ডিহিউম্যানাইজ ও গণহত্যা হলো একে অপরের সাব্দার্থক। কোন জাতিগোষ্ঠীর উপর গণহত্যা বা নির্মূল অভিযানের আগে চালানো হয় এই ডিহিউম্যানাইজ প্রোপাগান্ডা। যে গোষ্ঠীর উপর এই নির্মূল অভিযান চালানো হবে সেই গোষ্ঠীকে পশু, কীট পতঙ্গ, দৈত্য দানব, সাপ, ইঁদুর, তেলাপোকার সাথে তুলনা করা। ওদের কাজ তিল হলে তা তাল বানিয়ে প্রচার করা। ওরা একটা কাশ দিলেও তাতে দোষ খোজা। ঐ দেশের কোন সমস্যার জন্যে শুধু ঐ লোকগুলোকে দায়ী করা। হিউম্যান নয় সাব-হিউম্যান হিসেবে দেখানো হয় ঐ মানুষগুলোকে। প্রোপাগান্ডার জনক এডওয়ার্ড বার্নায়েজ প্রথম আধুনিক যুগের ডিহিউম্যানাইজেশান শুরু করেন প্রথমবিশ্বযুদ্বের সময় জার্মানের বিরুদ্ধে। নাৎসিদের ইহুদীদের উপর গণহত্যার আগে এই ডিহিউম্যানাইজেশান করা হয়। রুয়ান্ডার হুতিরা তুতসীদের উপর গণহত্যার আগে এই ডিহিউম্যানাইজেশান করে। একইভাবে করা হয় বসনিয়ার মুসলিমদের উপর সার্ভরা। রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সরকার। আর ৯/১১ এর পর শুরু হয় পুরা মুসলিম জাতিকে ডিহিউম্যানাইজেশান করা।
কারন হলো এতে গণহত্যা করতে সহজ হয়, গণহত্যা করতে জনগণ উৎসাহিত হবে। এতে লক্ষ লক্ষ হত্যা করা হলেও কেউই প্রতিবাদ করবেনা। কারন প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে ডিহিউম্যানাইজেশানে মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে দেওয়া হয়। ব্রেইন ওয়াশের শিকার ঐ লোকগুলা ভাবে, মরলে মরছে তো ঐ নিকৃষ্ট লোকগুলো, এটাতো ভালোই, ওরা তো মানুষ না, সাব-হিউম্যান।
আমাদের মাদার অব হিউম্যানটির এই দেশে এই ডিহিউম্যানাইজেশান করে সেক্যুলার সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, অনলাইন একটিভিস্টরা। যারা মাদার অফ হিউম্যানটির সরকারের সময় অভয়াশ্রমভাবে বাংলাদেশকে। অভয়াশ্রমে বসে উনারা ডিহিউম্যানাইজেশান করে যাচ্ছেন আজ ওকে, কাল তাকে।
এই দেশের এক পরশপাথর হলো জামাত-শিবির। পরশপাথরে ছোঁয়া লাগলে পাথর ও হয়ে যায় সোনা, আর বাংলাদেশে যত আকাম কুকামই করুক মাদার অব হিউম্যানটির লোকেরা, ঐ জামাত-শিবিরের নাম নিলে সব ঠিক হয়ে যায়। ঘর থেকে উঠিয়ে নিয়ে রাস্তায় গুলি করে মেরে ফেলবেন, শুধু বলবেন ওটা জামাত-শিবির করে। কেউ আপত্তি করবেনা। সেক্যুলারেরা প্রচার করবে একটা শুয়োর মরছে, একটা কুত্তা মরছে, আমরাও শুনে বসে থাকবো, মনে কোন ফিলিংস হবেনা। কারন প্রোপাগান্ডার কারনে আমাদের ব্রেইনে ঢুকে গেছে জামাত-শিবির মানে অমানুষ বা সাব-হিউম্যান।
আগে শুনতাম মুফতি হান্নান, বাংলা ভাইরা শিবির করতো, এখন শুনি ওরা নাকি কওমির লোক। কয়দিন পর হয়তো শুনবো ওরা রোহিঙ্গা নয় সালাফি।
বিশ্ব জুড়ে মুসলিম দেশগুলোর মুসলিম নামধারী এই সেক্যুলারগুলো হলো উপনিবেশিকের সময় তাদের বানানো। মুসলিম দেশগুলোতে তাদের পোষা গোলাম রাখার জন্যে এই সেক্যুলার গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে উপনিবেশিক বাদী ব্রিটেন ও ফ্রান্স। আর কিছু বানিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যে বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশে এই দুই ধরনের সেক্যুলার পাওয়া যায়, এদের সাথে আরেকটা মিশ্রণ হলো এরা কলকাতার জমিদার ব্রাহ্মনদের কাছে ও গোলামি করে। এদেরকে ককটেল সেক্যুলার বলা যায়।
অন্যান্য ধর্মের সেক্যুলার লোকজন তাদের ধর্ম, তাদের ধর্মের ধার্মিক লোক, পণ্ডিত, সন্ন্যাসী, পাদ্রিদের নিয়ে এতো মাথা ঘামায় না। বরং সহবস্থানে চলে। এমনকি মুসলিম নির্মূলে ও জোট বাধে। এই যেমন সাইপ্রাসের সেক্যুলার সরকার অর্থোডক্স পাদ্রিদের সমন্বয়ে সাইপ্রাসের তুর্কি মুসলিম সাইপ্রেটদের উপর গণহত্যা, মায়ানমারের সেক্যুলার সরকার তাদের বৌদ্ধভিক্ষুদের সাথে একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূল। সার্বিয়ার সেক্যুলার সরকার সার্বিয়ার অর্থোডক্স পাদ্রিদের সাথে একাত্ম ঘোষণা করে বসনিয়ায় মুসলিম গণহত্যায় নামে, এমনকি তাদের সাথে ক্রোশিয়ার ক্যাথোলিক চার্চ ও যোগ দেয়।
কিন্তু বিশ্বজুড়ে মুসলিম নামধারী সেক্যুলারগুলা উল্টা নিজের ধর্ম, ধর্মের লোকজন,আলেম উলামা, ধার্মিক লোকদের প্রথমে তাদের হত্যাকাণ্ডের টার্গেট বানায়।এগুলা ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো, সব মুসলিম দেশেই হয়। অবশ্য মুরতাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশী কিছু আশা করা যায়না।
এই রোহিঙাদের উপর অত্যাচারের কথা শুনলে পশু পাখিরাও কাঁদবে। কিন্তু আমাদের দেশের সেক্যুলারেরা যারা মাদার অব হিউম্যানটির দেশে নিজেদের স্বঘোষিত হিউম্যান রাইটস একটিভিস্ট বলে, এমনকি আওয়ামী সেক্যুলার এক্টিভিস্ট রাও এই মজলুম মুসলিমদের ডিহিউম্যানাইজ করেছে। রোহিঙ্গারা অপরাধপ্রবন, ওরা হিংস্র, ওরা গাছ-পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপর্যয় করে, ওরা এই দেশের জনসংখ্যা বাড়িয়ে দেবে, ওরা জঙ্গি, ওদের বাচ্চা বেশী, ওদের স্ট্যালারাইজ করে দেওয়া হোক।
বাংলাদেশে সেক্যুলারেরা সব মিডিয়া দখল করে আছে, আছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে। ওরা কেউ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী!, লেখক, টকশোজীবি, গোপ ওয়ালা, ফেমিনিস্ট!, একটিভিস্ট! মানবাধিকার! কর্মী ইত্যাদি ইত্যাদি। মাদারে হিউম্যানটির দেশে এখন ওদের অভয়াশ্রম আছে। আওয়ামীলীগের বড়ো বড়ো নেতারা এই সেক্যুলারদের আবার পীরের মতো মানে। এখন কথা হলো ২০০৯ এ এই সরকার ক্ষমতায় আসলো আর, দেশে এবং বিদেশে যত ঘটনায় ঘটেছে সব এই সরকারের পক্ষেই গেছে। এগুলোকে বলে "দিন", কারন এখন ওদের জন্যে "দিন" তারপরেই রাত আসবে। এখন তোমার দিন তারপরই অন্যদের দিন। আর এভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে কিছুদিন অবকাশ দেন, কিন্তু চিরকাল ক্ষমতা দেন না একক ব্যক্তি বা গ্রুপকে। কালকে যদি মাদারে হিউম্যানটি হার্টফেল করে মারা যায় তাহলে লীগ জাসদের মতো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্যুলারেরা হারাবে তাদের অভয়াশ্রম, যেখানে বসে ডিহিউমাইজেশানের প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।
কিছুদিন আগে আমার সাথে সামনাসামনি কথা হলো এক প্রতিমন্ত্রীর ভাগিনার সাথে। সেই আবার অভিজিৎ পূজারি। রায়হান ভাইয়ের কথার মতো বলতে হয়, অভিজিৎয়ের খৎনা ধারী পূজারী। সে বললো, তার হাতে কখনো ক্ষমতা আসলে সে হাটহাজারি মাদ্রাসার সবাইকে হত্যা করবে, সেটা ভেঙ্গে সেখানে সিনেমা হল তৈরি করবে।
এখন প্রচার করা হচ্ছে যে কওমি মাদ্রাসা হলো আর্মীদের পরই আরেকটা ইন্সটিটিউশান। এর প্রতিধ্বনি এখন এই ব্লগেও শোনা যাচ্ছে। পরে হয়তো সেগুলোকে জঙ্গি ব্যারাক বলে হামলা করে গণহত্যা চালাবে। আমরা সাধারণ মুসলিমরা আবার আগের মতো, আমাদের কোনো ফিলিংস হবেনা। কারন প্রোপাগান্ডায় আমাদের ব্রেইনওয়াশ। আমাদের শেখানো হচ্ছে কওমিরা ভিক্ষুক, হিংস্র, জঙ্গি, অশিক্ষিত, গোঁড়া, অহংকারী, ছাগু।
আর এভাবেই এরা এ দেশের সব মুসলিমদেরই একে একে শেষ করে দিবে। এখন সব দল ও মুসলিমকে মানে জামাত, হেফাজত, সালাফি, এমনকি বেদাতি ও মাজারি গ্রুপগুলোকেও সাথে নিতে হবে। এই সেক্যুলার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাল্টা মুরগী নির্মূল কমিটি গঠন করে এদের প্রতিরোধ করতে হবে যেন আর কোন ডিহিউম্যানাইজেশান না করে এদেশের মুসলিম বা রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে।
ফটোঃ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের সময় নাৎসীদের দ্বারা ইহুদী ডিহিউম্যানাইজেশান।

মজলুম
জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ at ২:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাদারে হিউম্যানেটির ভয়ে প্রক্সি আর ভিপিনএন ইউজ করে পোষ্ট দিলাম!
Md Amir
জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ at ১০:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"জিততে জিততে হেরে গেছি, এবার হারতে হারতে জিততে চাই"
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সস্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। মধ্যস্থতাকারী হতে কাউকে এগিয়ে আসতে হবে ইসলামের স্বার্থে। অর্থনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য সূদুর প্রসারি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।
নিজ নিজ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সকল ইসলামিক দলগুলোর বিদ্যমান মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মধ্যস্থতাকারী হতে কাউকে এগিয়ে আসতে হবে ইসলামের স্বার্থে। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরন করতে হবে। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরন এবং ইসলামের সঠিক বহিঃপ্রকাশ ব্যতীত আল্লাহর সাহায্য আসবে না ফলে সফলতাও অসম্ভব।
আমি সদালাপে নতুন। কয়েকদিন ধরে সদালাপের পুরাতন পোস্টগুলো যতই পড়ছি ততোই অবাক হচ্ছি। সত্যিই অসাধারন সাইট এটি। সদালাপে এমন কিছু পোস্ট আছে যা বই আকারে বের হলে খুবই ভাল হতো।
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার এই কমেন্ট দেখে খুব ভালো লাগলো। ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ব হতেই হবে, এর বিকল্প দেখছিনা। কোরান হাদিসে মুসলিমদের ঐক্যবদ্বই থাকতে বলা হয়েছে। হিজবি গিরী বা দলান্ধতা ইসলামে নেই। আর ঐক্যবদ্ব না হলে আল্লাহর সাহায্য ও আসবেনা। তবে বিশ্বজুড়ে আমেরিকা ও ইউরোপের প্রভাব কমতে থাকায় মুসলিমদের সুন্দর সুন্দর ভবিষৎ দেখতে পাচ্ছি। পোষ্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
এম_আহমদ
জানুয়ারি ২০, ২০১৮ at ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথমে মজলুম ভাইকে এই লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। ধারণাগত দিক দিয়ে লেখাটি অত্যন্ত ভাল হয়েছে। এতে “ডিহিউমেনাইজেশন” নিয়ে এমনসব কথা বলা হয়েছে যেগুলো অমোঘ সত্য। আমি নিজে এই কথাগুলো বিগত ৮/১০ বছর থেকে বলে আসছি এবং সাথে সাথে এটাও অনুভব করেছি যে সাধারণ পর্যায়ে বঙ্গাল-মস্তিষ্ক এই মর্মের ধারণা বুঝতে ব্যর্থ এবং এজন্য ফ্যাসিস্ট, নাৎসিরা তাদের মগজ ধোলাই করে দেয়, এবং তারাও অত্যন্ত সহজে আবেগ-তাড়িত হয়ে ওদের টোপ গিলে ফেলে। এই লেখাটি ডিহিউমেনাইজেশনের ব্যাখ্যা থেকে শুরু করে উদাহরণের পর উদাহরণ দিয়ে ধারণাটি স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি লেখাটি প্রচারের প্রয়োজন মনে করি এবং এজন্য ফ্যাসিস্ট-নন এমন সব পাঠকদেরকে অনুরোধ করব যে তারা যেন তাদের ফেসবুকে এবং অন্যত্র এর লিঙ্ক দিয়ে ধারণাটির প্রেক্ষাপট বুঝতে অন্যদেরকে সাহায্য করেন। এই কাজের মধ্যে সত্যিকার অর্থের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের স্বার্থ রয়েছে এবং দীনের খেদমতও রয়েছে। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিজম মানবতার দুশমন এবং বিশেষ করে ধর্মের। এই ধারণাগুলোকে কোন মানব-গোষ্ঠীকে কলোনাইজ করতে দিতে নাই।
লেখাটিতে বানানের কিছু সমস্যা রয়েছে। লেখকের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে অভ্র-স্পেলচেকার দিয়ে বানানগুলো শুদ্ধ করে দিলে জ্ঞানের খেদমত হবে।
মজলুম
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ফ্যাসিবাদীরা রেড লাইন অনেকগুলো অতিক্রম করে ফেলেছে। সব মুসলিম গ্রুপগুলোকে নিজেদের পাছায় বাড়ি খাওয়ার আগেই এদের মোকাবেলা করতে হবে।
নইলে জার্মান সে দার্শনিকের মতো ও পরে বলার কেউই থাকবেনা যে প্রথমে তারা জামাত=শিবিরের জন্যে এসেছিলো, আমরা চুপ ছিলাম, কারন আমরা জামাত-শিবির করতাম না। পরে তারা কওমীদের জন্যে এসেছিলো, আমরা চুপ ছিলাম, কারন আমরা কওমী ছিলাম না। পরে তারা সালাফিদের জন্যে এসেছিলো, আমরা চুপ ছিলাম, কারন আমরা সালাফি ছিলাম না। পরে তারা বেরেলভী/রেজভীদের জন্যে এসেছিলো, আমরা চুপ ছিলাম, কারন আমি বেরেলভি ছিলাম না। পরে তারা আমার জন্যে এসেছে। তখন আর কেউ নাই আমাকে বাঁচানোর জন্যে।
আরো দুইটা পোষ্ট আসতেছে, কিভাবে সাধারন মানুষের উপর ডিহিউম্যানাইজশনের প্রোপাগান্ডা কাজ করে। আরেকটা হলো, এই দেশে ইসলাম ও মুসলিমদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে ডিসেক্যুলারাইজেশান করার কিছু দিক নির্দেশনা। পরে আপনারা সহ সবাই এগিয়ে এসে নতুন প্রস্তাব যোগ করে সেখান থেকে বেস্ট প্ল্যান গুলো নিয়ে এরর এন্ড ট্রায়াল পদ্বতির মাধ্যেমে ডিসেক্যুলারাইজেশান সফল করা। সেক্যুলার নামক এই টিউমার দেশ থেকে অপসারন করতেই হবে।
আমাকে এখনো বিভিন্ন ওয়েব সাইটের ফোনেটিক বাংলা লেখার জায়গায় বাংলা লিখে ওখান থেকে সদালাফে কপি পেস্ট করতে হয়। কিছুদিন আগে অভ্রু ইনস্টল দিয়েছি। কিন্তু লিখতে গেলে সব যুক্ত বর্ন হয়ে যায়। যেমন "বলতে" লিখতে গেলে সেটা "ব্লতে" হয়ে যায়। এটা ঠিক করবো কিভাবে?
পোষ্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ আহমেদ ভাই।
সত্য সন্ধানী
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ৮:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মজলুম ভাই, বলতে লিখতে লিখুন bolte, এটা তো ফোনেটিক।তবু ব্লতে হলে লিখুন bolote.
আবার পোকা লিখতে p o shift k a এমন ভাবে।
ইনশাল্লাহ সমস্যা থাকবে না। মোবাইলে বাংলা লিখবেন রিদ্মিক কী বোর্ডে, একই নিয়ম।
সত্য সন্ধানী
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পোকা = p o shift k a, এই খানে শিফট চেপে ধরে ও লিখবেন।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জানুয়ারি ২০, ২০১৮ at ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম।
বুঝাই যাচ্ছে আপনি এই লেখাটা তাড়াহুড়া করে লিখেছেন -- ফলে আংশিক সত্য উঠে এসেছে। আর টার্গেট আমি -- দুর্ভাগ্য আমার -- আমি যা ভাবি -- যা বিশ্বাস করি তাই লিখি -- কিন্তু এক সময় এক একটা ট্যাগ লাগিয়ে আমাকে টার্গেট করা হয়। কয়দিন আগে একজন আমাকে নিশ্চিত জামাতি বলে চিহ্নিত করেছে। শুধুমাত্র আল্লাহ আর নবী-রসুল সমালোচনা বাইরে -- এর বাইরে অন্য কাউকে সমালোচনা করা যাবে না -- এমনট ভাবি না। গতকালও একটা ভিডিও দেখছিলাম -- সেখানে মাওলানা শফি সাহেব বলছেন -- যারা নামাজের সময় জোরে আমিন বলেন -- তারা সৌদি আরবের টাকা খায় -- ৪০০-৫০০ রিয়াল মাসে মাসে পায় -- সেই টাকা খেয়ে ফিতনা ছড়ায়। অথচ টরন্টোর অধিকাংশ মসজিদের জোরে আমিন বলা হয় -- শুধুমাত্র উপমহাদেশের অভিবাসীদের চারটা মসজিদ (মোট মসজিদ ৭০ টার মতো) এ নিরবে আমি পড়া হয়। একজন আলেমের মুখে এই ধরনের কথা শুনলে তার প্রতি শ্রদ্ধা থাকে কিভাবে? একটা নির্দিষ্ট ব্রান্ডের ইসলাম বানিয়ে তার বাইরে সবাইকে বাতেল বলার এই কাজটা কতটা উচিত তা কি প্রশ্নযোগ্য নয়?
এবার পোস্টের বিষয়ে আসি --
আপনার লেখার সাথে প্রায় একমত -শুধু মাত্র একটা বিষয় ছাড়া -- মুসলিমদের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত হওয়ার তেমন কারন দেখি না। তবে মুসলমানদের জন্যে সাফরিংস আরো বাড়বে হয়তো। সেইটা অস্বীকার করা যায় না। এর কারনও আশা করি আমরা জানি -- কোরান সুন্নাহ থেকে দুরে গিয়ে শুধুমাত্র ফতোয়াভিত্তিক ধর্ম চর্চার কারনে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে আমরা দুরে সরে গেছি -- যেমন দেখুন -- নামাজ পড়ি এবং একই সাথে সুদের সাথে জড়িত হই -- যা আমাদের দুর্ভোগের কারন বটে।
ইতিহাসের অনেক চড়াই উৎরাই অতিক্রম করেছে মুসলমানরা -- এক সময় হাতে গোনা কিছু "দাস" ভারত বর্ষ শাসক করেছে -- আবার মুসলমানদের উপর নেমে এসেছিলো চরম বিপর্যয়। চেংগিস খানের বাহিনীর মতো দূর্ধর্ষ বাহিনী মুসলমান নিধনে নেমেছিলো -- কালক্রমে তারাই মুসলমান হয়ে দ্বীনের আলো বিশ্বের আনাচে কানাচে নিয়ে গেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে মুসলিমদের ডিহিউমনাইজ কি নতুন বিষয় নাকি -- রসুলআল্লাহ (সঃ) এর সময় কি মক্কার মুসলিমরা এর চেয়ে আরো বেশী কষ্ট করেনি। প্রশ্ন হলো নাস্তিক-মুরতাদরাই কি শুধু মুসলিমদের ডিহিউম্যানোনাইজ করছে। দেখুন কওমীরা কিভাবে তবলিগের মুরুব্বিদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে -- এই ধরনে প্রচার দেখছি অনেকদিন ধরেই।
এবার ওয়াসিফের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ (ভিডিওসহ)
বেশী কথা বলবো না -- কারন আপনি কোন একটা কারনে আমার কথা শুনতে পছন্দ করছেন না -- আমাকে আওয়ামীলীগ বানিয়ে আমার বক্তব্যের মাঝে আওয়ামী গন্ধ খুঁজছেন। মজার বিষয় হলো -- হেফাযত এখন আওয়ামীলীগের মিত্র -- সেই সুবাদে আমি আওয়ামীলীগ হলে (আপনার ভাষায়) খুশী হওয়ার কথা -- কিন্তু আমি এখনও মনে করি হেফাযত আসলে একটা রাজনৈতিক শক্তির প্রক্সি হিসাবে কাজ করছে। তাদের যতটানা ইসলাম নিয়ে চিন্তা -- তার চেয়ে বেশী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছে। হেফাযতের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন অরাজনৈতিক সন্দেহ নেই -- উনারা রাজনীতি বুঝেন না -- কিন্তু হেফাযতের মুল কাঠামোতে রাজনৈতিক নেতারাদের উচ্চভিলাস কাজ করছে। (ইসলাম ঐক্যজোটের নেতৃত্বই হেফাযতের মুল কাঠামো -- যারা এক সময় চারদলীয় জোটে ছিলো -- এবং ৫ই মের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস বাস্তবায়নের হেফাযতের ব্যানার ব্যবহার করে সরলমনা মাদ্রাসার ছাত্রদের নামিয়েছিলো -- বস্তুত সরকার পতন করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে) এই বিষয়ে নিশ্চিত হবেন হেফাজতের এক কর্মীর বক্তব্য থেকেই -- উনি হাজার হাজার মানুষ হত্যার বিষয়টা কিভাবে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা যায় তার পক্ষে লাগানোর হেফাযতের কিছু কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেছেন।
"
সরকারের চাপ কোনোক্রমেই তালিকা প্রকাশ করা যাবে না। কর্মীদের চাপ অতিদ্রুত তালিকা প্রকাশ করা চাই। হেফাজতপ্রধান সিদ্ধান্ত নেন, তালিকা প্রকাশ করবেনই। প্রতি জেলায় জেলায় লোক নিয়োগ করা হয়। যে তালিকা হেফাজতের হাতে আসে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বৃষ্টির মতো মানুষ মরতে দেখেছে। তালিকায় আসে মাত্র শ খানেকের নাম। কয়েকবার তদন্ত করা হয়। ফলাফল একই। তাহলে যারা মারা গেল, তারা কারা? প্রশ্ন উত্তরহীন। সিদ্ধান্ত হয় তালিকা প্রকাশ করা হবে না। হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগের চাপ থেকে সরকারকে রেহাই দেয়া ঠিক হবে না। একশ মানুষ কম নয়, কিন্তু হাজার হাজারের তুলনায় সামান্যই।"
সুত্র -- হেফাজতে ইসলাম : ৫ই মে’র পূর্বাপর
যাই হোক -- আমি আবারো বলছি -- ইসলামের কেউই ক্ষতি করতে পারবে না -- এর হেফাযত করছেন আল্লাহ -- তবে বাংলাদেশের ইসলাম চর্চা এবং তার বিরুদ্ধে এতো কথার জন্যে সবচেয়ে বড় দায় মুসলিমলীগের --
যারা পাকিস্তান তৈরী করে মুসলমানদের সাথে প্রতারনা করেছিলো -- পরে জামায়াত একটা জঘন্য গনহত্যায় সম্পৃক্ত হয়ে ইসলাম নামে কলংক লাগিয়েছে -- কখনও তার জন্যে দুঃখিত হয়নি -- এর পর হেফাযতের -- যারা নিজেদের রাজনৈতিক অপকর্মগুলোকে ইসলামের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হরো হেফাযতের এই প্রতারনামুলক কর্মকান্ডে সাধারন ধর্মপ্রান মানুষও মিথ্যাকে সত্য মনে করছে
আর হেফাযত বা জামায়াতের সমালোচনা আর ইসলামের বিরোধিতা যে এক বিষয় না -- সেইটাও আপনার জানা। সুতরাং কথা আর না বাড়াই। সবশেষে অনুরোধ -- জাজমেন্টাল না হয়ে খোলা মনে আলোচনা করা উত্তম বলেই মনে করি। জাজমেন্টটা আল্লাহর জন্যে রেখে দেওয়াই শ্রেয়।
ধন্যবাদ।
মজলুম
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ১০:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়ালাইকুসসালাম ভাই। আমার লেখা সব সময় তাড়াহুড়া করেই হয় তা কমেন্ট হোক আর পোষ্ট হোক। জামাত-শিবির, কওমিদের সমালোচনা আমিও কম করি নাই। প্রত্যেক মুসলিম একে অপরের ভাই। এক ভাই তার আপন ভাইকে সমালোচনা করে তাকে সুধরানোর জন্যে, সে তাকে তা ভালোবেসেই তা করে তার ভালোর জন্যে, কিন্তু ঘৃনা করেনা, ঘৃনা ছড়ায় না এবং ডিহিউম্যানাইজ করেনা এবং অন্য কেউ করলেও তাতে সূর মিলায় না।
আস্তে আমীন বা জোরে আমীন বলা হলো সুন্নত। হানাফিরা আস্তে বলে, শাফেয়ীরা/সালাফিরা জোরে বলে। দুটাই ঠিক আছে, আর এটা নিয়ে সব গ্রুপেই বাড়াবাড়ি করে যা ঠিক না। ইমাম আহমেদ ইবন হাম্বল এই ব্যাপারে বলেছেন যদি তুমি দেখো কোন জামাতে বেশীর ভাগ মুসলিম আস্তে আমীন বলছে, তাহলে তুমিও আস্তে বলো। আর যদি দেখো বেশীরভাগ মুসলিম জোরে আমীন বলছে, তাহলে তুমিও জোরে আমীন বলো। কারন সূরা ফাতিহার পরে আমিন বলা সুন্নত, কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য রাখা হলো ফরজ।
শুধু আপনাকে না, মাদারে হিউম্যানিটি আর ফাদারে কওমকে ও বলা হবে জামাতি/রাজাকার। যেই ফ্রান্কস্টাইন উনারা জন্ম দিয়ে অভয়াশ্রমে লালন পালন করেছে সে একদিন তাদেরকেই দংশন করবে।
আর ৭১ এ জামাত/মুসলিম লীগের ভুলের জন্যে ইসলাম বা এই দেশের মুসলিমরা কেনো দায়ী হবে? যে মুক্তিযুদ্বের ৯৯% ছিলো মুসলিম। ওরা যুদ্বে যোগ দেওয়ার সময় তাদের ইসলাম ও মুসলমানিত্ব ছুড়ে ফেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্বে যোগ দেয়নি। এই মুক্তি যোদ্বারা দেশের অন্য ১০টা পরিবারের মুসলিমদের মতই। আর যারা ঐ সময় যুদ্বেই যোগ দেয় নি, ওরা বড়ো মুক্তিযোদ্বা। উনারা এই দেশের মানুষকে এখন গাইড করবেন তারা কি করবে কি করবেনা। উনারা হলেন বীরশ্রেষ্ঠ শাহরিয়ার কবির, বীরশ্রেষ্ঠ জাফর ইকবাল, বীরশ্রেষ্ঠ হুমায়ন আজাদ।
তাবলীগ নিয়ে এখন সেক্যুলারদের খুব দরদ দেখি, ঠিক যেমন ৫ই মের পরে কোরানের জন্যে দরদ দেখিয়েছে। মোটা মাথার এগুলো কি জানেনা যে তাবলীগ জামাত হলো দেওবন্দীদের অঙ্গ সংগঠন। এর জন্ম, পরিচালনা, দেখাশোনা করে রাখে দেওবন্দীরা সবসময়। একটু খোঁজ খবর নিলেই জানতে পারবেন। অযথা সেক্যুলারদের সাথে সূর তোলা ঠিক না।
আর আপনার উপর আমার কোন ক্ষোভ নেই। আপনি আমাদের মুসলিম ভাই। ইসলামে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, রাগ, ঘৃনা, ভালোবাসা, টাকা-পয়সা, বাড়ি-ঘাড়ি, ছেলে-সন্তান, বিদ্যা-বুদ্বী বলে কিছু নাই। এগুলো সব হবে শুধু আল্লাহর জন্যেই। নিজের ইচ্ছা শক্তি, কামনা, বাসনা, ইগো, এইসব আল্লাহর কাছে সমর্পন করাকে ইসলাম বলে। আর যেই করবে, তাকেই মুসলিম বলা হয়।
আর বাকি যেসব কথা বলেছেন যেগুলো নিয়ে কথা বলতে চাইনা এখন, নইলে এই পোস্টের মূল থিম এবং ভিন্ন দিকে চলে যাবে।
ধন্যবাদ।
মহিউদ্দিন
জানুয়ারি ২০, ২০১৮ at ৯:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, অসাধারণ একটি লিখা।
আসলে মানুষ যখন কোন এক পরিবেশের ও ব্যবস্থার ভিকটিম বা শিকার হয়ে যায় তখন নিজের অজান্তেই সে বাধ্য হয়ে পড়ে নিজেকে কিংবা তার অতীতকে সে পরিবেশের দৃষ্টি-কোন থেকেই বিচার করতে। আমেরিকায় যখন কালোরা দাসত্বের অধীনে ছিল তখন তারা ভাবতেও পারতোনা যে তাদের প্রভু থেকে কোন অংশে তারা ভাল কিছু হতে পারে!
এটাই ছিল দাসত্বের অভিশাপ। তখন প্রভুরা যা চাইতো বা যে নেরেটিভ দিয়ে দাস তার নিজেকে ভাবতে হবে চাইতো সেটাই হতে হত একজন দাসকে তার নিজেকে চিনার বা জানার মানদণ্ড। একেই বলে creating slavery mentality বা দাসত্ব মানসিকতার হীনমন্যতা যা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ ছিল না!
আর তখনই প্রয়োজন হয় বিশেষ নেতৃত্বের যারা সে দাসত্ব মানসিকতা ও হীনমন্যতা থেকে নির্যাতিত মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। ইতিহাস সে শিক্ষা দেয়।
আজ বাংলাদেশের কালচারেল মুসলিমদের অধিকাংশরা আধিপত্যবাদীদের দাসত্বকে মেনে নিয়ে নিজেকে সে দৃষ্টি-কোন থেকেই বিচার করে ও দেখছে আর এই পক্ষের মানসিকতার যে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী!, লেখক, টকশোজীবি, গোপওয়ালা, ফেমিনিস্ট!, একটিভিস্ট! মানবাধিকার! কর্মী ইত্যাদি কথা লিখেছেন এরাই হচ্ছে এখন দেশের লাইম লাইটে। ছোট একটি দেশ সবকিছু দেশের রাজধানী শহর ঢাকা কেন্দ্রিক এখানে যা ভাবা হবে সেটাই সারা দেশে প্রভাব ফেলবে।
আর বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক পরিবেশের শিকার হয়েছে মুসলিম উম্মাহ। সেটি তার নিজেদের দুষে বা অন্য যে কারণেই হউক না কেন,বাস্তবতা হল ইসলাম ভীতির যে পরিবেশে সৃষ্টি হচ্ছে এর চাপে পড়ে এখন মুসলিমরা বাধ্য প্রচলিত দৃষ্টিকোন থেকেই নিজেকে বিচার করতে। অর্থাৎ মানসিকভাবে নিজের অজান্তেই তার ধর্ম ও আদর্শ এবং অতীত ঐতিহ্যকে বর্তমান বস্তুতান্ত্রিক সমাজের দর্শন থেকেই যাচাই বাচাই করতে চাইবে। এই মানসিকতা ও হীনমন্যতা থেকে উদ্ধার করতে হলে যে নেতৃত্বের দরকার সেটি কি আছে মুসলিম সমাজে?
"ইসলাম একটি ভায়লেন্ট ধর্ম" বলে যে অপপ্রচার ইসলামোফবিয়ারা করে তার জবাব শুধু হুজুরদের ওয়াজে আর মিম্বারের খুতবায় দিয়ে বন্ধ হবে না। প্রতিটি মুসলিমদেরকে নিজেদের আচরণে তা প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের দেশের রাজনীতিতে তা প্রকাশ হতে হবে। কিন্তু আছে কি সে উদাহরণ?
মজলুম
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ১০:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুসলিমদের আচরন খারাপ, তো কোন ধর্মের লোকজনের আচরন ভালো। মুসলিমদের মধ্যে যে জিনিসটার চরম অভাব তা হলো প্রপাগান্ডা মেশিন ওদের কাছে নাই। আর এজন্যেই যত দোষ, নন্দ ঘোষ। তার উপর মিডিয়া প্রপাগান্ডায় মুসলিমরা নিজেদের নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতেছে, ইনফেরিয়র কমপ্লেক্সিটিতে ভুগতেছে। এগুলো নিয়ে বলবো সামনের পোষ্টে। আর সাধারন মুসলিমরা কোন রকম ঠিক হতে পারলেই নেতৃত্ব ও চলে আসবে। পোষ্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
শামস
জানুয়ারি ২০, ২০১৮ at ৯:১০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাম। কেমন আছেন?
মাঝে মাঝে কখনো একটু ঢুঁ দিলেও লেখালেখি করা বা আলোচনায় অংশ নেয়ার মতো অবস্থায় না থাকায়, আপাত দূরেই আছি.
আপনার লেখাটি দেখে মনে হলো এই ধরণের একটা লেখা আগেই দেয়া উচিত ছিল, দেরি হয়ে গেছে, তবে তাও ভালো যে এসেছে।
গ্রামদেশে একটা প্রবাদ আছে, বগলের নীচে সবারই একটু আধটু গন্ধ থাকে। সবার মধ্যে সমালোচনা করার উপাদান আছে. সেই সমালোচনা কারো দৃষ্টিতে সঠিক আবার অন্যদের দৃষ্টিতে সেটা নাও হতে পারে। সিফফিনের যুদ্ধের কাহিনী কোন পাঠ্যবইতে পড়িনি। প্রথম পড়েছিলাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ধর্মসংশ্লিষ্ট একটি বইতে, নামটা ঠিক মনে নেই. মুসলিম স্কলারদের মধ্যে সমালোচনামূলক লেখা খুব কম. বরং তাদের বলতে শুনেছি, এসব নিয়ে কথা না বলার জন্য। পরে জানলাম, কি ভয়ানক হৃদয়বিদারক ছিল সেই ঘটনা। কয়েক হাজার সাহাবা, তাবেঈ তাবেঈন ও হাফেজ এই যুদ্ধে নিহত হয়. তবে সুন্নিদের মধ্যে এ নিয়ে সীমিত আলোচনা থাকলেও শিয়াদের এ নিয়ে সমালোচনা ও বাড়াবাড়ি আছে যতদূর জানি, কারণ শিয়া-সুন্নীর বিরোধটা ধর্মীয় মূলনীতি বিষয়ে নয়, যেমনটা ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টদের মধ্যে আছে, রাজনৈতিক কারনে শিয়ারা এসব করে। কথা হলো স্কলারসহ আপামর মুসলিমরা কেন এই যুদ্ধের পক্ষগুলোকে নিয়ে সমালোচনা করে না? ইসলামী মনোভাবসম্পন্ন কিন্তু বাংলা সেক্যুলারদের প্রতি কোনভাবে দায়বদ্ধ এমন কেউ যদি থাকে তাহলে তাদের সেখানে ভাবার অবকাশ আছে.
বিষয়টা ইসলামী ট্রাডিশন এর সাথে সংশ্লিষ্ট, একটা ধারাবাহিকতা। তবে চাইলেই অনেক কিছু নিয়েই ফিতনা-ফ্যাসাদ করা যায়. হেফাজত নিয়ে বাংলা সেক্যুলার গোষ্ঠী যা করে! এদেশের ইসলামবিদ্বেষীরা সংখ্যায় খুব নগন্য। এদের প্রথম বর্ম হলো বামেরা আর দ্বিতীয় বর্ম হলো সেই সেক্যুলার গোষ্ঠী। শাহবাগী বললে এদের প্রায় সব গোষ্ঠীকে সাধারণভাবে এককাতারে ফেলা যায়. এই শাহবাগ না হলে, এদেশে ইসলামপন্থী আর সেক্যুলারপন্থীদের দ্বন্ধটা সারফেস এর নীচে থেকে যেতো। শাহবাগীদের সেদিনের আন্দোলন যে কেবল যুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্যে ছিল না, তা পরের ঘটনাপ্রবাহে সেটা স্পষ্ট হয়. যুদ্ধপরাধের বিচারের নাম করে, চেতনার নাম করে তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল সেটার প্রতিক্রিয়ায় ৫ই মে ছিল অবধারিত। উভয় পক্ষের রাজনৈতিক যেই যোগসাজশ থাক না কেন, সামষ্টিক বিচারে বিষয়টিকে এরকমই মনে হয়. যাই হোক, সেক্যুলাররা হুজুরদের একটা ভালো মাইর দিতে পারছে, ইসলামবিদ্বেষী থেকে শুরু করে ইসলামের বিরোধী সব পক্ষ খুশি, ওলামালীগও খুশি! ওই ব্যাটেলে হুজুররা হারলেও তাদের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ যুদ্ধে জন্য বাংলা সেক্যুলারদের গলায় কাঁটা হিসেবে বিঁধে যায়. ফলে তাদের রোষ এখন সব হেফাজত বা তাদের মূল উৎস কওমিদের বিরুদ্ধে (জামাতি বা যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে অনেকদিন পত্রিকায় কিছু পড়েছি বলে মনে পরে না, সেক্যুলার গোষ্ঠীর কাছে হেফাজত এখন জামাত হয়ে গেছে!)
এই বাংলা সেক্যুলার গোষ্ঠীর কাছে জামাত, হেফাজত বা ওলামা লীগ কোন পার্থক্য বহন করে না. এ নিয়ে কেউ দ্বিমত করে এমন কাউকে দেখতে পারলে ভালোই হতো!! এই সেক্যুলাররাও সংখ্যায় খুব বেশি নয়. কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় (মূলত লীগ এবং বামেরা, তবে সব বলা হচ্ছে না!) তারা হুজুরদের বিরুদ্ধে যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করে, এবং যে ধরণের মানসিকতা ধারণ করে, তাদের যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, মাঝে মাঝে মনে হয়, লক্ষ লক্ষ হুজুররা যদি তাদের সত্যিই দৌড়ানি দেয় তাহলে তাদের অবস্থা আসলেই কি হবে? তবে বাংলা সেক্যুলারদের আমেরিকান বা ইউরোপিয়ান সেক্যুলার হওয়া আদৌও সম্ভব নয়. ফলে ভারতীয় সেক্যুলারিজম দিয়ে ইউরোপিয়ান সেক্যুলারিজম এর ঝোল খাওয়ার স্বাদ মিটায়! ভারতীয় সেক্যুলারিজম মোদির'র মতো একটা দাঙ্গাবাজ, চরম সাম্প্রদায়িক খুনিকে মেনে নিলে কিংবা শিবসেনা, গো-সেনা, রামসেনাদের মেনে নিলেও ঝোলের স্বাদ যায় না! বাংলা সেক্যুলারদের আছে লীগ, আর লীগের জন্য আছে ভারত তথা গো-চনা মিশ্রিত ভারতীয় সেক্যুলারিজম!
ভারতীয় সেক্যুলারিজম কট্টর মোদিকে মেনে নেয়. এমনকি নির্যাতিতদের পক্ষে থাকার ভারতীয় যে রাষ্ট্রীয় পলিসি কয়েক দশক ধরে বিরাজমান ছিল সেটার বিরুদ্ধে গেলেও সমস্যা নেই (ট্রাম্প এর পরে এবার হয়তো নেতানিয়াহুর পূজা শুরু করে দেয় কিনা কে জানে) শিবসেনা, রামসেনা, গো-সেনারা প্রকাশ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়, প্রকাশ্যেই মুসলিম মারে সমস্যা নেই. পদ্মাবতী এখন পদ্মাবত হয়ে ভারতীয় সেক্যুলারদের উষ্ঠা দেয়, সমস্যা নেই. অথচ এরাই স্বাধীন (!) সার্বভৌম (!) বাংলাদেশ এসে কে ক্ষমতায় থাকবে আর কে থাকবে না তার নসিহত দেয়! ভারত জাকির নায়েকর বিরুদ্ধে গ্রফতারি পরোয়ানা জারি করেছে সন্ত্রাসের অভিযোগে (!), আর বাংলাদেশে জাকির নায়েককে ব্যান করেছে প্রায় একই অভিযোগে। আইকিউ একশর নিচে থাকলেও যে কেউ বুঝবে আওয়ামী লীগের এই অভিযোগ হাস্যকর! তবে বিষয়টা আওয়ামী লীগ এবং বড়দাদাদের বোঝাপোড়ার একটা ব্যাপার। এর মুলে প্রধান আওয়ামী লীগ, তাদের ক্ষমতা এবং ভারতীয় আনুকূল্য! অথচ, বাংলাদেশ ও ভারতের একই কারণে ব্যান হবার তরিকার চাইতে অন্য কারণগুলোই সেক্যুলার বয়ানে শুনা যায়!
মোদী ক্ষমতায় না আসলে ভারতীয় সেক্যুলারিজও চেনা যেতো না. যেমন ট্রাম্প না আসলে আমেরিকান সেক্যুলারিজকেও জানা যেতো না. আমেরিকাতে ইজানজেলিক্যালরা বুশ জুনিয়রকে দিয়ে ক্ষমতার সবচেয়ে কাছে আসে. তবে দৃশ্যপটের বাইরে তারা অনেক আগে থেকেই ছিল. আজকে আমেরিকাতে এমনকি বিশ্বব্যাপি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে হেট্ ক্রাইম বা বিদ্বেষ তাতে ইভাঞ্জেলিক্যালদের বিশেষ অবদান আছে. টেড ক্রুজ তাদের প্রধান পছন্দ হলেও, ট্রাম্প তাদের সিলেকশন এর মধ্যেই আছে. ইউরোপের সেক্যুলারিজম ভিন্নতা বজায় রাখলেও এখন দূরত্ব অনেক কমে যাচ্ছে। উগ্র ডানপন্থীদের জয়জয়কার! এই সেক্যুলারিজমে ক্রিষ্টিয়ানিটি জায়গা করে নিতে পারছে, সাথে ইসলামবিদ্বেষকে সঙ্গী করে! কিন্তু ইউরোপের এমনকি আমেরিকানদের ক্রিস্টিয়ানিটির মুলে ফিরে যাবার সম্ভাবনা নেই. অস্ট্রিয়াতে এখন কট্টর ডানপন্থি দল থেকে তরুণ একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলো কয়েকমাস আগে. সেখানকার একজন কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতার কথা বেশ সোজাসাপ্টা। ইউরোপিয়ান সভ্যতা জুডিও-ক্রিস্টিয়ানিটির উপর ভিত্তি করে, সেখানে সেক্যুলারিজম সেটাকে অস্বীকার করতে পারে না. তবে ইউরোপিয়ানরা ক্রিষ্টিয়ানিটিতে পুরোপুরি আসতে পারবে না সেটা তারা মেনে নিয়েছে, তবে কালচারাল ক্রিশ্চিয়ানিটিতে (জুডিও-ক্রিষ্টিয়ানিটিতে) আসতে সমস্যা নেই. ভারতে যেমন হিন্দুত্ববাদ মূলত কালচারাল হিন্দুইজম। সেক্যুলার ইসরায়েলও কট্টর জুডাইজম এর উপর ভিত্তি করে. এসব দেশের সেক্যুলারিজম কট্টরপন্থার জন্যও কি দারুণ স্পেস দিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের উল্টো ভিলেন বানিয়ে যাচ্ছে!!!
আমাদের দেশের সেক্যুলার পাঠ শুরু হয় ইসলামহীন অবস্থা দিয়ে। সবচেয়ে উগ্র অংশটি ইসলামবিদ্বেষে পর্যবসিত হয়. আর সবচেয়ে ভালো বাংলা সেক্যুলার হল -- নবী (সা:), ইসলাম ইত্যাদি নিয়ে বিষোদ্গারে নির্মোহ থাকতে পারে অথবা এসব বিষোদগারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করতে পারে! আর নোংরা সেক্যুলারগুলো ইসলাম-বিদ্বেষে তালি দিতে পারে। অথচ, ৫ই মেতে এরাই বড়ো বড়ো মুসলিম সেজে হুজুরদের বিরুদ্ধে কোরান পোড়ানোর কুৎসাতে অংশগ্রহণ করে! সাথে আছে বাম এবং সেক্যুলার মিডিয়ার চিরাচরিত চেনা মুখ. নবী (সা:) নিয়ে বিদ্বেষে এরা মুসলিমদের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন করে, অথচ মাদার অব হিউম্যানিটি'র (ধার করা) বিরুদ্ধে সামান্য কথাটাও সহ্য করতে পারে না! শাহবাগের ঘটনা এদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, না হলে, এদের নিচতা, পাশবিকতা, নোংরামি কোনদিন সেভাবে জানা হতো না. আমার দেখা বাংলা ইন্দ্রজালের সবচেয়ে নীচু মানসিকতার লোকগুলো এই বাংলা সেক্যুলাররা. অথচ এরাই অন্যদের ডিহিউম্যানাইজ করার প্রজেক্টে নিয়ে মিশনে আছে. এতদিন জামাতী উসিলা দিয়ে অনেক অন্যায়কে ন্যায় করানোর চেষ্টা হয়েছে। জামাতিরা তো জামাতি, ছাগু, কওমিরাও জামাতি এবং ছাগু, দেওবনন্দীরা ছাগু -- মানে সবাই তাদের প্রতিপক্ষ -- আসলে তাদের চশমায় সব একাকার। তাদের এতোদিনেও এদের না চেনার কারণ নেই! বাংলা স্যেকুলারদের নিজস্ব ভিত্তি নাই. তাদের ভিত্তিটাকে আগে চেনা এবং মানুষকে তা চেনাতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ!
মজলুম
জানুয়ারি ২২, ২০১৮ at ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়ালাইকুমুস সালম শামস ভাই। আলহামদুলিল্লাহ ভালই আছি। আপনি কেমন আছেন। সবাই বিয়ে টিয়ে করে এখন আর লেখা লেখিতে সময় পায় না। তবুও মাঝে মধ্যে পারলে দুই একটা পোষ্ট দিবেন।
এই দেশের সেক্যুলার গোষ্ঠির প্রোপাগান্ডার সাথে পরিচিত ছিলাম। কিন্তু বছর খানেক হলো ডিহিউম্যানাইজ নিয়ে পড়া শোনা করতেছি বিভিন্ন দেশের জাতি গোষ্ঠীর উপর এবং তার পরের গনহত্যা। পরে দেশের দিকে লক্ষ করে দেখলাম প্যাটার্ন টাও সেইম, ডট গুলোও মিলে যাচ্ছে। জামাত-শিবিরের উপর এদের ডিহিউম্যানাইজের সাথে কিছু হিন্দুত্ববাদী প্যাটার্ন ও রেখেছে। যেমন, কেউ জামাত-শিবির করলে ওদের ধরা যাবেনা, ছোয়া যাবেনা, ওদের সাথে কথা বলা যাবেনা। কেউ জামাতিদের সাথে হ্যান্ডশেক করলে তার সাথেও কথা বলা যাবেনা। হিন্দুত্ববাদে নিম্নবর্নের হিন্দুদের সাথে যে অচ্যুত আচরন করা হয়, সেই রকম।
২৮ শে অক্টবরে লগী বৈঠা দিয়ে জামাত-শিবির হত্যা করে সেটাকে শুয়োর পিটানো দিবস, খাসীর কাচ্চি বিরিয়ানি দিবস পালন করা।
জামাতকে দমন করা গেলেও হেফাজত ওদের গলায় বেধে গেলো। দেশের বেশীরভাগ মাদ্রাসা আর মসজিদের ইমাম, খতীব হওয়ায় কওমীরা মূলত সাধারন মুসলিমদের সাথে মিশে আছে। সেক্যুলার গোষ্ঠি বুঝে গেছে ৫ই মে তে হেফাজত হেরে গিয়েও যেনো জিতে গেছে। আহমেদ শফি কওমীর লোকজনদের শান্ত করে রাখলেও ওদের মাঝে স্পুলিঙ্গ জ্বলছে যখন দেখে সেক্যুলারদের অভয়াশ্রম আওয়ামী পাহারায় হচ্ছে। তেলে আর জলে মিশে না। আজ হোক, কাল হোক, ওদর সাথে সংঘর্ষ আবার হবেই। আপাতত খালি হাতে পানিতে নেমে কুমিরের সাথে লড়াইটা করা হচ্ছেনা।
আপনার প্রতিটা লাইনের সাথে একমত, আর আপনার অভসার্ভেশান ও চমৎকার। ভাবীদের থেকে অনুমতি নিয়ে সদালাফের লেখকেরা মাঝে মাঝে দুই একটা পোষ্ট দিতেতো পারে ।
অনেক ধন্যবাদ শামস ভাই এই মন্তব্যটার জন্যে।
সত্য সন্ধানী
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক ধন্যবাদ অসাধারন লেখাটার জন্য মজলিম ভাই।
আওয়ামী লীগের একটা অংশ হল দুর্বৃত্ত অংশ; সেক্যুলার দুর্বৃত্ত। আসলে এরা ছদ্মবেশী হিন্দুত্ব বাদী। নামধারী মুসলিম রাও এই হিন্দুত্ব বাদী দলে বেশ ভাল সংখ্যায় আছে।
আবার আরেক দল আছে যারা সত্যি মুসলিম তবে মারাত্বক মগজ ধোলাইয়ের শিকার।
আমি নিজেও এমন একজন কে চিনি ( যে আমার আত্মীয় :কোন এক স্থানীয় চেতনা পরিষদের নেতা গোছের) যে ফেসবুক ওয়ালে কেন রোহিঙ্গা দের ত্রান দেয়া বন্ধ করা লাগবে কারন ত্রান নাকি এতই বেশি যে এরা সব বেচে দিচ্ছে।
এই হতচ্ছাড়া (গুলা) বিশ্বাস করে যে বার্মিজ আর্মী নাকি রোহিঙ্গা দের অত্যাচার করছে কারন কারন তারা ভাবে যে রোহিঙ্গারা দেশ দখল করবে এইনভয়ে। এর সাথে নাকি ধর্মের দুরতম সম্পর্কও নাই।বুঝে দেখেন জন্তু গুলোর বাড় কি বেড়েছে।
এই মানবিক সংঘাতের জন্যেই এর সাথে আমার কিছুদিন আগে প্রবল ঝামেলা, আর আপাতত সব যোগাযোগ বন্ধ, শুধু হাতাহাতি টাই বাকি ছিল।
আওয়ামী লীগে একম দুর্বৃত্ত আজকাল সংখ্যাউ খুব বেড়ে গেছে।
এমন লেখা আরো লিখুন, আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
সত্য সন্ধানী
জানুয়ারি ২১, ২০১৮ at ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলে এখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা টেনে আনা ঠিক হয়নি। কিন্তু যেহেতু এসেই গেছে তাই ভুল বুঝাবুঝি এড়াতে একটু ব্যাখ্যা করা দরকার, না হলে আমাকে অসহনশীল মনে হবে।
সে ( এই জাতীয় লোক) এমন এমন কিছু কান্ড করে বসে, আর নিজের মত অন্যের উপর জোর করে চাপায়, আর সেটা না পারলে নেম কলিং শুরু করে, ঝামেলা শুরুর কারন এসবই।
এমন কিছু আচরন এরা করে যে বলার সহ্য করে এদের সাথে কথা বার্তা চালিয়ে যাওয়া যায় না বাস্তব জীবনে।
মজলুম
জানুয়ারি ২২, ২০১৮ at ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লীগ এর শরীরে থাকা ফ্যাসিবাদী সেক্যুলার ক্যান্সার এখন পুরা শরীরে ছড়িয়ে গেছে। স্টেজ ১ এর পর ২ হয়ে ৩ এর দিকে যাচ্ছে, ক্যামো থেরাপী না দিলে একে বাচাঁনো যাবেনা। আওয়ামীলীগের টপ টু বটম সব নেতা কর্মী হলো সক পাপেট। এদের ব্রেইন নিয়ন্ত্রন করে ঐ সেক্যুলার গোষ্ঠি, এরা নিজেদের ব্রেইন ইউজ করেনা।
১০০% সহমত। আপনার অভজার্ভেশান একেবারে বাস্তব।
এই অপপ্রচার শুরু করছিলো এটিএনের মুন্নি সাহা।
এই অপপ্রচার করছিলো কিছু মোদিমনা।
আর এভাবেই ফ্যাসিবাদি সেক্যুলারগোষ্ঠি আওয়ামিলীগ নিয়ন্ত্রন করে। এদের বিবেক বন্ধক দিয়ে রাখছে সেক্যুলারদের কাছে।
চেতনার সিরাপ খাওয়াইয়া পুরা হিপনোটাইজ করে এদের উপর ফ্যাসিবাদি চিন্তা চেতনা ঢুকিয়ে সেক্যুলার গোষ্ঠি পুরাই সফল।
আমি লিখবো আরো কয়েকটা পোষ্ট এই ব্যাপারে ইনশাল্লাহ। পোষ্ট পড়া, মন্ত্যব্যের জন্যে এবং অভ্রু লিখা শিখানোর জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ
মুনিম সিদ্দিকী
জানুয়ারি ২২, ২০১৮ at ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আস সালামু আলাইকুম,
আপনার ব্লগটি পড়েছি, আমার খুব ভালো লেগেছে। এখন আর সদালাপে আসার সময় পাইনা। মহিভাই আপনার ব্লগ পড়ার আমন্ত্রণ জানালেন, তাই আসলাম। আল্লাহ আপনাকে আর মহি ভাইয়ের কল্যাণকরুন। ব্লগটি ফেসবুকে শেয়ার দিলাাম।
মজলুম
জানুয়ারি ২৩, ২০১৮ at ৪:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়ালাইকুম সালাম। পোষ্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
মজলুম
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮ at ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কাদিয়ানিদের অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ মুরগী কবির। কাদিয়ানীর ৯৪ বছর সালানা অনুষ্ঠান, এই অনুষ্ঠান গতকাল ২ তারিখ থেকে শুরু হয়। আজকে প্রধান অতিথী ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মুরগী কবির। গত বছর ছিলেন আলহাজ্ব হাসানুল হক ইনু। মুরতাদ, কাফির, মুশরিকদের ঘিট্টু সব এক জায়গায়। আমরা এদেরকে নাস্তিক বলে এদের দিকে আঙ্গুল তুলি আর মাদারে হিউম্যানিটিকে ভুলে যাই। কিন্তু এদের মূল আশ্রয়দাতা, অভয়াশ্রমদান কারী হলেন মাদারে হিউম্যানিটি উরফে গডমাদার। উনি হলেন বটগাছ, উনার ছায়ায় এরা লালিত পালিত হচ্ছে। তাই উনাকে সবাই চিনে রাখুন!
মজলুম
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিবস্ত্র নারীর চিত্র আকঁলে নাকি লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে, তাকে উলঙ্গ করে আর্ট করলে নাকি দুর্ভিক্ষের চিত্র দাগিয়ে তুলে, ফুটিয়ে তুলতে পারে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ভাবনা, মিছিলের চিত্র দিতে পারে গণজাগরণের (যৌন)উন্মাদনা। উলঙ্গ করতে হলে এরা আবার নারীদের করে, কিন্তু পুরুষদের করতে চায়না। তাইলে সমঅধিকার কিভাবে হবে, বৈষম্যতো থেকেই গেলো। এরা আসলে নারী লোলুপ! লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে চাইলে ইনুর লিঙ্গ কেটে ফেললেইতো হয়, নারীদের মতো হয়ে যাবে দেখতে, পুরাই সাম্য সৃষ্টি হবে। এই দেশে হিন্দুত্ববাদী খবিশগুলোর সাথে বামপন্থি খবিশদের মিলনে যে দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে তাতে এই দেশের মুসলিমদের নাক পঁচে যাওয়ার দশা।
অযথা ইনু বা তারানা হালিম মার্কা লোকদের দিকে আঙ্গুল না তুলে ওদের যে আশ্রয়দাতা গডমাদার আছে তার দিকে আঙ্গুল তুলুন।
মজলুম
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কাদিয়ানিদের গতকালকের অনুষ্ঠানে এসেছেন রাশেদ খান মেনন। অযথা এই মুরগীজিবীদের দিকে না তাকিয়ে গডমাদারের দিকে তাকান। নাহিদ টাকলা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পঙ্গু করে দিয়েছে আর সে টানা দুইবারের মন্ত্রী। মাল মুহিত ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে, সেও টানা দুইবারের মন্ত্রী। নাহিদ বা মালের দিকে না তাকিয়ে গডমাদারের দিকে তাকান। এদের বিরুদ্বে কয়েক কথা বলে গডমাদারের বিরুদ্বে চুপ থাকা হলো প্যাঁচানো ভন্ডামী। গতকালকে দেখলাম দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্বের কমান্ডার ইন চীফ ইমরান এইচ সরকার ফেসবুকে পোষ্ট দিলো প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্বে। শশুর নাহিদ টাকলার বিরুদ্বে কোন কথা নাই। হাঁসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিনা এদের কাম কাজ দেখলে। আওয়ামীলীগের কিছু লোকজন বা সুশীল সমাজের কিছু লোকজন কে এই রকম দেখবেন, দুই একটা নিতীবাক্য মেরে শেষ। দুই একটা মন্ত্রীর বিরুদ্বে কিছু একটা বলে সৎ! হিসেবে সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, কিন্তু বটগাছ গডমাদারের বিরুদ্বে কোন কথা নাই। এতে এই ভন্ডলোকদের দুই দিকেই লাভ, সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলোনা। মানে, বোকা জনগনকে বুঝানো গেলো উনি সৎ!, আর গডমাদারকে খুশি রাখলেন, সে ও নারাজ হইলোনা।
মজলুম
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮ at ৯:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাদ্রাসা বিদ্বেষী ও চেতনাজিবী আবুল বারাকাত ৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট জনতা ব্যাংক থেকে। কয়েকদিন আগে উনি এনজিওর খুশি কবির আর ঢাবিএর মেজবাহ কামাল কে নিয়ে মাদ্রাসার বিরুদ্বে বিদ্বেষ ছড়ালেন, মাদ্রাসার লোকদের কম বুদ্বিসম্পন্ন বলে ডিহিউমানাইজ করেছেন। উনি চেতনার কান্ডারী, মৌলবাদের অর্থনিতী নিয়ে বই লিখেছেন, মৌলবাদ নাকি অর্থনিতী দখলে নিছে। এখন দেখা গেলো চেতনাবাদের আড়ালে উনি নিজেই জনতা ব্যাংক লোপাট করে দিয়েছেন। আরেক ব্যাংকের লুটেরা ছিলেন মুনতাসির মামুন। এই দেশপ্রেম ও চেতনাবাদ হলো লুটপাট করে খাওয়ার হাতিয়ার।
জানি এদের বিচার হবেনা যতক্ষন পর্যন্ত মাদারে হিউম্যানিটি বা গডমাদার এই দেশে ক্ষমতায় আছেন। তবে ক্ষমতা পরিবর্তন হলে স্পেশ্যাল ট্রাইবুলানে এদের বিচার করা হবে। দেশের বাইরে থাকলেও নাৎসীদের মোসাদ যেমন খুজে খুজে বের করে ইসরাইলে এনেছে, এদের কেউ খুজে খুজে দেশে নিয়ে আসতে হবে বিচারের জন্যে। আর না আনতে পারলে ডিপ্লোম্যাটিক কভারে এদের গুপ্তহত্যা করতে হবে। এই বামপন্হিদের আর চেতনাজিবীদের লিখা যত বই আছে মুক্তিযুদ্বের উপর সব বাতিল করা হবে। বোখারীর হাদিস কালেকশানের মতো মুক্তিযুদ্বের ইতিহাস লিখার স্ট্যান্ডার্ড ফলো করতে হবে। এই ফ্যাসীবাদ যেন দ্বিতীয়বার এই দেশে আর দাড়াতেই না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
আওয়ামিলীগের সমর্থকদের লজ্জা শরম নাই, এরা সব চুরি বাটপারি করেও, দেখেও বড়ো গলায় কথা বলে। চোরের মায়ের বড়ো গলা।