«

»

Apr ২৩

হাদীসের গুরুত্ব, হাদীস সংগ্রহ এবং কিছু প্রশ্ন

[লিখাটি যদি বিতর্কিত বা মতবিরোধের কারণ হয় তাহলে সদালাপ থেকে মুছে দেওয়া হবে। আর গ্রহণ্যোগ্যতা এবং আলোচনার মাধ্যমে সুন্দরতা প্রকাশ পেলে পরবর্তী লিখা দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।]

 

   মহিমাময় আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলকে দুইটি বিষয় প্রদান করেছেনঃ একটি ‘কিতাব’ এবং দ্বিতীয়টি ‘হিকমাহ’। কিতাব হলো কোরআন, যা হুবহু ওহীর শব্দে ও বাক্যে সংকলিত হয়েছে। আর হিকমাহ বা প্রজ্ঞা হলো ওহীর মাধ্যেমে অতিরিক্ত জ্ঞান যা ‘হাদীস’ নামে সংকলিত হয়েছে। যে কথা, কর্ম, অনুমোদন বা বিবরণকে রাসুলুল্লাহ(সা)-র বলে প্রচার করা হয়েছে বা দাবী করা হয়েছে তাই ‘হাদীস’ বলে পরিচিত; এছাড়াও সাহাবী এবং তাবেয়ীগনের কথা, কর্ম, ও অনুমোদনকেও হাদীস বলা হয় যথাক্রমে মারফূ হাদীস, মাউকূফ হাদীস এবং মাকতূ হাদীস বলা হয়।(সুত্রঃ হাদীসের নামে জালিয়াতি by আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর)।

 

    ইসলামী জীবন-ব্যবস্থায় হাদীসের গুরুত্ব অপরিসীম। হাদীস ছাড়া কোরানকে বুঝা যায় না। রাসুল(সা)-র জীবন, বিশ্বস্ততা, বিশুদ্ধতা, কর্ম, মানব প্রেম, শিষ্টাচার, ধৈর্য, সত্যের প্রতি আপোষহীনতা, তাকওয়া, বিচারবোধ, নম্রতা… ইত্যাদি হাদীস ছাড়া জানা সম্ভব না। তেমনি ইসলাম ও ইবাদতের পদ্ধতি জানতে হলে হাদীস ছাড়া অসম্ভব। কোন ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ, নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়, সেজদা কয়টি হবে… সব কিছু হাদীস ছাড়া সম্ভব না। কোরানেই হাদীস অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া আছে। “যারা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে(আহযাবঃ২১)”। “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক(হাশরঃ৭)”। “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ্‌ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন; আর আল্লাহ্‌ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু(ইমরানঃ৩১)”। “আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী(কলমঃ৪)”।

 

    নবী(সা) মারা যাবার পর সাহাবীগনদের মাঝে হাদীস বর্ণনা করার ব্যপারে যে ভয় কাজ করত তাতে বিস্মিত হতে হয়। প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ খলিফাসহ অনেক সাহাবী নবী(সা)-র জীবদ্দশায় সরাসরি জিজ্জেস করে নিশ্চিত হতেন। খলিফাগন নবী(সা) মারা যাবার পর ২ বা ৩ বা ৫ বা আরো বেশী সাহাবীগণের কাছে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হতেন ফতোয়া দেওয়ার ব্যপারে। নবী(সা) বলেছেন, কেউ তাঁর নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করলে সে নিশ্চিত জাহান্নামী। এই জন্য সকল সাহাবীগণ হাদীস সংকলনের ব্যপারে নীরবতা পালন করতেন। অনেক সাহাবী অধিক সংখ্যাক হাদীস জানলেও কখনও প্রকাশ করতেন না, যদি ভুল হয়ে যায় এই ভয়ে। আবু বকর(রা) ৩০-টি বেশী হাদীস সংকলন করেননি। ১০০-র বেশী হাদীস সংকলন করেছেন এমন সাহাবীর সংখ্যা ৩৮ জন। ১০০০-র বেশী হাদীস সংকলন করেছেন এমন সাহাবীর সংখ্যা ৭ জন।

 

প্রশ্ন-১ঃ খলিফাগন এবং সাহাবীগণ কেন হাদীসগুলো সংগ্রহ করে পরবর্তী মুসলিমদের জন্য সহজ করে দিয়ে যাননি? তাঁরা কি জানতেন না পরবর্তী মুসলিনদের মাঝে এই বিষয়ে মতবিরোধ/দলাদলি তৈরি হবে যেখানে নিজেরাই সমস্যায় পতিত?

প্রশ্ন-২ঃ যেখানে সাহাবীগন হাদীস সংকলনের ব্যপারে নীরব থাকতেন, জানলেও প্রকাশ করতেন না, সেখানে ২০০/২৫০ বছর পরে এত হাদীস সংগ্রহকারীর আবির্ভাব কেন হল?

 

    সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে ৫ টি শর্ত পুরণ করা হয়। (ক)আদালতঃ হাদীসের সকল রাবী পরিপূর্ণ সৎ ও বিশ্বস্ত বলে প্রমাণিত, (খ) যাবতঃ সকল রাবীর নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা পূর্ণরুপে বিদ্যমান বলে প্রমানিত (গ)ইত্তিসালঃ সনদের প্রত্যেক রাবী তাঁর ঊর্ধ্বতন রাবী থেকে স্বকর্ণে হাদীসটি শুনেছেন বলে প্রমানিত, (ঘ) শুযূয মুক্তিঃ হাদীসটি অন্যান্য প্রামাণ্য বর্ণনার বিপরীত নয় বলে প্রমাণীত (ঙ) ইল্লাত মুক্তিঃ হাদীসটির মধ্যে সুক্ষ্ম কোনো সনদগত বা অর্থগত ত্রুটি নেই বলে প্রমানিত। ঈমাম বোখারী তিনি হাদীস সংগ্রহে এই ৫ টি শর্ত ঠিক রাখতেন বলে জানা যায়। তাই সকল হাদীস গ্রন্থের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বোখারী এবং অন্যান্য হাদীস সংগ্রহকারীগণ যেভাবে বিশুদ্ধতার পথ অবলম্বন করেছেন এতে কারো সন্দেহ থাকার কথা না। শুধু উপরের ঐ ৫ টি শর্ত পুরণ করাই শেষ নয়, মুখস্ত/স্মরণশক্তির সাথে লিখিত দলিল মিলিয়ে দেখা হত। যদি লিখিত দলিল রাবীদের কাছে না থাকত তাহলে সেই হাদীস গ্রহণ করতেন না।

 

    ওমর(রা) ছিলেন ইসলামের এক মহান ত্যাগী সাহাবী। ইসলামের বিস্তৃতি হয়েছিল তাঁর আমলে। ইসলামের জন্য তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। এই মহান মানুষটিও হাদীস শুনার জন্য মা আয়েশা(রা) কাছে যেতেন ভেরিফাই করার জন্য, নিশ্চিত হওয়ার জন্য। সেই ওমর(রা) হাদীস প্রকাশের ব্যাপারে খুব সাবধানতা অবলম্বন করেতেন। তাঁর সাথে ঈমাম বোখারীর হাদীস সাংঘর্ষিক। আমরা সকলে জানি, ওমর(রা) কতটুকু নবী(সা)-কে ভালবাসতেন। তিনি হুদায়বিয়া সন্ধি মুসলমানদের বিরুদ্ধে গেছে বলে প্রথমে বিরোধীতা করলেও পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তওবা, নামাজ, দাস আজাদ করে, দান করে এর কাফফারা দেন। সেই ওমর(রা) মৃত্যুর পূর্বে নবী(সা)-র বিরোধীতা করবেন তা কেমন যেন অসামঞ্জস্য মনে হয়। দেখুন রেফারেন্স এখানে- [১]   [২]। নবী(সা)-এর মৃত্যুর পর ওমর(রা)আঘাতের ফলে গর্ভস্থ সন্তান মৃত্যু হলে এর কি বিধান- তা জানতে চাইতেন অন্যদের কাছে।

 

প্রশ্ন-৩ঃ নবী(সা) মৃত্যুর ৩ দিন পুর্বে কাগজ, কলম চাইলেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু লিখার জন্য যেন মুসলমানরা পথভ্রষ্ট না হয়। ওমর(রা) কেন নবী(সা)-র বিরুধীতা করে তার কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে ইসলামের ভয়ংকর ক্ষতি সাধন করলেন? ইতিহাসবিদগন বলেন সাহাবী ও তার পরবর্তী ইসলামের অনুসারী নিজেদের মধ্যে সকল মারামারি, খুনাখুনি, যুদ্ধের বীজ এইখানে। বোখারীর হাদীসটি মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি, যাতে ওমর(রা)-কে নির্দোষ প্রমাণ করা যায়?

প্রশ্ন-৪ঃ ওমর(রা) কি নবী(সা)-এর কন্যা ফাতিমার হত্যাকারী? যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে কেন এমন ঘটনার উদ্ভব হল? আর যদি না হয়, তাহলে ফাতিমা(রা) নবী(সা)-এর কিছুদিন(আনুমানিক ৬ মাস) পর কিভাবে এবং কেন মারা যান?

   

    আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার নিকট বোরাক নিয়ে আসা হল, বোরাক হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু সাদা, লম্বা, গাধার চেয়ে বড় ও খচ্চর থেকে ছোট, তার দৃষ্টির শেষ প্রান্তে সে তার পা রাখে, তিনি বলেন: আমি তাতে সওয়ার হলাম, অবশেষে আমাকে বায়তুল মাকদিস নিয়ে আসা হল, তিনি বলেন: আমি তাকে সে খুঁটির সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তাতে দু’রাকাত সালাত আদায় করি, অতঃপর বের হই। অতঃপর জিবরিল আমার নিকট মদের ও দুধের পাত্র নিয়ে আসেন, আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করি, জিবরিল আমাকে বলেন: তুমি ফিতরাত (স্বভাব) গ্রহণ করেছ, অতঃপর আমাদের নিয়ে আসমানে চড়েন …”। তিনি হাদীস উল্লেখ করেন, তাতে রয়েছে: “আমি আমার রব ও মুসা আলাইহিস সালামের মাঝে যাওয়া-আসা করতে ছিলাম, অবশেষে তিনি বলেন: হে মুহাম্মদ, প্রতি রাত-দিনে এ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রত্যেক সালাতের জন্য দশ, এভাবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। যে নেক কাজ করার ইচ্ছা করল কিন্তু তা করেনি, আমি তার জন্য একটি নেকি লেখি, যদি সে তা করে তার জন্য দশটি লেখা হয়। যে পাপ করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে তা করে নি, তার জন্য কিছু লেখা হয় না, যদি সে তা করে তবে তার জন্য একটি পাপ লেখা হয়। তিনি বলেন: অতঃপর আমি অবতরণ করে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পৌঁছলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তিনি আমাকে বললেন: তোমার রবের নিকট ফিরে যাও, তার নিকট হ্রাসের দরখাস্ত কর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি বললাম আমি আমার রবের নিকট বারবার গিয়েছি এখন লজ্জা করছি”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদীসটি সহিহ। আরো দেখুনঃ [১]  [২]

 

এই হাদীস সম্পর্কে কিছু কথাঃ

    ক) আল্লাহ্‌ কাউকে সাধ্যাতীত ভার অর্পন করেন না। (২:২৮৬, ২৩:৬২)। এই আয়াতের সাথে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ এবং সারা বছর রোজা হাদীসটি মিলে না বরং কোরান বিরুধী বলে মনে হয়।

    খ) ঈমানের সবচেয়ে বড় একটি স্তম্ভ হলে ‘লজ্জ্বাশীলতা’। নবী(সা) ছিলেন দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী লজ্জ্বাশীল ব্যক্তি। উনি ৮ম বারে বলতেছেন উনার লজ্জ্বা করে। এই রকম কথা রাসুলের চরিত্রের সাথে মিলে না বরং রাসুলের চরিত্রের গুণাবলীর বিরুধী মনে হয়।

   গ) মুসা(আ) কি নবী(সা) থেকে বেশী জ্ঞানী ছিলেন? আমাদের নবী(সা)-কে বলা হয় নবীদের নবী। উম্মতের জন্য কষ্ট হবে এবং আদায় করতে সক্ষম হবে না, আর সেটা নবী(সা) বুঝতে পারেননি, বুঝতে পেরেছেন মুসা(আ)!!! এটা হয় নাকি?  আমাদের নবী(সা) কি দুনিয়ার মানুষ ও তাদের স্বভাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না? যদি মানুষের স্বভাব ও বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে তাহলে কেমন করে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার সকল মানুষের দায়িত্ব নিবেন? নবী(সা) থেকে কোন নবী বা রাসুল বাস্তবতা সম্পর্কে বেশী জ্ঞান রাখেন?

   ঘ) মুসা(আ) বার বার নবী(সা)-কে আল্লাহ-র কাছে নামাজ ও রোজা কমিয়ে আনার জন্য পাঠাবেন এটাও মুসা(আ)-র চরিত্রের গুণাবলীর সাথে মিলে না। (এই রকম গেইম খেলার ঘটনা সচরাচর বেকুব/মূর্খদের মধ্যে হয়ে থাকে, নবী/রাসুলদের ক্ষেত্রে হয় না, (কমন সেন্স))।  

  ঙ) মুসা(আ) কিভাবে নিশ্চিত ছিলেন নবী(সা)-কে আল্লাহ-র কাছে পাঠালেই নামাজ, রোজা কমিয়ে দিবেন? আমরা উম্মতে মুহাম্মদ্দী। আমাদের ডিসিশন মেইকার আল্লাহ্‌ বা নবী(সা) নন, ডিসিশন মেইকার মুসা(আ)। এইগুলা অসামঞ্জস্য।

  চ) সর্বদা সত্য কথা বলা অবশ্যই অনেক কঠিন আমল কিন্তু শুধু সর্বদা সত্য কথা বললে উত্তম চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। উত্তম চরিত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সত্যবাদিতার মত বহু গুণের সমষ্টি। সেই বহুগুণের একটি "দৃঢ়তা"। প্রত্যক নবীদের জন্য দৃৃৃঢ়তার গুণ থাকা অত্যাবশ্যকীয় নয়ত তাদের উপর রিসালতের দায়িত্ব পালন সম্ভব না। নামাজ ও রোজা কমিয়ে আনার জন্য মুুুসা(আ) এবং নবী(সা)-র ঘটনাটি, তাদের ভিতরে দৃঢ়তা নেই- তা স্পষ্ট এবং প্রমাণিত।

  ছ) অন্যান্য নবী-রাসুলগন,  জীব্রাইল  এবং পরবর্তী সকলের কাছে নবী(সা)-র এই বার বার যাওয়া আসার ঘটনা স্বাভাবিক ভাবে বিচার করবেন না। নবী(সা)-এর ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র তীর বিদ্ধ হয়। [আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী (কলম:৪)]।

 

প্রশ্ন-৫ঃ উপরের ৭ টি পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে বোখারীর এই হাদীস মিথ্যা মনে হয়। যদি সঠিক হয়, তাহলে কেন সঠিক?

প্রশ্ন-৬ঃ ঈমাম বোখারীর মজলিশে ঈমাম মুসলিম হাদীস চর্চা করতেন। তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা ভাবে হাদীস সংগ্রহ করলেন কেন? তাদের বিভক্তি হাদীসের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় না? হাদীসের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় না?

৪ comments

Skip to comment form

  1. 1

    মাহফুজ

    সূরা আল-যুমার (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (৩৯:২৩) আল্লাহ উত্তম হাদিছ (কথা/ গল্প/ খবর/ বিবৃতি) (aḥsana l-ḥadīthi) তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, ঘন ঘন আবৃত্ত। এতে তাদের চর্মে শিহরণ জাগে, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে নিরুদ্বেগ/ বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

    সূরা আল জাসিয়া (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (৪৫:০৬) এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথ রূপে। অতএব, আল্লাহ তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদিছে (কথা/ গল্প/ খবর/ বিবৃতি) বিশ্বাস স্থাপন করতে চায়?

     

    সুতরাং আল্লাহর কিতাবে প্রদত্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যহীন অর্থাৎ অপ্রাসঙ্গিক কোন হাদিছে (কথা, গল্প, খবর) একবাক্যে ও নির্দ্বিধায় বিশ্বাস স্থাপন করা মানেই ভ্রান্ত পথের অনুসারীদের দলভুক্ত হয়ে যাওয়া।

  2. 2

    Anwar

    মুতাওত্তির লাফজি তথা ১০০% সহি হাদিসের সংখ্যা মাত্র একটি। সেটি হলো, রাসুল(স) বলেছেন, ‘আমি যা বলিনি তা আমার নামে যদি কেউ প্রচার করে তার স্থান জাহান্নাম।’  এবার ভাবুন বুখারী মুসলিমদের স্থান কোথায়?  যে আবু হুরাইরাকে মা আয়শা মিথ্যাবাদী বলেছেন, হযরত ওমর পদচ্যুত করেছেন, সেই আবু হুরাইরার হাদিস দিয়েই কেন সুন্নিদের হাদিসগ্রন্থ পরিপূর্ণ? 

  3. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ইসলামের ভিতরে সুন্নী বা শিয়া কি এবং কেন? সুন্নী বা শিয়া মুসলমানদের ভিতর কেন ঢুকল? আমাদের পরিচয় মুসলমান। 'মুসলমান' পরিচয় দেওয়ায় জন্য কোরানে বলা হয়েছে। সুন্নী, শিয়া, সালাফী, কাদিয়ানী… সবই তো দলাদলি যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ।

    আলী(রা)-কে নিয়ে কিছু বলা যায় না। কিছু বাললেই শিয়া বা শিয়ার চর বলে আক্রমন করে বসে। কেন? উনি কি বিখ্যাত সাহাবীদের একজন ছিলেন না? আমরা সদালপে মতবিনিময় করতে আসি। যদি ভুল হয় তাহলে প্রমান উপস্থাপন করি কোরান ও হাদিস থেকে, যদি তাতে না থাকে যুক্তি দিয়ে একজন আরেকজনকে বুঝাবার চেষ্টা করি।        

     

    প্রশ্ন-৪ঃ বলেছেন আলী(রা) তার মেয়েকে ওমর(রা)-র কাছে বিয়ে দিয়েছেন। যদি ওমর(রা) ফাতিমা(রা)-র হত্যাকারী হন, তাহলে আলী(রা) তার মেয়েকে বিয়ে দিতেন না।

    ==> পরিস্কার করি, ওমর(রা) ইচ্ছাকৃত ভাবে ফাতিমা(রা)-কে হত্যা করেননি। আলীর ঘরের দরজায় লাথি দিয়েছিলেন আর জানতেন না যে দরজার পাশে ফাতিমা(রা) দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফাতিমা(রা) ছিলেন প্রেগন্যান্ট। যার ফলে, গর্ভপাতে মারা যান। ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে। প্রশ্ন: ওমর(রা) কেন দরজায় লাথি দিয়েছিলেন?

    যাই হোক, আবু বকর(রা) এবং ওমর(রা), নবী(সা)-র মৃত্যুর পর ১৩ বছর (২+১১) শাসক ছিলেন। নবী(সা) মৃত্যুর ১৩ বছর পর ওমর(রা)-র মৃত্যু হয়। ফাতিমা(রা)-র জীবদ্দশায় আলী(রা) কোন স্ত্রী বা দাসী গ্রহণ করেননি এবং ফাতিমা(রা) ঘরে শুধু ২ ছেলেই ছিলেন। ফাতিমা(রা), নবী(সা)-র ৬ মাস পর মারা যান। তাহলে ওমরের মৃত্যু সময় থাকে সাড়ে ১২ বছর। ফাতিমা(রা)-র পর যদি আলী(রা) বিয়ে করেন তাহলে সন্তান জন্ম নিতে ১ বছর হলে সময় থাকে সাড়ে ১১ বছর। এই সাড়ে ১১ বছর সময়ের মধ্যে মেয়ের জন্ম হয়ে ম্যাচুরিটি হয়ে ওমর(রা)-র কাছে বিয়ে হল। এখানে শর্ত থাকে সন্তান মেয়ে হতে হবে নয়ত সময় আরো কমে যাবে। এইগুলা অসামঞ্জাস্য (আলী(রা) ৩৩ জন সন্তান। ১৫ জন ছেলে এবং ১৮ জন মেয়ে)।

    আলী(রা) তার মেয়েকে ওমর(রা)-র কাছে যে বিয়ে দিয়েছেন ঘটনাটি বাস্তবতার সহিত মিলে না। আর যদি ঘটনাটি সত্য বলে ধরে নিই, তাহলে আলী(রা) ক্ষমতার জন্য লালায়িত ছিলেন বলে ধরে নেওয়া হয়। ক্ষমতা পাওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া এই বিয়ের অন্য কোন যুক্তি টিকে না। কিন্তু ইতিহাস থেকে জানতে পারি, ওমর(রা) ক্ষমতা উসমান(রা)-র জন্য অনেকটা পরিস্কার করে গিয়েছিলান। আর আলী(রা)কে আমরা জানি চরম ধৈর্যশীল সাহাবী হিসেবে। উনার মত ধৈর্যশীল সাহাবী তুলনায় অন্য সাহাবীদের দেখতে পাওয়া যায় না।          

     

    প্রশ্ন-৩ঃ বদরের যুদ্ধে দেখতে পাই হামজা(রা) উতবাকে এবং আলী(রা) উতবার ছেলের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন। সেখানে হামজা বা আলী বা ২ জনেই মারা যেতে পারতেন। ইসলামে নবী(সা) কোন স্বজনপ্রীতি এবং পরিবারপ্রীতির স্থান দেননি। আবার নবী(সা)-র মৃত্যুর পূর্বে উসামা বিন যায়েদের নেতৃত্বে আবু বকর এবং ওমর সহ সকলেই যোদ্ধা। সেই যুদ্ধে আলী(রা) অংশগ্রহণ করেননি। ওসামার নেতৃত্বে বাহিনী ১ দিন যাওয়ার পর পিছন থেকে চিরকুট পাঠিয়ে সেই বাহিনীকে ফেরত নিয়ে আসে। নবী(স) খুব রুষ্ট হন। তিনি বাহিনীকে আবার আদেশ করেন যেই উদ্দেশ্যে তাদের যেতে বলেছেন সেই উদ্দেশ্য যেন সবাই  সফল হোন। দুই দিন যাওয়ার পর আবার চিরকুটের মাধ্যমে বাহিনী ফিরত আসে। এবং তারপর ওমর(রা)-র সেই ঘটনাটি। সর্বনাশা বৃহস্পতির ঘটনা। ইসলাম ইতিহাসবিদদের মতে ইসলামের সবচেয়ে বড় কলঙ্কময় ঘটনা। 

    এই চিরকুট কে পাঠিয়েছিলেন? কেন বাহিনী ফিরে আসল দুই-দুইবার? 

    আবু বকরের নেতৃত্বকে আমরা যেমন আগাম অনুমান করতে পারি(নামাজের ইমামতি, যে কোন বিষয়ে নবী(সা) বকর(রা) পরামর্শ নিতেন…) তেমনি আলী(রা)-র নেতৃত্বকে অনুমান করতে পারি যা গাদিরে খুমে বক্তৃতার মাধ্যেমে। মুসলিম শরিফ হাদিস নং ৬০০৭, ৬০০৮, ৬০০৯ (ইসলামিক ফাউন্ডেশান)। ওমর জানতেন নবী(সা) কি লিখে দিবেন তাই সবকিছু বানচাল করেছেন। ওমর(রা) নবী(সা)কে তীর্যক মন্তব্যও করেছেন যা সকল মুসলমানদের অন্তরে আঘাত করে সর্বদা।        

     

    প্রশ্ন-১ঃ "সহিফায়ে সাদিকা" নামক হাদিস গ্রন্থ যদি সাহাবীদের আমলে লিখিত হাদীস গ্রন্থ হয়ে থাকে তাহলে বোখারী বা মুসলিম বা অন্যান্য হাদীস সংগ্রহকারীগন কেন বশরা, মদীনা, কুফা, দামেস্ক… শহরগুলো ঘুরে ঘুরে হাদীস যাচাই বাচাই করতে যাবেন? ঈমাম বোখারী ৮ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ করে ৭২৭৫ টি হাদীস রেখে বাকীগুলো ফেলে দেন। বোখারীর হাদিস যে ১০০ ভাগ বিশুদ্ধ নয় তা ঐ ৫০ ওয়াক্ত নামাজ এবং সারাবছর রোজার হাদিস উল্লেখ করে দেখিয়েছি। হয়ত ৯৮ ভাগ বা ৯৭ ভাগ বোখারীর হাদিস বিশুদ্ধ কিন্তু কোরানের মত ১০০ ভাগ নয়। আমাদের সমাজের(বাংলাদেশ) মুসলমানরা বোখারীকে ১০০ ভাগ বিশুদ্ধ মনে করে কোরানের মত যা একটি ভুল ধারনা। বোখারীর প্রতি যদি সন্দেহযুক্ত কথা বলা যায় তাহলে সমাজের মোল্লারা কল্লা ফালায়া দিব এই মনোভাব। অথচ ইমামের সুরা ফাতিহা পাঠের পর জুরে আমিন বলা বোখারীর হাদিস। বোখারীর রেফারেন্স দিলে তখন কথা বলে না। আবু হানিফা এবং অন্য হাদিসের কথা বলে বোখারীর হাদিসের উপর ছুড়ি ঘোরায় সুবিধাবাদী মোল্লা সমাজ।         

     

    বলি না যে যা বলা হয়েছে তা সঠিক। ভুল হতে পারি।শিখার জন্য এখানে আলোচনা করছি। আপনারা রেফারেন্স সহ তুলে ধরুন সুন্দর আলোচনার জন্য। তাহলে সকলের জানার সুযোগ হবে। ধন্যবাদ।   

  4. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সদালাপ কতৃপক্ষ,

    আসসালামু আলাইকুম।

    লিখাটি যদি সদালপের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, তাহলে মুছে ফেলার অনুরোধ করছি। মুছে ফেললে, এই জাতীয় লিখা আর কখনই দিব না। ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.