«

»

Sep ১০

লেখালেখির ছেদ - আর আত্ন জিজ্ঞাসা

 

 

 

 

 

 

 

 

(কোটা নিয়ে আন্দোলনের নামে জনদূর্ভোগ তৈরীর একটা ছবি - তেজগাঁ পলি-টেকনিকের ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন কর্মী রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিলো সারাদিন - মতিঝিল থেকে বনানী যেতে সময় লেগেছিলো চার ঘন্টা। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গিয়ে আন্দোলনরত কর্মীদের একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম - ভাই - আমি কোন দোষ করলাম - আমাকে কেন আটকে রেখেছেন? আমরা তো কোটা দেইও না - নেইও না। ও বললো - কথা বলেন, হাঁটেন। হেটে নাবিস্কোর মোড়ে গিয়ে একটা সিনজি নিয়ে মানে জ্যামে বসে ভাবলাম - উনারাই কোটা বাদ দিয়ে সরকারী আমলা হবে - আর তখনও বলবে - হাঁটেন - কথা কম বলেন।) 

দীর্ঘদিন ধরে লেখা লেখালেখি থেকে বিরত আছি। এমনকি ফেইসবুকেও নেই। এর পিছনে নানান কারন দেখানো যায়। তবে আসল কারন হয়তো লেখার মতো তাগিদ অনুভব করি না। হয়তো ভিতর থেকে সেই তাগিদ আসে না। হয়তো কারন ছিলো বাংলাদেশে বেড়ানোর পর একটা বিষয়ন্নতা চলে আসা বরারবই এমনটা হয়। বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসার পর একটা হতাশা আর বিষন্নতায় পেয়ে বসে। গত ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে দেশে গেলাম - ছিলাম পাঁচ সপ্তাহ। যা দেখেছি তা নিয়ে একটা মহাকাব্য লেখা যাবে। তবে সবচেয়ে বেশী যে বিষয়টা পীড়িত করেছে তা হলো মানুষের মাঝে মানবিক মূল্যবোধের বিরাট ঘাটতি দেখলাম - বিশেষ করে যারা কোন না কোন ভাবে ক্ষমতার বলয়ে আছে - রাজনীতিবিদ হউক - আমলা হউক বা সরকারী দপ্তরের সামন্য পিওনই হোক - তারা প্রচন্ডভাবে নিপীড়ক হয়ে উঠেছে । তার প্রভাব সর্বত্র - এমনকি সৌদিয়া এয়ারের অফিসে গিয়েও দেখলাম বাংলাদেশী কর্মীরা সাধারন মানুষের সাথে শেয়াল কুকুরের মতো আচরন করছে। কাউকে কোন কথা বলা যায় না - কারন অন্যায় বা ন্যায় বিয়য় না - ঝগড়া করাই সবার একমাত্র লক্ষ্য। তকরে জিতে যা্য়ই জীবনের লক্ষ্য। 

কথা লম্বা না করে একটা ছোট্ট ঘটনা বলেই শেষ করি। কারওয়ান বাজারের তিতাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি - কোন একটা যানবাহনের আশায় - উবার কল করেও লাভ হচ্ছে না - কার বিকেলের জ্যামের কোন উবার আসতে চাচ্ছে না। অগত্যা একটা বাসে উঠার চেষ্টা করলাম - সাথে আরো কিছু লোকজনও থেকে যাওয়া বাসের দিকে আগাচ্ছিলাম।  বাসটা থামলো ফুটপাথ খেকে একফুট ব্যবধানে - সাথে সাথে কয়েকটা মোটরসাইকেল বাসের দরজার কাছে এসে অবিরাম হর্ণ বাজাতে লাগলো। বিরক্ত হয়ে একজন মোটর সাইকেল চালককে জিজ্ঞাসা করলাম - হর্ণ দিচ্ছেন কেন?

উনি উত্তর দিলেন - আপনার সমস্যা কি? 

কানের দিকে হাত নিয়ে দেখালাম - কানে কষ্ট হচ্ছে। 

মোটর সাইকেল চালক বললেন - নিজের কামে যান - প্যাচাল বাদ দেন। 

উনি যথারীতি হর্ন বাজাতে লাগলেন। 

আমি ভগ্ন হৃদয়ে কানে হাত চাপা দিয়ে বাসে উঠলাম - অবশ্য নিজেকে উঠতে হয়নি - পিছনের মানুষরাই আমাকে ধাক্কিয়ে উঠিয়ে দিলো। 

ভাবলাম - এই মোটর সাইকেলের চালকের এই পাশবিক চিন্তা কোথা থেকে এলো - যিনি শুধু নিজের জন্যেই ভাবছেন - অন্যকে তার রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইছেন। 

এইটাতো একটা সামান্য ঘটনা - বাস্তবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাটাই তাই - সবাই শক্তি দিয়ে অন্যকে সরিয়ে দিয়ে নিজের রাস্তা পরিষ্কার করে নিতে অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছে। 

আর যে বিষয়টা হতাশ করেছে - তা হলো দূর্নীতির ব্যপক বিস্তার - মিথ্যা রাজত্ব মানুষের বসবাস। 

সে্ই কথা অন্যদিন হবে। 

অবশ্য বাংলাদেশের নির্বাচনী মৌসুম এসে গেছে - এই্  বিষয় নিয়েও লেখার ইচ্ছা থাকলো। 

সবাই ভাল থাকুন। 

১ comment

  1. 1

    মোঃ তাজুল ইসলাম

    জিয়া ভাই,

    আসসালামু আলাইকুম।

    আল্লাহ্ আপনার হজ্জ্বকে কবুল করুন। সদালাপ ও দুনিয়ার সকল ভাইবোনদের ইবাদত কবুল করুন।

    ভাই, এই ঢাকা এখন বসবাসের জন্য দোজখের আগুন। আগে পুরাতন ঢাকায় ঘনবসতি ছিল, আর এখন পুরা ঢাকায় একই চিত্র। মানুষ আর মানুষ। আপনি নিশ্চয় অনুধাবন করতে পেরেছেন মেট্রো এই ঢাকাকে বাচিয়ে রাখার অক্সিজেন অথচ ২০২১ সালের আগে ইহা চালু হবে না। ২০২১ সালে চালু হবে কিনা তাও গ্যারেন্টি নেই। গতকাল সেতু মন্ত্রী বলেন পদ্মা সেতু যথা সময়ে শেষ হবে না। এটা পরিস্কার আরো টাকা লাগবে। দশ হাজার থেকে ঊনত্রিশ হাজারে লাফ দিছে, এখন দেখার অপেক্ষায় আছি এবার কোথায় লাফ দেয়? ঢাকাকে বাচানোর অক্সিজেন নেই। আমরা মিরপুর বাসীরা আছি সীমাহীন দূর্ভোগের ভিতরে। জাপানে যে কাজ করতে ১ সপ্তাহ লাগে সে কাজ ঢাকায় করতে লাগে ২ বছর। মতিঝিল-মিরপুরের রাস্তার মাঝখানে বিশাল অংশ জুরে মেট্রোর কাজ, বৃষ্টির সময় নিশ্চয় দৈনিকে দেখেছেন মিরপুর বাসীর যাতায়তের মাধ্যম হয় নৌকা। অন্যান্য হাজারও সমস্যা তো আছেই।

    শেওড়া পাড়ার পর বাসের ভিতরে কলেজ পড়ুয়া ছাত্রের সাথে কন্ডাক্টরের গালাগালি তারপর হাতাহাতি হাফ ভাড়ার ইস্যু নিয়ে। তারা যে ভাষায় একে অপরকে গালাগালি করল তা টানবাজারের সর্দারানীরা করত একসময়। বাসের এক মা তার মেয়েকে বুকে ঝাপটে ধরে। এক কান বুকে চেপে রাখে আরেক কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে চেষ্টা করছে যেন গালাগালির ভাষা কানে না যায়। মা তার মেয়েকে বুকে আগলে রেখে সন্তানকে এই কুৎসিত সমাজকে আড়াল করতে পারছে না। এই জাতির কি কোন আশা আছে সভ্য হওয়ার?

    আজ সকাল ৮ টায় সদর ঘাট ও আহসান মঞ্জিলে যাই। কত মানুষ রাস্তায়, প্লাটুনে, ভ্যান গাড়ির উপর…. ঘুমিয়ে আছে তার হিসেব নেই। অনেক মহিলাও আছেন। ছোট বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে রাস্তার বোতল জাতীয় জিনিষ সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। পেটের ক্ষুধা সাংঘাতিক ভয়ংকর।

    দেশ পরিচালনায় যারা নিয়োজিত ওদের দেশের মুল সমস্যা নিয়ে কোন জ্ঞান বা অনুভুতি নেই। দেশ ও দেশের জনগণ নিয়ে তাদের ভাববার সময় নেই। ক্ষমতা, লোটপাটের ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে সর্বদা চিন্তিত এবং পেরেশানযুক্ত। 

    রাস্তার কুত্তা-বিলাই ধইরা ক্ষমতার চেয়ারে বসিয়ে দিলেও এই বাংলাদেশ অনেক সুন্দর থাকত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.