যতা ঢাকতে চায়, আজেবাজে শস্তা পত্রিকা বের করে সেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে রবীন্দ্রনাথ-গান্ধীর যৌনজীবন নিয়ে রঙ চড়িয়ে রুচিহীন কুশ্রী কতগুলো হাবিজাবি লেখে, লিখে তারা নিজেরা নিজেদের ক্ষুদ্রতা ঢেকে মহামানবকে তাদের স্তরে নামিয়ে আনা গেছে ভেবে অসুস্থ একধরণের আনন্দ পায়, তাদের মত অসুস্থ আরো কিছু লোক মজা পায় সেগুলো কিনে এবং পড়ে। তারপরও পরিশেষ কথা এটাই যে এগুলোর কোন 'অথেনটিসিটি' নেই, এগুলো বিদগ্ধ ভদ্রসমাজের কোন আনুষ্ঠানিক ক্লাসিক আলাপন নয় _ এগুলো নিতান্তই ভৃত্যশ্রেণীর লোকদের অন্দরমহলে রান্নাঘরের আলাপনের মত, যা ভেতরে থাকলেই তাদের জন্যেও ভাল, পরিবেশের জন্যও ভাল।
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এতক্ষণে ধরতে পেরেছেন তাহলে! গোমূত্র ভর্তি ড্রামের মধ্যে দুধ ঢেলে লাভ নাই। বাদ দেন।
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৩:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ আহমেদ শরীফ :
জাকির নায়েক?? আপনি আসলে ভাল ধর্মবাজের খপ্পরে পরেছেন! যিনি ৫ মিনিটের বয়ানে ২৬ টি ভেজাল অসত্য কথা বলেন। যিনি হিন্দু ধর্ম কে মিথ্যা জ্ঞান করেন কিন্তু হিন্দু ধর্ম পুস্তকে মোহাম্মদের(!) আগমনি বার্তাকে সত্যি জ্ঞান করে জন সম্মক্ষে প্রচার করেন। যিনি হিব্রু ভাষার বাইবেলে স্বামী-স্ত্রী'র প্রেমালাপে নবী মোহাম্মদের মিষ্টি মুখ আবিস্কার করেন। যিনি আল কোরানের সমতল/বিস্তৃত/expanded wide শব্দের ভিতর ডিম্বের সন্ধান আবিস্কার করেন। যিনি মঞ্চে দাড়িয়ে ১৬ বছরের স্কুল বালিকাদের সাথে ডিবেট করতে পছন্দ করেন। যিনি Sam Shamoun, David Wood, Jay Smith, Ayaan Hirsi Ali, Douglas Murray, Wafa Sultan………… এদের সাথে ডিবেটে যেতে ভয় পান।
যে কারনে তিনি এখন জোকার জাকির নায়েক নামে সুপরিচিতি লাভ করেছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধরতে অনেক আগেই পেরেছি সব তো একই গোয়ালের গরু। তবে সমস্যা হল হাজারবার চর্বিতচর্বণে জীর্ণ পুরনো বস্তাপচা বিষয়গুলো আবারও নিয়ে এলে আবারও জবাব দিতে হয়। এদের হাজারবার উত্তর দেয়া প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে একটা আর্কাইভ থাকলে ভাল হত, এত কষ্ট করে বার বার এত এত না লিখে শুধু লিংক দিয়ে দিতাম বা কপিপেস্ট করে দিলেই হত।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সর্বোচ্চ সম্প্রসারমাণ ধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকার করতে না চাইলেও বাস্তবতাকে ধীরে ধীরে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মেনে নিতেই হবে। পুরো গ্লোবাল ভিলেজই ধীরে ধীরে ইসলামাইজেশনের পথে হাঁটছে। ব্রিটিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ অনেক আগেই বলে গিয়েছিলেন "সমগ্র ইউরোপ আগামীতে কিছুটা পরিবর্তিত আকারে ইসলাম গ্রহণ করবে।"
School bans girls from wearing 'unladylike' short skirts
One campaign group said 63 schools currently banned children from wearing skirts. Most are secondaries but at least one other middle school – teaching nine- to 13-year-olds – have launched a similar crackdown.
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার বা আপনাদের 'বলাবলি' তে কিছুই যায় আসে না।
নিজের সময়ের সামাজিক মূল্যবোধের অনুসারী ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের 'বাল্যবিবাহ'কে আজকের নারীশিক্ষার নামে বহুভোগ্যা সহজলভ্য 'আইবুড়োদের' বিভ্রান্ত স্ববিরোধী সামাজিক মূল্যবোধের সাথে তুলনামূলক বিচারের নামে রবীন্দ্রনাথের 'বিশ্বকবি' খেতাব আপনি ছিনিয়ে নিতে পারবেন না, সেটিকে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত করতেও আপনি পারবেন না।
ঠিক তেমনি দেড় হাজার বছর আগের সামাজিক মূল্যবোধের সাথে আজকের 'প্রগতিশীলতা' র নামে অন্তসারশূণ্য কতগুলো ব্যর্থ মূল্যবোধ দিয়ে মুহাম্মাদ(সাঃ) এর 'বিশ্বনবী' খেতাবেও আপনি বা আপনারা সামান্য আঁচড়ও ফেলতে পারবেন না, ওনার বিরাট সার্বজনীন প্রভাবকে সামান্য 'ক্ষুণ্ণ' ও করতে পারবেন না।
শামস
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই,
পড়লাম। লেখা অনেক বড় হওয়ায় ফোকাসটা কিছুটা সরে গেছে বলে মনে হলো। এটার সারসংক্ষেপ হিসেবে আরেকটি পোস্ট দিতে পারেন যার রেফারেন্স হিসেবে এই পোস্টটি থাকবে।
এ লেখার মাধ্যমে অজানা অনেক কিছুকে জানা হল।
ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হ্যা হতে পারে, কারণ দীর্ঘ সময় নিয়ে লেখলে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ জনাব মুনিম ভাই ;
("আপনার উপরের মন্তব্য থেকে বুঝা যায় যে আপনি কালকে ধারণ করতে পারেননি")
ইসলাম কালের চাকায় সীমাবদ্ধ- ধন্যবাদ, বিষয়টি সরল ভাবে স্বিকার করে নেয়ার জন্য। অথচ এই আপনারাই আবার দাবি করেন ইসলাম নাকি জাহেল যুগের অনাচার অবিচার ভেংগে নতুন সমাজের বার্তা বাহক।
প্রাচীন রোমে যৌনদাসী উপহার দেয়ার সামাজিক রেওয়াজ ছিল, জাহেলি যুগে নবী মোহাম্মদের সময় তা অটুট ছিল- নবীজী স্বয়ং যৌনদাসী গ্রহন করেছেন এবং তার অনেক পরে আকবর বাদশাদের যুগেও তা বহাল ছিল। কিন্তু মানবতার জন্য সু-খবর- ১৮৩৩ সালে প্রথাম ব্রিটেন দাস/দাসী লেনদেন প্রথা বিলোপ আইন পাস করে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর দাসপ্রথা বিলোপ করা হয়। উপনিবেশিক প্রভাবাধীন মুসলিম রাস্ট্রগুল উনিশ শতকের শুরুর দিকে এ প্রথা বিলোপ করলেও অনেক মুসলিম দেশে এ প্রথা বিলোপ হয় ১৯৫০ এর পর।
আসলে ইসলাম ধর্মের সমাজিক বিচার-ব্যাভিচার বিষয় গুলো খুবই সুস্পষ্ট, ঐতিহাসিক এবং কোরান হাদীসে সুলিখিত(well documented), এসব নিয়ে বিতর্কের খুব একটা দরকার পরে না। যেমন ;
১। জাহেল যুগের ক্রীতদাস ইসলাম বহাল রেখেছে।
২। জাহেল যুগের দাসীদের সাথে পুরুষের অবাধ যৌনতার বিধান ইসলাম ভেংগে দেয় নি।
৩। যুদ্ধবন্ধি পুরুষকে হয় হত্যা অথবা দাস বানিয়ে রাখা, যুদ্ধবন্ধি নারী(গনিমত) ধর্ষন এবং পরাজিত পক্ষের সম্পদ লুন্ঠন ইসলাম ধর্মে বৈধ।
৩। জাহেল যুগের বহু বিবাহ ইসলাম বহাল রেখেছে। (নবীজী মোহাম্মদ তার ব্যাক্তি জীবনে অনেক বিয়ে করেছেন। এবং সে আমলের ইসলামি স্কোলারদের বয়ান থেকে জানা যায় নবীজীর দৌহিত্র ইমাম হোসেন ৯১ টি বিয়ে করেছিলেন, কারো/কারো মতে আরো বেশি)
আমি দুঃখিত মুনিম ভাই!!! তা হলে কি ইসলাম ধর্মে যুগ-উপযোগি বিধান দর্শন বলতে কিছু নেই???? আল্লাহর ওহি কি শুধু সে আমলে নবীজীর প্রতিপক্ষ আবু লাহাব আর আবু জেহেল দের কোনঠাসা করার জন্যই এসেছে।
প্রনবন্ত আলোচনার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলামের বিশ্বজনীনতার আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিত সম্পর্কে আপনারা এন্টি ইসলামিস্টগণের কথা কি আর বলব (কারণ আপনারা তো জণ্ডিস রোগে আক্রান্ত), খোদ সাধারণ মুসলিম এমন কি মুসলিম আলেমদের মধ্যে অনেকেই যথাযথভাবে উপলব্ধি করে উঠতে পারেন নাই। কারণ-মানুষ অনেক সময়েই আত্মগর্বে অন্ধ হয়ে নিজের বিচার বুদ্ধিকে শ্রেষ্ঠ মনে করে। সে সর্বাপেক্ষা ন্যায়বান, এই মিথ্যা অহমিকা তার অন্তরে জন্ম নেয় তার আত্মগরিমা থেকে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে পৃথিবীর মানুষ আজ যাকে ন্যায় বলে অভিহিত করে আগামীতে তাকেই অন্যায় বলে অভিহিত করতে দ্বিধা বোধ করে না। তাদের মনগড়া ন্যায় ও অন্যায় বোধ সীমিত জ্ঞানেরই প্রতিফলন মাত্র।
পৃথিবীতে ইসলামের পরিপূর্ণতা প্রাপ্তি হয়েছিল, ১৫ শত বছর আগে, আরবদেশে, এবং মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে। কাজেই ইসলাম বা মুহাম্মদ সাঃ কার্যক্রম বিচার বিবেচনা করতে ১৫শত বছর আগের সমকালীন বাস্তবতা এবং যে জনপদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল কি কি প্রথা প্রচলিত ছিল তা স্মরণ রেখেই বিচার করতে হবে। কারণ ইসলাম কোন বায়বীয় বা অবাস্তবায়ন যোগ্য দর্শন নিয়ে আসেনি।
আমরা যদি ইতিহাসের কষ্টি পাথরে যাচাই বাচাই করে দেখি তাহলে দেখতে পাই মুহাম্মদ সাঃ কর্তৃক প্রচারিত আন্দোলনের দুইটি প্রেক্ষিত ছিল।
১। ইসলাম কেয়ামত পর্যন্ত মানুষদেরকে ইহকাল এবং পরকালের দিক নির্দেশনা প্রদান করা। তাই এর জন্য কোরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, নীতিমালা ও মূল্যবোধ জারী করা হয় যে গুলোর আলোকে কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ দুনিয়াবি জীবন যাপন করবে।
২। অন্য প্রেক্ষিতটি ছিল- তদানীন্তন ব্যক্তি,সমাজের সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার বাস্তবতা মেনে নিয়ে, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার মাধ্যমে ইসলামের বিশ্বজনীনতাকে ধারণ করে মানব সভ্যতা গড়ে তোলা ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
স্থানিক/কালিক বৈশিষ্ট্য জাত এই নির্দেশনাসমূহ একান্তই স্থানীয়/কালিক সংস্কৃতির অংশ। যেমন দাসপ্রথা চালু রাখা হয়েছিল বেশ কিছু নীতিমালার আলোকে। দাসীদের সাথে শর্ত সাপেক্ষে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। যুদ্ধবন্দী/বন্দিনীকে দাস/দাসী করে রাখা। বহু বিবাহ প্রথা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চালু রাখা।
সোজা কথায় ২৩ বছরের ইসলামী আন্দোলনে মুহাম্মদ সাঃ সাহাবিয়ে কেরামগণ অনেক কিছু করে গেছেন যা তাদের সমাজে প্রচলিত ছিল, যা থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণ করে এসেছিলেন,
তবে এই সব বিষয়ে ইসলামের অবস্থান গ্রহণ করেছিল মানুষ সমাজকে এই সব প্রথা থেকে বের করা বা মুক্ত করে নিয়ে আসার পক্ষে এবং তা যাতে সফল হয় তার জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছে ইসলাম। ১৪শত বছর আগে ইসলাম যে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়ে গিয়েছিল সেই আলোর পরশে আপনার কথিত-১৮৩৩ সালে প্রথম ব্রিটেন দাস/দাসী লেনদেন প্রথা বিলোপ আইন পাস করেছিল । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর দাসপ্রথা বিলোপ করা হয়েছিল।
কাজেই ইসলামকে বিচার করতে হলে বিচার করতে হবে তার সর্বশেষ স্ট্যান্ড কি ছিল কোন একটি বিষয়ের উপর সে আলোকে।
জানতে মঞ্চায় এই ব্লগ কি আপনার? না এই ব্লগ থেকে ধার করেছেন?
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১২:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যেমন মদ্য ইসলামে প্রথমেই নিষিদ্ধ করা হয় নি। কিন্তু ধীরে ধীরে কৌশলে সহনীয় করে এমনভাবে নিষিদ্ধ করা হয় যে যখন সেটি করা হয় তখন সম্পূর্ণভাবে সেটিকে মেনে নেয়ার যোগ্যতাও সাহাবায়ে কেরাম(রাঃ) দের মাঝে পয়দা হয়ে গিয়েছিল। সম্পূর্ণ অন্ধকার বর্বর যুগের সর্বত্র প্রচলিত দাসপ্রথাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করার অবাস্তব হঠকারী সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ধীরে ধীরে মানবতার প্রয়োগ ঘটিয়ে সেটিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পথে অগ্রসর হবার কার্যকর ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। সমাজে যথেচ্ছ ব্যাভিচার রোধকল্পে 'সমানাধিকারের' সুকঠিন শর্তে সর্বোচ্চ ৪ বিবাহের সুযোগ ইসলামে রাখা হলেও বাস্তবে একের অধিক বিবাহ যে খুব কম মুসলমানই করে থাকেন যা শতকরা ১ ভাগও হবে কিনা সন্দেহ _ সে কথা ইসলামবিদ্বেষীরা এড়িয়ে যাওয়াই পছন্দ করে।
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ২:৪৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ আহমেদ শরীফ :
আপনি বেশ চড়া গলায় ইসলাম ধর্মে মদ খাওয়া নিষিদ্ধের কথা বয়ান করেছেন। কিন্তু এটির আসলে কোন দরকার দিল না, পন্ডশ্রম মাত্র।
যেটি নিষিদ্ধ করা জরুরী ছিল তা হছ্ছে ;
১। অমানবিক ক্রীতদাস প্রথা
২। অসহায় দাসীদের সাথে মোমিনের অতিরস্কারযোগ্য যৌন নির্যাতন
৩। মোমিন যোদ্ধাদের গনিমত নারী ধর্ষন
৪। পুরুষের বহুগামিতা
৫। দাস-দাসী কেনা বেচা, বিলি বন্টন, ভোগ, ভাগ বাটোয়ারা……. ইত্যাদি।
কিন্তু হতাসা ব্যাঞ্জক ভাবে সর্বকালের! শ্রেষ্ঠ! জীবন বিধান ইসলাম এগুলোর একটিও নিষিদ্ধ করেনি বরং কোরান-হাদীসে এসবের খোলামেলা বৈধতা দেয়া হয়েছে। দুঃখজনক।
মদ খাওয়া প্রসঙ্গ :
দেখুন এমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা মদ খায়, বৃটেনের রাণী তিনি মদ খান, পৃথিবীর সর্বজন সম্মানিত নেলসন ম্যান্ডেলা তিনিও মদ খান, মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনও মদ খেতেন……………….. তো? এতে কি কারো সমস্যা হয়েছে?? আবার দেখুন- অনেক মুসলমানদের স্বপ্নের স্বর্গরাজ্য এমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, বৃটেন, জার্মানী, জাপান………… এসব দেশে পানের দোকানের মত মদের দোকান। কই কারো তো সমস্যা হছ্ছে না একটুকুও। তো?? কিন্তু ইসলাম খামোখাই এটি নিষিদ্ধ করেছে। হাস্যকর ভাবে ইসলাম আরো নিষিদ্ধ করেছে শুকরে মাংস, অযথাই। ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে ব্যাংকিংসুদ যা দিয়ে সারা বিশ্ব সচল।
কথায় বলে ভুতের পা উল্টো দিকে চলে, ইসলাম ঐ উল্টো পথেই চলছে।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৫:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওপরে রায়হান ভাইয়ের কমেন্ট দেখেছেন তো ?
সংকীর্ণ আঞ্চলিক ধর্ম হিসেবে জাতপাত-ছোঁয়াছুঁয়ি-ভূতপ্রেত-তন্ত্রমন্ত্র ইত্যাদি হাজারো উদ্ভট কদাচার-কুসংষ্কারে ভর্তি সনাতনধর্মীদের জন্য অনেক বেশি জরুরি অন্য ধর্মের সংষ্কারের চেয়ে নিজের ধর্ম সংষ্কারে মনোযোগ দেয়া। জাতপাত ছোঁয়াছুঁয়ি এখনো অনেক অঞ্চলে বেশ কঠিনভাবেই মানা হয়। যৌতুকপ্রথার নির্মম বলি হয়ে এখনো সংসার ভাঙছে প্রাণ হারাচ্ছে বহু নারী। ক'দিন আগে দেখা গেল ভারতে ৫ সহোদরকে একসঙ্গে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছে জনৈকা ভারতীয় সনাতনধর্মী নারী। এখনো মূর্তিপূজার মত পৌত্তলিক একটি কর্ম এই যুগে এসেও তারা আঁকড়ে ধরে বসে আছে, আবার অন্যদের বক্তিমে ঝেড়ে উপদেশও দিচ্ছে। গরুর মুত্রপান থেকে শুরু করে নরমাংস ভোজনের মত অসংখ্য অসভ্যতাও ধর্মের নামে করা হচ্ছে আপনার সমাজে। সেগুলো সংষ্কারের উদ্যোগ নিন, আখেরে আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো হবে।
মদ্যপান নিয়ে আপনি যেভাবে কথা বললেন সেটি আপনার কাছে অবশ্য অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ যে ধর্মে সোমরস পান করাকে রীতিমত উৎসাহ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন দেবদেবীরাও অক্লেশে পান করে যথেচ্ছে অজাচার ব্যাভিচারে লিপ্ত থাকে থাকে সে ধর্মের অনুসারী হিসেবে আপনার মদ্যপানকে স্বাগত জানানোরই কথা। তাতে করে এই সুযোগে নিজের ভ্রষ্টাচার-মাতলামিকে বৈধ করার একটা সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে! মদ্যপান আর শূকরের মাংস আপনার দৃষ্টিতে দোষণীয় নয় যেহেতু আপনার সনাতনধর্মে নিষিদ্ধ নয়, এখানে ইসলামে কি বলল তা যখন আপনি মানেনই না সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে আলোচনাও নিরর্থক।
রাক্ষস-খোক্কস ভূতপ্রেত দৈত্যদানো নন্দি ভৃঙ্গি এসব আপনাদের ধর্মেরই অনুপান। আমাদের ধর্মে আছে মহাপ্লাবনের পর নুহ(আঃ) এর নৌকা থেকে ইবলিস শয়তান শ্রীলংকায় অবতরণ করে। সেখানে আল্লাহকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন ভূতপ্রেতের মূর্তি বানিয়ে পূজার প্রচলন ঘটায়। ক্রমাণ্বয়ে ধীরে ধীরে ভারতে বিভিন্ন অঞ্চলে রোগজীবাণুর মত ছড়িয়ে পড়ে। আজও সনাতনধর্ম আন্তর্জাতিকভাবে কোন উল্লেখযোগ্য অবস্থান করে নিতে সমর্থ হয় নি। আজও পরাশ্রয়ীর মত খীষ্টধর্ম বা ইসলামের সমালোচনা উত্থাপন করেই সনাতনধর্মীদের নিজেদের জাহির করতে হয়, পাদপ্রদীপের আলোয় গুরুত্ন পেতে হয, সর্বোচ্ছ ধর্ষণের হারসমৃদ্ধ আপনার প্রিয়ভূমি এখন নারী পর্যটকদের আতঙ্ক তারা এখন ভারতে দিকে না আসাই প্রেফার করছেন।
মদ্যপানের জন্য এক দু'টো নয় অসংখ্য ধরণের মারাত্মক ক্ষতি হয় যার বিস্তারিত তথ্যে যে কোন সুস্থ লোক শিউরে উঠবে। বিস্তারিতে এখন যাচ্ছি না আপাততঃ ১ ধরণের ক্ষতির ১টি উদাহারণ দিয়ে যতি টানছি। বেশিরভাগ দূর্ঘটনার জন্য মদ্যপানই দায়ী।
Road accidents cost India $20 bn and 1.25 lakh casualities every year
India suffers a staggering hit of Rs.1 lakh crore ($20 billion) every year due to road accidents, according to the International Road Federation (IRF), which says the country lacks "political will" to tackle the menace. On an average, over 1,25,000 are killed every year in road accidents
He said stringent checks should be established to curb rising drunken driving.
"The Supreme Court judgment calling for stringent punishments for drunken driving, especially when the driver kills someone, is exemplary but we need to follow the ruling in letter and spirit," he said.
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আহমেদ শরীফ :
আল্লাহ তালার কতই না মেরেহবানি- উনি মদ খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে! শুকরের মাংশ নিষিদ্ধ করেছেন! সেই সাথে খুসবু জদ্দাপান এবং সিগারেট নিষিদ্ধ করলে কতই না ভাল হত। আক্ষেপ!!! (ডাইরেক্ট কিলার) জদ্দা-সিগারেট নিয়ে আল কোরান টু শব্দ উচ্চার করা হয় নি।
আপনি বলেছেন- "মদ্যপানের জন্য এক দু'টো নয় অসংখ্য ধরণের মারাত্মক ক্ষতি হয় যার বিস্তারিত তথ্যে যে কোন সুস্থ লোক শিউরে উঠবে। বিস্তারিতে এখন যাচ্ছি না আপাততঃ ১ ধরণের ক্ষতির ১টি উদাহারণ দিয়ে যতি টানছি। বেশিরভাগ দূর্ঘটনার জন্য মদ্যপানই দায়ী।"
কিন্তু পৃথিবী সবচেয়ে শোচনিয় সড়ক দুর্ঘটনা প্রবন এলাকা বাংলাদেশে ১% দুর্ঘটনা মদের কারনে হয় কিনা সন্দেহ আছে।
FAISAL
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৪ at ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মদ্য পান অথবা যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন …
আপনারা জেনে রাখুন মদ্য পান অথবা যে কোন নেশাকর দ্রব্য গ্রহণ তথা সেবন [যাই তা খেয়ে কিংবা পান করেই হোক অথবা ঘ্রাণ নেয়া কিংবা ইনজেকশন গ্রহনের মাধ্যমেই হোক] একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ ।
► মহান আল্লাহ্ বলেন,
হে ঈমানদারগণ ! নিশ্চয়ই মদ [নেশাকর দ্রব্য], জুয়া, মূর্তি ও লটারীর তীর এ সব নাপাক ও গর্হিত বিষয়। শয়তানের কাজও বটে। সুতরাং এগুলো থেকে তোমরা সম্পূর্ণ দূরে থাকো। তা হলেই তো তোমর…া সফলকাম হতে পারবে।
(আল মা'য়িদাহ, আয়াত ৯০)
► রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
অভ্যস্ত মাদকসেবী মূর্তিপূজক সমতুল্য ।
(সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৪৩৮)
► আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ
যখন মদ্যপান হারাম করে দেয়া হলো তখন সাহাবারা একে অপরের নিকট গিয়ে বলতে লাগলোঃ মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে এবং উহাকে শিরকের পাশাপাশি অবস্থানে রাখা হয়েছে।
(হাকিম, খন্ড ৪, হাদীস ৭২২৭)
► রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই মদ বা মদ জাতীয়। আর প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই তো হারাম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, প্রত্যেক মদ জাতীয় বস্তুই হারাম ।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০০৩)
► রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
মদপানকারী যখন মদপান করে তখন সে ঈমানদার থাকে না।
(সহীহ আল-বুখারী, হাদীস ২৪৭৫)
► রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
অভ্যস্ত মাদকসেবী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
(সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৪৩৯)
► রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
যখন আমার উম্মাত পাঁচটি বস্তুকে হালাল মনে করবে তখন তাদের ধ্বংস একেবারেই অনিবার্য। আর তা হচ্ছে, একে অপরকে যখন প্রকাশ্যে লা'নত করবে, মদ পান করবে, পুরুষ হয়ে সিল্কের কাপড় পরিধান করবে, গায়িকাদের সাদরে গ্রহন করেব, [যৌন ব্যাপারে] পুরুষ পুরুষের জন্য যথেষ্ট এবং মহিলা মহিলাদের জন্য যথেষ্ট হবে ।
(সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীবি, হাদীস ২৩৮৬)
রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) যে সকল অনুষ্ঠানে মদ পান করা হয় সে সকল অনুষ্ঠানে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে।
► রাসূল (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন মদ পান না করে এবং যে মজলিসে মদ পান করা হয় সেখানেও যেন সে না বসে ।
(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৬৯২)
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৪ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বুঝলামনা আপনি এই কমেন্ট আমার এই ব্লগে কেন রেখেছেন!!! আমার মনে হচ্ছে আপনি ভুল ভাবে এইখানে পোস্ট করেছেন। ধন্যবাদ।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শামস ভাই আপনাকে ইন্টারনেট সম্মন্ধে প্রশ্নটা এমনি এমনি করেন নি। আপনি সহজেই সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন এবং নিজেকে আরো এক কাঠি সরেস প্রমাণ করে পান জর্দার প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছেন। কোরআন কোন এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা না যে সেখানে কেয়ামত পর্যন্ত সংঘটিত সমস্ত খুঁটিনাটি অক্ষরে অক্ষরে বর্ণিত থাকতে হবে।
আপনি যে আসলেই বাস্তব অভিজ্ঞতাবর্জিত গণবিচ্ছিন্ন একজন মানুষ এবং কিছুটা নির্বোধ সেটি এইবার নিশ্চিত হলাম। বাংলাদেশের রাস্তায় অধিকাংশ দূর্ঘটনাগুলো ঘটে হাইওয়েতে সেখানে সারাদিন তো বটেই সারারাত ধরে চলে অংসখ্য মালবাহি ট্রাক আর যাত্রীবাহী বাস। বাংলাদেশের ট্রাক ড্রাইভাররা বাংলা মদ খেয়ে ড্রাইভিং করছে সেটা তো আজকে থেকে না প্রায় ৩০/৪০ বছর আগে থেকে। বাংলাদেশের ট্রাক ড্রাইভার মানেই কঠিন মদখোর, দু'একজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই। অনেকে মদ খেয়ে কিছুটা মাতাল না হয়ে দূরপাল্লার গাড়ি চালাতেই পারে না। ট্রিপ শেষ করে আবার মদ না পেলে পাগল হবার অবস্থা হয় তাদের। প্রধান প্রধান শহরের বাংলা মদের দোকানগুলির সিংহভাগ খরিদ্দার ট্রাক আর বাস ড্রাইভার। আপনি বলছেন ১% !! অন্ততঃ ৬০/৭০ % দূর্ঘটনা মদের কারণে হয়।
যাই হোক নীচে ২০.৩ নং কমেন্টে আপনাকে কিছু প্রশ্ন করেছি উপনিষদের একটি অংশ উদ্ধৃত করে, আশা করি এবার সেটির জবাব দিয়ে যাবেন।
dilruba
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
(আপনি বলেছেন ; কোরআন কোন এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা না যে সেখানে কেয়ামত পর্যন্ত সংঘটিত সমস্ত খুঁটিনাটি অক্ষরে অক্ষরে বর্ণিত থাকতে হবে।)
অথচ এই আপনারাই ঐ পুস্তকের উট-খেজুর আর নর্দমা আকৃতির কুদরতী পানির লোভ দেখিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত সারা পৃথিবীকে বোগলের নীচে রাখতে চান! এবার আপনিই বলুন নায়াগ্রা জলপ্রপাত অঞ্চলের মানুষের কাছে ঐ নর্দমার পানির কি মুল্য আছে?
আর দেখুন- ডালে ডালে লম্ফঝম্ফ না করে বাংলাদেশের সড়ক দূর্ঘটনার কারন সম্বলিত কোন পরিসংখ্যান থাকলে তা দেখাতে পারেন। তবে আপনার কথাই যদি ঠিক ধরে নেই- তা হলে ধর্মের এত নিষেধাজ্ঞার পরও ৯০% মুসলমানের বাংলাদেশে মুসলিম ড্রাইভারদের মাঝে মদের ঝোক যে ভাবে বাড়ছে তাতে নিশ্চিত বলা যায় আর কিছুদিন পর ঐ অঞ্চলে আল কোরানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বাই দ্যা ওয়ে- ব্রহ্মা, সরস্বতী নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র অনুপ্রানিত নই যতটা না আপনি ৭ শতকের ইসলাম নিয়ে। ধন্যবাদ।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৩:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই ইসলাম আপনাদের সনাতনধর্মের মত গোমুত্রে অবগাহনের ধর্ম নয়। আপনাদের ধর্মে গোমুত্র যেমন, গঙ্গাজলও তেমনি সমান পবিত্র। শুধুমাত্র পান করা ছাড়া আর কোন কাজে পবিত্র জমজম কূপের পানি ব্যবহার হয় না। হাজার হাজার বছর ধরে জমজম কূপ বিস্ময়মিশ্রিত শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে সম্মানিত, আদরণীয়, গ্রহণযোগ্য হয়ে এসেছে, এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও হচ্ছে।
আপনার মতে 'কুদরতি' যদি এটি নাই হয়, তাহলে তো খুবই সহজ হয়ে গেল। আপনাদের ভারতে একটি এরকম তৈরি করুন, তারপর পুরো দুনিয়াকে 'বেকুব' বানান, যদি পারেন আর কি !
জমজম কূপ সারা পৃথিবীর অপরুপ বিস্ময়, যার পবিত্র পানি প্রতিদিন সারা দুনিয়ায় লক্ষ লক্ষ লিটার ছড়িয়ে পড়ে। সারা দুনিয়ার মুসলমানরা সেটি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অন্তরের খাঁটি নিয়তে পান করে থাকে। কুদরতি পানি তো বটেই এটির উৎসমুখ তো এই পৃথিবীতে না প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার তোলা হলেও এটির ওয়াটার লেভেল এক ইঞ্চি কমেছে এমনটা শোনা যায় নি। এটা সুস্পষ্ট কুদরত ছাড়া আর কি, এমনকি জমজমের উৎসমুখ আজ পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায় নি। ছোট্ট একটা কুয়ো থেকে কি করে লাখ লাখ লিটার পানি বের হয় আর কি করে যুগ যুগ ধরে উত্তোলনের পরও দুনিয়ার অন্যান্য কুয়ার মত শুকিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা এক ইঞ্চি লেভেলও কমে না _ সেটি আজও এক অমীমাংসিত মহাবিস্ময়। হাদিসে জমজমের পানি সম্মন্ধে বলা হয়েছে এতে 'খাদ্যের অংশ' আছে। আমি নিজে শুধু এই পানির ওপর দীর্ঘসময় কোন খাদ্য ছাড়া, একই সঙ্গে কোনরকম 'ক্ষুধাবোধ' ছাড়া কাটিয়েছি, এমন অনেককে নিজের চোখে এমন কিছু লোককে দেখেছি খাদ্যগ্রহণ ছাড়া শুধু এই পানির ওপর দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতে, সুতরাং এটি যে কুদরতি আমি নিজে তার সাক্ষী, সারা দুনিয়ার অসংখ্য মানুষ তার সাক্ষী। আপনি 'ঠাট্টা' করে যা বলছেন তা আন্দাজে বলছেন কোন অভিজ্ঞতা ছাড়া এটাকে বলে 'গালবাজি'। জমজমের পানি কুদরতি পানি না হলে সারা দুনিয়ার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করে নিজের গরজে বহন করে লাখ লাখ লিটার এমনি এমনি নিয়ে যাচ্ছে আর কি ! আপনি ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার এই স্বপ্নে বিভোর যে এই কোটি কোটি লোকের সবাই 'বেকুব', শুধু আপনি 'চালাক'।
উট সম্মন্ধে যেহেতু আপনার অভিজ্ঞতা নেই কাজেই বলেও কোন লাভ নেই। আমি নিজে বিভিন্ন জাতের উট গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, উটের মাঝে আমি যেসব বিচিত্র গুণাবলী দেখেছি অন্য কোন পশুর মাঝে দেখিনি। উট এমন নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলে আর তাদের নিজেদের ভেতরে সামাজিক এমন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য আছে _ নিজের চোখে না দেখলে কিছুতেই কাউকে বোঝানো সম্ভব হবে না। নিজের চোখে আমার মত দেখলে আপনিও বিস্মিত হতেন সন্দেহ নেই।
খেজুর সম্মন্ধে বাজে কথা বলেছেন। খেজুর হচ্ছে সবচেয়ে বেশি প্রোটিনযুক্ত ফলের মাঝে একটি।
http://www.healthaliciousness.com/articles/fruits-high-in-protein.php
কথাকে টুইস্ট করেন কেন ? আমি বাড়ছে কোথায় বললাম, আমি বলেছি ট্রাক ড্রাইভাররা দূরপাল্লার গাড়িতে মদ্যপান করে ড্রাইভিং করায় অনেক আগে থেকে অভ্যস্ত। আল কোরআনের অস্তিত্ব নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে না, অস্তিত্ব যদি বিপন্ন হয়ে থাকে 'শ্রীমদ্ভগবতগীতারই' হয়েছে এবং আরো হবে। আল কোরআন পৃথিবীর সবচেয়ে অধিক পঠিত-সম্মানিত মহাগ্রন্থ হিসেবে ছিল-আছে এবং থাকবে।
সুশান্ত দাশগুপ্ত বলেছিল "শিক্ষিত হিন্দু মাত্রেরই নাস্তিক না হয়ে উপায় নেই"। মোটামুটি জ্ঞানবুদ্ধি হবার পর থেকে হিন্দুধর্মের বিভিন্ন আচারঅনুষ্ঠান দেখে তার ভীষণ হাসি পেত। আজ সনাতনধর্মীরা আধুনিক বিজ্ঞানের মোকাবেলায় নিজেদের ধর্মের অসারতা প্রকটভাবে অনুভব করায় গণহারে নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, আবার একইসঙ্গে আঞ্চলিকভাবে সংকীর্ণ বদ্ধ হওয়ার কারণে বিশ্বে কোণঠাসা বিপন্ন হয়ে উঠেছে। কিন্তু ইসলামের সে অবস্থা হয় নি বরং এই পরিস্থিতিতেও ইসলামের অগ্রযাত্রা গৌরবের সাথে অব্যহত রয়েছে। আপনি 'অনুপ্রাণিত নন' ঠিকই কিন্তু সাম্প্রদায়িক কারণে আত্মাভিমান ও জাত্যাভিমানের কারণে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তো বটেই, সেটি আপনি স্বীকার না করলেও পাঠক ঠিকই অনুভব করছে।
ব্রহ্মা, সরস্বতী নিয়ে আপনি ও আপনার জাতভাইরা ‘বিন্দুমাত্র অনুপ্রানিত নন’ কিন্তু সযত্নে সনাতনধর্মের ভুলত্রুটি এড়িয়ে যেতেই পছন্দ করেন। সনাতনধর্মের গায়ে কেউ কাদা ছুঁড়ুক সেটি মনেপ্রেণে চান না। সবচেয়ে লজ্জার কথা মুসলিম লেখকরা নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েই ইসলামকে বলিষ্ঠভাবে ডিফেন্ড করেন, যেখানে আপনারা নিজের ধর্মের অনুসারী হিসেবে পরিচয় লুকান, নিজেদের ‘নাস্তিক’ দাবি করেন, আবার সনাতনধর্মের ত্রুটি দেখিয়ে দিলে ‘আহত-নিহত’ হন, বেশি বেগতিক হলে ছদ্মপরিচয়েও ডিফেন্ড করার আর সাহস পান না তখন হয় লক্ষণ সেনের সার্থক উত্তসূরীর মত পেছনের দরজা দিয়ে পালান, নয়তো মিউ মিউ করে বলেন সেটি নিয়ে ‘বিন্দুমাত্র অনুপ্রানিত নন’ ! রগড় ভালই দেখাতে পারেন বটে আপনারা ! ব্রাভো !
ANIS
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৪ at ২:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
MR AHMED SHARIF,
APNI JAMJAM KUP ER OLOUKIK HOYA NIE JA LIKHESEN TATE BUJHLAM, APNI "ARTEZIAN WELL" KAKE BOLE TA GEOGRAPHY BOOK E PAN NI. PLEASE SEARCH IN GOOGLE TO STUDY ABOUT. THERE ARE MORE THAN 100 SUCH WELLS WHERE WATER NEVER STOP COMING UP. FOR EXAMPLE : NATIONAL PARK IN USA HAS ONE SUCH THING ITS CALLED "GEISER".
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুনিম ভাই :
আমাকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমি মনে করি আমাদের ডিবেট এখানেই শেষ, এ কারনে যে আপনি অন্ততঃ স্বিকার করে নিয়েছেন ইসলাম ধর্ম বিধানে- ক্রীতদাসীদের সাথে মুমিনের অবাধ যৌনতা বৈধ, যুদ্ধবন্ধি নারী ধর্ষন বৈধ, প্রতিপক্ষের সম্পদ লুন্ঠন বৈধ , পুরুষের বহুগামিতা বৈধ, যৌনদাসী গ্রহন-ভোগ-বিলিবন্টন বৈধ এবং এগুলোর প্রতিটির প্রতিফলন নবীজীর জীবনে হয়েছে। এরপর আপনার কাছে আমার প্রশ্ন নেই। ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ আবারো।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৩:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এতো দেখি মহা মুস্কিল! আমি কোথায় স্বীকার করছি যে অভিযোগ আপনি করেছেন? আমি বরং আপনাকে প্রকৃত জ্ঞানী হিসাবে ভেবে সম্মান করে সম্মান জনক ভাষায় আপনার অভিযোগের জবাব দিয়েছি! অথচ তা আপনি ধারণ করতে পারছেন না। শুধু শুধু তালগাছটি যে আপনার সে কথাটি ভাঙ্গা রেকর্টে মত বাজিয়ে যাচ্ছেন। কে জিতেছে কে হেরেছে তা পাঠকের উপর ছেড়ে দিন। ভাল থাকুন।
শামস
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ৭:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@dilruba,
আচ্ছা, কোরান হাদিসে ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে কিছু বলা হয় নাই কেন? আপনি কি মনে করেন? সংক্ষেপে উত্তর দিলে খুশি হবো।
dilruba
আগস্ট ৩, ২০১৩ at ১০:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি বলছেন ইন্টারনেটের কথা বলছেন!! হায়রে………………
কোরান-হাদীসে বারবার উটের কথা বারবার এসেছে, উট নিয়ে কোরানে ওহি পর্যন্ত নাজিল হয়েছে। সুরা ৮৮:১৭ তে বলা হয়েছে- "তারা কি উষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?" অথচ সে সময় বাংলাদেশের লোকরা হয়তো জানতোই না উট কি বস্তু। উটের বদলে বগ-পাখির কথা বলা হলে বাঙালি কত সহজেই না আল্লার কুদরত বুঝতে সক্ষম হতেন!!!
আশা করি বিষয়টি ক্লিয়ার করতে পেরেছি।
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার কোরআন পড়াতে গলদ আছে, তাই বুঝতে গলদ হচ্ছে। কোরআন পড়তে হলে একবারে নিরপেক্ষ মন নিয়ে পড়তে হবে, তবে মনকে নিরপেক্ষ করা সহজ কোন কাজ নয়, এর জন্য সাধ্য যেমন থাকতে তেমন সাধনাও করতে হয়, যাএকদিন দুই দিনে হবেনা, যা ক্যারেন আমর্সস্ট্রং এর মত লেখকরা করে কোরানের বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন।
কোরআন বোঝা কি এত সোজা ব্লগটি পড়ে দেখতে পারেন।
dilruba
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ জনাব মুনিম ;
ভাই, গলদ যে কোথায় সেটাই প্রশ্নবোধক? কেউ বলে পৃথিবী সমতল আবার কেউ বলে জাকির নায়েকের আন্ডা…………………।
তবে আমি একমত- যে কোন জিনিসই নিরপেক্ষ মন নিয়ে পড়তে হবে। সে জন্য আমাদের মাদ্রাসা গুলোতেই একমাত্র নিরপেক্ষ মনেই নূরাণী ধর্ম শিক্ষা দেয়া হয়(?????) আর হাঁ, ক্যারেন আমর্সস্ট্রংকে কোরান ধরতে যেমন সময় লেগেছে ঠিক তেমনি সালমান রুজদী, আয়ান হিরশি আলী, ওয়াফা সুলতান, তসলিমা নাসরিন…………….. দের কোরান কে বাই/বাই বলতেও সময় লেগেছে।
ধন্যবাদ।
শামস
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@dilruba,
আপনে কথাই বুঝেন নাই বা বুঝার চেষ্টা করেন নাই। উটের কথা বলে কথা ঘোরাণোর কিছু নাই।
কোরান-হাদিস সর্বকালের না- এটা প্রমাণের জন্য পুরা গলদঘর্ম করলেন, আপনার কাজকে সহজ করে দেবার জন্য হিন্টস দিলাম যাতে বলতে পারেন, যে কোরান হাদিসে ইন্টারনেট এর কথা নাই তা সর্বকালের হয় কি করে!
শুধু শুধু এখানে বেকুবগুলার (আপনাদের দৃষ্টিতে ধার্মিকরা বেকুব!) পেছনে খাটুনি দিয়ে যাচ্ছেন!
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে একটু ভুল হয়েছে। সে নিজেই নিজেকে বেকুব মনে করে না নিশ্চয়!
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওই সময় উট ছিল আরবের প্রধান বাহন। মরুভূমিতে অতি মূল্যবান বস্তু। সেজন্যে উদাহারণ হিসেবে উটের কথা এসেছে। আপনি সেটাকে অকারণে 'ফানি' সাইডে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। উট আপনি কয়টা দেখেছেন, উট সম্মন্ধে কতটুকু জানেন ? উটের যে কতরকম গুণ তার সম্মন্ধ কোন ধারণা আছে আপনার ? থাকলে ব্যাখ্যা করুন দেখি, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে করবেন কপিপেস্ট না।
dilruba
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ আহমেদ শরীফ :
ভাইজান- সে আমলে আরবের মরুভুমিতে উট ছাড়া আর কিছু দেখার সুযোগ আপনাদের হয়নি। যে কারনে চেতনে-ভ্রমে শুধু উটের কথাই বারবার চর্বিত হয়েছে। কিন্তু সে সময় বাঙাল মুলুকে ডোড়াকাটা royal bengal tiger জাতিয় যে একটি বস্তু ছিল তা জানা জ্ঞানে কুলায় নি। জানলে তো বাঘের ভয় দেখিয়ে কুদরত প্রমান করতে যার পর নেই চেষ্টা করতেন। আমাদের আরেক ভাই @ জনাব শামস উনি আবার ইন্টার নেট নিয়ে ভাবছেন! আরে ভাই ; বগপাখি-বাঘ এর মানই তো শুনেন্নি! ইন্টারনেটের নাম শুনবেন ক্যামনে???
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ২:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি গ্লাস আর পানি দুনোটি দেখতে পেলেও যেহেতু আপনি ইসলাম সম্পর্কে Sam Shamoun, David Wood, Jay Smith, Ayaan Hirsi Ali, Douglas Murray, Wafa Sultan এদের নেতিবাচক দৃস্টিতে দেখতে পছন্দ করেন তাই আপনার কাছে গ্লাসের খালী সাইডটি নজরে আসে ভরা সাইডি পড়েনা।
আমি আগেই বলেছি ইসলাম কোন বায়বীয় দর্শন নয় যে তাতে শুধু সুন্দর সুন্দর আপ্ত বাক্য উল্লেখ থাকবে কিন্তু মানুষ তা পালন করতে পারবেনা। আপনি আমাদের প্রাথমিক ক্লাস গুলোতে যখন বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয় তখন বাচ্চাদের পরিচিত জিনিস গুলো দিয়েই দেয়া হয়ে থাকে। ভিন গ্রহএর কিছু দিয়ে দেয়া হয়না।
কাজেই ইসলাম যখন যে দেশে আভির্ভুত হয়েছিল তখন সে দেশের মানুষের দৈনন্দিন কাজে বা দেখার বিষয় গুলো দিয়েই তাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছিল। কাজে সেখানে উট আসবে না তো বাঘ আসবে নাকি?
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৬:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তর্কের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভালমত না জেনে শুধুমাত্র 'হিংসা-বিদ্বেষ' কে ফুয়েল হিসেবে উপজীব্য করে কত দীর্ঘ অর্থহীন বিতর্ক চালিয়ে যাওয়া যায় তার জীবন্ত উদাহারণ আপনি ! আরবে শুধু উট ছাড়া আর কিছু ছিল না এইটা কোথায় পাইলেন ? আরবে সিংহ ছিল, বাঘ ছিল। হিংস্রশ্বাপদ সিংহকে আরবিতে বলে 'ফাহাদ'। বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল 'ফাহাদ' সম্পর্কে আছে। আবু জেহেলের বড় ছেলে যে রাসূল(সাঃ) কে অপমান করেছিল যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহর রাসূল(সাঃ) বদদো'আ করেন, বদদো'আ যেভাবে করেন ঠিক সেভাবেই কবুল হয়, নিজের লোক পরিবেষ্টিত অবস্থাতেই তাকে বহু লোকের চোখের সামনে দিয়ে সিংহ এসে মুখে করে তুলে নিয়ে যায়। এটির শক্ত ঐতিহাসিক দলিল আছে।
এছাড়াও সে সময় সিংহ-বাঘের প্রসঙ্গে আরো অনেক বর্ণনা আছে। উট সম্মন্ধে আপনি আসলে কিছুই জানেন না সেটা স্বীকার করে নিন, যা বলছেন তা শুধুই আন্দাজের ওপর বলছেন। আন্দাজের ওপর জোর দিয়ে হয়তো কিছু বলা যায়, কিন্তু তার কোন ভিত্তি থাকে না।তর্ক করার আগে কিছু আগে পড়াশোনা করে আসেন, শুধু হিংসা আর বিদ্বেষ গরলের মত বর্ষণ করলেই হবে ?
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সে কি এখনই যাবেন কি সবে তো কলির সন্ধ্যে ! এত এত আস্ফালন করে শেষে এভাবে লেজ তুলে চম্পট দিলে ভাউচার পাস হবে তো ? না হয় আর কিছুক্ষণ দৌড়োদৌড়ি করে ডিউটির ইনিংসটা পূরণ করেই যেতেন। আলোচনাটা সবে জমে উঠেছে, ইন্টারভ্যাল হবার আগেই আচমকা "তাহলে ঐ কথাই রইল" টাইপ তড়িঘড়ি একটা উপসংহার টেনে 'য পলায়তি স জীবতি' ভঙ্গিতে দৌড় দেয়াটা একজন ভদ্রলোকের জন্য শোভন নয় কিন্তু।
আমি তো আরো সনাতনধর্ম সম্মন্ধে বেশ কিছু প্রশ্ন রেডি করে রেখেছিলাম যার জবাবে এতদিন আপনাদের কেউ কোন সদুত্তর না দিয়ে লক্ষণ সেনের মত 'সুসভ্য' স্টাইলে হঠাৎ গায়েব হয়ে যেত। আপনার মত চিকন বুদ্ধির একজনকে পেয়ে বড় আশান্বিত হয়েছিলাম যে এবার অন্ততঃ 'গঠনমূলক' কিছু তথ্যউপাত্ত পাওয়া যাবে। দুঃখজনক হল কিসের যেন আভাস পেয়েই নাকি জানি না আপনিও শেষ পর্যন্ত নীরবে 'অন্তর্হিত' হবার 'লক্ষণ' দেখে বিচলিত বোধ করছি। যাই হোক, আপাততঃ শুধু একটি প্রশ্ন রেখে গেলাম সময় করে সম্ভব হলে উত্তর দিয়ে যাবেন দাদা।
এইটার ব্যাখ্যা আপাততঃ দিলেই চলবে। বেশ তথ্যউপাত্ত-যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা করুন। আমরাও আপনার জ্ঞানসুধারুপ অমৃতপানে ধন্য হই।
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@dilruba,
এ বিষয়ে আপনাদের ছোট দেবতা শিক্ষানবিসকে এখানে ওপেন চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। সে তো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পারলে তাকে এখানে ধরে নিয়ে আসেন।
ওমা! আপনাদের বিখ্যাত ধর্মগুরু শ্রী শ্রী রবি শংকর, জৈন ধর্মের বিখ্যাত গুরু রশ্মি ভাই জাভেরি, বিখ্যাত খ্রীষ্টান স্কলার ড. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ যে '১৬ বছরের স্কুল বালিকা' তা তো জানা ছিল না! আপনারা পারেনও। এমনকি জাকির নায়েক যদি আপনাদের কোনো দেবতাকে বিতর্কে যুক্তি দিয়ে নাস্তানাবুদ করেন, তাহলে আপনারা সেই দেবতাকেও '১৬ বছরের স্কুল বালিকা' বানিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না!
এইসব খ্রীষ্টান মিশনারীদের নামও আপনাদের 'দেবতা' লিস্টে উঠে গেছে নাকি! তবে রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিস, ও ড্যান ডেনেট এর মতো আপনাদের দেবতুল্য বিবর্তনবাদী নাস্তিকরাও কিন্তু আমাদের সাথে বিতর্কে আসতে ভয় পান। এখন কী করবেন।
একজন জোকারের কাছেই আপনাদের ধর্মগুরুরা যেভাবে যুক্তিতে নাস্তানাবুদ হয়েছেন, আমাদের সামনে পড়লে আপনাদের ধর্মগুরুদের অবস্থা যে কী হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৫:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা আর কি !
মুনিম সিদ্দিকী
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৩:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ দিলরুবা বেগম,
মাদ্রাসায় পড়তে হবে কেন? পৃথিবীর তাবৎ মুসলিম কি কথিত মাদ্রাসায় পড়ুয়া? আমি তো মাদ্রাসায় পড়ে আসিনি? তাহলে এই যে ব্লগ গুলোতে লেখালেখি করে যাচ্ছি তা কেমন করে করে যাচ্ছি? তবে আমি একমত- যে কোন জিনিসই নিরপেক্ষ মন নিয়ে পড়তে হবে। আপনি যাদেরক নিয়ে বগল বাজাচ্ছেন সেই সালমান রুজদী, আয়ান হিরশি আলী, ওয়াফা সুলতান, তসলিমা নাসরিন এরা সবাই মাকাল ফল। কারণ সত্যিকাররের মুসলিমরা হচ্ছে খাজুর গাছের পাতার মত যে পাতা শত ঝড়ে ঝরে পরেনা, আপনি তো জানেন ফল গাছ যখন ফুল দেয় তখন ঔ ফুল গুলো গাছে থেকে গিয়ে ফলে পরিনত হয়, যেগুলোতে ফলের পরিপূর্ণতা হবার সকল উপাদান থাকে। কাজেই যেগুলো ঝরে পড়ে সেগুলো যে অপরিণত তার জন্য বিজ্ঞান থেকে সূত্র এনে অংক করার দরকার নেই।
আপনাদের মত লোকদের মনোরঞ্জন দেবার জন্য সালমান রুজদী, আয়ান হিরশি আলী, ওয়াফা সুলতান, তসলিমা নাসরিনদের জন্ম হয়ে থাকে।
ধন্যবাদ।
dilruba
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৫:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুনিম ভাই :
ধন্যবাদ।
দেখুন ইসলামের আল্লাহ ছোটখাটো কিছু না। তিনি যে শুধু চন্দ্র সুর্য পৃথিবীর মালিক তানা, তিনি লক্ষকোটি গ্যালাক্সিরও মালিক বটে, আর একেকটি গ্যালাক্সি কি জিনস তা তো আপনি বুঝেন। সেই তিনি তারই সৃষ্টি মানুষের কাছ থেকে অসত রাজনীতিবীদ দের মত শুধু তোষামদ পেতে চান! কেউ তোষামদ না করলে উনি বিচিত্র সব আগুনের ভয় দেখান, তাও আবার চামড়া পান্টে পাল্টে শিক কাবাব বানানোর কায়দায়, আবার তার তোষামদকারীকে তারই নিষিদ্ধ মদ খাওনোর গেরান্টি দেন!! বিষয়টি আমার কাছে কেমন যেন নেহাত মোটা বুদ্ধির মনে হয়। এরবড় এক শক্তির চরিত্র অবিকল অত্যাচারি রাজা বাদশা জমিদারের মত কেন? তিনি তার সৃষ্টি মানুষকে তার ওস্তাদি প্রমান করার জন্য নিরেট উটের কুদরিতি দেখান? হকা-ফেরিওয়ালাদের মত তিনি কসমও কাটেন! তিনি বায়ূ, মেঘ, জলযান, নক্ষত্র, সূর্য, চাঁদ এ সমস্ত জড়বস্তু নামে কসম কাটেন! তিনি তারই সৃষ্টি ফেরেস্তাদের নামে কসম কাটেন! কেন কসম কাটেন? তার সৃষ্টি মানুষের কাছে তার স্রোষ্টাগিরী প্রমান করার জন্য।
নাহ, মুনিম ভাই………….. এখানে নিশ্চিত কোন বড় ধরনের সুভংকরের ফাঁকি আছে। ধন্যবাদ আবারো।
dilruba
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৬:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুনিম ভাই :
"আপনি যাদেরক নিয়ে বগল বাজাচ্ছেন সেই সালমান রুজদী, আয়ান হিরশি আলী, ওয়াফা সুলতান, তসলিমা নাসরিন এরা সবাই মাকাল ফল।"
দেখুন- সৌর বিজয়ী নীল আর্মস্ট্রং, সুনিতা উইলিয়াম এর মত বাঘা বাঘা রত্নের গায়ে যখন দেউলিয়া ইসলামের গুজবের চাদর বিছিয়ে দেয়া হয় তা তখন আপনাদের কাছে মারহাবা-মারহাবা। যখন পেট্র ডলারের লোভে ক্যারেন আমর্সস্ট্রং আর আপনাদের সাত রাজার ধন টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকার মত ভন্ডরা ইসলাম কবুল করে তা হয়ে যায় খেজুর গাছের পাতা!! কিন্তু পাশাপাশি মাথার উপর লক্ষ কোটি টাকার মৃত্যু পরোয়ানার ফাতোয়া নিয়ে, নিজ ভুম থেকে দেশান্তরিত হয়ে, আত্মগোপনে থেকে ওয়াফা সুলতান, সালমান রুজদী, আয়ান হিরশি, তসলিমা নাসরিন রা যখন অসার ইসলাম ত্যাগ করে তা হয় আপনাদের কাছে মাকাল ফল? কচুপাতার পানি? কি অদ্ভুত একপেশে ধর্মান্ধ উন্মাদ আপনারা!! সরি মুনিম ভাই।
একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন তো মুনিম ভাই, প্লিজ- ক্যারেন আমর্সস্ট্রং, ব্লেয়ার শ্যালিকারা………… যখন ইসলাম কবুল করে কেউ তাদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেনি, তাদেরকে দেশান্তরিত হতে হয় নি, আত্মগোপনেও যেতে হয় নি। আর এখানেই আপনাদের সুশীতল শান্তির ইসলামের সাথে অন্যের পার্থক্য। SHAME, SHAME…………………………
কিংশুক
আগস্ট ৪, ২০১৩ at ৯:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@dilruba: আর যারা তথাকথিত ইসলাম ত্যাগী (ইসলামে বিশ্বাস তাদের কোনকালেই ছিলোনা্) তারা পশ্চিমে জামাই আদর পেয়ে, উন্নত জীবনে মহা তারকা হয়ে আজগুবি কথাবার্তা লিখে ইহুদি খ্রিস্টান নাস্তিক সবার চোখের মনি হয়ে মিলিয়নার। দেশে থাকলে তাদের অনেকের মধ্যবিত্তের জীবন যাপন করাও কষ্টকর হতো, বিশ্বব্যপী পরিচয় পাওয়ারতো প্রশ্নই আসেনা। আর পশ্চিমে যারা অন্য ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয় তাদেরকে সন্ত্রাসী ইত্যাদি নানান অপবাদ শুনতে শুনতে সংগ্রামের জীবন কাটাতে হয়। shame মোটা মাথার নাস্তিককুল shame।
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কাকে নাস্তিক বলছেন। সে কি নিজেকে নাস্তিক দাবি করেছে। মুসলিমদের এইটা একটা প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা ইসলাম বিদ্বেষী দেখলেই নাস্তিক ট্যাগ করে। আর মুসলিমদের এই বোকামীর সুযোগ নিচ্ছে কিছু ধূর্ত।
dilruba
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ কিংশুক…………..
দেখুন- ওয়াফা সুলতান, তাসিমা নাসরিন, আয়ান হিরশি, দাউদ হায়দার….. এরা কেউই সুইডেন, কানাডা র পাসপোর্ট চায় না বরং নিজ দেশে লাল চালের ভাত খেতে চায়। কিন্তু শান্তির ধর্মের মোমিনরা দা-কুড়াল নিয়ে ওদের মুন্ডুপাত করার জন্য ঠায় দাড়িয়ে আছেন………………………… তো??
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সনাতনধর্মী বাংলাভাষী ইসলামবিদ্বেষী যারা তাদের অধিকাংশই দেখা গেছে বর্ণবাদি হিন্দু ! নাস্তিকের ছদ্মবেশ তারা ধারণ করে মাত্র, আদতে তারা নাস্তিক নয়। তীব্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তারা অন্তরে লালন করে বিশেষতঃ ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি, তারা পুনরায় রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও দেখে। নাস্তিকতার দায় উদ্ধারের জন্যে নয়, তারা নাস্তিক সাজে মূলতঃ হিন্দুত্বের সাম্প্রদায়িক দায় উদ্ধারের আশায়। সুকৌশলে 'নাস্তিক' তকমা গায়ে এঁটে ধীরে ধীরে 'যুক্তিবাদি' 'মানবতাবাদি' '২য় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা' ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের 'কাভার' ব্যবহার করে মিশন বাস্তবায়নে তারা এগিয়ে যেতে থাকে।
dilruba
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুনিম………………….
আপনি বলেছেন ; আপনি গ্লাস আর পানি দুনোটি দেখতে পেলেও যেহেতু আপনি ইসলাম সম্পর্কে Sam Shamoun, David Wood, Jay Smith, Ayaan Hirsi Ali, Douglas Murray, Wafa Sultan এদের নেতিবাচক দৃস্টিতে দেখতে পছন্দ করেন তাই আপনার কাছে গ্লাসের খালী সাইডটি নজরে আসে ভরা সাইডি পড়েনা।
আপনারাও তো ওসমাবিন লাদেন, জাকির নায়েক, সফী হুজুর…………. দের তেঁতল তত্বের ৭ শতকী চশমা চোখে এটে রেখেছেন……………….!
dilruba
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ১:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ জনাব আহমেদ শরীফ :
আপনি বলেছেন : "উট সম্মন্ধে আপনি আসলে কিছুই জানেন না সেটা স্বীকার করে নিন"
ঠিক বলেছেন, এই রকেট সায়ন্সের যুগে আমি আল কোরানের উট নিয়ে গবেষণা করতে চাই না।
আপনি আরো বলেছেন : "আবু জেহেলের বড় ছেলে যে রাসূল(সাঃ) কে অপমান করেছিল যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহর রাসূল(সাঃ) বদদো'আ করেন, বদদো'আ যেভাবে করেন ঠিক সেভাবেই কবুল হয়, নিজের লোক পরিবেষ্টিত অবস্থাতেই তাকে বহু লোকের চোখের সামনে দিয়ে সিংহ এসে মুখে করে তুলে নিয়ে যায়। এটির শক্ত ঐতিহাসিক দলিল আছে।"
আমারো জানতে ইছ্ছা করে- নবীজীর উপর কার বদদো'আ পরেছিল যে বিবি আয়শাকে নীচের হাদীস গুলো বয়ান করতে হল?
১। সহি বুখারি, বই-৫৯, হাদিস-৭১৩ ; "আয়শা বর্ণিত -- নবী ভীষণ পীড়িত ছিলেন যাতে তিনি মারা যান, তিনি প্রায়ই বলতেন -- আমি এখনো খায়বারে বিষ মেশানো মাংশ খাওয়া জনিত বিষক্রিয়ায় ভীষণ যন্ত্রনা বোধ করছি। আমি এমন বোধ করছি যেন আমার গলার শিরা ছিড়ে যাচ্ছে।"
২। সহি বুখারি, বই-১১, হাদিস-৬৩৪ ; "আয়শা বর্ণিত- নবীর পীড়া কঠিন হলে তিনি আমার ঘরে দিন কাটানোর জন্য অন্য স্ত্রীদের কাছে অনুমতি চাইলেন, সবাই রাজী হলো। তিনি দু্জন লোকের ঘাড়ে ভর দিয়ে আসছিলেন আর তার দু পা মাটিতে ছেচড়ে ছেচড়ে আসছিল।"
আরো আছে, আপনি বলুন তো- নবীজির দৌহিত্র ঈমান হোসেনের উপর কার বদদো'আ পরেছিল যে উনি পানি/পানি করে মরুভুমির তপ্ত বালি্যে সপরিবারে সটান হয়ে গেলেন!!
নবীজীর সাহাবি ওমর, ওসমান, আলীর উপর কার বদদো'আ পরেছিল যে দিনেদুপুড়ে এই জলজ্যান্ত মানুষগুলোর অপঘাতে নির্মম মৃত্যু হল!!
তাই বলছি, আমার সাথে বাহাস করার সময় একটু ভেবেচিন্তে মন্তব্য লিখবেন। ধন্যবাদ শরীফ ভাই।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৬, ২০১৩ at ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শ্রীমতি দিলরুবা,
(বেগম/পারভিন/খাতুন যাই হন না কেন, যদিও আমার ধারণা দাশ/হালদার/দত্ত/বোস এই জাতীয় কিছুই হবে )
আপনার নির্বুদ্ধিতার তুলনা বোধহয় আপনি নিজেই। প্রথমে অল্পবয়েসি লেজিটিমেট বিবাহিতাদের তুলনা করলেন বারোভাতারি পতিতাদের সঙ্গে, এরপর 'অপঘাতে মৃত্যু' র দায়ে হিরো-ভিলেন উভয়কে এক কাতারে দাঁড় করাতে চাইছেন। আমার দুঃখ হল এত এত কমেন্টে এতভাবে ব্যাখ্যা করার পরও সোজা কিছু জিনিস আপনি বুঝতে তো পারেনই না, বোঝেন না যে সেটাও না বুঝে একই প্যাচাল বার বার এনে গৌরচন্দ্রিকার অবতারণা করতে থাকেন। আপনার বিভিন্ন আলামতে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে আপনি একজন সনাতনধর্মী এবং কোলকাত্তাইয়া টকসিকেটেড বর্ণবাদি মানুষ যিনি কস্মিনকালেও ইসলাম সম্মন্ধে নেতিবাচক ছাড়া অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অনভ্যস্ত, এক ধরণের অন্ধ সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পাচ্ছন্ন এই দৃষ্টিভঙ্গি গোঁয়ারের মত মরণপণ আঁকড়ে ধরে রাখলে যে কোন বিষয়েই তা সুস্থ আলোচনার অন্তরায়। মনের বদ্ধ জানালাগুলো খুলে না দিলে এই বিষ বুকে ধারণ করে করে নীলকন্ঠ হয়তো হয়ে উঠবেন কিন্তু জ্বাজ্বল্যমান সত্যের সন্ধান পাবেন না। এজন্য এরপর থেকে আমার রিপ্লাই যা হবে তা সংক্ষিপ্ত আকারে হবে, আপনাকে করা এটাই আমার শেষ বিস্তারিত কমেন্ট।
'ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক' দেখেছেন ? এই রকেট সায়েন্সের যুগে পোকামাকড় নিয়েও গবেষণা হচ্ছে, আপনার চেয়ে আরো অনেক ভাল ভাল মানুষ তা করছে।
সকলে জানেন মহাত্মা গান্ধী নাথুরাম গডসের পিস্তলের গুলিতে নিহত হন। এমন হতেই পারে একই সময়ে হয়তো জেল পালানো কোন ভয়ংকর অপরাধী পুলিশের গুলিতে মারা গেল।
দু'টো মৃত্যুই কি এক ?
দুটো মৃত্যুর মহিমা কি এক ?
দুটো মৃত্যুর ফলাফল কি এক ?
নিশ্চয়ই না। শুধু 'অপঘাতে' মারা গেছে দেখলে হবে না।
'পরিণতি' দেখতে হবে। 'মহিমা' দেখতে হবে। 'ফলাফল' দেখতে হবে।
গান্ধী পরবর্তীতে সম্মানিত হন ভারতবর্ষের 'জাতির পিতা' হিসেবে। আর নাথুরাম গডসে ? ভারতবাসীর চিরকালীন ঘৃণার এক প্রতীক হিসেবে তার নাম ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করা হবে। 'অপঘাতে' মারা যাওয়া রাজীব গান্ধি বা বঙ্গবন্ধু কিংবা ইন্দিরা আর সাধারণ একজন ক্রিমিনালের পরিণতি মর্যাদা কি এক ? কেউ জীবনে-মরণে উভয় ক্ষেত্রেই মহিমান্বিত _ কেউ জীবনে-মরণেও হীন, ঘৃণিত, পরিত্যাক্ত। গান্ধির সমাধিতে মানুষ প্রতিদিন পুষ্পমাল্য দিতে যায়, নাথুরাম গডসের সমাধিতে হয়তো কুকুর গিয়ে মাঝে মাঝে মুত্রত্যাগ করে। ইসলামের চরম শত্রু আবু জেহেল যুদ্ধে ‘অপঘাতে’ মারা গিয়েছিল। তার কবরের ওপর আজ বিশাল টয়লেট বানানো হয়েছে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেখানে মলমুত্রত্যাগ করে হালকা হয়।
dilruba
আগস্ট ৬, ২০১৩ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ শরিফ ভাই ;
প্রানির চরিত্র এবং বিবর্তনবাদের নতুন নতুন রহস্য উন্মচনের জন্য কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় নিয়ে বিজ্ঞানীরা অবশ্যই গবেষণা করছে, আমি তা অস্বীকার করি না। কিন্তু উটের কুদরতী দেখিয়ে মানুষ কে আসমানী ভয় দেখানোর গবেষণা কোন বিজ্ঞানী করে বলে আমার জানা নেই।
দেখুন, নবীর বদদো'আ আর সিংহের থাবার কেরামতি কিন্তু আপনিই টেনে এনেছেন যে কারনে আমাকে পাল্টাপাল্টি নবীর পরিনিতির কথাও স্মরন করিয়ে দিতে হয়েছে মাত্র। দেরিতে হলেও বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, ধন্যবাদ।
আপনি একজন মৃত ব্যাক্তি আবু জেহেলের কবরের কথা বলেছেন বটেই! কিন্তু একই অবস্হা মুসলমানদের প্রথম কেবলা বাইতুল মোকাদ্দাসের- যেখানে ইহুদিরা তাদের ***ত্যাগ করে হালকা হয়। নয় কি?????
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৬, ২০১৩ at ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি জাল হাদিস থেকে শুরু করে যতরকম মিথ্যাচার শুরু করেছেন। বাইতুল মুকাদ্দাস ইয়াহুদি ক্রীশ্চান সবার কাছেই পবিত্র। কোথায় পাইলেন এই অসত্য ফালতু তথ্য ?
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৬, ২০১৩ at ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রাসূল(সাঃ) কে 'মাক্বামে মাহমুদ' দান করা হয়েছে। এটি বেহেশতের শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থান। এটি এমনি এমনি দেয়া হয়নি। এটি যখন দেয়া হয়েছে সেটির মূল্যও ভাল পরিমাণে আদায় করে নেয়া হয়েছে। সমস্ত নবী(আঃ) দের কষ্ট এক পাল্লায় রেখে আরেক পাল্লায় শুধু রাসূল(সাঃ) এর কষ্ট রাখলে এক রাসূল(সাঃ) এর কষ্টের পাল্লাই নাকি ভারি হবে ! ইসলামের ক্ষেত্রে মু'মিনদের কষ্ট দেয়া হয় পাপমোচন বা গুণাহ মাফ হওয়ার উদ্দেশ্যে। বিপদআপদ-রোগব্যাধি-শোকতাপ-হয়রানি ইত্যাদি দিয়ে গুণাহ সাফ করা হয়, গুণাহ সাফ হয়ে গেলে বাকি কষ্টগুলোর দ্বারা জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তারও বেশি মর্যাদাসম্পন্ন বান্দা হলে সবশেষে মৃত্যুর সময় চুড়ান্ত নৃশংস কষ্ট প্রদান করে সেই মর্যাদা সুনিশ্চিত করা হয়। রাসূল(সাঃ) নবুওতপ্রাপ্তির পর থেকে এমন কখনো হয় নি যে দুইবেলা পেট ভরে আহার করেছেন, সমস্ত আত্মীয় পরিজনের চরম বিরোধিতা ও তৎকর্তৃক পিতৃভূমিত্যাগে বাধ্য হওয়া, যুদ্ধের পর যুদ্ধ, একের পর এক প্রিয়জনের মৃত্যু, নিজ সন্তানদের মৃত্যু, আদরের নাতিদ্বয়ের নির্মম মৃত্যু _ এত কিছুর পর আরো মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য স্বয়ং নিজের মৃত্যুর সময় ওনাকে দেয়া হল অতি ভীষণ কষ্ট। কেন ? মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। সারা মানবজাতির মাঝে মানবশ্রেষ্ঠ তিনি। এমন কোন মায়ের পুত নাই যে ওনার মোকাবেলায় অন্য আর একজনকে 'মানবশ্রেষ্ঠ' হিসেবে দাঁড় করাতে সমর্থ হবে, কেয়ামত পর্যন্ত কেউ পারবে না। শেষ বিচারের দিন এটাও কেউ বলতে পারবেন না যে আল্লাহ রাসূল(সাঃ) এর প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করেছেন, অন্যায্যভাবে ওনাকে শ্রেষ্ঠত্ব-মহিমা দান করেছেন। শ্রেষ্ঠত্ব যদি দান করে থাকেন সেই পরিমাণ ত্যাগও স্বীকার করিয়ে নিয়েছেন।
ইমাম হাসান ও হোসাইন(রাঃ) এর শাহাদাত সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই রাসূল(সাঃ) জানতেন। রাসূল(সাঃ) এর কলিজার টুকরা আদরের নাতিদ্বয় ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন(রাঃ) এর শৈশবেই একবার স্বপ্নের মাধ্যমে পার্থিব নির্মম 'পরিণতি'র কথা অবগত হন। ছুটে আসেন কন্যা ফাতিমা(রাঃ) এর গৃহে ও দৌহিত্রদ্বয়কে পরম ভালবাসায় অনেকক্ষণ পর্যন্ত জড়িয়ে ধরে রেখে অনবরত অশ্রু বিসর্জন করতে থাকেন। ব্যাপার দেখে ফাতিমা(রাঃ) ঘাবড়ে যান, রাসূল(সাঃ) কে প্রশ্ন করেন, বারংবার জিজ্ঞাসার জবাবে রাসূল(সাঃ) স্বপ্নের কথা জানান যাতে তিনি দেখেন যে "একটি কুকুর তাঁর আদরের নাতিদ্বয়ের রক্ত চেটে চেটে খাচ্ছে"। যার ব্যাখ্যা হল রাসূল(সাঃ) এর আদরের নাতিদ্বয়কে নির্মমভাবে শহীদ করা হবে। রাসূল(সাঃ) এর নাতিদ্বয়ের জননী নবীকন্যা ফাতিমা(রাঃ) রাসূল(সাঃ) কে বললেন, "প্রত্যেক নবীকে তো একটি 'বিশেষ দো'আ' দান করা যা অবশ্যই কবুল হয়। সব নবী(আঃ) ই দুনিয়ায় বিশেষ মূহুর্তে সেটি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যসাধন করে গিয়েছেন। আপনি শেষ নবী আপনার কাছেও সেই দো'আ রয়েছে। সুতরাং আপনি সেই দো'আ র বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে আপনার নাতিদ্বয়ের প্রাণ রক্ষা করুন।" পরম আদরের প্রাণপ্রিয় নাতিদ্বয়ের প্রাণরক্ষার প্রশ্নেও রাসূল(সাঃ) সেই বিশেষ দো'আ দুনিয়ায় ব্যবহার করতে রাজি হলেন না। জানালেন সেই বিশেষ দো'আ শেষ বিচারের ময়দানে উম্মত যখন মহাবিপদের মধ্যে থাকবে _ উম্মতের সেই মহাসংকটময় দিনে ব্যবহারের জন্য দো'আটি অক্ষত রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন তিনি। যাতে 'মাকামে মাহমুদ' এ অধিষ্ঠিত হয়ে বিপদগ্রস্ত সংকটাপন্ন মানবজাতির 'সুপারিশ' করতঃ চিরমুক্তির ব্যবস্থার জন্য, এই দোয়া সেদিন কোটি কোটি মানুষের সত্যিকার কাজে লাগবে, এজন্য দুনিয়ায় কিছুতেই সেই দো'আটি তিনি ব্যবহার করবেন না!
ইসলাম ধর্মে এমনিতে সবকিছুই তো মরার পর, দুনিয়াতে শুধু ত্যাগ আর তীতিক্ষা। উপরে যাদের নাম বললেন রাসূল(সাঃ) সহ, সবাই ত্যাগতীতিক্ষার চরম নিদর্শন দেখিয়ে পরকাল জয় করে নিয়েছেন। দুনিয়াতেও কেয়ামত পর্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিশ্ববাসী তাঁদের নাম উচ্চারণ করবে। মৃত্যুর পর সেজন্যে রাসূল(সাঃ), ওমর(রাঃ), ওসমান(রাঃ), আলী(রাঃ) মৃত্যুর পর দুনিয়াতেও মহাসম্মানিত, তাঁদের সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্যের অশ্রুতে সিক্ত করে আসে হাজার হাজার মানুষ। ইতিহাসে তাঁদের স্থান মহানায়কের। পরকালে রয়েছে রাসূল(সাঃ) এর জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ মহাপ্রশংসিত স্থান 'মাক্বামে মাহমুদ', বাকিদের জন্য জান্নাতে বিরাট পদমর্যাদা যা সারা মানবজাতির মাঝে নবীদের ঠিক পরবর্তী পদমর্যাদা। ইমাম হোসেন ও হোসাইন(রাঃ) জান্নাতের যুবকদের সর্দার হবেন বলে ঘোষিত হয়েছে। কাজেই ক্ষতি তাঁদের কারোরই আসলে হয় নি, বস্তুতঃ দুনিয়াতে ত্যাগস্বীকার করে পরকালে বিরাট সাম্রাজ্যের অধিপতি হলেন তাঁরা।
dilruba
আগস্ট ৬, ২০১৩ at ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ আহমেদ শরীফ ;
সেই "লেজকাটা শিয়াল" এর গল্প মনে পরে গেল……….। ধন্যবাদ।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৬, ২০১৩ at ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার তো এখন বার বার মনে পড়ছে "উলুবনে মুক্তা ছড়ানো" আর "বাঁদরের গলায় মুক্তার মালা" দেয়ার কথা ! ধন্যবাদ আপনাকেও, বিনোদন দেবার জন্য!
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলেই। ইসলামবিদ্বেষের জন্য জায়োনিস্ট, প্রোইভেঞ্জ্যালিস্টরা প্রচুর বিনিয়োগ করে থাকে। প্রতিবছরই ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর পেছনে তারা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে থাকে, এ ব্যাপারে তথ্যসুত্রসহ সদালাপেও পোস্ট এসেছে ইতিপূর্বে। ইসলামকে বিক্রি করে এভাবে অনেকে কোটিপতি হয়ে গেছেন, পেয়েছেন বিত্তবৈভবের ছোঁয়া। যেমন সালমান রুশদি ইসলামকে কটুক্তি করে কিছু ভার্স লিখে লাইমলাইটে আসেন। এ নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে নিন্দা-বিক্ষোভের ঝড় বয়ে যায়, ইরান থেকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয় রুশদিকে। এর ফলস্বরুপ বৃটিশ সরকার তাকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করে পরবর্তীতে সম্মানসূচক 'নাইটহুড' উপাধিও প্রদান করে। যাই হোক ইসলামকে বেচে রুশদি আজকে মিলিওনিয়ার। প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ রয়েছে তার !
http://www.richestnetworth.com/salman-rushdie-net-worth/
'ইসলামবিদ্বেষ'বর্তমানে একটি উচ্চ আয়সম্পন্ন পেশা তবে অদক্ষতা-অযোগ্যতার কারণে আমাদের বেশিরভাগ দেশি ইসলামবিদ্বেষীরা বাংলাব্লগেই বিনা পয়সায় গড়াগড়ি খেয়ে মরছে, না হলে বাইরেই প্রতিষ্ঠা পেয়ে ধন্য হবার সুযোগ এই কিছুদিন আগেও যতটা ছিল _ এখন আর ততটা নেই। এখন অনেকেই বিদেশে আ্যাসাইলামসহ সুযোগসুবিধা পাবার জন্য প্রাণপণে 'নাস্তিক' সেজে ব্লগ-ফেসবুক-শাহবাগে বহু নর্তন-কুর্দন করেও বিদেশে যেতে পারছে না, আগে পারত, কিন্তু তাসলিমারা গিয়ে গিয়ে ইমপ্রেশন খারাপ করে ফেলেছে। সীমিত সুযোগ যা ছিল তা আগেই তাসলিমারা নিয়ে খেয়েদেয়ে ছিবড়ে করে ফেলেছে এখন সুযোগ আর অবারিত নেই। তাহমিমা আনামরা নিজ নিজ যোগ্যতায় সুক্ষভাবে যাহোক ট্রাই করলেও তাদের পেছনের ব্যাকিং সবার ভাগ্যে জোটেনি।
যে স্তরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আর আর্থ-সামাজিক প্রতিপত্তি সালমান রুশদিরা ভোগ করছে তা ইসলামেরই বদৌলতে, ইসলামেরই কুৎসা-নিন্দা করে _ না হলে সে স্তরের সুযোগসুবিধা উচ্চ স্তরের সরকারি কর্তাব্যক্তি-রাজকীয় পরিবারভুক্ত-চিত্রতারকা-অভিজাত সম্প্রদায় প্রমুখ ছাড়া সাধারণ মানুষ ভোগ করার প্রশ্নই ওঠে না। যারা যারা ইসলামবিদ্বেষকে এরকম পেশাগতভাবে নিয়েছে এবং বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছে তাদের আর যাই হোক ইসলামের বিরুদ্ধে নালিশ করা শোভা পায় না। তারা জেনেশুনেই এই ভূমিকা নিয়েছে এবং যে পার্থিব উন্নতি লাভের আশায় তারা এটি করেছে সেই উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে সফল। না হলে সালমান রুশদি বা তাসলিমা বা অমুক তমুকরা সাধারণ অচেনা মানুষ হিসেবেই সাধারণ বিলিয়ন মানুষের মাঝে সাধারণ হয়েই মিশে থাকতো এবং ইসলামই প্রকারান্তরে তাদের 'বিশেষ' হয়ে ওঠার সুযোগ এনে দিয়েছে, ইসলামের গায়ে 'আঁচড়' কাটা ছাড়া তাদের আর কোনই কৃতিত্ব নেই, তারা নতুন কিছু আবিষ্কার করে মানবজাতিকে ধন্য করেনি, নতুন কোন তত্ত্বও দেয় নি _ তারা শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে সম্প্রসারণবাদি ধর্ম ইসলামের নিন্দা-কুৎসা করে ইসলামধর্মাবলম্বীদের 'আঘাত' করেছে, পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী খ্রীষ্টিয়-ইয়াহুদি গোষ্ঠি খুশি হয়ে তাদের পোষা মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের পুরষ্কার-স্বীকৃতি দিয়েছে।
সাধারণতঃ নিকৃষ্টশ্রেণীর উচ্ছিষ্টভোগী লোকদেরই দেখা যায় ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে, আমাদের দেশের শস্তা ভুয়া হারবাল ঔষধ বিক্রেতারা যেমন হয়ে থাকে। যার প্রমাণ হচ্ছে অধিকাংশ ইসলামবিদ্বেষী লেখকদের লেখার এমনিতে বিশেষ সাহিত্যমূল্য নেই(প্রকাশ্যে তাদের মাঝে উচ্চমানের সাহিত্যিক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তেমন কেউ নেই), যা আছে তা হল নির্জলা ‘ইসলামবিদ্বেষ’, সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রমোট করার জন্য আছে বিশেষ পেশাজীবিসমৃদ্ধ গোষ্ঠিবদ্ধ রাজনৈতিক মিডিয়া সম্প্রদায়।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ৫, ২০১৩ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আল্লাহর নবী হজরতে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ(সাঃ) কে যারা চিনতে পারে না তাদের জন্য করুণা হয়। তাঁর সম্মান আল্লাহর কাছে কোন স্তরে তা উপলব্ধি করার ক্ষমতা আল্লাহ যাদের দেন নি তারা চরম হতভাগ্য কপালপোড়া ।
নীচের ভিডিওটি দেখুন। রাসূল(সাঃ) এর ব্যবহৃত একটি 'বাটি' র মর্যাদা দেখুন ! বাটির মর্যাদা এই পর্যায়ে যাঁর 'ব্যবহার' করার কারণে যেতে পারে স্বয়ং তাঁর মর্যাদা কোথায় ভেবে দেখুন ! মুসলমানরা রাসূল(সাঃ) কে কোন 'পর্যায়ের' সম্মান করেন তাঁর প্রতি কি পরিমাণ অনুভূতিশীল তার একটা অভাবনীয় নমুনা দেখবেন এখানে। সারা মানবজাতির মাঝে ২য় কোন ব্যক্তি আজ পর্যন্ত এর ধারেকাছেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মান-শ্রদ্ধা পাওয়ার তো দূরের কথা _ কল্পনা করারও কোন নজির নেই।
ভিডিও লিংক
নিয়াজ মোর্শেদ
এপ্রিল ৩, ২০১৪ at ১:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জনাব মুনিম সিদ্দিকীর লেখা খুবই তথ্যবহুল। নি:সন্দেহে অনেক পরিশ্রম করে লেখা। কিন্তু প্রশ্নোত্তর পর্বে কিছু পাঠক-লেখকদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে চরমভাবে পরধর্ম অসহিষ্ণু। আর ধর্মকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে, দিলরুবাdilrubaকে মিথ্যা/ভুল প্রমাণ করতে গিয়ে বারবার লেখক নিজেসহ অন্যরা বলছেন, তখনকার সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। একারণে তখন নারীদেরকে এখনকার মতন স্বাধীনতা ভোগে অধিকার দেওয়া যেতো না। আপনাদের এমন ডিফেন্ডে একটাই কথা মনে হচ্ছে। এখনকার দিনে ইসলাম অচল। কারণ, এখকার সামাজিক প্রক্ষাপট ভিন্ন। ইসলাম ১৪০০ বছর পিছনেই রয়েগেছে।
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ৫, ২০১৪ at ১২:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই আপনার অভিযোগটিকে যদি খোলাসা করে বলতেন তাহলে বুঝতে পারতাম। ধন্যবাদ।
sotto
এপ্রিল ৫, ২০১৪ at ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"সালামুন আলাইকুম"
মুনিম ভাই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অবতারনা করেছেন।
১। হে নবী, আল্লাহ যে জিনিস হালাল করেছেন তা তুমি হারাম করছো কেন? (তা কি এর জন্য যে) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাও? আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।
মধু কিংবা মারিয়া, এই দুই বিষয়ের কোনটিকেই যেহেতু আল্লাহতায়ালা এই আয়াতের সাথে সম্পৃক্ত করেন নাই। সুতরাং এর ব্যাখ্যায় মধু ও মারিয়াকে নিয়ে মনগড়া গল্প রচনার কোন সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ এর মাধ্যমে সত্য নয়, বরং কল্পনা প্রসূত আবোলতাবোল বাকবিতণ্ডা করা ছাড়া কিছুই মিলবে না।
প্রকৃতঅর্থে মহান আল্লাহতায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে এই শিক্ষা দিচ্ছেন যে, হালাল ও হারাম আল্লাহর কিতাব অনুসারে সুনির্ধারিত। এর মধ্যে কম-বেশি করা স্বয়ং আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিলনা। শুধু তাই নয়, যত প্রিয়জনই হোক না কেন কারো মন রক্ষার্থে আল্লাহর বিধানের কম-বেশি করা জায়েজ নয়। তবে জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে যে সময়সাপেক্ষ কিছুটা শিথিলতা রয়েছে- সে নির্দেশনাও অন্যত্র দেয়া হয়েছে। যেহেতু মূল ঘটনার বিন্দুমাত্র ইংগিতও মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এখানে দেয়া হয়নি, অর্থাৎ বিষয়টিকে এখানে খোলাসা করার জরুরী মনে করা হয় নাই। তাই এ নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল বিশ্বাসীদের জন্য শোভা পায়না। কিছু মনে নেবেন না, শুরুটা ভালই করেছিলেন, তবে খুব বেশি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আপনি উম্মুল ম'মিনিন হাফসা (রাঃ) ও আয়শা (রাঃ)কে যেরূপ ঈর্ষাপরায়ণ নারীদের কাতারে ফেলে দিলেন তা সত্যিই অবাক করার মত। এ ধরণের মহিলা ভিলেনের চরিত্র নাটক নভেল কিংবা ছবির জগতে মানানসই হলেও খোদ নবীপত্নীদের সাথে খাপ খায় কি?
ভাই, বিশ্বাসী নারীদের পর্দার বিষয়টিকেও আপনি দুই ভাগে ভাগ কোরে ফেলেছেন। এটা ঠিক যে রাসূলের (সাঃ) পত্নীদের ক্ষেত্রে পর্দার ব্যাপারে যে অতিরিক্ত বিধানটি ছিল তা অন্যদের বেলায় সেভাবে প্রযোজ্য নয়। যারা আল-কোরআনের বিধানে বিশ্বাসী নয় তাদের বিষয়টি ভিন্ন। কিন্তু তাই বলে হিজাব অর্থাৎ পর্দা পালনের সার্বজনীন বিধানটি নিয়ে সমাজের বিশ্বাসী নারীদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ হিসেবে ডিভিশন তৈরী করাটা কি ঠিক?
আপনি বলেছেন- //মুহাম্মদ সাঃ ইব্রাহিম আঃ এর জীবনী জানতেন, তাই হাজেরা নাম্নীয় মিশরীয় রাজকুমারী যে ইব্রাহিম আঃ এর সুরাইয়া ছিলেন তা জানতেন।//
ভাই, হাজেরা নামের কোন নারীর নাম কি আপনি আল-কোরআনে পেয়েছেন? যিনি খলিলুল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) এর সুরাইয়া অর্থাৎ দাসী এবং নবী ও রাসূল ইসমাইলের (আঃ) জননী ছিলেন। এমনকি কোন সহীহ হাদিছে সরাসরি হাজেরা নামটির উল্লেখ আছে কি? দোহই লাগে! বেধর্মীদের বানানো এসব হাদিছ/গল্প থেকে ধার কোরে মনগড়া বক্তব্য দেয়া বন্ধ করুন প্লিজ। মনে রাখবেন, এতে মিথ্যা ও বিভেদ ছাড়া কিছুই মিলবে না।
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ৫, ২০১৪ at ১:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি ইসলামী ইতিহাস এবং হাদিসে যে ভাবে বর্ণনা পেয়েছি সেভাবেই এখানে উল্লেখ করেছি মাত্র আমি মন গড়া কিছু উল্লেখ করিনি ভাই। আর তারা নবী পত্নী হলেও তারা মানুষ ছিলেন তাদেরও মানবিক ভালো লাগা নালাগা বোধ ক্রীয়াশীল ছিলো।
ঠিক বেঠিক তো আমি নির্ধারণ করতে পারিনা ভাই, রাসুল সাঃ খেলাফায়ে রাশিদিন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন কেরামগণ যে ভাবে চর্যা করে গিয়েছিলেন আমি সে ভাবকে তোলে ধরেছি মাত্র।
ভাই সব কি আল কোরআনে পাওয়া যায়? হাজেরা নাম নেয়াতে কি তৌহিদের থেকে কোন বিচ্যুতি ঘটেছে? ধন্যবাদ।
sotto
এপ্রিল ৫, ২০১৪ at ২:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"সালামুন আলাইকুম"
ইসলামী ইতিহাস কিংবা হাদিসে মানব রচিত মিথ্যার সংমিশ্রন ঘটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই আল-কোরআনের মৌল চেতনা বিরোধী কোন হাদিস বা গল্পে বিশ্বাস না করার জন্য স্রষ্টা তার কিতাবে আমাদেরকে সাবধান কোরে দিয়েছেন-
সূরা আল জাসিয়া (৪৫:০৬) এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথ রূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদিছে (কথা, গল্প, খবর) বিশ্বাস স্থাপন করতে চায়?
(৪৫:০৭) প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ।
সূরা নাহল (১৬:১১৬) তোমাদের মুখে যা আসে তা-ই বলে দিও না- এটা হালাল এবং ওটা হারাম। এতে করে আল্লাহর নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা চালানো হবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে এরূপ মিথ্যা কথা প্রচার করে, তারা কখনই কল্যাণ লাভ করতে পারে না।
সুতরাং বিশ্বাসী মাত্রই কথায় ও কর্মে খুবই সাবধান থাকা চাই।
একজন মুসলিমের জন্য ঠিক বেঠিক নির্ধারণ করার একমাত্র ও প্রধান মাধ্যম হলো আল-কোরআন। এই মহান ও সার্বজনীন কিতাবের মৌল নির্দেশনাকে উপেক্ষা করলে বা অতিরিক্ত আরোপ করলে বিভ্রান্তি অরিবার্জ।
মানবিক ভালো লাগা নালাগা বোধ ক্রীয়াশীল থাকাকে আমি দোষের বলিনি। কিন্তু তাই বলে উম্মুল ম'মিনিনদের পবিত্র চরিত্রে ঈর্ষাপরায়ণতার কালিমা লেপনের গল্প রচনা করা এবং তা বয়ান করা কোন বিশ্বাসীর কাজ হতে পারেনা।
না ভাই, শুধু হাজেরা নাম নেয়ায় কোন অসুবিদা নেই। কিন্তু খলিলুল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) এর সুরাইয়া অর্থাৎ দাসী এবং নবী ও রাসূল ইসমাইলের (আঃ) জননী যে হাজেরা নামের কোন নারী ছিলেন- এই তথ্যের মূল উৎস কোনটি?
ধন্যবাদ-
এম_আহমদ
এপ্রিল ৫, ২০১৪ at ৪:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই, কোরানের জ্ঞানশুন্য কোরান-অনলিদের যথাসম্ভব ignore করাই মনে হয় ভাল।
sotto
এপ্রিল ৫, ২০১৪ at ৬:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"সালামুন আলাইকুম"
মুনিম ভাই, কোরআনের জ্ঞানশূন্য যারা, তারা নিজেরা একদিকে যেমন সব সময় সত্যকে এড়িয়ে চলেন, অপরদিকে তেমনি অন্যকে কোরআন অনলি বলে একঘরে কোরে রাখার চেষ্টা করেন। আর তাদের এই অপচেষ্টার কুটকৌশল হলো সত্যকে ignore করার মাধ্যমে পূর্বসূরিদের মিথ্যাচারে গা ভাসিয়ে দেয়া। সুতরাং সাবধান!
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ৯, ২০১৪ at ৬:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই ক্রোধ,রাগ শুধু মানুষকে মানুষ থেকে দুরে ঠেলে দেয়.
ফজুদা বলছি
এপ্রিল ৯, ২০১৪ at ৬:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ। সুন্দর ও যুক্তিপূর্ণ লেখা। আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন।
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ৯, ২০১৪ at ৬:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমিন! পড়ার জন্য আপ্নাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ.
sotto
এপ্রিল ১০, ২০১৪ at ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
“সালামুন আলাইকুম”
আপনি যেহেতু ইসলাম নিয়ে যথেষ্ট চর্চা করেন। তাই আপনার কাছে একটা বিষয় জানতে আগ্রহী। আশাকরি এড়িয়ে যাবেন না এবং সঠিক তথ্য জানাবেন।
সূরা আল বাক্বারাহ (২:১৯৭) নং আয়াতে বলা হয়েছে-
১/ অর্থ- [হজ্জের মাসসমূহ (একান্ত) সুপরিচিত। সে সময়গুলোর মধ্যে যে ব্যক্তি হজ (আদায়) করার মনস্থ করবে (সে যেন জেনে রাখে), হজের ভেতর কোন যৌন সম্ভোগ নেই, নেই কোন অশ্লীল গালিগালাজ ও ঝগড়াঝাটি, আর যতো ভাল কাজ তোমরা আদায় করো আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তা জানেন, (হজের নিয়ত করলে) এর জন্য তোমরা পাথেয় যোগাড় করে নেবে, যদিও আল্লাহর ভয়টাই সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয়, অতএব হে বুদ্ধিমান মানুষরা, তোমরা আমাকেই ভয় করো।
২/ অর্থ- হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীর সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।]
—————————————-
(২:১৯৭) নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হলো যে, হজ্জের মাসসমূহ (একান্ত) সুপরিচিত। সে সময়গুলোর মধ্যে যে ব্যক্তি হজ (আদায়) করার মনস্থ করবে অর্থাৎ শুধু যুল-হ্জ্জ মাসেই নয়, বরং কয়েকটি সুপরিচিত ও পবিত্র মাসের যে কোন সময় একজন মুসলিম যদি হজ করার মনস্থ করেন তাহলেই তিনি তার সেই ব্রত পালন করার অধিকার রাখেন। আল্লাহর স্মরণে আল-কোরআনে উল্লেখিত ফরজ কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য যে কয়েকটি দিনের প্রয়োজন হয় সেই নির্ধারিত দিনের মধ্যেই হজ সমাধা করার কথাই তো মহান স্রষ্টার কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
…………………………………..
সূরা আল বাক্বারাহ
[(০২:১৮৯) অর্থ- তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে /’আল-আহিল্লাতি’/ নতুন চাঁদের ‘বর্ধিঞ্চু দশাগুলোর’ বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার।]
…………………………………………
আর (২:১৯৭) নং আয়াতে বলা হলো এই হজের মাস শুরু হবে যুল-হজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকেই। যেহেতু জীবনে একবার ফরজ হজ করা বাধ্যতামূলক এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজেও পবিত্র মাসসমূহের প্রথম মাসে অর্থাৎ ৯ থেকে ১২ই যুল-হজ্জ একবারই ফরজ হজ করেছিলেন। কাজেই রাসূল (সাঃ) এর শেখানো নিয়ম মেনে আল-কোরআনে উল্লেখিত চারটি পবিত্র (যুল-হজ্জ, মহরম, সফর ও রবিউল আউয়াল) মাসের যেকোন সময় পৃথিবীর সকল মুসলিম ফরজ হজ করার অধিকার রাখেন।
…………………………………….
সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)
[(০৯:৩৬) অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত/পবিত্র। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
(০৯:৩৭) অর্থ- এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল অবিশ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর পবিত্র মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ অবিথ্বাসী সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।]
…………………………………………….
কিন্তু হায়! রাজনীতির নোংরা চালে কবে থেকে যে মুসলিমদের সেই অধিকার হরণ করা শুরু হলো এবং লক্ষ কোটি মুসলিমের জন্য ফরজ হজ পালনের সময়কে ১২টি মাসের মধ্যকার একটি মাসের কেবলমাত্র চারটি দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ কোরে দেয়া হলো- তা কি খতিয়ে দেখার কোন প্রয়োজনই নেই? শুধুমাত্র জিল-হজ্জ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখেই হজ করা যাবে, কিন্তু হজের অন্যান্য মাসে হজ করা যাবেই না- এমন কোন নির্দেশ কি সরাসরি রাসূল (সাঃ) দিয়েছেন অর্থাৎ এরূপ কোন হাদিছ আছে কি?
শুধু তাই নয়, সম্মানিত/পবিত্র মসজিদ তাওয়াফ করার জন্য মহান স্রষ্টা স্বয়ং যে চারটি সম্মানিত/পবিত্র মাসকে নির্ধারণ কোরে দিয়েছেন, তা পিছিয়ে দিয়ার ব্যাপারেও আমরা মোটেই কুণ্ঠিত নই। এর মাধ্যমে যে আমাদের অবিশ্বাসের মাত্রাই বৃদ্ধি পেয়েছে- তা বুঝেও কি নিশ্চুপ থাকাটা আমাদের জন্য শোভা পায়?
চারটি পবিত্র মাসে ফরজ হজ পালনের অধিকার হরণ করা হয়েছে। পবিত্র মাসসমূহের ব্যাপারেও হেরফের করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও চারটি পবিত্র মাসের যে কোন সময় নিয়ত কোরে পবিত্র কাবায় ফরজ হজ করার অধিকার যে মহান স্রষ্টা আমাদেরকে দিয়েছেন- অন্তত এই বিশ্বাসটা অন্তরে ধারন করা ও বলা মুসলিমদের জন্য জরুরী নয় কি?
আমাদের সকল ভুলত্রুটি যেন পরম করুণাময় ক্ষমা করেন এবং সত্যকে জানার ও মানার মধ্য দিয়ে সরল ও সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন-
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ১০, ২০১৪ at ৩:৪০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যদিও আমার এই ব্লগ আপনার প্রশ্নের স্থান নয় তথাপি আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনি ব্লগ কালচারে অনভিজ্ঞ তাই এই প্রশ্ন এখানে রেখেছেন।
প্রথমতঃ বর্তমানে আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সংকটকাল অতিক্রম করে যাচ্ছি কাজেই আমার মন মানসিকতা নেই ব্লগীং জগতে বাদানুবাদে।
২য়তঃ আমি কোন ইসলামী বিশেষজ্ঞ নই। আমি একজন আউল ফাউল ফাসিক মুসলিম। যার ইমান আমলের তেমন মজবুত ভিত্তি নেই। তাই হজ্জ সংক্রান্ত কোন আলোচনায় আমার যোগ্যতা নাই। আপনি বরং কোন মুফতি বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন রাখুন।
৩য়ঃ আপনার উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যা দেখতে অনেক নামকরা ইসলামিক সাইটে গেলাম আশ্চার্যজনক ভাবে দেখতে পেলাম যে, আপনার ঐ আয়াতের কোন ব্যাখ্যা তারা করে যাননি। তার মানে তারা এর পক্ষে ব্যখ্যা পাননি তাই তাদের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে যাননি।
৪র্থঃ যেহেতু বলা হচ্ছে হজ্জ্বে মাস সমুহ ব্যাপক পরিচিত তাই মনে হচ্ছে এই হজ্ব পালনের কথা প্রাক ইসলামী যুগের রেওয়াজ অনুযায়ী বলা হচ্ছে, ফরজ হজের মত কোন আচার প্রথা যদি অন্যান্য তিন মাসে পালন করা দরকার হতো তাহলে রাসুল সাঃ তা পালন করে যেতেন। ইসলামে যা যা ফর্জ হয়েছে তা রাসুল সাঃ এর মারফতে তা প্রথমে সম্পাদন করা হয়েছিলো। ইতিহাস তাই বলে যে রাসুল সাঃ হজ্জ্ব একবার করেছিলেন তা শুধু জিলহাজ্ব মাসে। কাজেই পপ্রতিটি মুসলিমের পক্ষে তাই করতে হবে। শুধু তাই নয় আমরা ইতিহাস থেকে এমন কিছু পাইনি যে রাসুল সাঃ নিজে না গিয়ে অন্যান্য কোন প্রতিনীধি দল প্রেরণ করে উল্লেখিত বাকি মাস গুলোতে হজ্জ্ব সম্পাদন করে ছিলেন বলে।
৫মঃ ইসলামের প্রতিটি ফর্জ কর্মের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে যেমন- ১- নামাজ নামাজের জন্য স্থানের বাধ্যবাধকতা নেই কিন্তু সময়ের বাধ্যবাধকতা আছে, ফরজ নামাজ অবশ্য ঐ ওয়াক্তে পড়ে হবে, তবে নফল সুন্নতের জন্য সময়ে বাধ্যবাধকঅতা নেই যে যত খুশী তত যে কোন সময়ে আদায় করতে পারবে।
৫/২ঃ তেমন করে রোজার জন্য স্থানের বাধ্য বাধকতা নেই তবে মাস এবং সময়ের বাধ্য বাদকতা আছে । ফরজ রোজা নির্ধারিত সময় এবং মাসে আদায় করে নফল রোজা যেকোন মাসে আদায় করতে পারেন তাতে ইসলাম বাধা দেয়না।
৫/৩ঃ- করে হজ্বের বিষয়ে স্থানের যেমন বাধ্যবাধকতা আছে তেমন করে দিন সময় মাসের বাধ্য বাধকতা দিয়ে রেখেছে, কাজেই ফর্জ হজ অবশ্য সেই বাধ্যবাধকতার ভিতর দিয়ে সম্পাদন করার পর আপনি যত খুশী নফল হজ যে কোন্সময় করতে পারবেন। হজ্বের আরেকটি পালনীয় প্রথা হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজির থাকা তাও জিলহাজ মাসের একটি নির্দৃষ্ট দিনে হতে হবে অন্য কোন দিন নয়। আর জিলহজ্ব মাস যে প্রধান হজ্বের মাস তা তার নাম করণ থেকে অনুমান্ম করা যেতে পারে।
৬ষ্ঠ অন্য কোথাও উল্লেখ না হবার কারণ যে লুকিয়ে ফেলা এমন না হতে পারে, কারণ ইতিহাসে তা উল্লেখ করা হয়ে তাকে যা নরমাল নয় তা। কারণ যে সমাজে যা প্রচলিত এবং তার জনগণ তা সম্পর্কে সমূহ অবগত সে সব বিষয় নথিবুদ্ধ করা হয়না। উদাহরণ ভার্চুয়াল জগতেচ ছাগু শব্দটি ব্যপক প্রচলিত তাই এই শব্দের ব্যাখ্যা এখনকার মানুষের জন্যব দরকার নেই। কিন্তু এই শব্দ যখন অপ্রচলিত হয়ে পড়ে কয়েক যুগ অতিক্রান্ত হয়ে যাবে তখনকার মানুষ ছাগু শব্দের অর্থ করতে গিয়ে অন্য কিছুকে বুঝিয়ে ফেললেও ফেলতে পারে।
sotto
এপ্রিল ১০, ২০১৪ at ৪:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওহ সরি! খুব ভুল হয়ে গেছে। কি করব ভাই! এডিটর মহোদয়ের বরাবরে এই পোষ্টটি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা সদালাপের পাতায় স্থান পায়নি। আমি কি পবিত্র কোরআন বিরোধী কিছু বলেছি?
আপনি অপরগতা স্বীকার করলেও ঘুরেফিরে তাদের মতই এটাওটা বলেছেন। আল-কোরআনের স্পষ্ট বক্তব্যকে উপেক্ষা কোরে ইতিহাসকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তাপরও আপনার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ।
মুনিরুল ইসলাম মাহদী
আগস্ট ৩১, ২০১৫ at ৩:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলহামদু লিল্লাহ, খুবই ক্লান্ত হইয়ে পড়েছি। অনেক সময় লাগলো শেষ করতে। উপকৃত হয়েছি। অনেক্কিছু জেনেছি। লেখককে ধন্যবাদ। তবে ইচ্ছা করলে একটু সংক্ষেপ করেও লেখা যেত।
মুনিরুল ইসলাম মাহদী
আগস্ট ৩১, ২০১৫ at ৪:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুহতারাম, সালাম নিবেন।
ব্লগে আমার বিচরণ খুব বেশী নেই। তাই ব্লগ কানুন্ও হয়তো জানবোনা। আমি পুরো লেখাটি পড়েছি । কিন্তু ''সুরাইয়া '' পদ্ধতিটি নতুন শুনেছি। এই সুরাইয়া পদ্ধতিটি একটু পরিস্কার করে বললে খুশি হবো…
মুনিম সিদ্দিকী
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৫ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আলোচ্য প্রবন্ধে সুরাইয়া নিয়ে যা বলার তো তা আমি উল্লেখ করেছি কাজেই নতুন করে কিছু বলার নেই। অতীতে প্রচলিত ঐতিহাসিক যে কোন শব্দ বা প্রথাকে বিচার বিশ্লেষণ করতে হলে আমাদের সেই ঐতিহাসিক প্রক্ষাপটের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে, কোন অবস্থায় বর্তমান অবস্থা প্রচলিত অর্থ দিয়ে অতীতের রেওয়াজ প্রথাকে বিচার করা যায়না। গেলে ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি অবিচার করা হবে।
বর্তমানে প্রচলিত বিয়ের অর্থে মারিয়া রাঃ রাসুল সাঃ স্ত্রী ছিলেন এমন দলিল প্রমাণ আমি পাইনি, তাই তাকে রাসুল সাঃ বিবাহিতা স্ত্রী বলে আমি উল্লেখ করতে পারিনা। আবার বর্তমানে প্রচলিত উপপত্নী বলে তা উল্লেখ করা হলে রাসুল সাঃ এবং মারিয়া রাঃ উপর চরম অন্যায় মিথ্যাচার চার করা হবে। উপপত্নী মানে হলো রক্ষিতা, আর রক্ষিতার কাজ হলো তার মালিককে নিছক যৌন সঙ্গী হওয়া। আমরা ঐতিহাসিক ঘটনা বিশ্লেষণ আর দলিল প্রমাণের মাধ্যমে তাও প্রমাণ করতে পারিনা।
মিশরের শাসক বলেন আর ধর্মীয় বিশপ বলেন তিনি রাজনৈতিক মৈত্রীয়তা সৃষ্টির জন্য শুভেচ্ছা স্বরূপ ইসলামী রাষ্ট্রের শাসক বরাবর সেরা সেরা জিনিষ উপহার পাঠিয়েছিলেন। উপহার সামগ্রীতে যেমন ছিল সেরা ঘোড়া দুলদুল, সেরা খচ্চর, মুখ দেখার আয়না, আয়না তখন ছিলো মুল্যবান জিনিষ, সেই সাথে পাঠিয়েছিলেন রূপে গুণে অভিজাত বংশের দুই বোনকে যাতে তারা রাসুল সাঃ পরিচর্চা করতে পারে।
সেই জামানায় এই ভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করে সুন্দর নারী উপহার দেবার প্রচলন ছিল। রাসুল সাঃ কুটনীতি রীতিনীতির প্রতি সম্মান দেখাতে তার পাঠানো উপহার গ্রহণ করেছিলেন। যেহেতু ইসলাম এক ব্যক্তির সাথে আপন দুই বোন শয্যাসঙ্গিনী হবার বৈধতা দেয়না, কাজেই রাসুল সাঃ এক বোনকে নিজের কাছে রেখে অন্য বোনকে অন্য এক সাহাবীর কাছে দিয়ে ছিলেন। এই দুই মহিলা যে মোটেই সাধারণ ছিলেননা তার প্রমাণ পাওয়া যায়, মিশরের শাসক এই দুই বোনের পরিচর্চার তাদের সাথে আফ্রিকান খাদিমও পাঠিয়েছিলো। মারিয়া রাঃ যদি কৃতদাসী হতেন তাহলে তাদের সাথে আফ্রিকান কৃতদাস মাবুরকে পাঠানোর কোন কারণ থাকতে পারেনি।
এখন ইতিহাসে দেখা যায় যে, রাসুল সাঃ সাফিয়া রাঃ জুয়াহেরা রাঃ দেরকে যুদ্ধবন্দিনী হিসাবে পেয়ে তাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন মারিয়া রাঃ এর বেলায় তা করলেন না?
কারণ মারিয়া রাঃ যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমত ছিলেননা কাজে ইসলামের যুদ্ধনীতির অংশ হিসাবে যুদ্ধবন্দিনী নারীর স্বাধীন হবার জন্য পথ ছিলো । আল কোরান কৃতদাসী, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত দাসীর সাথে সামাজিক ভাবে স্বীকৃতির মাধ্যমে মালিকের শয্যাসঙ্গিনী হবার বৈধতা দিয়ে রেখেছে কাজেই তাদেরকে স্বাধীন করে দেবার দরকার ছিলোনা।
আর একটি কথা খেয়াল রাখতে হবে সে জামানায় হাজার হাজার নারী দাসী হিসাবেই মালিকের শয্যসংগীনী ছিলো। কাজেই এদেরকে মুক্ত দিলে তারা হয়তো স্বাধীনতা লাভ করতে পারতো কিন্তু এদের ভরপোষণ আর নিরাপত্তা কে তাদের দিতে পারতো? যদি দাসীদের মুক্ত করে দেবার আদেশ বাধ্যতা মূলক করে দেয়া হতো তাহলে এই সব হাজার হাজার নারীরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিতে পারতো?
রাসুল সাঃ এই সব হাজার হাজার নারীর প্রতিভু হিসাবেই মারিয়া রাঃকে মারিরাঃ এর সম্মতিতে শয্যা সঙ্গিনী করেছিলেন, এবং তা শুধুমাত্র যৌনতার জন্য নয়, মারিয়া রাঃকে বিয়ে করা স্ত্রীদের মত আলাদা বাসগৃহের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, যা কোন রক্ষিতা বা উপপত্নীকে দেয়া হতোনা।
সংক্ষিপ্ত ভাবে বলতে গেলে মোহর দিয়ে যে সব নারীকে দাম্পত্য সঙ্গিনী করা হয় তাদেরকে স্ত্রী আর যাদের কে মোহর ছাড়া দাম্পত্য জীবনের সঙ্গিনী করা হয় তাদেরকে সুরাইয়া বলা হয়। ধন্যবাদ।
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ at ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালামুন আলাইকুম,
আমি লেখককে সবিনয়ে আরজ করবো। আপনি এই বিষয়টিকে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, বুঝার মতো অবস্থা রাখেন নি। এটা কি ইচ্ছাকৃত করেছেন নাকি অনিচ্ছা কৃত করেছেন তা আপনি ভালো জানেন।
যে বিষয়টি আলোচনা করেছেন সে বিষয়টি আলোচনা না করে কতগুলো হাদিস এনে হাজির করেছেন। তাতে মূল বিষয়টি চাপা পরে গেছে। ঐ হাদিসগুলোতে মূল বিষয়টিকে ধামাচাপার যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষ করে কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে এনেছেন। এটা ঠিক করেন নি।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ at ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দুঃখিত! এই ব্লগটি আজকের নয় অনেক আগের। অনেক পাঠক ব্লগ পড়ে অনেক কিছু বললেও কেউ বলেননি আমি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছি।
আর আমি কোরান অনলিদের সাথে বিতর্ক করে ইচ্ছুক নই। ধন্যবাদ।
rafi
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৬ at ১:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
apni ei lekhay golmal lagiye felsen. apni ki bujate chassen ta clear kore bolen nai. 66 sura honey or maria the copt er upor najil hoyese ta niye gapla thakleo islamic source mote eta clear je sura ta mariya the copt er upor najil hoyese. sunan ibn nasai, bukari shorif er hadis e tai bola ase, ibne kasir tar tafsir e mariya er bepare bolse. so i think eikane honey er bepare najil hoy ni. ibn saad, al tabari aro onek islamic source e bola hoyese maria prophet sw er concubine silo jodio ibn ishaq er boiography te wife bola ase.
Mamun Ahmed
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ at ৪:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই,onek onek donnobad apnaka,apnar likhati pora amar mona joma thaka besh kichu prosner ans pelam aj.Allah apnaka uttom protidan dan koruk.
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ at ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ।
Anonymous
জুন ৩০, ২০১৭ at ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Niice
Anonymous
আগস্ট ১১, ২০১৭ at ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সংক্ষেপে বলুন যাতে এক প্রশ্নের উত্তরে হয়ে যায়
Anonymous
আগস্ট ১৭, ২০১৭ at ২:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলহামদুলিল্লাহ। খুব ভাল লিখেছেন।আমি আপনার লেখা পড়ি।আশা রাখবেন পাশে ছিলাম পাশে আছি।পাশে থাকব। ইনশাআআল্লাহ।
মোঃ মুশফিকুর রহমান
আগস্ট ১৫, ২০১৮ at ১১:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আজকে এক ব্লগারের লেখা থেকে মারিয়া রাঃ সম্পর্কে জেনে খুব ইচ্ছা ছিল বিস্তারিত জানার। ধন্যবাদ আপনার পরিশ্রমের জন্য।