-এক-
নব্য ক্রুসেড ও কিছু প্রশ্ন
মুসলমানরা যে আল্লাহতে বিশ্বাস করেন সেই আল্লাহ বস্তুর অংশ নন এবং বস্তুর গুণে গুণান্বিত নন। আপনি এই আল্লাহর অস্তিত্বে অস্বীকার করেন। যদিও আপনার কোন দলিল প্রমাণ নেই, কিন্তু মুসলিমদের বিপক্ষে আক্রমণমুখর। হয়ত আপনি নাস্তিকতার ছদ্মাবরণে ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু। ঐতিহাসিক হিংসা-বিদ্বেষ ও রেষারেষি বুকে নিয়ে এই যুদ্ধে নেমেছেন। আবার হয়ত নাস্তিকও হতে পারেন। ইউরোপের হাজার বছরের ক্রুসেড যুদ্ধে শরিক হয়েছেন। উদ্দেশ্যের মিল আছে বলে। অথবা আপনি হুজুগী নাস্তিক -বিষয়ের গভীরতায় না গিয়েই অপরের বৈশ্বিক যুদ্ধে নেমে পড়েছেন। আপনি যে বনের পাখি আর আপনার কণ্ঠের যে গান তা বেমানান হয়ে আছে। আপনি হয়ত হেয়ালীভাবে নেমেছেন। না বরং “ভাইরাসে” আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু হয়তবা তা চিন্তা করে দেখেন নি। এই ভাইরাসটা কি? জানা না থাকলে, একটু গুগ্লিং করে ভাইরাসের সংজ্ঞা ও তথ্য পাঠ করে নিন। তারপর ভাবুন, বায়োলজিক্যাল প্রেক্ষিতে এটা কি বিশ্বাসের সাথে সমন্বয়শীল কোন বস্তু বা ধারণা? আপনার নিজ বিশ্বাসের সাথে তুলনা করুন। ‘বিশ্বাস’ কথাটি একটু বর্ধিত ধারণায় গৃহীত হোক। তারপর বিবেচনা করুন এই ভাইরাসের উপমা কি সঠিক উপমা? এটা কি “বৈজ্ঞানিক” অভিব্যক্তি (expression)? না এখানে ভাষার ধাপ্পাবাজি হচ্ছে? প্রচলিত অর্থের ভাইরাসের ধারণাকে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনী কায়দায় অন্য বস্তুর সমন্বয়-প্রলেপে ধাপ্পাবাজি সাজানো হয়েছে –তাই না? আপনি কি এই ভাইরাসে আক্রান্ত? যদি না হন, তবে কেন এই যুদ্ধে? এই যুদ্ধ কার? একটু প্রেক্ষিত নিয়ে চিন্তা করুন। ভাবুন, এই ভাইরাস কি বাস্তব কোন জিনিস, না এটা বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি কৌশল, পরিকল্পনা?
এবারে আসুন এই ভাইরাসের অঙ্গন ও উপমায়। এখানে একটি বস্তুর আলোকে অন্য একটি বস্তু বিবেচিত হচ্ছে, এবং এতে ভাষার এক বিশেষ ‘ব্যবহারিক’ রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। এই ধারায় ধর্মকে সংযুক্ত করে আলোচনায় নামলে (অথবা ধর্মীয় অঙ্গন এক পাশে রাখে অন্য অঙ্গনে গেলেও) ভাষার প্রকৃতি আসবে, এবং দর্শন আসতে পারে। ব্যবহারিক মারপ্যাঁচের বিষয় আসবে বা আসতে পারে। ভাষিক ব্যবহার কীভাবে সত্য মিথ্যাকে (engage করতে বা) জড়াতে পারে, অথবা মিশ্রণের ‘ঘোলাট’ তৈরি করতে পারে –এমন বিষয়ও আসতে পারে। এখানে অনেক বিষয়ের সংযুক্তি রয়েছে। তাই প্রথমেই বলা যাক আপনি কি ভাষা দর্শন অধ্যয়ন করেছেন? যুক্তি ভাষায় কীভাবে কাজ করে সে বিষয় অধ্যয়ন করেছেন? উপমা কীভাবে যুক্তির মোড়কে স্থানচ্যুত করতে পারে, সেসব বিষয় ভালভাবে অবগত? তারপর, যে যুদ্ধে নেমেছেন সে যুদ্ধ কি ঐতিহাসিকতাশুন্য -এটা ভেবেছেন? ইতিহাস দর্শন সম্পর্কে জ্ঞাত? ‘বাস্তবতা’ ও ‘ইতিহাসের’ মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে জ্ঞাত? অতঃপর, ধর্মে ভাষা কীভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এখানে রূপকতা কীভাবে কাজ করে সে বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন? সূর্য আল্লাহকে কীভাবে সেজদা করে? কীভাবে আরশের নিচে যায়? আরশ কোথায়? এই আসমান আর জমিন কীভাবে আল্লাহকে সেজদা করে? কীভাবে ভূ ও নভোমণ্ডলে যা কিছু আছে -সবকিছু: সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু তাকে সেজদা করে (২২:১৮)? সেজদার অর্থ ও তাৎপর্য কি? ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করেছেন? ধর্ম ছাড়াও ভাষা কীভাবে বিভিন্ন অঙ্গনে কাজ করে, রূপায়িত হয় –তা জানেন? না, কোন বিদ্যালয় থেকে এক টুকরা ‘কাগজ’ হাতে পেয়ে সর্ববিদ্যায় “মহাপণ্ডিত” হয়ে গিয়েছেন? না, ঘটনা এমন যে কেউ বিজ্ঞানের নামে মাথা ধোলাই করে দিয়েছে, তাই দিশেহারা? আপনি কার যুদ্ধ করছেন?
সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে আপনার কীসের যুদ্ধ? যাদের সাথে আপনার যুদ্ধ হতে পারে, বিতর্কের কিছু থাকতে পারে, তাদের সাথে বিতর্ক করতে পেরেছেন, যুদ্ধ করতে পেরেছেন? আপনি কি লাদেনদের সাথে কখনো কথা বলতে পেরেছেন? আইসিসদের সাথে কথা বলতে পেরেছেন? বুকো-হারামের সাথে কথা বলেছেন? আপনি কি এসব আন্দোলনের রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক কারণসমূহ অধ্যয়ন করেছেন? আপনি কি ঐতিহাসিক যুদ্ধের এনালিটিক্যাল (বিশ্লেষণাত্মক) পর্যবেক্ষণের পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন?
আপনি কেন সাধারণ মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে নেমেছেন? আপনি কেন ক্রুসেডারদের প্রশ্ন ও বক্তব্য কপি-প্যাস্ট করে সাধারণ মুসলমানদের সাথে বিবাদ সৃষ্টি করছেন? সাধারণ মুসলিমরা কি এসব প্রশ্ন ও বক্তব্যের উত্তর দেবার উপযুক্ত লোক? কেন এই বিভ্রান্তির এজেন্সি আপনার হাতে? কোন ‘স্বার্থে’ এই যুদ্ধ: বৈশ্বিক সূত্রে, না বাক-স্বাধীনতার হেয়ালীপনায়? আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন যে যেসব বক্তব্য ও প্রশ্ন আপনি ফেরি করে বেড়াচ্ছেন সেগুলো অন্য উৎসে উৎসারিত, এবং অন্য উদ্দেশ্যে সজ্জিত? যুক্তি যুক্তি করে, কুযুক্তির মিথ্যাচারে সাধারণ মানুষের সমাজ বিপন্ন করার বিষয়টি কি চিন্তা করেছেন? এটি কার যুদ্ধ?
-দুই-
যুক্তি দর্শানো ছাড়া কি সত্যানুভূতি নেই?
মানুষের ধর্ম-কর্ম প্রধানত প্রায়োগিক (functional)। এটা জীবন পদ্ধতি-সদৃশ বা জীবন পদ্ধতি। যেমন, কোন পরিবেশে মানুষ চাষবাস করে। এখানে একজন দা, কুড়ল, খুন্তি, লাঙল, জোয়াল, মই ইত্যাদির ব্যবহার শিখে। কোন্ মাসে কী কাজ করতে হয় তা শিখে। ফসলের রোপণ, পরিচর্যা থেকে ফসল তোলার জ্ঞান লাভ করে, এতেই তার জীবন। কিন্তু এসব বিষয়ের ঐতিহাসিকতা কী, কোন্ হাতিয়ার কালের আবর্তনে কীভাবে পরিবর্তিত/পরিবর্ধিত হয়েছে, অথবা জাতীয় জীবনে তার পরিবারের অবস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় তারা কোন্ স্থানে আছেন অথবা কোন্ ধরণের ভূমিকা (role) পালন করেন; অথবা তাদের শ্রেণির জীবন যাপনের দার্শনিক দিক কী অথবা অন্যান্য সমাজ ব্যবস্থার সাথে তাদের তুলনীয় রূপ কী –এসব বিষয় সে সুন্দর করে, যৌক্তিক ভাষায় বুঝিয়ে দেবার জ্ঞান হয়ত রাখবে না। বিষয়টি এভাবেই। কেননা এসব বিদ্যায় সে বছরের পর বছর কাটিয়ে সেই “ভাষা” আত্মস্থ করেনি। কিন্তু আপনার ‘ভাষায়’ ও আপনার ‘যুক্তিতে’ তার কথা সাজিয়ে ‘পটর-পটর’ করতে পারে নি বলে তার আক্কেল বুদ্ধির কোন কমতি আছে –এমনটা কি ভাবা যাবে?
কোন ব্যক্তি যে কাজ করে, দর্শন, যুক্তিতে তার কাজের ব্যাখ্যা কীভাবে হবে তা নিয়ে এক ভিন্ন ধরণের “লটর-পটর” করার সংস্কৃতি প্রায় আড়াই শো বছরের মত লক্ষ্য করা যায়। এই সংস্কৃতিতে সব কিছু ভাষিক (rationalising) ব্যাখ্যায় তোলে ধরতে পারাটাই একটা বড় বিষয় হয়ে গিয়েছে। কোন এক মহিলা কেন বিবাহ ছাড়াই ১০ পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক রাখছেন, অথবা একজন পুরুষ বিবাহিত হয়েও পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত তা তারা সুন্দরভাবে সাইকো-সস্যিয়েল যুক্তিতে ও ভাষায় নৈপুণ্যের সাথে ব্যক্ত করতে পারাতে তাদের কথা শ্রবণ, বিবেচনা ও সভ্যতায় গ্রহণের শ্রেণী ও সংস্কৃতি সমাজে রূপলাভ করেছে। এখানে ইংরেজি প্রবচন gift of the gab বা ‘মুখের জোর’ অত্যন্ত মূল্যবান বস্তু হয়েছে।
-তিন-
সাধারণ মানুষের ধর্ম নির্মূল করে কার মূল্যবোধ ও বিশ্বাস চাপানো হবে?
আমাদের ধর্মের বিষয়টি হচ্ছে আমল-কেন্দ্রিক (তবে প্রশস্ত অর্থে সকল ধর্মেরই); এখানে যুক্তি, দর্শনে ধর্ম ব্যাখ্যায় পারদর্শী হওয়া জরুরি নয়। একজন আল্লাহতে বিশ্বাস করবে, পরকালে বিশ্বাস করবে, তার ভাল-মন্দ কাজের হিসাব নেয়া হবে –এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সে জীবন সাজাবে। এটাই হচ্ছে ধর্ম জীবনের মূল বস্তু। যৌক্তিকতায় কী দেখাতে পারল, বা কী পারল না, তাতে কিছুই যায় আসে না। প্রায়োগিক মূল্যই বড় মূল্য। এমনটাই বিশ্ব-মানবে স্থান কালের পরিক্রমায় পাওয়া যাবে –এটাই নানান ধর্ম ও সংস্কৃতিতে গড়ে-ওঠা এই মানবের এক বড় ঐতিহ্য। এতে কোন ভাইরাস নেই। এটা নিয়ে যুদ্ধেরও কিছু নেই, যদি না তাতে অর্থ-স্বার্থ ও আদর্শিক দ্বন্দ্ব থাকে। এখানে ভাইরাসের সংযুক্তি হবে “বিজ্ঞান মূর্খতা”।
আমাদের ধর্ম বিশ্বাসের মূল বস্তুর বর্ধিতরূপ আসে এভাবে: সে নামাজ পড়বে, রোজা রাখবে, জাকাত দেবে, হজ্জ করবে, হালাল রুজি করবে, দান-খয়রাত করবে, প্রয়োজনে অপরের সাহায্যে এগিয়ে যাবে, অপরের দোষ-ত্রুটি মার্জনার চোখে দেখবে, ছেলে-মেয়ে বড় হলে বিয়ে-শাদী দেবে, কেউ মারা গেলে দাফন-কাফন করবে। এসব কাজের আরও বিবরণ-বিস্তৃতি আছে। এসবের মধ্যে সে, তার পরিবার, তার সমাজ সবই পারস্পারিকতায় সংযুক্ত। এখানে উল্লেখিত ধর্ম-কর্মে বিশেষ জ্ঞান, বিশেষ জিজ্ঞাসা, বিশেষ নিয়ম-কানুনের সন্নিবেশও রয়েছে। কিন্তু সকলকে সেই জ্ঞান অর্জনের দরকার হয় না। ‘কিছু লোক’ সেই জ্ঞান অধ্যয়ন করলেই বাকিদের জন্য সেই প্রায়োগিক প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। এভাবেই কালীন প্রবাহে অনেক উত্তম প্রথা প্রবাহিত হয়।
-চার-
মুসলিম সমাজে মাদ্রাসার ঐতিহ্যগত প্রথা আসলে কি শিখায়?
বাংলাদেশের সাধারণ মাদ্রাসা শিক্ষার কার্যক্রম মূলত এই প্রায়োগিক বা functional বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাস কী; আমল আখলাকের বিবরণ কী; বাচ্চাদেরকে কী কী পড়ানো দরকার; পবিত্রতা কী; ইবাদত বন্দেগী কী এবং এতে কীরূপ পবিত্রতার প্রয়োজন, নামাজ কীভাবে পড়তে হয়; অজু কীভাবে করতে হয়; মসজিদে ইমামতি কীভাবে করতে হয়; বিয়ে কীভাবে পড়াতে হয় এবং কীভাবে তা কার্যকর হয়; বিয়ে যদি সমস্যাবহুল হয়, তবে তালাকের নিয়মকানুন কীভাবে কার্যকর হয়, এই ধারায় দৈনন্দিন জীবনে এবং যাবতীয় ক্ষেত্রে সকল হুকুম আহকাম পালনের প্রায়োগিক কাজ সমাধা করার উপযোগী লোক তৈরি করাই হয় এই ব্যবস্থার প্রধান কাজ। এখানে কাউকে তর্কবাগীশ বানানো হয় না। ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্র বিজ্ঞান ইত্যাদি পাঠ করে কোন আলোচনা যেসব শব্দ ও পরিভাষায় করা হয় তারা সেই ভাষা আত্মস্থ করে সেই ভঙ্গিতে বক্তব্য উপস্থাপনের স্কীল শিখে বের হন না। কারণ তাদের ধর্মীয় দৈনন্দিন জীবনের প্রায়োগিক উদ্দেশ্য ভিন্ন। কিন্তু এই ব্যবস্থা মানুষকে সৎলোক করে। সামাজিক ও পরকালমুখি করে। মানব উদ্দেশ্যকে ধারণ করে।
ধর্মহীনতা ও ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে দারুণভাবে অসৎ ও জবাবদিহীতামুক্ত করতে পারে। আজকের বাংলাদেশের বড় বড় চুরি, ডাকাতি, গুম-রাহাজানি, হত্যা-চাঁদাবাজি, জাতীয় সম্পদের হরিলুট: ব্যাঙ্কলুট, ভূমিদস্যিপনা, নারী-ব্যবসা এই ধর্মহীন সেক্যুলার শিক্ষার লোকজনই করে আসছে। ১৯৭১ সালের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন সেক্যুলার আদর্শে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী করেছে, (আপাতদৃষ্টে অনেকের মনে হতে পারে যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী 'ইসলামী' শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী ছিল -এই ধারণা ভুল। ওরা ছিল ঔপনিবেশ আমলের সেক্যুলার শিক্ষা ও আদর্শে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং পাকিস্তানও 'ইসলামী' দেশ ছিলনা), যেভাবে তা ইরাকে, আফগানিস্তানে, প্যালেস্টাইনে এবং অপরাপর ভূখণ্ডে করা হয়েছে। ইউরোপীয় মিলিটারি ইতিহাসে তা রোমান ও রোমান-পূর্ব এথেনিয়ান যুগ পর্যন্ত পাওয়া যাবে। একাত্তরের বাংলাদেশে তা মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা করে নি বরং গ্যাজেট-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্বপাকিস্তান সরকার সর্বসাধারণ থেকে যে রাজাকার বাহিনী তৈরি করেছিল (এখানেও আছে সেক্যুলার উপাদান) তাদের সহযোগিতায় ঐ সেনাগণ করেছে, এবং তারা (সেনারা) নিজেরাও সরাসরি করেছে কেননা তারা এই দেশের ভূ-পরিচিতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী ছিল। তারপর স্থানভেদে দেশের মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, পূর্ব-শত্রুতা, কলহ, হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিশোধ প্রবণতাও কাজ করেছিল। এসবের মধ্যে আবার যুদ্ধকালীন বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও যে ছিল না –তা নয়। পরবর্তীতে স্বার্থান্বেষী, আলট্রা-সেক্যুলার এবং নাস্তিকমহল চেতনা-ব্যবসার প্রোপাগান্ডা-কৌশলে হত্যা-ধর্ষণে আলেম সমাজের নাম জড়িয়েছে, এবং রেডিও, টিভি, গান, গল্প, নাটক, ছায়াছবি ইত্যাদিতে তাদেরকে কোণঠাসা করে সাধারণ মানুষের একাংশকে বিভ্রান্ত করেছে। এসবের পিছনে ছিল রাজনৈতিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্ব, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। ‘আদর্শ’ ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহের এক প্রধান ইন্টারপ্রিটার।
আজ ধনতান্ত্রিক বৈশ্বিক উদ্দেশ্য, ক্রুসেড ও যায়োনবাদী উদ্দেশ্য, ব্রাহ্মণ্যবাদী উদ্দেশ্য পারস্পারিক সংযুক্তি ও অধিক্রমণে এসেছে। আজ ইসলাম রাষ্ট্রশুন্য, কিন্তু চতুর্দিক থেকে ইসলামের উপর আক্রমণ আসছে। এই আক্রমণ নানান ধারায় হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে পেশিশক্তি, মিথ্যাচার, ইতরামি, মিডিয়া প্রোপাগান্ডা, রাষ্ট্রীয় আক্রমণ। বাংলাদেশে হাজার হাজার এনজিও কাজ করছে। অনেক লিস্টেড, অনেক আনলিস্টেড। সবার কাজ মানবতাবাদী হবে –এমনটি আশা করা যায় না। আবার যারা ‘বৈশ্বিক উদ্দেশে’ (new world order) সমাজ পরিবর্তনের কাজ করছেন এবং যারা বিদেশ থেকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়, ইরাকি এক্সপাট্রিয়টদের (expatriates) ন্যায়, সেই একই কাজ সেই সূত্রেই করছেন, তাদের নিজেদের দৃষ্টিতে নিজেদের কাজ ‘মানবতাবাদী’ হবে -সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্য দৃষ্টিতে তা বিদেশি আদর্শ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তের ষড়যন্ত্র। আজকের এই জটিল যুদ্ধ হচ্ছে নানান ভাঁওতাবাজিতে।
-পাঁচ-
ধনতান্ত্রিক নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থা ও নব্য ক্রুসেড
আজকের বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে ধনতান্ত্রিক আদর্শ। এখানে একটি পণ্য বিক্রি করতে কতভাবে অসমন্বিত বিষয়ের সমন্বয় হয়, অসম্পর্কিত দূরের বিষয়ের সাথে সম্পর্ক জুড়া হয়, কখনো মিথ্যাচারও হয়। আজকের কর্পোরেট শক্তি ক্ষেত্র বিশেষে রাষ্ট্রেরও ঊর্ধ্বে।
যায়োনবাদী কব্জার রাষ্ট্র, শিক্ষা ও আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে গোলামীর কারখানা। এর বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচিত হয়ে পড়েছে ইসলাম ধর্ম। এখানে সুদ হারাম। এটা এক বড় অন্তরায়। তাই মুসলিম বিশ্বের গ্রামে-গঞ্জেও সূদের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে, কেননা এরই মাধ্যমে ব্যক্তিকে গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করা যায়। ইসলাম আপাত সুখের ইউরোপীয় হেডোনিক (hedonic) প্রলোভন ও চাকচিক্যের জীবন পদ্ধতির বিপক্ষে। এই বস্তু ফেলে দিয়ে ঐ বস্তু কেনা, অযথা খরচ করা, অযথা অব্যবহারিক বস্তুতে ঘর ভরা –এসবের বিপক্ষে। জুয়া, জুয়া-ব্যবসার বিপক্ষে, ক্যাসিনোর বিপক্ষে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিপক্ষে; বিবাহিত ও অবিবাহিত নারী-পুরুষের স্বতঃপ্রবৃত্ত অবৈধ যৌন সংগম (sexual relations between consenting adults) তথা যিনা-ব্যভিচারের বিপক্ষে, মদের বিপক্ষে, মাদকের বিপক্ষে, সার্বিকভাবে ইসরাফের (অপচয়ের) বিপক্ষে। বস্তুর প্রতি অত্যধিক আকৃষ্টির বিপক্ষে যা স্থানভেদে পৌত্তলিকতায় পৌঁছে। ধনতান্ত্রিক আদর্শের অনেক বাণিজ্যের রকমারি হের-ফেরে বেচা-কেনার বিপক্ষে। অতঃপর নানান প্রক্রিয়ার ধানাই আর পানাই, যেখানে যুক্তি নাই সেখানে যুক্তির অবতারণা, যেখানে মানুষের পরাধীনতা সেখানে স্বাধীনতার ধোঁয়া তোলা ইত্যাদির বিপক্ষে।
ইসলাম ‘আধুনিক ম্যাজিকের’ মুখোশ উন্মোচক। তাই ধনতান্ত্রিক যায়োনবাদী বিশ্ব-ব্যবস্থা ইসলামের নখ-দাঁত উপড়ে ফেলতে চায়, সমূলে নির্মূল করতে চায়, অথবা খৃষ্টিয়ানিটির মত ‘আছে-আছে, নাই-নাই’ করে রাখতে চায়। এইসব কাজের জন্য দেশি দালালের দরকার। নারিকেলের দরকার (brown outside, white inside)। চঞ্চল-প্রকৃতিস্থ, বেপরোয়া, উচ্চাভিলাষী, ধনাঢ্যে প্রতিষ্ঠিতার স্বপ্ন বিলাসী লোকের দরকার যাদের মাধ্যমে ইসলামকে নানান নেতিবাচক ‘সমন্বয়ের প্রলেপের’ কাজ করানো যায়। এবারে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ আর আমেরিকান বিলবোর্ডের ইসলাম বিদ্বেষী মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপনী বাস্তবতা চিন্তা করুন। এক চিন্তার সাথে অন্যের মিতালি কীভাবে রূপলাভ করতে পারে তা নিয়ে চিন্তা করলে অন্তর্দৃষ্টিতে অনেক বিষয় এসে ধরা দিতে পারে।
ধনতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা এবং এর শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যক্তিকে এমন মানসিকতায় গড়ে যাতে সে সহজে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার মর্ম ভেদ করে দাঁড়াতে না পারে। তাকে চতুর্দিক থেকে বেষ্টন করা হয়। ব্যক্তি যখন £২০০,০০০ পাউন্ড সুদে ঘর কিনে তখন তার জীবন সুদীদের হাতে জমা দিয়ে আসে, এটা না করেও তার উপায় নেই, কেননা আর্থ-সামাজিক অবস্থা ধীরে ধীরে এই সীমায় সাজিয়ে আনা হয়েছে। তারপর তার রাতদিন পাত হয় এই ঋণ আদায়ে। অন্য কোন চিন্তার সময় থাকে না। সুদী জনগোষ্ঠী কখনও বিপ্লবী চিন্তায় যেতে পারে না। এই কথাটি বুঝা অত্যন্ত জরুরি। সে তো এক সপ্তাই কাজ ছাড়া চলতে পারবে না। মাসের কিস্তি আদায় না হলে বিপদ! এরই সাথে তার মন মগজ ঘুলানো থাকে বিলাসী পণ্যের ছোট বড় অনেক ঋণে। তার ঘরে অনেক আসবাবপত্র, বিলাসী উপকরণ -যেগুলোর এক দশমাংশও হয়ত সে রীতিমত ব্যবহার করে না। কিন্তু এগুলো তার থাকা চাই। এর পক্ষে তার ‘পর্যাপ্ত’ যুক্তি ও ভাষা আছে। কিন্তু এসবের পিছনেই যে তার জীবন নিঃশেষ হচ্ছে –সেটা চিন্তা করার সময় নেই, সেই প্রজ্ঞাও নেই। ধনতান্ত্রিক সেক্যুলার শিক্ষা তাকে অন্য মানসিকতায় গড়েছে। সে যে ক্ষেত্র বিশেষে, ক্লাসিক্যাল যুগের ‘কেনা-গোলামের’ চেয়েও অধম, সেই দৃষ্টিও হারিয়েছে। কিন্তু ‘চটর-পটরের যুক্তিতে’ মাথা ভরে আছে। সে অনর্গল বলতে পারে। তার অশান্তিতেও ‘সুখের’ ভাণ করতে পারে। এই হচ্ছে ধনতান্ত্রিক ‘সভ্যতা’ ও ‘স্বাধীনতা’ এর প্রধান রূপ। এর জন্যই যুদ্ধ। এর জন্য কত লাখ মারা গেল, সেটা কোন কথাই নয়। টিভি ক্যামেরা সেদিকে যাবে না। মোল্লার ‘অসভ্য’ দাড়ি আর সপ্তম শতকের ‘অসভ্য’ আবরণে বেষ্টিত নারীর দিকেই যাবে।
এই দাসত্ব থেকে মুক্তি কোথায়? এই মুক্তি রয়েছে ইসলামের বিশ্বাস ও চিন্তা চেতনায়। ইসলাম মানুষকে সপ্তম শতকেও বের করে এনেছিল: সুদী সমাজ ব্যবস্থার ইন্দ্রজাল থেকে মুক্ত করেছিল। তাই, বস্তুবাদী জাহেলী প্রথা ও সুদী ব্যবসায়ী ইয়াদীচক্র এটাকে গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিল। আজকের যায়োনবাদী ব্যবস্থা ও আদর্শ সেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলাম-নির্মূলে বিপুল অর্থ নিয়োগ করছে; চক্রান্ত করছে; ইসলামের বিপক্ষে ‘বিউটি পার্লারের’ কাজ করিয়ে নিচ্ছে। কর্পোরেট ব্যবস্থায় বিজ্ঞাপন অঙ্গনে পণ্যকে যেভাবে অসাধু সংশ্লিষ্টতার সমন্বয়ে আনে এবং তাতে যে মনস্তাত্ত্বিক রূপ দান করে সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই ইসলামকে নানান নেতিবাচক ধারণার সংশ্লিষ্টতায় আনছে। ইতিহাসের দুর্বল বর্ণনা কেয়াফুলি সেলেক্ট করে এনে, তিলকে তাল করে, কোরান হাদিসের বাণী কোথাও বিকৃত করে, কোথাও প্রসঙ্গ কেটে মিথ্যা সংশ্লিষ্টতায় জুড়ে, কখনো বক্তব্যের খণ্ড চিত্র তৈরি করে ইসলামের নামে এক “সমন্বয় প্রলেপ” তৈরি করছে, এবং এর পিছনে এক বিরাট জনগোষ্ঠীর নিয়োগ দিয়েছে। এরা মিডিয়া থেকে কালচার ইন্ডাস্ট্রি পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত।
ইসলামের প্রথম শতাব্দী থেকে যেসব দেশের লোকজন ইসলামের ছায়াতলে এসেছিল, এবং এতে যেসব শাসক গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা গুটিয়ে নিতে হয়েছিল তাদের উত্তরসূরিরা তা এখনো ভুলতে পারে নি। সেই যুদ্ধ তারা নানান সময়, নানানভাবে জারি রেখেছে। ধারাবাহিকতায় ক্রুসেডের হাজার বছরের যুদ্ধ হচ্ছে অন্যতম। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এই যুদ্ধে যাদের কমন উদ্দেশ্য রয়েছে তারা হচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষী ব্রাহ্মণ্য ও হিন্দু-চক্র এবং ইসলাম বিদ্বেষী মিলিটেন্ট নাস্তিক মহল, (আমার বক্তব্য যে specific আকারে ব্যক্ত করছি, সে আকারেই বুঝতে হবে, এটাকে generalise করা যাবে না)। বিভিন্ন ভাঁওতাবাজিতে তারা ইউরোপীয় ক্রুসেডের সাথে একাত্ম হয়ে এই যুদ্ধ করছে। আজকের মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনষ্ক, বিশ্বাসের ভাইরাস ইত্যাদির অন্তরালেই চলছে নব্য ক্রুসেডের যুদ্ধ; বিশেষভাবে, ৯/১১ এর উদ্দেশ্য ঘিরে।
___________
এই ধারায় আমার আরও কয়েকটি লেখা আছে পড়ে দেখতে পারেন।
(১) মুক্তমনা ও নাস্তিক মিলিট্যান্সি
(২) কলমের ভাঁওতাবাজিতে সামাজিক বিপর্যয়
(৪) আপনি কি সত্যিই শান্তি চান ও নিজেকে বিজ্ঞানমনষ্ক ভাবেন?
(৫) ‘কুসংস্কারের’ গর্তে নাস্তিকের শেষকৃত্য -বিনোদন
(৬) সশস্ত্র নাস্তিকের হাতে ৩ জন নিরীহ মুসলিম খুন
(৯) আধুনিক সমাজের শান্তি -না বিশ্বাসে, না অবিশ্বাসে
(১০) আত্মহত্যা ও বিশ্বাস
(১১) আলো-আঁধারের খেলা
(১২) ক্রুসেডের যুদ্ধ
নোট: এই লেখায় 'বিশ্বাসের ভাইরাস' নামক একটি বিষয়ের উল্লেখ এসেছে কিন্তু ব্যাখ্যা আসে নি। তাই বিষয়টি বুঝতে এস. এম. রায়হানের “ইসলামকে ভাইরাস প্রমাণ করার জন্য অভিজিৎ রায়ের আর কতগুলো সন্ত্রাসী হামলা দরকার?” –এই লেখাটি পড়ে নিতে পারেন।

শাহবাজ নজরুল
নভেম্বর ৬, ২০১৫ at ৮:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এইটি একখানি অসাধারণ লেখা। আহমেদ ভাই আপনার লেখাগুলো পড়ে এমন পরিপূর্ণতা পাই -- ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। এখানে আপনি অন্তরবীক্ষণ-এ নেমেছেন বিজ্ঞানমনষ্ক মুক্তমনাদের চিন্তাধারার গভীরতা ও কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনায়। লেখাটির ক্রমবিকাশ অসাধারণ! যুক্তি অকাট্য। কিন্তু কথা হচ্ছে 'মুক্তমনের' অধিকারীরা কি আসলেই নিজেদের আচরণের যৌক্তিক ব্যবচ্ছেদে নামেন? মনে হয় না। তাই সেই চর্বিত জিনিষই চর্বন করে যান তারা -- আর ভাবেন বিশ্বাসীরা এমন মূর্খ হয় কি'করে?
এম_আহমদ
নভেম্বর ৭, ২০১৫ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শাহবাজ ভাই, সালাম। লেখাটি ভাল লেগেছে শুনে খুশি হলাম। যে কোনো লেখক একটি লেখা তৈরি করতে অনেক সময় লাগে, সে তার মনের কথাগুলো ভাষার বাহনে যেভাবে অন্যদের কাছে পৌঁছাতে চায়, সেগুলো পর্যাপ্তভাবে গেল, কী গেল না, তা সে নিজেই সঠিকভাবে নির্ধারণ করার উপায় রাখে না, সমঝদার কেউ বললে, কাজটি সফল হয়েছে মনে হয়। আপনার feedback -এর জন্য অনেক ধন্যবাদ।
তথাকথিত মুক্তমনাদের ব্যাপারটি হচ্ছে এই যে তাদের নিজেদের কোন ধারণাকে তারা খুব কমই প্রশ্নবিদ্ধ করে চিন্তা করেন, সন্দেহের চোখে বিশ্লেষণ করেন। যদিও এই কাজই তাদের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু এই কাজ যে অনেক ধরণের স্কীল ও অভিজ্ঞতা আহবান করে তা তারা বুঝেন বলে তাদের কথাবার্তায় ধরা পড়ে না। তাদের আচরণ হচ্ছে ১০ ধর্মের আরেকটি ধর্মের মত। কোন্ ধরণের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনায় গেলে নাস্তিকতার আলোচনা তার নির্দিষ্ট স্থানে থাকবে –এই বিষয়টিও তাদের সমঝে আছে বলে দেখা যায় না। তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে তারা পৌত্তলিক, খৃষ্টিয়ান ও ইয়াহুদী ধর্মের একটি পক্ষ হয়ে পড়েছেন! তাদের নিজেদের মধ্যে নাস্তিকতা নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনাই হচ্ছে না। তারা ধর্ম বিরোধিতায় আটকা পড়ে গেছেন। লাগে যেন এটাই তাদের নাস্তিকতা! আমি তো নাস্তিকতা তাদের এই ‘কেউ কেউ’ ‘ঘেউ ঘেউ’ থেকে অনেক দূরের বিষয় হিসেবে দেখি। আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই যে তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার দ্বিমতকে fraternity –এর আবেগে repress করতে চায়। ভাষার চোখ রাঙিয়ে লাইনে আনতে চায়। এটা কি মুক্তচিন্তা? আসলে মুক্তমনা ধারণাটিই fake. যাক, ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
মহিউদ্দিন
নভেম্বর ৭, ২০১৫ at ৭:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাও কিন্তু নাস্তিক মিলিটেন্সিকে বাড়িয়ে দিয়েছে তা স্বীকার করতেই হবে। ইসলাম বিদ্বেষী লাইফ স্টাইল এখন দেশের ইলিট সমাজের কাছে সমাদৃত। এখানে নৈতিকতা ছেড়ে ধূর্ততাকে বুদ্ধিমানের কাজ বলা হয়। কাকে কে হত্যা করছে কেন হত্যা করছে -- এসব চিন্তার কারো কোন গরজ নাই! এখানে আর্থিক স্বার্থটাই বড় করে দেখা হয়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য কি ভাল, কি মন্দ তা বিবেচনার সময় নাই।
এখন এই জীবন দর্শনের পরিবর্তে একটি পুরাপুরি নাস্তিক সমাজ না হলেও ধর্মের প্রতি সম্পূর্ণ অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞাপূর্ণ একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারলে কে লাভবান হবে? অবশ্যই যারা এদেশকে একটি তাবেদার ও করদ রাজ্যে রূপান্তরিত করে রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করতে ও আর্থিক স্বার্থ সিদ্ধি করতে চায় তারাই লাভবান হবে। কথা হচ্ছে সমস্যার অন্ত নাই এবং কি হচ্ছে কম বেশী অনেকেই বুঝতে পারছেন। আমি হতাশার ছবি আঁকতে চাইনা তবে বাংলাদেশে আগামী কয়েক দশকে দেশের বৃহত্তর মানুষের মনের ইচ্ছা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিফলন হবে না এটা জেনে রাখেন। কারণ দেশের ইলিট সমাজের কোন নৈতিক আদর্শ নাই। দেশ প্রেম, দেশের স্বার্থ এবং আত্মসম্মানবোধ কোনোটাই নাই তাদের মাঝে। তবে এ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় সে বিষয়ে এখন বেশী বেশী চিন্তা ভাবনা করতে হবে। তথাকথিত সেক্যুলার ও অসাম্প্রদায়িকতার সমাজ গড়ার আড়ালে বাংলাদেশে ইসলামের আদর্শকে মুছে ফেলার যে ষড়যন্ত্র চলছে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য তা বুঝতে হবে এবং এদেরকে রুখতে হলে কি করতে হবে? সে প্রশ্নের উত্তর বাহির করাই হচ্ছে বড় কাজ। আপনাদের লেখালেখিতে এসব বিষয়ে নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করাটাই হচ্ছে এখন সবচেয়ে জরুরী।
এ প্রসঙ্গে তুরস্কের কথা মনে পড়ে। কট্টর সেক্যুলার কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের জনগণের ধর্ম পালনের অধিকার কেড়ে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামী ঐতিহ্য ও চেতনা মুছে ফেলেছিল। কামাল আতাতুর্কও তুরস্কের ইলিট সমাজকে, সে দেশের সেনাবাহিনীকে ইসলাম বিদ্বেষী মিলিটেন্ট হিসাবে তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত তা ঠিকে নাই। তুরস্কের জনগণ আজ তাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা কিভাবে করা যায় বুঝতে সক্ষম।
নভেম্বর ৮, ২০১৫ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই সালাম। আপনার মন্তব্য বেশ কয়েকটি জরুরি প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। আমি এগুলোর সারসংক্ষেপ এভাবেই করেছি:
(ক) আপনার প্রথম লেভেলের কথাগুলোর সাথে এক মত। তবে বাংলাদেশ যে ভারতের কব্জায় চলে গিয়েছে এই বাস্তবতা তাবেদার/করদরাজ্য বা অন্য যেকোনো শব্দেই আখ্যায়িত করা হোক না –এত্থেকে বেরিয়ে আসার আপাতত কোন পথ আছে বলে আমার মনে হয় না। এখন এবং আগামীতে যারা এসেই সরকার গঠন করবে তারা বরং ভারতে্রই ‘কৌশল’ ও কব্জার অন্তরাল থেকেই করতে হবে। বিষয়টি কখনো বুঝা যাবে, কখনো বুঝা যাবে না। This is the nature of it and we are in a long tunnel. জামাত/শিবির, হেফাজত, পাকিস্তান, একাত্তর, ৩০ লাখ, ৫ লাখ (এটা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ, তারপর আড়াই লাখ, এখন পাঁচ লাখ!) এই সব গান-গল্পের কাহিনী সম্বলিত জাতীয়তার রেকর্ড বাজতে থাকবে এবং এতে করেই এক যুদ্ধংদেহি পরিবেশ সৃষ্টি হতে থাকবে -এটা ভারতী কব্জার জন্য প্রয়োজন, ডাকু ও মাফিয়া শ্রেণির অবস্থান টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতবাহী জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রয়োজন, মিথ্যাচারের প্রয়োজন, ‘দুশমন’ থাকার প্রয়োজন। আয়োজনের অংশ হিসেবে একদল দাড়ি-টুপীওয়াদের, কিছু ইসলামওয়ালাদেরও প্রয়োজন। এরা কখনও এই সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন দুর্নীতির বিপক্ষে কথা বলবে না, জাতীয় সম্পদের হরিলুটের বিপক্ষে কথা বলবে না, সমাজে যে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন চলছে -এসবের বিপক্ষে বলবে না, হত্যার বিপক্ষে বলবে না, ক্রস-ফায়ারের বিপক্ষে বলবে না, নারী ব্যবসার বিপক্ষে বলবে না। তবে কোথাও যদি এই সরকারের বিপক্ষের দলগুলোর সাথে কোনো কিছু সূত্রায়িত করে বলার পায়, তবেই তা করবে! নতুবা সেই ‘রেকর্ডের’ অবিকল গান নিজের করে গাইবে! এই মানসিক ধাঁচ কখনো ভাঙ্গবে বলে মনে হয় না। এজন্য it's a long tunnel.
(খ) তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাস্তিক মিলিটেন্সিকে বৃদ্ধি করলেও এটা দৃশ্যত ‘কুরাজনীতি’ ও মাফিয়াতান্ত্রিক রাজনীতির প্রেক্ষিতেই হচ্ছে। এর বেনিফিসারি কিন্তু ঐ রাজনীতিই। মুক্তমনাদের ব্যাপারটি হয়ত এভাবেও বলা যায় যে তারা দুই দিক থেকেই প্যারালীতে। তাদের কেউ মরলেই তারা ‘জামাতি, শিবির, হেফাজতি, জঙ্গি’ ইত্যাদি আওয়াজ তুলতেই হবে। কেননা এই আওয়াজ না তুললে তাদের বিদেশি স্পনসররা (sponsors) খুশি হবে না। আবার এই চিৎকার করাতে দেশি রাজনৈতিক পক্ষগুলোও খুশি। তারাও চায় এইভাবে আওয়াজ উঠুক। এতে প্রত্যেক পক্ষ তাদের আপন আপন ‘প্রোপাগান্ডা-বেনিফিট’ লুঠে নেয়। আবার মুক্তমনারা যখন, আগে-বাগেই, তদন্তের জন্যে একটি বিশেষ পক্ষের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে এবং নিজেরাই চায় যে তদন্ত ঐ দিকেই ছুটুক, তখন তদন্তকারীরাও পরে বলতে পারে, ‘আমরা তো তোমাদের সাসপেক্টই খুঁজছিলাম। কাউকে এখনো পাই নি, চেঁচাচ্ছ কেন?’ কতই না ভাল হত যদি তারা কোন মহলের ‘রাজনৈতিক’ প্রোপাগান্ডা না করে কেবল ‘বিচারের’ আওয়াজ তুলত। চিন্তা করুন, কোনো এক ক্রিমিনেল পক্ষ যদি আগ থেকেই নিশ্চিত থাকে যে কোনো দুষ্কর্ম ঘটে গেলে, অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের উপর দোষ অমনিতেই চলে যাবে তখন এমন পরিস্থিতি তো খুবই সঙ্গিন। এই পরিস্থতিতির জন্য মুক্তমনারাই সবচেয়ে বেশি দায়ী।
আরেকটি কথা। এই তথাকথিত মুক্তমনাগুলো কেবল তাদের লোকদের নিয়েই ব্যস্ত। কখনো সার্বিক অন্যায়ে বিপক্ষে কথা বলতে দেখবেন না। মনে করুন জামাত, হেফাজত, শিবির, অপরাপর ইসলামী দল –এসবের অসংখ্য লোক যখন মরল, বা মারা হল, তখন তারা কখনো বিচারের কথা বলেনি, মানবতার প্রতি সামান্যতম দরদ দেখায় নি। এরা ফ্যাসিস্ট। উল্লেখিত মুসলিম সম্প্রদায়গুলোকে কেউ যেকোনভাবে নির্যাতন, খুন, গুম ইত্যাদি দেদারসে করলেও এদেরকে মুখ খুলতে দেখবেন না। আমরা তো তাদের একটি মরলেও 'ন্যায় বিচারের' আওয়াজ তুলি। কারণ আমরা সুবিচারের পক্ষের লোক –সকলের অধিকারে বিশ্বাসী, আস্তিক হোক অথবা নাস্তিক। আমরা চাই বৈষম্যহীন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।
(গ) দ্বিতীয় লেভেলের কথাও ঠিক, তবে মূল অবস্থার কতটুকু হবে –এব্যাপারে আমি সন্দিহান। কারণ ভৌগলিক দিক দিয়ে এবং বাংলাদেশের মুসলিম জনসংখ্যার দিক দিয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও যায়োনবাদী রাজনীতির দৃষ্টিসীমার একটি দেশ। আন্তর্জাতিক অবস্থার পরিবর্তন না হলে আপাতত এই কব্জা থেকে বের হওয়ার উপায় খুবই কম মনে হয়। তাছাড়া রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল কব্জায় এখন ভারতপন্থিরাই আসন গেড়ে আছে বলেই অভিজ্ঞ মহল বলে আসছেন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে তা যে পৌত্তলিকতার নাগপাশে ঘিরে গিয়েছে –তা স্পষ্টই দেখা যাবে। গল্প, নাটক, ছায়াছবি ইত্যাদির মাধ্যমে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে নব-প্রজন্মের মাথা ধোলাই দেয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে বাংলা থেকে আরবি শব্দ সরিয়ে তৎসম তদ্ভব শব্দে রূপান্তর হচ্ছে। আরবি নামের পরিবর্তে এককালে যা হিন্দু নাম বলে পরিচিত ছিল সেগুলো আসছে, ইংরেজি নামকরণ হচ্ছে। মুসলিম সমাজ যেসব কর্মকাণ্ডকে ইসলামী সংস্কৃতি মনে করত তা নব-প্রজন্মের মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে এবং আক্রমণমুখর করা হচ্ছে। আগের মুসলিম ড্রেস-কোটসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা যেহেতু ভাষিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্কিত, এই দিকটির ধাচ পরিবর্তন করা হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব থেকে আলাদা করে সেদিনের তুর্কীর পাশার দেশের মত করার জন্য। আব্দুল গাফফার চৌধুরীদের লেখায় কামাল পাশার মডেলই হচ্ছে তাদের “ইসলাম”। তারা ধাপ্পাবাজি করে ইসলামের মোকাবেলায় হাজার হাজার বছর আগের এক “কল্পিত” বাঙালী জাতীর আত্মগর্বের দেশ বানাতে চায় –মূলত তাদের কল্পিত ধারণার দেশ হচ্ছে “চার্বাকদের” ধারণার দেশ। জাতীয়তার নামে আজ দেশ নাস্তিকতা ও পৌত্তলিকতার খপ্পরে।
মহিউদ্দিন
নভেম্বর ১০, ২০১৫ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অবশ্যই দেখতে হবে। আগেই বলেছি তুরস্কের বৃহত্তর জনগণ আজ তাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা কিভাবে করা যায় তা বুঝতে সক্ষম। কট্টর সেক্যুলার কামাল আতাতুর্ক শাসনামলে তুরস্কের জনগণের ধর্ম পালনের অধিকার কেড়ে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামী ঐতিহ্য ও চেতনা বিমুখ যে সমাজ গড়ে উঠেছিল সেখানে রক্ষণশীল রাজনীতিতে ফিরে আসা সহজ কাছ ছিলনা। সে জন্য ইসলামী আদর্শের লোকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গঠন করা হয় Justice and Development Party (তুর্কি ভাষায় সংক্ষেপে একে পার্টি বলা হয়)।
তাই তো দেখা যায় গত ২০০২ সাল থেকে সে দেশে এ দল ক্ষমতায় এসে তারা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিতর দিয়েই তাদের কাজ করে যাচ্ছে এবং শত অপপ্রচারের মাধ্যমেও তারা এগিয়ে যাচ্ছে। তুরস্ক একটি ইউরোপিয়ান মুসলিম দেশ এবং তারা আধুনিকতা ও গণতন্ত্রের মাধ্যমেই তাদের লক্ষ্যে পৌছাতে যাচ্ছে এবং এ পর্যন্ত তারা সফলভাবেই চলছে।
কিছু দিন আগে আমার অফিসে আপাদমস্তক পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসারী এক পেশাদার তুর্কি মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তাঁর দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেব এরদোয়ানকে কেমন লাগে। উত্তরে তিনি জানালেন, তাকে তিনি মোটেই পছন্দ করেননা! কেন পছন্দ করেননা জিজ্ঞাসা করায় তার একমাত্র অভিযোগ, তিনি দেশকে ধার্মিকতার দিকে নিয়ে যেতে বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন! অর্থাৎ মহিলার অসন্তোষ, বিরক্তি, দুঃখ হচ্ছে এরদোয়ান তুরস্ককে ধর্মের দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এবার আরেক তুর্কির সাথে আলাপের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি যে মসজিদে নামাজ পড়ি সেখানে এ তুর্কি ভাইয়ের সাথে নিয়মিত ফজরের নামাজে দেখা হয়। ভদ্রলোক একজন পেশাদার ব্যবসায়ী -একটি ছোট কোম্পানির মালিক। তাকে দেখি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেব এরদোয়ানকে ভূয়সী প্রশংসা করতে। তাকে সেই মহিলার কথা বলতেই তিনি বললেন ওরা হচ্ছে কামাল আতা-তুর্কের অন্ধ ভক্ত ও ব্যক্তি পূজারী সেক্যুলার গুষ্টির অনুসারী। এরদোয়ানের সময় তুরস্কের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা অতীতের সকল রেকর্ডের ঊর্ধ্বে, এমন কি পূর্ব ইউরোপের সকল রাষ্ট্রের চেয়েও অনেক ভাল। আসলেই এরদোয়ান যেহেতু তার দেশকে ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে নিয়ে যেতে চান সেটা পশ্চিমারা মোটেই ভাল চোখে দেখে না। পশ্চিমা মিডিয়া সুযোগ পেলেই নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা করতে মাঝে মাঝে মাঠে নামে। চিন্তা করেন নবেম্বরে সেই দুই তারিখের নির্বাচনে যদি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের পার্টি হেরে যেত, তাহলে পুরা বিশ্বের মিডিয়া এক সাথে নেচে উঠত।
আমি বলছিনা যে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েব এরদোয়ান তার দেশকে একবারে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন এবং তার কোন ভুল ভ্রান্তি নাই বা হবে না । কথা হচ্ছে তুরস্কের মডেল নিয়ে অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্ররা অগ্রসর হতে পারে। একজন সফল নেতৃত্বের যে উদাহরণ তিনি রাখছেন তা থেকে অবশ্যই অনেকের শিখার আছে।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে রিসেপ তায়্যেব এরদোয়ান তুরস্কের কাসিমপাশা থেকে ইস্তাম্বুলে আসেন। সেখানে রাস্তায় বিক্রি করতেন লেবু, তিল ও ঝুটি। পরবর্তী সময় পড়ালেখা করেছেন ব্যবসায় প্রশাসনে। জড়িয়ে পড়েন ইসলামী দর্শনের রাজনৈতিক আন্দোলনে। ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। দেড় কোটি মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে তখন তিনি যানজট ও বায়ুদূষণ রোধ করে নগরের চেহারা পাল্টে দেন। ২০১২ সালে তুরস্কে গিয়েছিলাম। ইস্তাম্বুল শহরের রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা ও বাড়ী ঘর দেখে আমার কাছে কানাডা থেকেও সুন্দর লেগেছে।
তুরস্কে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে তিনি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে একটি ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তির কারণে চার বছরের জেল হয় তার! কবিতাটি ছিল- মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনার আমাদের বেয়নেট এবং বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক।
এরদোগানের দীর্ঘদিনের মিত্র আবদুল্লাহ গুল ও অন্যদের সঙ্গে মিলে ২০০১ সালে একেপি পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সাল থেকে এ দলটি প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে আসছে। জেল খাটার অতীত থাকায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি তিনি। পার্লামেন্টে নতুন আইন পাসের মাধ্যমে ২০০৩ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। গত বছর প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে তুরস্কের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। লম্বা স্লিম চেহারার মধ্যবয়স্ক এরদোগান রাজনীতিতে এক ভিন্নধর্মী ইমেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিন বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন কোনো মুসলিম দেশে প্রেসিডেন্সিয়াল সফরে গেলেন, তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতম পাঁচ মিত্র দেশের অন্যতম বলে উল্লেখ করলেন। এরদোগানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ঘোষণা দিলেন, একজন নেতা কীভাবে একইসঙ্গে ইসলামিক, গণতান্ত্রিক ও সহিষ্ণু হতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এরদোগান। রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলাম, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে সমন্বিত করে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি রোল মডেল সৃষ্টি করেছেন।
কট্টর সেক্যুলার কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের জনগণের ধর্ম পালনের অধিকার কেড়ে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামী ঐতিহ্য ও চেতনা মুছে ফেলেছিলেন। এরদোগান সেই ক্ষত সারিয়ে বলেছেন, ধর্ম পালনে কাউকে বাধ্য যেমন করবেন না, তেমনি ধর্ম পালনে কেউ যেন বাধা না দিতে পারে সে ব্যবস্থা তিনি করবেন। তার বিরোধীরা তাকে কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতালিপ্সার অভিযোগ দিলেও এবারের নির্বাচন দেখিয়ে দিল যে জনগণ এরদোগানের কর্তৃত্ববাদী শাসনই অনুমোদন করে এবং ভাল পায়।
আসলে তুরস্কের অবস্থা বিশেষ করে সে দেশের সেকুল্যারদের শক্তির মোকাবিলায় এরদোগান যে ভাবে কৌশল করে চলছেন তাকে আমি সাধুবাদ দেই। বাংলাদেশের সেক্যুলার আর তুরস্কের সেক্যুলারবাদীরা সমান নয়। কামাল আতা-তুর্ক যে অবস্থায় সে দেশের মানুষের বিশেষ করে ইলিটদের মাঝে ইসলাম বিমুখী মানসিকতায় গড়ে তুলেছে সেখানে ইসলামের পক্ষে রাজনীতি করা এত সহজ নয়।
এরদোগান একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান যে কিনা মিশরের নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান আল- সিসি ক্ষমতাচ্যুত করায় তার সামরিক শাসনের বিপক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং যতটুকু সম্ভব ব্রাদারহুডের লোকদেরকে সাহায্য করে যাচ্ছেন। এরদোগান একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান যে কিনা ইসরাইলের প্রকাশ্য সমালোচনা করার উদাহরণ রেখেছেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের পক্ষে শক্তিশালী ঐক্য গড়ার পক্ষে কথা বলেন ও হামাসের সাহায্য করেন। এরদোগান একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান যে কিনা রোহিঙ্গার নির্যাতিত মানুষের পাশে সশরীরে গিয়ে হাজির হয়েছেন তাদের সাহায্য করতে। এরদোগান একমাত্র মুসলিম নেতা যিনি মুসলিম বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের ব্যাপারে ভাবেন ও কাজ করতে চান। বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদেরকে হত্যা করা বন্ধ করতে বার্তা পাঠিয়েছেন সরকারকে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের গত সাধারণ পরিষদের সভায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট মিশরের প্রেসিডেন্ট ও অভ্যুত্থানের নেতা আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসি সঙ্গে একই টেবিলে একটি বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করেন । সম্প্রতি একটি তুর্কি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ইসলামী বছর উদযাপনের এক সভায় তিনি পশ্চিম মিডিয়ার দ্বিমুখী নীতির কড়া সমালোচনা করেন। কি দরকার ছিল তাঁর এসব করার।
এরদোগান ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। ইউরোপিয়ান দেশ হিসাবে তুরস্কের অধিকাংশ মানুষ তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য ন্যাটোতে থাকতে চায়। তুরস্ককে ভাঙ্গার জন্য পিকেকে নামে কুর্দিস সন্ত্রাসী যাদেরকে যায়োনিস্ট ও পশ্চিমা শক্তি সমর্থন করে যাচ্ছে এরদোগানকে সে সমস্যারও মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তুরস্কে একমাত্র রাষ্ট্র যে দেশ প্রায় ২ মিলিয়নের অধিক সংখ্যক সিরিয়ার রিফিউজিকে তাদের মাটিতে আশ্রয় দিয়েছে। (সুত্র: বিবিসি, নয়া দিগন্ত, যুগান্তর)
অতএব তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীন জাস্টিজ এন্ড ডেভলাপমেন্ট পার্টির রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে বাংলাদেশের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদের শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু আছে বলে মনে করি।
কিংশুক
নভেম্বর ১০, ২০১৫ at ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বর্তমান যুগের সেকুলার, জায়নবাদী,খ্রিষ্টবাদী, হিন্দুত্ববাদী দের ইসলামিকরনের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে হলে কৌশলী হতে হবে। মিশরের মুরসি কৌশলে ভুল করায় ধরা খেয়েছেন। উনি এত জ্ঞানী অধ্যাপক হয়েও এত তাড়াতাড়ি সেকুলার সংবিধান পরিবর্তন করতে গিয়ে সেকুলার দের আন্দোলনের মুখে পড়ে দেশী বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে ধরা খান। আসলে সেকুলার দের সমর্থনও তো কম না। শিক্ষা ব্যবস্থা কম্যুনিজম, মিডিয়া, জাতিয়তাবাদ সবাই মিলে সেক্যুলারদের জনসমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছে। তাহলে এখন কি আল কায়েদা বো কো হারাম আইসিস হয়ে বোমা মারলে কোন লাভ হলে? হবেনা। এজন্য দলের গঠনতন্ত্রে আল্লাহর আইন প্রদর্শনীর দরকার নাই। সাধারণ গণতান্ত্রিক দল হিসাবে পরিচিতি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল জনকল্যাণ মুখী সব প্রতিষ্ঠান এ কাজ করতে করতে লাখ লাখ ইসলামিক ক্যাডার তৈরী করতে হবে যাঁরা এক সময় প্রশাসন আর্মি পুলিশ সব জায়গায় ঢুকে সেকুলারদের প্রতিযোগি হতে পারবে। নির্বাচনেও জণকল্যানমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসন নিতে হবে। কখনো নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলেও তাড়াহুড়ো করে কিছু করা যাবেনা। সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে তবেই ইসলামি আইনের কথা তোলা যাবে। এভাবেই সেকুলার ইন্দোনেশিয়া মালেশিয়া নাইজেরিয়াতে অনেক জায়গায় গণতান্ত্রিক ভাবে ইসলামি আইন বাস্তবায়ন করা গেছে । বো কো হারাম মার্কা খারেজি জংগিদেরকে জায়োনিষ্ট মিশনারী কম্যুনিষ্টরা ব্যবহার করে ইসলামি গণতান্ত্রিক দলগুলোকে ঠেকানোর জন্য ।
কিংশুক
নভেম্বর ৮, ২০১৫ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বর্তমানের অনেক তরুণ বুঝতেই চায়না যে 1905 সালে ব্রিটিশ রাজ যখন বংগভংগের মাধ্যমে অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া মুসলিম প্রধান পূর্ব বাংলাকে (বাংলা বিহার) আলাদা প্রদেশ করতে চেয়েছিল পূর্ববাংলার উন্নতির ও শাসনের সুবিধার্থে্ । কিন্তু অবিভক্ত বাংলার সংখ্যালঘু হ িন্দুরাই ছিল বেশীরভাগ জ মিদার, শাসক, অভিজাত, ভদ্রলোক । জমিদারি, বড় বড় ব্যবসা বাণিজ্য সব হিন্দুদের হাতে ছিল। পূর্ব বাংলার মুসলমানরা পড়ালেখা শিখলে, চাকরী-ব্যবসা বাণিজ্য করবে, হিন্দু দের কাছে মাথা নত করে থাকবে না এ আশংকায় তারা বংগভংগ যাতে না হতে পারে তার জন্য অহিংস সহিংস সসস্ত্র রাজনৈতিক প্রাণপাত করেছিল কিন্তু ঢাল হিসাবে বাংলা মা কে দুই টুকরা মলিন করা হবে বলে নাকি কান্না দেখিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ছিল তখনকার ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার রাজধানী । কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ অর্থবিত্ত অবকাঠামো শিক্ষার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে থাকায় বাংগালী হিন্দু গুলা নিজেদেরকে ইংরেজের পরেই মহাপ্রভু সাজিয়ে মুসলমানকে ঘর ওয়াপসি না হলেও 3 শ্রেণীর নাগরিক বানিয়ে ইংরেজ পরবর্তী স্বশাসনের যুগে বহু কিছু করার স্বপ্ন দেখতো। বাংলা ইংরেজদের আগেও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আর হিন্দুরা চরম হিংসুক অসভ্য মানসিকতার ছিল। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ভারত বিভাগের সময় পূর্ব ও পশ্চিম বাংলাকে এক করে অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গড়ার প্রস্তাব দেয় তখন হিন্দু মহাসভার (বিজেপির আব্বা) সাভারকর এই বলে মহা বিরোধিতা শুরু করে যে, মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলায় হিন্দুরা মাথা নত করে থাকতে পারবেনা তাদেরকে হিন্দু ভারতে যোগ দিতেই হবে(প্রকৃতপক্ষে কলকাতার কলকারখানা অবকাঠামো মুসলমানদের হাতে যাক তা চায়নি)। জিন্নাহ সাহেবও সোহরাওয়ার্দীর এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন।1947 এ বাংলাদেশ সকল প্রকার ভোটে পাকিস্তানে যোগ দেয়। এজন্য আমাদের দাদা পর দাদা দের কে বা মুসলিম লীগকে দোষ দেওয়া যায়না। মুসলমানদের অধিকার রক্ষা, উন্নতির জন্য উনারা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। এজন্যই আজ স্বাধীন বাংলাদেশ হতে পেরেছে। যে বাংগালী হিন্দুরা সম্পূর্ণ ভারত বর্ষের সেরা জাতি হবার সুখ স্বপ্ন দেখতো, যাঁরা বাংগালী মুসলমানদের চাইতে অনেক এগিয়ে ছিল আজ তারা কোন দিক দিয়েই বাংলাদেশের চাইতে এগিয়ে নাই। ভারতের জাতীয়তাবাদীরা মনে করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়ে টিকতে না পেরে স্বেচ্ছায় ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিলে নাহ য় করদ রাজ্য হয়ে থাকবে। জাতীয়তাবাদী ভারত যেমন পাকিস্তানের ধ্বংস চায় তেমনি বাংলাদেশের সাথে সমগ্র মুসলমানের ধ্বংস চায়। বাংলাদেশের সকল জাতীয়তাবাদী শক্তি বিশেষ করে বীর উত্তম মেজর জলিল কে লাখো সালাম যে উ নারা আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে পেরেছেন ।
এম_আহমদ
নভেম্বর ৮, ২০১৫ at ৬:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই বঙ্গভঙ্গ রদ করতেই রবীন্দ্রনাথসহ অপরাপর ব্রাহ্মণ ও হিন্দুগণ এক চরম আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৯১১ সালে ইংরেজ সরকার তা রদ করতে বাধ্য হয়। ১৯০৬ সালে রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ –এই রবীন্দ্র-কান্নাখানি বঙ্গভঙ্গ-রদের উদ্দেশ্যেই ছিল কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে দুই বঙ্গ একত্রিত হওয়ার কান্না কীভাবে জাতীয় সঙ্গীত হয়ে পড়ল? এদেশের অনেক কিছু অত্যন্ত বিস্ময়কর। একটি আবেগ-আপ্লুত জনগোষ্ঠীর বিবেকবুদ্ধিকে কীভাবে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এর গভীরতা দেখতে কেউ বাঙালী মুসলমানদের ‘ইতিহাস’ পাঠ করতে পারে।
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মন্তব্য করছেন। ধন্যবাদ।
এম_আহমদ
নভেম্বর ৮, ২০১৫ at ২:৪১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নোট: আমার এই লেখায় 'বিশ্বাসের ভাইরাস' নামক একটি বিষয়ের উল্লেখ হয়েছে, পরোক্ষ ধারণা হিসেবে (allusion)। এতে কী ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হয়ত অনেক নতুন পাঠকের বুঝতে কষ্ট হতে পারে। এজন্য তাদেরকে রায়হান ভাইয়ের “ইসলামকে ভাইরাস প্রমাণ করার জন্য অভিজিৎ রায়ের আর কতগুলো সন্ত্রাসী হামলা দরকার?” এই লেখাটি পড়তে আহবান করব। এটা আমার মূল লেখার নিচেও সংযুক্ত করে দিয়েছি।
সরোয়ার
নভেম্বর ১০, ২০১৫ at ১২:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বরাবরের মত এটিও আপনার আরেকটি একটি এপিক লেখা। আল্লাহ আপনাকে আরো উইজডোম দান করুন।
এম_আহমদ
নভেম্বর ১১, ২০১৫ at ১:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সারোয়ার ভাই, সালাম। প্রথমে আপনার appreciation এর জন্য অনেক জন্যবাদ। আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করুন। আমীন। হেদায়াত এবং হেদায়াতের উপর রাখার জন্যও দোয়া করবেন। আপনার মেয়ে যে এই বয়সে এত সুন্দর করে লিখতে পারে তা দেখে মুদ্ধ হচ্ছি। দোয়াও করছি। আমরা চলে যাবার পরও আমাদের বাতি যে অনির্বাণ জ্বলবে -এই আশার ইঙ্গিত দেখে আশায় বুক ভরে যায়।
এম_আহমদ
নভেম্বর ১১, ২০১৫ at ১:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মহিভাই ও কিংশুক
তুরস্ক থেকে শেখার অনেক কিছু এতে দ্বিমত নেই, তবে তুর্কির ভৌগলিক ও পারিপার্শ্বিক শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থা এবং বাংলাদেশের ভৌগলিক ও পারিপার্শ্বিক ও রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে অনেক ধরণের ভিন্নতা রয়েছে –এটাও সামনে রাখতে হবে। আমাদের দেশে কিছু হোক কী না হোক, এরদোগানের রাজনীতি আমাদেরকে আশান্বিত করে। তুরস্ক ইউরোপিয়ান দেশ হিসাবে সেখানে হাজার সমস্যা থাকলেও কিছু স্ট্যান্ডার্ড কাজ করে –এটা বাংলাদেশে নাই। এব্যাপারেও আপনাদের উভয়ের সাথে একমত যে বাংলাদেশে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হবে। তবে এখন রাজনীতি আদালত-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে -বিচারিক রাজনীতি। গোপন হত্যা, মামলা করা, ফাঁসী দেয়া, মালামাল ক্রুক করা, নির্যাতন করা, তারপরও বলতে পারা 'আমরা ন্যায়ে উপর আছি'। আর ট্যাক্স-পেয়ারের টাকা প্রোপাগান্ডায় খরচ করা –সাংবাদিক দিয়ে খবর, ডকুমেন্টারি তৈরি করা আর ছড়িয়ে দেয়া। আমরা এক নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছি।
সবশেষে, আপনার চারি পাশের শক্তি এবং বৈশ্বিক শক্তির মোকাবেলায় বুদ্ধি দিয়ে কতটুকু করতে পারবেন বা পারবে না –সেটাও বুদ্ধির সীমায় থাকা দরকার। তবে অবস্থা যাই হোক, আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ করে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন, “তারা চক্রান্ত করে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেন। বস্তুত: আল্লাহই হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী” (কোরান)।
abdur rahman
নভেম্বর ১১, ২০১৫ at ২:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম এম_আহমদ ভাইয়া আপনার লেখা অনেক ভালো হয়েছে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক এই সচেতনতামূলক লেখার জন্য। আমার ধারনা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাস্তিক তৈরি করা, নাস্তিক দ্বারা উগ্র ইসলাম বিদ্বেষী কাজ কর্মের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের ক্ষেপীয়ে তোলা যাতে করে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করার পর যখন নাস্তিকদের উপর হামলা করবে তখন তারা বলবে মুসলমানরা সন্ত্রাসী।
আমি আপনার সাথে পার্সোনালি কিছু ব্যাপারে আলোচনা করতে চাই কিন্তু আমি জানিনা কিভাবে আমি আপনার সাথে ব্যক্তিগত ভাবে আলোচনা করবো? যদি আপনি আমাকে আপনার ই মেইল আইডি বা ফেসবুক আইডি জানান তাহলে আমার পক্ষে আপনার সাথে আলোচনা করা সম্ভব। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত জানতে চাই।
কিংশুক
নভেম্বর ১১, ২০১৫ at ১০:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের কাজ তো অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে এবং সেই প্রজেক্টে সবাই এমনকি জাতিসংঘও জড়িত । শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণতন্ত্র, সুশাসনের মতো ভাল কাজের সাথে সাথে মানবাধিকারের নামে সেকুলারিজম, সিডো সনদের নামে নারী পুরুষের সমতার আড়ালে মুক্ত যৌনতা, সমকামিতা ইত্যাদিকেও মানবাধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে ধর্মকে সেকেলে খারাপ জিনিস বানানোর ধান্দা চলছে। আর ভূয়া ডারউইনিজমকে বিজ্ঞান বানিয়ে ধর্মকে বিজ্ঞানের শত্রুও বানানো হয়েছে শত বছর ধরে। তীব্র বস্তুবাদ, পুঁজিবাদের যুগে অন্য ধর্ম গুলো যেমন খ্রিস্টান ধর্ম পরাজয় স্বীকার করে ডারউইনিজম, যৌন স্বাধীনতা, সমকামিতাকেও মেনে নিয়ে জাস্ট যিশু খ্রিস্টকে ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র হিসাবে মেনে নিলেই মুক্তি মিলে যাবে বলে কোনওরকমে টিকে আছে। হিন্দু ধর্ম তো নিরেট কুসংস্কার হিসাবে প্রতিযোগিতা র বাছাই পর্বেই পলায়ন করে নাস্তিকদেরও হিন্দু বানায়। একমাত্র ইসলামই নিউ অর্ডারের গ্লোবাল ভিলেজের এক স্ট্যান্ডার্ড সভ্য! মানবাধিকার! কে কাঁচকলা দেখাচ্ছে । এটা কি আর ওয়ার্ল্ড এলিটদের সহ্য হয়? এসব আবাল মগাউদ্দিন, ভাইরাসজিৎরা ওদেরই কাঠের পুতুল।
এম_আহমদ
নভেম্বর ১২, ২০১৫ at ৮:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@abdur rahman: ভাই, সালাম। সুন্দর মন্তব্য করেছেন। অনেক ধন্যবাদ। আমাদের আলোচনা এখানে খুবই খোলামেলা হয় –তাই কোন বিষয় যদি এখানে আলোচনা করা যায় তবে সবাই উপকৃত হতে পারেন। অনেকে হয়ত অংশ গ্রহণও করতে পারেন। ফতোয়ার কোন বিষয় হলে, আমি ফতোয়ার আলেম নই। আপনার স্থানীয় কোন আলেমের সাথে আলোচনা করতে পারেন। আমি ইংল্যান্ডে থাকি। আমার ইমেইল সদালাপের একাউন্টেই আছে। আমার নামের উপর ক্লিক করলে একাউন্টে যাবেন এবং দেখতে পাবেন। ধন্যবাদ।
abdur rahman
নভেম্বর ১৪, ২০১৫ at ১২:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম এম_আহমদ ভাইয়া। আপনাকে এবং কিংশুক ভাইয়াকে অনেক ধন্যবাদ আমার করা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য। আমি আপনাদের কাছে একটা ব্যাপারে জানতে চাই ব্যাপারটা হল আমি আমার এলাকার লাইব্রেরিতে একটা বইয়ে পড়েছিলাম আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার মুসলমান সৈনিকরা ধংশ করেছে। এই কথা / দাবীটা কতটা সত্য? তাদের দাবির পক্ষে কোন ঐতিহাসিক অকাট্য প্রমান আছে কি? নাকি ইসলাম এবং মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ বশত প্রচারণা ?
আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ধ্বংস হওয়া
ইতিহাসে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারকে সবার জন্যে উন্মুক্ত একমাত্র গ্রন্থাগার বলে চিহ্নিত করা হয় যেখানে যে কেউ এসে পড়াশোনা করতে পারতেন। তবে প্রথমে জুলিয়াস সিজার, এরপর অরেলিন ও আরো অনেকের একের পর এক আক্রমণের পর ধীরে ধীরে একটা সময় নষ্ট হয়ে যেতে থাকে এই গ্রন্থাগার। কিন্তু গল্পের শুরুটা এখানে নয়। গ্রন্থাগার তখনো টিকে ছিল কিছুটা। মানুষ আসতো না সেখানে যুদ্ধ-বিগ্রহরের জন্যে খুব একটা। তবে তাতে কি? গ্রন্থাগার তখনো বেশ ছিল নিজের জায়গায় হাজার হাজার বইকে নিয়ে। তবে একে শেষ ধাক্কাটা মেরে একেবারের মতন ধ্বংস করে দেয় আরব সৈন্যরা। যাদের কাছে খ্রিষ্টধর্মীয় বই পড়ারা চাইতে গোসলের পানি গরম করার কাজটাই বেশি দরকারি ছিল (লিস্টভার্স)। ফলাফল? খুব দ্রুতই আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায় আলেকজান্দ্রিয়ার এই বিখ্যাত গ্রন্থাগার।
সুত্র বিডি টুডে http://www.bdfirst.net/newsdetail/detail/37/168958
আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে আমার কিছু অতিরিক্ত প্রস্ন?
১ যদি তর্কের খাতীরে এটা মেনেও নেই আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ধ্বংস করে দেয় আরব সৈন্যরা তাহলে আমার প্রস্ন হল যে আরব সৈনিক কতৃক আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ধ্বংশের ঘটনাটা কি নবীজির জন্মের অনেক আগেরকার ঘটনা নাকি ইসলামিক যুগের ঘটনা?
আমার করা প্রস্নের ব্যাপারে আপনাদের অভিমত জানতে চাই।
আমার প্রস্ন করার পধ্যতিতে কোন ভুল থাকলে আমি বিশষভাবে দুঃখিত।
নভেম্বর ১৪, ২০১৫ at ৮:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি ধ্বংসের দায় ইসলাম বিদ্বেষীরা মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়ে থাকে। আল কিফ্তি কিংবা আব্দুল লতিফের বয়ানের উপর ভিত্তি করে এমন একটা অভিযোগ মুসলিমদের উপর দেয়ার প্রচার বাজারে চালু আছে। অগ্রহনযোগ্য ও অসমর্থিত ঐ ইতিহাসের ধারায় বলা হয়ে থাকে যে আমর ইবন আল আস মিসর দখল করার পরে খলিফা ওমর (রা.) এর কাছে এই লাইব্রেরির কথা লিখে পাঠান। জবাবে ওমর নাকি জানান যে -- "লাইব্রেরিতে থাকা বইগুলো যদি কোরানের সাথে সাযুজ্য পূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে আমাদের কাছে তা অতিরিক্ত -- আর যদি না হয় তবে তা ধ্বংস করে দাও।" বাঙাল নাস্তিকদের এই বিষয়টাও বেশ প্রিয় -- কেননা এই সূত্র ধরে তারা ইসলামকে জ্ঞান বিজ্ঞানের বিরোধী বলে প্রমান করার প্রয়াস চালায়। আর বিশেষত মহিলা মনীষী হায়পেশিয়ার বই আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরিতে থাকার জন্যে -- এই তথাকথিত লাইব্রেরি ধ্বংসে তাদের অন্তর্জ্বালা আরো বেশি।
কিন্তু এই দাবির কোনই ভিত্তি নেই। প্রথমত কিফ্তি কিংবা আব্দুল লতিফের বয়ানের আগে কোনো ইতিহাসের পাতায় এমন খবর পাওয়া যায়না। কিফ্তি কিংবা আব্দুল লতিফের বয়ান আসে ঘটনা ঘটার প্রায় ৬০০ বছর পরে। এমন শুন্যের উপর ভেসে থাকা ইতিহাসের যথার্থতা এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা। এছাড়াও এর আগের অনেক বিস্তারিত ইতিহাস -- যেমন তাবারীর তারিখে এর কোনো বিবরণ নেই। খ্রিষ্টান সূত্রের অভিযোগের বয়ান আসে বিজেন্তিনের জনের সূত্রের বরাত দিয়ে -- কিন্তু হিসেব করলে দেখা যায় যে বিজেন্তিনের জন তখন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তাছাড়া নিকিউ এর জন, যিনি খ্রিষ্টান দৃষ্টিকোণ থেকে অমরের মিসর জয়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন -- সেখানে এর কোনো বয়ান নেই।
এ নিয়ে এক সময় একটা লেখা দেবার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু সময়ের অভাবে দেয়া হয়নি। কিন্তু শেষকথা হচ্ছে -- এই দাবি সর্বৈব মিথ্যা।
এস. এম. রায়হান
নভেম্বর ১৫, ২০১৫ at ১২:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ বিষয়ে আপনার একটি লেখা মনে হয় লং-ডিউ হয়ে আছে!
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৬, ২০১৫ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ abdur Rahman, শাহবাজ নজরুল, এস. এম. রায়হান
শাহবাজ ভাই, এই বিষয়টির উপর মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমিও আশা করছি আপনি এ বিষয়ের উপর কিছু লিখবেন। আমি এই দুদিন থেকে একটু ব্যস্ত। এখন একটু সার্চ করে একটি মন্তব্য করছি যা এ ব্যাপারকে কিছুটা হলেও আলোপাত করবে।
প্রথমে ইউকিপিডিয়াতে অভিযোগ ও অভিযোগের পালটা উত্তর দেখলাম। ওখানে এসেছে, ‘Some claim that The Library of Alexandria and its contents were destroyed in 642 during the Arab invasion.[8] Others deny this and claim that the library was destroyed much earlier, in 3rd century, due to civil war in the time of the Roman Emperor Aurelian.[9] The Lighthouse was destroyed by earthquakes in the 14th century,[10] and by 1700 the city was just a small town amidst the ruins’ [১] উইকিপিডিয়া।
প্রথম বাক্যে যে অভিযোগ দেখানো হয়েছে তা ৮ নং ফুটনোটে কপ্টিক খৃষ্টিয়ানের সূত্রে দেখানো হয়েছে। আর এই অভিযোগ খণ্ডিত দেখাতে ৯ নং ফুটনোটে Goldston, Robert (1979), Sword of the Prophet. New York: The Dial Press এর সূত্র দেখানো হয়েছে। তবে এটাকে আরও প্রবল ও অধিক যৌক্তিকভাবে অন্যরা খণ্ডন করেছেন।
আলেকজান্ডার ৩৩১ খৃষ্ট-পূর্ব সালে এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। লাইব্রেরীটি খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে নির্মিত হয় এবং মুসলমানরা আসার ৬ শো বছর আগেই ৩/৪ বার পুড়ানো হয় বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে।
তবে এই ঘটনার কোন বিবরণ প্রধান প্রধান কোন ঐতিহাসিকের লেখায় নেই। প্রথম সারির খৃষ্টিয়ানদেরও না। সাঈদ বিন বাত্রিক [পেট্রিক] (মৃ. ৯৩৯ سعيد بن البطريق), একজন খৃষ্টিয়ান ঐতিহাসিক এবং চিকিৎসক, যিনি আলেকজান্দ্রিয়ার বিশপও ছিলেন তিনি তার রচিত ইতিহাসে (তারিখ বিন বেত্রিক) এমন ঘটনার উল্লেখ করেন নি। তার ঐতিহাসিক তথ্য ইবন খালদুনও উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক ইবন আব্দুল হাকাম (মৃ. কায়রোর ফুসতাত এলাকায় ৮৭১ খৃ.), আলকিন্দি (মৃ.৮৭৩), বালাজুরি (মৃ. ৮৯২), ইয়াকুবি (মৃ. ৮৯৭), তাবারী (মৃ. ৯২৩) এদের কেউই এই ঘটনার উল্লেখ করেন নি [২]। এই লেখকদের আগের কোনো লেখায় ৭ম শতকে আলেকজান্দ্রিয়ার কোন লাইব্রেরির অস্তিত্ব ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায় না এবং আজ পর্যন্ত সেই পুড়ে যাওয়ার এমন কোন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায় নি যার উপর কার্বন ডেটিং করে সেই অভিযোগ মুসলমানদের উপর প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে (প্রাগুক্ত)।
এটা আব্দুল লাফীফ আল-বাগদাদী (মৃ. ১২৩১) তার ‘আল-ইফাদাহ ওয়াল ই‘তিবার ফীল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিস আল-মু‘আইয়ানাহ বি আরদি মিসরা’বইয়ে প্রথম উল্লেখ করেন [২, প্রাগুক্ত] এবং পরে একজন খৃষ্টিয়ান লেখক আবুল ফারাজ আল-মুলতি (মৃ. ১২৭৭) তার ‘মুখতাসারুল দুওয়াল’ বইয়ে চালিয়ে নেন। এখান থেকে সূত্রপাত। লাফীফির কাহিনী উমাইয়্যা শাসনের বিপক্ষে হচ্ছিল বলে অনুমিত হয় এবং ১২৫০ সালে উমায়্যাইয়া শাসনের পতনও ঘটে। আব্বাসিরা এসে উমায়্যাদের সকল অর্জনের ইতিহাস নির্মূল করতেও প্রয়াস পায়। এ নিয়ে পরে আরেকটু বলব। এখানে শুধু এতটুকুই যে যে তথ্য লাফীফিরর তিনশো, সাড়ে তিনশো বছর আগে কেউ জানে নি, এবং বড় বড় ঐতিহাসিকরা তার উল্লেখ করেন নি, আবার যে ঘটনাটি লাফীফির জন্মের ৫২০ বছর আগের, তা তিনি কোথা থেকে আবিষ্কার করেন? আবারও দেখা দরকার, ঐতিহাসিক বিশপ সাঈদ বিন বাত্রিক লাফীফির ৩০০ বছর আগে আলেকজান্দ্রিয়ার অধিবাসী হয়েও জানতে পারেন নি! কী আশ্চর্য!
আলফ্রেড বাটলার (Alfred J Butler, 1850-1936) তার ‘দ্যা এরাব কঙ্কুয়েস্ট অব ইজিপ্ট’ (১৯:৩০৩-৩০৭) উল্লেখ করেন যে মিশরীরা আখলিয়াসের নেতৃত্বে খৃষ্টপূর্ব ৪৮ অব্দে সিজারকে আল-পারুকন এলাকায় অবরুদ্ধ করা হয় এবং পরে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য প্রথমে বন্দরের জাহাজগুলোতে অগ্নি সংযোগ হয়। আগুণ ছড়িয়ে পড়লে লাইব্রেরী পর্যন্ত পুড়ে (এখানে লাইব্রেরি বলতে যাদুঘর-লাইব্রেরী বা উম্মু লাইব্রেরী বুঝানো হয় –[এগুলো লাইব্রেরির বিভিন্ন অংশ হতে পারে, এম_আহমদ])। অবশিষ্ট অংশ খৃষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বাটলার আরও বলেন, ‘আল-ওয়ালিদাহ লাইব্রেরী (known as ‘daughter library’), যা সির-আবইয়্যূম (السيرابيوم/Serapeum) এলাকায় ছিল এবং তা সির-আবইয়্যূমের উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই গোটা উপাসনালয় লাইব্রেরীসহ ৩৯১ সালে (থিওডোসের শাসনামলে) থিওফিলুস (تيوفيلوس/Theophilus) এর নেতৃত্বে খৃষ্টিয়ানরা পুড়িয়ে দেয়’ (প্রাগুক্ত [2] and wiki [3]। এই সত্যকে এডওয়ার্ড গিবন তার The Rise and Fall of Roman Empire এর ৯ম খণ্ডের ২৭৫ পৃষ্ঠায় এভাবে উল্লেখ করেন, ‘এই লাইব্রেরী ৩৮৭-৩৯৫ কালে রোমান সম্রাট থিওদুসয়্যূস(تيودوسيوس/Theodosius) এর আমলে পুড়িয়ে দেয়া হয়’[প্রাগুক্ত]।
ফরাসী লেখক লুপন জোস্টাফ তার ‘আরব সভ্যতা’ নামক পুস্তকের (১৮৮৪ সালে প্যারিসে প্রকাশিত) ২০৮ পৃষ্ঠায় বলেন, ‘এই লাইব্রেরির কোন অস্তিত্ব আরব বিজয়ের সময় ছিলই না, কেননা তা খৃষ্টপূর্ব ৪৮ সালে জুলিয়াস সিজারের লোক যখন আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করেন তখন পুড়ে দেয়া হয়’ [প্রাগুক্ত]। (আমি এই বাক্যে জুলিয়াস সিজারের ‘লোক’ বলে উল্লেখ করেছি কিন্তু আমার উৎসে জুলিয়াস সিজারের কথাই লেখা। কিন্তু অন্য সূত্রে দেখা যায় তিনি তখন পার্শ্ববর্তী শহরে ছিলেন, [এম_আহমদ])।
আওরাজইয়্যূস (أورازيوس /Oorazaos) নামক একজন রোমান পর্যটক পঞ্চম শতাব্দীর প্রথম দিকে মিশর ভ্রমণ করেন এবং ৪১৬ সালে তার ভ্রমণ কাহিনী রচনা করেন। এতে তিনি এই লাইব্রেরীর ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কিছুই দেখতে পান নি বলে উল্লেখ করেন [প্রাগুক্ত]।
পরের খৃষ্টিয়ানদের অভিযোগ
খৃষ্টিয়ান পক্ষের অভিযোগ হচ্ছে যে আমর বিন আস (রা) লাইব্রেরী পুড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি নাকি বলেন যে বইগুলোতে যদি হেদায়াতের কিছু থাকে তবে তার চেয়ে ভাল হেয়ায়াত আমাদের আছে। আর যদি এসবে হেদায়াতের কিছু না থাকে, তবে তা দিয়ে ঘর ভরে লাভ কি? তিনি নাকি এই মর্মে খলিফার (ওমর রা.) কাছ থেকে জ্ঞাত হয়েছিলেন।
ওখানে যদি লাইব্রেরী থেকেই থাকত তবে তাতে কী কেবল দেব-দেবী আর ধর্মের বইই থাকত? না ওখানে রোমানদের নৌশিল্প, রাস্তাঘাট নির্মাণ, শহর নির্মাণ, শহর ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, সঞ্চালন, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয় সম্বলিত থেকে থাকত? হেদায়াতের বিষয় হলে কেবল ধর্মীয় বই পুস্তক বেছে বেছে পুড়ানো হত। ওমরের (রা.) আমলে রাস্তাঘাট, শহর নির্মাণ, প্রশাসনিক কাজ ইত্যাদি ব্যাপকভাবে হয় এবং এসবে রোমান ও পার্সিয়ান অভিজ্ঞাকে কাজে লাগানো হয়। অনেক অমুসলিম এসব কাজে নিয়োগ পান। সুতরাং এই অভিযোগ সব্দিক দিয়েই বেমিল ও ভিত্তিহীন। অমুসলিমদের বইপুস্তক পুড়ানো ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়। মুসলিম বিশ্বে খৃষ্টিয়ান, ইয়াহুদী এবং পৌত্তলিকদের উপাসনা-সংলগ্ন বিদ্যালয় ও লাইব্রেরীসমূহ থেকে তাদের বইপুস্তক কেড়ে এনে পুড়ানোর কোনো ইতিহাস নেই। তবে মানুষের ইতিহাস নানান বিস্ময় ও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ, কোথাও যদি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটে গিয়ে থাকে, সেটা বিচ্ছিন্ন এবং দুঃখজনক হবে।
___________________________
[১] Wikipedia. History of Alexandria. Available at: https://en.wikipedia.org/wiki/Library_of_Alexandria
[২] আবু বাকর, (তারিখ নেই), মানিল্লাযী আহরাকা মাকতাবাতুল ইসকানদারিয়্যাহ, শাবাকাহ ইবন মারিয়াম আল-ইসলামিয়্যাহ. প্রাপ্তব্যস্থান: http://www.ebnmaryam.com/maktba.htm এখানে উল্লেখিত প্রধান অংশই এই সূত্র থেকে গৃহীত।
[3] Wikipedia. Library of Alexandria. Available at: https://en.wikipedia.org/wiki/Library_of_Alexandria
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৭, ২০১৫ at ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই বিষয়ে আরেকটি কথা আনা দরকার। বই পুড়ানো রোমানদের এক অপসংস্কৃতির অংশ হয়ে ইউরোপীয় ইতিহাসে বার বার এসেছে। ঘর পুড়া বলদ সিঁদুরে মেঘ দেখলে যেমন ভয় পায় তেমনি বই পুড়ার খবর শুনলেই তাদের ইতিহাস মনে পড়ে যায়।
আজকাল ইন্টারনেটের বদৌলতে সহজেই অনেক অতীত ইতিহাস দেখা যায়। কেউ একটু সার্চ দিলেই অনেক তথ্য পেতে পারেন। সহজে এখান book burning থেকে শুরু করা যায়। এখানে আলেকজান্দ্রিয়ার ইতিহাসও কিভাবে এসেছে:
এই লাইব্রেরী যাদের হওয়ার কথা, তারা নিজেরাই যখন বলছে এটা কোন মুসলমানরা পুড়ায় নি, তখন বিষয়টা এভাবেই থাকা উচিত ছিল।
১২৫৮ সালে মঙ্গোলিয়ানরা বাগদাদে এক নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছিল, সেকি নির্মম হত্যাকাণ্ড! সেই শত শত বছরের সাধনার ধন বাগদাদ লাইব্রেরি অশিক্ষিত বর্বর বাহিনী নিশ্চিহ্ন করেছিল (read this) -এসব নিয়ে ইউরোপ খুব কমই মাতামাতি করে। কিন্তু সেই ধন তো মানব জাতিরই ধন ছিল। তখন জেরুজালেম এবং তার আশে পাশের কয়েকটি এলাকা ইউরোপিয়ান ক্রুসেডদের দখলে ছিল। তারা বাগদাদ ধ্বংসকে অতি নিকট থেকে দেখেছিল। তখন ইউরোপিয়ানদের ধারণা ছিল যে ইসলাম শেষ হয়ে গিয়েছে! কিন্তু আল্লাহ তা আজও রেখেছেন।
abdur rahman
নভেম্বর ১৭, ২০১৫ at ১২:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম এম_আহমদ @ শাহবাজ নজরুল ভাই আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের অনেক কৃতজ্ঞ অনেক কষ্ট করে আমার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার যন্য।
এম_আহমদ ভাইকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে গবেষণা মূলক প্রস্ন উত্তর দেয়ার যন্য এ যন্য আমি দুঃক্ষিত। আপনার গবেষণা মূলক মন্তব্য থেকে যা জানতে পারলাম তা আমার কাছে এক কথায় বিস্ময়কর।
"আর বিশেষত মহিলা মনীষী হায়পেশিয়ার বই আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরিতে থাকার জন্যে – এই তথাকথিত লাইব্রেরি ধ্বংসে তাদের অন্তর্জ্বালা আরো বেশি।"
এম_আহমদ @ শাহবাজ নজরুল ভাই এই মহিলা মনীষী হায়পেশিয়াটা কে?
তিনি কি আরব না রোমান?
মহিলা মনীষী হায়পেশিয়ার বই আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরিতে থাকার জন্যে – এই তথাকথিত লাইব্রেরি ধ্বংসে তাদের অন্তর্জ্বালা আরো বেশি হওয়ার কারণ কী?
ব্যাক্তিগত ঃ @ এম_আহমদ ভাই আপনি কী গবেষণা মূলক পেশার সাথে জরিত? আপনি যদি গবেষণা মূলক পেশার সাথে জরিত থাকেন তাহলে আপনি কোন বিষয়ে গবেষণা করেন? আর যদি গবেষণা মূলক পেশার সাথে জরিত না থাকেন তাহলে আপনি কোন পেশার সাথে জরিত?
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৮, ২০১৫ at ৬:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@abdur rahman
[১] হাইপাশিয়া Hypatia): হাইপাশিয়ার উপর এখানে একটি এনট্রি রয়েছে, আপনি পড়ে নিতে পারেন। তিনি গ্রীক ছিলেন। বলা হচ্ছে, ‘According to contemporary sources, Hypatia was murdered by a Christian mob after being accused of exacerbating a conflict between two prominent figures in Alexandria: the governor Orestes and the Bishop of Alexandria.[9]’। এখন আধুনিক কালের উৎস এতকাল আগের বিষয় কীভাবে কতটুকু নিশ্চিত করে কী বলতে পারে সেটিও প্রশ্নবোধক বিষয়। এক শ্রেণীর নাস্তিকদের কাছে ধর্মীয় সাংঘর্ষিকতার কোন গন্ধ পেলেই এটা তাদের বড় বিষয় হয়। নাস্তিকদের কাছে হাইপাশিয়ার (ঘটনার সত্যতা এক পাশে রেখে), বিষয় হচ্ছে গেলেলিওর প্রতি চার্চ যে আচরণ করেছিল সেই মাত্রার একটি চৌকশ বিষয়। কিন্তু খৃষ্ট ধর্মের কিছু ঘটনা দেখিয়ে ইসলাম জড়িয়ে generalise কথা-বার্তা বলা উগ্র নাস্তিকদের এক ধরণের বেহায়ামি -এই যা। এতে মুসলমানদের জড়ানোর কিছু নেই।
[২] এখানকার আলোচনা বিষয়-ভিত্তিকই থাকুক, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করার দরকার নেই। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২০, ২০১৫ at ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ abdur rahman, সেদিন ব্যস্ত ছিলাম তাই আপনার লিঙ্ক করে দেয়া লেখাটির উপর কোন মন্তব্য করা হয় নি। এবারে তা সংক্ষেপে করতে যাচ্ছি।
ঐ লেখাটি প্রিয়.কমে ১২ নভেম্বর একটি পুরষ্কার প্রতিযোগিতার লেখা হিসেবে যেন অনুভূত হয়। তা'ই হলে ওখানে প্রতিযোগিতা ও জিতার উদ্দেশ্যই প্রধান হবে। কিন্তু এতে অপরাপর ইঙ্গিতবাহী দিকসমূহ (implications) বিবেচিত হয়েছে, কী হয় নি -তা বলা মুস্কিল। ১৬ই নভেম্বর তা বিডি-টুডে.নেটে “সংবাদ>>প্রযুক্তি” সেকশনে গৃহীত হয়। আমরা এখানে কেবল বস্তুনিষ্ট কথাই বলব।
প্রথমত: “ইতিহাসের যে বিখ্যাত ঘটনাগুলো ঘটেছিল বাথরুমে!” –এই চৌকশ শিরোনামের আওতাধীন করতে লাইব্রেরীর বিষয়টি টানাটানি করে আনা হয়েছে। মুসলিম/আরব সৈন্যরা পুড়িয়েছে -এই মর্মে ঘটনাটিকে foreground করতে প্রথমে বলা হয়েছে: “বাস্তবে ইতিহাসের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অতি প্রয়োজনীয় এই স্থানটি যেগুলো না থাকলে আমাদের পৃথিবীর ইতিহাসটাই হয়তো পাল্টে যেত।”এখান থেকেই এই ধারণার জন্ম দেয়া হচ্ছে যে বর্বর আরবরা এই কাজটি না করলে ইতিহাসটা কেমন হত। মূল ঘটনার ঠিক-ঠিকানা নাই কিন্তু ইতিহাস পাল্টানোর গল্প শুরু হয়েই গেছে। অতপর এসেছে এই সিদ্ধান্ত বাক্য এবং এভাবে “… তবে একে শেষ ধাক্কাটা মেরে একেবারের মতন ধ্বংস করে দেয় আরব সৈন্যরা। যাদের কাছে খ্রিষ্টধর্মীয় বই পড়ারা চাইতে গোসলের পানি গরম করার কাজটাই বেশি দরকারি ছিল (লিস্টভার্স)।” ‘গোসলের’ ইঙ্গিবাহী ধারণাটি খেয়ালে থাকা জরুরি।
লেখিকা ব্রাকেটে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করছেন ‘লিস্টভার্স’। লিস্টভার্সের সোর্সে “খ্রিষ্টধর্মীয় বই পড়ার চাইতে গোসলের পানি গরম করার কাজটাই বেশি দরকারি ছিল” এমন কোন কথা নেই। পালটা এই মতের বিপরীত মতই উল্লেখিত হয়েছে। মুসলিম সৈন্যরা ধ্বংস করেছে –এমন নিশ্চিত কথা তার নিজের সংযোজন। লিস্টভার্স বলছে, “কেউ কেউ মনে করেন খলিফা ওমরের হাতে ৬৪০ সালে এর সমাপ্তি আসে যদি এর সম্ভাবনা অত্যন্ত অল্প … some think that it fell at the hands of Caliph Umar in A.D. 640, although this is much less likely”, কিন্তু লেখিকা নিশ্চয়তার সাথে আরব সৈন্যদের জড়িয়ে দিয়েছেন! আবার লিস্টভার্সের নামে!
আচ্ছা, ধরুন ঘটনা সত্য। তারপর চিন্তা করুন, ঐ শহরে গোসলের পানি তো এতকাল বইপুস্তক পুড়ানো ছাড়াই গরম হচ্ছিল; আর ওদিকে আরব সৈন্যরা কি বইয়ের অভাবে যুগ যুগ ধরে গোসলবিহীন জীবন যাপন করছিল? ঐ শহরে মূল্যবান বইপুস্তক যদি রাতারাতি জ্বালানীকাঠের মত সস্তা হয়ে পড়ে, তবে নিশ্চয় ওখানে বই পাচারের আরেকটি বাণিজ্য সম্ভাবনাময়ী হয়ে উঠার ছিল। গোসলখানার মালিকগণ পানি আগের মতই গরম করত কিন্তু তাদের মধ্যে এই বইগুলো সংগ্রহ করে পয়সা কামানোর এক হিড়িক পড়ে যেত।
লিস্টভার্স এটাও বলেছে যে এই লাইব্রেরীর অবসান হওয়ার পিছনে আরেকটি মজহাব (অভিমত) ছিল, আর সেটি হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ সরিয়ে ফেলা বা বাজেট কাট। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী লাইব্রেরীর ৪০ হাজার স্ক্রোল অন্যত্র সংরক্ষণ করা হয়। সূত্র আরও বলছে যে দ্বিতীয় শতাব্দীতে মার্কাস ওরেলিয়াস এন্টোনিনাস অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করেন; বিদেশি স্কলারদের বহিষ্কার করেন; মূল্যবান স্ক্রোলগুলো দূরের শিক্ষাকেন্দ্রে বণ্টন করেন এবং ওখানে নীরস, অনাকৃষ্ট বইপুস্তক রেখে দেন যা সমসাময়িক ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্বলিত ছিল। এভাবেই এই লাইব্রেরী কালের কালের আবর্তনে শেষ হয়।
কিন্তু এতকিছু একপাশে রেখে যদি পানি গরমের গল্পে পুরষ্কার পাওয়া হয়ে যায়, আমার মনে হয় পাওয়া হয়ে যেতে পারে, তখন আর কী করা?
এম_আহমদ
জানুয়ারি ২৪, ২০১৬ at ১০:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Behind the $57 Million Network Fueling Islamophobia in the U.S
জামশেদ আহমেদ তানিম
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬ at ১১:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এক কথায় চমৎকার এবং আমার অন্তরের কথা। এর জন্য আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
যখন দেখি নাস্তিকরা ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে তখন খুবই অন্তর্জ্বালায় ভুগি। আবার যখন দেখি মুসলিম নামধারী ভন্ড মুর্খরা সেক্যুলারদের পূজা করছে এবং সেসব আস্তাকুড়ের জঞ্জালরাই আমাদের নেতা তখন সবচেয়ে বেশি ব্যাথিত হই।
এটা ভেবে অবশ্যই সুখ লাভ করি, আমার কৃতকর্মের জন্য আমি নিজে দায়ী, কেউ যদি নিজের জন্য জাহান্নাম চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে নেয় তবে আমি কি করতে পারি?
এম_আহমদ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ at ৬:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এম_আহমদ
আগস্ট ১৭, ২০১৬ at ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মধ্যযুগের নয় বরং আধুনিক সভ্যতা নিয়ে এই ভিডিওটি দেখুন। শুধু এটা কেন, অনেক রকমের থিম নিয়ে গঠিত বিভিন্ন ডক্যুমেন্ট্রি, রিপোর্ট: (সৈন্যদের বিবরণ সম্বলিত), অনেক ইউটিউব ভিডিও -সবকিছু মিলে যে লোম হর্ষক অমানবিকতা প্রকাশ পায় তা নিয়ে কি বিদেশি সুতোয়-টানা, বিদেশি আদর্শে মাথা-ঘোলানা “মুক্ত দালালদের” ও জায়নিস্ট টাকায় পোষা “পদ্মলোচনদের” লিখতে দেখেন?