«

»

Aug ০৭

বাংলাদেশের গণতন্ত্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

ভুমিকাঃ                               

    দেশ ও সমাজের মানবিকতা পতনের পর অধঃপতনের পথে হাঁটছে, নৈতিকতা বোধে পচনের উপর পচন ধরেছে। দেশে কোন কল্যাণ শক্তির উদয় হচ্ছে না যা থেকে এই অধঃপতন ও পচন থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করবে। সুস্থ জীবন কি? সত্য কি? মিথ্যা কি? ভাল বা মন্দ কি?- তা বিচার করার বিবেক বোধ জাতি অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। নেই জাতির জীবন ধারায় প্রান সজীবতা। পাল বংশের পর ১৯৭১ পর্যন্ত বিগত ৮০০ বৎসর এই বাঙালী জাতি বিদেশী শাসক দ্বারা শাসিত এবং শোষিত হয়ে আসছে। সেই শোষিত ও নিপীড়নের ধারা বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান এবং দিন কে দিন তা বেড়েই চলছে। নিজেরা শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও যে আশা ও চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ অস্র ধারণ করেছিল, জানমাল ত্যাগ করেছিল, মা-বোনের ইজ্জ্বতের বিনিময়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিল তা আজ মাটির নীচে কবরে চাপা পরে আছে। সেই চেতনার মৃত্যু হয়ে গেছে অনেক আগেই। জাতির সজীবতা এবং আত্মার শক্তি ফিরিয়ে আনবে এমন শক্তি আজও উদিত হওয়ার লক্ষিত নেই। কালের বিবর্তন ধারায় শাসন ও সিংহাসন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে, পরিবার থেকে পরিবারে বদল হয়েছে এবং হচ্ছে আর তাদের শোষন ও শাসন চালানোর ক্ষেত্রে যেহেতু মুদ্রার এপিট ওপিট, তাই তাদের শাসনে নৈতিকতার কিছু যায় আসে না। মিথ্যা, অঙ্গীকার ভঙ্গ, খেয়ানত, ঘুষ, দূর্নীতি, দুষ্কৃতি, গুম, হত্যা, উচ্ছৃঙ্খলতা, দাঙ্গাহাঙ্গামা দেশ ও জাতির সত্তায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে জাতির চরিত্রে কুষ্ঠরোগের পচন ধরেছে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা দেশের নৈরাজ্যতাই বৃদ্ধি হচ্ছে আর তাতে জাতির সুস্থ জীবন ধারার বুনিয়াদ ধ্বংস হচ্ছে। দেশ ও সমাজ অস্থিরতার আগুনে জ্বলছে। গণতন্ত্রের নামে সকল শাসকশ্রেণী ও রাজনৈতিক দলের প্রত্যেকে হিংসা, জিঘাংসার খেলা যার কারণে দেশের গণতন্ত্র হচ্ছে উইপোকা দ্বারা খাওয়া কাঠ যার কিছুই অবশিষ্ট নেই।

 

গণতন্ত্রঃ

    গণতন্ত্র হচ্ছে মানুষের বেঁচে থাকার সব রকমের অধিকার, মানুষের জীবনের মুল্যবোধ, মানুষের ভোটে নির্বাচিত যোগ্য ব্যক্তিদের দেশ চালানোর শাসন পদ্ধতি যেখানে স্বচ্ছ জবাবদিহিতার উপস্থিতি। একটি গনতন্ত্র রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক অন্যতম প্রধান কর্তব্য সকল জনগণের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করা। এই মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিতকরণ থেকে দেশের একটি মানুষ যদি বাদ পরে তাহলে সেই রাষ্ট্র একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত।

 

গণতন্ত্র রাষ্ট্রের শাসকদের গুণঃ

    রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ায় যারা নিয়োজিত তাদের মানবীয় ও নৈতিকতার গুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক। ফরজ। “অন্যের দুঃখ-কষ্ট যখন নিজ অন্তরের পর্দায় আঘাত করে অনুভূতির সৃষ্টি করে, নিজ বিবেক ও প্রজ্ঞা জাগ্রত করে এর ফলাফল নির্ণয়ের এবং সেই দুঃখ-কষ্ট থেকে অপরের পরিত্রানের সমাধান করার আত্মনিয়োগ করে”। ইহা মানবিক ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করার মৌলিক বাধ্যতামূলক গুণ, দেশপ্রেম নিজের ভিতরে প্রতিষ্ঠা করার মৌলিক গুণ। যার এই মৌলিক গুণ নেই, সে রাজনীতিবিদ বা দেশপ্রেমিক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।  এই মৌলিক বাধ্যতামূলক গুণ ছাড়াও আরো গুণের গুণান্বিত হওয়া আবশ্যিক নতুবা ভাল শাসক হওয়া সম্ভব না। সত্যবাদিতা, দক্ষতা, আত্মসচেতনতা, লোভ ও হিংসা থেকে নিজেকে দূরে রাখা, নম্রতা ও মিষ্টভাষী, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, কর্মের স্বচ্ছতা, শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা, বিচক্ষণতা, নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মানুষের কল্যাণের চিন্তায় মশগুল থাকা।

 

এই দেশের শাসকগণের গুণাবলীঃ

    উপরোক্ত মানবিক ও নৈতিকতার স্কেলে দেশের সকল রাজনীতিবিদরা সফলতা এবং উর্ত্তীর্ণ হবে তার কোন চিহ্ন বা আভাস নেই, না আছে তাদের কর্মে, না আছে তাদের কথায়।  মুক্তিযোদ্ধের দোহাই দিয়ে যারা নিজেদের শুদ্ধ বলে দাবী করার চেষ্টা করেন তারা তাদের বিলাসিতা জীবনের কারণে বাতিলের খাতায় লিপিবদ্ধ। ক্ষমতার নেশা যার অন্তরে একবার ঢুকে আস্তানা গাঁড়ে সেখান থেকে বের হওয়া কোন শাসকের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠে না এবং সম্পূর্ণরুপে নিজের রিপুর গোলাম হয়ে যায়। হেরোইন বা কোকেনের মত বিপদজনক নেশা ক্ষমতার নেশার কাছে কিছুই না; তুলনার আয়তনে ইহা সমুদ্রের জলরাশির কাছে এক গ্লাস পানির জলরাশি। যখন শাসকের আঙ্গুলের ইশারায় দেশ ও জাতি উঠবস করে এবং জনগণের উপর নিজের খেয়ালখুশির স্বেচ্ছাচারিতা চাপিয়ে দেয় তখন নিজেকে সৃষ্টিকর্তার প্রতিবিম্ব মনে করা শুরু করে। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারিতার প্রয়োগে লুটপাট, অর্থ পাচার সহ উম্মাদনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা যা এক আত্মতৃপ্তির মহোৎসব। মৃত্যুরও ক্ষমতা থাকে না এই আত্মতৃপ্তিকে দমিয়ে রাখবে। প্রভুত্ব মজা যার অন্তরে একবার অক্টোপাসের মত জেঁকে বসে, তার ভিতর লজ্জ্বাশরম, সুস্থ বিবেক বোধ, মানবিকতা, নৈতিকতা কখনই প্রতিষ্ঠিত হয় না- ইহা সত্য। তাই তো রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিত্ব বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই আর ক্ষমতালোভীদের ব্যক্তিত্ব তৈরি হয় না। সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা থেকে নীচ পর্যন্ত প্রভুত্ব মজা নিতে মরিয়া। ভোগ-বিলাসিতার ভিতর থেকে কখনও রাজ্য শাসন হয় না। বার্ধক্য যখন নাকের নলের ভিতরে চেপে ধরে তখন সেই আত্মতৃপ্তির রশি টেনে লম্বা করে নিজ সন্তানের কাছে হস্তান্তর করে, এ হচ্ছে এই দেশের উই পোকা দ্বারা খাওয়া গণতন্ত্রের একটা শাখার নমুনা মাত্র। দেশের রাজনীতিবিদগণ যেরকম হিংসা প্রতিহিংসা লালন করেন তা দুনিয়ার আর অন্য কোন জাতিতে এত তীব্রতা লক্ষ্য করা যায় না। হিংসা মানেই এখানে মানবিকতা ও নৈতিকতার সম্পূর্ণরুপে অনুপস্থিতি, জাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যে কাজ করার অনুপস্থিতি। রাজনীতিতে হিংসা মানেই এক শ্রেনীর মানুষের কামনার ও বিদ্বেষের শিকার যা গ্রাস করে পুরো দেশ ও জাতিকে। রাজনীতিবিদদের কামনার কাছে মীরজাফর হল মায়ের গর্ভ থেকে বের হওয়া ছোট দুগ্ধ শিশু মাত্র আর তাদের হিংসার সাথে মিশে আছে ঘৃণা ও প্রতিশোধ পরায়নতা যা তৈরি করে এক ধারালো বিদ্বেষ যা জাতিকে কুরে কুরে খাচ্ছে। জাতির আত্মার শক্তির প্রদীপ নিবু নিবু হয়ে জ্বলছে যা নিভে যাবে যে কোন মূহুর্তেই। রাজনীতিবিদগণ যারা নিজেদের মানবিকতা ও নৈতিকতার দাবী করেন, ইহা তাদের মনগড়া ও খেয়ালখুশি কথা মাত্র। কোটি কোটি টাকা দিয়ে নমিনেশন কিনে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করে, ছোট বাচ্চাও বুঝতে পারে সে এক রাক্ষস এনাকোন্ডা হয়ে দেশ ও জাতির অর্থকে গ্রাস করতে আসছে। বঙ্গবন্ধু দুঃখের সহিত বলেছেন, সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি।   এখানে।

    দু/চারটি প্রধান বিষয় সংক্ষিপ্ত দুটি কথা বলতে হয় লিখার আলোচনার সাপেক্ষে-

    ক) বৈষম্যঃ এই দেশ ও জাতির জন্য অত্যান্ত বিপদজনক ইস্যু হল বৈষম্য। বৈষম্য যখন জাতিতে প্রকট হয়ে ধরা দেয় তখন তা ধ্বংসের আভাসই দেয়। ৭১-এ মুক্তিযোদ্ধ হওয়ার মুল কারণ ছিল বৈষম্য প্রথা। জনগণের জীবনযাত্রার মানের ভেদাভেদ তা এক সময় বিস্ফোরিত হওয়া শুরু করবে প্রকৃতির নিয়মে এবং সময়ের ব্যবধানে। যে বৈষম্যের কারণে মুক্তিযুদ্ধ তা পুরোটাই বিফলে গেছে। অন্যায়, অবিচার, দূর্নীতি, ঘুষ, শোষণ ইত্যাদি বৈষম্য সৃষ্টির প্রধান কারণ। উন্নত দেশগুলো নিজেদের এই বৈষম্য থেকে নিরাপদ। সেখানে সমতার ভিত্তিতে সমবন্টনে জীবনের প্রয়োজনগুলো নাগরিকগন ভোগ করছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই। যেখানে সমতা নেই সেখানে গণতন্ত্রের মেরুদন্ড নেই, থাকার প্রশ্নই আসে না।

    খ) অধিক জনসংখ্যাঃ অধিক জনসংখ্যা এবং বৈষম্যের সীমা যখন অতিক্রম করে তখন গৃহযুদ্ধ অনিবার্য। দেশের অগণিত জনসংখ্যার ভরণপোষণ, চিকিৎসা, শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যান্ত কঠিন। দেশে নেই কোন ন্যাচারাল রিসোর্স যা এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রন করবে। এই ছোট আয়তনের দেশে এত অত্যাধিক জনসংখ্যা বলে দেয় কিছু দিন পর মানুষ মানুষকে খাওয়া শুরু করে দিবে। পূর্বেই মানুষের জীবন ইদুর-বিড়ালের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। এত অত্যাধিক জনসংখ্যার নেই পর্যাপ্ত কর্ম সংস্থান। বেকার ও কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, বিপন্ন হচ্ছে জাতির জীবন। দেশের বেশীর ভাগ মানুষ দিন মজুর। কর্মের পর্যাপ্ততা না থাকায় দিন শেষে পিতা যখন অভুক্ত সন্তানদের চেহারার দিকে তাকায়, এই অন্তর নিংরানো বিষময় অনুভূতি ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝে না। শাসকদের এই অনুভুতি বুঝে আসে না আর বুঝে আসলেও আত্মতৃপ্তির কঠোর প্রহরী দ্বারা অন্তর তালাবদ্ধ। জাতির অনুভূতিতে পচন যখন ধরে তখন পুরো অস্তিত্বকেই পচিয়ে ফেলে। জীবিকার সন্ধানে মানুষ পাগলের মত ছুটছে প্রাচ্য, মালয়েশিয়া সহ অনেক দেশে। দাস প্রথা দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেও এখনও এই দেশের মানুষ দাস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, পরিবার, মাতৃভূমি ছেড়ে কি এক মানবেতর জীবন যাপন করছে তা নিজ চক্ষে না দেখলে অনুধাবন করা যায় না। বাহিরের দেশগুলোতে এই বাংলাদেশ দাসের দেশ হিসেবে চিহ্নিত। এই কলঙ্ক এবং লজ্জ্বা কে বহন করবে? শোষনের নিকৃষ্ট পর্যায়টি হল, যখনই যারা ক্ষমতায় আসে, সে দলের লোকেরা দেশের ব্যবসা, চাকুরীসহ সবকিছুতে  দূর্নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা শুরু করে। দেশের জনগণের আয়-রোজাগারের পথ বন্ধ করে দেয়। মেধাবীরা জানে এই দেশে কোন সুন্দর ভবিষ্যত নেই, এই দেশ বসবাসের অযোগ্য তাই তারাও দেশ থেকে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পালিয়ে যাচ্ছে। মেধাবীরা এই দেশ ও জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং এই সম্পদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে তার খেয়াল কে রাখে? অথচ সরকারী কত অর্থই না খরচ করে এই সকল মেধাবীদের তৈরি করতে। 

    ছাত্ররাজনীতি এক মরণব্যাধী ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এটা একটা উচ্ছৃঙ্খল সংঘটন ব্যতীত আর কিছু নয়। এর উচ্ছৃংখলতা দেশ ও জাতিকে অশান্তির আগুনের ভিতরে ঠেলছে প্রতি মূহুর্তেই। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই উচ্ছৃঙ্খল সংঘটনকে অনৈতিক কাজগুলো প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং লালন পালন করছে। ছাত্ররাজনীতি মাধ্যমে উঠতি বয়সের তরুনেরা জীবনের শুরুতেই চরিত্রিক মানবীয় গুণগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে সাথে অন্তরে পাকাপোক্ত হচ্ছে উদ্রতা, রুঢ়তা। শিষ্টাচারের শিক্ষা নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দেশের ভিতর শুধু নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রনই নয়, স্কুলকলেজের একশ্রেনীর মেয়েদের পতিতা তৈরিতে এবং অন্যান্য উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করছে। আবার অনেক মেয়ে পেটের প্রয়োজনে বাধ্য হচ্ছে এই জীবিকা বেচে নিতে।  এই সবের মূল কারণ অত্যাধিক জনসংখ্যা ও রাজনীতিবিদদের শাসন পদ্ধতি।

    গ) জ্ঞানঃ জ্ঞান ছাড়া নেতৃত্বের অস্তিত্বই টিকে না। জাতির আচরণ, জাতির স্বভাব, মানুষের জীবনের মূল্যবোধ, জীবন নির্বাহ মোটকথা জাতির অন্তরকে পড়া, জানা, অনুধাবন করা দেশ প্রধানের জন্য অপরিহার্য। প্রশাসন, সুক্ষ্ম কূটনীতি, জাতির আচরণ, অভ্যাস, স্বভাব সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞান ও বিচক্ষনের যেরকম অধিকারী হতে হয় আর তা রাজনীতিবিদদের ভিতরে অনুপস্থিত কিংবা নাই বললেই চলে। সচিবালয়, পুলিশ প্রশাসন, রাজস্ব, ভূমি, চিকিৎসা, যাতায়াত সহ দেশের সকল কাঠামোর নিয়ন্ত্রন, তদারকি ও রক্ষনাবেক্ষনের কোন কিছুরেই সুস্থতা নাই। এটা দেশের কোন সিস্টেমই না যা এই দেশে গণতন্ত্রের নামে বিরাজমান।

    ঘ) দক্ষতাঃ শাসকদের দক্ষতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে রেলগাড়ী লাইনচ্যুত হবেই এবং গন্তব্য যাওয়ার আগেই ইহা অকেজো হয়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। দক্ষতা হতে হলে নিজকে সৎ করতে হয় আগে যা এই দেশে পাওয়া চরম ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই/একটি উদাহারণ দেয়া যায়। পদ্মা সেতু দশ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে ত্রিশ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে, হয়ত আরো বাড়বে, একে উন্নয়ণ বা দক্ষ বিশ্লেষণ বলে না। হাওয়া ভবন থেকে দেশ শাসন করার নির্দেশনা আসলে  দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সহ পুরো দেশের কাঠামোর দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দেশের বেশির ভাগ মানুষ সভ্যতার তালে যেখানে মৌলিক প্রয়োজনটুকু থেকে বঞ্ছিত বা যেই দেশ দাসের দেশ হিসেবে চিহ্নিত সেখানে দশ হাজার কোটি টাকা দিয়ে রাশিয়া থেকে অস্র কিনার কোন যৌক্তিকতা খুজে পাওয়া যায় না। ইহা বড়ই বেমানান। এইভাবে পুরো দেশ জুরে শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা, দক্ষতা ও গভীর বিশ্লেষনের অভাব যা দেশের অবকাঠামোতে স্পষ্ট হয়ে ধরা পরে। দেশের টপ টু বটম সবকিছুতে দক্ষতার অভাব যার অনেকাংশই দায়ী দেশের দূর্ণীতি, শোষনের রাস্তা তৈরি করার উদ্দেশ্যে।

 

উপসংহারঃ

    যে জাতি ১০০ টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে দেয়, একজনের ভোটাধিকার জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যজন হরণ করে তখন বুঝতে হবে এই জাতি আফ্রিকার গহীন অরণ্যে নগ্নভাবে বসবাসকারী যারা সভ্যতার আলো এখনও দেখেনি তাদের থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে আছে। এই রকম পিছিয়ে পরা এক জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নেওয়া সহজ ব্যপার না। এই বোধাদয় নেতাদের নেই। এই জাতির মানুষ জানে না, সুস্থতা কি? সুস্থ জীবন ধারন কি? শিক্ষা কি? শিষ্টাচার কি? মানবিকতা ও নৈতিকতা কি? আজ সত্যি এমন এক শুভ শক্তির প্রয়োজন জাতিকে অত্যান্ত শক্ত ও মজবুত ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার রাস্তা তৈরিতে। এমন এক পথ প্রদর্শনকারীর আবশ্যিক প্রয়োজন হয়ে পরেছে যিনি দেশ ও জাতিকে আলোর পথ দেখাবেন, জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, মানবিকতা ও নৈতিকতার বুনিয়াদ গড়ে তুলবেন, দেশকে সকল প্রকার উচ্ছৃঙ্খলতা, বিশৃঙ্খলতা থেকে মুক্ত করবেন। দেশ ও জাতির চরিত্রে সুস্থ ও পবিত্র আত্মা দিয়ে প্রান সঞ্ছার করবেন, দুনিয়াতে সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এই দেশের মেধাবীরা মাইগ্রেশনের মাধ্যমে অন্য দেশে নয় বরং অন্য দেশের শিষ্টাচার, জ্ঞানী, রুচিশীল মানুষজন এই দেশে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছা পোষন করে, তবেই এই দেশ উন্নত ও সুন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। 

১ comment

  1. 1

    মোঃ তাজুল ইসলাম

    জাপানের যুবরাজ শোতাকু ৬০৪ খ্রিস্টাব্দে জাপানে একটা নতুন সংবিধান চালু করেন। এই সংবিধানে ধারা ছিলো ১৭ টা; নাম ছিলো কেমপো। এই কেমপোতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল এমন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কখনো একা একা নেয়া যাবেনা।

    এটাই একটা রিপাবলিকের মুখ্য ধারণা। গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রাস্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনে নাগরিকের অংশগ্রহণ। নাগরিকেরা তাহলে কীভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে? তৃতীয় বিশ্বের শাসকেরা বলতে চায়, আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে দেবেন, আমরা আপনার হয়ে কথা বলবো। তো উনি আমাদের কথা জানবেন কীভাবে? উনি কি ভোট পেয়ে অন্তর্যামী হয়ে যান? যাননা। ভোট দিতে পারি নাকি পারিনা ওই আলাপে আর গেলাম না। কিন্তু ভোট দিলেই আমার কন্ঠস্বর যে শোনা যাবে তার নিশ্চয়তা নাই।

    এই কণ্ঠস্বর শোনানোর জন্যই একটা রাজনৈতিক পরিসর লাগে। যেখানে নাগরিকেরা নির্ভয়ে তার মত প্রকাশ করতে পারবে, নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিতর্ক করতে পারবে। এই কন্ঠস্বরকে আরো জোরালো করার জন্য সমবেত হতে পারবে, দাবী জানাতে পারবে, তার ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রকাশ করতে পারবে।

    রাজনীতি মানে ক্ষমতা চর্চা নয় বা ক্ষমতায় যাওয়ার পদ্ধতি নয়; রাজনীতি মানে একটা জনগোষ্ঠীর আশা, ইচ্ছা আর চিন্তাকে রাস্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করা। এটা পাচ বছরে একবার ভোট দিয়ে নিশ্চিত করা যায়না। এই ইচ্ছা আজ আশা প্রকাশের জায়গাই হচ্ছে রাজনৈতিক পরিসর।

    যেই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিসর থাকে, সেই জনগোষ্ঠীকে পলিটিক্যাল কমিউনিটি বা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী বলা হয়। রাজনৈতিক পরিসর না থাকলে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর মৃত্যু হয়। রাজনৈতিক পরিসরের অনুপস্থিতি মানে রাজনীতির অনুপস্থিতি।

    সমাজ থেকে রাজনীতি তিরোহিত হলে, সেই শুন্যস্থান পুরণ করে "অরাজনীতি"। এই অরাজনীতির অনুসংগ হচ্ছে, বলপ্রয়োগ আর ভীতি উৎপাদন।

    রাস্ট্র পরিচালনায় জনগনের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন না হলে সেই রাস্ট্র কখনো এগোয় না। আমাদের এমন রাস্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেই রাস্ট্রে যেন কোন কন্ঠস্বর অশ্রুত না থাকে। রাস্ট্র আপনার পলিটিক্যাল এজেন্ট। রাস্ট্রের নাগরিক হয়ে আপনার কি "অরাজনৈতিক" হয়ে থাকার কোন সুযোগ আছে? " আই হেইট পলিটিক্স" বলার কোন সুযোগ আছে?

    শাসক কি নাগরিককে "রাজনীতি" না করার পরামর্শ দিতে পারে? রাজনীতি ছাড়া আমি আপনি আসলে নাগরিক থাকি কি?

    — Pinaki Bhattacharya

Leave a Reply

Your email address will not be published.