«

»

Sep ৩০

কোরআন বোঝা কি এত সোজা!!!

           উপক্রমণিকা-

আমাদের মুসলিম জামাতের মধ্যে কিছু লোক দাবি করেন যে মুসলিমদের পথ চলার জন্য আল কোরআনই যথেষ্ট! কাজেই পথ খুঁজে পাবার জন্য সুন্নাহ, হাদিসের সাহায্য নেবার প্রয়োজন নেই। দরকার নেই সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং এর পরবর্তি জ্ঞানী,গুণী নায়েবে রাসুল সাঃ প্রদর্শিত ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করার। কারণ আল্লাহপাক আল-কোরআনকে এমন ভাবে নাজেল করেছেন যে, যেকোন ব্যক্তির পক্ষে তা পাঠ করে নিজের বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী জেনে নিতে পারে। তাই সব কিছুর সমাধান আল-কোরআনে খুঁজেন এবং কোরআনের বাইরে  যেতে নারাজ। তারা তাদের এই দাবির সমর্থনে কোরআন  থেকে বেশ কিছু আয়াতকে  অস্ত্র হিসাবে অহরহ তুলে ধরেন । সেই সব আয়াত থেকে নিম্নে  তিনটি আয়াত উল্লেখ করছি !!!

১। আমি মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ, পথ নির্দেশ, দয়াও সুসংবাদ স্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করলাম(১৬-৮৯)।

২। কিতাবে কোন কিছু আমি বাদ দেইনি (৬-৭৮)।

৩। আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (৫৪-১৭)।

প্রথমে উপরের  আয়াতগুলোর মত আরো অনেক আয়াত আছে যা দ্বারা দিয়ে তারা যুক্তি দেখান যে, আল কোরআন তথা আল কিতাবে দ্বীনের সকল বিষয়, সকল হুকুম-আহকাম ধারণ করেছে এবং এমন ভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছে যে তা বুঝার জন্য কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাখ্যার ব্যাপারে  সাহায্য নেওয়ার কোন  প্রয়োজন নেই।

 যদি কোরআন বুঝতে ব্যক্তি  তথা সুন্নাহর দরকার হয় তাহলে আল-কিতাব অসম্পূর্ণ বলে আখ্যায়িত করা হবে। যা হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘোষণার পরিপন্থী। সুতরাং  একজন মুসলিমকে আল্লাহর কোরআন ছাড়া রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহ থেকে কোন কিছু তালাশ করা বা তার উপর আমল করার প্রয়োজন নেই।  কেবল কোরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এইটিই তাদের প্রধান যুক্তি যা দ্বারা তারা সুন্নাহকে অস্বীকার করে আসছেন  অথবা সুন্নাহর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে আসছেন।

এবার তাদের পক্ষের উল্লেখ করা তিনটি আয়াতকে একটু বিচার বিশ্লেষণ করে দেখি কি আছে সেই আয়াতে!!!

সত্যিকার মুসলিম বলতে কাদের বোঝায়?

 প্রথমে যে আয়াতটি  উল্লেখ করা হয়েছে সেটি সুরা আল নাহলের ৮৯ আয়াতের খণ্ডিত অংশ মাত্র, তারা তাদের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে গিয়ে পুরো আয়াত উল্লেখ না করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে একটি আয়াতের যতটুকু তাদের দরকার ঠিক তত টুকু তোলে ধরেন । যদি পুরো আয়াতকে নিয়ে আসেন তাহলে তাদের যুক্তি মাঠে মারা যাবে।  আমরা এবার সুরা নাহলের ৮৯ নং পুরো আয়াতটি দেখি সেখানে আল্লাহ তালা কি বলেছেন।

সেদিন আমি সকল সম্প্রদায়ে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করবো এবং এ সব (লোকের) বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী রূপে আনবো। আমি মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ, পথ নির্দেশ, দয়াও সুসংবাদ স্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করলাম(১৬-৮৯)।

 

এই আয়াতের যে ব্যাখ্যা হয় তা হচ্ছে-

১.  সেদিন আমি সকল সম্প্রদায়ে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করবো সেদিন বলতে কিয়ামতের  বিচারের দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেইদিন প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ্‌র প্রেরিত দূতকে সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড় করানো হবে। এ সব সাক্ষী যে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র বিশেষ দূত তারাই হবেন তা নয়, তাদের গোত্রের লোক বা নিকটজন, যারা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ বা কোরানের বাণীকে বুঝতে পারতো, যারা সঠিক পথের নিশানা উপলব্ধি করতে পারতো এবং নিজস্ব গোত্রের ভাষাতে তা প্রচার করতো, তাদেরও সাক্ষী হিসেবে উত্থাপন করা হবে।

২. “এবং এ সব (লোকের) বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী রূপে আনবো

এখানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কথাও বলা হয়েছে "তোমাকে'' শব্দটি দ্বারা অর্থাৎ কেয়ামতের দিনে হযরত মুহাম্মদকে (সাঃ) মোশরেকদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থাপন করা হবে।

 

এবার দেখি ৩য় বাক্যে কি উল্লেখ করা আছে?

. আমি মুসলিমদের (আত্মসমর্পণকারী) জন্য সকল বিষয়ে ব্যাখ্যা দানকারী, পথনির্দেশক, অনুগ্রহ এবং সুসংবাদ স্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি

আল্লাহ্‌ তো রাসুলুল্লাহর (সাঃ) মাধ্যমে কোরানকে অবতীর্ণ করেছেন যা "স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ'' যাতে আছে পৃথিবীর জীবন যাত্রার "পথ নির্দেশ'', এবং "আল্লাহ্‌র করুণা" ও দয়ার প্রতিশ্রুতি ও "সদুপদেশ বা সুসংবাদ''। যারা আল্লাহ্‌র নিকট "আত্মসমর্পণকারী'' তারাই এই কিতাব থেকে উপরে বর্ণিত সুসংবাদ পেতে পারে।]

এইখানে যে কথাটি উঠে এসেছে তা হচ্ছে এই কিতাবের বর্ণিত নেয়ামত লাভ করতে পারবেন একমাত্র যে সব ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে “ আত্মসমর্পণকারী” জন্ম সূত্রে মুসলিম পরিচয়ধারী নয়।

এখন প্রশ্ন আসে তাহলে প্রকৃত আত্মসমর্পণকারী কারা?

যে বা যারা  -আল্লাহ্‌, রসুল, কোরান, মা-লায়েক (ফেরেশতা) শেষ বিচার, জান্নাত, জাহান্নাম, এক কথায় আল্লাহতালা আল-কোরআনে বলেছেন, এবং রাসুল সাঃ হাদিসে যা বলেছেন- সে সবে ঈমান রাখেন তারা?

তারা অবশ্যই মুসলিম কিন্তু পরিপূর্ণ মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী হতে গেলে ঐ ব্যক্তিকে আরো গভীরে পৌছতে হবে। আর সে স্তর হচ্ছে মুমিন হওয়া। মনে রাখতে হবে যে, প্রতিজন মুমিনই মুসলিম কিন্তু প্রতিজন মুসলিম যথার্থ মুমিন না হতে পারেন।

কারণ আমরা যদি আমাদের চারপাশ লক্ষ্য করি তাহলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বেশীর ভাগ লোক জনকে দেখতে পাই যে, তারা মৌখিক ভাবে সব কিছু বিশ্বাস করেন, কিন্তু সত্য জেনেও আল্লাহতালার দেওয়া জীবন ব্যবস্থাকে জাতীয়,রাষ্ট্রীয়, সামাজিক জীবনে প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠা করতে চান না। যারা প্রয়োগ করতে চায় তাদেরকেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন না।

 বিশ্বাস করেও প্রয়োগ না করার কারণ অনেক কিছু থাকতে পারে।

যেমন ১.গা বাঁচানো ভাবনা- আমি না থাকলে/করলে কি হবে অন্যরা তো থাকবে/করবে!

 ২. পার্থিব প্রাপ্তির বাসনা প্রবল।

৩.হচ্ছে বিকৃত  আকীদা- ক, বর্তমান ভোগবাদী/ধর্মনিরপেক্ষতা-বাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে যথার্থ মনে বিশ্বাস করা

খ,ইসলামী কানুনের প্রতি হীনমন্যতা

গ, ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে থাকলে পাশ্চাত্য জগত সেকেলে ভাববে

ঘ, ইসলামি আইন কানুন মধ্যযুগের তাই আধুনিক জগতে এটার আইন অচল ইত্যাদি ।

 (আকীদা)।এই সব লোক ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত মুমিন নন, প্রকৃত আত্মসমর্পণকারীও নন। আল-কোরআনের দাবি মতে তিনিই প্রকৃত আত্মসমর্পণকারী যিনি যে আল্লাহকে ও আল্লাহ অস্বীকার করে আল্লাহর দেওয়া দ্বীন তার পূর্ণ জীবনে প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠা করবেকাজেই আল্লাহ আল-কোরআনের নাজিল-কৃত আয়াতের কথা মনে প্রাণে সত্য বিশ্বাসই করবেন  তিনি স্বভাবতই রাষ্ট্রীয় জীবনে, জাতীয় জীবনে, সামাজিক জীবনে, পারিবারিক জীবনে পৃথিবীর অন্য সমস্ত মানব সৃষ্ট মতবাদকে   বহু জায়গায় মুমিনদের ক্ষমা, দয়া ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু হীনমন্যতায় বা আকীদা বিকৃতির জন্য যারা আল্লাহ নির্দেশিত দ্বীন'কে  জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করবেন না তাদের তিনি ঈমান থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত আত্মসমর্পণকারী বলে স্বীকার করবেন না।

মুসলিম শব্দ এসেছে সালাম থেকে। যিনি বা যারা আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থা, দ্বীনকে সামগ্রিকভাবে তসলিম অর্থাৎ সসম্মানে গ্রহণ করে তা জাতীয়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন বা করার চেষ্টায় নিয়োজিত আছেন, অন্যসব রকম ব্যবস্থাকে বর্জন করেছেন বা মজবুরী অবস্থায় আছেন তিনি বা তারা প্রকৃত মুসলিম

এই বিষয়ে আল-কোরআন কি বলে? -শুধুমাত্র তারাই [ প্রকৃত ] মোমেন যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসুলে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তারপরে কোন সন্দেহ করে না। অপরপক্ষে তারা তাদের জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রাম করে। এসব লোকেরাই হচ্ছে সত্যনিষ্ঠ। সুরা হুজরাত-১৫

তাহলে এবার প্রশ্ন আসে আমরা যারা ব্লগে ব্লগে আল-কোরআনের আয়াত নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করছি আমরা কি সত্যিকারে আত্মসমর্পণকারী হতে পেরেছি? কারণ- আল্লাহ তালা তো আল-কোরআনকে সত্যিকারে আত্মসমর্পণকারীর  জন্য সকল বিষয়ে ব্যাখ্যা-দানকারী, পথ নির্দেশক, অনুগ্রহ এবং সুসংবাদ স্বরূপ পাঠিয়েছিলেন এবার যার যার ব্যারোমিটার দিয়ে আল কোরআন বুঝার ক্ষমতা আপনার আদৌ আছে কিনা সেইটি যাচাই করে নিন।  চলবে-

 

২৩ comments

Skip to comment form

  1. 1

    এম_আহমদ

     

    ‘আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যেটি প্রত্যেক বস্তুর ‘তিবয়ান’, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।’ (১৬/৮৯)

    এখানে ‘তিবয়ান’ কি? ‘মা ফাররাতনা’ (বাদ পড়েনি 6/78) মানি কি? আসমান আর জমিনের ভিতর যা কিছু আছে (ফিজিক্স, কেমিস্ত্রি, বায়োলজি থেকে শুরু করে যাবতীয় কিছু) –তা, না এর স্পেসিফিক কোন অর্থ আছে? কোরানে ‘আম’ ও ‘খাছ’ অর্থের কি কিছু আছে? কোরান-মূর্খরা কি মনে করছে? তারপর ‘হেদায়াতটা’ কি? কোন ধারণা ও শব্দমালার মোকাবেলায় হেদায়াত একটি অর্থবহ কথা হবে? কোনটি হেদায়াত এবং কোনটি হেদায়াত নয় –সেটি কে ব্যাখ্যা করবে?
     
        আল্লাহ কি একটি জনগোষ্ঠীতে একখানা বই দিয়ে বলেছেন, ‘এই নাও, এই বই পড়ে যে যেভাবে বুঝ সেভাবেই আমল কর? কোরানের আইন, তার আদেশ নিশেষ প্রত্যেকেই যার যার মত মেনে চল, আমার চিটি তোমাদের কাছে দেয়ার পর বাহকের দায়ীত্ব শেষ’।. এটা হচ্ছে চরম মূর্খদের ধারণা।
     
        তাছাড়া আল্লাহ মুহাম্মাদকে (সা) ‘হেদায়াতকারী’ বানানোর মানি কি হয়? তাঁকে ‘রহমাত’ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পাঠানোর কি অর্থ হয়? এগুলো তো কোরানেই কথা।  তাঁকে মুয়াল্লিম (যিনি শেখান) , মুযাক্কি (যিনি তাযকিয়া বা পবিত্র করেন) এসবের মানি কি? এগুলো তো কোরানেই কথা।
     
        নবীর দায়ীত্ব কি তা এখানে দেখুন। আল্লাহ বলেন, ‘আর সেভাবেই, আমি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার বাণীসমুহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন; আর তোমাদের কিতাব ও তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দেবেন এবং এমন বিষয় শিক্ষা দেবেন যা কখনো তোমরা জানতে না। (২/১৫১)
     
        আল্লাহ নবী (সা) বলেন, বুয়িস্তু মুয়াল্লিমান, আমাকে শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
     
        কোরান অনলিদের পাঠ যে মূর্খ তা এখানে দেখুন, আল্লাহ বলেন, ‘আপনার পূর্বেও আমি ওহীসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে। (তাদেরকে প্রেরণ করেছিলাম) সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ দিয়ে, বাণীর প্রজ্ঞা (with books of divine wisdom) সহকারে এবং আপনার প্রতি ‘জিকির’ (স্মরণিকা) নাজিল করেছি যাতে আপনি লোকদেরকে সেগুলো ‘ব্যাখ্যা’ করেন যেগুলো তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, সম্ভবত তারা চিন্তা-ভাবনা করতে পারে। (১৬/৪৪)।
     
        মূল কথা হচ্ছে আমরা যে দুই/একটা কোরান অনলি মুরতাদের বিষয়ে জ্ঞাত হয়েছি, তাদেরকে তো মূর্খই দেখতে পাচ্ছি, এদের নিজেদের বিবরণেই দেখা যায় তারা ধর্ম কর্মে ছিল না, নামাজ-রোজায় তারা আনন্দ পেত না, এসেব তাদের মন বসত না, তাই শয়তান তাদের মাথায় চড়াও হয়েছে, এবং নিজেরাই মানুষ শয়তান সেজেছে। এর পিছনে এখন টাকাও নামছে এবং এর পিছনে রয়েছে চক্রান্ত। এরা মুখোশ পরা চক্রান্তকারী। কোরান বুঝতে যদি বাড়তি ‘ব্যাখ্যার’ দরকার হয় না তবে কোরান অনলি মুরতাদরা নিজেরাই বাড়তি ব্যাখ্যায় যায় কেন, একটি আয়াতকে সামনে রেখে নানান কথা বলে কেন?

    1. 1.1

      এম_আহমদ

      ভুলেগিয়েছিলাম, ভাল ব্লগ হয়েছে। চালিয়ে যান। 

      1. 1.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        আপনার সংযোজন আমার ব্লগকে সমৃদ্ধ করেছে। ধন্যবাদ।

    2. 1.2
      ফারুক

       

      আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।
       

       

      39:36-37

      আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
       

      আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। আল্লাহ কি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?
       

       

      1. 1.2.1

         

        39:36-37 আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

        (১) এই “আপনি” এখানে কে? (২) “তারা” বলতে কারা? (৩) “আপনি” ও “তারা” কি বাস্তব জগতের কোন লোক, না কল্পকাহিনীর নায়ক? বাস্তব জগতের হলে, তারা কোন কালের কোন দেশের লোক? 
         
        (৪) যারা এখানে “গোমরাহ”, তারা কি আল্লাহ নামক সত্তার ‘বান্দা’? (৫) এই গোমরাদের সাথে সেই “আপনি” বলে সম্বোধিত সত্তা কিভাবে সম্পর্কিত? এর কোন দলিল দস্তাবেজ কি আপনার কাছে আছে? 
         
        (৬) এই ব্লগে (সদালাপে) উল্লেখিত “আপনি” নামক ব্যক্তিকে কেউ কি তাদের “উপাস্যদের ভয়” দেখাচ্ছে? এখানে এই উদ্ধৃতির অর্থটা কি?  আমিতো আপনাকে কোরান-মূর্খ, তফসীর-মূর্খ, গোমরাহ ও ‘মুরতাদ’ বলেই জানি, আপনি কি তাহলে নিজেকে সেই  উল্লেখিত “আপনি” ব্যক্তির স্থানে বসিয়ে আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছেন? এমন ধরণের কোন "তফসীর" কি এই ফ্রেমে?
         
        (৭) এই আয়াত যে সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে তার প্রমাণ কি? (৬) এই আয়াতটি যে বইয়ের, সেই বইটিকে আল্লাহর বলে কেউ কি কোন কালে মেনেছে এবং আমল করেছে? করে থাকলে, কোথায় কোন দেশে? কোন কালে? 

  2. 2
    মহিউদ্দিন

    আরবি  শব্দ "আল কুরআন" মানে  "আবৃত্তি" (লিখিত শব্দ নয়) । আজকাল মুসলিম ও অমুসলিম অনেককেই বলতে  শুনা যায়  কুরআনে এটা বলেছে ওটা বলেছে, এর মানে এই ওর মানে ঐ ইত্যাদি আর সবই করা হচ্ছে কোন ধরণের  রেফারেন্স ও তথ্য ছাড়া। ফলে প্রকৃত উৎস রেফারেন্স প্রদান ছাড়া তাদের অর্থ প্রদান ইসলাম সম্পর্কে  জন্ম দিচ্ছে অনেক misconceptions, misquotes, ভ্রান্তি এবং misrepresentations ।
    এই সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদেরকে  মূল উৎস মূল ভাষায় ফিরে যেতে হবে  এবং যারা প্রথম নবী মুহাম্মদ (স:)এর  ঠোঁট দিয়ে আবৃত্তি করা কুরআন শুনেছেন কিংবা তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নবী কি সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সে তথ্য সামনে রেখে কোরআন বুঝতে হবে।
    মুসলিমদের জন্য সুখবর হল কুরআন নবী সময় ঠিক যেভাবে ছিল তার সম্পূর্ণতা সহ আজও বিদ্যমান।আর প্রাথমিক যুগের মুফাস্সিরে কোরআনের মুল্যবান তথ্যও আছে। 
    আল্লাহ আমাদেরকে কোরআন সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দেন সে দোয়া করি। 
     
     

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভালই বলেছেন। ধন্যবাদ।

  3. 3
    করতোয়া

    ট্রাভেলে আছি। ফাঁকতালে পোষ্টটা পড়লাম। সুন্দর হয়েছে। চালিয়ে যান। ফারুকের মন্তব্যের অপেক্ষায় আছি।

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ফাঁক তালে পড়তে পেরেছেন দেখে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।

    2. 3.2
      ফারুক

      @ করতোয়া,
      সালাম।
      এখানে মন্তব্য করার আসলেই কিছু নেই। কোন মুসলমান দাবীদারের কাছ থেকে এভাবে প্রকাশ্য কোরান অস্বীকার করার নজীর আর আছে কিনা সন্দেহ।

      “আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?” (৫৪-১৭)।

      এর বিপরিতে পোস্ট লেখকের হেডিং দেখুন- কোরআন বোঝা কি এত সোজা!!!
      এখন আপনিই ঠিক করুন -- কোরানের বাণী তথা  আল্লার কথা মানবেন নাকি পোস্ট লেখক ও কথায় কথায় মুরতাদ ঘোষনাকারীর ক্থা মানবেন?

  4. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    কোরান অনলিরা মুরতাদ আর এই মুরতাদগুলো সদালাপের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।তাদের গদাম দিয়ে সদালাপ থেকে বের করে দেয়ার জন্য সম্মানিত অ্যাডমিনের কাছে অনুরোধ রইল।

  5. 5
    সাদাত

    পোস্টটা কোন্ দিকে যাচ্ছে ঠিক ধরতে পারলাম না। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। তবে কুরআন অনলিদের সম্পর্কে আমার কথা হলো:
    ১. কুরআন তারা কিভাবে কোথায় পেয়েছে? আল্লাহ কি তাদের হাতে হাতে কুরআন ধরিয়ে দিয়েছে?
    ২. তাদের কাছে যে কুরআন আছে এটা যে সেই কুরআন যা আল্লাহ নাযিল করেছিলেন তর প্রমাণ কি?
    কুরআন-অনলিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যুক্তিবোধে। বিতর্কে না পরলে বলবে, "আমার যা বলার বলেছি", "কোরান পড়ুন" এই জাতীয় কথা বলে পিছটান দেবে।
    কুরআন-অনলিদের কাছে জিজ্ঞাসা -- এখানে শেষের কমেন্ট কয়টি দেখুন।
     

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      কোন দিকে যাচ্ছে না।  তাদের দেয়া ২নং ৩নং আয়াতের ব্যাখ্যা  তাদের দেয়া ১নং আয়াত দিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র। এখানে এক ঢিলে ২ পাখি তাড়ানোর চেষ্টা করেছি।
      পড়া আর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

    2. 5.2
      ফারুক

      @ সাদাত
      সালাম।
      যদি সময় পান , তবে নিচের পোস্টটি পড়েন।
      THE COMPILATION OF QURAN : FROM QURAN 

      1. 5.2.1
        সাদাত

        আপনার দেওয়া লিংক পড়লাম। পড়ে আবার সেই একই কথা মনে এলো: কুরআন-অনলি হলে কি যুক্তিবোধও হারিয়ে যায়। আমার প্রশ্ন বুঝুন।

  6. 6
    শামস

    মুনিম ভাই, ভাল লিখেছেন. 
     

    এই সব লোক ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত মুমিন ননপ্রকৃত আত্মসমর্পণকারীও নন।

     
    এনিয়ে আমার নিজের বুঝ অন্যরকম. আমি ঠিক প্রকৃত মুমিন বা আত্নসমর্পনকারী না বলে ইমান এর স্তর হিসেবে দেখতে চাই. আমাদের বিশ্বাস এর স্তরকে যদি পার্সেন্ট হিসেবে ধরেন তাহলে কারো কাছে বিশ্বাস হলো ৩০ ভাগ, ৫০ ভাগ, কারো ৭০ ভাগ ইত্যাদি. যার মধ্যে বিশ্বাস ৭০ ভাগ তার মধ্যে কি অবিশ্বাস বাকি ৩০ ভাগ! আসলে ঠিক তা না, আমি দেখি স্রষ্টা থেকে তার দুরত্ব হিসাবে. কেউ হয়ত ২০ ভাগ বিশ্বাস নিয়ে মুসলিম ঘরে জন্ম নেয়ার কারণে নিজেকে মুসলিম বলছে, কিন্তু তার দুরত্ব স্রষ্টা থেকে এত বেশি যে তাকে ঠিক মুসলিম বলে গণ্য করাটাই সমস্যা. এই দূরত্বের জন্যই স্রষ্টাকে উপলব্ধি করাটা কঠিন হয়ে যায়, ফলে অন্যয়, পাপ কাজ, ঘুস খাওয়া, দুর্নীতি করতেও বাধে না. আর আমরাও তাদের মুসলিম হিসেবেই দেখি. আল্লাহই ভালো জানেন কে মুসলিম আর কে অমুসলিম!
     

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      শামস ভাই সালাম, আমার মূল বিষয় কে মুসলিম আর কে মুসলিম নয় সেটি নয়। মূল বিষয় হচ্ছে আল কোরান বুঝতে যে সোজা বলে আল কোরআনের আয়াত ব্যবহার করে অতি সহজে সমীকরণ করা হচ্ছে তাকে খণ্ডান। কারণ আল কোরয়ানকে আল্লাহ তালা সেই সব লোকদের জন্য সোজা করে দিবেন যারা প্রকৃত অর্থে মুসলিম।  আর কেউ যদি প্রকৃত অর্থে মুসলিম হতে না পারেন তাহলে উনার মধ্যে ধারণ কৃত বিশ্বাস ( মানব সৃষ্ট ইজম ) এর প্রভাব দ্বারা কোরআন বুঝা সম্ভব হয়ে উঠবেনা। এই বিষয়ে আমি পরের পর্বে উল্লেখ করতে ইচ্ছা করছি।
      তবে এই সুযোগে  আমি উম্মতে মুহাম্মদী প্রধান উদ্দেশ্য কি হওয়া চাই তা উল্লেখ করে গেলাম। এবার যার যার বিবেক বিবেচনা! ধন্যবাদ।

      1. 6.1.1
        শামস

        মুনিম ভাই, কে কতটুকু মুসলিম সেটা প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করছে, আমি সেটার দিকে যেতে চাই না। আপনার 'প্রকৃতঅর্থে মুসলিম' না বলে ঈমানের স্তর দিয়ে তা বলতে চেয়েছে। যাক, ইগনোর করতে পারেন, কারণ নিয়ে কথা বাড়ালে অন্যদিকে টার্ন নিতে পাড়েন।
        পরের পর্বের অপেক্ষায়।
        ভালো থাকুন।
         

  7. 7
    KALAM

    আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? (৫৪-১৭)।
     
    তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন ………………….।৬:১১৪
     
     

    কোরান অনলিরা মুরতাদ

     
    এই ওহী কউ উপর নাজিল হইছে!!!
     

    1. 7.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      এই ভাবে টরে টক্কা মার্কা  সংক্ষিপ্ত কালাম না ছেড়ে গলা ঝড়ে কিছু বলেন তাহলে আমরা আপনার কাছ থেকে আলোকিত হতে পারতাম। ধন্যবাদ।

      1. 7.1.1
        এম_আহমদ

        সাহস থাকলেই তো করত। যে স্থানে কোরান অনলিরা মুরতাদ সেই স্থান ঘিলুশুন্য বুঝেনি তাই মূর্খামি করেছে মাত্র।   

  8. 8
    ahlul.quran

    সালামুন আলাইকুম
    কোরান অনলি কথাটা ভুল। শব্দটা হবে "আহলুল কোরআন"।
    কোরান অনলি-এর কোন মানে নাই। অনলি কোরআন বলে কিছু নাই, হতে পারেনা, হতে পারা সম্ভব নায়। কোরানেই আছে উত্তম কথা শূনতে। যার সাদামাটা মিনীঙ হল কোরান ছাড়াও ভাল বিষয়াদি শুনতে কোন সমস্যা নায়।
    আমরা যারা নিজেদের আহলুল কোরআন বলি, তাদের একটা মধ্যে কিছূ লোকের বাড়াবাড়ি রোগ রহিয়াছে। কিন্তু এর মানে এই না যে তারা মুরতাদ।
    আমি মুরতাদ নায়। "আহলুল কোরান" কাউকে আমি মুরতাদ মনে করিনা। মনে রাখবেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামও "আহলুল কোরান" ছিলেন। পিরিয়ঢ।
    বিনীত।
     

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমারব্লগে আপনাকে স্বাগতম!

Leave a Reply

Your email address will not be published.