সিরিয়ার বিষয়টা অত্যন্ত জটিল। নির্দিষ্টভাবে কিছুই বলা যায় না। সিরিয়ার যুদ্ধকে বুঝতে হলে আরও অনেক বিষয় বুঝতে হবে। কারণ সিরিয়া বিশ্ব রাজনীতির অন্যান্য সমস্যার মতো না। আসলে সমস্যাটা জটিল না করে জটিল করা হয়েছে বললেই উত্তম দেখায়। কিন্তু সিরিয়ার সমস্যা এতো দীর্ঘস্থায়ী কেন? কেনই বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর তুলনামূলকভাবে কম প্রকাশ করা হয়?
আমাদের দেশে অনেকে জানেই না সিরিয়ার যুদ্ধ কি বা কেন হচ্ছে? মূলত তাদের জন্য এবং সিরিয়া সম্পর্কে জানানোর জন্যই এ লেখাটির প্রবর্তন। আমি সাধারণত লেখালেখি করি না। এ কম লেখালেখি, কম জানা এবং কাঁচা হাতে যতটুকু পেরেছি জানার এবং জানানোর চেষ্টা করছি।
পড়ার আগে একটি বিষয় পাঠককে অবগত করতে চাই আমি সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকেই লেখাটি লেখার চেষ্টা করছি। লেখায় বানান, ব্যাকরণ ইত্যাদি ভুল থাকার অন্য অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এবং আবারও বলছি আমি এই "সিরিয়া" বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দল, মতবাদ বা দেশের পক্ষে না। আমি সত্য এবং শান্তির পথে থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার লেখা যদি নির্দিষ্ট কোনো কিছুর পক্ষে যায় তবে সেটা উদ্দেশ্য প্রণীত নয়। ভুলত্রুটি থাকলে অবশ্যই চিহ্নিত করবেন এবং আমাকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
সিরিয়ায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে যা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন দিয়ে শুরু হয়। ইরাকের WMD(weapons of mass destruction) আছে এই অজুহাতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ ইরাক হামলা করেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে। মাত্র ২ মাসের মাথায় মার্কিন সেনারা বাগদাদে পৌছে যায় এবং আগ্রাসনের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু যুদ্ধ ত কেবল শুরু…
TE.IRAQ19P1
যেসব ইরাকি সেনারা সাদ্দাম হোসেনের প্রতি অনুগত ছিল তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ২০০৩-২০০৬ সালের মধ্য দিয়ে সাদ্দাম হোসেনের প্রতি অনুগত সেসব সৈন্যরা "মুজাহিদ" এ পরিণত হয় এবং মার্কিন সেনা এবং সংখ্যালঘু শিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০৬-২০০৮ সালের মধ্যে দিয়ে ইরাকে এক সাম্প্রদায়িক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলতে থাকে যেখানে অনেক শিয়া মারা যায় আবার কিছু সুন্নি মুসলিমদেরও হত্যা করা হয়। এই যুদ্ধে মূলত শিয়ারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল-বাগদাদী(বর্তমান ISIS প্রধান) সে সময় IS নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে যার প্রধান কাজ ছিল শিয়া নিধন করা। যার কারণে ৪০ লাখ ইরাকি শরণার্থী হয়। ২০০৮-২০১১ সালের মধ্য দিয়ে ইরাকে তৃতীয় অভ্যুত্থানের সুত্রপাত হয় যা বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্ম দেয় আগের অভ্যুত্থানগুলোর মতো। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে অপসারণ করা হয় এবং ইরাক সম্পূর্ণভাবে এক অরাজকতা এবং নৈরাজ্যে পরিণত হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল ইরাককে এখন নতুন "গণতান্ত্রিক" ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নূর-ই আল-মালেকীর যোগ্য হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, কিন্তু এটা কেবল তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতির অজুহাত ছাড়া আর কিছুই ছিল না মার্কিন সেনাদের অপসারণ করার জন্য।
ইরাকিরা আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধের মাসুল দিয়ে যাচ্ছে। যে লোকের পরিবারের সদস্যদের সাদ্দাম হত্যা করেছে, যে লোক সাদ্দামের মূর্তি ভেঙেছে সে পর্যন্ত সাদ্দামকে ফিরে পেতে চায়, বুশ আর ব্লেয়ারকে গালামন্দ করে।
মার্কিন সেনাদের অপসারণের পরও ইরাকের অভ্যুত্থান চলতে থাকে এবং নূর-ই আল-মালেকী যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পরও এর কোনো সমাধান করতে সক্ষম হয় না। ইরাকের সরকারের প্রতি ইরাকের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি সম্প্রদায় কিছুটা ক্ষোভ জন্ম নেয় কারণ উক্ত সরকার কিছুটা শিয়াপন্থী শাসনব্যবস্থা চালু করে। সামরিক বাহিনীতেও মালেকী সরকার সুন্নিদের চেয়ে শিয়াদের বেশি গুরুত্ব দিত। এতে সুন্নিদের ক্ষোভ একমাত্রা আরও বেড়ে যায়। এক কথায় মালেকী একটি সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয় যা শিয়া সুন্নি সমস্যাটা আরও জটিল করে ফেলে। এই জন্যই মূলত সুন্নি অধ্যুষিত স্থানগুলোয় বাগদাদী আধিপত্য লাভ করতে সক্ষম হয়। ২০১৪ এর মধ্যে অধিকাংশ সুন্নি অধ্যুষিত স্থানগুলো বাগদাদীর ISIS(Islamic state of Iraq and Syria) এর দখলে চলে আসে। ২৯ জুন, ২০১৪ তে ISIS সারা বিশ্বজুড়ে খিলাফতের ঘোষণা করে। আল-বাগদাদীকে খলিফা বানানো হয় এই খিলাফতের। যথাক্রমে সিরিয়াতে আরব বিপ্লবের প্রভাব বিস্তার করে। যেটা মোটেও কোনো গণআন্দোলন ছিল না বরং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির অন্তর্ভুক্ত ছিল যেন তারা অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোর উপর প্রভাব এবং ক্ষমতা বিস্তার করতে পারে, তাদের নির্বাচিত নেতাদের মাধ্যমে যারা তাদের প্রতি অনুগত থাকবে। যার মূল এবং প্রধান কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল। আমি জানি অনেকে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবে। কিন্তু আমি শুধু আমার মতটা দিলাম। এবং কোনো সচেতন মানুষ যদি যৌক্তিকভাবে এবং বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে তবে আমার মনে হয় না কেউ অন্যমত পোষণ করার সুযোগ পাবে, যদি কেউ ২০০৩ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কি হচ্ছে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে দেখে।
আরব বিপ্লবের ফলে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন হয়। কিন্তু আসাদ যখন এসব আন্দোলনগুলো খুব একটা পাত্তা দিলো না তখন সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি অংশ আলাদা স্বাধীন বাহিনী গঠন করে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে। এই স্বাধীন বাহিনী সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল দখল করে রেখেছে। ২০১১-২০১৪ সালে ISIS ইরাক এবং সিরিয়ার সুন্নি অধ্যুষিত বড় বড় এলাকাগুলো দখল করে ফেলে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ISIS সিরিয়ার আল-রাক্কাহ শহর দখল করে যা পরবর্তীতে ISIS এর Headquarter এ পরিণত হয়।
উপরের লাল রঙ করা অঞ্চলগুলো ISIS এর দখলে। আমরা দেখতে পাই কীভাবে দলটি ইরাক থেকে সিরিয়ায় পৌছে গেছে।
উপরে শুধু সিরিয়ার মানচিত্রের ছবি আছে। আমরা দেখতে পাই ISIS/ISIL এবং সিরিয়ার স্বাধীন বাহিনীর দখলকৃত এলাকাগুলো।
সিরিয়ায় আজ মোট পাঁচটি দল আছে
১) ভ্লাদিমির পুতিনের রুশ বাহিনী
২) আসাদের সিরিয়ান বাহিনী(রুশ কর্তৃক সমর্থিত)
৩) আল-বাগদাদীর ISIS(আমার মতে, গোপনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত)
৪) স্বাধীন সিরিয়ান বাহিনী, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত।
৫)মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী।
Pic: Russian and US led strikes in Syria
উপরের ছবিটিতে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলার প্রতীক বহন করে।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তে রাশিয়া ISIS এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে কারণ পুতিন অস্থির এবং বিরক্ত হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যান্য দেশের অন্তর্গত বিষয়ে নাক গলানো স্বভাবের জন্য। এই সিরিয়ার বিষয়টি এতটা জটিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দেশের সরকার পতনের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষার জন্য।
সিরিয়ার "স্বাধীন" বিদ্রোহী বাহিনী এবং ISIS বলা গেলে একসাথে সহযোগী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সিরিয়ায় ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্র দিয়ে।
এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা(Wikipedia অনুসারে)
• ৩০১,৭৮১-৪২২,৩১৭ (সেপ্টেম্বর ২০১৬ SOHCR)
• ৪৭০,০০০ (ফেব্রুয়ারী ২০১৬ SCPR)
• ৭,৬০০,০০০ এরও বেশি মানুষকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে (জুলাই ২০১৫ UNHCR)
•৪,০০০,০০০ এরও বেশি মানুষ শরণার্থী হয়েছে (আগস্ট ২০১৬ NRC Handelsblad)
এই হলো সংক্ষেপে সিরিয়ার যুদ্ধ। ইরাকের কাহিনী আনলাম ISIS এর জন্য। কারণ সাদ্দাম পতনের মধ্যে দিয়েই এই দলটির উত্থান। এবং সিরিয়া যুদ্ধে ISIS এর এক বিরাট ভূমিকা আছে।
বিঃদ্রঃ অনেক মানুষ সিরিয়ার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় প্রকাশ করে দিচ্ছে। কিছু ছবি অনেক আগের হওয়ায় এবং বানোয়াট হওয়ায় অনেকে সিরিয়ার ঘটনাটাকেই বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিচ্ছে যা মোটেই ঠিক না।

মহিউদ্দিন
মার্চ ১৩, ২০১৮ at ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সিরিয়া যুদ্ধ: কি এবং কেন বুঝতে অনেক আগে লিখা আমার এ লিখাটিতে কিছু সম্পুরক তথ্য পেতে পারেন।
মহিউদ্দিন
মার্চ ১৩, ২০১৮ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সিরিয়া যুদ্ধ: কি এবং কেন বুঝতে অনেক আগে লিখা আমার এ লিখাটিতে কিছু সম্পুরক তথ্য পেতে পারেন। http://shodalap.org/mohi/26168/
মজলুম
মার্চ ১৩, ২০১৮ at ১০:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সিরিয়া আর ইরাক নিয়ে এত কম জেনে আর ভুল জেনে, ভুল তথ্য দিয়ে পোষ্ট করার কোন মানে হয়না। নিরপেক্ষ পোষ্ট মোটেও না এটা, বামপন্হি ফারুক ওয়াসিফদের লেখার ভক্ত আপনি তা বুঝা যায়। সে আবার অল্টারনেট আর কাউন্টারপান্চ জান্কির ফ্যান! ওখান থেকে ধার করে প্রথম আলোতে লিখে। ওদের কাছে পুতিন হলো মুক্তিদাতা, যা পোষ্টে ফুটে উঠেছে। সিরিয়ার গনহত্যায় ইরানের, হিজবুল্লাহর হাত সবচেয়ে বড়ো, কিন্তু ইরানের কোন কথায় নাই পোষ্টে। না জানা থেকে ভুল জানাটা হলো সবচেয়ে খারাপ। কোন লিখাটা তুলে ধরবো বুঝতেছিনা, পুরা লিখাটাই মিসলিডিং।
মোঃ তাজুল ইসলাম
মার্চ ১৪, ২০১৮ at ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মজলুম ভাই, সিরিয়া & ইরাক ইস্যু খুব জটিল। দিন দিন জটিল থেকে জটিলতার দিকে এগুচ্ছে। সানজিদ ভাই নিজের অপারগতা প্রকাশ করেছেন প্রথমেই। তাই দুর্বলতার কথা না বলি। এই বিষয়ে আপনার স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন লিখা আমরা সদালপ পাঠকগন আশা করি। কারণ, এই ইস্যু নিয়ে আমাদের স্পষ্টতা নেই এবং জানতে আগ্রহী।
কুর্দি, ইরান, রাশিয়া, আই এস, মার্কিন, ইজরাইল, আসাদ বাহিনী, সৌদি, হিজবুল্লাহ, শিয়া গ্রুপ, সুন্নী গ্রুপ… কে কারে মারতেছে এবং কি উদ্দেশ্যে মারতেছে বুঝা কঠিন। এখন দেখছি, তুর্কি বাহিনী নতুন করে যোগ দিছে এই মারামারি-কাটাকাটি তে। এক জগাখিচুড়ী অবস্থা। মানুুুুষের জীবনের মুুুল্য নেই। শত শত শিশু বাচ্চাদের মৃত ছবি অন্তর নিঙড়ানো কষ্ট দেয়। দেখতে বেদনায় বুক ভরে উঠে। সারা বিশ্ব হাসতেছে মুসলমানদের এই ধরণের কর্ম দেখে। ইসলামের অবমাননা। বিশ্ব ইসলামকে জানতেছে বর্তমান ইরাক-সিরিয়া দেখে। ইসলাম পরিচিতি পাচ্ছে একটা মারামারি, কাটাকাটির ধর্ম হিসেবে।
"মুসলিম শাষকদের হাতে প্রচুর অর্থ সম্পদ থাকলে তা তারা ব্যবহার করে দুনিয়া ধ্বংস করবে"- এই রকম একটি কথা শুনেছিলাম জুনিয়র বুশের সময়টাতে। সিনিয়র বুশ নাকি এই প্রস্তাবের ভিত্তি। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি তখনই দুনিয়ার মুসলিম শাসক এবং দেশের সম্পদ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তারা আত্মনিয়োগ করে। এবং তারা সফল হয়েছে আর সাথে দুনিয়াব্যপী নিজেদের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
যাইহোক, হয়ত আপনার লিখা থেকে স্পষ্টতা হবে(যদি আপনি জানার সুযোগ করে দেন)। ধন্যবাদ।
মজলুম
মার্চ ১৫, ২০১৮ at ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সিরিয়ার বিষয়টা জটিল, কিন্তু লিখতে গেলে অনেক প্যাচ খুলতে হবে নইলে আংশিক হবে। কিন্তু উনি আংশিক ও না করে ইরান/বাম মিডিয়া কতৃত প্রভাবিত হয়ে যে লিখেছেন তা ১০০% সত্য। সিরিয়ায় অনেক গুলো দেশের স্বার্থ জড়িত হওয়ায় ওদের প্রপাগান্ডাও ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই সিরিয়া নিয়ে লিখালেখির স্টাইল দেখে বলে দেওয়া যায় ওটা কারা প্রচার করে। সিরিয়ার আরো খারাপ দিন গুলো সামনে আসতেছে, এটা নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ব বেধে গেলেও অবাক হবোনা। গত ৮ বছর ধরে সিরিয়ার ঘটনাগুলো প্রতিদিন ফলো আপ করে যাচ্ছি প্রথম দিন থেকেই, সিরিয়া নিয়ে লিখতে গেলে দু চোখ ভিজে যায়, বুক ফেটে কান্না আসে।
হয়তো পরে সময় করে লিখবো, কারন এটা শুধু জটিল নয়, বেশী করে লিখতেও হবে সব ডাইমেশান তুলে ধরার জন্যে। ৮ বছরে ফলো আপে একটা সত্য উপলব্দি হয়েছে আমার, সেটা হলো, আসাদ বাহিনি, হিজবুল্লাহ, আর ইরানি বাহিনিদের এবং তাদএর সমর্থকদের আমার মানুষ ই মনে হয়না।
তবে আপাতত কয়েকটা ডকুমেন্টারি দেখুন আল-জাজিরার বানানো। আর সিরিয়ার খবরের জন্যে আল-জাজিরা আর তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ড দেখবেন।
দ্যা বয় হু স্টার্টেড সিরিয়ান ওয়ার।
সিরিয়াঃ রুট অব টাইরেনি
সিরিয়াঃ দ্যা ব্যাটল বিয়ন্ড
সিরিয়াঃ সো নিয়ার, সো ফার
সিরিয়াঃ য়ুন্ডস অফ ওয়ার
আল-জাজিরার ডকুমেন্টরিগুলো খুবই ইনফরমেটিভ, সময় করে একটা একটা করে দেখতে থাকুন, ভালো লাগবে, আর অনেক কিছু জানতে পারবেন। আল-জাজিরা হলো গনমানুষের চ্যানেল আর মুসলিমদের উপর দমন নিপীড়নকে তারা খুবই গুরত্বের সাথে প্রচার করে। ধন্যবাদ
মোঃ তাজুল ইসলাম
মার্চ ২০, ২০১৮ at ১০:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Many thanks Mojlum vai for giving links. These links really informatives. Jazakallah.