«

»

Mar ০৫

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর কাপুরুষোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সাথে আমার কয়েক মিনিটের একটি স্মৃতি আছে। অনেক আগে একবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাস্ট-SUST) ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়েছিলাম। সেই সময় ড. জাফর ইকবাল ছিলেন বিভাগীয় প্রধান, এখনো আছেন। সাস্ট-এর বয়স তখন মোটেই কয়েক বছর। সবেমাত্র প্রথম (অথবা দ্বিতীয়) ব্যাচ পাশ করে বেরিয়েছে। আমরা (অনেকে) যখন ইন্টার্ভিউ-এর জন্য একটি রুমে অপেক্ষা করছিলাম তখন কেউ কেউ বলাবলি করছিল যে, এবার সাস্ট-এর বাইরে থেকে কাউকে নেওয়া হবে না।

যাইহোক, একটা সময় আমার ডাক পড়লো। ইন্টার্ভিউ রুমে ঢুকে দেখি ড. জাফর ইকবাল স্যার একা বসে আছেন। সেবার ইন্টার্ভিউ বোর্ডে আর কেউ ছিলেন কি-না, সেটা আর কখনো জানা হয়নি। উনি আমাকে বসতে বললেন। প্রথমেই আমার বাড়ির ঠিকানা ও বর্তমান কর্মক্ষেত্র জানতে চাইলেন। আমি বলার পর উনি যে প্রশ্নটি করলেন সেটি হচ্ছে আমার বাড়ি থেকে বর্তমান কর্মক্ষেত্র ও সাস্ট মোটামুটি একই দূরত্বে এবং দুটি কাজের ধরণও একই হওয়া সত্ত্বেও আমি কেন সাস্ট-এ আসতে চাই। এই প্রশ্নের আসলে যৌক্তিক কোনো জবাব ছিল না। শুধু বলেছিলাম বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে সিলেট আমার সবচে' পছন্দের। আসল উদ্দেশ্য ছিল ইন্টার্ভিউ-এর উছিলায় সিলেট শহর ও আশেপাশে ঘুরে দেখা। তারপর জিপিএ এবং বর্তমান কর্মক্ষেত্রে কেমন লাগছে জানতে চাইলেন। তবে উনি কোনো টেকনিক্যাল প্রশ্ন করেননি। পরে আর কোনো ডাক পাইনি। সেবার অবশ্য সত্যি সত্যিই সাস্ট-এর বাইরের কাউকে নেওয়া হয়নি। সেজন্যই হয়তো উনি বাইরের প্রার্থীদের সাথে খোশালাপ করেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। মুখোমুখি কয়েক মিনিটের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁকে একজন সাদামাটা মানুষ বলেই মনে হয়েছে।

জানি, ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবির, বিএনপি, ও বামদের 'আওয়ামী লীগ তোষণের' অভিযোগ আছে। অভিযোগ খানিকটা হয়তো সত্যও বটে। শতভাগ নিরপেক্ষ বলে তো বাস্তবে কিছু নেই। এমনকি 'মুক্তমনা'রূপী ইসলাম-বিদ্বেষীরাও বিভিন্ন কারণে উনার উপর বেশ ক্ষ্যাপা। এটাও সত্য যে, উনি বিশেষভাবে জামায়াত-শিবির'পন্থীদের সমালোচনা করেন। এজন্য জামায়াত-শিবির'পন্থীরা রাজনৈতিক বিদ্বেষবশত তাঁকে 'নাস্তিক' ও 'ইসলাম-বিদ্বেষী' আখ্যা দিয়ে ফেইসবুক ভরে ফেলেছে - যেটি সম্পূর্ণ অনৈসলামিক একটি কাজ। তারা এক্ষেত্রে ইসলামকে 'ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাছাড়াও তাঁকে উদ্দেশ্য করে চরম অবমাননাকর কথাবার্তা-সহ ফটোশপের মাধ্যমে তাঁকে অত্যন্ত নিকৃষ্টভাবে পচানোও হয়েছে। সবকিছু স্বচক্ষে দেখেই বলছি। ফেইসবুকের মালিক মার্ক জুকারবার্গ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সরকারও এগুলো রোধ করতে পারেনি।

যাইহোক, ভালো-মন্দ নিয়েই একজন মানুষ। ড. জাফর ইকবালের উপর কাপুরুষোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে আক্রমণকারী ও তার সহযোগীদের বিচার দাবি করছি। আশা করি উনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

 

নোট: ড. জাফর ইকবালের উপর একজন চাকুধারীর হামলাকে পুঁজি করে 'খাঁটি মুক্তমনা' ওরফে অভিগ্যাং-এর কিছু মন্তব্য নিচে রেখে দেওয়া হলো। অভিজিৎ রায় ঠিক এভাবেই ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' ও 'জঙ্গি-সন্ত্রাসী' ধর্ম প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।

 

৫ comments

Skip to comment form

  1. 1

    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আমি তো জানি আপনার বয়স ৬০+…। এই লিখা পড়ে মনে হচ্ছে বয়স এত বেশী না। 

    সাস্ট-টা আবার কি? প্রথম শুনলাম।

    1. 1.1

      মোঃ তাজুল ইসলাম

      "এবার সাস্ট-এর বাইরে থেকে কাউকে নেওয়া হবে না।"

      =>সাস্ট শাহজালাল ইউনিভার্সিটি হলে উপরের স্টেটমেন্টটি বুঝা গেল না।

      1. 1.1.1
        এস. এম. রায়হান

        আমি তো জানি আপনার বয়স ৬০+…।

        এটা কী করে জানলেন, বুঝলাম না!

        "এবার সাস্ট-এর বাইরে থেকে কাউকে নেওয়া হবে না।"

        =>সাস্ট শাহজালাল ইউনিভার্সিটি হলে উপরের স্টেটমেন্টটি বুঝা গেল না।

        হ্যাঁ, সাস্ট (SUST) হচ্ছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ। "এবার সাস্ট-এর বাইরে থেকে কাউকে নেওয়া হবে না" কথাটার অর্থ হচ্ছে সাস্ট থেকে যারা পাশ করেছে তাদের মধ্যে থেকেই নেওয়া হবে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা কাউকে নেওয়া হবে না।

  2. 2
    এস. এম. রায়হান

    অভিরায়ের নেতৃত্বে এক বা একাধিকবার ড. জাফর ইকবালকে 'ছদ্ম বিজ্ঞানী' প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেগুলোর কিছু প্রমাণ এই পোস্টে পাওয়া যাবে। তাছাড়া বামমনা শামসুজ্জোহা মানিকের 'ইসলাম বিতর্ক' নামক ইসলাম-বিদ্বেষী বইটিকে 'অশ্লীল' আখ্যা দিয়ে সেটি পড়তে নিরুৎসাহিত করার জন্য ড. জাফর ইকবালের উপর মুক্তমনাদের চাপা ক্ষোভ আছে। ড. জাফর ইকবাল আক্রান্ত হওয়ার পর সেই চাপা ক্ষোভের কিছু বহিঃপ্রকাশ এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও অন্যান্য জায়গায় দেখা যাবে।

  3. 3
    এস. এম. রায়হান

    ড. জাফর ইকবালের উপর আক্রমণের কয়েকদিন পর উনি কিছু কথা বলেছেন [সূত্র]। উনার কথার উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে-

    তিনি আরও বলেন, আমি পবিত্র কোরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই ভালোভাবে পড়েছি।

    এর আগে তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন বলেন, ‘জাফরকে নাস্তিক হিসেবে যারা অভিহিত করে তারা আসলে তার সম্পর্কে খুব বেশি একটা জানে না। এমনকি জাফরের ২০০ বইয়ের কোনোটাতেই ইসলামবিরোধী কোনো কথা নেই।’

    বক্তব্য চলাকালে ড. ইকবাল কোরআন মাজিদের একটি আয়াতের (৫/৩২) কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, যে লোক অপর একজনকে হত্যা করে সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করল।’

    ড. জাফর ইকবালের এই কথাগুলোর উপর ভিত্তি করে মনারা 'সহিমনা' ও 'মডারেটমনা' নামে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ক্যাচাল শুরু করেছে। সহিমনাদের বক্তব্য অনুযায়ী ড. জাফর ইকবাল একজন ভণ্ড ও সুবিধাবাদী, কাজেই উনি মনাধর্ম থেকে আউট-কাস্ট হয়ে গেছেন। অন্যদিকে মডারেটমনারা খুব করে চেষ্টা করছে ড. জাফর ইকবালকে নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.