বিবর্তনবাদীদের দেবতুল্য গুরু রিচার্ড ডকিন্সের "The Greatest Show on Earth" লেকচার ভিডিওতে একজন মহিলা প্রশ্ন করেছেন এভাবে-
Even given the billions of years that you say were available for evolution, I simply can not believe it is possible to go from a single cell to a complicated human body.
এর জবাবে অন্য একজনের কথাকে উদ্ধৃত করে রিচার্ড ডকিন্স বলেছেন-
But madam you did it yourself, and it only took you nine months!
অর্থাৎ এককোষী একটি অণুজীব থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে হাতি-জিরাফ-তিমি ও মানুষের মতো বিশাল ও জটিল সব প্রাণী ধাপে ধাপে কীভাবে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব – এমনকি বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময়ও যদি দেওয়া হয়? রিচার্ড ডকিন্সের জবাব- একজন নারী মাত্র নয় মাসেই তা করে! কীভাবে? ওয়েল, শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলন তথা অতি ক্ষুদ্র ও সরল (?) একটি জায়গোট থেকে শুরু করে মাত্র নয় মাসেই নারীর গর্ভে মানুষের মতো জটিল প্রাণী বিবর্তিত হয়!
পাঠক কি রিচার্ড ডকিন্সের প্রতারণা ধরতে পেরেছেন? উনি কীভাবে তার অন্ধ মুরিদদেরকে ঘোল খাইয়েছেন তা ভাবতেও অবাক লাগে! পশ্চিমা নাস্তিকের ঘোল বলে কথা – দুধের মতো সাদা! অথচ সেই ডকিন্সের-ই কিছু অন্ধ মুরিদ হাঁটুতে বুদ্ধি নিয়ে দাবি করছে এই বলে যে, জাকির নায়েক আর হারুন ইয়াহিয়া বিবর্তনের ব-ও বোঝে না!

"নারীর গর্ভে একটি জায়গোট থেকে শুরু করে মাত্র নয় মাসে মানুষের মতো জটিল প্রাণীর সৃষ্টি"
আর,
"সরল একটি অণুজীব থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মতো জটিল প্রাণীর উদ্ভব"
উপরের বিষয় দুটি সদৃশ তো নয়-ই বরঞ্চ পুরোপুরি আলাদা। কারণগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমত- বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে একটি প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে ভিন্ন একটি প্রজাতি বিবর্তিত হয়। অন্যদিকে নারীর গর্ভে একটি জায়গোট থেকে কি 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হয়? নিশ্চয় না!
দ্বিতীয়ত- নারীর গর্ভে জায়গোট থেকে শুরু করে যে পূর্ণাঙ্গ মানুষ বা প্রাণী বিবর্তিত হয় তা নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রূপান্তর নয়। যেমন: একজন মানুষের পেট থেকে মানুষ-ই হয়, সেই মানুষের পেট থেকে আবার মানুষ-ই হয়, এভাবে চলতে থাকে। অনুরূপভাবে, জিরাফের পেট থেকে জিরাফ-ই হয়, সেই জিরাফের পেট থেকে আবার জিরাফ-ই হয়। অন্যদিকে বিবর্তনবাদী পীরদের দাবি অনুযায়ী একটি অণুজীব থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে সামান্য উন্নত কোনো প্রজাতি বিবর্তিত হয়েছে। সেই উন্নত প্রজাতি থেকে একই নিয়মে তার চেয়ে অধিকতর উন্নত কোনো প্রজাতি বিবর্তিত হয়েছে। এরূপ বিবর্তনে লক্ষ লক্ষ বা মিলিয়ন মিলিয়ন বছর সময় লেগেছে। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে অনুন্নত থেকে অধিকর উন্নত হতে হতে হাতি-জিরাফ-তিমি ও বিবর্তনবাদীদের মতো জটিল সব প্রাণীর উদ্ভব হয়েছে! এর মধ্যে আবার পুরো উদ্ভিদজগতও বিবর্তিত হয়েছে!
তৃতীয়ত- জায়গোট এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর সকল প্রকার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। অন্যদিকে বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়া জাতীয় যে এককোষী অণুজীব থেকে বিবর্তন শুরু হয়েছে সেই অণুজীবের মধ্যে বর্তমান প্রাণীদের তেমন কোনো বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান ছিল না, থাকার কথাও নয়।
চতুর্থত- একটি প্রাণী পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় আসার আগে যদি পেট থেকে ধাপে ধাপে বের করা হয় তাহলে সেই ধাপগুলোতে প্রাণী যে অবস্থায় থাকে সেই অবস্থায় বাঁচতেই পারবে না, বংশবৃদ্ধি করা তো দূরে থাক!
পঞ্চমত- জায়গোট খোলা জায়গায় রেখে দিলে অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য জায়গোট থেকে একটি প্রাণী বিবর্তিত হতে হলে অত্যন্ত সফিস্টিকেটেড একটি আধার দরকার। এই সফিস্টিকেটেড আধার কী করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব – সেটাও একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন!
তাহলে দেখা যাচ্ছে বিবর্তনবাদের গাঁজাখুরী কল্পকাহিনীর সাথে সম্পূর্ণ অ-সদৃশ ও দিনের আলোর মতো সত্য একটি বিষয়ের 'মিল' দেখিয়ে রিচার্ড ডকিন্স তার অন্ধ মুরিদদেরকে আচ্ছামতো ঘোলা খাইয়েছেন!

করতোয়া
এপ্রিল ২, ২০১২ at ১০:৪২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওদেরকে শুধু প্রশ্ন করবেন How do you distinguish between "Evolution of an entity" and "Growth & Development of an entity"। দেখবেন জারী জুরি সব গুলিয়ে ফেলে।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিকই বলেছেন, ওদেরকে এই প্রশ্ন করলে আবল-তাবল বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করবে যেহেতু ওদের মহাগুরু ডকিন্স দুটি বিষয়কে এক করে গুলিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন।
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
এপ্রিল ২, ২০১২ at ১১:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলে ভাই বিবর্তনবাদীরা নিজেরাও এই মতবাদ সুস্থ মস্তিষ্কে বিশ্বাস করে কি না সন্দেহ। কারণ এই ধরনের অতিমাত্রায় পরস্পরবিরোধী একটা মতবাদ বিশ্বাস করতে হলে গাঁজা খেয়ে উন্মাদ হয়ে যেতে হয়। আমার মনে হয় ডকিন্সও গাঁজা খেয়ে এসে এই মতবাদ প্রচার করে, যেমন করে তার এদেশীয় "ছাগ"রেদরা।
পোস্ট বরাবরের মতই ফাটফাটি।
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিবর্তনবাদীরা ইভোলিউশন শব্দটাকে মারাত্মক রকমের মিস ইউজ করে থাকে। যেমন: একটি প্রাণী একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে উচ্চতা ধারণ করতে পারে। এখন যে পরিবেশে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার উক্ত প্রাণীর জন্য সুবিধাজনক হবে সে পরিবেশে উক্ত উচ্চতা সম্পন্ন প্রাণীটিই সুবিধা প্রাপ্ত হবে। এটাকে এডাপটেশন বলা যায়, আসলে না এটাকে এডাপটেশনও বলা যায় না, এটাকে জেনেটিক ভ্যারিয়েশন বলা যায়। কারণ যখন এমন একটি পরিবেশ আসবে যে উক্ত উচ্চতার চেয়ে কম উচ্চতা সম্পন্ন প্রাণীটির খাদ্য গ্রহণে সুবিধা হয় তখন ঐ কম উচ্চতা সম্পন্ন প্রাণীটিকে আমরা প্রিভ্যালেন্ট পাব।
পেপার্ড মথের দুটো জেনেটিক ভ্যারিয়েন্ট হল সাদা ও কালো। প্রথমত সাদা মথের আধিক্যের মধ্যে কালো মথটিকে পাখিরা স্পষ্ট দেখতে পেয়ে শিকার করত। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেলানিজম এর কারণে যখন দূষিত বাতাসে প্রকৃতি কালো হয়ে গেল তখন উল্টো সাদা মথ গুলোকেই পাখিরা স্পষ্ট দেখতে পেল এবং শিকার করতে লাগল। ফলে কালো মথগুলো বাধাহীন বংশবৃদ্ধির কারণে কালো মথ প্রিভ্যালেন্ট হয়ে গেল। এটাকে জেনেটিক ভ্যারিয়েশনের সুবিধাপ্রাপ্তি বলা যায়, এডাপ্টেশন নয়। আর বিবর্তনতো অনেক পরের কথা।
ফিঞ্চ পাখির ক্ষেত্রেও ঘটনাটি এমন ঘটে। অর্থাৎ বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত আবহাওয়ায় ‘এডাপ্টেড হতে গিয়ে’ যে পাখিগুলোর বিকের ‘ইভোলিউশন’ হয় সেগুলোই আবার যখন আবহাওয়া পরিবর্তন হয় তখন কার্যত ‘ডিভোলিউটেড’ হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
যে প্রসঙ্গে উদাহরণগুলো টানা তাহল, যদি ধরে নেই এটা একপ্রকার ‘এডাপটেশন’ বিবর্তনবাদীরা শব্দটাকে রিপ্লেস করে ‘ইভোলিউশন’ ব্যবহার করে।
ইভোলিউশন শব্দটা কিন্তু বিভিন্ন প্রযুক্তির উন্নতির ক্ষেত্রে বা যে কোন বিষয়ের সময়ের সাথে পরিবর্তন প্রকাশ করার জন্যও ব্যাবহার হয়। যেমন ধরুন আমি বললাম যে আমার একটি দোকান আছে, যেটি প্রথমে শুরু হয়েছিল একটি ঘর দিয়ে পরে বিবর্তিত হয়ে আরও কয়েকটি ঘর সহ দোকানটি এক্সপ্যান্ড হয়েছে। অথবা বললাম, যে পোশাক ধরণের বিবর্তন লক্ষ্যণীয়। যদিও বাংলায় আমরা এমন ব্যাবহার খুব একটা দেখি না, তবে ইংলিশে এ ধরণের ব্যাবহার হর হামেশাই দেখা যায়।
অর্থাৎ ইভোলিউশন শব্দটার নানাবিধ ব্যবহার আছে। আমার মনে হয় এটাও বিবর্তনবাদীদের একটি শঠতা যে তারা ‘ইভোলিউশন’ শব্দটাকে বেছে নিয়েছে। কেননা শব্দটাকে অবস্থা প্রেক্ষিতে মোল্ডিং করা যায়। মনে করুন, কোন একটি ঘটনাতে তারা প্রজাতির পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়ে বলল বিবর্তিত হয়েছে। পরবর্তীতে যদি ভুল প্রমাণিত হয়, তখন শুধু তারা তাদের প্রকাশভঙ্গি পাল্টিয়ে বলবে আমরা আসলে সময়ের সাথে পরিবর্তনের অর্থে ‘বিবর্তন’ ব্যাবহার করেছি। আমরা ঐ প্রজাতি থেকে এই প্রজাতি স্বয়ংক্রিয় ভাবে বিবর্তিত (ডারউইনিয়ান বিবর্তন) হয়ে এসেছে বলিনি!
শাহবাজ নজরুল
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভ্যারিয়েশনের মধ্যে থাকা কোনো একটা প্রকরণের উপর প্রকৃতির অনুকুল আবহ থাকলে সেটি যোগ্যতর ভ্যারিয়েশন হিসেবে টিকে থাকে -- আর মোটা দাগে বলতে গেলে এটাকেই বলে প্রাকৃতিক নির্বাচন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রাকৃতিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত প্রকরণটি অন্যদের তুলনায় সুবিধাজনক ভাবে বেঁচে থাকা থেকে এক টানে ডারউইন কিংবা বিবর্তনবাদীরা তাকে প্রজাতির সৃষ্টির মূল রহস্য/চালিকাশক্তি বলে কেন আখ্যায়িত করছেন? কিন্তু সাধারণ বৈজ্ঞানিক মনন থাকেলেই বোঝা যায় এতে বিরাট শুভংকরের ফাঁকি আছে। অন্তত যে ফাঁকিগুলো সহজেই চোখে পড়ে তা হচ্ছে,
১. এটা কিভাবে প্রজাতি সৃষ্টির মূল চালিকা শক্তি হতে পারে যেখানে মূলত একটা প্রকরণের বেঁচে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা হচ্ছে আর পাশাপাশি হয়ত ৯টি প্রকরণ বিলুপ্ত হচ্ছে? আমি তো দেখছি এটা বরং Extinction of species by natural selection এবং কোনভাবেই Origin of species by natural selection নয়।
২. প্রাকৃতিক নির্বাচনের যত উদাহরণ পেয়েছি নানা পড়াশুনার মাধ্যমে তার সব কয়টা উদাহরণেই দেখেছি পাখি কিংবা ফুড চেনের উপরে থাকা প্রাণী চেনের নিচে থাকা প্রাণীদের খাচ্ছে, আর এভাবেই প্রকৃতি যোগ্যতরদের বেছে নিচ্ছে। আবার বলা হচ্ছে এটাই বিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি যেখান থেকে সরল থেকে জটিল প্রাণী সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে যে উদাহরণ দেয়া হলো সেখানে কি anachronism or non-causality থাকছেনা? যেমন বিবর্তনবাদীরা বলছে যে পাখি বিবর্তনের ধারায় অনেক পরে এসেছে প্রজাপতি কিংবা মথ থেকে। অর্থাৎ মথ কিংবা প্রজাপতি হচ্ছে বিবর্তনীয় 'জীবনবৃক্ষে' হয়ত পাখিরই পূর্বপুরুষ। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, যে উত্তরপুরুষ সে কিভাবে পূর্বপুরুষের জৈব-বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের বর্তমান অবস্থায় বিবর্তিত হলো?
বিবর্তনবাদীদের কাছ থেকে এই বিশাল গ্যাপকে পূরণ করার মত সন্তোষজনক ব্যখ্যা পেয়েছেন কি কখনো?
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
চমৎকার দুটো পয়েন্ট তুলে ধরেছেন।
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই সহজ-সরল ব্যাপারটা বিবর্তনবাদী মোল্লাদেরকে কে বুঝাবে!
কী যে বলেন! 'সন্তোষজনক ব্যখ্যা' বলতে এ পর্যন্ত তারা যা দিয়েছে তা হচ্ছে আবল-তাবল বচন আর গালিগালাজ।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিক ধরেছেন। ওরা এভাবেই অসচেতন লোকজনকে বিবর্তনের নামে ধোঁকা দিয়ে আসছে।
শামস
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৮:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবদুল্লাহ সাইদ খান,
বিবর্তনবাদ নিয়ে আপনার এনালাইসিসটা ভাল লেগেছে। একটা প্রশ্ন ছিলঃ
পেপার্ড মথের দুটো ভেরিয়েশন থাকতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই ভেরিয়েশনটা কি অবস্থার প্রেক্ষিতে, নাকি আগে থেকেই দুটি ভেরিয়েশনকে পাওয়া যেত?
আবার যে আগের অবস্থায় ফিরে আসে তা কি প্রমাণিত?
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ১০:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার চমৎকার প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ।
পেপার্ড মথের (Biston betularia) এই ভ্যারিয়েশনটা হল জেনেটিক। (উল্লেখ্য একই প্রজাতির এই ধরণের ভ্যারিয়েশনকে উক্ত প্রজাতির মর্ফ বলা হয়) এ প্রসঙ্গে wikipedia থেকে উদ্ধৃতি দেয়া যায়:
এছাড়াও
আরও উদ্বৃতি:
প্রশ্ন হল এই কালো মথগুলো কি কালো রং এডাপ্টেশনের মাধ্যমে অর্জন করেছে? উত্তর, না। কারণ এডাপটেশনের মাধ্যমে অর্জিত গুন পরবর্তী বংশে প্রবাহিত হয় না। এমনকি neo-Darwinism এর প্রবক্তারাও এ কথা স্বীকার করে।
তাহলে Adaptive Melanism তথা প্রভাবিত হয়ে কালো রং পাওয়ার ব্যাপারটা আদৌ কি হয়? ডারউইনবাদীরা এটাকে ইভোলিউশনের একটা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে খুব পছন্দ করে। কিন্ত এখানেও চলে তাদের ভাষার খেলা। কারণ কালো রঙের চিতা, কাঠবিড়ালী বা গিনিপিগ তাদের এই রংটা পায় তাদের জেনেটিক্স-এ আগে থেকেই এ প্রোগ্রাম থাকার কারণে। সাধারণ ভাবে যে কোন একটি ট্রেইট ডমিনেন্ট হয়। যেমন ধরুণ সাদা মথ। যেহেতু অপেক্ষাকৃত অন্ধকার পরিবেশে কালো প্রাণীটি ভালভাবে ক্যামোফ্লাজড থাকে ফলে হালকা রঙের ট্রেইট অধিক শিকাড়ের কবলে পড়ায় তাদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কমে যাবে। এটাকে ‘ডারউইনবাদীরা’ বলছে এডাপ্টেশন। কিন্তু খেলাটা হল অন্য জায়গায়। পরক্ষণেই তারা বলবে এই এডাপ্টেশনটা নাকি হেরিটেবল। অথচ ক্রোমজোমে আগে থেকেই কোন না কোন জিন ছিল যেটা সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্টটাকে প্রকাশ করবে। এখানে তাদের প্রশ্ন করতে হবে যে এই ‘জিনটা’ নতুন ভাবে কিভাবে এল? এ প্রশ্নটি তারা নিরবে এরিয়ে যায়।
‘এডাপটিভ মিউটেশন’ এর তথা ‘এডাপটিভ ইভোলিউশনের’ মাধ্যমে এ ধরণের কোন পরিবর্তন আসা সম্ভব? একটি পুরো প্রাণীকে কালো রঙে পরিণত করতে কী পরিমাণ জেনেটিক ইনফরমেশন জেনারেট করতে হবে এবং কী পরিমাণ প্ল্যানিং এর মাধ্যমে একে ‘স্টেম সেল’-এ স্যাটল করতে হবে একজন জেনেটিক্সের ছাত্রের কাছেও তা বিস্ময়কর। তথাপি বিবর্তনবাদে বিশ্বাসীরা যদি বলে এটি কোন Random Mutation এর মধ্য দিয়ে Macroevolution এর মাধ্যমে হয়েছে, তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। যারা এত দৃঢ় অন্ধ বিশ্বাস রাখতে পারে তাদের আলো দেখানো তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
ফিঞ্চ পাখির বিক যে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে এটা পরীক্ষিত। গ্যালাপোগস দ্বীপের Daphne Major এ ১৯৭৭ সালে যখন খরা হল তখন বীজের সংখ্যা কমে গেল। যতটুকু বীজ ছিল সেগুলো অপেক্ষাকৃত বড় এবং শক্ত। ফলে এগুলো ভাঙ্গার জন্য দরকার বড় সাইজের ঠোঁট। আর এ কারণে মিডিয়াম সাইজের ফিঞ্চ কমে গেল এবং বড় সাইজের ফিঞ্চগুলো সংখ্যায় বেড়ে গেল। আবার ১৯৮২ সালে যখন প্রবল বৃষ্টি হল তখন দ্বীপের অপেক্ষাকৃত নরম বীজের পরিমাণ বেড়ে গেল এবং খাদ্যের প্রাচুর্যে মাঝারি সাইজের ফিঞ্চগুলোর সংখ্যা আবার বেড়ে গেল। অর্থাৎ ডিভোলিউশন হল।
ধন্যবাদ।
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যাক এই লেখাটি আমার এন্টিনায় ধরেছে! ধন্যবাদ লেখককে।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখাটি আপনার অ্যান্টেনায় ধরেছে জেনে ভাল লাগলো। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
mohaiminul
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এরা যখন যেদিকে পারে পাল তুলে দেয়! গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্ম দেয়া সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ছাড়া কিছু না। উনি যদি বলতেন এই বৈশিষ্ট্য বিবর্তনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তর্ক করার বিষয় খুঁজে পেতাম। উনি ত এই বিষয়টাকেই বিবর্তন বানিয়ে ফেলেছেন!! তাই বলতে হয়…বাংলার মাইর দেখছস? না দেখলে একবার এইখানে এসে লেকচার দে।
ওদের ভণ্ডামি তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাস্তবে সেটাও সম্ভব নয়।
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ১২:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শামস
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৭:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জিহ্বায় কামড় দিলাম । একটা 'বাঘা' বাদ গেছে
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৭:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হা হা হা এই লেখায় অধ্যাপক এক জনই কিনা!
শামস
এপ্রিল ৩, ২০১২ at ৭:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নারীর গর্ভের সন্তান উৎপাদন প্রসেসটা দিয়া বিবর্তনকে বুঝানো!!! এর আগে জার্মানীর বর্ণবাদী জীববিজ্ঞানী আর্নেস্ট হেকেলও এই একই বিষয় নিয়া জালিয়াতি করছিল। সে তার জালিয়াতির জন্য খুব বিখ্যাত!
উইকিতেও তার জালিয়াতির তথ্য পাবেনঃ
http://en.wikipedia.org/wiki/Ernst_Haeckel