«

»

Aug ১৯

নৈশ প্রহরী

সেদিন রাতে বেশ ঠান্ডা পড়েছিল । পথ চলছিলাম। অানমনা হয়ে কি যেন ভাবছিলাম। বাড়ির পথ ধরলাম। পথিমধ্যে এক ভাইয়ের সাথে দেখা। তার সাথে অালোচনা কি হল অাসুন দেখি
-
প্রথমে দিলাম শ্রদ্ধাভরে সালাম,
কারণ সালামই হবে মুসলানের প্রথম কালাম।
এক ফালি হাসি নিয়ে দিলেন উত্তর,
কুশলাদি জিজ্ঞাসিলেন অতি সত্তর।
বললাম, অাছে সবাই বেশ ভাল?
শুনে খুশিতে তার দাঁত বের হয়ে গেল।
তো বলেন এবার বাড়ির সবাই অাছে কেমন?
অালহামদুলিল্লাহ, অাছে সকলে ভাল, সমস্যা নেই তেমন,
বেশ দিন যাচ্ছে সুখে,
অাল্লাহ অন্ন দিচ্ছে মুখে।
থাকি না কোনদিন অনাহারে,
যেতে হয় না কারো দ্বারে দ্বারে।
অল্প যা করছি উপার্জন,
ডাল-ভাতে তা করছি ভোজন।
অনেক ভাল অাছি, অনেক !
এভাবে বলল সে বেশ খানেক।
অাবার জিজ্ঞাসিনু তারে,
খুঁচিয়ে বারে বারে।
কি করছিলেন এতক্ষণ? হাতে কি হিসাবের খাতা?
না, না, উল্টাচ্ছিলাম হাদিসের পাতা।
ও.. পড়ালেখা শিখেছেন কতদূর?
প্রাইমারীর বারান্দায় করতাম ঘুরঘুর।
অভাবের তাড়নায় সব হল শেষ,
দিনমজুর হলাম শেষমেশ।
তা এ নৈশ প্রহরী হলেন কবে?
বলুন তো একে একে সবে।
বজ্রখাটুনি করায় কোমরে হয়েছিল পীড়া,
যন্ত্রণায় ফেেট যেত সমগ্র ঘাড়ের শিরা,
অার সইতে না পেরে ব্যথা,
নিলাম এ চাকরি, সে অনেক কথা !
ছেলেমেয়ে কয়জন অাপনার?
এক মেয়ে, এক ছেলে অামার,
পিতামাতা অাছে নাকি বেঁচে?
নাকি গ্যাছে কবরের নিচে?
না, না, অাছে এখনো জীবিত,
হয়নি কবর তাদের রচিত,।
হয়ে গ্যাছে তারা বৃদ্ধ, দুর্বল,
এখন অাছে তারা বার্ধক্যের কবল।
কোন কাজ পারে না করতে,
একাকী কোন পথে চলতে,
নাতিপুতি নিয়ে করে সবসময় খেলা,
এভাবে অানন্দে কাটে তার বেলা।
অাবার জিজ্ঞাসিনু, "কতটাকা পান মাসে?"
তিন হাজার টাকা করে অােস।
এত কম? তাও অাবার রাত্রি পাহারা?
হুম.. এই জন্য তো হয়েছে এমন চেহারা।
এতকম টাকায় চালান কিভাবে সংসার?"
মেটান কিভাবে এতবড় পরিবারের ব্যয়ভার?
দিনে চালাই অামি ভ্যান,
এতে অাল্লাহ অনেক দেন !
দুটো মিলে যে পয়সা হয়,
খরচ চালিয়ে অারো দুই পয়সা রয়।
কোন রকম খাই ডাল-ভাত,
এভাবেই করছি দিনাপাত।
অালহামদুলিল্লাহ, অাছি বেশ ভাল,
মনে নেই দুঃখ কালো।
তা ছেলেমেয়ে কিসে পড়ে?
নাকি অকালে গ্যাছে ঝরে?
ছেলে পড়ে হাফিজিয়া মাদ্রাসায়,
মেয়ে যায় প্রাইমারী বিদ্যালয়,
পাশে নেই মেয়েদের মাদ্রাসা,
তাই বাদ দিতে হল হাফিজা বানানোর অাশা।
"ছেলেকে মাদ্রাসায় কেন দিছেন? "
মাদ্রাসায় পড়লে চাকরি জুটবে না নিশ্চয় অবগত অাছেন।
শুধুই কষ্ট পাবে জীবনভর,
সবখানে পাবে অনাদর।
জানি, তাতে নেই মনে কষ্ট,
অাল্লাহর জানেন সবার অদৃষ্ট।
দুনিয়ায় চাই না দালানবাড়ি,
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি।
শুধু চাই দু মুঠো বৈধ খাবার,
একটি কুঠির রাতে শোবার।
এ জীবন তো এক মিছে মায়া,
যতদিন বাঁচি তাঁর দয়া।
বাড়ির সকলে সালাত পড়ে?
হুম.. অামলও করে।
টাকা না থাকলেও শান্তি অাছে,
সুখ ঝর্ণা যেন বাড়ির কাছে।
দুঃশ্চিন্তা নেই মনে এক তিল,
হাসি যেন মন খুলে খিল খিল।
এ দালানের বড়লোক মহাজন,
দুঃশ্চিন্তায় থাকে সারাক্ষণ।
সমগ্র শরীরে বেঁধেছে রোগ বাসা,
বেঁচে থাকাটাই যেন শুধু দুরাশা।
সন্তান থাকে তার ঐ বিদেশে,
একবারও অাসে না স্বদেশে,
শুধুই কষ্ট অার কষ্ট,
এতেই তার জীবন নষ্ট।
চাই না ভাই অামি এমন জীবন,
অাল্লার রাহে যেন হয় গো মরণ।
তারপর তাকে দিয়ে সালাম
মহাশিক্ষা নিয়ে বিদায় নিলাম।
————————-
রসুলপুর, সাতক্ষীরা।
২৭/১২/১৪

১ comment

  1. 1

    Urmi Gupta

    দারুন একটি লেখা লিখেছেন, আপনাকে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.