১.
আমজনতা: সেইদিন আসলে কী হইছিলো, একটু খুইলা বলেন দেহি। আমরা পুরাই অন্ধকারে রয়ে গেছি। আমগোরে একটু আলোর পথ দেহান।
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: কী আবার হইবো? সহি বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত সহি ইসলামিক জঙ্গিরা সহি কোরান দিয়ে সহি কায়দায় আমারে কোপাইছে।
আমজনতা: কোরান দিয়ে কোপাইছে? কোরান দিয়ে কুপিয়ে কাউকে হত্যা করা যায় নাকি?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: না, মানে সহি বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত সহি ইসলামিক জঙ্গিরা সহি কোরান থেকে সহি শিক্ষা নিয়ে সহি চাপাতি দিয়ে সহি কায়দায় আমারে কোপাইছে। তাইলে সহি কোরান আর সহি চাপাতির মধ্যে কোনো সহি পার্থক্য থাকে কি? যাহাই লাউ, তাহাই কদু! যুক্তিতে আসেন, মিয়ারা!
আমজনতা: আমরা মুক্কু-সুক্কু মানুচ। আপনাগো মতো উচ্চ মাত্রার যুক্তি বুঝি না! তা কোপটা কি কোরান না চাপাতি দিয়ে দেওয়া হইছে - সোজা কইরা কথা কন, মিয়া ভাই।
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: কী মুশকিলের কথা! এবার একটু সোজা কইরা বলি। সহি ইসলামিক জঙ্গিরা কোপ দিছে সহি চাপাতি দিয়া কিন্তু শিক্ষা নিছে সহি কোরান থিকা।
আমজনতা: আমগো মতো আমজনতার সাথে বৈগ্যানিক ভাষায় কথা বললে কিছুই বুঝুম না! ইসলামিক জঙ্গিরা কই থিকা শিক্ষা নিছে সেই বিষয়ে তো প্রশ্ন করা হয়নি। আপনারে কোপানো হইছে কী দিয়া, সেইটাই শুধু জানতে চাওয়া হইছে।
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: সহি চাপাতি দিয়া। এবার বুঝছেন?
আমজনতা: হ্য, বুঝছি! তো এই দুনিয়াই যদি কোনো চাপাতি না থাকতো সেক্ষেত্রে কি কেউ কারো মাথার ঘিলু আউলাইয়া দিয়া তাকে হত্যা করতে পারতো? আগের মতো বৈগ্যানিক ভাষায় না বলে বাংলা ভাষায় জবাব দিয়েন।
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: না।
আমজনতা: এই সত্যটা কি আপনার আগে থেকেই জানা ছিল যে, এই দুনিয়াই কোনো চাপাতি না থাকলে কেউ খালি হাতে আপনার ঘিলু আউলাইয়া দিয়া হত্যা করতে পারতো না?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: অবশ্যই! এইটা তো যেকারো জানার কথা!
আমজনতা: আপনি কি তাহলে আপনার জীবদ্দশায় এই দুনিয়া থেকে সকল প্রকার চাপাতি নির্মূলের জন্য কখনো লড়াই করেছেন?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: হা-হা-হা! সহি বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত সহি আমজনতা আমারে সহি বোকা পাইছে নি! রামদা-চাপাতি-বটি-চাকু নির্মূলের জন্য লড়াই করতে যেয়ে কসাইদের হাতে রামদা-চাপাতির কোপ খামু নাকি! তাছাড়া রাধুনীরাও বটি-চাকু নিয়ে আমার পিছু ধাওয়া করবো! আমি অতটা বোকা নই, মিয়ারা! তার চেয়ে বরং সহি ইসলামিক জঙ্গিদের হাতে সহি কোরান থুক্কু সহি চাপাতির কোপ খাওয়া অনেক ভালো। দ্যাহেন না, আমার সহি বিগ্যানমনস্ক মুরিদরা আমারে সহি বিজ্ঞ্যানেশ্বর বানিয়ে সহি কায়দায় পূজা করছে। রামদা-চাপাতির বিরুদ্ধে লিখতে যেয়ে কসাইদের হাতে কোপ খেলে কি সহি বিজ্ঞ্যানেশ্বর হইতে পারতাম? যুক্তিতে আসেন, মিয়ারা!
২.
আমজনতা: ভারতে বিগত বছরগুলোতে কয়েকজন যুক্তিবাদীকে হত্যা করা হয়েছে যাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও আছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: ওরা ওদের ধর্ম পালন করেছে, তাতে আমজনতার মাথা ঘামানোর কী আছে? আপনাগো নিজ নিজ কাজে মনোযোগ দ্যান, মিয়ারা। তাছাড়া তারা কি চাপাতি দিয়ে কোপাইছে? না। তারা শুটিং প্র্যাকটিস করেছে। চাপাতি দিয়ে কোপানো আর শুটিং প্র্যাকটিস কি এক জিনিস হইলো? আমজনতা কি শুটিং প্র্যাকটিসের অর্থ বোঝে? শুটিং প্র্যাকটিস হচ্ছে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পন্থা, আর চাপাতি দিয়ে কোপানো হচ্ছে মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথা। আমি মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে। তাছাড়া শুটিং প্র্যাকটিসের বিরুদ্ধে বলতে যেয়ে নিজেই শুটিং প্র্যাকটিসের শিকার হমু নাকি! আগেই কইছি, আমি সহি বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত সহি ইসলামিক জঙ্গিদের মতো সহি বোকা নাহ্!
৩.
আমজনতা: আপনার স্বগোত্রীয় ৬৫ বছর বয়স্ক এক পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের দাবি অনুযায়ী আপনি নাকি বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে কোরানের পৃথিবীকে সমতল ও স্থির প্রমাণ করার জন্য বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত সহি ইসলামিক জঙ্গিরা আপনারে সহি কায়দায় কোপাইছে। এজন্য উনি আপনাকে বাংলার গ্যালিলিও বানিয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনার কিছু বলার আছে কি?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: ঐসব পাগোল-ছাগোলের কথায় কান দিতে নাই। আমি তো নিজে কিছুই আবিষ্কার করিনি। তসলিমা নাসরিন অনেক আগেই কোরানের পৃথিবীকে সমতল ও স্থির বলেছেন। আমার লেখার দু-তিন জায়গায় তার কথা কৌটও করেছিলাম। তারও আগে মিশন্যারীরা এটা বলেছে। সহি ইসলামিক জঙ্গিরা তো তাহলে সবার আগে মিশন্যারীদের কোপাইতো। তারপর তসলিমা নাসরিনরে কোপাইতো। তাই নয় কি? আর আমাকে গ্যালিলিওর সাথে তুলনার কথা শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। কোথায় শেখসাদী আর কোথায় বকরির লাদি! পাগোল-ছাগোলেরা আমার ঘাড়ে বন্দুক রেখে গ্যালিলিওকে পচানোর ধান্দায় আছে। অবশ্য আমিও একবার একজনকে বাংলার গ্যালিলিও বানিয়ে দিয়ে নিজ ব্লগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম! সেটি আবার আমার 'মেজভাবী' আইডি থেকে সামু ব্লগের বাছাদের জন্য শেয়ার দিতে যেয়ে উল্টোদিকে বাছাদের দৌড়ানিও খাইছিলাম!
আমজনতা: আমগো মতো বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত অন্ধকারের যাত্রীদের সাথে মহা-মূল্যবান কিছু সময় ব্যয় করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!

এস. এম. রায়হান
মার্চ ২, ২০১৬ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলাপনের বর্ধিত অংশ-৪
আমজনতা: আপনি তো স্বঘোষিত নাস্তিক ও বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন। অথচ আপনার মৃত্যুর পর আপনার বিজ্ঞানমনস্ক পূজারীদের কিছু বক্তব্য ছিল এ'রকম:
-ভালো থাকিস…
-যেখানেই থাকেন ভালো থাকেন…
-আমাদের ক্ষমা করো…
-জন্মদিনে আমার শুভেচ্ছা নেবেন…
এগুলোর মানে কী?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও আপনারা ঠিকই ধরেছেন। নাস্তিক্য দৃষ্টিকোণ থেকে কারো মৃত্যুর পর তার ভালো থাকা বা মন্দ থাকা, তাকে শুভেচ্ছা জানানো, তার কাছে ক্ষমা চাওয়া নিতান্তই হাস্যকর ও অবান্তর শুনায়। কাজেই যারা এই ধরণের প্রলাপ বকছে তারা সম্ভবত আমার অনুপস্থিতিতে গোপূজা শুরু করে দিয়েছে। তারা কোনোভাবেই আমার সহি পূজারী হতে পারে না।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২, ২০১৬ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলাপনের বর্ধিত অংশ-৫
আমজনতা: আপনার বিজ্ঞানমনস্ক পূজারীদের বিশ্বাস অনুযায়ী রোমান চার্চ যেমন ৩৫০ বছর পর গ্যালিলিও হত্যার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে, বাংলাদেশ সরকারও তেমনি আজ থেকে ৩৫০ বছর পর আপনার হত্যার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইবে। এ প্রসঙ্গে আপনার কিছু বলার আছে কি?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: হ্যাঁ, এ প্রসঙ্গে আমার কিছু বলার ছিল-
১মত- আমার আগে-পরে আরো কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। ভারতেও কয়েকজন যুক্তিবাদীকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ শুধুমাত্র আমার ক্ষেত্রে গ্যালিলিও, রোমান চার্চ, ও ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ আসছে ক্যান? আমি কি ওদের কাছে সত্যি সত্যি ঈশ্বর বা যীশু হয়ে গেছি?
২য়ত- গ্যালিলিও ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। উনি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, পৃথিবীটা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। তার আগ পর্যন্ত বাইবেলের কিছু ভার্স ও গ্রীক দর্শনের উপর ভিত্তি করে খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস ছিল সূর্যই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। তবে গ্যালিলিও তাঁর এই আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে খ্রীষ্টানদের বিশ্বাসকে ভুল বা অবৈজ্ঞানিক দাবি করে কোনো রকম লেখালেখি করেননি, কিংবা তিনি খ্রীষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো রকম বিদ্বেষমূলক প্রপাগ্যাণ্ডাও ছড়াননি। শুধু তা-ই নয়, গ্যালিলিও নিজেও একজন আস্তিক ছিলেন। তথাপি রোমান চার্চ গ্যালিলিওর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে নিজেদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ধরে নিয়ে গ্যালিলিওর উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল।
অন্যদিকে আমি বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কিছুই আবিষ্কার করতে পারিনি যেটি ইসলাম বা মুসলিমদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যায়। আমি মূলত চার্চ-ভিত্তিক মিশন্যারীদের সাইট থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ টুকে নিয়ে সেগুলোকে বাংলায় পরিবেশন করেছি। পাশাপাশি দল-বল-কলম নিয়ে মাঝে মাঝে ইসলাম ও মুসলিমদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছি, ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়িয়েছি। বিজ্ঞান-বিষয়ক লেখালেখির ক্ষেত্রেও মূলত একই কাজ (চোথাবাজি) করেছি। কাজেই গ্যালিলিওর সাথে আমার তুলনা করা মানে হচ্ছে একজন মহান বিজ্ঞানীকে পচিয়ে আমাকে জাতে তোলার ধান্দা।
৩য়ত- সেই সময়ের রোমান চার্চ তথা ক্ষমতাশীলদের পক্ষ থেকে গ্যালিলিওর উপর প্রকাশ্যে অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে কতিপয় আন্ডারগ্রাউন্ড জঙ্গি মিলে আমার উপর অতর্কীতে গুপ্ত হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ধরণের হত্যাকাণ্ডের সাথে একটি দেশের সরকার বা সাধারণ মানুষকে জড়ানো নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়। আমার হত্যাকাণ্ডকে কিছুটা মহাত্মা গান্ধি হত্যাকাণ্ডের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। মুসলিমদের পক্ষে কিছু কথা বলার জন্য নাথুরাম গডসে নামক এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী মহাত্মা গান্ধির উপর গুপ্ত হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে। আমার ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা হয়ে থাকতে পারে। ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক প্রপাগ্যাণ্ডা চালানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দেখতে দেখতে কিছু উগ্রবাদী মুসলমান তরুণ সুযোগ পেয়ে আমার উপর চাপাতি নিয়ে হামলা করেছে, যদিও আমার হত্যাকাণ্ডের কোনো কুল-কিনারা আজ পর্যন্তও উন্মোচিত হয়নি।
কিংশুক
মার্চ ৩, ২০১৬ at ১১:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এরকম সত্যকথন ভন্ডজিৎ বাবু তার জীবদ্দশায় কোন দিনই করার কল্পনাও করেনি। ভণ্ডামি, প্রতারনা, 'বাকরা' বানানো তার পেশা ও নেশা ছিল। কত যে ভণ্ডামি, প্রতারনা করে ধরা খেয়েছিল! কিন্তু কোন লাজলজ্জার বালাই ছিলনা। আসলে জেনেটিকেলি ও জাতিগত প্রতারকরা যেমন হয় আরকি। এখন মরার পর তার সত্যকথন প্রকাশ করে দেখেন তার বিজেপি জাতীয়তাবাদী ভন্ড মুরিদরা গুরুকে নিয়ে প্রতারনা বন্ধ করে কিনা। তবে ভন্ডামি যাদের রক্তের দোষ তারা আর মানুষ হবে বলে মনে হয়না।
morsalin
মার্চ ৬, ২০১৬ at ৬:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সহি বিনোদন।
মার্চ ৯, ২০১৬ at ১১:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাইরে, সহী যুক্তি দিয়া, সহী ভাবে, সহী আমজনতার, সহী চিন্তাগুলি, সহী ভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনারে ধন্যবাদ দিয়া ছোট করুম না। শুধু দোয়া করি আল্লাহ আপনার "সহী চিন্তা" গুলির জন্য আপনারে কবুল করুক। আমিন।
আর রায়হান ভাই পারলে আপনার মেইল আইডিটা আমারে দিয়েন।
মার্চ ১৫, ২০১৬ at ২:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলাপনের বর্ধিত অংশ-৬
আমজনতা: এ পর্যন্ত যতগুলো নারী আইডি (ডজন ডজন) থেকে আপনার স্তুতি-স্তাবক গেয়ে পোস্ট এসেছে তাদের সকলেই মুসলিম নামধারী। অন্য কোনো ধর্মীয় পরিবারের একজন নারীকেও আপনার স্তুতি-স্তাবক গেয়ে পোস্ট দিতে দেখা যায়নি। এর কারণ কী?
বিজ্ঞ্যানেশ্বর: ওয়েল, আমাকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে দিয়ে আমার স্তুতি-স্তাবক গাওয়া নারীরা মুসলিম নামধারী হলেও তাদের সকলেই পোরগতিশীল বামছাগী। আমার লাভ জিহাদের শিকার দ্বিতীয় স্ত্রীও একই ঘরানার। তাদের অনেকের সাথেই আমার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছিল। তাদেরকে লেখালেখির জন্য নিয়মিত তাগাদা দিয়েছি। তাদের পরিত্রাতা সেজে তাদের অধিকার নিয়ে সদা-সর্বদা উদগ্রীব থেকেছি, যদিও নিজের প্রথম স্ত্রীর-ই পরিত্রাতা হতে পারিনি। অন্যদিকে অন্যান্য ধর্মে নারীদের অধিকার নিয়ে আমি তেমন কিছুই করিনি। তাদের কারো সাথে আমার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগও ছিল না। কাজেই তারা কোন্ দুঃখে আমার স্তুতি-স্তাবক গেয়ে পোস্ট দেবে! আমার এজেন্ডা ছিল মুসলিম নামধারীদেরকে নাস্তিকতায় (আমার ধর্মের অংশ) ধর্মান্তরিত করে মুক্তসেনা ('শিবসেনা'র আধুনিক ভার্শন) বানিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া -- যে কাজ স্বামী বিবেকানন্দের মতো বিখ্যাত ব্রাহ্মণ গুরুও পারেননি।