«

»

Mar ২৯

সে (শয়তান) বলল, আমি তোমার বান্দাদের মধ্য হতে নির্দিষ্ট সংখ্যককে সাথে নেব।”

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
=================
আন-নিসা রুকু;-১৮ আয়াত;-১১৬-১২৬ কোরানের কথা-৮৬

আলোচ্য রুকুটি মক্কার মুশীকদের বিষয়ে আলোচিত হয়েছে। এখানে আরও একবার ঘোষনা করা হল যে, শিরিক ছাড়া অন্য গোনাহ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে মাফ করে দিতে পারেন।

১১৬/إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً
অর্থাৎ;-নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তার সঙ্গে শরিক সাব্যস্ত করাকে। এছাড়া অন্য কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরিক করে সে, ভ্রান্তিতে অনেক দূর চলে গেছে।
১১৭/إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِ إِلاَّ إِنَاثًا وَإِن يَدْعُونَ إِلاَّ شَيْطَانًا مَّرِيدًا
অর্থাৎ;-এরাতো আল্লাহর পরিবর্তে কিছু দেবীরই পূজা করে, বস্তুতঃ তারা অবাধ্য শয়তানেরই পূজাকরে।
প্রকাশ থাকে যে পবিত্র কাবার অভ্যান্তরে মুশরীকগন যে দেবতার পূজা করত। সেগুলো সবই দেবী ছিল, ‘লাত’ মানাত’ ‘উজ্জাত’ প্রভৃতি শব্দগুলি সবই স্ত্রী লিংগে ব্যবহৃত শব্দ। এগুলোকে সামনে রাখে তারা প্রকৃত পক্ষে অবাধ্য শয়তানেরই পূজা করত বলে এআয়াতে বলা হয়েছে।

১১৮/لَّعَنَهُ اللّهُ وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا
অর্থাৎ;-আল্লাহ যার প্রতি অভিসম্পাত করেছেন, সে (শয়তান) বলল, আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্যহতে নির্দিষ্ট সংখ্যক কে সাথে নেব।
এ ক্ষেত্রে শয়তান অনেকাংশে সফল হয়েছে বলাযায়। কত সংখ্যক মানুষ তার অনুগামী হয়েছে তা এক মাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। তবে শয়তান কোন ক্রমেই কাউকে জোর করে নিতে পারেনা। শুধু মাত্র যে তার পথে যেতে ইচ্ছে করে বা পা বাড়ায়, তাকে কোন কোন পদ্ধতিতে বিপথ গামী করে তা পরের আয়াত গুলীতে ফুটে উঠেছে।

১১৯/وَلأُضِلَّنَّهُمْ وَلأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الأَنْعَامِ وَلآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللّهِ وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِي
অর্থাৎ;-তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব, তাদের দ্বারা পশুর কান ছেদন করাব, আর আমি তাদেরকে নির্দেশ দেব তারা যেন আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি বিকৃত করে। আর যে কেউ আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে প্রকৃত ক্ষতির ভিতর নিপতীত হবে।
আয়াতের প্রথমাংশ শয়তানের উক্তি। সে বলে যে সানুষকে যে সে মানুষকে ফুসলায়ে বা বড় বড় লোভের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বপথে নেবে। পশুর কান ছেদা করে দেব দেবীর নামে উৎসর্গ করাবে,(একেই বলে ধর্মের ষাঁড়)। ফুসলীয়ে মানুষকে আল্লাহর দেওয়া আকৃতি বদলে, অর্থাৎ পুরুষকে নারী আর নারীকে পুরুষের আদলে বা পোশাকে বা সার্জারীর মাধ্যমে ভিন্ন আকৃতি বানাতে উৎসাহ দেব, শরীরে উল্কি (টাট্টু)আঁকতে উদ্বুদ্ধ করব। আল্লাহ বলেন, যারাই শয়তানের এহেন ডাকে সাড়াদিয়ে তাকে বন্ধু বানাবে সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে নিপতিত হবে। পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন;

১২০/يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلاَّ غُرُورًا
অর্থাৎ;-সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বৃথা আশ্বাস দেয়। শয়তানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।
১২১/أُوْلَـئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَلاَ يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيصًا
অর্থাৎ;-তাদের বাসস্থান জাহান্নাম। তারা সেখান থেকে কোথাও পালাবার যায়গা পাবেনা।
যেহেতু এরা হুশিয়ার করার পরও শয়তানের সাথে বহু পথ অতিক্রম করে গেছে, অতএব তাদের ফেরার পথ নেই। তাদের জাহান্নামেই চিরকাল বাস করতে হবে।

১২২/وَالَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَعْدَ اللّهِ حَقًّا وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللّهِ قِيلاً
অর্থাৎ; আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, অচিরেই আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার পাদদেশে নহর সমূহ প্রবাহীত হয়। তারা তাথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, আল্লাহর চেয়ে কথায় অধিক সত্যবাদী আর কে আছে?
অভিশপ্ত শয়তানের অনুগামীদের জাহান্নামের শাস্তির পরেই সৎকর্মশীল মুমিনদের জাননাতের সুখবর দেওয়া হল। আলল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কেহ নেই।

১২৩/لَّيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَن يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلاَ يَجِدْ لَهُ مِن دُونِ اللّهِ وَلِيًّا وَلاَ نَصِيرًا
অর্থাৎ;-তোমাদের বৃথা আকাংক্ষায় কোন ফলনেই ও আহলে কিতাবদেরও বৃথা আকাংক্ষায় কন কাজ হবে না। যে কেউ মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া নিজের কোন সাহায্যকারী বা সমর্থক পাবেনা।

১২৪/وَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتَ مِن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُوْلَـئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلاَ يُظْلَمُونَ نَقِيرًا
অর্থাৎ;-যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমানও নষ্ট হবেনা।
সৎ কাজ করবে এবং ইমানদার হবে সে পুরুষহোক কিংবা নারী, তার পুরষ্কারে বিন্দু মাত্র কম করা হবে না। সুরা আলে ইমরাণে আমরা পড়ে এসেছি, যে যা কামাই করবে, পুরুষ কিংবা নারী, তাতে তার প্রাপ্য অংশ থাকবে।

১২৫/وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لله وَهُوَ مُحْسِنٌ واتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً
অর্থাৎ;-তার চাইতে উত্তম ধর্ম কার? যে আল্লাহর নিরদেশের সামনে মস্তক অবনত করে,সৎ কাজে নিয়জিত থাকে এবং ইব্রাহীমের ধর্ম অনুসরণ করে, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন। আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধু রূপে গ্রহন করেছেন।
ইহুদী, নাসারা ওমুসলীম সবারই পূর্বপুরুষ ছিলেন হজরত ইব্রাহীম আঃ। তিনি একনিষ্ঠ মুসলাম ও আল্লাহর বন্ধু ছিলেন। অতএব যদি তারা সকলে সেই ইব্রাহীমের ধর্মটির অনুসরণ করত তবে ধর্ম বিষয়ে ভেদাভেদ থাকত না

১২৬/وَللّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَكَانَ اللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ مُّحِيطًا
অর্থাৎ;-যাকিছু নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে রয়েছে সবই আল্লাহর। এবং যাবতীয় বস্তুই আল্লাহর আয়ত্তাধীন।
এ আয়াতটি এ রুকুর উপসংহার। যে যাই করুক, যতদূরে যাক, মূর্তী পূজা করুক আর আকৃতি বদল করুক। এক কথায় যাই করুক, সকলেই আল্লাহর আয়ত্বের মধ্যে রয়েছে। কেহই তার বাইরে নয়।

২ comments

  1. 1

    মুনিম সিদ্দিকী

    চলুক সাথে আছি সামাদ ভাই।

  2. 2

    আবদুস সামাদ

     সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। দোওয়া করবেন। অসুস্থ হয়ে প্রায় মাস খানেক লিখাটায় হাত দিতে পারিনি। বেশ পিছিয়ে পড়লাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.