«

»

Apr ১৩

দ্রোহের বৈশাখ বা বৈশাখের দ্রোহাগুন!

boishakhi shovajatra

ঝলমলে রৌদ্রজ্জ্বল দিনের বারতা নিয়েই বৈশাখ আসে। কিন্তু বর্তমানে কেবল ছাপার অক্ষরেই কিংবা চিত্রীর চিত্রতেই আসে। বাস্তবে বৈশাখ এখন শুধুই বাণিজ্য। বছরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য মূলত নববর্ষের আবরণেই হয়ে থাকে। সমাজের প্রতিটি স্তরে নোংরামী ছড়ানোর মত কঠিন দায়িত্বটি পালন কত সহজেই করা যায় তা বাঙ্গালীর নববর্ষের উদযাপন দেখলেই বোঝা যায়। বিকট বিকট দৈত্য দানোর মূর্তি সম্বলিত হিন্দুয়ানী প্রথার মঙ্গল শোভাযাত্রা শিশুদের মনে ভীতি ছড়ানো ছাড়া আর কী মঙ্গল আনতে পারে সে হিসাব কে রাখে! চল মেলায় যাই রে! উন্মাদনায় ভাসিয়ে নেয়ার কী অপূর্ব উদাত্ত আহ্বান। আর যদি কোন মূর্খ কোন কারণবশত এই আহ্বান উপেক্ষা করেই ফেলে মিডিয়া তো রইলোই। গিলতে না চাইলেও কিল মেরে গেলানো হবে। শুরুতে কেবল মেলা। তারপর দূর্গাভক্তের সিম্বল লালপেড়ে সাদা শাড়ি, টিপ, মঙ্গল প্রদীপ, শোভাযাত্রা সংযোজন। একে একে দেবদেবী, লক্ষী-অলক্ষী, অসুর সবাই উপস্থিত। লিষ্ট অনেক বড়। বহু লেখালেখি হয়েছে। ব্যঙ্গও হয়েছে। কিন্তু নীট রেজাল্ট হলো মত্ত বাঙ্গালীর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে চেতনা ব্যবসায়ীর ব্যবসা। বাড়তেই হবে। ক্ষয়ে যাওয়া ঈমানের জৌলুস ফেরাতে যে শিরিষ কাগজের প্রয়োজন তার বড় অভাব। কালে ভদ্রে সেটি মিললেও ঘর্ষণের উপযোগী বলিষ্ঠ হাতের আকাল। বাঙ্গালী এমনিতেই অপুষ্ট।

আমি ব্যবসায়ী, আমি উঠতি মডেল, আমি ফ্যাশন ডিজাইনার, আমি শিল্পী, আমি ফেরীওয়ালা, আমি লেখক। আমি সফলতা চাই, ইনকাম চাই। আমি কেন তাহলে ছেড়ে দেব এত বড় সুযোগ! আর বাঙ্গালীও উৎসব-প্রিয়। তাহলে দোষটা কোথায়! নীতি দিয়ে, মুসলমানিত্ব দিয়ে তো সংসার চলবেনা। খুশিতে বাকবাকুম অবস্থা চেতনার ভণ্ড ফেরীওয়ালার। জালে ধরা পড়ছে সব প্রজাতীর মাছ!

বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধতে হবে। যে কেউ বাঁধতে পারে, তবে আমি না। আমি নিরপেক্ষ। আমি ইঁদুর আর বেড়ালের মাঝামাঝি একটি জীব। আমি ডানপন্থী বুদ্ধিজীবি। আমি নববর্ষের বিপক্ষে বলছি না তবে অনৈসলামিক, পৌত্তলিক সংস্কৃতি বাদ দিতে হবে! আল্লাহ আর আল্লাহর পুত্র তো একসাথে চলেনা। নাহলে ইঞ্জিলই সই, কুরআন আসতো না। ‘না’ দিয়ে হতোনা কালেমা শুরু। একমুখী হতেই হবে।

অশ্লীলতা আর নোংরামীর এই দাবানল নিভানোর ভার যদি প্রকৃতির উপরই ছেড়ে রাখা হয় এখনও, তবে মুসলমানিত্বকে কফিনে পুরে পেরেক ঠুকতে বেশী দেরি নেই। ইসলাম বিদ্বেষীদের অ্যাডভান্টেজ সবসময়ই বেশী। কারণ শয়তানের আমন্ত্রণ সর্বদা উপভোগ্য। তবে অজেয় অবশ্যই নয়। তার সাথে লড়তে হলে সেইরকমই যোগ্য হতে হবে। বলিষ্ঠ হতে হবে।

অতি ধুরন্ধর বামপন্থী আর উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত মুসলিম নামসর্বস্ব পেইড এজেন্টদের সফলতার হিসেব না কষে, নিতে হবে আধুনিকতা নামক আফিমের নেশায় বুদ হওয়া প্রজন্মকে জাগাবার গুরু দায়িত্ব। নিজের দুর্বলতা কোথায় তা বের করুন। হা হুতাশ না করে বাস্তবমুখী চিন্তায় সময় ব্যয় করুন। কী হচ্ছে তা বলুন। সাথে ভবিষ্যতে কী হবে তাও বলুন। পথহারাকে পথ বাতলে দেন। না জানলে সেটা নিয়েই গবেষণা করুন। নাহলে যতই বুলি কপচান সস্তা জনপ্রিয়তাই হবে। মোহগ্রস্ত জনতার মোহ ভাঙ্গবেনা। যতই প্রচেষ্টা করি হতাশাই আসবে। সমাজ বদলাবে না।

৯ comments

Skip to comment form

  1. 1

    এম_আহমদ

    সমাজের প্রতিটি স্তরে নোংরামী ছড়ানোর মত কঠিন দায়িত্বটি পালন কত সহজেই করা যায় তা বাঙ্গালীর নববর্ষের উদযাপন দেখলেই বোঝা যায়। বিকট বিকট দৈত্য দানোর মূর্তি সম্বলিত হিন্দুয়ানী প্রথার মঙ্গল শোভাযাত্রা শিশুদের ভীতি ছড়ানো ছাড়া আর কি মঙ্গল আনতে পারে সে হিসাব কে রাখে! … দূর্গাভক্তের সিম্বল লালপেড়ে সাদা শাড়ি, টিপ, মঙ্গল প্রদীপ, শোভাযাত্রা সংযোজন। একে একে দেবদেবী, লক্ষী-অলক্ষী, অসুর সবাই উপস্থিত। লিষ্ট অনেক বড়। বহু লেখালেখি হয়েছে। ব্যঙ্গও হয়েছে। কিন্তু নীট রেজাল্ট হলো মত্ত বাঙ্গালীর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে চেতনা ব্যবসায়ীর ব্যবসা। বাড়তেই হবে। ক্ষয়ে যাওয়া ঈমানের জৌলুস ফেরাতে যে শিরিষ কাগজের প্রয়োজন তার বড় অভাব। কালে ভদ্রে সেটি মিললেও ঘর্ষনের উপযোগী বলিষ্ঠ হাতের আকাল। বাঙ্গালী এমনিতেই অপুষ্ট।

    …. অতি ধুরন্ধর বামপন্থী আর উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত মুসলিম নাম সর্বস্ব পেইড এজেন্টদের সফলতার হিসেব না কষে, নিতে হবে আধুনিকতা নামক আফিমের নেশায় বুদ হওয়া প্রজন্মকে জাগাবার গুরু দায়িত্ব।

    চালিয়ে যান। আল্লাহ আপনাদের সহায়। তিনি সবাইকে পৌত্তলিক মুসলিমদের হাত রক্ষা করুন।

    1. 1.1

      সুমাইয়া হাবীবা

      ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন।

  2. 2
    ফাতমী

    "ইসলাম বিদ্বেষীদের অ্যাডভান্টেজ সবসময়ই বেশী। কারন শয়তানের আমন্ত্রন সর্বদা উপভোগ্য। তবে অজেয় অবশ্যই নয়। তার সাথে লড়তে হলে সেইরকমই যোগ্য হতে হবে। বলিষ্ঠ হতে হবে।"-সুমাইয়া হাবিবা

    একেবারে সঠিক কথা।

    1. 2.1

      জি।

  3. 3
    আহমেদ শরীফ

    শিক্ষিত মুসলিম বাঙালিসমাজ সুদীর্ঘকাল ধরে হীনবল দাসত্বের শৃঙ্খলে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছে। প্রথমে ইংরেজদের দাসত্ব, যার জের এখনো চলছে। ঔপনিবেশিক দাসত্ব রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ছেড়ে চলে গেলেও সাংষ্কৃতিক দাসত্বের ঔপনিবেশিক শেকলে খুব মজবুতভাবেই এখনো বাঁধা আছে। এরপর কোলকাতার বাবু সংষ্কৃতির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব। এর হাতে ন্যাক্কারজনকভাবে বন্দী এখনো এক বিরাট অংশ। এতটা আত্মবিস্মৃত-ব্যক্তিত্ববিবর্জিত-মর্যাদাবিসর্জিত জাতির একজন সদস্য হিসেবে গর্ব তো দূরের কথা _ লজ্জিত হওয়া উচিত। হীনবল বিদূষকের মত বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের অভিশাপে সেই লজ্জাটুকুও আজ অন্তর্হিত।

    আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে পয়লা বৈশাখ একটি বিদ'আতি রসম যার মধ্যে কোনই মঙ্গল নেই। এছাড়াও মুশরিকরা যেহেতু রীতিমত এক ধরণের ধর্মীয় আবহে এটি পালন করে সেহেতু, এবং সুন্নাতের খিলাফ হিসেবে মুসলিমদের জন্য এটি অবশ্য-পরিত্যাজ্য।

  4. 4
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    বোনকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য। আমি এই বৈশাখের সমস্ত শিরকী আচার হতে বহুদিন ধরেই দূরে আছি।

  5. 5
    mahabub

    আল্লাহ আমাদের শিরক কুফরি থেকে হেফাযত করুন। আমদের দেশে ইসলামি শরিয়তের জ্ঞান কম। তাই শয়তানের সুযোগ অনেক। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন আমিন।

    যারা ইসলামের আলেম, ইমাম তাদের আরও বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখা দরকার।  

  6. 6
    s

    Well said. Hindus are coming….coming to rule B'desh

     

     

  7. 7
    লায়লা

    ;অশ্লীলতা আর নোংরামীর এই দাবানল নিভানোর ভার যদি প্রকৃতির উপরই ছেড়ে রাখা হয় এখনও, তবে মুসলমানিত্বকে কফিনে পুরে পেরেক ঠুকতে বেশী দেরি নেই। ইসলাম বিদ্বেষীদের অ্যাডভান্টেজ সবসময়ই বেশী। কারণ শয়তানের আমন্ত্রণ সর্বদা উপভোগ্য। তবে অজেয় অবশ্যই নয়। তার সাথে লড়তে হলে সেইরকমই যোগ্য হতে হবে। বলিষ্ঠ হতে হবে।

    সুন্দর মুল্যায়ন। সহমত যানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.