[লেখাটি অসময়ের হয়ে যাচ্ছে। কোরবানী চলে গেছে অনেক দিন হলো। কোরবানীর সময়ই লিখব বলে ভাবছিলাম, কিছু তথ্য যোগাড় করলেও আর লেখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু সঠিক সময়ের জন্য বসে থাকলে হয়তো লেখাও হবে না। তাই দিয়ে দিলাম। পরে একে আরো তথ্য দিয়ে ছাড়া যাবে, অথবা কেউ চাইলে এখান থেকে তথ্য দিয়ে আরো কিছু যোগ করে ভবিষ্যতে লিখতে পারেন, সেই আশায়।]
বেঁচে থাকার জন্য মানুষ মাংসের উপর সেই আদিকাল থেকেই নির্ভরশীল ছিল। ১.৫ মিলিয়ন বছর আগের এক মানুষের খুলি আবিষ্কারের সূত্র ধরে দেখা যায় প্রাচীন মানুষেরা মাংশাসী ছিল [৭]। নিরামিশাষীরা (ভেজিটেরিয়ান) হয়তো মাংশাসী না কিন্তু তারাও কোন না কোনভাবে প্রাণীর হন্তারক! আর স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর গাছগাছালির প্রাণ থাকার প্রমাণ দেয়ার পর প্রাণী হত্যা এড়াতে নিরামিশাষী হবার যুক্তি ভোঁতা হয়ে গেছে! তবে ফ্রুটারিয়ানদের কথা আলাদা! সারাদিন গাছের নিচে বসে থাকে ফল কুড়িয়ে খেয়ে প্রাণী হত্যার অপবাদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেও জ্ঞানত ও অজ্ঞানত আনুবীক্ষণীক প্রাণী হত্যার দায় এড়াতে পারে না (J), সর্বোপরি প্রাণীই হত্যা হয়!
প্রতিবারই কোরবানী আসে আর মানবতাবাদীদের পশুপ্রেম উথলে উঠে। মানবতাবাদীদের মানবতা মানুষ ছেড়ে পশু পর্যন্ত বর্ধিত হয়! অবশ্য সূত্র অনুযায়ী মানুষও পশু, একধরণের দায়বদ্ধতা আছে হয়তো! কথা হলো কোরবানীর সময় তারা একসাথে জিগির দিয়ে উঠে কেন? আসলে এর উত্তর খুঁজে পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়! তাই হিসেব মিলানোর সামান্য একটু চেষ্টা করা!
মানবতাবাদীরা সম্ভবত একসাথে এতো প্রাণীর হত্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন! সেটা হলেতো শুধু গরু, ছাগল বা উট ভেড়ার জন্য কেন! কেন টার্কি’র জন্য নয়! ক্রিসমাসের সময় শুধু যুক্তরাজ্যেই প্রতিমিনিটে ১০০ টার্কি হত্যা করা হয় [৫]! নেপালে হিন্দুদের উৎসবের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রাণী বলির আয়োজন করা হয়। প্রায় ২৫০,০০০ প্রাণী হত্যা করা হয়। শক্তির দেবী গাদিমাই এর জন্য এই উৎসর্গের আয়োজন [১১]।
এবার দেখা যাক মাংসের ভোক্তাদের দিকে। মাংসের সবচেয়ে বড় ভোক্তা দেশুগুলো কিন্তু পাশ্চাত্যের [১]। মজার ব্যাপার হলো চাহিদার দিক থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল শুকরের মাংস! ২০১১ সালে পৃথিবীব্যাপী শুকরের মাংস ভক্ষণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী, প্রায় ৩৭ ভাগ [৬]! ১৯৬০ এর দশকে গরু ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়, ভোক্তা প্রায় ৪০ ভাগ। কিন্তু ২০০৭ সাল নাগাদ এটা কমে হয় ২৩ ভাগ। আবার এই গরুর মাংসের ভোক্তার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বরে তারপর ব্রাজিল [২]। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মাংসের ক্রেতা আবার ম্যাকডোনাল্ড’স। এই ম্যাকডোনাল্ড’স ও কেএফসি বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে বেশী বেশী খাবার খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে [৮]!
অপরদিকে ১৬ কোটির মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে কোরবানী উপলক্ষে মাংস খাওয়ার ধুম পড়লেও বছরে গড়প্রতি একজন বাংলাদেশীর মাংস গ্রহণের হার মাত্র ৩.১ কেজি। যেখানে ডেনমার্ক এ ১৪৫.৯ কেজি, নিউজিল্যান্ডে ১৪২.১ কেজি, যুক্তরাষ্ট্রে তা ১২৪.৮ কেজি, স্পেনে ১১৮.৬ কেজি, গ্রীনল্যান্ডে ১১৩.৮ কেজি, আয়ারল্যান্ডে ১০৬.১ কেজি, ফ্রান্সে ১০১.১ কেজি, ইসরায়েলে ৯৭.১ কেজি, নেদারল্যান্ডে ৭৯.৩ কেজি, যুক্তরাজ্যে ৭৯.৬ কেজি, সুইডেনে ৭৬.১ কেজি, সুইজারল্যান্ডে ৭২.৯ কেজি, সিঙ্গাপুরে ৭১.১ কেজি। অপরদিকে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে প্রথমদিকের দেশুগুলো কাতারে ৯০.৫ কেজি সর্বোচ্চ, বাহরাইনে ৭০.৭ কেজি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, লেবাননে ৬৩.২ কেজি, কুয়েতে ৬০.২ কেজি, ব্রুনাইতে ৫৬.৪ কেজি, সৌদি আরবে ৪৪.৬ কেজি, মালয়েশিয়াতে ৫০.৯ কেজি। একটা ব্যাপার স্পষ্টত লক্ষণীয়, মুসলিম অধ্যুষিত প্রাথমিক সারির দেশগুলোতে মাংস গ্রহণের হার অমুসলিম দেশগুলোর প্রথম সারির দেশগুলো থেকেও পিছনে। গড়ে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে প্রতিবছর গড়প্রতি মাংস গ্রহণের পরিমাণ আনুমানিক ২৫.০ – ৩০.০ কেজির মধ্যে [৩]।
মাংসের ভোক্তার টেবিল [৪]:
কোরবানীর সময়ে পশুর জন্য মায়াকান্নায় শরীক হওয়া বস্তুবাদী চেতনার এই মানবতাবাদীদের সাথে ভোগবাদীদের আদতে কোন পার্থক্য আছে কি-না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ! তাদের মিলটা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে কোরবানীর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের দিকে লক্ষ্য করলে। ভোগবাদীরা বলে ভোগ করো! ভোগ করতে গেলেতো টাকা পয়সা খরচ হবে! কিন্তু তারাই আবার কোরবানীকে দেখাতে চায় অপচয় হিসেবে! অনেক গরীব দুঃখীদের সারাবছরের মাংসের সন্ধান সেখানে থাকলেও কিছু যায় আসে না!
মাংসের শ্রণীবিভাগ ও এর কনসাম্পশন:
প্রাণীকে হত্যা করা হয় মানুষের প্রয়োজনেই। অধিকাংশ চামড়া আসে সেসব প্রাণী থেকে যেগুলোকে খাদ্যের জন্য হত্যা করা হয় [৯]। প্রাণীর জন্য মায়াকান্নার শেষ নেই কিন্তু জুতাটা পিভিসি বা রেক্সিন না হয়ে চামড়া হলে একটু বেশী ভাল, আরামও বেশী। শুধু জুতাই নয় প্রয়োজনীয় অনেক ব্যবহার্য জিনিষ থেকে শুরু করে প্রসাধন সামগ্রীর বিরাট এক কদর এই চামড়ায়। এখানেও মজা! দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ চামড়া আমদানি করা হয় ভারত ও চীন থেকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরামিশাষীর স্থান ভারত, জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৪০ ভাগই মাংস খায় না। প্রতিবছর গড় মাংসভক্ষণের হার মাত্র ৩ কেজি [১]। পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা ছাড়া অন্যান্য রাজ্যে গোহত্যা অবৈধ! অবৈধ কসাইখানায় পশুহত্যার বিরুদ্ধে আইন থাকা সত্ত্বেও দেদারসে হত্যা হচ্ছে। এর জন্য ১৯৬০ সালে করা আইন আছে, কিন্তু সেই আইন ভাঙ্গলে মাত্র ১৫ রূপি জরিমানা দিতে হয়! বছরে চামড়া থেকে আয় ৪ বিলিয়ন ডলার যা তাদের অর্থনীতির প্রায় ৪ ভাগ। পৃথিবীর মোট গরুর শতকরা ১৫ ভাগই ভারতের [১১]। যাই হোক, প্রাণী হত্যার সবচেয়ে নির্মম প্রচলনটা সম্ভবত এই ভারত ও চীনেই! গরুকে হত্যা করার আগে তাদের লেজ ভেঙ্গে দেয়া হয়, চোখে মরিচের গুড়া ও তামাকের গুড়া ঘষে দেয়া হয় ও তারপর দীর্ঘপথ হাটিয়ে কসাইখানায় নেয়া হয়। পথিমধ্যে এদের কোন খাদ্য এমনকি পানিও দেয়া হয় না [১০]। চীনেও ২০ লক্ষ বিড়াল ও কুকুরকে হত্যা করা হয় চামড়ার জন্য। কখনো কখনো এসব প্রাণীদের জীবন্ত অবস্থায়ও চামড়া তুলে নেয়া হয়। অপরদিকে ক্যাঙ্গারু, হাতি ও হাঙ্গর হত্যার প্রধান উদ্দেশ্য মাংস নয় এগুলোর চামড়া [৯]।
কোরবানী কেবল একটি ধর্মীয় আচারই নয়। এর মানসিক, আত্নিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সর্বোপরি মানুষের জন্য কল্যাণকর আবেদন আছে। কোরবানী কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য মাংসের কিছুটা সংস্থান করলেও, সারা পৃথিবীব্যাপী গ্রহণ করা মাংসের তুলনায় এর অবদান নগন্য! আর মাংস গ্রহণের দিক থেকে প্রথম সারির প্রাণীটি শুকর, কোরবানীর অন্তর্ভুক্ততো নয়ই, বরং হারাম! তারপরও ইসলাম বিদ্বেষীদের বাদ দিলেও কিছু আধুনিক, প্রগতিশালী ও মানবতাবাদী মুসলিমদের মায়াকান্না’র হিসেব মিলানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে!
তথ্যসূত্র:
১. http://www.huffingtonpost.com/2012/05/03/world-meat-consumption_n_1475760.html
২. http://www.guardian.co.uk/environment/datablog/2009/sep/02/meat-consumption-per-capita-climate-change
৩. http://www.guardian.co.uk/environment/datablog/2009/sep/02/meat-consumption-per-capita-climate-change
৪. http://www.census.gov/compendia/statab/cats/international_statistics.html
৫. http://www.guardian.co.uk/business/2009/dec/18/bernard-matthews-processes-christmas-turkeys
৬. http://www.huffingtonpost.com/2012/10/24/global-meat-production-consumption-slows_n_2008871.html
৭. http://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-2212678/Early-man-hunter-ate-meat-regularly-survive-suggests-skull-fragment-dating-1-5m-years.html
৮. http://www.globalissues.org/article/240/beef
৯. http://www.idausa.org/facts/leatherfacts.html
১০. http://www.peta.org/issues/animals-used-for-clothing/leather-industry.aspx
১১. http://www.rnw.nl/english/article/indian-cows-not-holy-leather-industry
১২. http://www.guardian.co.uk/world/2009/nov/24/hindu-sacrifice-gadhimai-festival-nepal



এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তারা পশু হত্যার জন্য মায়াকান্না করে -- এ কথা সত্য নয়। তারা শুধু গোহত্যার জন্য মায়াকান্না করে, আর এই মায়াকান্নার সময় হচ্ছে কুরবানী ঈদ।
শামস
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ৭:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মূল পোস্টে বলা হয়েছেঃ
অর্থনীতিতে চামড়ার অবদান অনেক। তাই চুপ হয়তো! গরু, ঘোড়া কিছুই ব্যাপার না!
আহমেদ শরীফ
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পরিশ্রমী, তথ্যবহুল, ক্লাসিক একটা পোস্টের জন্য লেখক সপ্রশংস ধন্যবাদার্হ।
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ৭:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকেও ধন্যবাদ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শামস
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ৭:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ।
সাদাত
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ২:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
চমৎকার একটি তথ্যবহুল লেখা। জাযাকাল্লাহ।
আমাদের দেশে কুরবানির পর প্রায় একমাস গোস্তের দোকান বন্ধের মতো থাকে। কসাইরও এক মাস অবসর থাকে। কাজেই কুরবানি করে বেশি গোহত্যা করে গরু শেষ করে ফেলা হচ্ছে যারা বলেন তাদের কথার কোন বাস্তবতা নেই।
একা একটি পশু কুরবানি কয়জনই বা দিতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৭ জনে একটা গরু কুরবানি দেন। তাতে একজনের ভাগে কয় কেজি গোস্তই বা পড়ে। তারপর সেই গোস্ত ৩ ভাগ করলে নিজের ভাগে কতটুকুই আর থাকে। আর যারা একা কুরবানি দেন, তারাও গোস্ত সংরক্ষণ করে অনেকদিন ধরেই খেয়ে থাকেন।
ফলে কুরবানি করে একই সময়ে অনেক গরু ছাগল জবাই করা হলেও মোট পশু জবাইয়ের পরিমাণ একই থাকে।
শামস
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ৭:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত, মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
নীরব সাক্ষী
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১০:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ তথ্যবহুল লেখা। মানবতার ভেক ধরে মূলত কুরবানীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া আর কি!
শামস
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ৬:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@নীরব সাক্ষী, মানবতার ভেক ধরতে হয়, বেশী বেশী করে বলতে হয় মানবতা, মানবধর্ম ইত্যাদি। কিন্তু শ্লোগান ছাড়া এর কোন স্বরূপ নেই!
পাভেল আহমেদ
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ২:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যারা মুসলিমদের কুরবানির বিরুদ্ধে লেখে তারা আসলেই বলদ প্রকৃতির।
শামস
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ৬:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@পাভেল, আমার ধারণা এই ইসলাম বিদ্বেষী ও মানবতাবাদীরা ইসলামের বিরোধীতা বা বিদ্বেষপোষণ করতে হবে তাই করে। এরা কোন ধরণের এনালাইসিস এ যায় না!
পাভেল আহমেদ
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ২:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিক বলেছেন!
আহমেদ শরীফ
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৩:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আর বাংলাদেশের জন্যে তো এটা অবশ্যকরণীয় চিরাচরিত রাজনৈতিক কালচার -- "বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা"।
মুনিম সিদ্দিকী
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ৯:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ! অসাধারণ তথ্যবহুল লেখা। ধন্যবাদ।
শামস
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৮:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই, পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ১০:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দারুন একটা লেখা। আপনার লেখার তথ্য নিয়ে একটা চার্ট বানিয়েছিলাম -- কিন্তু কমেন্ট সেকশানে দিতে পারলাম না।
শামস
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ৬:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,
আপনি সম্ভবত বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর গড়প্রতি বছরে মাংস গ্রহণের পরিমাণকে চার্ট বানাতে চাচ্ছিলেন। চার্ট যদি এক্সেলে করেন তাহলে কপি নাও হতে পারে। ওয়ারডপ্রেস অনেককিছুই সাপোর্ট করে না। ছবির ফরম্যাটে দিলে সমস্যা হতো না। আমি সাধারণত "Capture Screen" নামক ফ্রি ছবি ক্যাপচার করার টুল ব্যবহার করি। এটা দিয়ে যে কোন স্ক্রিণ ক্যাপচার করা যায়, কোয়ালিটিও বেশ ভালো।
ধন্যবাদ।
নির্ভীক আস্তিক
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ১:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুসলমানরা তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কোরবানি দেয় ধনি গরীব আত্নীয়, প্রতিবেশির সাথে ভাগাভাগি করে কিন্তু তাতে করে খাঁটি প্রগতিশীল নাস্তিকদের ভাগে গরু, দুম্বার গোশত কম পড়ে । তারা এসকল সৌহার্দ, সম্প্রিতীর practice দেখে হিংসা করে, হীনমন্যতায় ভোগে, রাগে ফেটে মাথায় মাইগ্রেনের ব্যথা উঠায়, ফলাফল স্বরূপ ব্রেইন টিউমার ধরায়। না, না, না আপনাদের কইছে ! অসব কিছুনা । তারা বহু আকাঙ্খার মাংশের লোভে লুল ফেলায়, তাইতো তাদের অমূলক দাবি নিয়ে এতো কুরাকুরানি ।
আচ্ছা শামস ভাই একখান প্রশ্ন- এই যে প্যাগান নাস্তিকদের মধ্যে Virtual মানবতাবাদীর যে হুংকার যা নিদেনপক্ষে শুধু তাদের মুখের ফুটোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, হাজার বছরের তেমন কোন ভাল প্রতিষ্ঠিত কার্যকরনের মাধ্যমে তারা মুখের গোলকের পরিধির বাহিরে বের করতে পারে নাই, সেই মানবতাবাদীর সঙ্গাটার সাথে গরুর প্রতি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মায়া-মহব্বতের ( গরুত্ব ) যে আবেদন কি মেলানো যায় ? I mean যদি মনুষ্যত্বের প্রতি আবেদন মানবতা হয়, তাইলে গরুত্বের প্রতি যে অতি ভালবাসার আবেদন তাকে আমরা কি *বতা* বলতে পারি ?
শামস
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ৭:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@নির্ভীক আস্তিক,
সবচেয়ে বড় কথা হল, তাদের মানবতার স্বরূপ কি তারাও নিজেও পুরোপুরি বলতে পারবে না! প্রতিটা মতবাদের একটা দর্শন থাকে, সেই দর্শনটা কতটুকু প্রভাববিস্তারকারী হবে তা নির্ভর করবে সেই দর্শনটা মানুষের ব্যক্তিক ও সামষ্ঠিক বিষয়াদির সবক্ষেত্রে এর আবেদন কতটুকু। এখানে যারা মানবতার কথা বলে তারা অনেকটা দাসমনোবৃত্তি সুলভ, প্রভূদের কথার পুনরাবৃত্তি করে। সেই প্রভূরা আগে বিভিন্ন স্থানের বিক্ষিপ্ত থাকলেও এখন মোটামুটি পাশ্চাত্যপন্থী, বস্তুবাদী চেতনার। কিন্তু তারা এটা স্বীকার করবে না। ইউরোপের মানবতাবাদ তাদের প্রভুত্বকে নিশ্চিত করলেও বাকী বিশ্বকে দাস করেছে। আমাদের দেশজ মানবতাবাদের কথা বলেছে বৈষ্ণব, লালনরা। সেখানে বিদ্বেষ আপনি পাবেন না, কিন্তু এই মানবতাবাদীদের মানবতার প্রসারের উপায় হল বিদ্বেষ, অপরের মতবাদকে বিদ্রুপ করা, চরিত্র বিচারে যার সাথে এই লালন বৈষ্ণবদের মিল নেই, আছে ইউরোপিয়ান মানবতাবাদীদের সাথে।
এই পোস্টে সেই মানবতাবাদীদের মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডার জবাব দেয়া হয়েছে।
মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
Dr.Kamrul
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ২:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
SubhanAllah.Very much effective writings.
শামস
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৮:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ।
সদালাপ নিয়মিত ভিজিট করুণ।
মুসলেহুদ্দিন রাজু
জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ at ১০:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
চমত্কার লিখার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে,জনাব শামস।
.সূর্যের মতো স্পষ্ট করে দিলেন বিষয়টিকে
শামস
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৮:৪২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়া ও মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
রাজদরবার
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ১:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলে বিষয়টি হলো, গরুর সাথে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির যোগসাজশ। যা তাদের মুক্তমনা দালালদের এসব কাজে লিপ্ত করছে। নীতি আদর্শ এসব ফাঁপা বুলি মাত্র।
শামস
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৮:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভারতে যে হারে চামড়া সংগ্রহ করা হয় সেটা অমানবিক! কিছু সুযোগসন্ধানী হয়ত গরুর জন্য অতি দরদের কারণে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু ওভারঅল, গরুকে আমার বড় কোন ফ্যাক্টর মনে হয়নি। কোরবানী নিয়ে শুধু ভারত বা ভারতঘেষা লোকরাই সোরগোল করে তা না, পাশ্চাত্যেও অনেকে করে, কিন্তু সেখানে নিরামিশাষী কম থাকায় ততটা ব্যাপক না। তাদের প্রতিবাদ প্রাণী হত্যার উপায় নিয়ে, সেটা অন্য আলোচনা।
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ১২:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার "কোরআন ও বিজ্ঞান নিয়ে বিভ্রান্তি-৩" লেখা থেকে প্রাসঙ্গিক একটি অংশ তুলে দিলাম-
ভেজিটেরিয়ানিজম: প্রাচীনকালে মানুষ জানতো না যে, গাছ-পালা তথা উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। তারাও ব্যাথা পায়। তারাও কাঁদে। কারণ সাদা চোখে সেটা তো বুঝতে পারা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষ ও পশু-পাখিদের যে প্রাণ আছে সেটা তো দেখেই বুঝা যায়। ফলে সেই সময় কে যেনো (সঠিক জানা নেই) "জীব হত্যা মহা পাপ" নামক দর্শন প্রচার শুরু করেন। সেই দর্শনের উপর ভিত্তি করে আজও কিছু মানুষ নিরামিষ ভোজন করে। অর্থাৎ তারা মাছ-মাংস না খেয়ে শাক-সব্জি ও অন্যান্য জিনিস খায়। কিন্তু উদ্ভিদেরও যে প্রাণ আছে সেটা বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন। ফলে নিরামিষভোজীদের দর্শন কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে অচল হয়ে পড়েছে। যদিও কে কী খাবে আর কে কী খাবেনা সেটা নিজ নিজ ব্যাপার তথাপি এই বিষয়টি উত্থাপন করার পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে নিরামিষভোজীরা আমিষভোজীদেরকে পশু, কসাই, খুনী, বর্বর, ইত্যাদি বলে গালিগালাজ করে। তাদের আরো 'যুক্তি' হচ্ছে যারা পশুর মাংস খায় তারা নাকি পশুর মতো আচরণ করে! কিন্তু যারা শাক-সব্জি খায় তারা শাক-সব্জির মতো আচরণ করে কি-না জানা যায় না! মজার ব্যাপার হচ্ছে হিটলার নাকি নিরামিষভোজী ছিল! (উইকিপেডিয়া) তারা বিজ্ঞান ও যুক্তি-তর্কের ধার ধারে না। শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে আমিষভোজীদেরকে আক্রমণ করে। অধিকন্তু, নিরামিষভোজীদের বিশ্বাস অনুসরণ করে আগামীকাল থেকে এই পৃথিবীর সবাই যদি নিরামিষভোজী হয়ে যায় সেক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থাটা একবার ভেবে দেখুন! তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, এই দর্শন সার্বিকভাবে বাস্তবসম্মতও নয়। অন্যদিকে আমিষভোজীরা বাস্তবতা ও পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আমিষভোজী কিংবা নিরামিষভোজী অথবা উভয়ই হতে পারে।
আইডল ওয়ার্শিপ: কেউ কেউ আইডল ওয়ার্শিপকে স্রেফ অক্ষতিকর একটি রিচুয়াল হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। দাবিটা সত্য হলে কিছু বলার ছিল না। কিন্তু সত্যিই কি তাই? এই অংশে যৌক্তিক, মানবিক, ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইডল ওয়ার্শিপের উপর অতি সংক্ষেপে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা হবে: ১) প্রতি বছর সারা পৃথিবী জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে কাদা, পানি, রঙ, ও রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে আইডল বানিয়ে কয়েকদিন ওয়ার্শিপ করে সেই আইডলগুলোকে আবার পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। তার মানে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার স্রেফ পানিতে ফেলে দেয়া হচ্ছে! অথচ সেই ধর্মেরই মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে। এই রিচুয়াল তাহলে কতটা অক্ষতিকর বা মানবিক! এমনকি আইডলগুলো বানাতে প্রচুর শ্রমেরও দরকার হয়। ২) বিভিন্ন রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে আইডল বানিয়ে পানিতে ডুবানোর ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যেমন: পানি দূষিত হয়; মাছের ক্ষতি হয়; শষ্যের ক্ষতি হয়; মানুষ সেই পানি ব্যবহার করলে তাদেরও ক্ষতি হয়; ইত্যাদি।
সরোয়ার
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ২:১৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি তথ্য দিয়ে তথাকথিত ইসলাম বিদ্বেষী মানবতাবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করলেন। ধন্যবাদ।
শামস
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৮:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সরোয়ার, ধন্যবাদ।
শাহবাজ নজরুল
জানুয়ারি ২০, ২০১৩ at ২:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই বিষয়ে মানবতাবাদীরা কয়েক ভাগে বিভক্ত -- যেমন,
১. ভাজিভোজী -- মাংস যেহেতু প্রাণীর তাই প্রাণ নষ্ট না করে ভাজি খান। অবশ্য গাছেরও প্রাণ আছে এর পর থেকে তাদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে। বিশেষত আলু, গাজর, পেঁয়াজ জাতীয় খাবার তাদের বিশেষ অস্বস্তিতে ফেলে দেয় -- কেননা এসব খেলে গাছকে সমূলে উতপাটিত করতে হয়। এরা কোনো একটা নীতি আঁকড়ে ধরতে চায়, তবে সঠিক জ্ঞানের অভাবে অযথাই কনফিউসড।
২. গরু খাবেন কিন্তু কোরবানী দেখাবেন না সন্তানদের -- এরা ভাবেন জীবন জীবিকার জন্যে গরু খেতে আপত্তি নেই, ঈদ উৎসবেও অসুবিধা নেই, কিন্তু বাচ্চাদের কোরবানী দেখাবেন না। এরা এক কথায় মোনাফেক শ্রেনীর।
৩. গরু খাবেন আর সাথে সাথে চামড়ার মানিব্যাগ, ঘড়ি, জুতা সহ সমাবেশে এসে -- কোরবানীর বিভৎসতা নিয়ে বক্তৃতা দেবেন। এরা হচ্ছে প্রকৃত মুক্তমনা -- অর্থাৎ মোনাফেকেরো বাবা।
--শাহবাজ
শামস
জানুয়ারি ২১, ২০১৩ at ৮:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হাহাহাহাহা…………দারুণ বলছেন। তাদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট!
Anonymous
আগস্ট ২৫, ২০১৮ at ১২:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
গীবত করা কখনও কখনও জায়েজ।
কারও দ্বারা যদি দিনের ক্ষতি হয় তার ব্যাপারে গীবত করা ওয়াজিব।