বিসলিল্লাহির রহমানীর রাহিম,
ইদানিং মুসলিমদের মধ্যে নতুন বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ পাকের কি আকার আছে? এই প্রশ্নের জবাব খুজা হবে উক্ত প্রবন্ধে। এই প্রবন্ধ খুব সাবধানের সাহিত পড়তে হবে এবং এটা সাধারণ মুসলিমদের জন্য বিশেষভাবে লিখা হয়েছে। লেখার ভুল ত্রুটির জন্য যেন মহান আল্লাহ পাক আমাকে ক্ষমা করেন- আমিন।
লেখার শুরুতেই প্রথমে দুইটি বিষয় বুঝতে হবে।
প্রথম বিষয় হলঃ
- মহান আল্লাহ পাক এর সত্বা সম্পর্কে নিজ মনগড়া কিছু বিশ্বাস করা একটি ভয়ংকর কাজ। কারণ যদি আপনি ভুল করেন, তাহলে স্রষ্টার উপর ভুল বৈশিষ্ট আরোপন করলেন, যাতে ভয়ংকর গোনাহ হতে পারে। অনেকের মতে, এতে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ, আমরা কেন অন্যান্য ধর্মের স্রষ্টায় বিশ্বাস করি না? কারণ অন্যান্য ধর্ম অনেক সময় শিরক করে, এবং মহান আল্লাহর উপর মনগড়া বৈশিষ্ট আরোপন করে।
- এই সমস্যা থেকে আমরা রক্ষা পাই কারণ মহান আল্লাহ পাক আমাদের "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু" বলার পর "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" দান করেছেন। যখন বলবেন "কোন উপাস্য নাই আল্লাহ ছাড়া" তখন যদি প্রশ্ন আসে এই উপাস্য কোন উপাস্য? তখন আপনি রেফারেন্স টানলেন নবীর, যে "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" মানে মুহাম্মাদ সাঃ যে উপাস্যের কথা বলেন, সেই উপাস্য। তাছাড়া, যেমনঃ যদি বলেন "ইবরাহীম খলিলুল্লাহ" তাহলে ইব্রাহীম আঃ রেফারেন্স টানলেন। অর্থ্যাত, ইব্রাহীম আঃ যে ঈশ্বরের কথা বলেন, ঐ ঈশ্বর।
এই পয়েন্ট থেকে এই অনুসিদ্ধান্তে আসা যায় যে, আমরা ঐ স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি, যার কথা নুহ আঃ, ইব্রাহীম আঃ, মুসা আঃ, ঈসা আঃ এবং মুহাম্মাদ সাঃ বলে গেছেন। এবং আল্লাহ সম্পর্কে নিজ থেকে কোন ধারনায় উপনিত হওয়া যাবে না। আলচ্য আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, কেউ যদি এখলাসের সাহিত "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" বলে, তাহলে এটাই তাঁর জন্য যতেষ্ট। এখানে, আগ বেড়ে অথবা পিছিয়ে কিছু বলার অবকাশ থাকে না।
দ্বিতীয় বিষয় হলঃ
- মানুষের বিশ্বাসকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। একটা হচ্ছে নিশ্চিত বিশ্বাস। আরেকটি হচ্ছে আপাত বিশ্বাস, যা নিশ্চিত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করানো থাকে।
- যদি মানুষের আপাত বিশ্বাস নিশ্চিত বিশ্বাসের সাহিত সাংঘার্ষিক হয়, তাহলে নিশ্চিত বিশ্বাস দিয়ে আপাত বিশ্বাসকে পরিবর্তন করে। অর্থ্যাত, কেউ যদি এমন কোন কথা বা কাজ করে, যা তাঁর আপাত বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের সাহিত সাংঘার্ষি কিন্তু সে বুঝতেছে না। কিন্তু আপনি ঐ পরিবেশের বাহিরে এবং আপনি বুঝতেছেন, আপানার এই বুঝার কারণে তাঁর নিশ্চিত বিশ্বাসের মিথ্যা হয়ে যায় না। আপনি যদি তাকে বুঝাতে সক্ষম হন, অথবা সে নিজ থেকেই যদি বিষয়টি ধরতে পারে, তাহলে সে তাঁর নিশ্চিত বিশ্বাস দিয়ে, আপাত বিশ্বাস এবং এর দ্বারা উতপন্ন কথা ও কাজকে পরিবর্তন করে নিবে।
উপরের আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, কেউ যদি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" তে নিশ্চিত বিশ্বাস করে কিন্তু তাঁর কোন কথা বা কাজ আমাদের দৃষ্টিতে (তার নিকট ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে) তাঁর নিশ্চিত বিশ্বাসের সাহিত সাংঘার্ষিক মনে হলেও, তাকে কাফির বা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছে বলা উচিত নয়।
প্রথম প্রশ্নঃ যদি আল্লাহ পাক সম্পর্কে মন থেকে কোন কিছুই ধারনা করা না যায়, তাহলে কোথায় আল্লাহ পাক সম্পর্কে জানব? এই প্রশ্নের উত্তরের উপরেই সব কিছু নির্ভর করে। এটার প্রথম, উত্তর হবে আল কোরান থেকে। এই পয়েন্টে শিয়া, সুন্নি, ইবাদী সবাই এক স্থানেই থাকবে। দ্বিতীয় উত্তর, মোতায়াতির হাদিসে (বেশীরভাগ মোতায়াতির হাদিস শিয়া, সুন্নি, ইবাদীরা সবাই মানে, এখানে সামান্যই বিভক্তির সুযোগ আছে), এরপর আরো গভীরে গেলে, ক্রমান্নয়ে আসবে সহী হাদিস (এখানে এসে শিয়া, সুন্নি, ইবাদী বিভক্তি শুরু হতে পারে, কারণ সুন্নিরা যা সহী মানে, অন্যরা তা নাও মানতে পারে আবার কোনটি সহী হাদিস, কোনটি না, এ নিয়ে সুন্নিদের ভিতরও বিভক্তি আসতে পারে), হাসান হাদিস, সাহাবিদের বক্তব্য, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈনদের বক্তব্য, পূর্বকার আলেমদের বক্তব্য, ঐসব বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে যৌক্তিক সমাধান ইত্যাদি। আল কোরানের পরের দলিলগুলিতে ক্রমান্নয়ে আলাদা আলাদা বিভক্তি আসতে থাকবে। এ জন্য আমাদের সাধারণ মুসলিমদের উচিত, এত বড় গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে কোন রিস্ক না নেওয়া। অর্থ্যাত, শুধু কোরানের উপর থাকাই উচিত, উল্লেখ্য, আমার জানা মতে ইমাম গাজ্জ্বালীর অনুসারে এটা হবে "কোরান" এবং "মোতায়াতির হাদিস"।
আল কোরান আল্লাহ পাক সম্পর্কে সরাসরি কি বলেঃ প্রথমত সরাসরি বলতে আসলে কি বলা হচ্ছে? সরাসরি বলতে, যে আয়াতে আল্লাহ পাক স্পেসিফিকলি শুধু নিজেকেই বর্ননা করেছেন। অন্য কোন বর্ননায় যদি এমন কোন শব্দ থাকে যার দ্বারা আল্লাহ পাক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে, ঐ আয়াতগুলিকে শুধু মাত্র কয়েকটা শব্দের কারণে সরাসরি আল্লাহ পাক নিজেকে বর্ননা করেছেন বলে সিদ্ধান্তে আসা যায় না। চলুন, আয়াত গুলি দেখে নেইঃ
এ ব্যাপারে প্রথমেই আসবে সূরা ইখলাস, এই সূরা নাজিল হয়েছিল রাসুল সাঃ কে আল্লাহ পাকের বংশ পড়িচয় জিজ্ঞেস করার ফলেই। তাই আলচ্য প্রবন্ধের সব থেকে গুরুত্বপুর্ন দলিল হল, সূরা ইখলাস।
"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি, এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।"(আল কুরান, সূরা ১১২)
হ্যাঁ, এই সুরা দিয়েই আল্লাহ পাক নিজে নিজেকে ব্যাক্ত করেছেন। সেহেতু, কেউ যদি প্রশ্ন করে আল্লাহ পাকের কি আকার আছে নাকি নিরাকার? সাধারণ মানুষের জন্য এর উত্তর হবে "তার সমতুল্য কেউ নেই"। এখানেই বিতর্ক খতম। কেউ কেউ এই সুরাকে আল কোরানের এক তৃতীয়াংশের সমান বলে বর্ননা করেন।
যাইহোক, একই ধরনের আরেকটি আয়াত হল, আয়াতুল কুরসী যাহা হলঃ
"আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।"(আল কোরান, ২ঃ২৫৫)
এ ধরনের আরেকটি আয়াত হলঃ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন । (আল কুরান, ৪২ঃ১১)
এখানে যা যা বলা আছে, তা তা অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করুন। কিন্তু এই গুলির উপর ভিত্তি করে কল্পনার ভেলায় চড়া উচিত নয়। ঐ সব আলীমদের কাজ যারা এ ব্যাপার গুলিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টঃ আল কোরান বুঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট
"তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।" (সূরা ইমরান, আয়াত ৭)
আকার এবং নিরাকার বলতে কি বুঝায়ঃ বাস্তবে যেসব বস্তু পাওয়া যায়, সেগুলোর বস্তু দুনিয়াবী আকার আছে। আবার বাস্তবের কিছু পদার্থ আছি, যাদের আমরা বলি নিরাকার যেমন পানি কিংবা বায়ু। আসলে এদেরও আকার আছে তা হল, এটমিক আকার বা আনবিক আকার। কিন্তু কোন কিছুর আকার থাকার মানে হল স্পেইস দখল করা; মানে হল স্থান দখল করা। এটি স্থান বা স্পেইসের দ্বারা সীমাবদ্ধ। আবার কিছু কিচু কণা আছে, তারা খুব সম্ভবত কোন স্পেইস দখল করে না, যেমন ফোটন, ফোটনের কোন ভর নাই, এবং সে যখন আলোর গতিতে চলে তখন সে স্পেইস এবং টাইম বা স্থান এবং কাল ফিল করে না। খুব সম্ভবত, সে বুদ বুদ আকারে যেন সারা ইউনিভার্সেই থাকে। আবার আমাদের স্থান, বা স্পেইস "ত্রিমাতৃক বা ত্রিডাইমেনশনাল" অর্থ্যাত এটি ডাইমেনশন দ্বারা সীমাবদ্ধ। কিন্তু এগুলো সবই দুনিয়াবী বৈশিষ্ট, যাহা আপনি আল্লাহ পাকের উপর আরোপন করতে পারবেন না। কারণ হচ্ছে সূরা ইখলাস এবং ৪২ঃ১১।
যারা বলতে চান আল্লাহ পাকের আকার আছেঃ
বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। (সূরা ইমরান, ২৭)
তাঁরা বলেন যে, আল্লাহ পাকের হাত আছে, যেহেতু তিনি এখানে হাত শব্দ ব্যাবহার করেছেন। কিন্তু আপনারা যদি একে সূরা এখলাস, আয়াতুল কুরসী এবং ৪২ঃ১১ এর সাহিত তুলনা করেন, তাহলে দেখবেন উপরুক্ত আয়াত বলতেছে, "আল্লাহ পাকের নিকট রয়েছে যাবতীয় কল্যান" এখানে আল্লাহ পাকের বক্তব্যের মূলঃ যাবতীয় কল্যান কোথায় আছে? উত্তর আল্লাহ পাকের হাতে। উক্ত আয়াত, সূরা ইখলাসে যেমন আল্লাহ পাক নিজেকে সরাসরি ব্যাক্ত করছেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ পাক যাবতীয় কল্যান কোথায় আছে ব্যাক্ত করছেন, এ জন্য এখানে তিনি নিজে সরাসরি নিজের সত্ত্বার বৈশিষ্ট বলছেন না। অর্থ্যাত, উপরুক্ত আয়াত এভাবে বিবেচনা করতে সুরা ইমরানের ৭ নম্বর আয়াতের আলোকে, অর্থ্যাত আল্লাহ বলেছেন আমরা বিশ্বাস করেছি। আল্লাহ হাত শব্দ দিয়ে কি বুঝিয়েছেন, তাহা আল্লাহ পাকই ভাল জানেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়াতের সুস্পষ্ট অর্থ এই পাই যে, যাবতীয় কল্যান আল্লাহ পাকের হাতে রয়েছে, অর্থ্যাত তিনি যাকে কল্যান দেন, সে-ই কল্যান পায়। এই আয়াত থেকে কোন ক্রমেই এই সিদ্ধান্তে আসা যায় না যে আল্লাহ পাকের আকার বিশিষ্ট হাত আছে। যদি বলেন আল্লাহ পাকের হাত বস্তু জগতের হাতের মত নয়, তাহলে নিশ্চই আপনি এও বলতে পারেন না যে আল্লাহ পাকের হাত স্থান দখল করে বা আকার আছে।
আল কোরানে আরো অনেক গুলি আয়াত আছে এ ধরনের। লেখার সংক্ষিপ্ততার জন্য, তাই আমি একটিই পেশ করলাম। ( তাদের বাকি যুক্তি গুলি এখানে দেখতে পারবেন।)
তাঁরা আরেকটি বর্ননা দেনঃ
সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু ভাল কাজ সে করেছে: চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ সে করেছে তাও । ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার ওবং ওসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতে !
আল্লাহ তোমাদিগকে আপন নফসের ভীতি প্রদর্শন করছেন । আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু । [আল ইমরান ৩০]
কিন্তু উক্ত অনুবাদ বাংলায় পেলামঃ
সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু । [ইমরান আয়াত ৩০]
The Day every soul will find what it has done of good present [before it] and what it has done of evil, it will wish that between itself and that [evil] was a great distance. And Allah warns you of Himself, and Allah is Kind to [His] servants [Shahi International]
তারা বলতে চান, "নফস আরবী শব্দ । এর অর্থ হচ্ছে দেহ" এবং শায়খ মুফতী মুহাম্মদ আবদুর রউফ সালাফী এর বরাত দিয়ে বলা হল "যার দেহ আছে তাঁর আকার আছে । এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ নিরাকার নন"
উপরের অনুবাদ গুলির উদাহারন দেখলে দেখবেন সম্মিলিত বাক্যের অর্থে কিন্তু আল্লাহ পাকের দেহ আছে বুঝাচ্ছে না। তবুও যদি দেহ অর্থেও নেন, সেই দেহ যে আমাদের দেহর মত স্থান দখল করে, সেটা আপনি কোথা থেকে জানলেন? অতএব, যদি বলেন আল্লাহ পাকের হাত বস্তু জগতের হাতের মত নয়, তাহলে নিশ্চই আপনি এও বলতে পারেন না যে আল্লাহ পাকের হাত স্থান দখল করে বা আকার আছে। যদি বলেন আল্লাহ পাকের নফস বস্তু জগতের দেহর মত নয়, তাহলে এও বলতে পারবেন না যে বস্তু জগতের দেহর মত আল্লাহ পাকের নফস স্থান দখল করে।
উপসংহারঃ
আলচ্য আলোচনা থেকে এই পরিষ্কার হয় যে, মহান আল্লাহ পাকের আকার আছে কি নাই সেটা আমাদের সাধারণ মানুষের বিবেচ্য বিষয় নয়, (এটা হয়ত বড় বড় আলেমদের বিষয়)। বরং আল্লাহ সুবাহানাতালা তিনি নিজে নিজের মত, তিনিই তাঁর সম্পর্কে ভাল জানেন (অর্থ্যাত, আল্লাহ পাক, সাকার নাকি নিরাকার এ বলে নিজের উপর বিপদ টেনে আনার প্রয়োজন নাই)। এবং আল্লাহ পাকের সমতুল্য আর কেহই নন। এবং আমরা ঐ স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি, যার কথা নুহ আঃ, ইব্রাহীম আঃ, মুসা আঃ, ঈসা আঃ এবং মুহাম্মাদ সাঃ বলে গেছেন। ইমাম অন নবওবী ৪০ হাদিসের একটি হাদিস দিয়ে শেষ করছি, হযরত উমর রাঃ হতে বর্নিতঃ
"একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়, যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো; তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারেনি। সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেন: “হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন”।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “ইসলাম হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর, রমাদানে সওম সাধনা কর এবং যদি সামর্থ থাকে তবে (আল্লাহর) ঘরের হজ্জ কর।”
তিনি (লোকটি) বললেন: “আপনি ঠিক বলেছেন”। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বলল: “আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন”।
তিনি (রাসূল) বললেন: “তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফিরিশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাতর উপর ঈমান আনা এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।”
সে (আগন্তুক) বলল: “আপনি ঠিক বলেছেন”। তারপর বলল: “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন”।
তিনি বলেন: “তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে নাও পাও তবে তিনি তোমাকে দেখছেন”।
সে (আগন্তুক) বলল: “আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন”।
তিনি (রাসূল) বললেন: “যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী কিছু জানে না”।
সে (আগন্তুক) বলল: “আচ্ছা, তার লক্ষণ সম্পর্কে বলুন”।
তিনি (রাসূল) বললেন: “তা হচ্ছে এই- দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে”।
তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (রাসূল) আমাকে বললেন: “হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললাম: “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন”। তিনি বললেন: “তিনি হলেন জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।” [সহীহ্ মুসলিম: ৮]

shahriar
মে ২৯, ২০১৬ at ৪:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Jajak-allahu-khayrun.
ফাতমী
মে ২৯, ২০১৬ at ৮:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ ভাই।
মোঃ তাজুল ইসলাম
মে ২৯, ২০১৬ at ৮:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ ফুয়াদ ভাই আপনার পোষ্টের জন্য।
ভেবেছিলাম, আপনার লিখায় উত্তরটি সরাসরি পাব কিন্তু আপনি অস্পষ্ট করে উপসংহার টানলেন। বাধ্য হলাম আপনার দেওয়া লিংক-টি তে যেতে। সেই একই গোল পাওয়া গেল। সবুর ভাই-র কথাগুলো গ্রহনযোগ্য এবং সুন্দর বলেছেন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আধ্যাত্মিক প্লাটফর্ম-এ বিচরণ না করে, আল্লাহ্-র আকার নিয়া লিখা বা মন্তব্য করা উচিত নয়। "পরম আত্মা" সম্পর্কে জানা না থাকলে "আমি" সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞ্যান থাকে না। মনসুর হাল্লাজের(আনাল হক্ব) মত বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের সকল ভন্ড পীরেরা আল্লাহ্-কে সম্পুর্নরুপে আকার দিয়ে ভাল ব্যবসা করে যাচ্ছে। মানুষেরাও পীরের কথাগুলো-কে প্যারাসিটামল-র মত খাচ্ছে। বিষ্মিত হই।
ভাল থাকুন।
ফাতমী
মে ২৯, ২০১৬ at ৮:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তাজুল ভাই,
সালাম নিবেন। আপনি কি বলতে চান একটু সুস্পষ্ট করে বললে ভাল হয়। সাধারণত এ বিষয়ে তিনটি বিশাদ ব্যাখ্যা আছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের। এগুলো হলঃ আথারি, আশারি ও মুতারিদি। কিন্তু এ ব্যাপারগুলিতে সামান্য ভুল আপনার জন্য বা যে কাউরো জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। আর উপসংহার সুস্পষ্ট, আমরা ঐ স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি, যার কথা নুহ আঃ, ইব্রাহীম আঃ, মুসা আঃ, ঈসা আঃ এবং মুহাম্মাদ সাঃ বলে গেছেন।
ভাল থাকুন।
শাহবাজ নজরুল
মে ২৯, ২০১৬ at ১০:০৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আল্লাহ'র সিফাতের স্বরূপ সন্ধানী আম-জনতার জন্যে সুরা এখলাস'ই যথেষ্ট হবার কথা। বর্তমান বিশ্বে যেখানে মুসলিম'রা গভীর সকল সমস্যার মধ্যে নিমজ্জিত, সেখানে আল্লাহর সিফাত নিয়ে বিশদ গবেষনার প্রয়োজন সাধারণ মুসলিমদের বেশি উদ্বিগ্ন না হতে পরামর্শ দিচ্ছেন ইয়াসির কাজী। ইসলামের এক সময়ে আসারী, মুতাজিলা, জাহমিয়া মতবাদের প্রসারণের সময়ে মূল শাখার আহলুস সুন্নাহের উলামাদের সাথে আল্লাহর সিফাত (যেমন আল্লাহর আকার কিরূপ) নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল। ইয়াসির কাজী বলছেন, আল্লাহর সিফাত হচ্ছে বেশ High Level Abstraction এর বিষয় -- যা মূলত ইসলাম বিশেষজ্ঞ'দের বিষয় হওয়া উচিত। আর আমাদের মত সাধারণ মুসলিমদের মূলত ইসলামের মূল নীতি ও শিক্ষাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাগতিক সমস্যা সমাধানে প্রত্যয়ী হওয়া উচিত।
Towards Bridging the Salafi-Ashari Divide ~ AMJA Annual Convention | Mar 2016
ফাতমী
মে ৩০, ২০১৬ at ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামুয়ালাইকুম,
@শাহবাজ ভাই,
ধন্যবাদ শাহবাজ ভাই, আমিও তাই বা প্রায় কাছাকাছি বলার চেষ্টা করেছি। আপনি (অথবা অন্য কেউ যিনি এই বিষয়ে ভাল ধারনা রাখেন) যদি পুরো পোস্টটি দেখে কিছু বলতেন, তাহলে ভাল হত।
মজলুম
জুন ১, ২০১৬ at ৬:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শাহবাজ নজরুল ভাইয়ের সাথে সহমত। সূরা এখলাসই যথেষ্ট আল্লাহ সম্পর্কে বুঝার জন্যে। বিশেষ করে শেষ আয়াতটা বুঝতে পারলে আর কোন প্রশ্ন করা ঠিক নয়। এবং তার মত/সমতুল্য কেউ নেই—-দেয়ার ইজ নাথিং লাইক হিম। ব্যস হয়ে গেলো। এখানেই মহান আল্লাহ তার সম্পর্কে ইতি টেনেছেন, আর কোন প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেই দিয়েছেন যে তার মত কিছুই নাই, মানে আপনি আশে পাশে যা দেখেন বা আপনার কল্পনা শক্তি যতদূর নিয়ে যেতে পারেন, তবুও আল্লাহর মত কেউ/কিছু নাই। যেমন তার আকার কি, কোথায় থাকে, কি খায়, কি করে এখন ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যদি মহান আল্লাহর সিফাত বা গুন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে তার ৯৯ টা নাম সম্পর্কে বাংলা বা ইংরেজীতে অনুবাদটা বুঝে নিন। এবং এটাই মুসলিমদের জন্যে যথেষ্ট।
আর সূরা ইখলাসের নাজিল হওয়ার পটভূমিটাও/শানে নুজুল জেনে নিন। বেশী বুঝতে গেলে বা পান্ডিত্য দেখাতে গেলে মুসলিম থেকে হয়ে যাবে পথভ্রষ্ঠ মূতাজিলা, খারেজী, বাতেনি, বাহাই, নূসাইরী, ইসমাইলীদের মত। মহান আল্লাহ মুসলিমদের পথভ্রষ্ট হওয়া হতে রক্ষা করুন।
ফাতমী
জুন ১৮, ২০১৬ at ৮:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি আমার পোস্টের উপরের অংশ পড়লে বুঝতে পারবেন। আল্লাহ পাক যেন আমাদের ক্ষমা করেন, আমিন।
Faruk Hossain
মে ৩০, ২০১৬ at ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জাযাকাল্লাহু খইরন @ ফাতেমী ।
ফাতমী
মে ৩০, ২০১৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ ভাই।
মাহফুজ
মে ৩০, ২০১৬ at ৩:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের সাথে সহমত জানিয়েই বলছি-
মহান স্রষ্টার গুণের কথা পবিত্র কোরআন সহ সকল ঐশী কিতাবে স্পষ্ট ও সরলভাবেই বলা হয়েছে। আর এই গুণের মাঝেই তাঁকে চিনে নেয়ার সাধনা করতে হবে। একজন বিশ্বাসীর জন্য এরপর ইশ্বরের রূপ কিংবা আকার নিয়ে বেকার সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজনই নেই।
ঐশীজ্ঞান বিবর্জিত অন্তরে যখন অংশিবাদ দানা বাঁধে, তখনই তারা স্রষ্টার আকার নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়।
কিংশুক
জুন ১, ২০১৬ at ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আহলে সুন্নাহর আকিদা অর্থাত্ ইমাম আশআরী, ইমাম মাতুরিদির কোরআন, হাদিস ভিত্তিক সঠিক ব্যাখ্যা জানতে হলে আহলে সুন্নাহর আকিদার বই যেমনঃ আকিদাতুত ত্বহাবী পড়লে সব পরিস্কার হয়ে যাবে। নেটে পাবেন।
ফাতমী
জুন ২, ২০১৬ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাম নিবেন,
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আমি খোজ করে দেখব ইনশা-আল্লাহ।
এস. এম. রায়হান
জুন ১, ২০১৬ at ১২:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কুর'আন অনুযায়ী আল্লাহ্ অদৃশ্য। আল্লাহ্র সাথে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। একজন ইসলামে বিশ্বাসীর জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
ফাতমী
জুন ২, ২০১৬ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামুয়ালাইকুম,
সরল উক্তির জন্য ধন্যবাদ, রায়হান ভাই।
ফাতমী
জুন ৩, ২০১৬ at ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রায়হান ভাই,
নিচে মাহফুজ ভাই আপনাকে কিছু প্রশ্ন করেছেন। আপনি যদি দেখতেন। আমি আপনার দেওয়া অদৃশ্য শব্দের অর্থ পেয়েছি যে "আমরা পৃথিবীর চক্ষু দ্বারা দেখতে পাই না"।
কিংশুক
জুন ১, ২০১৬ at ৭:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইমাম গাজ্জালী রঃ এর মতে যে সব জায়গায় আল্লাহর হাত,চোখ, মুখের কথা উল্লেখ আছে তাহা আল্লাহ্ মানুষকে মানুষের বোধের সীমানায় বুজানোর জন্যই উদাহরণ স্বরুপ উল্লেখ করেছেন, এগুলি রুপক। আল্লাহ্ আমাদের গলার মহা ধমনীর চাইতে কাছে, সবাইকে ঘিরে আছেন। কিন্তু তিনি সময় কাল, উত্তর দক্ষিন ইত্যাদি দিক সহ সকল প্রকার সৃষ্টির অতীত। তথাকথিত আহলে হাদিস /নব্য সালাফিরা বাতিল ইহুদি দেহবাদের বাতিল আকিদা ধারী।
মাহফুজ
জুন ২, ২০১৬ at ১২:৪০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মহান স্রষ্টা সরাসরিভাবে নিজেকে কখনো অদৃশ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন বলে আমার জানা নাই। তবে তিনি যে অন্য কারো মতন নন, পবিত্র কোরআনে (সূরা ইখলাস-১১২) তা স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করা হয়েছে।
আসুন! এবার নিচের আয়াতগুলোর বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করি-
(৬:১০৩) (চক্ষুর) দৃষ্টিসমূহ (l-abṣāru) তাঁকে পেতে পারে না, নিশ্চয় তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন। তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী, সুবিজ্ঞ।
[পার্থিব জগতে কারোরই চোখের দৃষ্টিশক্তি/ দর্শনশক্তি অর্থাৎ চর্মচক্ষু মহান স্রষ্টাকে দেখার মত সামর্থ রাখেনা। শুধুমাত্র অন্তর্চক্ষুতে তাঁর গুণাবলি অনুধাবন করার মত সামর্থ দেয়া হয়েছে।]
……………………………
(৭৫:২২) সেদিন (পরকালে) অনেক (বিশ্বাসীদের) মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে,
(৭৫:২৩) তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে (nāẓiratun) থাকায়।
(৮৩:১৫) কখনও না, তারা (অবিশ্বাসীরা) সেদিন তাদের পালনকর্তার (সাক্ষাত) থেকে পর্দার অন্তরালে (বঞ্চিত) থাকবে।
[তবে পরকালে মহান স্রষ্টার ইচ্ছানুসারে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই কেবল তাঁকে দেখার মত অর্থাৎ তাঁর প্রতি নজর দেয়ার মত দর্শনশক্তি ও সাক্ষাত পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবেন। আবার পরকালেও অনেককে স্রষ্টার কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হবে। ফলে তারা স্রষ্টাকে দেখার ও সাক্ষাৎ লাভ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকবে।]
ফাতমী
জুন ৩, ২০১৬ at ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"দৃষ্টিসমূহ (l-abṣāru) তাঁকে পেতে পারে না" কেই সরল ভাষায় আমাদের দুনিয়াবী চক্ষুদ্বারা দেখতে পাইনা বা অদৃশ্য সেটাই রায়হান ভাই বুঝিয়েছেন। তিনি আল্লাহ পাকের উপর কোন বৈশিষ্ট আরোপন করেন নি, শুধু বুঝাচ্ছেন, আমরা এই পৃথিবীতে আল্লাহ পাককে দেখতে পাই না।
রায়হান ভাই, বিষয়টি আরো পরিষ্কার করতে পারবেন, যেহেতু তিনি সেটা বলেছেন।
মাহফুজ
জুন ৩, ২০১৬ at ১০:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মনে হয় এক্ষেত্রে "বিষয়টুকু এত সরল না"
কারণ তিনি বলেছেন- "কুর'আন অনুযায়ী আল্লাহ্ অদৃশ্য।"
অথচ পবিত্র কোরআনে সরাসরি এমন কোন উক্তি কিংবা গুণের কথা উল্লেখ নেই। আর যেহেতু নেই, তাই 'আল্লাহ অদৃশ্য', এভাবে বলা বোধ হয় ঠিক হবেনা। বরং আমাদের দর্শনশক্তি মহান স্রষ্টাকে দেখার মত সামর্থ রাখেনা।
আমার এই মন্তব্যটি ইগনোর না করার জন্য আপনাকে ধন্যবাাদ-
সত্য সন্ধানী
জুন ২, ২০১৬ at ৪:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলসালামু আলাইকুম, একটা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করতে হচ্ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এটা আমার খুব দরকার।
'আল্লাহকে ভালবাসতে হলে প্রথমে মানুষকে ভালবাসতে শেখো'
এটা কি পবিত্র কুরানের কোন আয়াত? সেটা হলে কোন সুরার কত নম্বর আয়াত যে ভাইরা জানেন দয়া করে আমাকে জানাবেন।
মাহফুজ
জুন ২, ২০১৬ at ১১:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালামুন আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
//'আল্লাহকে ভালবাসতে হলে প্রথমে মানুষকে ভালবাসতে শেখো'
এটা কি পবিত্র কুরানের কোন আয়াত? সেটা হলে কোন সুরার কত নম্বর আয়াত যে ভাইরা জানেন দয়া করে আমাকে জানাবেন।//
পবিত্র কোরআনে নামমাত্র ভালবাসার কথা বলা হয় নাই, বরং শিরক মুক্তভাবে মহান আল্লাহর ইবাদত করার সাথে সাথে ন্যায়নিষ্ঠ থেকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও সৎকর্ম করার মাধ্যমে মানুষ তথা সকল সৃষ্টিকুলের কল্যাণ সাধনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে এখানে বলার চেষ্টা করেছি-
ধন্যবাদ-
ফাতমী
জুন ৩, ২০১৬ at ১:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সত্য সন্ধানী,
আসসালামুয়ালাইকুম,
ভাই, এমন কোন আয়াত আমার নজরে আসেনি, আসলে আপনাকে এখানে জানাব।
শামস
জুন ৪, ২০১৬ at ৭:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি যা বলতে চেয়েছেন তার সাথে একমত। কিন্তু স্রষ্টাকে দেখা সম্ভব নয়, সেটা বেশিরভাগ মানুষই মানতে পারে না। তাইতো পৃথিবীর বেশীরভাগ ধার্মিক (ইহুদী এবং মুসলিম ছাড়া, কিছু মুসলিমও অন্তর্ভুক্ত!) মানুষ স্রষ্টার একটা আকার দিয়ে তার উপাসনা করে, এমনকি আব্রাহামিক ধর্মের সবচেয়ে বড়ো খৃষ্টানরাও।
মুসলিমদের স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস আনকন্ডিশনাল!
ফাতমী
জুন ১৮, ২০১৬ at ৮:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"মুসলিমদের স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস আনকন্ডিশনাল!"
-একমত
Guest
জুন ১৪, ২০১৬ at ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Rather than writing on Allah, Muhammad, Jesus… and so on, why not compose something on the most recent brutalities, slaughter brought about by the Muslims Worldwide? It appears like you all are constantly quiet about such issues.
It is found that at whatever point any foul play done to the Muslims, you raise your voice firmly. What's more, this is great. That is to say, foul play, mercilessness ought not transpire. Everyone merits a superior life. However, as of late, the majority of the destructions are brought about by Muslims e.g. issues by ISIS, Bokoharam, Taleban and so forth; late slaughtering of an instructor, a tailor, an innocent muazzen of a mosque, a christian minister and so on; bombshelling in Paris, late murdering of 50 gays in Orlando and so forth. Aren't you mindful of these circumstances or do you put on a show to overlook?
Wouldn't you say you have a few obligations to concentrate on a portion of the genuine decimation happening in the late years Worldwide?
ফাতমী
জুন ১৮, ২০১৬ at ৯:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@Guest,
Writing about God is very imporant according to the eye of the believers. However, we are concern about other political issues that are taking place in world wide but it is not possible to write on such subject without knowing reasonably enough.
It should be understood that author like me try to think about one subject where I have pre-knowledge, and find available information from different sources, and then write something. Moreover, we have our job and other work as we are not full time journalist. Therefore, it is difficult for me to cover all the topics that maybe important.
Thanks for your comments.
Mahfuz
জুন ১৭, ২০১৬ at ১:৩২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সকলেই একমত যে, আল্লাহপাক সৃষ্টির সকল গুন থেকে পবিত্র। কারনঃ
"কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। (Nothing Like To Him)" (আল-কুরআন, ৪২:১১)।
And there is none like unto Him. (আল-কুরআন, ১১২:৪)
অর্থাৎ আল্লাহপাক আকার, সাকার দুই গুন থেকেই পবিত্র। কারণ এই দুই গুণই সৃষ্টির গুন। সুতরাং এর থেকে বেশী ভাবা আমাদের উচিত নয়।
ফাতমী
জুন ১৮, ২০১৬ at ৯:১৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক ধন্যবাদ।
Anonymous
নভেম্বর ১১, ২০১৭ at ১১:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
tnq অনেক ধন্যবাদ।
হাবিব
অক্টোবর ২৯, ২০১৬ at ৩:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লেখাটি ভালো লাগলো।
ভাই, আমি কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে খুব দ্বিধা-সংশয়ে আছি। সেই সাথে খুবই মানসিক যাতনায় ভুগতেছি। মেহেরবানী করে যদি প্রশ্নগুলোর উত্তরের ব্যাপারে একটু সাহায্য করতেন, তাহলে খুবই কৃতজ্ঞ থাকতাম।
"আল্লাহ্ সেই সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং জমিনও, ওদের অনুরুপভাবে।" -আল কুরআন (৬৫ঃ১২)
ভাই আমার প্রশ্ন,প্রথম আসমান কোথায় আর সাত জমিনই বা কোথায় ? (রেফারেন্স- হাদিস নং ১৯৮৪, বুখারি- ই ফা অনুবাদ)
"সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় টা যেতে যেতে আরশের নিচে গিয়ে সিজদায় পরে যায়। এরপর সে পুনঃউদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়।" (হাদিস নং ১৯৭২, বুখারি)
প্রশ্ন হলো, কখন কিভাবে এই ঘটনা ঘটে?
কুরআন বা হাদিসের কথা ভুল হতে পারেনা। কিন্তু এই লাইনগুলো আমার জানা বিজ্ঞানের কথাগুলোর সাথে মিলছেনা।
ভাই, এরকম আরও অনেক প্রশ্ন জমে আছে আমার মনে। যেগুলো আমাকে দ্বিধান্বিত করে তুলছে। আর একজন মুসলমান হিসেবে এই অবস্থা মোটেও ভালো অবস্থা নয়। তাই আপনাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।