"আপনারাতো আমার বাবাকে চেনেন - উনি কি মাফ চাওয়ার লোক?" - সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
"বাবা বলেছেন - আমি ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা একজন লোক - আমি মাথা নত করি না" - হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
বাংলাদেশের রাজনীতির অংগনে অহংকারী এবং অশ্লীল বাক্য ব্যবহারের জন্যে পরিচিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চেনার জন্যে তার ছেলের উপরের দুইটা উক্তিই যথেষ্ট। একজন দাম্ভিক মানুষ - এক সময় অকপটে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন - চেলেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন - কেউ তার বিচার করতে পারবে না। তার মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটতি অপরাধের জন্যে মামলা হলেও সামরিক শাসকদের ছত্রছায়া রাজনীতিতে ফিরে এসে মামলার সকল নথি গায়েব করে ফেলেন। কিন্তু তাতে কি তার শেষ রক্ষা হয়েছে!
এই পর্যন্ত যতগুলো অপরাধীর বিচার হয়েছে ট্রাইবুন্যালে - দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচার আর সাকা চৌধুরীর বিচারের ক্ষেত্রে অপরাধীর পক্ষের আইনজীবিরা ভিন্ন প্রক্রিয়ার মামলা পরিচালনা করে। সাঈদীর ক্ষেত্রে মামলাটি ছিলো মুলত প্রসিকিউশনের টিমের অনভিজ্ঞতার ছাপ - সেখানে ডিফেন্সটিম ক্রিমিন্যাল প্রসিকিউশনের যথেষ্ট দক্ষ হওয়ায় প্রায় সাঈদীকে নির্দোষ প্রমান করেই ফেলেছিলো। তাই দেখি রায়ের দূর্বলতার সুযোগে সুপ্রীম কোর্ট চুড়ান্ত সাজা কমিয়েছেন। আর সাকার ক্ষেত্রে বিষয়টা হয়েছে সম্পূর্ন উল্টা - সেখানে ডিফেন্স টিম কোন অভিযোগের বিরুদ্ধে ডিফেন্স তৈরী করেননি। বরঞ্চ ডিফেন্স টিম একটি ঝুঁকি নিয়েছে যাতে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো একবাক্যে মিথ্যা প্রমানিত হয়ে যায়। তারা প্রমান করার চেষ্টা করেছে "অভিযুক্ত ব্যক্তি" ঘটনার সময় ভিন্ন কোন জায়গায় উপস্থিত ছিলেন - মানে ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন - আইনের ভাষায় তাকে বলে - Alibi ("Alibi is different from all of the other defenses; it is based upon the premise that the defendant is truly innocent.") - সেই অনুসারে তারা প্রমান করার চেষ্টা করেছে যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলো) কিন্তু প্রসিকিউশন প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে যথেষ্ট স্বাক্ষী প্রমান এনেছে কোর্টে - এমনকি সাকা চৌধুরী পক্ষে সাফাই হিসাবে দাখিল করা বই পত্রেও সাকার অপরাধের বিবরন আদালত দেখেছে। অন্যদিকে সাকা চৌধুরীর পক্ষ ট্রাইবুন্যালে সন্দেহাতীত ভাবে তার এলিবি প্রমান করতে পারে নি - পরবর্তীতে আপীলেও তেমন কোন কোন বিষয় আনেনি যা তার পক্ষে যায়। অবশেষে যখন সব আশা শেষ (হয়তো আশা ছিলো রাজনৈতিক ডামাডোলে এবং সহিংসতার মাধ্যমে বিচার ভন্ডুল কর যাবে অথবা সরকার বদল হলে বিচার এড়ানো যাবে।) তখন আপীলের রিভিওর সময় পাকিস্তান থেকে স্বাক্ষী আনা আর পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির সার্টিফিকেটের নামে কয়েকটা কাগজ দাখিল করে একটা শেষ চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। মজার বিষয় হলো বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন সিনিওর আইনজীবি এই কাগজগুলো কোর্টে হাজির করেন - যা যে কোন সাধারন মানুষও বুঝবে যে কতটা কাঁচা হাতে এই কাগজগুলো তৈরী করা হয়েছে।
অবশেষ সব উৎকন্ঠার অবসান হয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নামক একজন মানবতাবিরোধী অপরাধীর উদ্ধত জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে একটা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে - প্রমানিত হয় অপরাধী অপরাধ করে যতই ক্ষমতাশীন হোক - বা উদ্ধত হউক - কোন না কোন সময় তাকে মাটিঁতে শুতেই হবে।
তবে এখানেই লেখাটা শেষ করতে পারলে ভাল হতো - কিন্তু খলের ছলের অভাব নেই - তাই মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বিতর্ককে চালু রেখের যাওয়ার জন্যে রাষ্ট্রপতির কাছে জীবন ভিক্ষার সুযোগ গ্রহন করে একটা চিঠি লিখে রেখে গেছেন উনি - যা আইনী দৃষ্টিতে "মার্সি পিটিশন" হিসাবে বিবেচিত হয়েছে এবং যথারীতি রাষ্ট্রপতি তা "রিজেক্ট" করেছেন - কিন্তু তার পরিবার এবং তার দল বিএনপি থেকে বলা হচছে উনি ক্ষমা চাননি। এই বিতর্কের কোন শেষ নেই। তার চিঠি একটা ক্লাসিফাইড ডকুমেন্ট - সেই সুবাদে একদল বলছে - উনি ক্ষমা চেয়েছে - আরেকদল বলছে উনি ক্ষমা চাননি। আমি বিশ্বাস করি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ক্ষমা চান নি - এই উঁচ্চতার অপরাধীরা অপরাধ করে কখনই অনুতপ্ত হয় না - হতে পারে না। সুতরাং তার জন্যে ক্ষমা হলো বিনয় - উদ্ধত মানুষ বিনয়ী হয় না।
যাই হোক - সাকার মতো একজন নোংরা ভাষা ব্যবহার করা রাজনীতিবিদও বিএনপির কাছ থেকে ভাল একটা সনদ পেয়েছে - বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির শেষ বিবৃতিতে যতটা না অবাক হয়েছে তার চেয়ে বেশী বিএনপির প্রতি করুনা করেছে - যে লোক তার নিজের দলের প্রধানকে কটুকথা বলে দল থেকে বহিষ্কুত হয়েছিলো - তাকে তারা একজন সুশীল রাজনীতিক হিসাবে সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য হয়েছে - এর চেয়ে নীচে নামা কি বিএনপি পক্ষে সম্ভব!
(২)
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ নামক আরেক যুদ্ধাপরাধীর চুড়ান্ড দন্ড কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম রাষ্ট্র একটা নতুন উচ্চতায় উঠে গেলো। মুজাহিদের মামলা তুলনামুলক ভাবে সহজ ছিলো। ৭১ সালে তার কর্মকান্ড যা তাকে সেই সময়ে হিরো হিসাবে তৎকালীন পত্রিকায় ( দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পূর্ব পাকিস্তান ইত্যাদি) প্রকাশিত হয়েছে তাই তার বিরুদ্ধে প্রমান হিসাবে যথেষ্ট ছিলো। যদিও কোর্টে ডিফেন্স থেকে ক্লিমিন্যাল ল এর আলোকে বারবার প্রমানে চেষ্টা হচ্ছিলো যে - উনি সরাসরি কাউকে খুন করেননি - (যদিও স্বাক্ষিরা তার সংশ্লিষ্টতার পক্ষে স্বাক্ষী দিয়েছে) কিন্তু কোর্ট আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের আলোকে "সুপিরিওর রেসপসিবিলিটি"র অভিযোগ থেকে উনাকে মুক্ত করতে পারেনি। এই প্রথম ট্রাইবুন্যাল সুপিরিয়র রেসপসিবিলিটির কারনে একজনকে দন্ড দিয়েছে। মুজাহিদের ৭১ এ উদ্ধত বক্তব্য আর আল বদর বাহিনী গঠন এবং কর্মকান্ড পরিচালনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমান করা সহজ ছিলো - কারন ৭১ সালে তারা স্বপ্নেও ভাবেনি যে তাদের তখনকার "বীরত্বের" খবরগুলোই একসময় তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেবে।
(৩)
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো - এই যুদ্ধাপরাধীর দন্ড কার্যকরের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এবং বক্তব্যগুলো তাদের ৭১ এর কর্মকান্ড পক্ষেই গিয়েছে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হয়ে রাষ্ট্র হিসাবে প্রায় অর্ধশতক ধরে গড়ে উঠছে - আজও পাকিস্তান তার অনুগত দালালদের পক্ষে সাফাই গাইছে - এইটাই প্রমান করে ৭১ এ এরা কতটা নিবেদিত ছিলো পাকিস্তান রক্ষায় - তাদের অপকর্মের বিচার হলো - কোর্ট তাদের সব ধরনের সুযোগ দিলো - সুপ্রীম কোর্ট তাদের আপীল শুনলো - এখন পাকিস্তান বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে - তুলতেই পারে - কারন যারা ইসলামে নামে দেশ রক্ষার জন্যে নিজের বোনের মতো বাংলাদেশী মেয়েদের ধর্ষন করেছে - হত্যা করেছে নির্বিচারে - তার জন্যে তাদের দেশের মানুষের কাছে সামান্য জবাব দিহিও করতে হয়নি - বিচারতো দুরের কথা। অনেকে প্রশ্ন তুলো ১৯৫ জন্য পাকিস্তানী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী বিচার বাংলাদেশ করতে পারেনি কেন? এর উত্তর বোধ হয় পাকিস্তান ইতোমধ্যে দিয়েছে - তারা বিচার বিষয়টা বুঝে না এবং তাদের অনুগত বাংলাদেশীও বিচার বুঝে না - এরা বুঝে ষড়যন্ত্র আর মিথ্যাচার।

Bin Zahid
নভেম্বর ২৭, ২০১৫ at ৩:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দারুন আলোচনা। মুজাহিদের রায়’এর পর পাকিস্তান’এর কিছু দলের মানবন্ধন ও বক্তব্য প্রমাণ করে ৭১ মুজাহিদ ‘পাক’দের পক্ষেই ছিলো। তবে ৭১ এর পরে সে আমাদের দেশে কিভাবে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ হলো সেটাও ভেবে দেখার দাবি রাখে।
Lonely Shepherd
নভেম্বর ৩০, ২০১৫ at ৯:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সত্যিই চিন্তার বিষয়
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীরা কিভাবে রাজনীতিতে পূর্নবাসিত হলো তা তো ইতিহাস নয় -- চলমান ঘটনা মাত্র। যেমন ধরুন -- জিয়াউর রহমান বিএনপি তৈরীর সময় তাদের গঠনতন্ত্রে "বাংলাদেশ বিরোধী -- যুদ্ধাপরাধীদের" বিএনপির সদস্যপদের অযোগ্যের বিধান রেখেছিলেন -- কিন্তু বিএনপি সর্বশেষ কাউন্সিলে সেই বিধান বাতিল করেছে -- ফলে যুদ্ধাপরাধীরা সহজেই বিএনপির সদস্য হতে পারবে। বলাই বাহুল্য -- বিএনপি দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক মানবতাবিরোধী হিসাবে স্বীকৃতি সাকা চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কারতো করেই নি -- বরঞ্চ দলের বিবৃতি দিয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা এবং অস্বীকার করেছে -- যার পরিনতি হবে ভয়াবহ।
আর জামায়াতের ফিরে আসা নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো সময় নেই। সংক্ষেপে বলি -- সামরিক শাসক জিয়া এবং এরশাদ (যারা দুইজনই অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলো) এই দেশে ভোটের রাজনীতি সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই এই যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের দলকে পূর্নবাসিত করেছেন। মুলত কমিউনিজন ঠেকানোর জন্যে বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে রাজনৈতিক দলের উত্থান ছিলো পশ্চিমা পরিকল্পনার অংশ -- এখন কমিউনিজম নেই -- তাই তাদের প্রতি সমর্থনও নেই।
আপনাদের প্রশ্নের উত্তর এখানে কিছুটা পাবেন।
http://kathakata.com/archives/491
মুনিম সিদ্দিকী
নভেম্বর ২৯, ২০১৫ at ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রাজনীতি যারা করেন না বুঝে শুরু করলেও করতে করতে বুঝে ফেলেন রাজনীতি হচ্ছে ক্ষুধার্ত বাঘের পীঠে সওয়ার। সামান্য ভুলের মাশুল জীবন দিয়ে দিতে হয়।
যত বড় নন্দিত বা নিন্দিত রাজনীতিবিদ হোন না কেন রাজনীতি থেকে একদিন না একদিন তাকে প্রস্থান করতে হয়। কেউ কেউ জন বিচ্ছিন্ন হয়ে নিন্দিত হয়ে প্রস্থান করেন কেউবা ট্র্যাজেডির নায়ক কিংবা খল নায়ক হিসাবে করুণ ভাবে প্রস্থান করেন।
আমাদের ইতিহাসে এই সব প্রস্থান নতুন কিছু নয়।
তবে কে নায়ক আর কে খলনায়ক তা সম সাময়িক মানুষ বস্তু নিরেপেক্ষ ভাবে শনাক্ত করতে পারেনা। সঠিক মূল্যায়ণের জন্য অন্ততঃ শতাব্দী তো লাগেই । নতুবা আজো বাঙ্গালীদের মানসে নবাব সিরাজদ্দৌলাহ জালিম অর্বাচিন নবাব হয়েই থাকতেন আর মিরজাফর আলী খান নায়ক হয়ে থাকতেন।
ধন্যবাদ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার এই ধরনের মন্তব্যে অবাক হই না -- কারন জেনে বুঝে কিভাবে আপনি সমর্থন করেন এই অপরাধীদের।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৯:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জিয়াভাই সমর্থন অসমর্থনের প্রশ্ন নয় প্রশ্ন হচ্ছে এই হতভাগ্য জাতি ১৯০ বছর অনেক জান অনেক মান সম্পদ আত্মমর্যাদা কুরাবানী দিয়ে গোলামীর নাগপাশ থেকে মুক্তি পেয়েছিল। আমরা আবার সেই গোলামীর দিকেই ফিরে যাচ্ছি বলেই শঙ্কিত। কেউ কেউ অবশ্য ব্যক্তিগত লাভ লসের মোহ কিংবা প্রতিশোধ পরায়ণ মানসিকতার জন্য জাতি যে জল্লতির জিন্দেগীর দিকে আত্মবিনাশ সাধন করে এগিয়ে যাচ্ছে তা অনুধাবন করতে পারছেন না।
একটি জাতির মধ্যে বিরাজমান বৈশম্য একদিন না একদিন দূর করা যায় কিন্তু এক জাতি পারিধনতার শৃংখলে একবার বাধা পড়ে যায় তখন তা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায়না।
আল্লাহ যেন আমাদের এই হতভাগ্য অত্মবিনাশী জাতিকে তার কুদরতি ক্ষমতা দিয়ে রক্ষা করেন। আমিন।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
১৯০ বছরের হিসাবটা বুঝি নাই, মুনিম ভাই। ১৯০ বছর আগে বাংলাদেশ স্বাধীন ছিলো কি?
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৯:১১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
১৯০ বছর আগে শহীদ নবাব সিরাজ (রঃ) কি বাংলা বিহার উড়িষ্যার স্বাধীন নবাব ছিলেন না?
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, বাংলা তখন নামে স্বাধীন ছিল কাজে না।স্বাধীনতা বলতে কি শুধু নিজ দেশের উপর অন্য দেশের শাসন না থাকাকে বোঝায়? নাকি মানুষের জীবনের সব চাহিদা পূরণ(খাদ্য,বস্ত্র,আশ্রয়,স্বাস্থ্য,সুরক্ষা,শিক্ষা,বিনোদন ইত্যাদি) বোঝায়? হতে পারে বাংলা তখন স্বাধীন ছিল।কিন্তু কীসের ভিত্তিতে? নবাব সিরাজের পতনে কি সে সময় বাংলার মানুষের উপর কোন প্রভাব পড়েছিল? যদি না তবে কীভাবে বাংলা স্বাধীন হয়?
বিঃদ্রঃ এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।
আরেকটি প্রশ্ন-নবাব সিরাজের নামের পরে কীভাবে (র) যোগ সম্ভব? @মুনিম ভাই
সুজন সালেহীন
নভেম্বর ৩০, ২০১৫ at ১:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরী সাহেবকে প্ররোচিত না করলে উঁনি সম্ভবত নিজ থেকে কথিত নোংরা কথা বলতে দেখা যায়নি। তবে কিছু শীর্ষ রাজনীতিবিদ আছে এরা জাত কুরুচিপূর্ণ। দেশে এমন রংহেডেড রাজনীতিবিদও আছেন কথায় কথায় যতবড় সামাজিক মর্যাদার মানুষ কিংবা অগ্রজ হোক ঠাট্টা-বিদ্রূপ-তাচ্ছিল্য ও অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে।
আপনার মতে ডিফেন্স লইয়ারের দক্ষমতায় প্রায় নির্দোষ প্রমাণ করা ফেলা সাঈদী সাহেবকে বিচারিক আদালত অর্থাত ট্রাইব্যুনাল নূন্যতম কিংবা মাঝারী দন্ড না দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কিভাবে প্রদান করে? নাকি ফরমায়েশী বিচারের শাস্তি শুধু মৃত্যুদন্ডই নির্ধারিত? কোন বিচারিক ত্রটি নয়, একদম সোজা কথায় বললে হাসিনা সরকার জনরোষের ভয়ে সাঈদী সাহেবের মৃত্যুদন্ডকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে পরিণত করতে বাধ্য হন। কারণ তারা ইতিমধ্যে জনরোষের কিছুটা আলামত দেখতে পেয়েছে। ফরমায়েশী বিচারের আর কি বাকী থাকে যখন দেখা যায় ফাঁসি কার্যকরের পর সরকারপক্ষের লোকজন মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস নৃত্য করতে যায়। এটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্টা নাকি রাজনৈতিক জিঘাংসা?
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। তবে এখানে ‘প্রাণভিক্ষার আবেদন’ বলে কিছু নেই। এটি সংবিধান প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির একান্ত বিবেচনামূলক ক্ষমতা, যা তিনি সাধারণত কোন বিচারপ্রক্রিয়ায় ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে অপনোদনে প্রয়োগ করতে পারেন সর্বশেষ ধাপ হিসেবে যেন ন্যায়বিচার সর্বাঙ্গে প্রতিষ্টা পায়। তবে এ ক্ষমতার রাজনৈতিক অপপ্রয়োগ দেখা যায়। এ ক্ষমতার অধীনে সদ্য প্রয়াত একজন রাষ্ট্রপতি তাঁর দলের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক মানবদেহকে অষ্টখন্ডে খন্ডিত করে খুনের অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে বেকসুর মওকুফ করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বৈপরীত্য বাদ দিলেও এই অনুচ্ছদের মার্জনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। কারণ ১৯৭৩ সালে ও বর্তমান হাসিনা সরকার কর্তৃক আইন সংশোধনীর মাধ্যমে তাদেরকে সংবিধানের সাধারণ স্কিম থেকে বের করে আনা হয়। বর্তমান হাসিনা সরকার আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বিচারের যথার্থতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবার জন্য কৌশলে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে লিখিত কিছু আদায় করে নেয়। যাতে তারা বিচারের নানা অসংগতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতির কাছে লেখেন। এটিকে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা আসামীদ্বয়ের অপরাধস্বীকারমূলক প্রাণভিক্ষার আবেদন বলে বগল দাবানো শুরু করে। তাদের ধারণা পরিকল্পনামত কাজ হয়েছে। এখন বিশ্বকে দেখানো যাবে আসামীরা প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী এবং বিচার যথার্থ ছিল। এটি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ এই আবেদনের পথ তারা নিজেরাই সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে আগেই বন্ধ করে দিয়েছেন। সর্বশেষ সাধারণ কথা হচ্ছে সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা পাওয়ার জন্য অপরাধস্বীকার কোন শর্ত নয়। কারণ সংবিধানের অনুচ্ছেদেই বলা আছে কাউকে নিজের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবেনা। সংবিধান অনুযায়ী দন্ড কমানো বা মওকুফের জন্য দরখাস্ত যে কেউ (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা বারিত) রাষ্ট্রপতির কাছে করতে পারে। কারো যদি ১৪ বছরের জেল হয় তাহলে সে ৩ বছর খাটার পরে দরখাস্ত করতে পারে। যাবজ্জীবনের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের পরেও দরখাস্ত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ১০ বছর সাজা খাটার পরে বাকি ১০ বছর মাফ করে দিয়েছেন। এর সাথে দোষ স্বীকার না করার কোনো প্রশ্ন জড়িত নয়। এখন যদি বলা হয়, আসামীরা আবেদন করেছে মানে দোষ স্বীকার করেছে, তাহলে যারা আবেদন করেনি অথচ ফাঁসি হয়ে গেছে তারা কি নির্দোষ? এটা কখনো বলা যাবে না যে, তুমি দোষ স্বীকার না করলে তুমি এটা (আবেদন) করতে পারবে না। এটা সংবিধান পরিপন্থী। অন্যদিকে কেউ প্রাণভিক্ষা না চাইলে সেটা প্রাণভিক্ষার আবেদন হবে কেন? আবেদনে কী চাচ্ছে সেটা দেখতে হবে। আবেদনে আসামি যদি পুনঃবিচার চায়, তাহলে সেটা তো প্রাণভিক্ষার আবেদন হল না। আবেদনে যা চেয়েছে তা আবার রাষ্ট্রীয় গোপনীয় জিনিসও নয়। আবেদনের বিষয়বস্তু কী সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করে সরকার জনমনের বিভ্রান্তি দূর করতে পারে।
Lonely Shepherd
নভেম্বর ৩০, ২০১৫ at ৯:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যেই বিতর্কের কোনো প্রমাণ নেই(যা নিজেরা দেখেনি,অন্যরা প্রমাণ পেয়েছে) সেই বিষয় নিয়ে বিতর্ক করাটা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছু না।কিন্তু হ্যাঁ এভাবে বলতে পারি আদালতের রায় অনুসারে তারা অপরাধী।যেহেতু আমি ৭১ এর সময় ছিলাম না এবং এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকেও দেখি নি যারা উক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী বলেছেন।সবচেয়ে ভালো হতো কেউ যদি আদালতে দেয়া প্রমাণ/সাক্ষী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারত।তবেই এ নিয়ে কিছুটা অন্তত বলা যেত।অযথা কোনো রাষ্ট্রের দেয়া রায় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যায় না যেখানে কোনো ভিত্তি নেই।’Bin Zahid’ ভালো একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন।তা হলো, ৭১ এর পরে সে আমাদের দেশে কিভাবে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ হলো সেটাও ভেবে দেখার দাবি রাখে।এ বিষয়টাও আমাদের দেশের মানুষ জানতে চায়।এখানে আরও একটি বিষয় এসে যায় সেটা হলো একজন রাজাকার কীভাবে দেশের মন্ত্রী পদে বসত।আমাদের বর্তমান সরকার যুদ্ধপরাধী বিচার করে অবশ্যই একটি সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে যা পূর্বের কোনো সরকার নেয় নি।এটা সত্যিই একটি মহৎ উদ্যোগ।
আমরা অবশ্যই ৪৪ বছর আগেকার অজস্র গণহত্যা,ধর্ষণ ইত্যাদির বিচার চাই।কিন্তু আমরা সম্প্রতি ২ বছর আগেকার হত্যারও বিচার চাই ৫ মে ২০১৩ সালে মতিঝিলে আলেম,ছাত্রদের উপর করা বর্বরতার জন্য,সাগর-রুনী হত্যার জন্য ইত্যাদি।
পরিশেষে বলব,যদি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রাজাকার হয় তবে আমি এ বিচারের পক্ষে কিন্তু যদি তারা নির্দোষ হয় তবে আমি এর বিরুদ্ধে।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি যতটুকু জানি আদালতের সব গুলো রায়ই ওয়েব সাইটে পাওয়া যায়। সেইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। কোন বিষয়ে জানার জন্যে স্বশরীরে উপস্থিতিই যদি একমাত্র পথ হতো তবে বিশ্বজুড়ে এ্তো লাইব্রেরী থাকতো না। জানার একমাত্র পথ হলো পড়া। পড়ুন।
Lonely Shepherd
ডিসেম্বর ১, ২০১৫ at ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জ্বি ভাই,আপনাকে ধন্যবাদ আমি নিজে পড়তেই চাচ্ছি এবং বিষয়গুলো যাচাই করতে চাচ্ছি(আদালতের রায়ের তথ্যের উপর ভিত্তি করে)।আমি জানি না বলেই একথা বলছি।দয়া করে আমাকে কোনো লিঙ্ক দিতে পারবেন এ বিষয়ে?
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ২, ২০১৫ at ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ সানজিদ সরকার,
আল্লাহতালা আমাদেরকে মৃত মুসলিমদের জন্য তাদের গোণাখাতা মাফ চেয়ে দোয়া করতে আদেশ দিয়েছেন। গোণা খাতা মাফ চেয়ে রহমত উল্লাহি আলাইহি ( আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন) বলে দোয়া কেন করতে পারবোনা?
এই বিষয়ে কি আল কোরান কিংবা রাসুল সাঃ সুন্নাহতে বাধা বা নিষেধ দেয়া আছে?
আমাদের দেশে ইসলাম ধর্ম রক্ষাণাবেক্ষণ কিংবা ইসলাম ধর্ম রক্ষার জিহাদে শহীদদের নামের পিছনে (র) বসানো একটি রীতি রেওয়াজ অধুনা গড়ে উঠেছে বিধায় আমরা মনে করি শুধুমাত্র আউলিয়া দরবেশ গণের নামে পিছনে তা ব্যবহার করতে হয়।
নবাব সিরাজ কি শহীদের মর্যাদা পেতে পারেন না? যদি শহীদের দরজা পান তাহলে নামের শেষে রঃ বসালে ভুল হবে কেন?
আমাদের দেশে কত যদু মধু রাম স্যামকে শহীদ বলা হয়ে থাকে কিন্তু শহীদ তাকে বলতে যার নিহত হবার কারণ ইসলামের সাথে সম্পর্ক আছে। আমি তো ইতিহাসে পাইনি নবাব সিরাজ ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলেন যা ধর্ম নিরোপেক্ষতা করে থাকে।
আমি দীর্ঘ দিন আরবে ছিলাম সেখানে আমি দেখেছি তারা যখন কারো কেউ যদি অন্য কারো কাছ থেকে মৃত ব্যক্তি কথা শুনে তখন তারা রহমক আল্লাহ বলে মৃত মুয়াওলিম ব্যক্তির জন্য দোয়া করে। রহমক আল্লাহ আর রহমত উল্লাহি আলাইহির মধ্যে কি খুব প্রার্থক্য আছে কি?
Lonely Shepherd
ডিসেম্বর ২, ২০১৫ at ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জাযাকাল্লাহ খায়ির ভাই,ভালো একটি বিষয় জানলাম।আসলে আমাদের সমাজে একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা শুধু অন্ধকারে বাসই করে না বরং আলো দেখতেই চায় না।সূত্রহীন কথাকে তারা গুরুত্ব দিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে দেয়।প্রশ্নটি মূলত আরও একটি কারণে করেছিলাম অনেকে বলে নবাব সিরাজ শিয়া ছিল।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
ডিসেম্বর ৩, ২০১৫ at ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই --
সিরাজ স্বাধীন নবাব ছিলেন -- উনি শুধু বাংলা নয় -- উড়িষ্যা এবং বিহারের নবাব ছিলেন। তার মানে এই না তখন বাংলা স্বাধীন ছিলো। আর অন্যদিকে দেখুন সিরাজ নিজে না ছিলো বাঙালী -- না বাংলা ভাষায় কথা বলতেন বা বাংলঅ সংস্কৃতি ধারন করতেন। উনি ছিলেন তৃর্কি এবং তাজিকদের মিশ্রন। মুলত মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব নানান কারনে বাংলা-বিহার-উরিষ্যার নবাব (গর্ভনর) মুর্শিদ কুলী খানকে স্বাধীনতা দিয়েছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় আলিবর্দি খান পর্যন্ত এরা মোটামুটি স্বাধীন ভাবে এই অঞ্চল শাসন করেছে -- অবশ্যই দিল্লীর অধীনেই। যখন সিরাজ নবাব হয় তখন দিল্লীর শাসন এবং ক্ষমতা প্রায় ম্রিয়মান -- তাই সিরাজকে মোটামোটি স্বাধীন নবাব (গভর্নর) বলা হয় -- কিন্তু সিরা একজন বিদেশী শাসক ছিলেন -- এবং বাংলা কোনভাবেই স্বাধীন ছিলো না।
বাংলা স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ। কিন্তু তা খন্ডিত বাঙ্গালী জাতি নিয়ে -- ধর্মের ভিত্তিতে দুই ভাগ হয়েছে বাঙ্গলা সংস্কৃতির ধারকরা -- তা ছাড়াও পশ্চিম বংগে তখনও প্রচুর বাঙ্গালী মুসলিম রয়ে গিয়েছিলো। তাই পুরো বাঙ্গালী স্বাধীন না হলে জাতি হিসাবে বাঙ্গালীরা একটা স্বাধীন ভুখন্ড পায় ১৬ই ডিসেম্বরের দখলদার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে -- কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার জন্যে এখনই লড়াই চলছে।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ৩, ২০১৫ at ১২:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জিয়াভাই আমার বয়স ৫৬ পার হয়ে যাচ্ছে, আর বেশী দিন গড্ডালিকার প্রবাহের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই হয়তো চালিয়ে যেতে পারবোনা, তবে বাস্তব অবস্থা যা তা হচ্ছে এই যে, আমার বয়সীরা যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন তখন ১৯৭১ সালের নয় মাসের ঘটনাবলি পরবর্তী ৫ বছরের প্রত্যক্ষ দর্শী কেউ বেচে থাকবেনা, তখন আপনারা আপনাদের মত করে ইতিহাস রচনা করলেও কেউ আর আমার মত বিরোধী প্রতিকূলতার মধ্যে কণ্ঠ ছেড়ে বলতে আসবেনা, আপনি যা বলছেন তাতে সত্যের মিথ্যা প্রবেশ করিয়ে গুঁজামিল ইতিহাস !!!
আমি জানি আপনি একজন যথার্থ মুসলিম। একজন মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসাবে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন ইসলাম কি জাতীয়তাবাদ, আঞ্চলিকতাবাদ, ভাষাবাদ, গোত্রবাদ বংশবাদকে গ্রহণ করে। যদি করে তাহলে আল কোরান আর সুন্নাহ থেকে আমাকে দলিল দেখান।
আমি জানি ইসলাম কোন ধরণের জাতীয়তাবাদকে বৈধতা দেয় না। কারণ ইসলাম এসেছে সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য। গোত্রবাদ বংশবাদ বলেন আর আঞ্চলিকতাবাদ বলেন ইসলাম তা চর্চা করতে অনুমোদন দেয়না। ইসলাম ততটুকু মেনে নেবে যতটুকু তার ইসলামী ভাতৃত্ববোধে আঘাত না করে।
সিরাজ উদ দৌলা আম,আমার নেতা যখন বলি তখন খণ্ডিত ভাবে তাকে বাঙ্গালী না অবাঙ্গালী তা মুসলিম হিসাবে বিচার করা যাবেনা। একজন মুসলিমের বিচারের মাপকাঠি হচ্ছে মুসলিম আর অমুসলিমের মধ্যে। যেহেতু সিরাজ মুসলিম ছিলেন সেহেতু সিরাজ আমার উম্মাহর লোক ছিলেন তাকে ভিন দেশী বলার অধিকার কোন মুসলিমের থাকতে পারেনা। যদি থাকে তাহলে বুঝতে হবে সে মুসলিম ইসলামের যথার্থ স্প্রিট ধরতে পারেন না।
ইসলাম বলে সারা বিশ্ব আল্লাহর; কাজেই সারা বিশ্ব মুসলিমদের দেশ। এই মূল দর্শনের দাবিতে যে কোন মুসলিম যে কোন দেশে কখনো ভিন দেশী হতে পারেনা।
এই সত্য আপনি না বুঝলেও সারা পৃথিবীর বিধর্মী শক্তি বুঝে; তাই তো পৃথিবীর বুকে যখনই কোন মুসলিম শাসক রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্য স্থাপন করেছেন তখন সে রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্য ব্যক্তির ভৌগলিক পরিচয়ে পরিচিত হয়নি, হয়েছে মুসলিম হিসাবে।
আজো এই সত্য ইন্ডিয়ান বাঙ্গালীরা জানে; তাই আপনি যত বাঙ্গালী বাঙ্গালী দাবি করেন না কেন তারা আপনাকে মুসলিম বলেই জ্ঞান করে।
আপনারা ইসলামের নাম শুনলেই ক্ষুদ্রতা দেখতে পান, দেখতে পান প্রতিক্রিয়াশীলতা, ধর্মান্ধতা। আশাকরি ভুলে যাবেন না, আজকের বাংলাদেশ কিন্তু ১৯৪৭ সালের ধর্মভিত্তিক বিভাজিত হয়ে সৃষ্ট ভৌগলিক অবয়বের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। আজ যে গর্বিত বাঙ্গালী বলে নিজকে বিশ্বের বুকে পরিচিত করতে পারছে তা কিন্তু আপনাদের কথিত ধর্মান্ধদের দ্বারা সৃষ্ট পূর্ব পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিলো বলেই হয়েছে। এই ধর্মান্ধরা যদি পাকিস্তান সৃষ্টি না করতো তাহলে আপনি আমি আজ ভারতের নাগরিক হয়েই থাকতে তো। তখন আর বাঙ্গালী জাতিসত্তা নিয়ে এত বড় বড় বুলি আওড়াতে পারতেন কি? আজ ভারতীয় বাঙ্গালীদের অবস্থা কি?
শামিম
মার্চ ৭, ২০১৬ at ৮:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনার হায়াত দারাজ করুন। আসলে খুব কম মানুষের মধ্যেই ইসলামি উম্মাহ কি বিষয় সেই জ্ঞ্যান আছে। ১৯০ বছর পরাধীন ছিল সেটা ভুলে গেছে।আজকে কাশ্মিরের মুসলিমরা ৫০ বছর যাবত যুদ্ধ করছে তারা কি স্বাধীন হতে পেরেছে ? এই পাকিস্তানের উছিলায় আমরা আজ স্বাধীন জাতি। ১৯৭১ এর ৯ মাস এটাতো একটা আল্লাহ পাকের কৌশল মাত্র ! ৯ মাস ? যদি এটা ভারতের অংশ হত তাহলে কত বছরে স্বাধীন হতে পারত ?
এই দেশের ধর্মপ্রান সেই মানূষ গুলি যারা অকাতরে জীবন দিয়েছে ৪৭ এর আগে পরে বিভিন্ন দাঙ্গায় শকুন , কুকুর , কাকে খেয়েছে তাদের লাসগুলি রাস্তার অলিতে গলিতে তাদের লাস পচে-গলে পরে থাকত বহুদিন… সব ভূলেগেছে এদেশের মানুষ। আল্লাহ আমাদের পূর্ব-পুরুষের সেই কুরবানির উসিলায় আমাদের কে এই ভুখন্ড দিয়েছে…আমরা যেভাবে পাপে নিমজ্জিত হচ্ছি কবে যে আবার তা ছিনিয়ে নেয় কে জানে…
সদালাপ কর্তৃপক্ষ
ডিসেম্বর ৬, ২০১৫ at ১০:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নবাব সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে যতগুলি স্থানে পড়েছি, কোথাও তাকে ‘শহীদ সিরাজউদ্দৌলা (রঃ)’ হিসেবে উল্লেখ পাইনি। গুগল করেও তেমন কিছু পাওয়া গেল না। লেখাতে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা বলেই উল্লেখ করুন। আগে পিছে অতিরিক্ত কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই।
আরেকটি মন্তব্যে রয়েছে-
আল্লাহতালা আমাদেরকে মৃত মুসলিমদের জন্য তাদের গোণাখাতা মাফ চেয়ে দোয়া করতে আদেশ দিয়েছেন।
আল্লাহর নামে কিছু বলতে গেলে সদালাপে না আমাদের রেফারেন্স দেওয়ার কথা? তো সেটি/সেগুলি কই?
-ধন্যবাদ, সম্পাদক, সদালাপ
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ৭, ২০১৫ at ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জনাব, সম্পাদক সাহেব, কেউ সিরাজ উদ্দ দৌলা শহীদ রঃ না উল্লেখ করুক আমার করতে অসুবিধা কোথায়? আমাদের দেশে একদল মানুষ শহীদ জিয়া বললে শেখ মুজিবুর রহমানের বেলা শহীদ বলেন না। এই যে বলা আর না বলার মাপকাটি তা নিছক রাজনীতি। ধর্মীয় বিচার বিবেচনায় হা ডাকা বা না ডাকা হচ্ছেনা। অথচ জিয়া যেভাবে নিহত হয়েছেন মুজিব সে ভাবেই নিহত হয়েছেন। একজন কে শহীদ বলবেব আর একজনকে শহীদ বলবেনা তা কি ন্যায় হবে?
আর মৃত ব্যক্তির জন্য র লাগানোর মানে হচ্ছে মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে নাজাত লাভের জন্য দোয়া পড়া। এইগুলো আমাদের সমাজে ভুরিভুরি প্রচলিত বিধায় রেফারেন্স দেইনি। এই লিংক গিয়ে আমার কথা যথার্থতা দেখতে পাবেন । ধন্যবাদ।
Md Noman
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৫ at ৪:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আব সাইদ জিয়াউদ্দীন কেবল বাঙালি;মুসলিম…………..