[মনে করুন, আপনি আমার বন্ধু, পরম সত্যবাদি।
আপনার সাথে আমার যোগাযোগের মাধ্যম চিঠি।
আপনি ১২৩ নম্বর চিঠিতে আমাকে বললেন: “আপনাকে আগে একটা সুসংবাদ দিয়েছিলাম, মনে আছে?”
তাহলে এটা কি অবধারিত নয় যে ১২৩ নম্বর চিঠি বাদে অন্য একটা চিঠিতে আপনি আমাকে কোন একটা সুসংবাদ দিয়েছিলেন?
কিন্তু কোন চিঠিতেই যদি এই সুসংবাদ না পাওয়া যায়,
তখন এটা কি বলা যাবে না যে চিঠি ছাড়াও আমাদের মধ্যে যোগাযোগের অন্য কোন মাধ্যম আছে(যেমন: মোবাইল ফোন)?]
মূল পোস্ট:
মূলধারার মুসলিমরা হাদিসকে পরোক্ষ ওহি হিসেবে গণ্য করে। তারা মনে করেন আল-কুরআনের বাইরেও ওহি রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসত। তিনি তার ওপর আমল করতেন। তার কথা, কাজ এবং সম্মতির দ্বারা ওহি প্রকাশিত হত। তবে এই ওহির মর্ম আল্লাহ প্রদত্ত হলেও ভাষা/অক্ষর রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিজের।
কিন্তু কুরআন-অনলিরা হাদিসকে পরোক্ষ ওহি হিসাবে অস্বীকার করে, তাদের মতে কুরআনই একমাত্র ওহি।
এই লেখায় আমি কুরআন-অনলিদের দাবিকে স্বীকার্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে ৪টি প্রশ্ন করব:
স্বীকার্য:
আল-কুরআন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর কাছ থেকে আর কোন ওহি পান নাই। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর মাধ্যমে মুসলিমগণ আল্লাহর কাছ থেকে যা খবর/সংবাদ/আদেশ/নিষেধ পেতেন তার সবই আল-কুরআনে আছে।
এক.
এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।[২:১৪৩]
আয়াতের প্রসঙ্গ: প্রথমে মুসলিমগণের কিবলা ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস, পরে কা’বাকে কিবলা করা হয়।
তথ্য ও বিশ্লেষণ:
১. আল্লাহপাক ২:১৪৩ আয়াতে বলছেন রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) [কা’বার] পূর্বে কোন এক কেবলার [বায়তুল মুকাদ্দাস] ওপর ছিলেন।
২. সেই পূর্ববর্তী কেবলা নবী নিজে থেকে ঠিক করেন নাই, বরং আল্লাহই সেটাকে কেবলা করেছিলেন।
৩. স্বীকার্য অনুযায়ী, এই পূর্ববর্তী কেবলাটা আল্লাহপাক অবশ্যই আল-কুরআনের কোন আয়াতের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছিলেন।
প্রশ্ন:
আল্লাহপাক আল-কুরআনের কোন্ আয়াত দ্বারা পূর্বের কেবলা নির্ধারণ করেছিলেন?
দুই.
বস্তুতঃ আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে-তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন। অবশ্য তোমরা যদি সবর কর এবং বিরত থাক আর তারা যদি তখনই তোমাদের উপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত ঘোড়ার উপর পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন।বস্তুতঃ এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে সান্ত্বনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে, [৩:১২৩-১২৬]
আয়াতের প্রসঙ্গ:
আল্লাহপাক মু’মিনদের বদরের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যখন রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ফেরেশতাদের দ্বারা সাহায্যের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
তথ্য ও বিশ্লেষণ:
১. আল্লাহপাক ৩:১২৩-১২৬ আয়াতসমূহে পূর্বের একটি সুসংবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
২. সুসংবাদটা ছিল : আল্লাহপাক ৩ হাজার ফেরেশতা দ্বারা মু’মিনদের সাহায্য করবেন। সবর করলে, বিরত থাকলে, শত্রুরা তাদের ওপর চড়াও হলে চিহ্নিত অশ্বারোহী ৫ হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন।
৩. রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)সুসংবাদটা মু’মিনদের পৌঁছে দিয়েছিলেন।
৪. সুসংবাদটা কিন্তু আল্লাহপাক এই আয়াতগুলোতে দিচ্ছেন না, এখানে পূর্বে দেওয়া এই সুসংবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
৫. স্বীকার্য অনুযায়ী এই সুসংবাদটা আল্লাহপাক অবশ্যই আল-কুরআনের কোন আয়াতের মাধ্যমে প্রদান করেছিলেন।
প্রশ্ন:
আল্লাহপাক আল-কুরআনের কোন্ আয়াতের মাধ্যমে এই সুসংবাদ জানিয়েছিলেন?
তিন.
আর যখন আল্লাহ দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, সেটি তোমাদের হস্তগত হবে, আর তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কন্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক; অথচ আল্লাহ চাইতেন সত্যকে স্বীয় কালামের মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে, [৮:৭]
আয়াতের প্রসঙ্গ:
বদরের যুদ্ধের প্রাক্কালে আল্লাহপাক ওয়াদা করেছিলেন দু’টি বাহিনীর একটি মু’মিনদের হস্তগত করবেন
১. আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলা [মু’মিনরা এটা চাচ্ছিল]
২. কুরাইশদের যুদ্ধ বাহিনী [আল্লাহপাক এটা চাচ্ছিলেন]
তথ্য ও বিশ্লেষণ:
১. আল্লাহপাক ৮:৭ আয়াতে পূর্বের একটি ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
২. ওয়াদাটা কিন্তু এই আয়াতে করেন নাই।
৩. স্বীকার্য অনুযায়ী এই ওয়াদাটা আল্লাহপাক অবশ্যই আল-কুরআনের কোন আয়াতে করেছিলেন।
প্রশ্ন:
আল-কুরআনের কোন্ আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক এই ওয়াদা করেছিলেন?
চার.
তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন। [৫৯:৫]
আয়াতের প্রসঙ্গ: এক ইহুদি গোত্রের অবাধ্যতার জন্য মু’মিনরা আল্লাহর আদেশে তাদের কিছু খেজুর বৃক্ষ কেটে দেয়।
তথ্য ও বিশ্লেষণ:
১. আল্লাহপাক ৫৯:৫ আয়াতে পূর্বের একটি কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন: কাজটি ছিল কিছু খেজুর বৃক্ষ কাটা, কিছু খেজুর বৃক্ষ না কেটে ছেড়ে দেওয়া।
২. আল্লাহপাক বলছেন এই কাজটি আল্লাহপাকের নির্দেশ ছিল।
৩. এই আয়াতের আগেই খেজুর গাছ কাটা হয়ে গেছে।
৪. স্বীকার্য অনুযায়ী এই নির্দেশটা আল্লাহপাক অবশ্যই আল-কুরআনের কোন আয়াতে করেছিলেন।
প্রশ্ন:
আল-কুরআনের কোন্ আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক এই নির্দেশ করেছিলেন?
পরিশেষ:
আমরা হাদিস/সুন্নাহ স্বীকারকারি মুসলিমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহপাক ‘ওহি গাইর মাতলু’র দ্বারা এসব সুসংবাদ/আদেশ/ওয়াদা প্রদান করেছিলেন। যারা কুরআনকে একমাত্র ওহি মনে করেন তারা এসব আয়াত কিভাবে ব্যাখ্যা করেন?

আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ২:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ।
পড়ছি। পড়া শেষ করার আগেই একটা প্রশ্ন।
২য় চার্টটা আগে দেখিনি। এইটার বিষয়ে একটু বিস্তারিত বলবেন কি?
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
দুই দুই বার বিস্তারিত উত্তরটা দিতে গিয়ে কোথায় যেন চাপ পড়ে হাওয়া হয়ে গেল। এখন একটু বিরক্তি লাগছে। পরে আবার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ..
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
সংক্ষেপেই লিখলাম।
ওহি ২ প্রকার:
১. কুরআনের ওহিকে বলা হয় ‘ওহি মাতলু’ [পঠিতব্য ওহি]
১.১ এই ওহির মর্ম যেমন আল্লাহর তেমনি এর ভাষা/শব্দও আল্লাহর।
১.২ এই ওহিই কেবল কুরআনের অংশ। এই ওহিই কেবল সালাতে পাঠ করা যায়।
২. কুরআন ছাড়াও রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হতো। যাকে বলা হয় ‘ওহি গাইর মাতলু’ [অপঠিতব্য ওহি]
২.১ এই ওহির মর্ম আল্লাহর। কিন্তু এগুলো ভাষা/শব্দও আল্লাহর নয়।
২.২ এগুলো প্রকাশ পেয়েছে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাজ, কথা এবং সম্মতির মাধ্যমে।
২.৩ এই ওহি কুরআনের অংশ নয়, এগুলো ‘হিকমাহ’[Wisdom]-র অংশ। এই ওহি সালাতে পাঠ করা যাবে না।
Allâh has surely blessed the believers with His favor when He raised in their midst a Messenger from among themselves, who recites to them His verses and makes them pure and teaches them the Book and the Wisdom, while they were, earlier in open error. [3:164]
He (Allâh) is the One who raised up, among the unlettered, a Messenger from among themselves who recites the verses of Allâh, and makes them pure, and teaches them the Book and the Wisdom. [62:2]
বুড়ো শালিক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দেখা যাক, তারা কী বলেন!
আমার আরো কিছু বেসিক প্রশ্ন ছিলো। কুরআনে বলা আছে, “সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর।” কিন্তু কীভাবে করবো, তা কি বলা আছে? যদি বলা থাকে, তাহলে কোথায়? আর যদি না বলা থাকে, তাহলে কোত্থেকে সালাত ও যাকাতের নিয়মাবলী পেতে পারি?
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@বুড়ো শালিক:
সালাতের ব্যাপারে কুরআন-অনলিদের একেক জনের একেক মত।
৫ ওয়াক্ত, ৩ ওয়াক্ত, ২ ওয়াক্ত- একেক জনের একেক মত।
আবার,
কেউ প্রচলিত নিয়মে সালাত আদায় করে।
কেউ সালাত বলতে অন্য কিছু বুঝে।
বুড়ো শালিক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত: আমি আসলে তাদের বক্তব্য জানতে চাই নাই। আমি জানতে চাচ্ছিলাম, সালাত ও যাকাত কায়েম বা আদায়ের পদ্ধতির উপর কুরআনে কিছু বলা আছে কিনা।
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৩:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি ফারুকভাইয়ের কাছে থেকে একটা জবাব আশা করছি। বাশারভাই বা আইভিআপা যদি এই পোস্ট পড়েন, তাহলে তাদের কাছে থেকেও।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৩:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এর সমর্থনে কোরানের কোন স্পষ্ট আয়াত দিতে পারেন? যদি পারেন তো , মামলা শেষ। আর না পারলে নিজেদের কল্পনাপ্রসূত এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তাকে আল্লাহর ওহি বলে দাবী করার পরিণতি কী?
৬:১১৬ আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।
ওহি কি? এটা কি রসূল ও সকল মুসলিমের পরে অবতীর্ণ হোত , যেমনটি আপনি বলছেন? সেটাই আগে জেনে নেয়া যাক। দেখি কোরান কি বলে?
৭৫:১৬-১৯ তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওহী আবৃত্তি করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্ব। অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। এরপর বিশদ বর্ণনা আমারই দায়িত্ব। http://www.ourholyquran.com/index.php?option=com_content&view=article&id=243&Itemid=83
এই আয়াত থেকে কি এটা স্পষ্ট নয় যে , কোরানের আয়াতই ওহী এবং কোরানের সংরক্ষন ও বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব আল্লাহর নিজের। রসূলেকে কোরান অনুসরন করতেই বলা হয়েছে , এমনকি তার জন্য শেখাটাও জরুরী নয়।
আপনি কোরানের ৪ টি আয়াত দিয়ে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন? মূল যে প্রশ্ন , সেটা হলো কোরানের বাইরে কোন ওহী আছে কিনা? উত্তর হলো -- থাকলেও থাকতে পারে। কারন কোরান থেকে আমরা জানি আগের নবী রসূলদের কাছে এমনকি সাধারন মানুষের কাছে(লুকমান) ও আল্লাহর ওহি/হিকমাহ এসেছিল। সেগুলো কিভাবে এসেছিল আমি জানি না। একেকজনের কাছে একেকভাবে এসেছিল। এ পর্যন্ত আল্লাহর কাছ থেকে আসা সকল ওহিই কি আমাদের জানা ও পালন করা জরুরী? না এবং সেটা সম্ভব ও না। সে সকল ওহির মধ্যে যেগুলো মুত্তাকীনদের দিগনিদর্শনের জন্য প্রয়োজন তা কোরানে উল্লেখ আছে।
নিচের আয়াতটি লক্ষ্য করুন (খিয়াল কৈরা- কপি রাইট এন্টাইভন্ড)-
আল্লাহ মানুষকে দিয়েই সবকাজ করাতে পারেন , এর জন্য ওহী নাযিল করা লাগেনা।
ঠিক এমনিভাবে [২:১৪৩] রসূল যে কেবলার উপর ছিলেন , তা রেখেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং , এর জন্য ওহী নাযিল করা লাগেনা। [৩:১২৩-১২৬]রসূল যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে-তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন, এটা রসূলকে দিয়ে বলিয়েছেন আল্লাহ স্বয়ং , এর জন্য ওহী নাযিল করা লাগেনা। [৫৯:৫]মুমীনদেরকে দিয়ে আল্লাহ কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছেন এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছেন , এর জন্য ওহী নাযিল করা লাগেনা।
আল্লাহ ঠিক কিভাবে সকলের সাথে ওয়াদা করেছিলেন , তা কি বলতে পারেন? আমার তো মনে হয় এই আয়াতের মানে অন্য কিছু হবে। আয়াতটির মানে বুঝতে আগে পিছের আয়াতগুলো পড়ুন তথাকথিত শাণে নযুল ছাড়া , তাহলে বোধগম্য হতে পারে।
(ডিসক্লেইমার- এগুলো আমার নিজস্ব বুঝ (তাফসীর)। সকলকেই মানতে হবে এমন কোন কথা নেই। আল্লাহ ভিন্ন ভিন্ন মানুষ সৃষ্টি করেছেন , ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞাণ বুদ্ধি দিয়ে। সুতরাং সকলেই যে একরকম বুঝবেনা , এটাই স্বাভাবিক।)
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৫:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
১)
{{[২:১৪৩] রসূল যে কেবলার উপর ছিলেন , তা রেখেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং , এর জন্য ওহী নাযিল করা লাগেনা।}}
আল্লাহ অবশ্যই মানুষকে দিয়ে সবকাজ করাতে পারেন, এবং সেইজন্যে সত্যিই ওহি নাজিল করাটা জরূরি না।
তাহলে ওহি একেবারেই নাজিল করাটা অজরূরি হয়ে পড়লো না? আদৌ কোরান নাজিল করার তাহলে দরকারটা কী ছিলো বলেন তো দেখি? যা যা আল্লাহ মানুষকে দিয়ে করাতে চাচ্ছেন, তা করানোর জন্য কোরান নাজিলের মতো অনর্থক একটা কাজ আল্লাহ কেন করলেন?
২)
এই আয়াতটার পাশে এই আয়াতটাও দেখবেন:
এই আয়াতের প্রসঙ্গে কী বলবেন?
৩)
আয়াতটা এখান থেকে আর একবার পড়েন:
it was by permission of Allah এই কথাটা এমন একটা কথা যা আপনি ওহি নাজিল করা লাগে না বলে এড়াতে পারেন না। আল্লাহ যে পারমিশন দিলেন, সেইটা অবশ্যই ওহির মাধ্যমে এসেছিলো। কিন্তু কোরানে কোনো আয়াতে এইরকম কোনো পারমিশনের কথা কোথাও বলা হয় নি।
৪)
ওয়াদা করেছিলেন….এইটার অন্য কোনো অর্থ হতে পারে না। কোরান খুবই সিম্পল ফারুকভাই, এইটাকে আপনারা কোরান-অনলিরা যতই জটিল করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন না কেন, এইটা খুবই সিম্পল।
স্পষ্ট সরল ভাষায় বলা হচ্ছে যে ওয়াদা করেছিলেন….সেখানে এখানে অন্য কোনো অর্থ খোঁজার চেষ্টাটা কোরানের ভেতরে নিজেরই আগে থেকে ঠিক করা অর্থ খোঁজার বাহানা ছাড়া আর কিছু না।
এছাড়া এই দুটো লিংকও ১ এবং ২ দেখার অনুরোধ থাকলো।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৬:৩০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড: ১)
এ প্রশ্নটি কি আমাকে করলেন? আল্লাহকে করুন।
ভুল বুঝেছেন। যা যা আল্লাহ মানুষকে দিয়ে করাতে চান, তা বিনা ওহিতেই করান। কোরান নাজিল করেছেন , মানুষ নিজের ইচ্ছায় কিভাবে সঠিক পথে চলতে পারে , তার রাস্তা দেখানোর জন্য। সে কোরানের নির্দেশিত পথে চলতে ও পারে , আবার নাও পারে। এ ব্যাপারে মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।
২)মানুষ আল্লাহর কাছে দো’য়া করে কিছু পাওয়ার আশায় বা নালিশ ও করে কারো বিরুদ্ধে। এই দো’য়া বা নালিশ যখন আল্লাহ কবুল করেন , তখন কি জনে জনে ওহি পাঠিয়ে কবুলের সংবাদ দেন , নাকি দো’য়া বা নালিশের ফল পাইয়ে দিয়ে জানান দেন যে তিনি তাদের দো’য়া বা নালিশ কবুল হয়েছে?
৩)
পারমিশন দিলেন নাকি “তা তো আল্লাহরই আদেশ”যেমনটি সাদাত পোস্টে বলেছেন , সে বিতর্কে না যেয়ে বলতে পারি , মানুষ যা কিছুই করুক আল্লাহ না চাইলে সেটা কখনো করতে পারত না। এটাকে আপনি আপনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পারমিশন ও বলতে পারেন বা আল্লাহর আদেশ ও বলতে পারেন। যেমনটি আপনার অভিরুচি।
আমি কিছুক্ষন আগে রাত্রের খাওয়া খেয়েছি। আল্লাহর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পারমিশন ছিল বলেই না খেতে পেরেছি। এই খাওয়ার আগে আল্লাহ কি আমাকে পারমিশন দিয়ে ওহি পাঠিয়েছিলেন? কি জানি! আমি তো বুঝিনি ওহি পেয়েছিলাম কি না?
৪)
আচ্ছা বলুনতো -- কারা বলে কোরান খুব জটিল? কারা বলে হাদীস , তাফসির , শানে নযুল ছাড়া কোরান বোঝা যায় না? কারা বলে নিজের মত কোরান বুঝলে জাহান্নামে যাবে? কারা বলে কোরান স্ময়ংসম্পুর্ণ নয় , কোরানে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে , রাকাত কয়টি , যাকাত কতটুকু দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলো নেই? আরো বলব???
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আমি বলেছিলাম:
জবাবে আপনি বলেছেন:
তাহলে ওহি একেবারেই নাজিল করাটা অজরূরি হয়ে পড়লো না? —এই প্রশ্নটা আপনারই কথার উপর ভিত্তি করে করা। সুতরাং আপনাকেই তো করবো। আল্লাহ এধরণের কথাতো বলেন নি, সুতরাং তাকে করার প্রশ্নই আসে না।
রাসুলকে দিয়ে ওহি ছাড়া যদি আল্লাহ কেবলা নির্ধারণ করিয়ে ফেলেন, সেইটা আল্লাহই করাচ্ছেন, সেইটা বুঝার উপায় কী? রাসুল নিজেই বা সেটা কীভাবে বুঝবেন? অর্থাৎ, ধরেন আপনি আমি একটা কাজ করলাম, সেইটা কি আল্লাহই আমাদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন কি না। রাসুল সা. নিজেই যত সাধারণ কাজ করেছেন, সেগুলোর সবই আল্লাহই করাচ্ছেন কি না। সেই সাধারণ কাজগুলোর সাথে কেবলা নির্ধারণের কাজের পার্থক্য কোথায়?
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আমি বলেছিলাম:
আপনি জবাবে বলেছেন:
আপনি বোধহয় মনযোগ দিয়ে আয়াতটা পড়েন নি। অনুগ্রহ করে আর একবার কি পড়বেন?
৮:৯
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
When you sought aid from your Lord, so He answered you: I will assist you with a thousand of the angels following one another.
He answered you:… এবং এর পরের অংশটা দেখেন এবং ফরিয়াদের মঞ্জুরি দান দান করার ভঙ্গিটা খেয়াল করেন। ধরেন একজন ফকির ভিক্ষা চেয়েছে। আপনি দুইভাবে জবাব দিতে পারেন। ১) তাকে সরাসরি কোনো ভিক্ষা দিয়ে (কোনো কথা খরচ করা লাগবে না); ২) তাকে বলা, এদিকে আসো, দিচ্ছি…(এই কথার ভঙ্গিটাই বলে দেয় যে আপনি আসলে কথা বলছেন)।
এবার আয়াতটার দিকে খেয়াল করেন। এখানে ফরিয়াদের জবাবে আল্লাহ বলেছিলেন:
I will assist you with a thousand of the angels following one another.
আল্লাহ যে তখন এই জবাব দিয়েছিলেন, সেটা আল্লাহ এখন মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
এই জবাবের স্টাইলটাই বলে দেয় যে আল্লাহ ফরিয়াদ মঞ্জুর করার মাধ্যমে জবাব দেননাই, বরং সরাসরি কথা বলে (এখানে হবে ওহি পাঠিয়ে) জবাবটা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই জবাবটা কোরানে কোথাও নাই। এর অর্থ হলো, কোরানের বাইরেও ওহি আছে। সিম্পল।
এবার আপনার জবাবটা আবার পড়েন, দেখবেন, নিজেই নিজের জবাবের দূর্বলতা টের পেয়ে যাবেন।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড: ৮:৯
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
When you sought aid from your Lord, so He answered for you by assisting you with a thousand of the angels following one another.
দেখেন তো এরুপ অনুবাদ হলে সমস্যা থাকে কী না? فَاسْتَجَابَ لَكُمْ মানে answered for you। مُمِدُّكُم কিন্তু future tense ফর্মে না , past tense
ফর্মে লেখা আছে আরবিতে।
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই
অবশ্যই সমস্যা থাকে।
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
أَنِّي শব্দটার মানে হলো “নিশ্চয়ই আমি”।
أَنِّي -এর শেষে যে ي আছে সেটি ফার্সট পার্সন সিঙ্গুলার ইঙ্গিত করে।
আপনার দেওয়া অনুবাদ কোরানের আয়াতের মূল অর্থকে বিকৃত করে।
ভালো করে বুঝার জন্য এখান থেকে অনেকগুলো অনুবাদ একসাথে দেখেন।
مُمِدُّ শব্দটার মধ্যে পাস্ট টেন্স আপনি কীভাবে দেখলেন, সেইটাই বুঝলাম না। কোথাও পেয়ে থাকলে একটু শেয়ার করেন।
(এই ধরণের আলোচনাই আমার সবথেকে পছন্দ ফারুকভাই।)
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আমি বলেছিলাম:
জবাবে আপনি বলেছেন:
আপনার এই কথার অর্থ হলো, মানুষ যে জঘন্যতম কাজগুলো করে, সেটাও আল্লাহ পারমিশনের কারণেই সে করছে। রাসুল সা. কে যারা আঘাত করেছে, সেটাও আল্লাহর পারমিশণ ছাড়া করতে পারে না। তাই কি?
আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে এই খেজুর গাছ কাটার কাজটাও ঠিক সেইরকম আল্লাহর পারমিশনভিত্তিক আজ যেমন পারমিশনভিত্তিক কাজ হলো মানুষের ধর্ষণ কিংবা হত্যা করার ঘটনা?
ফারুক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড:
আগে বুঝুন আল্লাহর পারমিশন (بِإِذْنِ اللّهِ) টা কি জিনিষ , তাহলে আর এমন প্রশ্ন করতে পারতেন না। আল্লাহর পারমিশন ছাড়া কোন কিছুই ঘটে না।
বুঝতেই পারছেন , কারো এমনকি রসূলের ও অনিষ্ট করতে আল্লাহর পারমিশন লাগে।
এখানেও কি খেজুর গাছ কাটার মতো কোন লিখিত বা কোরান বহির্ভূত পারমিশন পাঠানো লেগেছিল , যেমনটি আপনি/আপনারা দাবী করছেন।
আল্লাহর পারমিশন (بِإِذْنِ اللّهِ)নিয়ে কোরানে বহু আয়াত আছে , সেগুলো পড়ুন। তাহলে আল্লাহর পারমিশনের (بِإِذْنِ اللّهِ) মানে উপলব্ধি করতে পারবেন।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
নিচের আয়াতটি আবারো পড়ুন-
ওরা যখন হত্যা করে বা মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করে , তখন ওরা কি জানত যে এটা ওরা করেনি? না , জানত না। কখন জানল? তখনি জানল , যখন আল্লাহ ৮:১৭ আয়াত দিয়ে জানালেন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আল্লাহ না জানানো পর্যন্ত , না রসূলের না কোন মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব , রসূল বা মানুষ কোন কাজ নিজেই করছে নাকি আল্লাহ করাচ্ছেন।
সেই সাধারণ কাজগুলোর সাথে কেবলা নির্ধারণের কাজের পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য তো আছেই। সাধারন কাজের সাথে ধর্মের সম্পর্ক নেই কিন্ত কেবলা নির্ধারণের সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে। এটার পার্থক্য আছে বলেই ২:১৪৩ আয়াত দিয়ে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন- আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, । আরো একটি জিনিষ খেয়াল করুন-আল্লাহ বলছেন, “আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম”। এখানে কি সময়ের উল্লেখ আছে? আল্লাহ কখন এটা করেছিলেন? যতদুর জানি ইব্রাহিমের সময় থেকে।
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আমি বলেছিলাম:
জবাবে আপনি বলেছেন:
আপনি কিন্তু মূল কথাগুলো এড়িয়ে গেলেন। ওয়াদা করেছিলেন….এইটার অন্য কোনো অর্থ হতে পারে না। কোরান খুবই সিম্পল ফারুকভাই, এইটাকে আপনারা কোরান-অনলিরা যতই জটিল করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন না কেন, এইটা খুবই সিম্পল।
____________________
>>আচ্ছা বলুনতো – কারা বলে কোরান খুব জটিল?
--এখন পর্যন্ত কাউকে আমি বলতে শুনি নি যে কোরান আসলে জটিল। তবে হ্যা, কোরান-অনলি কিছু লোক রয়েছেন যারা মুখে বলেন না বটে, তবে, যখনই নিজের মনের আগে থেকে ঠিক করা ধারণার বিপরীতে কোরানে কোনো আয়াত পান, তখন বলে ওঠেন, কোরান যদিও বলেছে এটা, আসলে বুঝিয়েছে ওটা। তাদের তাফসির শুনলে মনে হয় যে কোরান আসলে জটিলই বটে। কারণ সরল আয়াতগুলো তাদের মতে মোটেও সরল অর্থ দিচ্ছে না।
>>কারা বলে হাদীস , তাফসির , শানে নযুল ছাড়া কোরান বোঝা যায় না?
—-রাশাদ খলিফার হাদিস ছাড়া ছাড়া কোরান বোঝা যায় না, এরকম ইংগিত ইন্টারনেটে কোথাও শুনেছি। তাদের কথা আরো ভয়ানক, রাশাদ খলিফার হাদিস ছাড়া যে কোরান আল্লাহ হেফাজত করতে পারেন নি, সেটা রিট্রিভ করা যাবে ইত্যাদি কথা শুনেছি।
আর বলে কোরান অনলিগন। তারা যখন তাফসির করেন, তখন মনে হয় যে তাদের তাফসির ছাড়া এতদিন হেফাজত করতে ব্যর্থ হওয়া আল্লাহ কোরানকে আর কখনো উদ্ধার করতে পারবেন না। কোরান বুঝার তো প্রশ্নই আসে না।
>>কারা বলে নিজের মত কোরান বুঝলে জাহান্নামে যাবে?
এইকথা কাউকে সরাসরি বলতে শুনি নি। তবে “নিজের মত কোরান বুঝা” ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই হাস্যকর কথা। নিজের মতো কোরান বুঝা যদি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যই হবে তাহলে রাশাদ খলিফার নিজেকে রাসুল দাবী করাটা মধ্যে দোষের কিছু নেই। অথচ তিনি যদি রাসুল হন, তাহলে যারা তাকে কোরানের “নিজ বুঝ” অনুযায়ী মানলো না, তারা নিসন্দেহে কাফের। আবার তিনি যদি রাসুল না হন, তাহলে যারা কোরানের “নিজ বুঝ” অনুযায়ী তাকে মানলো, তারা নিসন্দেহে গোমরাহ। তাহলে “নিজ বুঝ” কী জিনিস?
ফ্রি-মাইন্ন্ডস-এর একটা পোস্টে দেখলাম, একজনের “নিজ বুঝ” অনুযায়ী মদ খাওয়া হারাম নয় (অথচ কোরানে থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যায় যে মদ হারাম)। আর একজন জানিয়েছেন, সমকামিতা নাকি কোরানে নিষেধ নাই।
ফ্রেশ কথাটা কী? ফ্রেশ কথাটা হলো, কোরানের “নিজ বুঝ” যদি সঠিক হয়, তাহলে জাহান্নামী হবেন না, আর যদি “নিজ বুঝ”বেঠিক হয়, তাহলে জাহান্নামী হবেন। এইটা কি যথেস্ট সিম্পল কথা না?
এই প্রসঙ্গে আর একটা কথা। কোরান অনলিরা অলরেডি যতগুলো দলে বিভক্ত হয়েছেন, সেগুলো তো “নিজ বুঝ” অনুযায়ীই। এইটা কি আপনি সাপোর্ট করেন?
>>কারা বলে কোরান স্ময়ংসম্পুর্ণ নয় ,
--এইটা আসলে আল্লাহই বলেছেন। বলেছেন এইভাবে যে রাসুলকে অনুসরণ করতে হবে। কোরান যদি স্বয়ংসম্পূর্ণই হতো, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই রাসুলকে অনুসরণ করতে বলতেন না। এইটা একটা অপ্রয়োজনীয় আয়াত হয়ে যেত।
বাইদাওয়ে, কোরানের কোথায় বলা আছে যে কোরান স্বয়ংসম্পূর্ণ?
>>কোরানে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে , রাকাত কয়টি , যাকাত কতটুকু দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলো নেই?
—এইটা আল্লাহ বলেছেন:
২৪:৫৬
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
And keep up prayer and pay the poor-rate and obey the Messenger, so that mercy may be shown to you.
নামাজ পড়তে হবে, এই আদেশের পরের প্রশ্নটাই হলো, নামাজ কীভাবে পড়বো? জাকাত আদায় করো, এই আদেশের পরের প্রশ্নটাই হলো, জাকাত কীভাবে আদায় করবো?
খুব সিম্পল জবাবটা দেখেন:
وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
obey the Messenger
অর্থাৎ রাসুল যেভাবে বলেন সেইভাবে।
আরো বলব???
____________________________________
এছাড়া এই দুটো লিংকও ১ এবং ২ দেখার অনুরোধ থাকলো।
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৫:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আপনার ডিডাকশনের সিস্টেমটা আমার শেখার খুবই আগ্রহ তৈরি হলো। এখান থেকে ঠিক কীবাবে বুঝা গেল যে কোরানের আয়াতই ওহী?
মনে হচ্ছে আপনি আরবিটা দেখেন নাই। আমি তুলে দিলাম:
৭৫:১৬
لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ
শাকির: Do not move your tongue with it to make haste with it,
৭৫:১৭
إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ
Surely on Us (devolves) the collecting of it and the reciting of it.
৭৫:১৮
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ
Therefore when We have recited it, follow its recitation.
৭৫:১৯
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ
Again on Us (devolves) the explaining of it.
এবার এখানে বলেন, কোথায় বলা আছে যে কোরানই ওহি? এবং কোথা থেকে আপনি পেল এন যে {{রসূলেকে কোরান অনুসরন করতেই বলা হয়েছে}}?
সম্ভবত ৭৫:১৮ আয়াতটির ভিন্নপাঠ আপনাকে এ্ইধরণের কোনো ধারণা দিয়ে থাকবে। আমি একটু খানি আলোচনা করছি:
৭৫:১৮
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ
Therefore when We have recited it, follow its recitation.
এখানে قَرَأْنَا ফার্স্ট পারসনে ভার্ব। “আমরা” কথাটা তাই এখানে স্পষ্ট। recitation নিয়ে আশা করি কারো কোনো ভুল ধারণা নাই। هُ মানে কী? আশা করি, বুঝবেন।
আবার আয়াতটির শেষ অংশে {{فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ}} এই অংশে قُرْآنَهُ-এর هُ মানে কী?
আমি যে-কয়টা অনুবাদ পেলাম, সবকটাতেই যুক্তিসঙ্গতভাবেই “ইহার পাঠ” বা “its recitation”
এবং শেষ অংশটার অর্থ: follow its recitation
করা হয়েছে। কোথাও এটাকে “কোরান অনুসরণ” করার কথা বলা হয় নি।
এবং নিশ্চিত থাকবেন,
গোটা কুরআনে একবারও——-
মাত্র একবারও———
কোনোভাবেই বলা নেই যে শুধু-কোরানকে অনুসরণ করো।
এটা আপনাদের কোরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া একেবারেই নিজস্ব একটা কথা। কোরান কখনোই এধরণের কথা বলে নাই।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ১১:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড:
যদি পণ করে থাকেন বুঝবেন না , তাহলে বোঝায় কার সাধ্যি? “কোরান অনুসরণ” করার কথা বলা হয় নি তো , follow its recitation দিয়ে কিসের অনুসরন করার কথা বলা হয়েছে? কোরানের নাম কোথা থেকে এসেছে জানেন? قُرْآنَ/recitation থেকে। আপনার দেয়া আরবি আয়াতটি ও দেখুন। فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ কোরান ছাড়া আর কোন গ্রন্থ বা কার বাণী recite করা হয়? তাহলে কি দাড়ালো? এই আয়াতে কোরানকেই অনুসরন করার কথা বলা হয়েছে।
কেন ৭৫:১৮
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ Therefore when We have recited it, follow its recitation. এটা আপনাকে সন্তুষ্ট করে না। আচ্ছা কোরান ছাড়াও অন্য কিছু অনুসরন করতে বলা হয়েছে , এমন আয়াত কি আছে?
১৭:৪৬ আয়াত টি এবং কিভাবে এর মানে বিকৃত হয়েছে সেটা পড়তে পারেন।
(Edip-Layth -- End Note 7 (17:46)
Those who do not acknowledge the hereafter with certainty will not understand the Quran, and they will claim that the Quran is difficult or even impossible to understand on its own. See 54:17,22,32,and 40. Traditional translations and commentaries somehow separate the word Quran” from the adjective (wahdahu = alone, only) that follows it. They translate it as “Lord alone in the Quran.” Though there are many verses emphasizing God’s oneness (see 39:45), this verse could be understood as another one emphasizing that message. However, this could be only a secondary meaning of this particular verse, since the adjective wahdehu is used not after the word Rab (Lord) but after the word Quran. In Arabic if one wants to say ‘Quran alone,’ the only way of saying it is “Quranun wahdahu.” The mathematical structure of the Quran too confirms our translation. For instance, the word wahdahu is used for God in 7:70; 39:45; 40:12,84 and 60:4. If we add these numbers we get 361, or 19x19. However, if we add 17:46, where the word wahdahu is used for the Quran, the total is not in harmony with the great mathematical system.
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
হাসতে গিয়ে বিষম খেলাম ফারুকভাই। আমি পণ করবো না-বুঝার? হাহাহাহা। আপনি কি চট করে বুঝে ফেলেছিলেন যে এই সেইম কথাটা আমিই আপনাকেই জিজ্ঞাসা করবো? হাহাহা। সেল্ফ ডিফেন্স, তাই না? হাহাহা। ঠিকাছে। আমি আর বলতে যাচ্ছি না।
কিন্তু যেটা আপনাকে শিখতেই হবে, সেইটা হলো, আমি যদি আপনাকে বলি রহিমকে ফলো করতে, এর মানে শুধু-রহিমকে ফলো করা নয়। রহিমকে ফলো করা এবং শুধু-রহিমকে ফলো করার মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। এই আয়াতে যদি “কোরানে ফলো” করার কথা হয়েই থাকে, তবু আমাকে বলেন কোথায় আছে শুধু-কোরান ফলো করতে হবে?
তারপর আমাকে বুঝান কীভাবে আপনি বুঝলেন যে এই আয়াতে আদৌ কোরানকে ফলো করতে বলা হয়েছে? কোরানকে ফলো করতে বলতে চাইলে আল্লাহ তো সিম্পলি কোরানকে ফলো করার কথাই বলতেন। কোরানের রিসাইটেশন ফলো করার কথা কেন বললেন?
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৬:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
প্রথমত ধরে নেন আমার দাবি ভুল। ওহি গাইর মাতলু বলে কিছু নাই।
দ্বিতীয়ত, একটা ভুল শুধরে নিন:
মুসলিমদের ওপর ওহি নাযিল হতো এমন কথা আমি বলি নাই।
“মুসলিমগণ আল্লাহর কাছ থেকে যা খবর/সংবাদ/আদেশ/নিষেধ পেতেন” বলতে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর মারফত পেতেন বুঝিয়েছি। বুঝবার সুবিধার জন্য বাক্যটা আরো ভেঙ্গে দিলাম:
এই লেখায় আমি কুরআন-অনলিদের দাবিকে স্বীকার্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে ৪টি প্রশ্ন করব:
স্বীকার্য:
আল-কুরআন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর কাছ থেকে আর কোন ওহি পান নাই। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা [তাঁর মাধ্যমে] মুসলিমগণ আল্লাহর কাছ থেকে যা খবর/সংবাদ/আদেশ/নিষেধ পেতেন তার সবই আল-কুরআনে আছে। [মূল পোস্টেও এডিট করে দিলাম]
ফারুক: মূল যে প্রশ্ন , সেটা হলো কোরানের বাইরে কোন ওহী আছে কিনা?
সাদাত: মূল প্রশ্ন বলে কোন কথা নাই, আমার প্রশ্ন ৪টা পৃথক, ৪টার উত্তরও পৃথক হওয়া চাই।
ফারুক: আল্লাহ ঠিক কিভাবে সকলের সাথে ওয়াদা করেছিলেন , তা কি বলতে পারেন?
সাদাত: কেন পারবো না? অবশ্যই রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মাধ্যমে। উম্মতের জন্য আল্লাহর আদেশ/নিষেধ/ওয়াদা এসব জানবার একমাত্র মাধ্যম আল্লাহর বার্তাবাহক নবী-রাসূলগণ।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত:
কেন , কোরান থেকে ওহি গাইর মাতলুর সমর্থনে কোন স্পষ্ট আয়াত দেখাতে পারলেন না? ওহি গাইর মাতলু বলে যদি কিছু না থাকে , তাহলে তো মুসলমানের জন্য অনুসরন করার জন্য কোরান ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ঠ থাকে না। সুতরাং এই প্রশ্নটির মিমাংসা অতীব জরুরী।
১) আল্লাহপাক আল-কুরআনের কোন্ আয়াত দ্বারা পূর্বের কেবলা নির্ধারণ করেছিলেন? আল্লাহ কোন আয়াতদ্বারা নয় বরং রসূল যে কেবলার উপর ছিলেন , তা রেখেছিলেন স্বীয় ক্ষমতাবলে আল্লাহ স্বয়ং।
২)আল্লাহপাক আল-কুরআনের কোন্ আয়াতের মাধ্যমে এই সুসংবাদ জানিয়েছিলেন? আল্লাহ কোন আয়াতদ্বারা নয় বরং স্বীয় ক্ষমতাবলে আল্লাহ স্বয়ং রসূলকে দিয়ে বলিয়ে ও সত্যি সত্যি সাহায্য করে এই সুসংবাদ জানিয়েছিলেন।
৪)আল-কুরআনের কোন আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক এই নির্দেশ করেছিলেন? আল্লাহ কোন আয়াতদ্বারা নয় বরং স্বীয় ক্ষমতাবলে আল্লাহ স্বয়ং মুমীনদেরকে দিয়ে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়ে এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়ে এই নির্দেশ করেছিলেন।
৩)
আপনার এই কথাটি তো কল্পনাপ্রসূত এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথা হয়ে গেল। আচ্ছা কোরান থেকে একটি আয়াত কি দেখাতে পারেন , যেখানে সরাসরি বলা হয়েছে , আল্লাহ রসূলের মাধ্যমে মানুষের কাছে কোন ওয়াদা করেছেন?
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
মূল আলোচনা হতে সরতে চাচ্ছি না। আপনি যেটা দেখতে চেয়েছেন সেটার আলোচনায় পরে আসা যাবে।
আমি ২ নম্বর পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করবো।
এন্টাইভণ্ড
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
কোরান থেকে ওহি গাইর মাতলুর কথাটা বুঝতে গেলে সিম্পল কয়েকটা যুক্তি আগে বুঝতে হবে।
আল্লাহ বলেছেন, মুহম্মদ সা.-কে অনুসরণ করতে হবে হেদায়াত পেতে হলে।
আল্লাহ বলেছেন, মুহাম্মদ সা. ওহি ছাড়া আর কোনো কিছু অনুসরণ করতে অনুমোদিত না।
আল্লাহ মুহম্মদ সা.-কে সালাত আদায় করতে বলেছেন। কিন্তু কোরানে সালাত কীভাবে আদায় করা যায় সেইটা বলেন নি। কিন্তু অবশ্যই একমাত্র আল্লাহই বলবেন সেইটা কারণ মুহম্মদ সা. আল্লাহ ওহি ছাড়া অন্য কোনো কিছু অনুসরণ করতে অনুমোদিত নন।
সুতরাং, সিম্পল লজিক বলে যে আল্লাহ মুহম্মদ সা.-কে সালাত যেভাবে আদায় করতে বলেছেন, মুহম্মদ সা. অবশ্যই ঠিক সেইভাবেই আদায় করেছেন। তারপর আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন, মুহম্মদ সা.-কে অনুসরণ করতে। ফলে আমরা ও জানবো যে সালাত আদায়ের আল্লাহর অনুমোদিত পন্থাটি কী?
এখন যেহেতু এই ওহিটুকুন কোরানে নাই, এবং কেবল এবং কেবল কোরানই নামাজে তেলাওয়াত যোগ্য, সেহেতু কোরানের ওহিটুকুনকে বলা হচ্ছে ওহিয়ে মাতলু। আর, যে ওহিটুকুন মুহম্মদ সা.-এর কাছে এসেছিলো এবং কোরানে অন্তর্ভুক্ত হয় নি, সেইটুকু কোরানে নাই বলে সেইটুকুন নামাজে তেলাওয়াতযোগ্য নয়। এ্ইজন্য এইটুকুনকে বলা হচ্ছে ওহিয়ে গায়রে মাতলু। এটা জাস্ট নামকরণের ব্যাপার।
তার মানে হলো, ওহিয়ে গায়রে মাতলুর কথা কোরানে অবশ্যই বলা আছে, তবে ঠিক এই নাম নিয়ে না, সেটি আছে “মুহাম্মদ সা.-কে অনুসরণ করা”র নির্দেশের মধ্যে এমবেডেড অবস্থায়।
_________________________
এবার আমাকে খুব সিম্পল একটা প্রশ্নের জবাব দেন,
মুহাম্মদ সা.-কে অনুসরণ করো-এই আদেশের অর্থ হলো, মুহাম্মদ সা.-এর কথা এবং কাজ দুটোরই অনুসরণ করো, কোরানে কি কোথাও আছে যে, না, মুহাম্মদ সা.-এর কাজকে অনুসরণ করো না? তার উপস্থাপিত কোরানের বাণী ছাড়া আর কোনো কিছু অনুসরণ করো না?
কিংশুক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৫:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
গ্যালারীতে বসলাম। নিশ্চিভাবে অনেক কিছু শেখা যাবে।
এস. এম. রায়হান
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৬:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আগে একাধিকবার বলেছি, আবারো বলছি, কোরান-অনলিদের সাথে ভুলেও কখনো হাদিস কিংবা কোরআন-বহির্ভূত কোন কিছু নিয়ে বিতর্কে জড়াবেন না। তাদের সাথে আগে কোরআন নিয়ে বিতর্ক করুন। কোরআন নিয়ে বিতর্কেই দেখবেন যে একজনও পাশ করতে পারবে না। তাদেরকে সরাসরি কিছু প্রশ্ন করুন। এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট জবাব না পাওয়া পর্যন্ত কোরআনের মধ্যেই প্রশ্নকে সীমাবদ্ধ রাখুন। যেমন:
১। তারা বর্তমান কোরআনকে পুরোপুরি আল্লাহর বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর “না” হলে আর এগুনোর কোনই দরকার নাই নিশ্চয়। তবে উত্তর “হ্যাঁ” হলে পরের প্রশ্নে চলে যান।
২। তারা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সর্বশেষ নবী তথা কোরআনকে আল্লাহর সর্বশেষ বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে কিনা?
৩। বর্তমান কোরআন যে আল্লাহর বাণী -- এটা তারা কীভাবে জেনেছে? কোন একটি গ্রন্থে ‘আল্লাহর বাণী’ লিখা থাকলেই তো সেটি এমনি এমনি আল্লাহর বাণী হয়ে যায় না।
৪। তারা কোরআনে উল্লেখিত সালাত ও হজ্জ্ব কীভাবে পালন করে?
নিদেনপক্ষে এই চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে হাদিস কিংবা কোরআন-বহির্ভূত কোন বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর কোনই মানে থাকতে পারে না।
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৬:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এস. এম. রায়হান:
এই পোস্টে উল্লেখকৃত হাদিস সংক্রান্ত আলোচনাটুকু শুধুমাত্র হাদিস-স্বীকারকারিদের অবগতির জন্য; মূল বিতর্কে সেটার কোন ভুমিকা নাই। কুরআন-অনলিরা সেই অংশটুকু নিশ্চিন্তে ইগনোর করে আমার করা ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন।
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ at ৬:৪০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ফারুক ভাই,
আপনি দুইটি বিষয়কে এক করে ফেলছেন:
১. করা/করানো
২. জানানো
১.
মানুষকে দিয়ে আল্লাহ যা ইচ্ছা করিয়ে নিতে পারেন, কোন সন্দেহ নাই। মানুষ যখন শত্রুকে উদ্দেশ্য করে মাটি নিক্ষেপ করে, তখন সেই নিক্ষিপ্ত মাটিকে মানুষের অগোচরে আল্লাহ নিজেই শত্রুর চোখ পৌঁছিয়ে দিতে পারেন। এভাবে আপাত: দৃষ্টিতে মানুষ করছে এমন কোন কাজ আসলে পশ্চাতে আল্লাহই সম্পাদন করে দিতে পারেন। এতে দ্বিমত করার কিছু নাই।
২.
কিন্তু কথা হলো কোন কাজ আসলে মানুষ নিজেই করছে নাকি আল্লাহপাক তাকে দিয়ে করাচ্ছেন এটা মানুষ জানবে কী করে? এটা মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব না যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহপাক তাকে না জানাচ্ছেন।
আমার এক কথাটুকু কি আপনি বুঝলেন?
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ১২:৪৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত:
১. একটু যোগ করি। মানুষের ইচ্ছাটাও আল্লাহর অধীন। আল্লাহ না চাইলে মানুষের ইচ্ছা ও হবে না। আল্লাহ কি সব সময় মানুষের সকল ইচ্ছা ও কাজে হস্তক্ষেপ করেন? উত্তর -- না।
২.হ্যা বুঝেছি।
সরোয়ার
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়লাম! গ্যালারিতে আমিও বসলাম!
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ১২:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সাদাত:আল্লাহপাক আল-কুরআনের কোন্ আয়াতের মাধ্যমে এই সুসংবাদ জানিয়েছিলেন?
ফারুক:আল্লাহ কোন আয়াতদ্বারা নয় বরং স্বীয় ক্ষমতাবলে আল্লাহ স্বয়ং রসূলকে দিয়ে বলিয়ে ও সত্যি সত্যি সাহায্য করে এই সুসংবাদ জানিয়েছিলেন।
সাদাত:
বস্তুতঃ আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে-তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন। অবশ্য তোমরা যদি সবর কর এবং বিরত থাক আর তারা যদি তখনই তোমাদের উপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত ঘোড়ার উপর পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন।বস্তুতঃ এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে সান্ত্বনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে, [৩:১২৩-১২৬]
এই আয়াতের বক্তব্য অতীতকালকে নির্দেশ করছে :
“আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”
“আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে….”
তার মানে আয়াত নাযিল হবার আগেই রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুসংবাদ দিয়ে ফেলেছেন।
এখন আপনি বলছেন স্বীকার করছেন, এই সুসংবাদটা আল্লাহপাক কুরআনের পূর্বের কোন আয়াত দ্বারা দেন নাই। বরং আল্লাহপাক “স্বীয় ক্ষমতা” বলে রাসূলকে দিয়ে বলিয়েছিলেন।
আল্লহপাক সবকিছু স্বীয় ক্ষমতা বলেই করেন। যখন ওহি প্রেরণ করেন তখনও স্বীয় ক্ষমতা বলেই ওহি প্রেরণ করেন। নাকি সেখানে সেটা স্বীয় ক্ষমতাবলে করেন না?
কাজেই আপনি স্বীকার করছেন যে আল্লাহ এই সুসংবাদ স্বীয় ক্ষমতাবলে ‘কুরআনের ওহি’ দিয়ে জানান নাই, স্বীয় ক্ষমতাবলে অন্য কোনভাবে জানিয়েছেন। এইখানে আপনি কুরআনের ওহির বাইরে আল্লাহ এবং রাসূলের যোগাগের অন্য একটি উপায়কে স্বীকার করে নিচ্ছেন। তাই নয় কি?
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ১:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত:
আপনি কথার মার প্যাচ দিয়ে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। আবারো ভুল কর্লেন। আল্লাহ স্বীয় ক্ষমতাবলে রসূলকে দিয়ে বলিয়েছেন , ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করেছেন এবং [৩:১২৩-১২৬] কুরআনের ওহি/আয়াত দিয়েই (বস্তুতঃ এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন,) এটা যে সুসংবাদ ছিল তা সকলকে জানিয়েছেন।
কুরআনের ওহির বাইরে আল্লাহ এবং রাসূলের মাঝেই শুধু নয় , আমি , আপনি সহ সকল মানুষের সাথেই আল্লাহর যোগাযোগের শুধু একটি নয় , বহু উপায়ের কথা আমি স্বীকার করে নিচ্ছি।
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ৫:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
১. কথার মারপ্যাঁচ আমি করি না। বরং চিন্তার প্যাঁচগুলোকে যুক্তি দিয়ে খুলতে চেষ্টা করি।
২. ভুল যে করি নাই আপনার নিচের বক্তব্যই তার প্রমাণ।
আপনার স্বীকারোক্তি:
“কুরআনের ওহির বাইরে আল্লাহ এবং রাসূলের মাঝেই শুধু নয় , আমি , আপনি সহ সকল মানুষের সাথেই আল্লাহর যোগাযোগের শুধু একটি নয় , বহু উপায়ের কথা আমি স্বীকার করে নিচ্ছি।”
আশা করি কথাটা ভেবেচিন্তে বলেছেন এবং এটার ওপর অনড় থাকবেন।
আপনার কথা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর আদেশ/নিষেধ/ওয়াদা এসব জানতে পারতেন ২ ভাবে:
১. ‘কুরআনিক ওহি’র মাধ্যমে।
২. নন’কুরআনিক ওহি’র মাধ্যমে(এটি আবার বহু উপায়ে হতে পারে)।
এই পর্যন্ত একমত কিনা জানান। [আমি আপনাকে কোন কথার প্যাঁচে ফেলছি এমন ভাববেন না, আপনার চিন্তাগুলোকেই একটু সাজিয়ে লিখছি]
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১ at ৯:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত:
না একমত না।
১. ‘কুরআনিক ওহি’র মাধ্যমে, এ পর্যন্ত ঠিক আছে।
২. নন’কুরআনিক ওহি’র মাধ্যমে(এটি আবার বহু উপায়ে হতে পারে), আপনি আবারো আমার কথাকে বিকৃত করলেন বা আমার মুখে কথা জুগিয়ে দিলেন। “নন’কুরআনিক ওহি’র” কথা আমি আবার কখন বল্লাম? সারাক্ষন বলে চলেছি আল্লাহ স্বীয় ক্ষমতাবলে মানুষকে দিয়ে যে কোন কাজ করাতে পারেন , বা তাদের দোয়া কবুল করতে পারেন দোয়া অনুযায়ী ফল দিয়ে , এর জন্য ওহি পাঠানো লাগে না। আর আপনি ঘুরে ফিরে সেই নন’কুরআনিক ওহি’র কথা বলেই চলেছেন। এতবার বল্লাম -- একটি স্পষ্ট আয়াত দেখান , যেখানে নন’কুরআনিক ওহি অনুসরন করতে বলা হয়েছে , সেটা না করে কথার প্যাচ কষেই চলেছেন।
9.1 এ কি জবাব দিয়েছি আবারো পড়ুন-
নন’কুরআনিক ওহি নয় , কোরানের আয়াত দিয়েই সুসংবাদ জানিয়েছেন।
সাদাত
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১:১১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
নন-‘কুরআনিক ওহি’ -এই টার্মটা দ্বারা বুঝিয়েছি Something that is not Quranic Wahi.
আপনি তো স্বীকার করেছেন কুরআনিক ওহির বাইরেও আল্লাহ রাসূলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন (এমনকি মানুষের সাথেও) বহু উপায়ে।
তাহলে এখানে সুস্পষ্টভাবে যোগাযোগের দুইটা প্রকার পাওয়া যাচ্ছে:
১. কুরআনিক ওহি (এতে আপনি একমত)
২. এমন কিছু যা কুরআনিক ওহি নয় -- আলোচনার সুবিধার্থে আমি এটাকে নন-‘কুরআনিক ওহি’ {নয় যা কুরআনিক ওহি}বলেছিলাম। {খুব খেয়াল কইরেন “নন-কুরআনিক ওহি” {কুরআন বহির্ভূত ওহি} বলি নাই। কাজেই আমার মনে হয় না আমি আপনার মুখে কথা গুঁজে দিয়েছিলাম। তারপরও এই টার্মে আপনার আপত্তি থাকলে, আপনি নিজেই একটা টার্ম তৈরি করে দেন- আলোচনার সুবিধার্থে ‘এমন কিছু যা কুরআনিক ওহি নয়’ এইটার এইটা সংক্ষিপ্ত নাম দরকার।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১১:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত: দেখুন কিভাবে শব্দের পরিবর্তন করছেন-
১)নন’কুরআনিক ওহি’
২)নন-’কুরআনিক ওহি’ (এখানে একটি “-” যোগ হয়েছে , ফলে মানে ও পরিবর্তন হয়েছে)
আবারো ভুল কর্লেন। সুস্পষ্টভাবে যোগাযোগের প্রকার ১ টি -- ‘কুরানিক ওহি’। এর বাইরে যে যোগাযোগ , তার প্রকার একাধিক , ভিন্ন এবং এটা ওহি ও নয় বা সুস্পষ্ট ও নয়। কারন ‘কুরানিক ওহি’র বাইরে আল্লাহ যে যোগাযোগ রাখছেন , সে ব্যাপারে যোগাযোগ কৃত ব্যাক্তি অজ্ঞ।
সাদাত
অক্টোবর ৪, ২০১১ at ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
আপনি একবার বললেন:
এখন বলছেন:
আপনার এই দুইটা মন্তব্য কি কন্ট্রাডিক্টরি হয়ে গেল না? নাকি আপনি এরই মধ্যে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
অ.ট. “-” এর কারণে অর্থের পরিব র্তন হওয়ার কথা না, সেটা ইচ্ছাকৃতও না।
ফারুক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১ at ১১:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড ,
রাশাদ খলিফার হাদিস ও আছে নাকি? এটা একটা খবর-ই বটে। আর কোন ইংগিত ইন্টারনেটে শোনেন নি? রাশাদ খলিফা নিয়ে এত কথা না লিখলেও চলত। কারন আগেই বলেছি , আমি আমার বুঝ অনুযায়ী চলি। আমার কোন ঈমাম নেই , মোল্লাও নেই।
কথাটা ঠিকি বলেছেন , অবশ্যই সিম্পল। যাদের (হাদীস , ঈমাম , মোল্লা মাওলানা , পীর ফকির , চোর বাটপার)বুঝকে সত্য বলে মেনে চলছেন , সেই বুঝ যদি বেঠিক হয় , তাহলে কী জাহান্নামী হবেন না? আমি ভাই নিজের বুদ্ধিতে ফকির হতে রাজি আছি , অন্যের বুদ্ধিতে বড়লোক হতে রাজি নই।
আল্লাহর আদেশের পরেই কি উচিৎ নয় , বিনা বাক্য ব্যায়ে ও প্রশ্নে , সেই আদেশ পালন করা। এ প্রসঙ্গে কয়েকটা আয়াত দিলাম- চিন্তা করার জন্য।
২:২৮৫ …….. তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি।……..
৫:১০১ হে মুমিণগন, এমন কথাবার্তা জিজ্ঞেস করো না, যা তোমাদের কাছে পরিব্যক্ত হলে তোমাদের জন্য কষ্টকর হবে। যদি কোরআন অবতরণকালে তোমরা এসব বিষয় জিজ্ঞেস কর, তবে তা তোমাদের জন্যে প্রকাশ করা হতেও পারে। অতীত বিষয় আল্লাহ ক্ষমা করেছেন আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।
২:৬৭ যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন।
৫:৯৯ রসূলের দায়িত্ব শুধু পৌছিয়ে দেওয়া। আল্লাহ জানেন, যা কিছু তোমরা প্রকাশ্যে কর এবং যা কিছু গোপন কর।
এন্টাইভণ্ড
অক্টোবর ১, ২০১১ at ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
এইখানে আপনাকে কোনো খোচা দেই নাই। রাশাদ খলিফা কোরান অনলিদের অসংখ্য গ্রুপগুলোর একটা। সেইজন্য তার কথা এসেছে। হাউএভার, এইখানে ক্রিমিনাল ড.শাব্বির আহমেদের কথা আসতে পারতো, যাদের কথা আপনি/আপনারা অন্ধের মতো মেনে চলেন। মুখে “ইমাম নেই; মোল্লা নেই” বলেন, কিন্তু এই ক্রিমিনালটার কথা চোখ বুজে আপনারা মেনে চলেন।
আর, আপনি আপনার নিজ বুঝ অনুযায়ী চলেন কি না, এইটা নিয়ে কয়েকবারই খুব সিরিয়াস সন্দেহে পড়েছি, আপনি তার সুষ্ঠু জবাব দিতে পারেননি। হয় এই “ইমাম” নয়তো ঐ “মোল্লা”র প্রবন্ধ থেকে কপি পেস্ট করে বাংলাতে উপস্থাপন করা ছাড়া আর ঠিক কী করেছন কোন বিষয়ে, সেটা একটু জানাবেন কি? আপনার নিজ বুঝ বলতে যদি আপনি অন্যের প্রবন্ধ নাম গোপন করে নিজ নামে প্রকাশ করাকে বুঝান, তাহলে আমি বরং বলি, “নিজ বুঝ” শব্দগুলো আপনি আসলে ঠিকমতো বোঝেন নি। “নিজ বুঝ” একটু ভিন্ন জিনিস।
ফারুক
অক্টোবর ১, ২০১১ at ১:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড:
এই কথার প্রতিবাদ করলাম। নইলে ভাবতে পারেন , এটাই সত্য।
এন্টাইভণ্ড
অক্টোবর ১, ২০১১ at ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই: মুখে প্রতিবাদ করলেন, আর, বাস্তবে অন্ধ অনুসরণ করলেন, তাহলে প্রতিবাদের ফল কী হলো?
ড. শাব্বির আহমেদকে আপনি এতই অন্ধভাবে অনুসরণ করেন যে তার বেশ কতগুলো প্রবন্ধ, উইদাউট ক্রসচেকিং, আপনি অনুবাদ শুরু করে দিয়েছিলেন। সাদাতভাই তার দুইটা প্রবন্ধে (সতর্ক সংকেত ১: ব্লগার ‘ফারুক’ যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, সতর্ক সংকেত ২: ব্লগার ‘ফারুক’ যেভাবে তথ্যবিকৃতি ঘটিয়ে থাকেন) সেগুলো ধরিয়ে দেবার পরও আপনার ইমামের উপর থেকে আপনার অন্ধ ইমান যায় না। চিন্তা ড. শাব্বিরের, অথচ আপনার প্রকাশে মনে হয়েছিলো যে সেটা আপনারই চিন্তা। অন্ধ চিন্তার এই এক আশ্চর্য বিরল প্রকাশ। সেই চিন্তাটাও আপনি প্রকাশ করলেন কোনো ক্রসচেকিং ছাড়া। এবং তারপর সাদাতভাই যখন আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো যে আপনার ইমাম ড. শাব্বির আহমেদ কোথায় বটপারিগুলো করেছে (সাদতভাই অবশ্য সেগুলোকে আপনার ভুল হিসেবে সেগুলোকে দেখিয়েছে), তখনো আপনার ইমান যায় না। আপনি আজ পর্যন্ত সেটার জন্য কোথাও সরি বলেন নি।
অথচ আজ এবং প্রায়ই, আপনি অন্যের, কোরান বুঝার সময় কয়েকজন জ্ঞানী মানুষের মতামত সামনে রাখাকে অন্ধ অনুসরণের সাথে তুলনা করেন। খুবই আশ্চর্য হয়ে গেলামভাই।
এন্টাইভণ্ড
অক্টোবর ১, ২০১১ at ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আমার এই কথার জবাবে আপনি বলেছেন,
{{যাদের (হাদীস , ঈমাম , মোল্লা মাওলানা , পীর ফকির , চোর বাটপার)বুঝকে সত্য বলে মেনে চলছেন , সেই বুঝ যদি বেঠিক হয় , তাহলে কী জাহান্নামী হবেন না?}}
আপনার এই মন্তব্যটা পড়ে খুবই অবাক হলাম।
আপনি এইখানে ইঙ্গিত করেছেন যে আমি নিচে উল্লিখিত দের বুঝকে সত্য বলে মেনে চলেছি:
১) হাদিস
২) ঈমাম
৩) মোল্লা মাওলানা
৪) পীর ফকির
৫) চোর বাটপার
আসেন পর্যালোচনা করি।
১) হাদিসের বুঝকে কি আমরা সত্য বলে মেনে নিয়েছি?
অবশ্যই না। সেইটই যদি হতো, তাহলে কি হাদিসের সত্যতা নির্ণয়ের জন্য আলাদা স্টাডির দরকার হতো? হাদিস কারা বর্ণনা করছে, সেইটা জানার প্রয়োজন হতো? হাদিস যারা বর্ণনা করছে. তাদের চরিত্র কেমন ছিলো, সেইটা জনার প্রয়োজন হতো? তাদের ভিতরে কেউ যদি ড. শাব্বির আহমেদের মতো চরিত্রের ধারের কাছ দিয়েও হতো, তাহলেও তাকে এবং তার যাবতীয় বর্ণনাকে বাদ দেবার প্রয়োজন হতো? সত্য বলেই যদি মেনে নেবো, তাহলে পরীক্ষা নিরীক্ষা যাচাই বাছাই শেষে কিছু হাদিসকে কেন গ্রহণ করবো, আর কিছু হদিসকেকে রিজক্ট করবো?
এতদিনের আলচনা থেকে আপনি এখন পর্যন্ত বুঝতে পারেন নি যে হাদিস আমাদের কাছে প্রধান বিষয় না। হাদিস থেকে মুহম্মদ স.-এর আল্লাহর হুকুম মানার পদ্ধতিকে অনুসরণ করতে স্বয়ং আল্লহই বলে দিয়েছেন। সুতরাং কেউ যদি আল্লাহকে আসলেই মানে, কুরআন আসলেই অনুসরণ করে, তাহলেই সে অবশ্যই জানতে চেষ্টা করবে যে মুহম্মদ সা. কীভাবে আল্লাহর হুকুম মানতেন। সুতরাং হাদীসগুলো স্টাডি করার একটাই কারণ, সেইটা হলো, মুহম্মদ সা. আল্লাহর হুকুম কীভাবে পালন করতেন, সেইটা জানা।
২,৩,৪) ইমামদেরকে বা মোল্লা মাওলানাদের বা পীর ফকিরদেরকে কি আমরা সত্য বলে মেনে নিয়েছি?
প্রশ্নই আসে না। তাহলে তাদের প্রতিটা কথা আলোচনা আমরা কোরান হাদিস দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতাম না। আপনি এইসম্পর্কে আপনার ইমাম/মোল্লাদের দ্বারা বর্ণনাকৃত রচনায় অন্ধবিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছু পড়াশুন করেন নি, এইজন্য তিনারা যা বলেন, তার বেশি কছু জানেনও না।
এই যে ইমামদের কথা শুনেছেন, তার অধিকংশই ছিলেন একজন আর একজনের ছাত্র। যদি ইমামকে সত্য বলেই মেনে নিতেন তারা, তাহলে কি নতুন চিন্তার জন্ম হতো??? শুধু তাই না, আপনার সাথ আমার এতদিনর আলাপ, কোনো দিন আপনাক আমি কোনো ইমামের ব মুফাস্সিরের বা মোল্লা মাওলানাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আপনার ভুল ধরেছি? ইমামের কথা বাদ দেন, কোনোদিন কোরান ছাড়া আর কোনো উৎস কি আমি ব্যবহার করেছি?
৫) চোর বাটপারকে কি আমরা সত্য বলে মেনে নিয়েছি?
এখানে আপনি চোর বাটপার বলতে কাকে বুঝাচ্ছেন? কোন চোর বাটপারকে আমি বা আমরা সত্য বলে মেনে নিয়েছি?
এই নোংরা ইঙ্গিতটা না করলেই কি ভালো হতো না?
আপনি কিন্তু বেশ কতবার অন্যের লেখা চুরি করে নিজ নামে নিজ বুঝের প্রকাশ হিসেবে দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। ড. শাব্বির আহমেদ যে একজন প্রকৃত বাটপার, সেইটা আপনার এতদিনে বুঝে যাওয়া উচিত।
চোর বাটপারকে সত্য বলে মেনে নেবার দায়টা আসলে কি আপনার উপরেই গিয়ে পড়ে না?
____________________
এই আলোচনা থেকে আমরা বুঝাতে চাইলাম যে ইমাম বা আলেম-উলামাদের মতামতকে আমরা ঠিক সেই গুরুত্ব দিই, যেই গুরুত্ব আমরা দেই একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে একজন জ্ঞানী লোকের মতামতকে। আপনি যদি কোরানের উপরে আসলেই “নিজে” পড়াশুনা করেন, “নিজে” চিন্তা করেন, তাহলে বলা যায় না, একসময় আপনার চিন্তাকেও আমরা গুরুত্ব দেবো। আল্টিমেটলি আপনার মতামতকেও যাচাই বাছাই করা হবে সেই কোরান এবং বিশুদ্ধ বলে আলাদা করতে পারা হাদিসগুলোর আলোতে। আবার বলছি, বিশুদ্ধ বলে আলাদা করতে পারা হাদিসগুলোর গুরুত্ব শুধু এইখানে যে সেগুলো জানায় মুহম্মদ সা. কীভাবে কী করেছিলেন? সেইটা গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে সেইটা না জানতে পারলে আমরা কোরানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু আয়াত মানতে পারবো না। সেইটা যদি না পারি, তাহলে কোরান বলেছে যে আমরা হেদায়াত পাবো না। সিম্পল।
এন্টাইভণ্ড
অক্টোবর ১, ২০১১ at ২:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুকভাই:
আমার এই কথাটার জবাবে আপনি বলেছেন:
{বিনা বাক্য ব্যায়ে ও প্রশ্নে } বলতে আপনি যদি বুঝিয়ে থাকেন যে না বুঝেই কাজ সারতে হবে, তাহলে আমি বলবো আপনি বুঝতেই পারেন নি। কোরানের প্রতিটা কথা বুঝে শুনে পালন করবেন, নয়তো দেখবেন আল্লাহ বলছেন এক জিনিস, আর আপনি করছেন আর এক জিনিস, অথচ আপনার মনে হচ্ছে যে আপনি ঠিক ঐটাই করছেন। {আমরা শুনলাম এবং মানলাম} এই কথার ভেতরেই বুঝা যাচ্ছে যে যা শুনলাম তা বুঝে নিয়েই তারপর মানলাম, কারণ না-ই যদি বুঝলাম, তাহলে মানলাম কীভাবে,তাই না? এখন ভালো করে বুঝে দেখেন, ২৪:৫৬-এর সেই আয়াতটা:
২৪:৫৬
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
And keep up prayer and pay the poor-rate and obey the Messenger, so that mercy may be shown to you.
এই আদেশটা বুঝে মানার জন্য আপনাকে আগে বুঝতে হবে নামাজ কীভাবে পড়তে হবে? বা মোর স্পেসিফিকালি সালাত কীভাবে কায়েম করতে হবে? জাকাত কীভাবে আদায় করতে হবে?
খুব সিম্পল জবাবটা দেখেন:
وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
obey the Messenger
অর্থাৎ রাসুল যেভাবে বলেন সেইভাবে।
এই অবস্থায় দেখুন ৩:৩১ নং আয়াত:
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
Say, [O Muhammad], “If you should love Allah , then follow me, [so] Allah will love you and forgive you your sins. And Allah is Forgiving and Merciful.”
খুব ভালো করে একটা কথা খেয়াল করেন ফারুকভাই,
সালাত কায়েম মুহম্মদ সা. যেইভাবে করেছেন, সেইটা অনুসরণ না করে যদি আপনি অন্য কোনো পথ অনুসরণ করেন, তাহলে আপনি কিন্তু মুহম্মদ সা.-কে অনুসরণ করলেন না। যদি সেইটা না করেন, তাহলে কোরানের এই আয়াত অনুসারে, আপনি আল্লাহকে ভালোবাসেন না।
ফারুক
অক্টোবর ১, ২০১১ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড: আগে বহুবার এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। নুতন কিছু বলার নেই। যারা আমার বক্তব্য জানতে ইচ্ছুক , তারা “রসূলকে মান্য করা বা অনুসরন করা” , আমার এই পোস্ট পড়ে দেখতে পারেন।
http://faruk55kw.blogspot.com/2011/09/blog-post.html
এন্টাইভণ্ড
অক্টোবর ১, ২০১১ at ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ফারুকভাই
আপনার এই মন্তব্যটা ক্লিয়ার করেন।
ফারুক
অক্টোবর ১, ২০১১ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এন্টাইভণ্ড: উত্তর তো ঐ মন্তব্যের সাথে দেয়াই আছে।
আপনি ঠিক কি জানতে চান খোলাসা করুন।
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১২ at ৭:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফারুক:
বহুদিন পর চাপা পড়ে যাওয়া বিতর্কটা আবার শুরু করা যাক। বিতর্কটা শেষ হয়েছিল আমার একটা প্রশ্ন দিয়ে। সেটা আবার বলছি:
৪ নম্বর মন্তব্যে আপনি বলছেন:
কিন্তু ৯.১.১.২ নম্বর মন্তব্যে বলছেন:
এটা কি কন্ট্রাডিকশন হয়ে গেল না?
ফারুক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১২ at ১২:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাম।
আমার কাছে তো কন্ট্রাডিকশন মনে হচ্ছে না।
দেখুন বিতর্ক আবার শুরু করে লাভ নেই। আমার যা বলার , তা মন্তব্যে বলেছি। মন্তব্যগুলো আবারো পড়ুন।
আল্লাহর সাহায্য কামনা করে কোরান পড়ুন , তাহলেই আল্লাহ চাহেতো সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন।
সাদাত
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১২ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার যা বলার তা তো অবশ্যই বলেছেন। কন্ট্রাডিকটরি কথা বলেছেন, কিন্তু আপনি যে কন্ট্রাডিকটরি কথা বলছেন সেটা আপনি বুঝতেই পারছেন না। এতটুকু সেন্স না থাকলে অবশ্য বিতর্ক পরিহার করে চলাই উত্তম।