(ধারা বাহিক অনুবাদ, পূর্ব প্রকাশিতের পর)
=================================
আল-মায়ীদা;-রুকু;-১৩ আয়াত;-৯৪-১০০ কোরানের কথা পর্ব-১০৫
হজ্জের এহরাম বাঁধা অবস্থায় কাফেলা চলেছে, সঙ্গে কোন খাদ্য নেই, এমত অবস্থায় সংযমের পরীক্ষা নিয়ে আসছে পরের আয়াত টি। এ আয়াতে অ-সংযমীর শাস্তির উল্লেখ থাকলেও পরের আয়াতে কাফ্ফারার কথা বলা হয়েছে।
৯৪/يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَيَبْلُوَنَّكُمُ اللّهُ بِشَيْءٍ مِّنَ الصَّيْدِ تَنَالُهُ أَيْدِيكُمْ وَرِمَاحُكُمْ لِيَعْلَمَ اللّهُ مَن يَخَافُهُ بِالْغَيْبِ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অর্থাৎ;-হে মুমিন গন, অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা করবেন, এমন কিছু শিকারের মাধ্যমে, যা তোমাদের হাত ও বর্শা সহজেই শিকার করতে পারে, যাতে আল্লাহ বুঝতে পারেন, কে তাকে না দেখেও ভয় করে। অতএব যে কেউ এরপর সীমা লঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি।
সঙ্গে খাদ্য নেই, অথচ শিকার হাতের কাছেই ঘোরা ফেরা করছে, যা অনায়াসেই ধরে রান্না করে ক্ষুধা নিবৃত্ত করা যায়। কিন্তু এহরাম বাঁধা অবস্থায় কোন জন্তু শিকার করা নিষেধ, আর শিকারে কাছে আসাও আল্লাহর পরীক্ষারই অংশ। যারা সংযম ভঙ্গ করে শিকার ধরবে, তারা পরীক্ষায় ফেল করল এবং শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হয়ে গেল।
৯৫/يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقْتُلُواْ الصَّيْدَ وَأَنتُمْ حُرُمٌ وَمَن قَتَلَهُ مِنكُم مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاء مِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَو عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِّيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ عَفَا اللّهُ عَمَّا سَلَف وَمَنْ عَادَ فَيَنتَقِمُ اللّهُ مِنْهُ وَاللّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ
অর্থাৎ;-হে মুমিন গন, তোমরা এহরাম বাঁধা অবস্থায় শিকার হত্যা করনা। তোমাদের মধ্যে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে শিকার হত্যা করবে তার উপর বিনিময় বর্তাবে। যা হত্যাকৃত জন্তুর সমান হবে। তোমাদের মধ্যে দুজন ন্যায়বান লোক এর ফয়সালা করবে। সেই জন্তুটি হাদিয়া স্বরূপ ক্বাবায় পৌঁছাতে হবে। অথবা তার উপর কাফ্ফারা বর্তাবে কয়েকজন দরীদ্রকে খাদ্য দেওয়ার, অথবা তার সম পরিমান রোজা রাখবে। যেন সে কৃত কর্মের ফল আস্বাদন করে। যা গত হয়েছে আল্লাহ তা মাফ করেছেন। তবে কেউ তা পুনরায় করলে আল্লাহ তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নেবেন। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রতিশোধ গ্রহনে সক্ষম।
এহরাম বাঁধা অবস্থায় জন্তু জবাই করা ও শিকার করা নিষেধ। জানার পরও যদি কেউ করে বসে তবে তাকে শিকারের অনুরূপ জন্তু কাফ্ফারা দিতে হবে। যেমন কেউ যদি হরিণ শিকার করে তবে তাকে তার অনুরূপ অন্য জন্তু যেমন ছাগল, ভেড়া দিতে হতে পারে। যদি নীল গাই শিকার করে, তবে গাই দিতে হবে। উভয়ের মধ্যে সমতা নির্ণয়ের কাজটি দুইজন ন্যায় বান লোক নিযুক্ত করতে হবে। যি কেউ বদলা দিতে অপারগ হয়, তবে ঐ হরিণটি যত জনের খাদ্য বলে বিবেচিত হবে, তত জন দরীদ্র কে খাদ্য দিতে হবে। এতেও অপারগ হলে, ঐ দরীদ্র লোকদের সম পরিমান দিনের রাজা রাখবে। এ নিয়ম বলবৎ হওয়ার আগে যা ঘটে গেছে তা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিয়েছেন, তবে তারা যদি পুনরায় এ দোষ করে বসে তবে, আল্লাহ তার প্রতিশোধ নেবেনই।
৯৬/أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَّكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِيَ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
অর্থাৎ;-তোমাদের জন্য সমুদ্রের খাদ্য হালাল করা হয়েছে, তোমাদের উপকারার্থে ও তোমাদের এহরাম কারী দের জন্য। স্থল শিকার হারাম করা হয়েছে, যতক্ষন এহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহকে ভয় কর, যার কাছে তোমরা একত্রিত হবে।
এহরাম অবস্থায় স্থলের শিকার হারাম করা হলেও পানি বা সমুদ্রের শিকার হালাল ও শিকার বৈধ করা হয়েছে। সী-ফুডে মানুষের অনেক উপকারের কথা বর্তমান বিজ্ঞান দ্বারাও সীকৃত। সী-ফুড হালাল বলা হলেও সমুদ্রের হিংস্র জন্তু, যেমন কূমীর, হাঙ্গর এর আওতায় পড়েনা।
৯৭/جَعَلَ اللّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِّلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلاَئِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَأَنَّ اللّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
অর্থাৎ;-আল্লাহ মানুষের স্থীতিশীলতার কারণ করেছেন মহা সন্মানিত ক্বাবা ঘরকে, সন্মানিত মাসকে, ক্বোরবানীর জন্য প্রেরিত পশুকে, এবং গলায় মালা পরিহিত পশুকে। এর কারণ এই যে যাতে তোমরা জানতে পার যে, অবশ্যই আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে আসমানে, যা কিছু আছে যমিনে। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ।
৯৮/اعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থাৎ;-তোমরা জেনে নাও নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তি দাতা ও নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।
৯৯/مَّا عَلَى الرَّسُولِ إِلاَّ الْبَلاَغُ وَاللّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ
অর্থাৎ;-রসুলের দায়ীত্ব তো শুধুই পৌঁছে দেওয়া, আর আল্লাহ জানেন, যাকিছু তোমরা প্রকাশ্যে কর এবং যাকিছু গোপন কর।
৯২ নং আয়াতেও আল্লাহ বলেছেন, একই কথা; রসুলের দায়ীত্ব শুধুই পৌঁছে দেওয়া বা প্রচার করা। রসুল আল্লাহর বাণী যথাযত উম্মতের কাছে পৌঁছে দিলে তাঁর দায়ীত্ব শেষ, বাকী বোঝা পড়া আল্লাহ আর তার বান্দার মাঝে।
১০০/قُل لاَّ يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُواْ اللّهَ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থাৎ;-বলে দিন, অপবিত্র আর পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে বিষ্মিত করে। অতএব হে বুদ্ধিমান গন আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা মুক্তি পাও।
মিথ্যার যেমন প্রসার বেশী অপবিত্রের তেমনই ঔজ্জ্বল্য বেশী। এখানেও পরীক্ষা, জ্ঞান বানেরা সঠিকটাই বেছে নেবে।

কিংশুক
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৬:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মহান আল্রাহ তায়ালার বাণীর বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির পাঠ করার সূযোগ দেয়ায় ধণ্যবাদ জানাচ্ছি।
আবদুস সামাদ
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৭:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবদের সাথে, সাথে থাকার অনুরোধ রইল।
শাহবাজ নজরুল
জানুয়ারি ২০, ২০১৩ at ১:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ব্যাখ্যাটা আরেকটু বেশী কী দেয়া যায়? বায়ানুল কোরানের পাশাপাশি আপনার নিজের কিছু কথা/ব্যাখ্যা/অনুভূতি যোগ করা যায়কি? মনে হয় প্রথম দিকটাতে আপনি টা করতেন। যাইহোক এগিয়ে চলুক।
জানুয়ারি ২১, ২০১৩ at ৭:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শাহবাজ ভাই, পরামর্শ সুন্দর, এখনও খুব সাবধানে কিছু অসঙ্গতি যা আমাদের মাঝে দেখি তার সামান্য বলি, তবে ভয় হয় নিজের মতামত দিয়ে ভিন্ন পথে না ঠেলে দিই৷ আর তাতে তর্কের সূত্রপাতও হতে পারে, তাই একটু সাবধান থাকি। প্রথম পাতায় যেহেতু একটার বেশী রাখা যায়না তাই, পোষ্টে পিছনে থাকলেও বাস্তবে আমি এখন সুরা তাওবার শেষ প্রান্তে আছি, মা শা আল্লাহ৷ দোওয়া করবেন৷ সঙ্গে থাকলে উৎসাহ পাই৷ ধন্যবাদ৷