[এক] ব্যপক সংস্কারের প্রয়োজনে বিশিষ্ট নবীর জন্যে বিশেষ বিবাহ নীতি:
আল্লাহ তা’য়ালার অন্য সব নবী-রসূলদের মত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-ও একজন মানুষই ছিলেন। তিনি আর সব মানুষের মতই খাবার খেতেন, হাটে-বাজারে যেতেন। অন্যসব মানুষের মতই তাঁর মধ্যেও সমস্ত মানবিক গুণাবলী যেমন আবেগ-অনুভুতি, দুঃখ-সুখ, আশা-নিরাশা সবই ছিল (সূরা ১৬: আয়াত ৪৩; ২৫:২০)। কিন্তু তারপরও তিনি ছিলেন বিশিষ্ট মানব এবং অনন্য আত্মিক ও দৈহিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।
আল্লাহর ওহীকে নিজের মধ্যে ধারন করার জন্য বিশেষ শক্তি ও সামর্থ্য ছিল রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর। বিষয়টা খোলাসা করা হয়েছে একটা প্রত্যক্ষ ঘটনার মাধ্যমে। সহী বোখারী শরীফে বর্ণিত সুবিখ্যাত ঐ ঘটনা থেকে জানা যায় যে একদিন এক মজলিসে বসা অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাঁটু লেগেছিল সাহাবী হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ)-এর হাঁটুর সাথে। ঠিক সেই সময় রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর নাযিল হওয়া শুরু করে আল্লাহর ওহী। ঐ মুহুর্তের কথা বলতে গিয়ে সাহাবী হযরত যায়েদ (রাঃ) বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমার পায়ের হাড় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে, অসম্ভব ছিল সেই ব্যথ্যার ভার সহ্য করা’।
উল্লেখ্য শুধু ঐ একটি দিনের সামান্য একটি মুহুর্ত মাত্র নয় বরং পুরো তেইশটি বছর ধরে সেই ভয়ানক ভারবাহী ওহী নাযিল হয়েছিল রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপরে। ওহীর দুঃসহ ভার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে স্বয়ং আল্লাহ পাক বলেন, ‘যদি এই আদেশ পাহাড়ের উপর নাযিল করা হতো তাহলে এর ভারে পাহাড় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যেত’ (৫৯:২১)। তাই আল্লাহ পাকের ওহীকে ধারণ করার প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের চাইতেও অনেক বেশী শারীরিক শক্তির অধিকারী করে গড়া হয়েছিল রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে। তাঁর শারীরিক শক্তিমত্তার কথা বলতে গিয়ে নবীজী (সাঃ) নিজেই বলেছেন যে তাঁকে ত্রিশজন পূর্ণ স্বাস্থ্যবান যুবকের শক্তি পরিমাণ সামর্থ্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে (বোখারী, মুসলিম)।
রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই অতিমাত্রিক দৈহিক যোগ্যতার প্রামাণ মেলে তাঁর ইবাদত বন্দেগীর পরিমাণ ও পদ্ধতির মধ্যেও। উল্লেখ্য রসূল (সাঃ) কখনও কখনও একাধারে রোজা রাখতেন। প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবারা বলেন, দিনের পর দিন পার হয়ে যেত কিন্তু তিনি রোজা ছাড়তেন না। দেখে মনে হতো তিনি হয়তো আর কখনই রোজা রাখা বন্ধ করবেন না (বোখারী, মুসলিম)। সাহাবারা আরও বলেন, ‘নবীজীকে একাধারে রোজা রাখতে দেখে আমরাও তাঁকে অনুসরণ করা শুরু করতাম। কিন্তু তিনি নিষেধ করতেন, বলতেন যে তাঁকে আমাদের চাইতেও অনেক শক্তিশালী করে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ঐ বাড়তি রোজা তাঁর জন্যে তাঁর শক্তির অনুপাতে অতিরিক্ত ইবাদত’ (বোখারী)।
হযরত আয়েশা (রাঃ) কাছ থেকে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর রাত্রিকালীন দীর্ঘ নামজের যে সব বর্ণনা পবিত্র হাদীস গ্রন্থগুলোতে দেখা যায় তাও বস্তুতঃ তাঁর শারীরিক শক্তি-সামর্থ্যের আনুপাতিক। নিজের উম্মতকেও তিনি সেই উপদেশই দিয়ে গেছেন, বলেছেন নিয়মিত ফরজ ইবাদতের বাহিরে অতিরিক্ত যে কোন ইবাদত করার ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্যের সীমা অতিক্রম না করতে এবং সামান্য হলেও নিজের জন্যে নির্দিষ্ট করে নেয়া সুবিধাজনক সেই বাড়তি ইবাদতগুলোতেই নিয়মিত থাকতে (বোখারী)।
এই তথ্যগুলো থেকে এটা স্পষ্টতঃই বলা চলে যে রসূলুল্লাহ (সাঃ)- কে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অতিরিক্ত শারীরিক শক্তিমত্তার বিষয়টা বিবেচনা করাই আল্লাহ পাকের জন্য যথেষ্ট হতে পারত কিন্তু সূক্ষ্মদর্শী মহান আল্লাহ তা’য়ালা পর্যাপ্ত কারণ থাকার পরও সে পথে যাননি আর তাই প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়স অবধি নবীজীর স্ত্রী ছিলেন মাত্র একজনই। এরদ্বারা আল্লাহ পাক বস্তুতঃপক্ষে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন নিজেদের সহজাত রীপুকে নিয়ন্ত্রনে রাখার উপযোগিতা ও কৌশল। তাই রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অতিরিক্ত বিয়েগুলো যে শুধুমাত্র উম্মতের শিক্ষার প্রয়োজনেই হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উপরন্তু আল্লাহ পাক উম্মতী মুহাম্মদীকে যে প্রয়োজন স্বাপেক্ষে চারটা পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন (৪:৩) তার ব্যবহারিক নমুনা ও উদাহরণ সৃষ্টি করার জন্যেও রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর একাধিক বিয়ে অপরিহার্য ছিল। সে লক্ষ্যেই নবীজীর জন্যে গ্রহণ করা হয়েছিল সাধারণদের থেকে ভিন্ন বিশেষ বিবাহ নীতি (৩৩:৫০)। এর কারণ হলো আল্লাহ পাক তাঁর বিধি-বিধানগুলোকে কখনই শুধুমাত্র থিওরীর মধ্যে সীমিত রাখেননি। সেসব যে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োগ সম্ভব তাও সব সময়ই দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা অতি প্রত্যক্ষ ভাবে, ব্যবহারিক প্রমাণপঞ্জীর দ্বারা। তাই রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পুরো মিশনকে না বুঝে তাঁর বহু বিবাহের মর্ম উপলব্ধি করা একেবারেই অসম্ভব।
[দুই] সুস্থ সমাজ বিকাশে চাই শুদ্ধ বিবাহ:
আল্লাহ পাকের অন্যান্য নবী-রসূলদের মত রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবনের খুঁটিনাটি প্রতিটি বিষয়ই ছিল তাঁর সুবিস্তৃত মিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্য নবীদের মত তাঁর মিশনেরও টার্গেট ছিল সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ঢুকে পড়া মানুষের কল্পনাপ্রসূত অজ্ঞতাগুলোকে টেনে বের করে সমাজকে আবার তার বিশুদ্ধ ভিত্তির উপর দাঁড় করানো। অনেকটা আগাছাময় ফসলের জমিতে দক্ষ হাতে নিড়ানী দেয়ার মত। অপ্রতিরোধ্য আগাছা যেমন প্রকৃত ফসলকে বাড়তে দেয় না তেমনি অজ্ঞতা নির্ভর সমাজের বুকেও কাজ করে না কোন সত্য বিধান। বরং অজ্ঞতার আগাছাকেই তখন ফসল ভেবে ভুল করতে থাকে সবাই।
নারী-পুরুষের বিয়ে হলো মানব সমাজের যথার্থ বিকাশের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক জমিন। বস্তুতঃ এই জমিনের শুদ্ধতার উপরই নির্ভর করে মানুষের অন্য ক্ষেত্রগুলোর শুদ্ধতা ও সফলতা। তাই আল্লাহ পাকের নবীরা যে এই ক্ষেত্রটাকে অজ্ঞতা মুক্ত করতে অগ্রণী হবেন সেটাই স্বাভাবিক। এটা রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্যে ছিল আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাঁর পরে পৃথিবী ধ্বংস অবধি আর কেউ আসবে না নিড়ানী দিয়ে এই জমিন পরিষ্কার করতে। বরং পদার্থ ভিত্তিক সক্ষমতার ব্যপক প্রসারে নবীজী উত্তর এই জমিন হবে এমনই আগাছাময় যে অর্থপূর্ণ জীবনধারণ এখানে ক্রমেই হয়ে পড়বে খালি পায়ে জলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়ে হাঁটার মতই দুরূহ ও কষ্টসাধ্য।
আরবের তৎকালীন ভয়ানক অজ্ঞতাময় পরিস্থিতিতে যেখানে কন্যা সন্তানকে জন্মমাত্রই মাটিতে পুঁতে হত্যা করার মত মর্মন্তুদ ঘটনাও ঘটছিল অহরহ সেখানে মেয়েদের বিয়ের বিধানসমূহ যে কি রকম শোষণের হাতিয়ার ছিল তা অনুমান করা যায় সহজেই আর পুরো সমাজের বিরূদ্ধে ও বিপরীতে গিয়ে সেসবের সংস্কার যে ছিল আরও ঝুঁকিপূর্ণ তাও বলাই বাহুল্য। অথচ মানুষের প্রয়োজনে আল্লাহ পাকের সত্য বিধানসমূহের ব্যবহারিক নমুনা সৃষ্টি করতে গিয়ে নবীজী (সাঃ)-কে একক ভাবেই নিতে হয়েছিল সেই সব ঝুঁকি, একাকী দাঁড়াতে হয়েছিল পুরো পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিরূদ্ধে।
আল্লাহ পাকের বিধি-বিধানগুলো স্বয়ং নবীজী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তাঁর বিভিন্ন বিয়ে নিয়ে এখনও যেভাবে প্রশ্ন তোলা হয় তাতে এসব বিয়ের কিছু উদাহরণ যদি নবীজী ছাড়া অন্যান্য সাহাবীদের দিয়ে সৃষ্টি করা হতো তাহলে আমরা আজকের দিনের দুর্বল চিত্তের উম্মতেরা বিবিধ ব্যাখ্যাকারীদের দ্বারা যে কি ভাবে বিভ্রান্ত হতাম তা অনুমান করতে কষ্ট হয় না।
[তিন] বিয়ের বয়স, দায়িত্ববোধ এবং বালিকা বধূঃ
রসূলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহ তা’য়ালার সর্বশেষ রসূল হবেন এটা যেহেতু পূর্ব নির্ধারিত ছিল তাই জন্মাবধি তিনি যত কাজই করেছেন তার সবই ছিল আল্লাহ পাকের বিধান মত এবং সেগুলোও এই উম্মতের জন্য নবীজীর সুন্নত হিসেবে অণুকরনীয় যদিও সেসব ছিল তাঁর নবুয়ত লাভের পূর্বের ঘটনা বা বিষয়। এই হিসেবে একজন পুরুষের জন্য বিয়ের আদর্শ বয়স হলো পঁচিশ তথা যৌবনের প্রাথমিক কাল যার ইঙ্গিত পাওয়া যায় পবিত্র আল-কোরআনেও (৪:৬)। এই বয়স কালের মধ্যে হবু বরের উপার্জন করতে পারাটাও উত্তম যদিও অর্থ কষ্টের মাঝেও আল্লাহ পাক বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে বিয়ের কারণে আল্লাহর যে রহমত লাভ হবে তাতে দূর হয়ে যাবে অভাব-অনটন (২৪:৩২~৩৩)। তবে যে কোন বিবেচনাতেই, যত সামান্যই হোক না কেন, নিজে উপার্জন করে পরিবারের জন্য ব্যয় করতে পারে বলেই পুরুষকে দেয়া হয়েছে নারীর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব ও অধিকার (৪:৩৪)। তাই বয়স এবং পরিবার পালনের আর্থিক সক্ষমতা এই দুই ক্ষেত্রেই রসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন পৌঁছে ছিলেন আদর্শ অবস্থায় ঠিক তখনই তাঁর বিয়ে হয় চল্লিশ বছর বয়স্কা বিধবা নারী হযরত খাদিজা (রাঃ) সাথে।
এখানে লক্ষ্যনীয় যে বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স ও আর্থিক সঙ্গতি বিবেচ্য হলেও নারীর ক্ষেত্রে এই দুটোর কোনটাই বিবেচ্য বিষয় নয়। ব্যপারটা পরিষ্কার করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক ছয় বছরের বালিকা হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে বিয়ে করার মাধ্যমে। সাধারণতঃ বিয়ের কনে হয়ে থাকে বরের চেয়ে কম বয়স্ক। বয়সের এই হিসেবকে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক বিনির্মাণে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই দুই বিয়েতেই সমাজের সেই কথিত ধারা ও ধারণাকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রাধান বিবেচ্য হতে হবে সুদূরপ্রসারী পারিবারিক এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা, অন্য কিছু নয়।
বিয়ে মানেই সামাজিক দায়বদ্ধতা, এই মূল নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়েই মদিনার আনসারেরা তাদের সম্পদের সাথে সাথে একাধিক স্ত্রীদের মধ্য থেকেও ভাগ দিয়েছিলেন মক্কা থেকে আগত মুজাহিদ ভাইদেরকে যাতে মদিনার বুকে তারা জীবন শুরু করতে পারেন নতুন ভাবে। এই একই দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যুদ্ধলব্ধ শত্রু পক্ষের নারীদের ক্ষেত্রেও। এই ধরনের নারীদেরকে ‘নিজেদের করে নেয়ার’ অনুমতি মুসমানদেরকে আল্লাহ পাক দিয়েছেন (৪:২৪; ৬০:১০)। আল্লাহর এই বিধান বহু বিজ্ঞজনের মহা শিরপীড়ার কারণ। তারা দেখেও দেখেন না যে রসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজের রাষ্ট্রে কিভাবে এই আদেশের বাস্তবায়ন করেছিলেন।
উল্লেখ্য মদিনার মুসলিম বাহিনীই ছিল জগতের একমাত্র স্শস্ত্রবাহিনী যারা যুদ্ধলব্ধ নারীদের ‘গণভোগ’কে হারাম ঘোষণা করে বাহিনীর সিদ্ধান্ত মতে ইসলামী আইন অনুযায়ী তাদেরকে বিয়ে করে নিজেদের পরিবারভুক্ত করে নিয়েছিলেন। এই পদ্ধতিতেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পরিবারভুক্ত হয়েছিলেন হযরত জাওয়ারিয়া ও হযরত সাফিয়া (রাহাঃ)। আল্লাহর আলোচ্য আদেশের এই যে অর্থ রসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজে করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন এর বাহিরে ঐ আয়াতের অন্য কোন অর্থ করার যে কোন চেষ্টা হবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে আলাদা ভাবে চিন্তা করার সামিল যার কোন অবকাশই ইসলামে নেই।
এমনই দায়িত্বশীলতার আরেক আদেশে আল্লাহ পাক মুসলিম পুরুষদেরকে অনুমতি দিয়েছেন এখনও ‘মাসিক শুরু হয়নি’ এমন বালিকাদেকে বিয়ে করার জন্য (৬৫:৪)। বলাই বাহুল্য ইসলামকে আক্রমণ করতে মাত্রাধিক হারে ব্যবহূত হচ্ছে এই আয়াত। বস্তুতঃ এই আয়াতেরই সফল বাস্তবায়ন ছিল রসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক ছয় বছরের বালিকা হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর বিবাহ, যা কিনা আল্লাহর ঐ আয়াতের মতই বহু বিতর্কিত এবং বহুল আলোচিত। এই সব অযাচিত তর্ক-বিতর্কের অবসানে প্রয়োজন এই বিষয়ের উপর বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ যেখানে আমাদেরকে অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে পুরো ইসলামে নারীর অবস্থান ও মূল্যায়ন।
লক্ষ্যনীয় যে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার কোন পর্যায়েই, কোন ভাবেই নারীকে কখনও একাকী ছেড়ে দেয়া হয়নি। নারীকে সব সময়ই রাখা হয়েছে মাহরাম পুরুষ তথা যাদের সাথে বিয়ে হারাম তাদের সাথে অথবা স্বামীর সাথে। নারীর নিরাপত্তাকে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য, তাকে রাখা হয়েছে সর্বদা সুরক্ষিত। একাকী নারী জীবনের তাই দেখা মেলে না ইসলামী বিধানে। এই যদি হয় নিয়ম তাহলে কি উপায় হবে পিতা-মাতাহীন এতিম বালিকাদের? যে কোন সময় পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যে কোন সমাজে পাওয়া যেতে পারে এমন কন্যা। এমন হওয়াও বিচিত্র নয় যে দুর্যোগ, দুর্বিপাক অথবা মহামারীতে আক্রান্ত পিতা-মাতা বয়স-কাল সব উপেক্ষা করে জীবনের প্রয়োজনে বাধ্য হতে পারে কন্যা সম্প্রদানে। সেসব ক্ষেত্রে কি হবে ইসলামের বিধান? বস্তুতঃ সেই বিধানই প্রকাশিত হয়েছে আল-কোরআনের ঐ আয়াতে (৬৫:৪) যার বাস্তব রূপ হলো রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ঘরে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর স্ত্রী হয়ে আসা। এই বিয়ের দ্বারা কনের বয়স নূন্যতম কত হলে তাকে বিয়ে দেয়া যেতে পারে তারও একটা ধারণা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য আজকের দুনিয়ায় ষোল, আঠারো, একুশ ইত্যাদি বয়সকে ‘সাবালক’ বা ‘ম্যাচিউরিটি এজ’ এবং এর নীচের বয়সকে ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ ধরা হয়। অথচ এর কোনই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ বালিকা বয়সের মেয়েরা যদি ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ হয় তা হলে অহরহ তারা মা হচ্ছে কিভাবে? কিশোর ছেলেরা বাবা হচ্ছে কিভাবে? এমনকি অতি সম্প্রতি পৃথিবীর প্রথম কিশোরী নানীরও সন্ধান পাওয়া গেছে পশ্চিমা কোন এক দেশে। অথচ এই দেশগুলোই মূলতঃ এই বয়স ভিত্তিক ‘ম্যাচিউরিটি’ তত্ত্বের প্রবক্তা। এসব দেশে ‘বালিকা মা’-দের ক্রমবর্ধমান আধিক্যই প্রমাণ করে যে এদের এই বেঁধে দেয়া বয়সের সাবালকত্ব বা নাবালকত্ব তত্ত্ব ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ যোগ্য হলেও অন্ততঃ প্রজননে সক্ষমতার ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বালক-বালিকাদের নাবালকত্ব বা সাবালকত্ব যে ‘কোন নির্দিষ্ট বয়স নির্ভর নয়’ এবং পুরুষের বিয়ের জন্য ‘দায়িত্বশীল বয়সে’ উপনীত হওয়া শর্ত হলেও নারীদের বিয়ের ক্ষেত্রে যে তা অবস্থার প্রেক্ষিতে শীথিলযোগ্য সেটাও বস্তুতঃ পরিষ্কার করা হয়েছে রসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক বালিকা আয়েশা (রাঃ)-কে বিয়ের মাধ্যমে। উল্লেখ্য যে ছয় বছর বয়সে বিয়ে হলেও হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে তুলে নেয়া হয়েছিল নয় বা দশ বছর বয়সে যা থেকে বোঝা যায় যে স্বামীর ঘরে নেয়া পর্যন্ত বালিকা বধূকে পর্যাপ্ত মানসিক স্থিরতার সুযোগ দেয়া অবশ্যক।
এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে হযরত আয়শা (রাঃ)-কে বালিকা বয়সে উম্মুল মু’মিনীন করার পেছনে শুধুমাত্র বালিকাদেরকে বিয়ে করার রীতি প্রতিষ্ঠা করাই আল্লাহ পাকের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না। বরং রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ইন্তেকালের পরও নবীজীর ব্যক্তি, পারিবারিক ও কর্ম জীবন সম্বন্ধে দীর্ঘকাল ব্যাপী যাতে কেউ একজন মানুষের অনুসন্ধিৎসার যথাযথ উত্তর দিতে পারে সেজন্যেও সম্ভবতঃ অনন্য মেধার অধিকারী অল্প বয়সী আয়শা (রাঃ)-কে রাখা হয়েছিল নবীজীর সবচেয়ে কাছে। আর সেই দায়িত্বটা যে হযরত আয়েশা (রাঃ) অতি দক্ষতার সাথেই পালন করেছিলেন তার প্রমাণ মেলে উনার সূত্রে বর্ণিত অগণিত হাদীস এবং সেসবের গুরুত্ব থেকে। আর তাই নবীজীর সাথে আয়েশা (রাঃ) বিয়েকে দুই, একটা সীমিত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার কোনই সুযোগ নেই।
এই বিশ্লেষণ থেকে বালিকাদের বিয়ের উদাহরণ পাওয়া গেলেও ছিদ্রান্বেষীদের প্রধান সমস্যা হলো বালিকাদের মা হওয়া নিয়ে, যা কিনা বৈজ্ঞানিক ভাবেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত। কম বয়সে মেয়েরা মা হলে মা ও শিশু উভয়কেই অনেক ধরনের জটিলায় পড়তে হতে পারে। আমদের দুই-এক প্রজন্ম আগের সমাজেই ব্যপক ছিল তেমন বালিকা বিয়ের প্রথা। সে সময় ‘মিসক্যারেজে’র ঘটনাও ছিল নিত্যনৈমিত্তিক যা জানা যায় সমাজের বয়স্কদের কাছে থেকে। তাই এটা নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয় যে ইসলাম কি তাহলে বালিকাদের মা হওয়া প্রতিরোধ করতে চায় না? এক্ষেত্রে মোক্ষম জবাব হলো আল্লাহ পাক অনুমতি দিয়েছেন বালিকা বিয়ে করার এবং সে মতে রসূলুল্লাহ (সাঃ) বিয়েও করেছিলেন হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে, কিন্তু সেই বালিকা বধূকে তিনি কখনই কিন্তু কোন সন্তানের মা করেননি। উল্লেখ্য হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কোন সন্তানাদি ছিল না। অর্থাৎ ইসলামে বিয়ে মানেই ‘ভোগ’, ‘উপভোগ’ নয় বরং দায়িত্ব। যতটুকু ‘সুখের উপভোগ’ সেখানে বিদ্যমান সেটা মূলতঃ কঠিন দায়িত্ববোধেরই প্রতিফল বিশেষ। এই দায়িত্ববোধের আলোকেই বালিকা বধূকে মা না করাই যে উত্তম সেটাও উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন রসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজে।
এরপরও যদি কোন মুসলমান কোরআন-হাদীসের দোহাই দিয়ে যেনতেন প্রকারে বালিকা বিয়ে করে তাকে বছর বছর সন্তানের মা হতে বাধ্য করে তাহলে ঐ স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করে সামাজিক ভাবে তার বিচার করাই বোধকরি যথার্থ হবে। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ঐ সমস্ত ব্যক্তিগত ধান্ধাবাজীর জন্যেও ইসলামকে দোষারোপ করাটা খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।
এখানে বিশেষ ভাবে আরও উল্লেখ্য যে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে প্রায় দশ বছর সংসার করার পরও হযরত আয়েশা (রাঃ) কোন সন্তানাদি না হওয়ার দ্বারা এটাও প্রতিষ্ঠিত হয় যে দম্পতিদের অধিকার আছে নিজেদের প্রয়োজন মাফিক পরিকল্পনা করে সন্তান নেয়া বা না নেয়ার। তবে এজন্যে তাদেরকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে প্রাকৃতিক ‘জন্মনিয়ন্ত্রন’ পদ্ধতি। অতি প্রাকৃতিক তথা কৃত্রিম পদ্ধতির জন্মনিয়ন্ত্রন কার্যক্রম আমদের দেশ যে কি ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর অনিবার্য সুদূরপ্রসারী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আমাদের সমাজের যে আজ কি বেহাল অবস্থা হয়েছে তা সাম্প্রতিক কালে পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানগুলোতেই স্পষ্ট। অথচ শুরু থেকেই যদি স্ত্রীদের স্বাভাবিক শরীরিক চক্র মেনে প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হতো তা হলে যেমন সাশ্রয় হতো অর্থ ও সময়ের তেমনি ফলাফল হতে পারতো আশানুপাতিক। সর্বোপরি সেটা একটা সহিষ্ণূ সমাজ গড়ার পথেও হতে পারতো খুবই সহায়ক।
[চার] দাসী কেন বধূ , ভাল লাগার স্বীকৃতি এবং নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে
আল্লাহর বিধানে বিয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতাই মূখ্য। তারপরও রক্ত মাংসে গড়া মানুষের মনে বিবিধ আকাংখার সৃষ্টি হতে পারে। দায়িত্ববোধ ছাপিয়ে কখনও কখনও কামনা-বাসনাও প্রধান হয়ে উঠতে পারে। কর্মক্ষেত্রে, বিশেষতঃ পুরুষরা যেখানে নারীদের আইনানুগ কর্তা সেখানে দীর্ঘ জানাশোনা বা নিত্য একত্রে ওঠা বসার কারণে সৃষ্টি হতে পারে শারীরিক বা মানসিক চাহিদার। আবার বিয়ের ঝামেলা এড়াতে ছলে, বলে, কৌশলে অধঃস্তন নারীকে ভোগ করার পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে কি হবে উপায়? কি ভাবে ঠেকানো সম্ভব এই ধরনের অনাচার?
উল্লেখ্য যে এসব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে অবৈধ পন্থার বিকাশ হতে বাধ্য। যেখানে বিল ক্লিনটনের সম্মানিত সহকর্মী হওয়ার পরও রক্ষা পায়নি মনিকা সেখানে দাসী, ক্রীতদাসী, নারী গৃহকর্মী যারা পুরুষ মনিব বা মালিকের হয়ে কাজ করছে তাদের অবস্থা সহজেই অণুমেয়। এসব ক্ষেত্রে মানুষকে অবৈধ পন্থার দিকে পা বাড়ানো থেকে রক্ষা করতে দয়াময় আল্লাহ পাক বাতলে দিয়েছেন পথ। ঐ রকম পরিস্থিতিতে ইসলামের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ে করে নেয়াটাকে করেছেন জায়েজ। পূর্ণ দায়িত্ব নেয়া সাপেক্ষে নিজের কর্তৃতাধীন ঐ সব নারীদেরকে তিনি হালাল করেছেন পুরুষদের জন্য (৪:৩,২৫; ২৩:৬)। এখানেও নারীর প্রতি ‘পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ববোধের’ ব্যবস্থাই মূখ্য। কোন ধরনের দায়িত্ব নেবো না, শুধুই ভোগ করবো এমন নারী-পুরুষের সম্পর্ক হলো ‘চূড়ান্ত অবিচার’ এবং ‘নারী জন্য চরম অপমানজনক’ যা আল্লাহর আইনে একেবারেই অসম্ভব।
বর্তমান সমাজে অতি সহজলভ্য অর্থের বিনিময়ে যে ‘নারী ভোগ’ সেখানে ‘ভোগের বিনিময় হিসেবে’ নারীকে যে টাকা-পয়সা প্রদান করা হয় সেটাকে কুযুক্তিবাদীরা ‘নারীর প্রতি দায়িত্ব পালন করা হলো’ বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এরকম শুধু্মাত্র ‘সুখ ভিত্তিক বিনিময়’ আর দুটি মানব জীবনের প্রতিদিনের চাওয়া-পাওয়া পরস্পর ভাগাভাগি নেয়ার যে চিরস্থায়ী ‘বিনিময়’ তা কখনই এক হবার নয়। আর তাই এই সমস্ত ধান্ধাবাজী যুক্তি দিয়ে ‘নারী কেনা-বেচা’ জায়েজ করার কোনই অবকাশ আল্লাহর আইনে নেই।
এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয় যে এই ধরণের অনিবার্য পরিস্থিতিতে নারী-পুরুষের মাঝে সৃষ্ট দেহ-মনের আশা বা আকাংখাকে আল্লাহ পাক কখনই গায়ের জোরে গলা টিপে হত্যা করেননি বরং তাকে স্বাভাবিক উপায়ে একটা সুন্দর পরিণতির দিকে যেতে পথ করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ পাকের এই বিধানের বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করার জন্যেই আল্লাহর নির্দেশ রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বিয়ে করতে হয়েছিল তাঁর দাসী হযরত মারিয়া বা মারিয়াম (রাঃ)-কে। এতে এটাই স্পষ্ট হয় যে দুই জন নারী-পুরুষের দেহ-মনে সৃষ্ট আবেগ-অনুভূতিকে শক্তির দ্বারা রুখে দেয়া আল্লাহ পাকের নীতি বিরূদ্ধ। বরং নারী-পুরুষের মধ্যে এমন পরিস্থিতি যাতে শুরুতেই তৈরী হতে না পারে সেজন্যেই বস্তুতঃ ইসলামে পর্দার বিধান এত কঠোর। এমনকি পুরুষের মনে যাতে ‘কোন ধরনের ভাবের’ উদয় হওয়ার সুযোগই না হয় সেজন্যে আল্লাহ পাক নবীজীর স্ত্রীদের মাধ্যমে পরিবার বহির্ভূত পুরুষদের সাথে কথোপকথনেও বিশ্ব নারীকে কোমলতা পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন (৩৩:৩২)। একই ভাবে দেবরকে ভাবীর জন্য মৃত্যু তুল্য ঘোষণা করে রসূলুল্লাহ (সাঃ) নিশ্চিত করেছেন যাতে সেখানে কোন অবস্থাতেই ভাবাবেগ তৈরী হওয়ার কোন পরিবেশই সৃষ্টি হতে না পারে (বোখারী)। অবশ্য ভাবীকে যদি কোন সময় হতে হয় মাতৃহীন শিশু দেবরের প্রতিপালক তবে সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে আল্লাহ পাকের ঐ আইন যেখানে তিনি নারীদেরকে এমন বালকদের সম্মুখে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন যাদের মধ্যে এখনও সৃষ্টি হয়নি কোন দেহজ অনুভূতি (২৪:৩১)। আবার বয়োঃপ্রাপ্তা নারীদের জন্যেও পর্দা শীথিল যোগ্য (২৪:৬০)।
অতএব দেখা যাচ্ছে যে এসব ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিধানের মূল লক্ষ্যটাই হচ্ছে শুরু থেকেই এমন অবস্থার উদ্ভবই হতে না দেয়া যাতে নারী-পুরুষের মাঝে মনের দেয়া-নেয়া হয়ে যাবে অথচ কোন ভাবেই তাদের মিলন সম্ভবপর হবে না।
বোধকরি এই একই কারণে খালাতো, মামাতো, চাচাতো, ফুফাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ককে ইসলাম স্বীকৃতি দেয়। কঠোর পর্দার বিধান এই শ্রেনীর ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়ায় এদের মধ্যে মন দেয়া-নেয়ার সম্ভবনা থাকে খুবই বেশী। তাই এদের মধ্য যদি বিয়ে হারাম করা হতো তাহলে এক্ষেত্রে অবৈধ পন্থার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হতো না। আবার অনেক সময় অতি প্রয়োজনীয় পারিবারিক বা বৈষয়িক কারণেও অপরিহার্য হয়ে পড়ে এরকম বিয়ে। আর তাই ইসলাম কর্তৃক নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের স্বীকৃতি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা রক্ষার প্রয়োজনে খুবই বাস্তব সম্মত একটি পদক্ষেপ।
অথচ কেউ কেউ এই ধরনের পারিবারিক বিয়েকে ঘৃণার চোখে দেখেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এমন অনেককে জানি যারা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়েকে ঘৃণা করলেও সমকামীতাকে আবার সমর্থন করেন দৃঢ় ভাবে! অথচ সমকামীতা হলো এমনই ঘৃণ্য এক পন্থা যার চর্চা পশু-পাখীদের মধ্যেও দেখা যায় না। অর্থাৎ যারা সমকামীতাকে সমর্থন করেন তারা মূলতঃ সব জেনেশুনেও মানুষকে পশু-পাখী, কীট-পতঙ্গের চাইতেও নীচে নামিয়ে ছাড়েন। এই সহজ সত্যটাও যে কিভাবে কিছু কিছু মানুষের কাছে অসত্য-অবোধ্য হতে পারে তা বোঝা বড়ই মুশকিল।
এখানে আরও একটা দলের দেখা পাওয়া যায় যারা এই ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক ঠেকাতে সহসা হয়ে ওঠে নর পিশাচ। প্রয়োগ করে থাকে ‘অনার কিলিং’-এর মত পৈশাচিক পদ্ধতি। এরা মুসলমান তো নয়ই এমনকি মানুষও নয়। এরা স্রেফ কিলার। এরা নর ঘাতক। আল কোরআনের ঘোষণা মতে এরা বস্তুতঃ সমগ্র মানব জাতির হত্যাকারী কারণ এদের এইসব পশুত্ব সর্বস্ব বর্বরতা পৃথিবীর সব আইনেই অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত (৫:৩২)।
নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়েকে বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে সবচেয়ে বেশী বাঁধাগ্রস্থ করা হয় যে কারণে তা হলো এই ধরনের বিয়েতে যেহেতু একই পারিবারিক ধারার ‘দুই সেট জিনের’ সম্মিলন ঘটে তাই শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল সন্তান জন্মানোর সম্ভবনা থাকে বেশী। কথাটার মধ্যে বৈজ্ঞানিক সত্য আছে বটে তবে সেটা যে কোন দম্পতির ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। বর-কনের মধ্যে দূরতম সম্পর্ক না থাকার পরও তাদের রক্তের গ্রুপ সাংঘর্ষিক হতে পারে। এমনকি বিয়ের আগে বর-কনের রক্ত পরীক্ষাও গ্যারান্টি দেয় না দূরারোগ্য ব্যধিহীন সন্তান লাভের। কারণ মা-বাবার দেহের মধ্যে সুপ্তাবস্থায় থাকা জেনেটিক রোগ অজ্ঞাত কারণেও প্রকাশ হতে পারে কোন কোন সন্তানের মধ্যে। নিজ উম্মতের কাছে এই বিষয়টা স্বপ্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করতেই সম্ভবতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর সময় নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই বিয়ে হয়েছে বেশী। তিনি নিজে যেমন এ ধরনের বিয়ে করেছেন তেমনি নিজের সন্তানদেরকেও বিয়ে দিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে।
[পাঁচ] পালক সন্তান বিষয়ে কুসংস্কারের মূলোৎপাটন
বিয়ের ক্ষেত্রে অন্য যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার রসূলুল্লাহ (সাঃ) করেছেন তা হলো ‘রক্তের সম্পর্কের বিশুদ্ধ পরিচিতি’কে প্রতিষ্ঠিত ও নিশ্চিত করা। এটা করতে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বিয়ে করতে হয়েছিল নিজ পালক পূত্র হযরত যায়েদ (রাঃ)-এর পরিত্যক্তা স্ত্রীকে (৩৩:৩৭) যা কিনা এখনকার সমাজেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।
রক্তের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম সত্যটা হলো যে এটা কখনই কোন ব্যক্তি বা সমাজের কথায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয় নয়। তাই নিজের সন্তানের মত কোলে পিঠে মানুষ করার পরও পালক সন্তানকে কখনই আসল বিবেচনা করার কোন অবকাশ নেই। এখানে ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি মূল্যহীন। এক্ষেত্রে যদি এমন কঠোর নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করা না হত তাহলে সহায়-সম্পদের লোভে অনেকেই ছলে-বলে-কৌশলে এরকম পাতানো সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াস পেত। এমনকি শুরু হতে পারত পাতান সম্পর্ক গড়ার ব্যবসা। এতে করে নিশ্চিত ভাবেই প্রকৃত রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানদের ব্যপক ভাবে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হতো এবং পুরো সমাজ ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পরত এক সময়।
একই ভাবে রসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর অন্য বিয়েগুলোরও প্রতিটির পেছনেই ছিল এমনই সব আর্থ-সামাজিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসমূহ। আরও ছিল মানুষের ভাবাবেগ ও কল্পনাপ্রসূত কালা-কানুনসমূহের সত্য দর্শন ভিত্তিক সুদূরপ্রসারী সংস্কারের উদ্দেশ্য যা তাঁকে বাস্তবে করে দেখাতে হয়েছিল। এত সব সামাজিক সংস্কার সফল ভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে নবীজী (সাঃ) এই সত্যটাও প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন যে এই বিশ্বের যে কোন জায়গায় যে কোন সমাজে যে কোন সময় যে কোন কোরআনিক আইনের সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সম্ভব।
জীবনের প্রতিটি দিনের প্রতিটি কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রিয় নবীজী (সাঃ) আরও প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে মানুষের ঈমান যদি সত্যিকার অর্থেই একমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাকের উদ্দেশ্যে দৃঢ় ও বিশুদ্ধ ভাবে নিবেদিত হয় তাহলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, দুঃখ-শোক, অভাব-অভিযোগ-দূর্ভিক্ষ এমনকি বহু স্ত্রী-সন্তানের ঘর-সংসারও তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যূত করতে পারে না। সেজন্যেই তেরো জন স্ত্রী থাকার পরও নবীজীর নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত কাজা হওয়ার কোনই উদাহরণ নেই। তাই তাঁর উম্মতদের মধ্যে আল্লাহ যাদেরকে তৌফিক দেবেন একাধিক স্ত্রী এবং অনেক পূত্র, কন্যার অধিকারী হওয়ার তাদের জন্যেও কোনই উপায় বা অজুহাত নেই নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত বা জেহাদের মত অত্যাবশ্যক ইসলামী কাজ থেকে অবকাশ নেয়ার বা পাওয়ার।
মাত্র বাষোট্টি বছর আয়ুষ্কালের মধ্যে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে শেষ করতে হয়েছিল তাঁর বিশাল মিশন আর সে কারণেই তাঁর সর্বমোট পরিবারের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল তেরোতে। বলাই বাহুল্য বিশ্বের আর কাউকেই এমন দূরূহ মিশনে নামতে হবে না আর কখনই। তাই এক সাথে চার জনের বেশী স্ত্রী রাখারও আর কোন প্রয়োজন হবে না কারোরই। তবে যারা সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর খাঁটি বান্দা তারা যে কখনই অপ্রয়োজনে একের অধিক স্ত্রী রাখতে আগ্রহী হবেন না সে বিষয়ে কোনই সন্দেহ নেই কারণ আল্লাহ পাক খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে একের অধিক স্ত্রী নিতে চাইলে তাদের মধ্যে প্রতিটি বিষয়ে স্বামীকে অবশ্যই সমতা রক্ষা করে চলতে হবে যা কিনা সাধারণ মানুষের পক্ষে দুরূহ, আর তাই মানুষের জন্যে এক স্ত্রীতে সন্তুষ্ট থাকাই উত্তম (৪:৩, ১২৯)।
রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সমস্ত জীবন, বিশেষতঃ তাঁর পরিচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পুরোটা সময়ই ছিল ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ তাই তাঁর বিয়েগুলোও ছিল সেই সময়ের বিশেষ বিশেষ পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাপেক্ষ। আল্লাহ পাকের রসূল পদে অভিষিক্ত হওয়ার পরপরই নবীজীকে বহু সম্পদের লোভ দেখানো হয়েছে, প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বড় বড় ঘরে ভাল ভাল অসংখ্য বিয়েরও, শুধু শর্ত ছিল আল্লাহর দ্বীন থেকে সড়ে আসার। সেইসব প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অকাতরে। এসব তথ্য লিখিত দলিল আকারে এখনও বর্তমান ইতিহাসের পাতায়। রসূল পাকের ছিদ্রান্বেষীদের মত অনুযায়ী তিনি যদি সত্যিই তাঁর শারীরিক চাহিদা মেটাতেই দশের অধিক বিয়ে করে থাকেন তা হলে তিনি তা বহু আগেই করতে পারতেন, পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন দরকার ছিল না।
আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে মানুষের জীবন ও সমাজকে বিচিত্র সব কল্পনা মিশ্রিত কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে এই বিশ্বে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে বেঁচে থাকাটাকে মানুষের জন্য সহজ, সাবলিল, সম্মানজনক এবং অর্থপূর্ণ করতে রসূলুল্লাহ (সাঃ) একক ভাবে যে অবিশ্বাস্য ও অসামান্য অবদান রেখেছেন তার কারণেই তিনি হতে পেরেছেন ‘রাহমাতুল্লিল আল-আমিন’ তথা ‘জগতসমূহের জন্য রহমত’ (২১:১০৭)। স্বয়ং আল্লাহ পাকের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া কোন সহজ সাধ্য বিষয় নয়।
সুতরাং সময়, কাল, অবস্থা এবং মিশনকে আমলে না নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ব্যক্তি জীবন, কর্ম জীবন বা তাঁর তেরো বিয়ে নিয়ে কথা বলা এবং সেই সব খন্ডিত ও অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ সমূহের ভিত্তিতে আজকের সুবিধাজনক সময়ে বসে আল্লাহ পাকের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের যেনতেন ব্যাখা করার চেষ্টা করাটা হবে ভয়ানক অন্যায় এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
লস এঞ্জেলস, ইউএসএ

মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ১:২৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তাই আল্লাহ পাকের ওহীকে ধারণ করার প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের চাইতেও অনেক বেশী শারীরিক শক্তির অধিকারী করে গড়া হয়েছিল রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে। তাঁর শারীরিক শক্তিমত্তার কথা বলতে গিয়ে নবীজী (সাঃ) নিজেই বলেছেন যে তাঁকে ত্রিশজন পূর্ণ স্বাস্থ্যবান যুবকের শক্তি পরিমাণ সামর্থ্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে (বোখারী, মুসলিম)।
ওহি নাজিলের জন্য আল্লাহ্ পাক কেন রাসুল সাঃ ৩০ পুরুষের শক্তি দেবার প্রয়োজন পড়ল আমার ভাবনায় আসেনা। যেহেতু আল্লাহ্ সব পারেন তাই ওহীর ভার লাগব করার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।
আপনারা এই আয়াতকে অপব্যবহার করে দাবি করেন যেহেতু উনার শরীরে ৩০ যুবকের শক্তি ছিল তার জন্য উনার ১১টি বিয়ে ৪টি উপপত্নির দরকার পড়ে।
আচ্ছা রাসুল সাঃ কি কখনও একা ৩০ শত্রু সাথে যুদ্ধ করেছিলেন এমন কোন আয়াত বা হাদিস আছে কি? যেহেতু উনার শরীরে ৩০ জন পুরুষের শক্তিছিল সেহেতু তিনি একা ৩০ জন শত্রু সাথে লড়তে সক্ষম ছিলেন! আছে কি তার কোন প্রমাণ? আমি তো পাইনাই! বরং অহুদের যুদ্ধে যদি সাহাবিরা মানব ঢাল না হতেন তাহলে ইসলামের ইতিহাস হয়তো অন্য ভাবে লেখা হত!
আমি জানতে পারি কি সুলাইমান আঃ উপর কত পারা কোরআন নাজিল হয়েছিল? কারণ সুলাইমান আঃ ৭০০ বিবি আর ৩০০ উপপত্নী ছিল। এবার হিসাব করেন ১৫ জন বিবির জন্য যদি ৩০ জন যুবকের শক্তি রাসুল সাঃ দেয়া হয়েছিল তাহলে ৯০০ জনের জন্য কতজন যুবকের শক্তি সুলাইমান আঃ দেয়া উচিত ছিল! আর উনার উপর কত পারা কোরআন নাজিলের দরকার ছিল?
বিজ্ঞান বলে মানুষের ১১/১২ বছর থেকে শরীরে যৌন চাহিদা জাগ্রত হয়। আর ১৫ -৩০ বছর যৌবনের উদ্দামতা থাকে। ৩০শের পর থেকে ভাটি মারতে থাকে। যে নবী জির ৩০ যুবকের শক্তি সেই নবী বিগত যৌবনা কয়েকটি সন্তানের মাতাকে বিয়ে করে সেই যৌবনে দুর্দম সময় কেমন করে পার করতে পারলেন? বলছেন -- ধর্য্য ধারণ ক্ষমতা ছিল তাই! জীবনের মূল্যবান ১৫ বছর বিগত যৌবনা রমনীর সাথে ধর্য ধারণ করে কাটাতে পারলেন , আর পৌঢ় বয়সের ১০ বছর ধারণ করতে পারলেন না! এ বড় অবাক ব্যাপার!!!
আপনাদের এই সব আজগুজবী কথার জন্য আজ মুসলিমদেরকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার ধারনা আপনি পুরো লিখাটা ভালভাবে না পড়েই মন্তব্য করেছেন। ঠিক মত পড়লে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর যে প্রবন্ধটার মধ্যেই রয়েছে তা বুঝতে পারতেন। যেমন--
‘…সময়, কাল, অবস্থা এবং মিশনকে আমলে না নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ব্যক্তি জীবন, কর্ম জীবন বা তাঁর তেরো বিয়ে নিয়ে কথা বলা এবং সেই সব খন্ডিত ও অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ সমূহের ভিত্তিতে আজকের সুবিধাজনক সময়ে বসে আল্লাহ পাকের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের যেনতেন ব্যাখা করার চেষ্টা করাটা হবে ভয়ানক অন্যায় এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ…’ (শেষ পৃষ্ঠার উপসংহার)
বলাই বাহুল্য, সোলায়মান (আঃ)-এর সময়কাল ছিল ভিন্ন এবং তাঁর সময়ের আহকাম সমূহও ছিল সেই সময়ানুপাতিক। ভিন্ন ভিন্ন নবী-রসূলের জন্যে সব সময়ই ছিল ভিন্ন ভিন্ন আহকাম যদিও তাঁদের মূল মিশন ছিল এক, তথা আল্লাহ পাকের একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা, কথাটা আল-কোরআনেই সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন আল্লাহ পাক স্বয়ং। সুতরাং বুঝতেই পারছে এখানে সোলায়মান (আঃ)-এর উল্লেখ নিতান্তই অপ্রাসংগিক।
এরপরও যদি সোলায়মান (আঃ)-এর শারীরিক শক্তি সম্বন্ধে জানার আগ্রহ থাকে তা হলে অনুগ্রহ করে আল-কোরআনে উনার সম্বন্ধে বর্ণিত আয়াতগুলো পড়ে দেখুন। সেসব আয়াতে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে সোলায়মান (আঃ)-এর আয়ত্বাধীন ছিল বিশালদেহী শক্তিধর জ্বীন/শয়তানেরা যারা সোলায়মান (আঃ)-এর নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য ছিল। আরও বর্ণনা রয়েছে সোলায়মান (আঃ)-এর অমিত শক্তিধর সুবিশাল সেনাবাহিনীর। আল-কোরআনের এইসব আয়াতই কী সোলায়মান (আঃ)-এর শক্তি ও সক্ষমতা সম্বন্ধে ধারণা পাওয়ার জন্যে যথেষ্ট নয়?
আপনি সোলায়মান (আঃ)-এর শক্তির প্রসঙ্গ তুলেছেন বলেই উনার আলোচনাটা করলাম। তবে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে আলোচ্য প্রবন্ধের ক্ষেত্রে সোলায়মান (আঃ)-এর আলাপ একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক, কারণ হলো নবীজী এবং সোলায়মান (আঃ)-এর মধ্যকার ‘টাইম লাইন’।
আপনার অন্যান্য প্রশ্নগুলোর উত্তরও আছে প্রবন্ধের ভেতরেই, যেমন--
‘…তথ্যগুলো থেকে এটা স্পষ্টতঃই বলা চলে যে রসূলুল্লাহ (সাঃ)- কে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অতিরিক্ত শারীরিক শক্তিমত্তার বিষয়টা বিবেচনা করাই আল্লাহ পাকের জন্য যথেষ্ট হতে পারত কিন্তু সূক্ষ্মদর্শী মহান আল্লাহ তা’য়ালা পর্যাপ্ত কারণ থাকার পরও সে পথে যাননি আর তাই প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়স অবধি নবীজীর স্ত্রী ছিলেন মাত্র একজনই। এরদ্বারা আল্লাহ পাক বস্তুতঃপক্ষে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন নিজেদের সহজাত রীপুকে নিয়ন্ত্রনে রাখার উপযোগিতা ও কৌশল। তাই রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অতিরিক্ত বিয়েগুলো যে শুধুমাত্র উম্মতের শিক্ষার প্রয়োজনেই হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না…’ (পৃষ্ঠা-২)
... এই দুই ক্ষেত্রেই রসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন পৌঁছে ছিলেন আদর্শ অবস্থায় ঠিক তখনই তাঁর বিয়ে হয় চল্লিশ বছর বয়স্কা বিধবা নারী হযরত খাদিজা (রাঃ) সাথে।
এখানে লক্ষ্যনীয় যে বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স ও আর্থিক সঙ্গতি বিবেচ্য হলেও নারীর ক্ষেত্রে এই দুটোর কোনটাই বিবেচ্য বিষয় নয়। ব্যপারটা পরিষ্কার করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক ছয় বছরের বালিকা হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে বিয়ে করার মাধ্যমে।’ (পৃষ্ঠা-৪)
‘একই ভাবে রসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর অন্য বিয়েগুলোরও প্রতিটির পেছনেই ছিল এমনই সব আর্থ-সামাজিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসমূহ। আরও ছিল মানুষের ভাবাবেগ ও কল্পনাপ্রসূত কালা-কানুনসমূহের সত্য দর্শন ভিত্তিক সুদূরপ্রসারী সংস্কারের উদ্দেশ্য যা তাঁকে বাস্তবে করে দেখাতে হয়েছিল।’ (পৃষ্ঠা-১১)
‘…রসূল পাকের ছিদ্রান্বেষীদের মত অনুযায়ী তিনি যদি সত্যিই তাঁর শারীরিক চাহিদা মেটাতেই দশের অধিক বিয়ে করে থাকেন তা হলে তিনি তা বহু আগেই করতে পারতেন, পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন দরকার ছিল না।’ (পৃষ্ঠা-১২)
আল্লাহ পাকের কালাম ভিত্তিক যে কোন বিশ্লেষণ ও আলোচনায় যেখানে কোরআন-হাদীস থেকে সুস্পষ্ট উদ্ধৃতি বিদ্যমান সেখানে তার জবাবেও একমাত্র কোরআন-হাদীসের তথ্য-প্রমাণই প্রয়োগযোগ্য ও প্রার্থিত। সেটা না করে ঐসব আলোচনাকে এক কথায় ‘আজগুবী’ বলে উড়িয়ে দেয়া ঐ আলোচনায় বর্ণিত কোরআন-হাদীসের সরাসরি বিরোধিতার সামিল। এব্যপারে আমাদের সবারই সতর্ক হওয়া আবশ্যক।
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ২:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে একটু ত্রুটি আছে। সত্য-মিথ্যা এক পাশে রেখে, হাদিস অনুযায়ী এই কথা নবীজী নিজে বলেননি, কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে এরকম ধারণা করতেন।
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নবীজীর দৈহিক শক্তি সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীসই এখানে স্পষ্ট রেফারেন্সসহ বিস্তাতির উল্লেখ করা হয়েছে। এসংক্রান্ত আরও সহী হাদীস বিদ্যামান যা আমি জানা সত্ত্বেও উল্লেখ করিনি মূল বক্তব্য উপস্থাপনের প্রয়োজনে। এইসব হাদীস এতটাই পরিষ্কার ও স্পষ্ট যে এগুলোর অন্য কোন মানে, অর্থ বা বিশ্লেষণ একেবারেই অসম্ভব। ধন্যবাদ
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ২:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনুগ্রহ করে আমার কথাটা একটু বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার বক্তব্য আবারো কোট করছি,
বোল্ড করা অংশ লক্ষ্য করুন। এর উপর ভিত্তি করে আমি বলেছি হাদিস অনুযায়ী এই কথা নবীজী নিজে বলেননি, কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে এরকম ধারণা পোষণ করতেন। আপনি কিন্তু আপনার বক্তব্যের স্বপক্ষে একটিও হাদিস দেখাতে পারেননি যেখানে নবীজী নিজেই নিজের শারীরিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে উপরের কথা বলেছেন।
“নবীজী নিজেই বলেছেন” আর “নবীজী সম্পর্কে কেউ কেউ ধারণা করত” -- এই দুটি বক্তব্যের অর্থ কিন্তু এক নয়। আশা করি নবীজীর নামে আপনার বক্তব্য শুধরে নেবেন।
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ২:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রায়হান ভাই, উনাকে বলে আর কোন লাভ হবেনা তার চেয়ে আসুন আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই!!! যাতে আল্লাহ্ আমাদেরকে সত্য বুঝার মত ক্ষমতা দান করেন। ধন্যবাদ।
আবদুস সামাদ
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আহসান সাহেব, প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ দেব। ব্যাপার গুলোর সুন্দর বিশ্লেশন করেছেন।
রায়হান ভাইয়ের সাথেও হাদিশে রব্যাপারে দ্বিমত নেই।
"এই সব আজগুজবী কথার জন্য আজ মুসলিমদেরকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে।" মুনিম ভাইয়ের এই কথায় বলতে হয়, এই নানা কথা বলার মধ্যে শিক্ষিত মুসলীমরাই অগ্রগন্য।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই পোস্ট পড়ে আমার মনে হচ্ছে নবী জির বিয়ে নিয়ে বস্তু নিষ্ট ভাবে আমাকেই একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। আসলে জানেন কি আমরা মুসলিমরা ইসলামের যত ক্ষতি করছি অন্যরা ততটুকু করতে পারেনাই।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শুনে ভাল লাগলো যে এবিষয়ে আপনিও লিখবেন। তবে ব্যক্তিগত ভাবে জানাশোনা ছাড়াই আপনি যে ভাবে আমাকে ‘ইসলামের জন্য ক্ষতিকর’ বলে ধারণা করছেন তাতে স্পষ্টতঃই বোঝা যাচ্ছে যে আপনি বস্তুতঃ নিজের ‘নফসের দাস’ এবং ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া আপনার মজ্জাগত। আপনার বক্তব্যের ধরণে আরও স্পষ্ট যে আপনি নিজেকে পোক্ত এবং পরিপক্ক জ্ঞানী বিবেচনা করছেন। তাই যদি হয় তাহলে আল্লাহ পাকের এই আয়াতটা আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেখানে তিনি বলেন, ‘কোন অহংকারী কখনও আমার কালাম বুঝতে সক্ষম হবে না’। এরকম আরও আনেক সুস্পষ্ট বক্তব্য আছে পবিত্র আল কোরআনে যার দ্বারা আল-কোরআনে অতি সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন লোকজনের পক্ষেও বোঝা সম্ভব যে কার আলোচনা গ্রহণযোগ্য আর কারটাইবা বর্জ্যনীয়।
অতএব আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ফোরামের পাঠকদের বুঝতে কোনই অসুবিধা হবে না যে কে বা কারা ইসলামের জন্যে কতটুকু ক্ষতিকর। এব্যপারে কোনই সন্দেহ নেই যে মুসলমান নামধরীদের দ্বারাই সর্বকালে ইসলামের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশী এবং এখনও হচ্ছে। তবে এই সব নামধারীরা কখনই কোখাও টিকতে পারে নি, এখনও পারবেনা, ইনশাআল্লাহ। কারণ আল্লাহ পাক কথা দিয়েছেন যে তাঁর সত্য কালাম/জ্ঞান তিনি নিজেই হেফাযত করবেন।
ধন্যবাদ
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২ at ৫:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জনাব আমি কোন অহংকারি নই। আমি যা বলেছি তা তার মর্ম মূলে আপনি পৌছতে পারেন নাই। আপনার উদ্দেশ্য ঠিক আছে , আপনি দলিল উপস্থাপন ঠিক করেছেন। কিন্তু ব্যখ্যা আপনার জ্ঞান মত করেছেন, যা আপনার কাছে যুক্তিক মনে হয়েছে। কিন্তু জনাব এই নেট কোন ইসলামি জলসা নয় যে এখানে হুজুর যা বলে যাবেন আর হাজিরানরা শুধু শুনে যাবে। এখানে বিভিন্ন ধর্মের লোক তা পড়ে। আর আপনার আমার ব্যাখ্যাকে দলিল বানিয়ে তারা রাসুল সাঃ পবিত্র চরিত্রকে কুলষিত করে। যেমন, ওয়াকিদি তাবারিদের কোন কোন ব্যাখ্যা মুস্লিম ইসলাম মুহাম্মদ সাঃ বুমেরাং হয়ে গেছে!
কাজেই যা উপস্থাপনা করার খুব খেয়াল করে করতে হবে। এই নেটে আমি এক যুগের উপর আমার অভিজ্ঞতা তাই বলছি। আপনার যে উদ্দেশ্য আমাদের সেই এক উদ্দেশ্য ইসলামের দুশমনদের অপপ্রচারের জবাব দেয়া। কিন্তু ভাল করতে গিয়ে যাতে রাসুল সাঃ শানকে প্রশ্ন বিদ্ধ না হয় সে দিকে কড়া খেয়াল রাখা দরকার। ধন্যবাদ।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ২:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বারো বছর বা বারো যুগ লেগে থাকার কারণে কোন পাবলিক নেট কি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে? নাকি সেটা কাউকে অযৌক্তিক ‘ব্লেম গেম’-এর অধিকার দেয়? আমি আপনার কথার একপাতা লিখার মর্ম মূলে যেতে পারলাম না আর আপনি আমার বারো পাতা লিখার মর্ম উদ্ধার করে ফেলেছেন, এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলেন? ইসলামী লেখা দেখলেই কি আপনার জলসার কথা মনে পড়ে নাকি? এই নেটে ইসলাম নিয়ে লিখা যাবে না এমন কোন আইন আছে নাকি? আমার আগের লেখাগুলোও তো ছিল মূলতঃ ইসলাম বিষয়ক, কৈ তখন তো এই ফোরামের কেউ এটাকে জলসা ঘর বলে নি? কোরআন-হাদীস ভিত্তিক যুক্তিময় আলোচনা দেখলেই যাদের মাথা খারাপ হয়ে যায় আপনিও কি সেই দলে নাকি?
‘ইসলামের জন্যে ক্ষতিকর’ সংক্রান্ত আপনার আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে এখন নবীজীর সম্মানের একমাত্র ধারক, বাহক, রক্ষক ও প্রচারক সাজার চেষ্টা করছেন। কিন্তু রেফারেন্স দিতে ভয় পাচ্ছেন কেন? সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমার লিখার কোন শব্দ, কোন বাক্য নবীজীকে কি ভাবে অসম্মান করেছেন তা বিস্তারিত বলুন। যদি না পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই মিথ্যাবাদী এবং ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহূত হবেন।
বড় গলায় অভিজ্ঞতা প্রচার করছেন অথচ কোরআন হাদীসের ব্যাখ্যা করা আর কোরআন-হাদীসের আলোকে কোন ঘটনা, ঘটনাবলী এবং সেসবের কারণ ও পেক্ষাপট আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা যে এক জিনিস নয় সেটা বুঝতে পারছেন বলে মনে হয় না। অথচ আপনিও নাকি একজন লেখক! ব্যপারটা একাধারে দুর্ভাগ্যজনক এবং দুশ্চিন্তার।
ব্যক্তি প্রচারে আপনার আগ্রহ এবং নিজের বক্তব্যে যে ভাবে ঔদ্ধত্যকে লালন করে চলেছেন তাতে আপনার ‘নিরহংকার’-এর দাবী ধোপে টেকে না।
কিন্তু মানব
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মাইনুল ভাই,
শান্ত হন, মিয়া ভাই, আপনে এত উত্তাল হইছেন কেন??
ব্লগ খারাপ জায়গা, এখানে লেখকের চরম সব সমালোচনা হবে, আর তা জেনেই তো লিখতে হবে আমাদের, নাকি কন।
আপনার লেখা পড়ছি, বুঝলাম মুনিম সাবে আপনেরে একটু করা ভাবেই কইছে, আপনে দেখি তাতে পুরাই ফাইটা পরলেন।
কি লিখছেন, দেখেন। কামড়া কামড়ি বন্ধ করেন।
আপনেরে একটু ঐ জোক টা মনে করায়া দেই, মাঘ মাসে কম্বলের ওয়াজ সংক্রান্ত একটা জোক কাছে না, ওইটা মনে করেন। যদি শুইনা না থেকন আওজায় দিয়েন, বয়ান করব।
নাউ কামিং টু ইয়োর পোস্ট পয়েন্ট।
ভাইরে, রাসুল চাঁদ আঙ্গুলের ইশারায় ভাগ করছে, আমরা বিশ্বাস করি, কিন্তু তাই বইলা কি, নীল আরম স্ট্রং মুসলিম বা চাঁদে ফাটল দেখা যায় বলে পোষ্টাব, বা এই খবরের ভিত্তি নাই কিন্তু ইহা সত্য, এটা সব্বাইকে বিশ্বাস করাতে লেগে যাব??? উত্তর হওয়া উচিত না, এই ব্লগ, সদালাপ, অনেক মুক্ত মনার মনো দহন, তথা এসিডিটির কারন, সেইখানে আপনে পোস্টের ফোকাস রাসুলের শারীরিক সক্ষমতা দিয়া শুরু করাটা ঝামেলার হইছে, সত্য কথাও বুইঝা বলতে হয়, আর ইহারেই বলে সম্ভবত গিয়ান, তথা হিকমা।
যাক আমি অভাজন, জ্ঞান কম, কিন্তু মাকড়া কামড়ি দেখতে ভাল লাগে না, তাই এই দু কথা বললাম।
@মুনিম ভাই
ব্যক্তি প্রচারে আপনার আগ্রহ এবং নিজের বক্তব্যে যে ভাবে ঔদ্ধত্যকে লালন করে চলেছেন তাতে আপনার ‘নিরহংকার’-এর দাবী ধোপে টেকে না।
এই কথাটা আমলে নেন, এবং পরবর্তীতে দয়া কইরা একটু বুঝাইয়া লেখেন মন্তব্য, অন্যে যেন ভুল না বুঝে।
সব শেষে ২ "ম" ভাইকে বলি, আপনারা ভাল লোক ভাল থাকেন, আপনাদের জ্ঞান আমাদের সাথে ভাগ করুণ, এই আসাতেই তো ব্লগে ঘুরি।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই কিন্তুমানব সৎ কাজের মাধ্যমে যদি আমি আমার কাজকে অধিক মানুষের কাছে তোলে ধরতে চেষ্টা করি আর তা যদি আপনার কাছে ব্যক্তি প্রচার বলে মনে হয় তাহলে আমার সরি বলা ছাড়া আর কিছু বলার নাই।
যে কারণে আমি এই প্রবন্ধের সমালোচনা করেছিলাম তা হলো এই উক্তি-
আসলে এই উক্তি প্রবন্ধকারের নিজস্ব নয়। তা তিনি পেয়েছেন এখান থেকে-
আর জানেন তো ইসলামের দুশমন রাসুল সাঃ দুশমনরা এই হাদিস নিয়ে কেমন ধুম্রজাল বিস্তারের চেষ্টা করে চলছে!
হাদিসটি লক্ষ্য করুন- এই হাদিস দ্বারা কি রাসুল সাঃ শান বেড়েছে না কমেছে! ইসলামের নবীর কি সারা দিন আর কোন কাজ করার ছিলনা! তিনি কি শুধু ৯ বা ১১ বিবিদের সান্নিদ্ধে দিন কাটিয়ে দিতেন?
হাদিসটি লক্ষ্য করুন -- হাদিসে যখন শারীরিক শক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বিবিদের সাথে যৌন সম্পর্কের ইংগিত দেয়া হচ্ছে! তবে কি রাসুল সাঃ আনাস রাঃকে নিজে তা বর্ণনা করেছিলেন? না রাসুল রাঃ উনার বিবিদের সাথে যখন যৌন সম্পর্ক করেছিলেন তখন আনাস রাঃ নিজ চোখে তা দেখেছিলেন? রাসুল সাঃ মুখ থেকে না শুনে বা কেউ চাক্ষুস না দেখে কি স্বাক্ষি দিতে পারে?
এই হাদিসের মতন যে সঠিক নয় তার প্রমাণ সুরা আহযাবের ৫১ আয়াত।
উপরের আয়াত যখন নাজিল হয় তখন রাসুল সাঃ চার জন বিবি ছিলেন । এবং এই আয়াতের দ্বারা সব স্ত্রীদের সাথে সমান সময় দেবার বাধ্য বাধকতা থেকে আল্লাহ্ রাসুল সঃ অব্যাহতি দিয়েছিলেন। কারণ ঐ সময় ইসলামি নতুন সমাজ আর রাস্ট্র গড়তে জটিল সময় ছিল। রাসুল সাঃ অতি ব্যবস্থায় ঐ সময় কাটাতে হয়েছিল, যার কারণে উনার পক্ষে সব বিবিকে সমান সময় দেবার ক্ষমতা ছিলনা।
অতএব এমন হাদিস তা যদি কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশের বিপক্ষে যায় তাহলে সে হাদিসকে আমরা মেনে নিতে পারি কি?
কিন্তু মানব
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ৮:৩০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভুল বুঝলেন আমাকে মুনিম ভাই, কারন ঐ কথাটি আমার নয়, তা পোস্ট যিনি করেছেন তার, আর একি সাথে দোষ কিছুটা বর্তায় সদালাপ সাইটের টেকনিকেল সমস্যায়। কারন আমি ব্লক কোট করেছিলাম, কিন্তু কি কারনে যেন আসেনি,
আমি আপনাকে সে রকম কিছু মনে করি না।
আর দেখুন, আমিও অনেকটা আপনার সুরেই কথা বলেছি, শুধু একটু নমনীয়তার সাথে।
আমি জানি এই ৩০ জন ফ্যাঁকড়া আমি বহু তর্কে করেছি।
আপনি সুন্দর এক পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, পড়ার আশায় রইলাম।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ৭:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কিন্তু মানব ভাইকে ধন্যবাদ।
নেটে বিবিধ চিন্তা চেতনার লোকজন থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। সেটা মেনেই ওয়েবে লিখি কারণ এখানে পাই দ্রুত মন্তব্য, আলোচনা এবং সমালোচনা। পাওয়া যায় নতুন চিন্তার খোরাক। কিন্তু তাই বলে চুল-চেরা বস্তুনিষ্ট লিখার বিনিময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট ব্যক্তিগত আক্রমণকে বিনা চ্যলেঞ্জে ছেড়ে দিতে রাজী নই। আক্রমনের ভাষাই মূলতঃ নির্ধারণ করে দিয়েছে জবাবের ভাষা। ওখানে রাগ-বিরাগের কোন বিষয় নেই।
লক্ষ্য করবেন আমার প্রবন্ধের পুরোটা জুড়ে আছে বিয়েকে ইসলাম যে কিভাবে সামাজিক দায় ও দায়িত্ববোধের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে তার তথ্যবহুল আলোচনা। রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অতিরিক্ত বিয়েগুলো যে শুধুমাত্র উম্মতের শিক্ষার প্রয়োজনে, উম্মতের সম্মুখে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ সৃষ্টির জন্যেই হয়েছিল সেটা প্রমাণ করতে গিয়েই এসেছে নবীজীর শারীরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ।
অথচ সিদ্দিকী সাহেব সেখানে আবিষ্কার করেছেন যৌনতা। টেনে এনেছেন সোলায়মান (আঃ)-এর ৭০০ বিবি-উপবিবি। এমন কি যথাযথ জবাব দেয়ার পরও আবারও লাইন-ঘাট ছাড়ায়ে আক্রমন করেছেন ব্যক্তিগত ভাবে এবং এখনও পড়ে আছেন সেই যৌনতা নিয়েই। অথচ চরম বাস্তবতা হলো যৌনতার ধারে কাছেরও কোন আলোচনা নেই আমার প্রবন্ধে।
এ ধরণের লোকদেরকে আমাদের কারোরই খালি ময়দানে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না।
কিন্তু মানব
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ৮:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যদি ভুল করি বলার কিছু নাই,
আসলে শারীরিক সক্ষমতার ব্যপারটি দিয়ে আপনি দীর্ঘ পোস্টের সুচনাটি করেছেন, যদিও পরে দেখা গেল তা গৌন, কিন্তু প্রথম আলোতো পড়ল, রাসুলের শারীরিক সক্ষমতার উপরেই, তাই না।
নাটক, মুভি, বক্তব্য, ব্লগ সব যায়গাতেই, আমরা চাইলে যে কোন ঘটনাকে নানা দিকের দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে আলোকিত করতে পারি বা ফোকাস করতে পারি, আপনার পোস্টের প্রথম ফোকাসটা শারীরিক সক্ষমতার দিকে নিয়ে পোস্টের মূল ফোকাসের দিকটা ফিকে হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে, সেম বক্তব্য আপনি একটু অন্য ভাবে, মাঝে নিয়ে আসলে কারো কিছু বলার থাকত না, এই টুকুই বুঝেছি আমি।
তবে ব্লগার আপনি, তাই আপনি কিভাবে লিখবেন তা আপনার ব্যক্তি গত ব্যপার। আমি শুধু আপন ভেবে এইটুকু বললাম, বাকি আপনি ভাল জানেন, দোয়া ও আরো সুন্দর ব্লগের আশা রাখলাম আপনার কাছে।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বুঝেছি বিধিবাম! আচ্ছা বলেন তো এই লোকের নবুওতী লাভ করে নাই! তাহলে সে কেমন করে ৩৯ বউ এর জন্য শক্তি পেল!!!! http://www.dailymail.co.uk/news/article-1358654/The-worlds-biggest-family-Ziona-Chan-39-wives-94-children-33-grandchildren.html
হ্যা আপনার সব কথার জবাব আমি দেব। অপেক্ষা করেন। সময় মতো বান্দা হাজির হব। আমি তো আর পরের মুখে ঝাল খেয়ে গাল লাল করিনা। তবে তার আগে আপনাকে একটি ছোট ঈশারা দিয়ে যাচ্ছি=
একদিন দারুল হানাতীনে ইমাম আবু হানীফা ও আওযায়ী রঃ একত্রিত হয়ে ইলমী আলোচনা করতে ছিলেন। ইমাম আওযায়ী ইমাম আবু হানীফা রঃ কে জিজ্ঞাস করেন- আপনারা রুকুর সময় এবং রুকু থেকে উঠার সময় হাত উঠান না কেন?
হানীফা রঃ জানালেন- আমি রাসুল সাঃ থেকে এই সম্পর্কে কোন প্রমাণ পাইনি তাই হাত উঠাইনা।
ইমাম আওযায়ী তখন এক হাদিস শুনিয়ে দিলেন যে- ইমাম যুহুরী সালেম থেকে, সালেম তার পিতা থেকে শুনেছেন যে- রাসুল সঃ নামাজের রুকুর সময় এবং রুকু থেকে উঠার সময় হাত উঠাতেন।
জবাবে ইমাম হানীফা রঃ বলেন- আমি হাম্মাদ ইব্রাহিম থেকে হাম্মাদ ইব্রাহিম আলকামা ও আসয়াদ থেকে, উনারা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে জানাচ্ছেন যে- রাসুল সাঃ কে রুকুর সময় এবং রুকু থেকে উঠার সময় হাত উঠাতে দেখেন নাই!
ইমাম আওযায়ী বলেন- আমি আপনাকে যুহরী, সালেম ও ইবনে উমরের বর্ণনা শুনাচ্ছি আর আপনি শুনাচ্ছেন হাম্মাদ ইব্রাহিম থেকে!!!
জবাবে ইমাম আবু হানিফা রঃ বলেন- হাম্মাদ যুহুরীর তোলনায় অধিক ফকীহ ছিলেন! ইবনে উমর যেমন সাহাবী তেমনি আলকামাও সাহাবী ছিলেন এবং ইবনে উমরের চেয়ে উনার জ্ঞান কম ছিলনা! আর আসওয়াদের তো অনেক ফযীলত রয়েছে!!!!!
ভাই আমার বিশ্বাস আপনি এই যুগের নায়েবে নবী। আল্লাহপাক বহু আগে উনার এক নবীকে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছিলেন- তখন আল্লাহ্ সেই নবীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে- ফেরাউনের মত কাফিরের সাথে যেন ভালভাবে কথা বলেন। আর আমি তো ফেরাউন নই। আমার তো ঈমান আছে বলে আজ ইসলামের পক্ষে লড়াই ময়দানে আছি। কিন্তু আপনি যে ভাবে আমার প্রতি ব্যবহার করতেছেন তা তো আল্লাহর সুনানের বাইরে চলে যাচ্ছেন।
আমাকে বলছেন অহংকারী ঠিক আছে তবে আপনি রেগে গিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করবেন না প্লিজ!
আর আমি যখন কথা দিয়েছি যে, নবী সাঃ বিয়ে নিয়ে লিখব তখন আল্লাহ্ যদি আমার মনোবাঞ্চনা পূর্ণ করার তৌফিক দেন তো অবশ্যই এই সদালাপে দেখতে পাবেন।
আপনার সাথে এই বিষয় নিয়ে শেষ কথা। অজান্তে মনে দুঃখ দিয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।
আইভি
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ১০:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নবীকে নিয়ে বানানো, প্রমাণহীন, এবং যুক্তিহীন যুক্তি আর ভালো লাগে না।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ১০:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@কিন্তুমানব,
আমার মনে যা আসে তাই প্রকাশ করে ফেলি। আর তাতে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি হলেও শেষে ভুলের ভুল ভেঙ্গে যায়!
মাইনুল আহসান সাহেবও আমাকে ভুল বুঝেছেন। বুঝতে পেরেছি তিনি আমার কথা প্রকাশ করার ভঙ্গির সাথে পরিচিত নন। আশা করি আপনাদের মত তিনিও এক সময় বুঝতে পারবেন আমরা সবাই এক পথের পথিক। উদ্দেশ্য এক। ধন্যবাদ।
আইভি
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২ at ১০:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি লিখেছেন, “তাঁর শারীরিক শক্তিমত্তার কথা বলতে গিয়ে নবীজী (সাঃ) নিজেই বলেছেন যে তাঁকে ত্রিশজন পূর্ণ স্বাস্থ্যবান যুবকের শক্তি পরিমাণ সামর্থ্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে (বোখারী, মুসলিম)।“
আরো লিখেছেন,
“আল্লাহ পাকের কালাম ভিত্তিক যে কোন বিশ্লেষণ ও আলোচনায় যেখানে কোরআন-হাদীস থেকে সুস্পষ্ট উদ্ধৃতি বিদ্যমান সেখানে তার জবাবেও একমাত্র কোরআন-হাদীসের তথ্য-প্রমাণই প্রয়োগযোগ্য ও প্রার্থিত।“
--এবার কোরান থেকে একটা আয়াত দেখান, যেখানে তাঁর শারিরীক শক্তির কথা বলা আছে। হাদিস অনেক বিতর্কিত, অপ্রমাণিত ইতিহাস, অনেক যুক্তিহীন কথার মালা-যার কোন নথি-পত্রও নেই, ছয়-সাত জেনারেশন ধরে শোনা কথা। আর যারা এসব হাদিস শুনিয়ে বেড়িয়েছেন তারাও এমন কোন নির্ভর যোগ্য সূত্র নয়। তারা ইসলামকে মনে ধারন করেছিলেন কিনা, তারও কোন প্রমাণ নেই। ক্ষমতার পলিটিক্স, সব সময়েই ছিল। ইমামদের মধ্যেও কোন সুস্পর্ক ছিল না। ইমাম বোখারী, তিনি কে- কোন নিক্তিতে তার কথাই সহী ধরা হয়? তার সব লেখাই তো শোনা কথার উপর ভিত্তি করে লেখা। তার অনেক হাদিসই তো কোরানের বিপরীত! কি করবেন সেইসব হাদিস নিয়ে!!
কিন্তু মানব
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ১:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটা পরম করুণাময় আল্লাহ পাকের একান্ত দয়া যে তিনি আমাকে নবীজীর বহুবিয়ের মত জটিল এবং অতি বিতর্কিত বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছেন এবং অনুগ্রহ করেছেন সঠিক যুক্তি ও তথ্যবহুল লেখনীর মাধ্যমে তা জনমানুষের কাছে তুলে ধরতে। আলহামদলিল্লাহ। ছুম্মা আলহামদলিল্লাহ।
আল্লাহ পাকের দয়ার দান আমি প্রকাশ করতে বাধ্য কারণ তা না হলে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। আর এভাবেই আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা তাকেই নির্ধারিত করে থাকেন তাঁর বক্তব্য প্রচারের জন্য এবং তিনি তাঁর বিষয়াদির সুস্পষ্ট প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তা সেটা তাঁর শক্রদের যতই মনঃপীড়ার কারণ হোক না কেন। এসব আমার কথা নয়, আল-কোরআনের কথা।
নবীজীর বিয়ে সংক্রান্ত এই বিশ্লেষণ প্রচারের এটাই সময় কারণ তা না হলে তসলিমা নাসরিনদের মত ধান্ধাবাজদেরকে ফাঁকা মাঠ গরম করার সুযোগ করে দেয়া হবে এবং এদেরকে চ্যলেঞ্জ বিহীন ছেড়ে দেয়ার জন্যে আমরা হবো গুনাহগার।
বলেছেন অযৌক্তিক লিখা। বানোয়াট তথ্য। অনুগ্রহ করে লিখাটা আবারও পড়ুন। যেসব যুক্তি খুঁজছেন তার সবই ঐ প্রবন্ধে বিদ্যমান।
নবীজী সা-এর দৈহিক শক্তি সংক্রান্ত কোরআনের ভিত্তি জানতে চেয়েছেন। লক্ষ্য করুন ঐ সব আয়াত যেখানে নবীজীর জন্যে অতিরিক্ত ইবাদতের কথা বলা হয়েছে। তারপর লক্ষ্য করুন আল্লাহ পাকের ঐ বাণী যেখানে তিনি মানুষকে নিশ্চিত করে বলেছেন যে তিনি কখনও কাউকে তার সামর্খ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব/সমস্যা দেন না। অতএব নবীজীর ঐ সমস্ত অতিরিক্ত ইবাদত ছিল তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যের অনুপাতিক, অর্থাৎ তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ছিল সাধারণের থেকে ভিন্ন। আর সেই সক্ষমতার ব্যাপ্তী যে কতটুকু ছিল তারই বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে উল্লেখিত হাদীসগুলোতে। অতএব ঐ হাদীসগুলো যথার্থ কারণ সেগুলোর সুস্পষ্ট ভিত্তি আল-কোরআনে বিদ্যমান।
একই ভাবে সিহা-সিত্তা তথা হাদীসের সর্বজন স্বীকৃত যে ছয়টি গ্রন্থ আছে তার প্রতিটির প্রতিটি হাদীসেরই সুস্পষ্ট ভিত্তি বিদ্যমান পবিত্র আল-কোরআনে। এইসব লিংক বুঝতে হলে কোরআন পড়তে হবে বেশী করে। নিজের মন মত আয়াত খুঁজে ফেরা মানে কোরআন পড়া নয়। সেটা বস্তুতঃ নিজের মনের খায়েস মেটানোর চেষ্টা করা তথা নফসের দাসত্ব করা মাত্র। সেজন্যেই যেসব আয়াতের উল্লেখ এখানে করেছি সেগুলোর রেফারেন্স দেই নি। নিজে কোরআনে পড়ে সেসব বের করে নিন। রেডিমেট পাওয়ার চাইতে কষ্ট করে পাওয়ার অনন্দ ও লাভ দু’টোই বেশী।
ইদানীং বোখারী শরীফের মত গ্রন্থের হাদীস অস্বীকার করাটাও একটা ফ্যশান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সিহা-সিত্তার কোন হাদীস চ্যলেঞ্জ করার মত জ্ঞানী-গুণী, বুজুর্গ-আলেম যে এ যুগে হওয়া সম্ভব না এই চরম সত্যটা একটা মূর্খেরও বুঝতে না পারার কথা নয়। তাই এসব যে ইসলামের বর্তমান শত্রুদের ডিজিটাল চক্রান্ত ও কারসাজী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব বাঁচার একমাত্র পথ প্রতিনিয়ত আল্লাহ পাকের আশ্রয় প্রার্থনা করা। আল্লাহ পাকের কাছে কায়মনবাক্যে দিনমান প্রার্থনা করতে থাকুন, দেখবেন হাদীস সংক্রান্ত সব সন্দেহ কেটে গেছে এবং এসব লিখা বুঝতেও আর কোন অসুবিধা হচ্ছে না। আপনাকে ধন্যবাদ।
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিচ্ছিন্নভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে জবাব না দিয়ে যার মন্তব্যের জবাব দিচ্ছেন তার মন্তব্যে রিপ্লাই বাটন চেপে জবাব দিলে পাঠকদের জন্য বুঝতে সুবিধা হতো।
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কিছু মনে করবেন না। আপনার এই কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা সাধারণত ধর্মগ্রন্থ থেকে রেফারেন্স ছাড়াই সুন্দর সুন্দর কথা বলে তাদের ধর্মের নামে চলিয়ে দেয়। এমনকি নাস্তিকরাও রেফারেন্স ছাড়া নাস্তিকতার নামে অনেক ভাল ভাল কথা বলে! কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে তার দরকার নাই। কষ্ট করে হলেও আমাদেরকে রেফারেন্স দেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যেটি একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক নিয়মও বটে।
নোটঃ আপনি যথেষ্ট পরিশ্রম করে লেখাটি তৈরি করেছেন। এজন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে কেউ কিন্তু আপনার পুরো লেখা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন না।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ১০:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক ধন্যবাদ রায়হান ভাই। লিখাটা আসলে চার পর্বের একটা সুবিস্তৃত রচনার তৃতীয় পর্ব। পড়ার সুবিধার্থে প্রকাশ করছি ছোট ছোট অংশে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এটা লিখতে আমার কোনই কষ্ট হয় নি। পরিশ্রমও টের পাই নি। কারণ সেখানে আল্লাহ পাকের অমিত রহমতের প্রকাশ ছিল খুবই সুস্পষ্ট।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।
আইভি
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
“একই ভাবে সিহা-সিত্তা তথা হাদীসের সর্বজন স্বীকৃত যে ছয়টি গ্রন্থ আছে তার প্রতিটির প্রতিটি হাদীসেরই সুস্পষ্ট ভিত্তি বিদ্যমান পবিত্র আল-কোরআনে।“
--আপনার এই কথাটা সত্য না।
“ইদানীং বোখারী শরীফের মত গ্রন্থের হাদীস অস্বীকার করাটাও একটা ফ্যশান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সিহা-সিত্তার কোন হাদীস চ্যলেঞ্জ করার মত জ্ঞানী-গুণী, বুজুর্গ-আলেম যে এ যুগে হওয়া সম্ভব না এই চরম সত্যটা একটা মূর্খেরও বুঝতে না পারার কথা নয়। তাই এসব যে ইসলামের বর্তমান শত্রুদের ডিজিটাল চক্রান্ত ও কারসাজী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।“
--বাঃ দারুন যুক্তি! উলটো তো বলতে পারি, আপনারাই ইসলামের উল্টা-পাল্টা ব্যখ্যা দিয়ে ইসলামকে ধর্ম হিসেবে চালিয় দিচ্ছেন। ইসলাম হচ্ছে জীবন ব্যবস্হা-the way life should be. নবীর নামের আগে পিছেও তো এত টাইটেল নেই, অথচ এই সব জ্ঞানী-গুনী বুজুর্গ-আলেমদের এত এত লম্বা টাইটেল কে দিল? বিভিন্ন হাদিসবইয়ের প্রথমে এই জ্ঞানী বক্তিদের জ্ঞানের কথা, ফযীলতের কিথা এমনভাবে লেখা হয় যে, কিভাবে তারা জ্ঞান সাধন করেছেন, কোন নিক্তিতে তাদের এত জ্ঞানী ভাবা হচ্ছে তার কোন জবাব নেই।
“এখানে বিশেষ ভাবে আরও উল্লেখ্য যে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে প্রায় দশ বছর সংসার করার পরও হযরত আয়েশা (রাঃ) কোন সন্তানাদি না হওয়ার দ্বারা এটাও প্রতিষ্ঠিত হয় যে দম্পতিদের অধিকার আছে নিজেদের প্রয়োজন মাফিক পরিকল্পনা করে সন্তান নেয়া বা না নেয়ার। তবে এজন্যে তাদেরকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে প্রাকৃতিক ‘জন্মনিয়ন্ত্রন’ পদ্ধতি।“
--কে প্রতিষ্ঠা করলো? আপনি না হাদিস ব্যাখ্যাকারীরা? তসলীমা নাসরিনদের শায়েস্তা করতে নতুন নতুন ফতোয়া।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আইভি আপনার সাথে আমার পরিচয় নেই । মানে আপনার ধ্যান ধারণার সাথে পরিচয় নেই সদালাপে আমি নতুন। দয়াকরে আমাকে কি স্পষ্ট করবেন আমি কি সে বিশ্বাস করেন।
আমি আপনার সাথে একশত ভাগ এক মত উপরের মন্তব্য যিনি করেছেন তিনি হয় ইতিহাস জানেন না, না হয় ভুল জানেন, আর না হয় নিজের মত করে ইতিহাস ব্যাখ্যা করেছেন। এইটি না কোরআনের কথা না হাদিসের কথা।
এইটি চরম মিথ্যা কথা। যার সাথে সত্যের কোন মিল নেই। ধন্যবাদ।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৯:৩০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনুগ্রহ করে হযরত আয়শা (রাঃ)-এর সন্তানাদির নাম ও জন্ম সাল জানাবেন কি? সঠিক তথ্যের জন্যে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো এবং সে মতে সংশোধিত হতে এক মূহুর্ত দেরী করবো না, ইনশাআল্লাহ।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৯:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাইনুল ভাই, সালাম, আল্লাহর ওয়াস্তে বিষয়টিকে ব্যক্তি আক্রমণ হিসাবে দেখবেন না ভাই! আপনার মত উচ্চ শিক্ষত লোকদের সাথে বাহাস করার মত যোগ্যতা আমার নাই।
আমি জানি আপনি আল্লাহ্, রাসুল, কোরআন ইসলামকে ভালবাসেন বলে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জেহাদে শরীক হয়েছেন। আমিও ঠিক একই কারণে বাংলা ব্লগে আছি।
আপনি দাবি করছেন যে আয়েশা রাঃ সন্তান না নেয়ার মানে হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনার সুন্নাহ!
আসলে কি ইতিহাসে তা বলে মাইনুল ভাই! মা আয়েশা একটি সন্তানের জন্য কত যে লালায়ীত ছিলেন তা ইতিহাসের ভাজে ভাজে পাওয়া যায়। এমন কি উনার এই দূঃখ বোধকে লাগব করতে রাসুল সাঃ অনেক চেষ্টা নিয়েছিলেন। উনাকে কুনিয়া পর্যন্ত দিয়েছেল। এমন কি অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তান হিসাবে পার্মিশন রাসুল সাঃ কাছ থেকে আদায় করেছিলেন। যা রাসুল সাঃ এর অন্য স্ত্রীদের দেয়া হয় নাই। এই নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ভাই আরেক প্রবন্ধ লিখতে হবে।
তবে বটম লাইন হচ্ছে যে, রাসুল সাঃ ইচ্ছা এবং উনার অন্যান্য স্ত্রীদের শারীরিক সক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও আল্লাহর ইচ্ছা ছিলনা বিধায় কারো কোন সন্তান হয় নাই। শুধু খাদিজা রাঃ ও মারিয়া রাঃ ব্যতিক্রম। এখানে রাসুল সাঃ বা আয়েশা রাঃ কোন পরিকল্পনা ছিলনা।
ভাই ভাল থাকুন। আমার কথা দ্বারা দূঃখ পেলে আমাকে ক্ষমা করুন।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ১০:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটাকে একেবারেই ব্যক্তিগত ভাবে নেই নি। আমারও ভুল হতে পারে ধারণা করেছিলাম।
পরিবার পরিকল্পনা সুন্নাহ কিনা সেটা বলার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার নেই। তবে সুন্নাহর বিতর্কে না গিয়েও নবীজীর তেরো বিয়ে থেকে ৬/৭ টি সন্তান লাভ যে পরিকল্পিত পারিবারিক কাঠামোর প্রতি আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির নির্দেশনা দেয় তা বোধহয় নিঃসন্দেহেই বলা যায়। বস্তুতঃপক্ষে সেটা তুলে ধরাই আমার মূল লক্ষ্য।
আমাকে উচ্চ শিক্ষিত মনে না করে বরং নবীশ বলতে পারেন। আমার লিখা থেকে কেউ হয়তো আরো ব্যপক চিন্তার খোরাক পাবে এবং আমাদেরকে আরও গভীর কোন বিষয়াদি উপহার দেবে সেটাই আমার উদ্দেশ্য। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ নেটটাকে সব সময় উজ্জিবীত করে রাখার জন্য।
আইভি
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১২ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মুনিম সিদ্দিকী, মানব,
আমি আমার এই কথা গুলি আগেও বলেছি এখনো বলছি-- এগুলো আমার কথা, কারো উপর চাপিয়ে দিচ্ছিনা। আমি হাদিস বিরোধী না তবে হাদিসকে authentic বা সহী হিসেবে গুরুত্ব দিতে সংশয়ী। যে হাদিসগুলো কোরানের বিরুদ্ধে যায় সেগুলো আমি মেনে নিতে রাজি নই। আপনারা জানেন যে, কোরানকে আমরা পরিপূর্ণ বই (মানযালিকাল কিতাবু) হিসেবে পায়েছি, সেক্ষেত্রে কতিপয় হাদিস অনুযায়ী কিভাবে নবীর মৃত্যূর পর কোরান সংরক্ষিত হয়েছ, ছাগলের খেজুর পাতায় লেখা দু’টো আয়াত খেয়ে ফেলা --হাদিসগুলো মেনে নেয়া অসম্ভব। যেখানে কোরানে নবীর সাহাবীদিগকে যোগ্য সঙ্গী হিসেব উল্লেখ আছে, সেখানে তার মৃত্যূর সময় এবং মৃত্যূ পরবর্তী সঙ্গীদের মধ্যে যে মতবিরোধ বর্ণনা হাদিসে দেয়া আছে তা কোরানেরই পরিপন্হী। এমনকি একজন নবী হিসেবে মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে যা বলা আছে কোরানে, হাদিসের আলোকে আমরা সেই নবী মুহম্মদকে খুঁজে পাই না। একটি হাদিস উদাহরণ হিসেবে দেই আরেকটু পরিস্কারভাবে আমার কথা বোঝানোর জন্য। বুখারী (Ref: 9.130) : আনাস বিন মালিক কতৃক বণির্ত যে,আল্লাহ্র মেসেঞ্জার প্রায়ই Um Haram bint Milhan কাছে বেড়াতে যেতেন এবং সে ছিল Ubada bin As-Samit এর স্ত্রী। একদিন নবী তার সাথে দেখা করতে গেলেন এবং তিনি তাকে খাওয়ানোর পর মাথার উঁকুন বাছতে লাগলেন (পরস্ত্রী কি এই ভাবে মেহমানদারী করে!)। আল্লাহর নবী ঘুমিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে জেগে উঠলেন—।
এটা সত্যি কল্পনা করা কষ্ট যে নবীজিকে আরেক জনের স্ত্রী উঁকুন বেছে দিচ্ছে, যেখানে কোরান বিশ্বাসী নারী-পুরুষ কে দৃষ্টি এবং আচরনকে সংযম করতে বলেছে। সেখানে এই হাদীসটি দিব্যি পর পুরুষ এবং পর নারীর ঘটনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই হাদিসের মানে কি? এই হাদিসের প্রচারক অবশ্যই দায়বদ্ধ তার হাদিস প্রচার-প্রসারের জন্য। যারা ইসলামের দলিল বা হাদিস লিখেছেন তাদের প্রতিটি কাজ অবশ্যই দেখা উচিত কোরান, যুক্তি, বিচারশক্তি এবং বুদ্ধির (common-sense)মাদ্ধমে। হযরত উমর বলেছিলেন, আল্লহর বই-ই আমাদের জন্য যথেশষ্ট। আমি মনে করি নবীর যোগ্য সঙ্গী হিসেবে তাঁর এই কথাটি আমরা মেনে চলতে পারি। আমরা যতদিন ভাবব যে হাদিস ছাড়া আমদের দ্বীন অসম্পূর্ণ, তত বেশিদিন আমাদের এই ভুলের বোঝা বয়ে চলতে হবে। কোরানকে আমরা সার্বজনীন জানি। তাই ইসলামিক শিক্ষাটা হাদিস নির্ভর হওয়া উচিত না।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১২ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি আমার এই কথা গুলি আগেও বলেছি এখনো বলছি— এগুলো আমার কথা, কারো উপর চাপিয়ে দিচ্ছিনা।
শুনে ভাল লাগল। কোন কিছুই চাপিয়ে দেয়া কারো জন্য উচিত নয়। চাপাতে গেলে হীতে বিপরীত হতে বাধ্য। এই সব বিষয় বুঝার ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। আর বুঝা-বুঝির ক্ষমতা,পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ, ধর্মীয় পরিবেশ, শিক্ষা দীক্ষা আর ব্যক্তির ধারণ ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।
আমি হাদিস বিরোধী না
জেনে খুশি হলাম।
তবে হাদিসকে authentic বা সহী হিসেবে গুরুত্ব দিতে সংশয়ী।
তা যদি অধিকাংশ বিজ্ঞ আলেম উলামায়ে কেরামগণ ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে উক্ত হাদিসটি সহী বলে রায় দেবার পরও কি আপনি সংশয়ী!
যে হাদিসগুলো কোরানের বিরুদ্ধে যায় সেগুলো আমি মেনে নিতে রাজি নই।
আমিও এর সাথে শতভাগ এক মত।
আপনারা জানেন যে, কোরানকে আমরা পরিপূর্ণ বই (মানযালিকাল কিতাবু) হিসেবে পায়েছি,
প্রথমতঃ এই পরিপূর্ণ শব্দটি বিস্তর ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। আমি মনে করি পরিপূর্ণ বলতে এক কাপ পরিপূর্ণ চা যে ভাবে আমাদের দৃষ্টি গ্রাহ্য বা ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য বোধ লাভ হয় , আল কোরআনের বেলায় সে রকম নয়।
২য়তঃ মুসা নবী যে ভাবে তৌরাত লাভ করেছিলেন আল কোরআন কিন্তু মুহাম্মস সাঃ সে ভাবে লাভ করেন নাই।
৩য়তঃ আল কোরআনের আয়াত গুলো নাজিল হয়েছিল নবী সাঃ ২৩ বছরের মিশনকে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে দিক নির্দেশনা দিয়ে দিয়ে।
৪র্থঃ কাজেই আল কোরআনের প্রতিটি আয়াত নাজিলের পিছনে এক বা একাধিক কারণ বিদ্যমান ছিল।
৫মঃ সেই নাজিল কৃত বিদ্যমান কারণে যে ব্যক্তি বা যে দল বা যে সমস্যা বা যার উপর বা যে সময়ে ঐ আয়াত নাজিল হয়েছিল, তা কিন্তু আল কোরআনে উল্লেখ নাই।
৬ষ্ঠঃ যে কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে যাচাই বাচাই করে তার কার্যকারণ নির্ণয় করতে হলে অবশ্যই মূল পটভুমিকে জানতে হবে, নতুবা একই আয়াত ভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন ভাবে বুঝে নিতে পারে।
৭মঃ আল্লাহ আমাদেরকে উনার নাজিল কৃত আয়াতের আমাদের মত মতো ব্যাখ্যা করার অধিকার দেন নাই।
৮মঃ আল কোরআনে বার বার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আল কোরআনের ব্যাখ্যা একমাত্র দেবার অধিকার মুহাম্মদ সাঃ এর। তাই অন্য কারো ব্যাখ্যা বৈধতা পেতে পারেনা।
৯মঃ আল কোরআন আমাদের জানায় যে, ওহী মাতলুর সব ওহী কোরআনে সংরক্ষিত নয়। কিছু কিছু মুহাম্মদ সাঃ কাজে রক্ষিত ছিল। যদি এই হয় তাহলে আপনার দাবি মান যালিকাল কিতাবুকে আপনি অবশ্য অন্য রকম ব্যাখ্যা করতে তো হবে!
সেক্ষেত্রে কতিপয় হাদিস অনুযায়ী কিভাবে নবীর মৃত্যূর পর কোরান সংরক্ষিত হয়েছ,
আমরা ইতিহাস থেকে আলেমদের সর্ব সম্মত ঐক্যের মাধ্যমে জানি যে- আল কোরআনের আয়াত ফিরিস্তা মারফত রাসুল সাঃ কালব মুবারকে পৌছার সাথে সাথে আসাহাবায়ে সুফফার ৭০/৮০ জন হাফিজ তা তাদের কলবে মুখস্ত ভাবে সংরক্ষিত করে রাখতেন। সাথে সাথে সেই সময়ে যা পাওয়া যেত সেখানে রেকর্ড করেও রাখা হয়েছিল। এতেই প্রমাণ হয় কোরআন রাসুল সাঃ জীবিত অবস্থায় সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছিল। নবীর মৃত্যুর পর যা করা হয়েছে, তাহল বিভিন্ন ওয়েতে সংরক্ষিত করা কোরআনকে একক গ্রন্থে গ্রন্থিত বা সংকলিত করা হয়েছিল। আবার বলছি সংকলিত করা হয়েছিল যা কে কোন অবস্থায় সংরক্ষিত বলা যাবেনা। মানে বেটার ওয়ে সংরক্ষিত করা। এখন যেমন কাগজ কলম কালি ছাড়া বেটার ওয়েতে পেন্ড্রাইভ বা সার্ভারে সংরক্ষিত করা হচ্ছে। যুগের উত্তরণে আগামীতে আর কত উন্নত উপায়ে তা সংরক্ষিত হতে থাকবে।
ছাগলের খেজুর পাতায় লেখা দু’টো আয়াত খেয়ে ফেলা —হাদিসগুলো মেনে নেয়া অসম্ভব।
কেন অসম্ভব? কোরআন যদি ঘুণপোকা খেয়ে নষ্ট করতে পারে , আগুনে পুড়তে পারে তাহলে ছাগলে খেতে পারবেনা না কেন? তবে হ্যা আমি আপনার সাথে একমত হাদিসটিতে বলা হচ্ছে যে রজমের আয়াত আসহাবে সুফফার কারো কণ্ঠস্ত ছিলনা না তা মেনে নেয়া যায় না। যেহেতু উমর রাঃ এই আয়াতের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তাই উমর জানলে আরো অনেকে এই আয়াত জানতেন। তাই ছাগলের লিখা পাতা খেয়ে ফেললেও সেই আয়াত উধাও হয়ে যাবার কথা নয়। তবে এইটি মানা যায় যে- বেশ কিছু ওহী মাতলু যে ভাবে আল কোরআনে বাণী বদ্ধ করা হয়নাই সে আয়াতটিকেও বাণী বদ্ধ করা হয় নাই। তবে যে আয়াতটি বাতিল বা কোরআনে পাওয়া যায়না তা কি কার্যকর থাকতে পারে কি পারেনা তা নিয়ে মত ভেদ থাকতে পারে।
যেখানে কোরানে নবীর সাহাবীদিগকে যোগ্য সঙ্গী হিসেব উল্লেখ আছে, সেখানে তার মৃত্যূর সময় এবং মৃত্যূ পরবর্তী সঙ্গীদের মধ্যে যে মতবিরোধ বর্ণনা হাদিসে দেয়া আছে তা কোরানেরই পরিপন্হী।
আল কোরআনে সংগত কারণে সাহাবীদের সমালোচনা বা তাদের নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতে নিষেধ করার অর্থ কি এই উনারা মানবীয় স্বভাবের বাইরের কেউ ছিলেন? তারা উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হলেও গুণ আর দোষের বাইরে ছিলেন না। যা আল কোরআনের বহু আয়াতে উল্লেখ আছে।
এমনকি একজন নবী হিসেবে মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে যা বলা আছে কোরানে, হাদিসের আলোকে আমরা সেই নবী মুহম্মদকে খুঁজে পাই না।
আল কোরআনে যেমন প্রথম দিকে নাজিল কৃত আয়াত শেষের দিকে এসে পরিপূর্নতা লাভ করায় প্রথমদিকের আদেশ হুকুম পালন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তেমনি প্রথম দিকের হাদিসকে শেষ দিকের হাদিস অব্যাহতি দিয়েছে। একটি কথা মনে রাখা দরকার যে মুহাম্মদ সাঃ অন্য কোন গ্রহ থেকে আসেন নাই। তিনি যে সমাজে যে পারিবেশ জন্ম নিয়েছিলেন সে সমাজ এবং পরিবেশের উর্ধে তিনি এক নিমিষে পার হয়ে যান নাই। তাই হাদিসে তখনকার সমাজ পরিবেশের সাথে খাপ খায় এমন হাদিস উল্লেখ পাওয়া যায়। তাই আমাদেরকে সকল হাদিসে আমল করতে হবে এমন দাবি তো করা হচ্ছেনা। তাছাড়া আল কোরআনের বিপক্ষে যায় এমন হাদিস মেনে নেবার কথা কেউ বলছেন না। তবে যে হাদিস মুহাম্মদ সাঃ থেকে এসেছে তা কোরআনের উলটা হতে পারেনা। আর কোরআন যেমন করে সংক্ষিপ্ত ভাবে স্বারমর্ম উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি হাদিস গুলোতেও সংক্ষিপ্ত ভাবে ইতিহাস উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন বুঝার জন্য যেমন নাজিলের ঘটনা জানা প্রয়োজন তেমনি হাদিস বুঝার জন্য তার প্রেক্ষিত জানাও প্রয়োজন। আর এই না জানার জন্য অনেক সময় আমাদের মনে হাদিসকে কোরআনের বৈপরিত বলে মনে হয়।
একটি হাদিস উদাহরণ হিসেবে দেই আরেকটু পরিস্কারভাবে আমার কথা বোঝানোর জন্য। বুখারী (Ref: 9.130) : আনাস বিন মালিক কতৃক বণির্ত যে,আল্লাহ্র মেসেঞ্জার প্রায়ই Um Haram bint Milhan কাছে বেড়াতে যেতেন এবং সে ছিল Ubada bin As-Samit এর স্ত্রী। একদিন নবী তার সাথে দেখা করতে গেলেন এবং তিনি তাকে খাওয়ানোর পর মাথার উঁকুন বাছতে লাগলেন (পরস্ত্রী কি এই ভাবে মেহমানদারী করে!)। আল্লাহর নবী ঘুমিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে জেগে উঠলেন—।
এটা সত্যি কল্পনা করা কষ্ট যে নবীজিকে আরেক জনের স্ত্রী উঁকুন বেছে দিচ্ছে, যেখানে কোরান বিশ্বাসী নারী--পুরুষ কে দৃষ্টি এবং আচরনকে সংযম করতে বলেছে। সেখানে এই হাদীসটি দিব্যি পর পুরুষ এবং পর নারীর ঘটনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই হাদিসের মানে কি? এই হাদিসের প্রচারক অবশ্যই দায়বদ্ধ তার হাদিস প্রচার--প্রসারের জন্য। যারা ইসলামের দলিল বা হাদিস লিখেছেন তাদের প্রতিটি কাজ অবশ্যই দেখা উচিত কোরান, যুক্তি, বিচারশক্তি এবং বুদ্ধির (common-sense)মাদ্ধমে। হযরত উমর বলেছিলেন, আল্লহর বই--ই আমাদের জন্য যথেশষ্ট। আমি মনে করি নবীর যোগ্য সঙ্গী হিসেবে তাঁর এই কথাটি আমরা মেনে চলতে পারি। আমরা যতদিন ভাবব যে হাদিস ছাড়া আমদের দ্বীন অসম্পূর্ণ, তত বেশিদিন আমাদের এই ভুলের বোঝা বয়ে চলতে হবে। কোরানকে আমরা সার্বজনীন জানি। তাই ইসলামিক শিক্ষাটা হাদিস নির্ভর হওয়া উচিত না।
উপরের হাদিসের সাফাই গাওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়।
উম্মে হারাম ছিলেন আনাস বিন মালিকের খালা এবং রাসুলের দুধ খালা,মানে রাসুল সাঃ মা এবং উম্মে হারাম এক মহিলার দুধ বোন ছিলেন। কাজেই দুধখালা মায়ের সমান। উম্মে হারাম রাঃ উহুদ যুদ্ধে ছেলে স্বামী হারান এবং এর পরপর অভিবাবক ভাইকেও হারান বীর মাউনার যুদ্ধে। এর জন্য রাসুল সাঃ এই বৃদ্ধা মহিলাকে আপন মায়ের মত দেখা শুনা করতেন।
আর একজন মুসলিম অবশ্য রাসুল সাঃ এর চরিত্রকে পাক পবিত্র বলে বিশ্বাস রাখতে হবে। আর এই ঘটনাটি ঘটেছিল মুহাম্মদ সাঃ এর বিদায় হজের পর। বিদায় হজের পর রাসুল সাঃ মাত্র ২ মাস জীবিত ছিলেন। আর একটি কথা মনে রাখা দরকার উম্ম হারাম আর উনার বোন সালাইম মদিনার উপকণ্ঠে গাছ গাছালীতে পূর্ণ কুবাতে এক যায়গায় থাকতেন। এবং বোন সালাইমের বাসায় মুহাম্মদ সাঃ প্রিয়তম এক স্ত্রী মারিয়া রাঃ সেই বাসায় বাস করতেন।
অতএব ইতিহাসের টুকরা টুকরাকে জোড়া লাগালে আসল ঘটনা পরিস্কার হয়ে যাবে কারো আঙ্গুল তোলে কথা বলার উপায় থাকেনা।
ধন্যবাদ।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ৯:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অন্যসব পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতা যিনি এই পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতাও একমাত্র সেই আল্লাহ পাকই। তিনি এমনই একজন প্রতিষ্ঠাতা যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টির প্রতিটি সমস্যার জন্যে যথাযথ পদ্ধতি এবং উপায়সমূহ ছড়িয়ে রেখেছেন তাঁর অন্তহীন সৃষ্টি জুড়ে। বলে দিয়েছেন নির্দিষ্ট পরিসীমা সমূহও। সেসব থেকে আপনার নিজের জন্য কোনটা প্রযোজ্য সেটা খুঁজে নিতে হবে আপনাকেই। এজন্যে পর্যাপ্ত বুদ্ধি-বিবেচনা দেয়া হয়েছে প্রত্যেককেই। আর সেকারণেই আল্লাহ পাকের বিচার হবে জনে জনে। অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পার পাওয়া যাবে না সেখানে।
ভালবেসে কেউ হয়তো আপনার প্রিয় খাবার আপনার মুখ পর্যন্তও তুলে দিতে পারে কিন্তু চাবানো এবং গলঃধকরণের কাজটা করতে হবে আপনাকেই। ঐ কাজটা আপনার হয়ে আর কেউই করে দেবে না, দিতে পারবেনা। এখানেও অবস্থা অনেকটাই সেরকম।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ১০:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাইদুল ভাই আপনি কার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তা যদি উল্লেখ করতেন তাহলে ভাল হয়। শুধু @ অমুক উল্লেখ করলে চলবে। ধন্যবাদ।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ১০:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দূঃখিত! মাঈনুল ভাই হবে!
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১২ at ১০:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জবাবটা আইভি আহমেদের জন্য। সেটা কি আপনার একাউন্টে চলে গেল নাকি? দুঃখিত। দেখি আবার চেষ্টা করি।
মঈনুল আহসান
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১২ at ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটা আইভি আহমেদের বক্তব্যের বিস্তারিত উত্তরঃ
মানুষের জন্য আল্লাহ পাকের যে জীবন ব্যবস্থা সেটারই ‘মিরর ইমেজ’ হলো রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পরিপূর্ণ জীবন। সেই জীবনের প্রতিটি মূহুর্তের প্রতিটি বিষয়াদি এই উম্মতের জন্যে যে আদর্শনীয় ও অণুকরণীয় সে সম্বন্ধে সন্দেহের কোনই অবকাশ নেই। কারণ নবীজীর প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল আল্লাহ পাক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত, নির্ধারিত এবং আল্লাহ পাকের হেকমতপূর্ণ।
সেই হিসেবে হযরত আয়েশা (রাঃ) সন্তানাদি না হওয়ার পেছনেও রয়েছে আল্লাহ পাকের সুনির্দিষ্ট হেকতমসমূহ। সেই হেকমতেরই অন্যতম হলো বালিকা বধূদেরকে সন্তান জন্মদানের সুকঠিন কর্তব্য থেকে মুক্ত রাখা, যা তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়শা (রাঃ)-এর দ্বারা। সন্তান লাভের সুতীব্র আকাংখা, চেষ্টা ও প্রার্থনা হযরত আয়শা (রাঃ)মধ্যে থাকার পরও এক্ষেত্রে তাকে সুবিশাল ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে তার জন্যে আল্লাহ পাক কর্তৃক নির্ধারিত সন্তানহীনতার কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিতে হয়েছিল উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বালিকা বধূদেরকে মা না করার সুনির্দিষ্ট উপমা সৃষ্টির প্রয়োজনে।
একই ভাবে বহু স্ত্রীর সংসর্গে থাকার পরও নবীজী (সাঃ)-কে ৬/৭ জনের বেশী সন্তান না দিয়ে আল্লাহ পাক উম্মতে মুহাম্মদীর সামনে তুলে ধরেছেন একজন আদর্শ পিতার জন্যে প্রযোজ্য একটি আদর্শ ‘পরিবারের সর্বোচ্চ পরিধি’। সাধারণ ভাবে আমাদের দেশের মুন্সী-মৌলভীসহ অনেকের মধ্যেই ইসলামের দোহাই দিয়ে লাগামহীন সন্তান জন্মদানের যে ধারা লক্ষ্য করা যায় সেটা যে আদতেই গ্রহণযোগ্য নয় তার প্রমাণ হলো ‘নবীজীর সীমিত পরিবার পরিধি’র এই নমুনা । যেহেতু এই নমুনা ‘ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা’ তাই এটাকে কারো মনগড়া ফতোয়া বলার কোনই সুযোগ নেই।
এখানে অনিবার্য ভাবেই প্রশ্ন উঠবে যে ‘পরিবার পরিধি’ এতটা সীমিত রাখতে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে কি কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতির অনুমতি দিয়েছিলেন আল্লাহ পাক? যেহেতু রসূলুল্লাহ সাঃ কর্তৃক কোন কৃত্রিম পদ্ধতি অনুসরণের তথ্য পাওয়া যায় না, তাই সেটা যে প্রাকৃতিক তথা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত মানব জন্মের স্বাভাবিক সৃষ্টিতত্ত্ব নির্ভর ছিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটাকে বানোয়াট বা মনগড়া বলা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সৃষ্টি প্রক্রিয়াকেই অস্বীকরা এবং অবিশ্বাস করার সামিল।
সৃষ্টি জগতের যাবতীয় সব পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতা যিনি, মানুষ থেকে মানুষ সৃষ্টি হওয়া বা না হওয়ার পর্যায়ক্রমিক জটিল পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার প্রতিষ্ঠাতাও একমাত্র সেই আল্লাহ পাকই। তিনি এমনই একজন প্রতিষ্ঠাতা যিনি তাঁর এই জগতের প্রতিটি প্রাণীর প্রতিটি সমস্যার জন্যে যথাযথ পদ্ধতি এবং উপায়সমূহ ছড়িয়ে রেখেছেন তাঁর অন্তহীন সৃষ্টি জুড়ে। সেসব থেকে আপনার নিজের জন্য কোনটা প্রযোজ্য সেটা খুঁজে নিতে হবে আপনাকেই। এজন্যে পর্যাপ্ত বুদ্ধি-বিবেচনা দেয়া হয়েছে প্রত্যেককেই এবং আপনাকেও। বলে দেয়া হয়েছে আল্লাহ পাকের নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমাও। আর সেকারণেই আল্লাহ পাকের বিচার হবে জনে জনে। অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পার পাওয়া যাবে না।
ভালবেসে কেউ হয়তো আপনার প্রিয় খাবার আপনার মুখ পর্যন্তও তুলে দিতে পারে কিন্তু চাবানো এবং গলঃধকরণের কাজটা করতে হবে আপনাকেই। ঐ কাজটা আপনার হয়ে আর কেউই করে দেবে না, দিতে পারবেনা। আল্লাহ পাকের বিধি-বিধান মানা বা না মানার অবস্থাও সেরকম। কোরআন-হাদীসের ব্যাখ্যা-অপব্যাখ্যাকারী বলেন অথবা ফতোয়াবাজ বলেন বা অলী-আউলিয়াই বলেন কারোই এক্ষেত্রে করার কিছু নেই।
অতএব কূট তর্ক বাদ দিয়ে ‘আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর ওয়াস্তে পাঠ করুন’। তাতে শেষ বিচারে আপনিই লাভবান হবেন, অন্য কেউ নয়।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
darsh0nik
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১২ at ১২:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুবি চমৎকার এবং বুস্তু নিষ্ঠ আলোচনা। আমার খুবি ভালো লাগলো অত্ত্যন্ত্য যুক্তির মাধ্যমে মাঈনুল ভাই লিখেছেন। কিন্তু একজন মন্তব্য কারি মুনিম সিদ্দিকি বোধয় ভালো মত লিখা তা বুজতে পারেনায় হয়তো পরিশুদ্ধ বাংলা ভাষার যথার্থ ধারনাই এর জন্য দায়ী।
Counsel
আগস্ট ২২, ২০১৩ at ৫:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনারা সবাই তো বাজার থেকে বই কিনে পড়াশুনা করে ডাক্তার ইনজিনিয়ার হয়ে প্রাকটিজ শুরু করে দিয়েছেন। এ রকম প্রাকটিজ না করাই ভাল। যারা ডাক্তার ইনজিনিয়ারিং ইউনিভাসিটি থেকে পড়াশুনা করে পাস করেছে, তাদেরকে প্রাকটিজ করতে দেয়া উওম।
Isha Khan
অক্টোবর ৩০, ২০১৩ at ৬:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাদের আলোচনা শুনলাম। আনেক অজানা বিষয় জানলাম। উপকৃত হতে পারলাম। সবাঈকে ধন্যবাদ । সবাঈ নিশ্চয় নিজেদের ভুলবুঝাবুঝিগুলৈা ধরতে পেরেছেন। এখনও কেঊ না পরলে ভবিষ্যতে পারবেন । সে ক্ষমতা আল্লা আপনাদের দিবেন। এর জন্য আপেক্ষা করতে হলে সেটা মনে হয় উত্তম। আপনাদের সবার কাছে একঈ সাথে অনুরোধ আপনারা কোন বিষয় আলোচনায় নিজেদের মাত্রারিক্ত ভাব বা আবেগ পরিহার করতে পারলে ভালো করবেন। আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাঈ । আসালামু আলাঈকুম।
মাহফুজ
অক্টোবর ৩১, ২০১৩ at ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//এখানে লক্ষ্যনীয় যে বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স ও আর্থিক সঙ্গতি বিবেচ্য হলেও নারীর ক্ষেত্রে এই দুটোর কোনটাই বিবেচ্য বিষয় নয়।//
বিয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কি পুরুষেরই বয়স ও আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনা করতে হবে? নারীর ক্ষেত্রে কি আসরেই কোনই বাধ্যবাধকতা নেই?
এখানে আমন্ত্রণ- মিয়া বিবি রাজি, তো কেয়া কারেগা কাজি?
//ব্যপারটা পরিষ্কার করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সে রসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক ছয় বছরের বালিকা হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে বিয়ে করার মাধ্যমে।//
রসূলুল্লাহ (সাঃ) কি সতিই ছয় বছরের বালিকা-কে বিয়ে করেছিলেন? আপনি কি এই তথ্য ১০০% বিশ্বাস করেন?
এখানে আমন্ত্রণ- বাল্যবিবাহের নামে যৌন হয়রানি কিংবা স্ত্রী-নির্যাতন করা কি কোন ধর্মীয় রীতি হতে পারে?
Julian
আগস্ট ১৪, ২০১৮ at ২:৪২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি গরীব অথচ বিবাহ করেছেন আপনার মালিকা কে। তরি দেওয়া ধন সম্পদ নিয়ে অপনার জীবন জীবিকা। আপনি কি পারবেন, তারি ঘরে থেকে আরেকটি বিবাহের চিন্তা করাকরার কথা ? মুহম্মদ (সাঃ ) হযরত আয়েশা মৃত্যুর পর বিবাহ না করে কি ইসলাম প্রচার করতে পারতেন না? মানলাম তাহার স্ত্রী প্রয়োজন ছিল পরে না হয় আরো একটা করতে পারতেন । তাই বলে সংখ্যা 12-13টায় গিয়ে ঠেকবে?