একতা আজ সময়ের দাবী
মুসলমনাদের অবস্থা এখন বড়ই করুণ। কোথাও তারা নিরাপদ নয়। না দেশে, না বিদেশে। না মুসলিম রাষ্ট্রে, না বিধর্মী রাষ্ট্রে। গোটা পৃথিবীতে যখন ইসলামের শত্রুরা মুসলমানদের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মুসলমান দেখলেই “সন্ত্রাসী” উপাধী দিয়ে হেনস্থা করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মকে সন্ত্রাসী ধর্ম, সাম্প্রদায়িক ধর্ম আখ্যা দেওয়ার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে উপর্যুপরিভাবে। মুসলমানদের ইসলামী শিক্ষালয়কে সন্ত্রাসীকেন্দ্র আখ্যা দেবার হিন কর্মকান্ডে লিপ্ত। ঠিক এমনি সময় মুসলমানরা আজ শতধা বিভক্ত। মুসলমনদের মাঝে ধর্মীয় কোন্দলের সয়লাব।
অথচ এখন সবচে’ প্রয়োজন হল মুসলমানদের মাঝে একতা সৃষ্টি করা। ঐক্যমত্ব প্রতিষ্ঠিত করা। নবীজী সাঃ এর কালিমায়ে তায়্যিবার প্লাটফর্মে এক হওয়া আজ সময়ের আবশ্যকীয় দাবি।
যখন মুসলমানদের দুশমনরা মুসলমানদের উপর হামলা করে, তখন তারা এটা দেখেনা যে, সে কি দেওবন্দী না বেরেলবী? সে কি মুকাল্লিদ না গায়রে মুকাল্লিদ? সে কি কিয়াম করে না করেনা? সে কি মাজারে যায় কি যায়না? সে ইমামের পিছনে কিরাত পড়ে না পড়েনা?
“লোকটি মুসলমান” কেবল এই অপরাধেই হত্যা করা হয়।
ইংরেজদের আগমনের আগে এই উপমহাদেশে ধর্মীয় বিভেদ ছিলনা
ইতিহাস সাক্ষ্য ইংরেজদের আসার আগে এই উপমহাদেশে কোন বাদশা ছিলনা যে মাযহাবের বিরোধিতা করত। কোন ধর্মীয় কোন্দল ছিলনা। টিপু সুলতান রহঃ, মোঘল সম্রাজ্যের সকল মোঘল বাদশা, শাহজাহান, ঘুরি, জাহাঙ্গীর, বাদশা যফরসহ সকলেই হানাফী মাযহাবী ছিল। আকবর সে নতুন ধর্ম উদ্ভাবন করার অপচেষ্টা করেছিল, সেও মাযহাবের ইমামদের বিরোধিতা করেনি। কাউকে গালি দেয়নি।
এ উপমহাদেশে যত মুসলিম হাকিম বংশীয়, যত গোলাম বংশীয় আর যত ঘুরি বংশীয়, আর যত খিলজী বংশীয়, সাদাত বংশীয়, তুঘলোক বংশীয়, আর সুরী অথবা মোগল বংশীয় বাদশা ছিল, সবাই ছিলেন সুন্নী হানাফী। এই দেশে ইসলাম, কুরআন-হাদিস আনয়নের ভাগ্য কেবল হানাফীদেরই ললাটেই আছে। সুতরাং নওয়াব সিদ্দীক হাসান খানও একথা স্বীকার করে লিখেন যে, “যখন থেকে ইসলাম এ এলাকায় আসে, তখন থেকে হিন্দুস্তানের মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা হল এই যে, যেহেতো অধিকাংশ লোক বাদশার মত-পথ এবং মাযহাবের অনুসরণকেই পছন্দ করে, একারণেই সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত তারা হানাফী মাযহাবেই প্রতিষ্ঠিত। আর এখানে এই মাযহাবের আলেম এবং ফারেগীনরাই বিচারক আর মুফতী ও হাকিম হয়ে থাকে”। (তরজুমানে ওহাবিয়্যাহ-১০)
৫৮৯ হিজরীতে সুলতান মুয়িজুদ্দীন সাম ঘুরী আসলেন। আর দিল্লী পর্যন্ত পদানত করেন। সে সময় থেকে নিয়ে ১২৭৩ হিজরী পর্যন্ত আপনারা এই দেশের ইতিহাস পড়ে দেখুন। মাহমুদ গজনবী রহ. থেকে নিয়ে আওরঙ্গজেব পর্যন্ত, এমনকি সাইয়্যিদ আহমাদ শহীদ বেরলবী রহ. পর্যন্ত কোন গায়রে হানাফী গাজী, বিজেতা অথবা মুজাহিদ পাওয়া যাবেনা।
কাশ্মীরের ব্যাপারে ঐতিহাসিক ফেরেস্তা লিখেন-“আমি দেখেছি এই দেশের সবাই ছিলেন হানাফী মাযহাবপন্থী”।(তারীখে ফেরেস্তা-৩৩৭) আর এর পূর্বে রাশেদী এর বরাতে তিনি লিখেন-“হযরত শায়েখ আব্দুল হক সাহেব মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. বলেন-"اهل الروم وما وراء النهر والهند كلهم حنفيون،ط" অর্থাৎ মা ওরাউন নাহার এবং হিন্দের সবাই ছিলেন হানাফী”। (তাহসীলুত তায়াররুফ-৪৬) আর হযরত মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. বলেন-“আহলে ইসলামের বড় অংশ ইমাম আবু হানীফা রহ. এর অনুসারী ছিল”। (মাকতুবাত-২/৫৫) শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. বলেন-“সকল শহরের আর সকল দেশের বাদশা ছিল হানাফী। আর কাযী, অধিকাংশ শিক্ষক ও অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ছিল হানাফী” (কালিমাতে তায়্যিবাত-১৭৭) এছাড়াও তিনি লিখেন যে, অধিকাংশ দেশ এবং প্রায় শহরেই আবু হানীফা রহ. এর মাযহাব অনুসারী ছিল। (তাফহীমাতে ইলাহিয়া-১/২১২) অর্থাৎ অধিকাংশ ইসলামী রাষ্ট্র এবং দুনিয়াব্যাপী অধিকাংশ মুসলমান ছিল হানাফী। ইসলামী দুনিয়ার অধিকাংশ অংশ হানাফী অনুসারী ছিল। আর এই মাযহাবের বদৌলতে কমপক্ষে হাজার বছর পর্যন্ত সমগ্র ইসলামী দুনিয়ায় বিধান প্রয়োগিত হত। শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. সত্য মাযহাবের পরিচয় এভাবে দিয়েছেন যে, “দ্বীন ইসলামের প্রসারের সাথে দ্বীনে ইসলামের উপর হামলা এবং ফিতনার প্রতিরোধ করা হবে”।
এটাইতো স্পষ্ট যে, পাক ও হিন্দে দ্বীনে ইসলামের প্রসারে হানাফীদের সাথে শরীক কেউ নাই। সারা দেশের মাঝে ইসলাম হানাফীরাই ছড়িয়েছে। আর কাফেররা ইসলামে প্রবিষ্ট হয়ে হানাফীই হয়েছে। এই দেশে ইসলামের উপর দু’টি কঠিন সময় এসেছে। একটি হল সম্রাট আকবরের নাস্তিকতার ফিতনা। দ্বিতীয় হল ইংরেজদের শাসন ও শোষণ।
আকবর যখন ইমামে আজমের অনুসরণ ছেড়ে দিয়ে নাস্তিকতার দাওয়াত দিতে শুরু করে, তখন মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. এবং শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. এর প্রতিরোধে এই নাস্তিকতার ফিতনা মিটে যায়। আর ইংরেজদের শোষণের প্রতিরোধে হানাফীরাই এগিয়ে আসে। গায়রে মুকাল্লিদ নওয়াব সিদ্দীক হাসান লিখেন-“কেউ শোনেনি যে, কোন একেশ্বরবাদী, কুরআন ও সুন্নাতের অনুসারী ব্যক্তি ইংরেজদের সাথে বিদ্রোহ করার অপরাধে অপরাধী হয়েছে। অথবা ইবলীসী ফিতনা আর বিদ্রোহের উপর অগ্রসর হয়েছে। যত লোক খারাপ ও মন্দ করেছে, আর ইংরেজ ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, তারা সবাই হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিল। (তরজুমানে ওহাবিয়া-২৫)
কিন্তু যখন ইংরেজরা আসল। ওরা দেখল এদেশের মুসলমানরা তাদের ধর্মের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ। তাদের মাঝে কোন অভ্যান্তরীণ বিভেদ নাই। একতার এক স্বর্গীয় বাঁধনে তারা জড়িয়ে আছে। তাই ইংরেজরা তাদের বহুল প্রচলিত “ডিভাইট এন্ড রোলস” তথা “পরস্পরে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের উপর শাসন করা হবে” এই নীতি বাস্তবায়িত করতে উঠেপরে লেগে গেল। মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় বিভেদ-কোন্দল সৃষ্টির জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে দিল। টাকা দিয়ে, অর্থ সম্পদ দিয়ে, বিত্ত-বৈভব দিয়ে কিছু দুনিয়ালোভি আলেমদের নির্বাচিত করে। অবশেষে ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের ফসল হয়-মীর্যা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী, বেরেলবী। তাদের শামসুল ওলামার উপাধী দেয়।
অথচ জেলে গেলেন, শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহঃ, শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ কে যেতে হল মাল্টার জেলে। থানবী রহ. “ইংরেজদের পণ্য ক্রয় করা হারাম” হবার ফাতওয়া দিলেন। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহঃ ও কাসেম নানুতবী রহঃ এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী হল। রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহঃ কে আদালতে ডাকা হল। যা স্পষ্টই প্রমাণ করে যে, তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে কতটা অগ্নিগর্ভ ছিলেন। আর ইংরেজরা তাদের কতটা ভয় পেত। স্বাধীনতার জন্য তারা কতটা উদ্বেগ নিয়ে কাজ করেছেন। আর কতটা মাথ্যাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারা ইংরেজদের।
“আহলে হাদীস” নাম রাণী ভিক্টোরিয়ার দেয়া নাম!
একদিকে হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ এর ফাতওয়া যে, “ইংরেজদের দলে ঢুকা হারাম”। আর আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর ফাতওয়া যে, “ইংরেজদের পণ্য ব্যবহার হারাম”।
অপরদিকে ইংরেজদের পদলেহী, পা চাটা গোলাম একদল ঈমান বিক্রেতাদের ক্রয় করে নিল। তাদের মাঝে ছিল বাটালবী। তাদের মাঝে একজন কিতাব লিখল-“আল ইকতিসাদ ফি মাসায়িলিল জিহাদ”। যাতে সে লিখে যে, ইংরেজদের শাসন ইসলামী রাষ্ট্র। আর ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম।
এই বই লিখার পর তাকে শামসুল উলামা উপাধী দেয়া হয়, তাকে মেডেল দেয়া হয়। অনেক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
যখন এদেশের মানুষ দেখল যে, ওরা ইংরেজদের দালাল। তখন তাদের “ওহাবী” বলে গালি দেয়া শুরু হয়। ওহাবী সেই যুগে তাদের বলা হত-যারা দেশের গাদ্দার। দেশদ্রোহী। ওরা যেখানেই যেত সাধারণ মানুষ তাদের দেখে বলত-এইতো ওহাবী চলে এসেছে। ওরা বাজারে গেলেও তাদের মানুষ বকা দিত-সবাই বলত বাজারে ওহাবী চলে এল।
যখন তাদের সবাই ঘৃণার চোখে দেখতে লাগল, তখন নিজেদের সম্মানিত করার জন্য ওরা রাণী ভিক্টোরিয়ার কাছে গিয়ে আবেদন করল যে, আমরাতো আপনাদের কথা অনুযায়ী কিতাব লিখে আপনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম বলেছি, এখন আমাদের সবাই ধিক্কার দিচ্ছে। গালি দিচ্ছে “ওহাবী” বলে। আমাদের জন্য সম্মানজক কোন পদবীর ব্যবস্থা করুন। তখন তাদের নাম দেয় রাণী ভিক্টোরিয়া “আহলে হাদীস”। এই হল আহলে হাদীসদের প্রতিষ্ঠার প্রকৃত ইতিহাস।
নিজেদের সংগঠনের রেজিষ্টার করায় ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে। অথচ দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার জন্য ইংরেজদের কাছে যাওয়া হয়নি। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহঃ ও আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর খানকার অনুমোদনের জন্য ইংরেজদের কাছে যাওয়া হয়নি। কারণ তারাতো ইংরেজদের শাসন মানেন নি। তাদের শত্রু। তাদের থেকে অনুমোদন নেবার প্রশ্নই উঠেনা। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাই হয়েছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য।
কিন্তু ইংরেজদের দালাল কথিত আহলে হাদীস গ্রুপ নিজেদের দালালিপনা পূর্ণ করার জন্য ইংরেজদের কাছ থেকে অনুমোদনকৃত নাম নেয় “আহলে হাদীস”।
এই আহলে হাদীস নাম কুরআন সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত নাম নয়। এটা বুখারী থেকে প্রাপ্ত নয়, এটা সিহাহ সিত্তার কিতাব থেকে প্রাপ্ত নয়। এটা ইংরেজদের থেকে প্রাপ্ত নাম। ওরা সর্ব প্রথম ফিরক্বা আহলে হাদীস নামে আবির্ভূত হয়। ওদের মূল নমুনা দেখা যায় আব্দুল্লাহ বিন সাবার কর্মকান্ড থেকে। আব্দুল্লাহ বিন সাবা যেমন মুসলমনাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে সুচারুভাবে। ঠিক একই কাজ করছে এই ইংরেজ প্রসূত দল গায়রে মুকাল্লিদ আহলে হাদীস গ্রুপ।
ওরা বলে যে, সে সময় ইংরেজ শাসন ছিল, তাই তারা তাদের থেকে রেজিষ্টার করেছে। ইংরেজদের দালালী করার জন্য নয়।
ইংরেজদের দালালদের আমরা বলি-যদি রেজিষ্টার করা এতটাই দরকার হত, কাসেম নানুতবী রহঃ কেন দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করতে ইংরেজদের থেকে রেজিষ্টার দরকার হয়নি কেন? রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহঃ এর কেন দরকার হয়নি। কেন হাজী মুহাজেরে মক্কী রহঃ এর কেন দরকার হয়নি? কেন আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর তার খানকার রেজিষ্টারের কেন দরকার হয়নি?
একটাই কারণ দেওবন্দী ওলামায়ে হযরাতের ইংরেজদের দালালী করার দরকার হয়নি। তাদের পা চাটতে তারা পারবেন না। তাই তাদের ইংরেজদের পদলেহন করে রেজিষ্টার করারও দরকার হয়নি। অপরদিকে গায়রে মুকাল্লিদরা সাধারণ মানুষের দালাল গালি শুনা থেকে বাঁচার জন্য ইংরেজদের বাচ্চা এই আহলে হাদীসদের নিজেদের সংগঠনের নাম আহলে হাদীস মঞ্জুর করাতে হল। ওদের স্থান কোথাও ছিলনা, কেউ তাদের আশ্রয় দেয়নি, না কোন মসজিদে। না কোন খানকায়, না কোন মাদরাসায়। আশ্রয় পেল কেবল রাণী ভিক্টোরিয়ার দরবারে।
যেখানে গোটা ভারত অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে। সেখানে ইংরেজদের পা চেটে নিজেদের মজবুত করে নেয় এই দালাল গোষ্ঠি।
“বিশেষজ্ঞ ছাড়াই নিজে নিজে সব বুঝে নিবে” এমন গাঁজাখুরী কথা ইংরেজদের আমলের আগে কেই বলেনি
ইংরেজদের আসার আগে এরকম কোন দল ছিলনা যারা ফুক্বাহায়ে কিরামকে গালি দিত। ফুক্বাহাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখত। ফিক্বহ সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করে পথভ্রষ্ট করেছে। মাযহাব বিরুদ্ধবাদী কেউ ছিলনা। কেউ একথা বলেনি যে, যে সকল লোক পাক-নাপাকের মাসআলা পর্যন্ত জানে না। নামাযের নিয়ম সঠিকভাবে বুঝেনা, সেই সকল লোক কোন ফক্বীহ এর অনুসরণ ছাড়াই সরাসরি কুরআন সুন্নাহ থেকে মাসআলা বের করে আমল করবে। এরকম গাঁজাখুরী কথা ইতোপূর্বে কেউ বলেনি।
যেমন সকল ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, তেমনি কুরআনে কারীম এবং রাসূল সাঃ লাখ হাদীস থেকে যেটাকে মনে হবে সেটাকেই আমল করবে। কোন মুজতাহিদের দরকার নাই। কারো বুঝানোর দরকার নাই। কোন শিক্ষকের দরকার নাই। জন্ম থেকেই বগলে বুখারী নিয়ে জন্ম নিবে। বুখারী খুলে যা বুঝবে তাই আমল করবে।
এই গাঁজাখুরী দল ইংরেজ আসার আগে ছিলনা। রাণী ভিক্টোরিয়া থেকে রেজিষ্টার করে, অনুমোদিত করে এই বাতিল ফিরক্বা বিভ্রান্তির প্রসার শুরু করে।
“তোমরা মুহাম্মদী না হানাফী”? এই প্রশ্নটি কি যৌক্তিক? না হাস্যকর?
গোটা পৃথিবীর মুসলিম এলাকায় মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি-কোন্দল সৃষ্টি করার জন্য পায়তারা করে যাচ্ছে কথিত আহলে হাদীস দলটি। মুসলমানদের ঘরে ঘরে, এলাকায় এলাকায়, মসজিদে মসজিদে গিয়ে বলছে-“তোমরা মুহাম্মদী না হানাফী?”
সাহাবায়ে কিরামের মাঝে এ ব্যাপারে ঐক্যমত্ব ছিল যে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. সবচে’ উত্তম ছিলেন। এজন্য কাউকে আবু বকরী বলা হয়না। তারপর হযরত ওমর রা. এর ব্যাপারেও কোন মতভেদ ছিলনা। এজন্য কাউকে ওমরী বলা হয়না। হযরত উসমান রা. এবং হযরত আলী রা. এর ব্যাপারে কিছু ইখতিলাফ ছিল।
জমহুর সাহাবীরা হযরত উসমান রাঃ কে হযরত আলী রা. থেকে উত্তম বলতেন। স্বাতন্ত্রতার জন্য হযরত উসমানকে উত্তম বলাকারীদের উসমানী বলা হয়। আর আলী রা. কে উত্তম বলাকারীদের আলিয়ী বলা হয়।
কিছু তাবেয়ীকে উসমানী এবং আলিয়ী বলার বর্ণনা বুখারী শরীফের ১ নং খন্ডের ৪৩৩ নং পৃষ্টায় আছে।
কুরআনে পাকের ক্বিরাতের মাঝে যখন ইখতিলাফ হয় তখন স্বাতন্ত্রতার জন্য ক্বারী আসেম রহ. এর ক্বিরাত এবং ইমাম হামযাহ রাহ. এর ক্বিরাত রাখা হল। এটাকে কেউতো এই উদ্দেশ্য নেয়নি যে, এটা আল্লাহর কুরআন নয়, বরং ক্বারী আসেমের বানানো! হাদিসের মাঝে মতভেদ হলে বলা হয় এটা আবু দাউদের হাদিস আর এটা বুখারীর হাদিস। এই কথার উপরও কেউ কুফরীর নিসবত করেনাতো!
ঠিক এমনি হাল ফিক্বহী বিষয়ে মতভেদের সময় ‘হানাফী” আর “শাফেয়ী” বলাটা। আমরা ঈসায়ীদের বিপরীতে নিজেকে মুসলমান বলি। আহলে বিদআতি খারেজী মুতাজিলীদের বিপরীতে নিজেদের আহলে সুন্নাত বলি। আর শাফেয়ীদের বিপরীতে নিজেদের হানাফী বলি।
যেমন আমরা ভারতীদের বিপরীতে নিজেদের বাংলাদেশী বলি। গাজীপুরের বিপরীতে এসে বলি নরসিংদী। নরসিংদী, গাজীপুরী, বাংলাদেশীকে মেনে বলা হয়। ছেড়ে নয়। ওদের এই প্রশ্নটিই একটা ধোঁকাবাজি। এরকম প্রশ্ন ফাইজলামী ছাড়া কিছু নয় যে, আজ শনিবার নাকি ৫ তারিখ? আজ নভেম্বর নাকি রবিবার? প্রশ্ন হবে আজ শনিবার নাকি রবিবার? আজ নভেম্বর নাকি ডিসেম্বর? সুতরাং এক্ষেত্রেও প্রশ্ন হবে-“তুমি মুহাম্মদী না ঈসায়ী? তুমি হানাফী না শাফেয়ী?” কিন্তু একথা বলা ভুল এবং হাস্যকর যে, “তুমি পাকিস্তানী না পাঞ্জাবী? আজ নভেম্বর না শনিবার? তুমি হানাফী না মুহাম্মদী?”
আমলের ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টির এক ভয়ানক খেলায় মত্ত ওরা
গায়রে মুকাল্লিদরা আজ ব্যাপকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করেছে। ফাযায়েলে আমালের বিরুদ্ধে লেগেছে। যেই কিতাব যখন কোন এলাকায় ঢুকেছে সেই এলাকায় দাড়িহীন লোক দাড়ি রাখছে। সুদখোর সুদ ছাড়ছে। ঘুষখোর ঘুষ ছেড়ে দিচ্ছে। গোটা পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ঢুকে মানুষকে হেদায়েতের আলোয় আলোকিত করছে। সেই কিতাবের বিরুদ্ধে লেগেছে ইংরেজদের দোসর এই বাতিল ফিরক্বা।
আজ নামের মুসলমানরা পাক-নাপাকের মাসআলা জানে না। নখপালিশ দিয়ে অযু করছে তাদের অযু হচ্ছেনা, গোসল হচ্ছেনা। যদি আহলে হাদীস গ্রুপ ইংরেজদের দোসর না হত, তাহলে তারা তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে না লেগে মুসলমানদের আমল শিক্ষা দিত। কুরআন শিক্ষা দিত। পাক-নাপাকের মাসআলা শিক্ষা দিত। মুসলমানদের মদপান থেকে বিরত রাখতে কাজ করত। সুদ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করত। কিন্তু তারা এসব কিছুই করছেনা। বরং যেই লোকগুলো নামায পড়ছে তাদের মনে ওয়াসওয়াসা তথা সন্দেহ সৃষ্টি করে দিয়ে বলছে যে, তোমাদের নামায হয়না। তোমাদের কালিমা হয়না ইত্যাদী। নামাযী মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিয়ে বলছে , তোমাদের নামায মুহাম্মদী নামায নয় হানাফী নামায। তোমাদের কালিমা মুহাম্মদী কালিমা নয় হানাফী কালিমা। তোমরা শিরক করছ। এভাবে আমলকারী মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ওদের কার্যক্রম জোরদার করছে। ওরা আমলকারীদের মনে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে দিচ্ছে সহীহ হওয়া না হওয়ার।
এই ওয়াসওয়া থেকেই আল্লাহ তায়ালা আশ্রয় চাইতে সূরা নাসে শিক্ষা দিয়েছেন যে,
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ (5) مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ (6)
অর্থাৎ যারা মানুষের মনে ওয়াসওয়াসা তথা সন্দেহ সৃষ্টি করে দেয় মানুষ ও জিন জাতির মধ্য থেকে তাদের থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। {সূরা নাস-৫-৬}
ওরা আমলের মাঝে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কুরআনের মাঝে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে, হাদীসের মাঝে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে। নামাযের মাঝে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে। ওরাই কুরআনে বর্ণিত সেই ওয়াসওয়াসা সৃষ্টিকারী দল। যাদের থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা।
মক্বা-মদীনা নয়, কুরআন-সুন্নাহই অনুসরণীয়
ওরা মানুষের মনে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে যে, মক্কা থেকে দ্বীন এসেছে। মদীনা থেকে দ্বীন এসেছে। মক্কা মদীনায় নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধে। ইমামের পিছনে কিরাত পড়ে। সুতরাং তোমরাও তাই কর। তোমরা যেই নামায পড়ছ এটা হচ্ছেনা। এটা মুহাম্মদী নামায নয়, এটা হানাফী নামায। মুহাম্মদী নামায সেটাই যা দ্বীন যেখানে নাজীল হয়েছে সেই এলাকার মানুষ করছে সেটাই হল দ্বীন। সুতরাং তোমরা মদীনার নামায রেখে কেন হিন্দুস্থানী নামায, কুফাবাসীর নামায কেন পড়?
এই আহমকদের আমরা বলি বর্তমান আরবের শায়েখদের আমলই যদি শরীয়ত হয়, তাহলে আরবের অনেক শায়েখ এক সাথে ১৪জন বিবি রাখছে। তোমরা এটাকেও অনুসরণ করবে? ওদের সিডি দেখিয়ে মানুষকে বল যে, একসাথে ১৪ বিবি রাখা যায়! কারণ সেখানেতু দ্বীন এসেছে মক্কা-মদীনা থেকে তাই ওখানের লোকেরা যা করে সেটাই শরীয়ত!
ওরা একদিকে বলে যে, কুরআন সুন্নাহ ছাড়া কোন কিছুই দলিল নয়, তারাই আবার আরবের শায়েখদের নামাযের বর্ণনা দিয়ে বলে যে, ওরা যেহেতু বুকে হাত বাঁধে তাই আমাদেরও বাঁধতে হবে। আরবের লোকেরা যেহেতু আামীন জোরে পড়ে তাই আমাদেরও জোরে পড়তে হবে! ওদের একাজ কোন দোষণীয় নয়?!
আর আমরা শুধু ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর জ্ঞানের উপর নির্ভর করেছি। তার বিজ্ঞতার উপর নির্ভর করেছি, তাই আমরা হয়ে গেছি মুশরিক, আর ওরা আরবের লোকদের তাক্বলীদ করে খাঁটি মুমিন থাকে কি করে? অথচ আল্লাহর নবী ইরশাদ করেছেন যে,
تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنة نبيه
তথা আমি তোমাদের মাঝে দু’টি বিষয় রেখে গেলাম, তোমরা ভ্রষ্ট হবেনা যদি এ দু’টি আকড়ে ধরে রাখ। কিতাবুল্লাহ ও নবীর সুন্নত। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১৫৯৪}
রাসূল সাঃ মক্কাকে আদর্শ বানাননি। মদীনাকে আদর্শ বানাননি। আদর্শ বানিয়েছেন কিতাবুল্লাহ ও নবীজী সাঃ এর সুন্নাতকে।
অথচ ইংরেজদের দালাল আহলে হাদীস গ্রুপ আরবের শায়েখদের ভিডিও দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যে, ওরা বুকে হাত বাঁধে তাই আমাদেরও বাঁধতে হবে। ওরা জোরে আমীন বলে তাই আমাদেরও বাঁধতে হবে। যেই লোকগুলো ১৪টি ১৮টি স্ত্রী রাখে একসাথে। ওসব শায়েখদের আমল ওদের কাছে দলিল হতে পারে আমাদের কাছে নয়।
আমাদের ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর সময় একটি বকরী চুরি হয়ে গিয়েছিল, তাই তিনি একটি বকরী যতদিন জীবিত থাকতে পারে ততদিন পর্যন্ত কোন বকরীর গোস্ত খাননি। যাতে চুরিকৃত বকরীর গোস্ত তার পেটে না পৌঁছে। আমরা এমন মুত্তাকির ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করি বলে আমরা হয়ে গেছি মুশরিক। আর ওরা ১৪টি ১৫টি স্ত্রী একসাথে রেখে হারামে লিপ্ত শায়েখদের নির্ভর করতে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। ওদের লজ্জা গেল কোথায়?
অধীনতাহীন কুকুর পদে পদে হয় লাঞ্ছিত
আমাদের আকাবীররা একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন যে, একটি পালিত কুকুর তার গলায় যখন মনীবের রশি থাকে, তখন সে অসুস্থ্য হয়ে গেলে তার মনীব তার চিকিৎসা করে। তাকে নিয়মিত খাবার দেয়। তার সর্বদিক দেখাশোনা করে। সে যেখানে ইচ্ছে মুখ দেয়না। তাই তাকে কেউ আঘাত করেনা। কিন্তু যখনই সে মনীব থেকে নিজের গলার রশি খুলে পালায়, যেখানে ইচ্ছে মুখ লাগায়, সকালে এখানে, বিকালে ওখানে, তাহলে বাচ্চারা পর্যন্ত এই কুকুরটিকে ঢিল ছুড়বে। লাঠি দিয়ে তাড়াবে। লাঞ্ছিত হবে সে পদে পদে।
ঠিক তেমনি ইংরেজদের ফরযন্দ আহলে হাদীসরা যখন ইমাম আবু হানীফা থেকে নির্ভরতার রশিকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। ইমাম শাফেয়ী রহঃ থেকে নিজের রশিকে ছাড়িয়ে নিয়েছে, ইমাম মালেক রহঃ থেকে গলার রশি ছাড়িয়ে নিয়েছে, ইমাম আহমাদ রহঃ থেকে রশিকে ছাড়িয়ে নিয়েছে, আর সর্বজন বিদিত বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা রেখে সরাসরি দ্বীন বুঝতে চেয়েছে, তখন এক মাসআলায় হানাফী, এক মাসআলায় শাফেয়ী, এক মাসআলায়া মালেকী আরেক মাসআলায় হাম্বলী সেজেছে। তাই ওরাও স্বাধীন কুকুরের মত দিশাহীন বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একবার আরবের ভিডিও দেখায়, একবার বুখারী নিয়ে দৌঁড়ায়। একবার আলবানীর বই দেখায়, একবার ইবনে তাইমিয়ার কিতাব, একবার ইবনুল কায়্যিমের কিতাব দেখায়।
এই উন্মাদদের প্রশ্ন করি-কুরআন সুন্নাহ রেখে আলবানী আর ইবনে তাইয়মিয়া আর ইবনে বাজের ফাতওয়া দেখায় কেন? ভিডিও দেখায় কেন? মক্কার আমল দেখায় কেন? মদীনার আমল দেখায় কেন? ওরাতো সরাসরি শুধু কুরআন আর সহীহ হাদীস দেখাবে। এছাড়া অন্য কিছু দেখানোরতো ওদের কোন অধিকারই নেই। তাহলেতো তাক্বলীদ হয়ে যাবে। আর তাক্বলীদ ওদের ভাষায় শিরক।
আশ্চর্য লাগে-বাড়ি গড়ার জন্য যেতে হয় ইঞ্জিনিয়ারের কাছে, জুতা ঠিক করতে মুচির কাছে, চুল কাটতে নাপিতের কাছে, আইন জানতে হলে যেতে হয় আইনজিবীর কাছে, কিন্তু মুহাম্মদ সাঃ এর দ্বীন এতই সস্তা হয়ে গেছে যে, ওটা জানার জন্য কারো কাছে যাবার দরকার নাই। কোন বিশেষজ্ঞের শরাণান্ন হবার প্রয়োজন নেই। নিজে নিজে কুরআন হাদীস দেখেই দ্বীন বুঝে যাবে।
মক্কা-মদীনার অধিবাসীরা গায়রে মুকাল্লিদ নয়
মক্কা মদীনার মূল শায়েখ ও ওলামায়ে কিরাম গায়রে মুকাল্লিদ নয়। মদীনাবাসী মালেকী মাযহাবী। আর মক্কীরা হাম্বলী মাযহাব অনুসরণ করেন। হাম্বলী ও মালেকী মাযহাবে আমীন জোরে পড়ার বিধান, তাই তারাও আমীন জোরে বলেন। হাম্বলী ও মালেকী মাযহাবে বুকের উপর হাত রাখার বিধান, তাই মক্কা ও মদীনাবাসী বুকের উপর হাত বাঁধে। ইংরেজদের দালাল আহলে হাদীসদের মত গায়রে মুকাল্লিদ এজন্য নয়।
একথাটির সবচে’ বড় দলিল হল-মক্কা ও মদীনায় রমযান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ হয়, কিন্তু ইংরেজদের দালাল কথিত আহলে হাদীসরা পড়ে ৮ রাকাত। মক্কা ও মদীনার আলেমরা গায়রে মুকাল্লিদ হলে তারাও গায়রে মুকাল্লিদদের মত ৮ রাকাত তারাবীহ পড়ত। কিন্তু মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবে তারাবীহ ২০ রাকাত হবার কারণে মক্কা মদীনার বাসিন্দারা তারাবীহ ২০ রাকাত পড়ে , গায়রে মুকাল্লিদদের মত ৮ রাকাত নয়। এটাই প্রমাণ করে যে, মক্কা মদীনার লোকেরা ইংরেজদের দালাল কথিত আহলে হাদীস গ্রুপ তথা গায়রে মুকাল্লিদ নয়।
বড়ই আশ্চর্যের বিষয় যে, রমযান এলে বেনামাযী নামাযী হয়ে যায়। ফরজ যারা পড়তেন তারা নফল পড়া শুরু করেন। সকল আমলকে বাড়িয়ে দেন। যে কুরআন পড়েনা, সেও কুরআন পড়তে শুরু করে। যে নফল দুই রাকাত পড়ত সেও ৪ রাকাত বা বেশি পড়তে থাকে। কিন্তু এই নাফরমান গায়রে মুকাল্লিদ গ্রুপ আমলকে ২০ রাকাত তারাবীহকে কমিয়ে ৮ রাকাত বানিয়ে দেয়।

করতোয়া
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১২ at ৭:৪১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুন্দর বিষয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অনৈক্যের শব্দ ব্যবহার করে ঐক্যের ডাক দিলে কিভাবে একতা আসবে আপনি-ই বলুন। হতে পারে কথিত আহলে হাদিস সম্প্রদায় ভূল করছে ইংরেজদের প্রোরচনায়, তাই বলে আপনি যে ভাবে তাদের ইংরেজী দালাল আহলে হাদিস বলে সম্বোধন করছেন তাতে কি তারা আপনার ঐখ্যের ডাকে সাড়া দেবে? ক্ষমাই একমাত্র ঐক্যের ডাকে সাড়া মিলাবার পাথেয় এটাই মহানবীর শিক্ষা। সৌদি গোপনে ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলে "কাট দ্যা হেড অব দ্যা স্নেক" আবার মুসলিম ঐক্যের ডাক দেয় বলেই তো ঐক্য হচ্ছে না।
ইরান বলুন আর সৌদী বলুন, হাম্বালি বা সাফী যাই বলুন আমরা যতক্ষন না নিজেদের মদ্যৌএ পরস্পরে ক্ষমা করতে না পারবো ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের ঐক্য হবে না। আমরা সকলেই ইসরাইল ও তাদের দোষরদের ঘৃনা করছি কিন্তু পরস্পরে কাদা ছুঁড়ছি। সকল মুসলিম দেশ যদি একজোট হয়ে নিজেদের মধ্যেই ব্যবসা বানিজ্য করে তবে কোন ধরনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরান বা অপর মুসলিম দেশের ক্ষতি করতে পারে না। এই সহজ হিসাবটা কেউ করছে না।
সবাই ইসলামের কথা কয় কিন্তু ইসলামের আকিদা মানে না বলেই এই সমস্যা। কাজেই আকিদা মানায় ব্রতি হই আগে।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১২ at ১১:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
করতোয়া ভাই। বয়স ৫৪ পার হয়ে গেল ! দুনিয়াতে কম কিছু দেখিনাই। তবে আমাদের বাংগালী মুসলিমদের মধ্যে যত অনৈক্য অন্য কোন মুসলিমদের মধ্যে নেই। কারণ আমাদের মধ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদি অহমিকা এখনও বহমান!
সেই বোঝ হবার পর থেকে দেখে আসছি মসজিদে মসজিদে নামাজ শেষে দোয়ার সময় অমুক অমুক জাতিকে ধ্বংস করে দিয়ে মুসলিমদের বিজয়ী আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান হয়! কই এই ৫৪ বছরে পৃথিবীর কোথাও সেই সব জাতির ধ্বংস হতে দেখলাম না। এবং আমাদের জয় হতেও দেখিনাই। শুধু এই ৫৪ বছর নয় বিগত ৭০০ বছরের ইতিহাসে ইসলামের কোথাও বিজয় হয় নাই।
কেন হয় নাই! কেন আল্লাহ আমাদের দোয়ার উলটা ফল দিচ্ছেন? কেন আল্লাহ আমাদের সাথে নেই? কারণ আল্লাহর ইচ্ছা নাই তালেবানী ইসলাম কায়েমের জন্য। আল্লাহর ইচ্ছা নাই ১৫শত বছর পিছনে ফিরে যাবার জন্য। আমরা সেই আমলে্র মানুষের মত জীবন ধারণ করিনা।
তাই ইসলাম যতক্ষণ যুগ উপযুগী না হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা শুধু অন্ধকারে তলিয়ে যেতে থাকব। আর অন্ধকারের তলিয়ে যাবার প্রধাণ আলামত হচ্ছে- নিজের মত আর পথকে সঠিক আর অন্যের মত আর পথকে বাতিল বলে গালাগালী, মারা মারী খুনাখুনি করা।
ধন্যবাদ।
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
মে ২৭, ২০১২ at ২:১০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি আমার বাবার বয়সী।তাই আপনার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি,আপনি "ইসলামকে যুগোপযোগী হতে হবে"-এই কথাটি দিয়ে কি বুঝিয়েছেন?আপনার কি মনে হয় ইসলাম সব যুগের জন্য উপযোগী নয়?যুগোপযোগী মানে কি ইসলামের সাথে নাচগান,নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা কিংবা জায়নামাজে বসে পর্নো দেখার মত জগাখিচুড়ি ইসলাম?১৪০০ বছর আগের ইসলাম আল্লাহ্ চান না-সেটা আপনি কীভাবে জানলেন?১৪০০ বছর আগের ইসলাম আল্লাহ্ না চাইলে ইসলাম আসলে কোনটা?আপনি কি নিজেকে আলেম-ওলামাদের চেয়েও অনেক বড় বিশেষজ্ঞ মনে করেন?আপনি আসলে কিছুই জানেন না।জানলে এত বড় কুফরি মন্তব্য করতেন না।আল্লাহ্ আমাদের বিজয় কেন দেবেন?তিনি তো বলেছেন রাসুলের(সাঃ) দেখানো পথ অনুসরণ না করলে তিনি আমাদের বিজয় দান করবেন না।এই সোজা কথাটা আপনার মাথায় ঢুকল না।
নিজেকে যদি মুসলিম ভেবে গর্বিত হতে চান,তাহলে এই মুহূর্তে এই কুফরি মন্তব্য আপনার প্রত্যাহার করা উচিৎ।কারণ আপনার মন্তব্যে পরিষ্কার বোঝা গেছে আপনি রাসুল(সাঃ) ও সাহাবিদের মুসলমানই মনে করেন না।
নির্ভীক আস্তিক
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১২ at ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই কথাটা একটু বিব্রতকর । আপনি এর ব্যাক্ষা দিবেন বলে আশা রাখি । আমারতো মনে হয়, আমরা ১৪০০ বছর আগের ইসলামে থাকতে পারি নাই বলেই আমাদের মুসলিম দের আজ এই অবস্থা । ১৪০০ বছর আগের মুসলিম খলিফা, তাদের উদার মূল্যবোধ, মতাদর্শ, ন্যায়নীতি, আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস সেগুলো ১৪০০ বছর আগে যত সমৃদ্ধ ছিল আজো তা অনন্য । তাদের মহান দৃষ্টিভঙ্গি আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার জলন্ত উদহারন এর কাছে অমুসলিমতো দূরে থাক, মুসলিম রাও ঘেষতে পারছেনা । ১৪০০ বছর আগে যে ইসলাম ছিল, আমাদের সেই ইসলামেই ফিরে যেতে হবে কিন্তু তালেবানি পন্থায় নয় যা আল্লাহর অপছন্দনীয় ।
এপ্রিল ৩০, ২০১৩ at ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাদের অভিযোগগুলো কেমন করে আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল যার জন্য যথা সময়ে জবাব দিতে পারিনি বলে দুঃখিত!
প্রতিটি মুসলিম বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ কর্তৃক ধর্ম বলতে একটি ধর্ম আর তা হচ্ছে –ইসলাম। এই ধর্মের সূচনা হয় আদম আঃ এর দুনিয়া আগমন কাল থেকে এবং তা জারী থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।
আমরা ইতিহাসে জানতে পাই যে, আল্লাহ তালা তাঁর দ্বীন ইসলামকে জগতে প্রচার সংস্কার এবং প্রচলনের জন্য ১লাখ ২৪ হাজার নবী রাসুল আম্বিয়া কেরামন পাঠিয়েছিলেন। এবং আমরা জানি যে এই সকল আম্বিয়া কেরামগণ যুগে যুগে বিগত যুগে যুগে ইসলামের মূল থেকে বিচ্যুত মানব মণ্ডলীকে মুলে নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন।
যেহেতু নবী রাসুলদের আগমন আর হবেনা, মুহাম্মদ সাঃ মাধ্যমেই আল্লাহ ইসলামের মূল নির্দেশগুলো প্রেরণ সমাপ্তি করেন।
এবার যদি আমরা দেখি যে, মুহাম্মদ সাঃ ২৩ বছরের নবুয়তী জীবনের কার্যক্রম, সেখানেও আমরা দেখতে পাই, সব কাজের মধ্যে ছিল একটি ক্রম বিবর্তনের ধারা। হও বলেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। ২৩ বছরে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বর্ধন কর্তনের মাধ্যমে ইসলামের যাবতীয় হুকুম আহকামের একটি চূড়ান্ত রূপ দিয়ে গেছেন।
রাসুল সাঃ এর ওফাতের পরও আমরা দেখতে পাই অনেক সমস্যা আসে যা রাসুল সাঃ এর জীবিত কালে ছিলোনা। আমাদের সাহাবিয়ে কেরামগণ সেই সব সমস্যার সমাধান করেছেন ইসলামের মূল নীতি-তৌহিদ, সাম্য, ন্যায় বিচার, মানবিক অধিকারের আলোকে। শুধু সাহাবিয়ে কেরামগণ এর পরবর্তী ৭শত বছর সারা মুসলিম জাহান এক যায়গায় পড়ে থাকেনি। শুধু এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এক সময় যখন মুসলিম সমাজ আয়েশি জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তখন ধীরে ধীরে তৌহিদের চেতনা, নিজেদের মধ্যে সাম্য, ন্যায় বিচার এবং মানবিক অধিকারের কথা ভুলে যায়। ইসলামে নামাজ রোজা হজ যাকাত ফর্য হবার আগেই “ লেখা-পড়া” বা শিক্ষা করা জ্ঞান অর্জন করা ফর্য করা হয়েছিল, সেই জ্ঞান অর্জন থেকে মুসলিমগণ দূরে চলে আসে। তাতে করে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অনগ্রসর এবং অশিক্ষা কুশিক্ষায় এখন ধ্বংস প্রায় হয়ে পড়ে।
ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, তাই ইসলামে নামাজ রোজা হজ যাকাত ইত্যাদি উপাসনা পালন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না। জীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য দিকেও মুসলিমদের দায়িত্ব কর্তব্য আছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে যদিবা কেউ কেউ নামাজ রোজা হজ যাকাত ইত্যাদি উপাসনা পালন করে যান কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে উদাসীন।
আমাদের বুঝতে আল্লাহ আর কোন নতুন দ্বীন প্রেরণ করবেন না। তাই ইসলামকেই আমাদের যুগের উপযোগী করে নিতে হবে। তাই বলে আমি বলছিনা নামাজ রোজা হজ যাকাত ইত্যাদি উপাসনা ইত্যাদি ছেড়ে দিতে হবে বা এই সবে সংস্কার আনতে হবে। যে সকল শরীয়ার বিষয় রাসুল সাঃ এর জমানা থেকে সর্ব সম্মত ভাবে চলে আসছে সে সব ব্যতিরেকে আমাদের উলামায়ে কেরাম, নায়েবে নবীদেরকে যুগ উপযোগী করে তোলার চেষ্টায় রত থাকতে হবে।
আর সহজ করে যেটি বলছি- দেখুন রাসুল সাঃ এর আমলে কাপড় পরিধান করা খুব সহজ ছিলোনা। তারপরও সেলাই করে জামা তৈরি করে পরা আরও কঠিন ছিল। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য এখন যে কেউ সেলাই করা জামা পড়তে পারছে। নিশ্চয় কোন মুসলিম দাবী করবেন না যে রাসুল সাঃ মেশিনে সেলাই করা কাপড় পরিধান করেনি তাই মুসলিমদেরকেও মেশিনে সেলাই করা জামা পড়া নিষেধ!
এই ভাবে আমরা যদি রাসুল সাঃ এর আমল আর আমাদের বর্তমান আমলকে তুলনা করি তাহলে দেখতে পাব যে, সে সময়ে জীবন ধারণের জন্য অনেক উপকরণ ছিলোনা যা এখন আছে নয় তা অত্যাবশ্যক।
মুলতঃ আমরা কাপড় পরি কেন? পরি শীত তাপ ধুলা বালির আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষার করার জন্য কি নয়? এরপর আসে আমাদের কিছু অঙ্গকে ঢেকে রাখার জন্য। যেহেতু ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান তাই এই কাপড় পরার বিষয়েও কিছু বিধান দিয়ে রেখেছে। আর মুসলিম হিসাবে তা পালন করা আবশ্যক।
ইসলামের মূল নীতি কিন্তু বোরখা, জিলাবাব পরিধান করতে হবে এমন নয়, বোরখা বা জিলাবাবের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম বলেছে কিছু অঙ্গ ঢেকে রাখার জন্য তা বোরখা বা জিলেবাব ছাড়া ঢেকে রাখা গেলে সে ভাবে রাখা যাবে।
বোরখা জিলেবাব হচ্ছে বিজ্ঞানের আবিষ্কার। আগে যেখানে লম্বা কাপড় খণ্ড দিয়ে সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ করা হত এখন বোরখা বা জিলেবাব দিয়ে সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ করা হয়। তবে যা ব্যবহার করা হয়না কেন দেখতে সে পোশাক সেই দেশের আবহাওয়ার সাথে উপযুক্ত কিনা তা পরিধান করলে পরিধানকারীর শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায় কিনা।
শেষ কথা- তৌহিদ, রেসালত, সাম্য, ন্যায় বিচার, মানবিক অধিকার রক্ষা হয় যে ভাবে সে ভাবেই আমরা যুগে যুগে ইসলামকে সংস্কার করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যদি ১৫ শত বছর আগের মানুষের জীবন ধারণ উপযোগী পন্থায় পড়ে থাকি আর জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকি তাহলে আমাদেরকে সব সময় বিজাতীয়দের লাথি খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে।
Engl
মে ৩, ২০১৩ at ৮:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
nice post.. we have to learn before re-act
Talha
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১২ at ৮:১০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
১. এই ওয়াহাবীরাও ব্রিটিশদের তৈরী করা। আব্দুল ওয়াহাব এক ব্রিটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্ফার দ্বারা ব্রেইন ওয়াশ হয়েছিল। হ্যাম্ফার নিজে সেটা তার "CONFESSIONS of A BRITISH SPY and British Enmity Against Islam" নামক বইতে স্বীকার করেছে। দেখুন
http://www.hizmetbooks.org/British_Spy_Hempher/
২. আয়ুব সাবরী পাশা(উথমানীয় খিলাফতের সময় সম্ভবত সেনাবাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন) তিনিও তার Mir'at al-Haramain: 5 volumes, Matba'a-i Bahriyye, Istanbul তেও বলেছিলেন আব্দুল ওয়াহাবের সাথে ব্রিটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্ফারের সম্পর্ক ছিল। দেখুন
http://www.surrenderingislam.com/part-two-beginning-and-spreading-wahhabism-ayyub-sabri-pasha-1888-1893
৩. আয়ুব সাবরী পাশার রচিত ইতিহাসের বিষয়বস্তুর সাথে ঐ সময়কার মক্কার প্রধান মুফতি শায়খুল ইসলাম আহমাদ জায়নি দাহলান(রঃ) রচিত "Fitnatu-l-Wahhabiyyah" এর সাথে মিলে যায়। দেখুন
http://www.yakhwajagaribnawaz.com/islam/wahhabis.htm
৪. আব্দুল ওয়াহাবের ছোট ভাই শায়খুল ইসলাম সুলায়মান ইবন আব্দুল ওয়াহাবের একটি বই আছে "As-Sawaa’iq al-Ilahiyyah – The Divine Lightning" নামে। তাদের বাবাও একজন স্কলার ছিলেন। তার বাবাই তাঁর ছোট ছেলেকে তৈরী করে দিয়ে গিয়েছিলেন মৃত্যুর আগে এই বইটি লিখার জন্য। এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বই। আর এটাই ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না। আরবী ও ইংরেজী ভাষায় হয়ত পাওয়া যায়। এটা উর্দুতে পাওয়া যায় কিনা জানি না।
৫. আর এই আহলে হাদীসরা বলে থাকে তাক্বলীদ নেই, মাযহাব নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সমস্ত ভ্রান্ত মতবাদ তৈরী করেছিল ফ্রিমেসন* লা-মাযহাবী রাশিদ রিদা। "ANSWER TO AN ENEMY OF ISLAM" নামক বইটি দেখুন
http://www.hizmetbooks.org/Answer_to_an_Enemy_of_Islam/
এই কয়েকটা বই-এর রেফারেন্স দিলে আরো ভাল হত ও তথ্যবহুল হত। সাধারণ মানুষ ইংরেজী ভাল বুঝে না। বাংলায় অনুবাদ করলে যে কোনো বাংগালী বুঝবে। আপনাদেরও সুবিধা হবে।
*ফ্রিমেসনরা শয়তানের পূজা করে।
লুৎফর ফরাজী
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ৫:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জাযাকাল্লাহ। ভাল তথ্য দিয়েছেন ভাইজান। পরবর্তীতে কাজে লাগবে। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
কিংশুক
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১২ at ১০:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
গায়রে মুকাল্লিদগনের বিষয়ে আপনার লেখাটা কিছুটা উনাদের ব্যাবহারের মতো আক্রমনাত্মক মনে হচ্ছে।মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনি তাঁদের সাথে ইংরেজদের যেরকম সম্পর্ক দেখালেন উনারাও উপমহাদেশের তথাকথিত(! আহলে হাদিসগনের ভাষ্যমত) হানাফিদের ব্যাপারে ইংরেজদের সাথে একইপ্রকার সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন। উনারা সুফিবাদী,বেরেলভী,দেওবন্দী বা অন্য যে কারো আক্বীদায় যদি কোন ভ্রান্তি পেয়ে থাকেন তাহলে সেই বিষয়েই আলোকপাত সীমাবদ্ধ রাখতে পারতেন(কারো বিষয়ে আমার নিজের কোন সন্দেহের কথা বলছিনা, আলেমের সমালোচনা তাঁদের চাইতে বড় আলেম না হলে করার যোগ্যতা কারো নাই বলে বিশ্বাস করি; আহলে হাদিসগনের বক্তব্যই বলছি কেবল)।তা না করে কাদিয়ানী মাদ্রাসায় পড়া হানাফি ছিলেন এইজন্য তাকে উপমহাদেশের সকল হানাফিগনের সাথে গুলিয়ে দিয়ে, শিয়া-কাদিয়ানী আর হানাফি মাজহাব মানা সবাইকে এক কাতারে ফেলে দেন।তাঁদের নিজেদের ব্যতীত বাকী সকলকে গনহারে কাফের, মুশরেক, বিদআতি ফতোয়া দিয়ে দিচ্ছেন।
আপনারা মাদ্রাসায় ইলমে দ্বিন হাসিল করা আলেম। আমরা যারা সাধারন বাংলাদেশী মুসলমান তাদেরকে আপনারাই নামাজ পড়ার পদ্ধতি, সুরা-ক্বেরআত, কোরআন শরীফ পাঠ করার শিক্ষা হতে শুরু করে সকল ইসলামি শিক্ষা দিয়ে খাকেন; আমাদের পিতা-মাতা,পূর্বপুরুষগনও আল্লাহর, তাঁর রাসূলের(সা:) শিক্ষা উপমহাদেশের আলেমগনের কাছ থেকেই পেয়েছেন। আহলে হাদিসগন দেওবন্দীসহ উপমহাদেশের আলেমগনের বিষয়ে যাই বলুক না কেন আমাদের বাংলাদেশী মুসলমানগন দেওবন্দীসহ সকল মাদ্রাসায় দ্বিনের শিক্ষা নেয়া আলেমগনই দ্বিনের ব্যাপারে সেরা বলে নির্দ্বিধায় মেনে নেই।তাবলীগ জামায়াতকেই দ্বিনের দাওয়াতের ব্যাপারে সেরা মনে করি। তাবলীগি জামায়াতের ব্যাপারে আমাদের উপমহাদেশের সাধারন মুসলমানদের আবেগ ও শ্রদ্ধা বোজার ক্ষমতা আহলে হাদিসগনের নাই।
একসময় মনে করতাম, আহলে হাদিসগনের বাংলাদেশে বাস্তবে বোধহয় তেমন কোন উপস্থিতি ও প্রভাব নাই কিন্তু বর্তমানে মসজিদে ইমাম সাহেবের সাথে ফরজ নামাজের পর দোওয়া করা-না করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রকাশ্যে তর্ক জুড়ে দেয়া দেখে বুজতে পারছি তাঁরা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছেন।
আপনার উল্লেখ করা সকল তথ্যের শুদ্ধতার ব্যাপারে বলতে পারবোনা তবে আপনার বক্তব্যের সাথে দ্বিনের ব্যাপারে একজন মূর্খ হয়েও একমত পোষন করছি।নিজে নিজে কোরআনের কিছুটা অনুবাদ পড়ে আর বুখারী-মুসলিমের কিছু হাদিস পড়ে আর আব্দুল ওয়াহাব(রা:),শায়খুল ইসলাম ইবন তাইয়্যেমিয়া বা বর্তমানের কয়েকজন আহলে হাদিসপন্থির দুই চারটা বই পড়েই যদি সারাজীবন দ্বিনের জ্ঞান তালাশ করা আলেম-বুজুর্গ যাঁদের জ্ঞানের হাজার ভাগের একভাগও আমাদের নিজেদের রয়েছে বলে নিশ্চিত নই এমন ব্যক্তিরা ইচ্ছামতো যেকোনো আলেমের চাইতে বেশী বোজার দাবী করে বসি এবং সবার সাথে চরম বেয়াদবের মতো আচরন করতে থাকি তাহলে তা সমর্থন করা যায়না।
লুৎফর ফরাজী
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ৫:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জাযাকাল্লাহ।
ফরিদ আলম
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ২:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ফরিদ আলম
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ২:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমাদের ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর সময় একটি বকরী চুরি হয়ে গিয়েছিল, তাই তিনি একটি বকরী যতদিন জীবিত থাকতে পারে ততদিন পর্যন্ত কোন বকরীর গোস্ত খাননি। যাতে চুরিকৃত বকরীর গোস্ত তার পেটে না পৌঁছে। আমরা এমন মুত্তাকির ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করি বলে আমরা হয়ে গেছি মুশরিক। আর ওরা ১৪টি ১৫টি স্ত্রী একসাথে রেখে হারামে লিপ্ত শায়েখদের নির্ভর করতে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। ওদের লজ্জা গেল কোথায়?
পুরো লেখাটা পড়ে শুধু হাসছি।
লুৎফর ফরাজী
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ৫:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পুরো লেখাটা পড়ে শুধু হাসছি
ভাইজান! আপনি মনে হয় জানেন না যে, বোকারা ৪বার হাসে।
প্রথমবার হাসে এমনিতেই।
দ্বিতীয়বার হাসে সবাইকে হাসতে দেখে।
তৃতীয়বার হাসে সবাই কেন হেসেছে সেই কারণ জেনে।
চতুর্থবার হাসে প্রথমবার যে অযথা হেসেছে সেই কারণে।
তথ্যটা মজার না ভ্রাতা? আপনার অবস্থাটা কিন্তু এর ব্যতিক্রম নয় তাইনা
ফরিদ আলম
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ২:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখাটা পড়ার অনুরোধ করছি….
কুরআন হাদীস ও চার ইমামদের দৃষ্টিতে মাযহাবhttp://prothom-aloblog.com/posts/84/130575
শাহবাজ নজরুল
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১২ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বেশ আবেগী লেখা, তবে বেশ একতরফা ও একপেশে। আপনার লেখার অনেক অংশই অস্মপূর্ণ ও স্ববিরোধী। ভালো থাকেন।
--শাহবাজ
Najibullah
মার্চ ১৫, ২০১২ at ৯:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার একটি তথ্য ভুল আছে৷ সেটা হল আমার জানা মতে ইংরেজ আমলে আহলে হাদীসদেরকে ওহাবী বলা হত না৷ বরং ইংরেজদের বিরম্নদ্ধে যেই সকল মুজাহিদীনে কিরামগণ জিহাদ করেছিলেন যেমন হযরত সৈয়দ আহম ব্রেলভী (র:), তিতুমীর সহ দেওবন্দী ওলামায় কেরামগণ তাদেরকেই ওহাবী অপবাদ দেয়া হয়েছিল৷ যাতে সাধারণ মুসলমানগণ জিহাদী কাফেলায় শরীক না হয়৷ আর এ অপবাদ দেয় স্বয়ং ইংরেজরাই আর তাদেরকে ওহাবী ফতোয়া প্রদানে যে আলেমকে ভাড়া করে সে ছিল বর্তমান আমাদের দেশের সন্নী নামধারী বেদাতী দল রেজভী গ্রম্নপের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ রেযাখান ব্রেলভীকে৷ যেই বেদাতী দল এখন দেওবন্দী ওলামায় কেরামগণকে ওহাবী ও কাফের বলে গালী দেয়৷
আহলে হাদীসরা যদিও মাযহাব মানেনা কিন্তু তাকলীদের বিরদ্ধে প্রথম যিনি ফতোয়া দেন তিনি হলেন ইমাম ইবনে তইমিয়া (র:) যার এলমী গভীরতার ব্যাপারে মাযহাবপন্থী আলেমগণও একমত৷ এমনকি তারএলমে হাদীসে দৰতার ব্যাপারে বলা হয় তিনি যে হাদীসটা জানেন না, সেটা কোন হাদীসই না৷ তিনিই সর্বপ্রথম তাকলীদের বিরম্নদ্ধে ফতোয়া দেন৷ যাকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে আব্দুল ওহাব নজদী ও আল-বয, আলবানী৷ যদিও চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাব অনুসরণ করা ওয়াজিব; এ ব্যাপারে চতুর্থ হিজরীতেই সকল ওলামায় কেরামগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে৷ কিন্তু তাদের বক্তব্য হল মাযহাবগুলো প্রতিষ্ঠার সময় সকল সহীহ হাদীস একত্র সন্নীবেশীত অবস্থায় মুসলিম উম্মাহর সামনে উপস্থিত ছিল না৷ পরে সকল সহীহ হাদীস পাওয়া যায় সিহাহ সিত্তাহ এর যুগে৷ এ জন্যে সিহাহ সিত্তাহ এর ইমামগণও চার মাযহাবের অনুসারী ছিলেন না, তারা নিজেরাই মুজতাহীদ ছিলেন ও তারা নিজেরা তাদের ইসত্মিম্বাতকৃত মাসআলা অনুযায়ী আমল করতেন৷ আর চার মাযহাবের ইমামগণও বলে গেছেন যে, আমার পরে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া গেলে সেটাই হবে আমার মাযহাব৷ তাহলে এখন ওহাবীদেরএ অভিযোগের মিমাংশা কি? যে, চারমাযহাবের রায়ের বিরম্নদ্ধে পরবর্তীতে সহীহ হাদীস পাওয়া যাওয়ায় তারা সহীহ হাদীসের উপর আমল করে৷
অতএব তাদের যুক্তি আমরা কিভাবে খন্ডন করব? শুধু সৌদী ওহাবীরই নয়, ইমাম ইবনে তাইমিয়ার তাকলীদ বিরম্নধী এ ফতোয়ার উপওে একমত পোষণ করেছেন অলস্নামা ইকবাল, শাহ ওয়ালীউলস্নাহ মোহাদ্দেস দেহলভী (র:) সহ আরো অনেকেই৷ তাহলে এ ইখতিলাফের মিমাংশা কি?
লুৎফর ফরাজী
মার্চ ১৬, ২০১২ at ২:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার তথ্যে নয় তথ্যে ভুল আছে আপনার।
১
আহলে হাদীস নাম ইংরেজ আমলের আগে কোন হাফেজে হাদীস বা মুহাদ্দিসীনদের জামাত ছাড়া মুর্খ লোকদের যারা কেবল জোরে আমীন আর বুকে হাত বাধে তাদের বলা হত একটি উপমা দেনতো! আহলে হাদীস নাম ইংরেজদের আমলের আগে ছিল মুহাদ্দিসীনদের নাম। আর ইংরেজদের আগমনের পর ওদের কাছ থেকে রেজিষ্টার করে প্রতিষ্ঠিত হয় কিছু মাসআলার অনুসারী, মাযহাব অস্বিকারকারী মুর্খের জামাত। যারা না রাখে সরাসরি কুরআন সুন্নাহ থেকে ইজতিহাদ করার ক্ষমতা, না করে কোন বিজ্ঞ স্বীকৃত ব্যক্তির তাকলীদ। বরং ক্ষেত্র বিশেষ জাহিল ব্যক্তির অন্ধ তাকলীদ করে, নতুবা অধীনতাহীন উন্মাদের মত একবার এক কথা আরেকবার আরেক কথা বলে বেড়ায়। এই উদ্ভট জামাত পূর্বে ছিল একটি নজীর আপনাকে দেখানোর আহবান করছি।
২
আর শায়েখ ইবনে তাইমিয়া মাযহাব অস্বিকার করেছেন আপনাকে কে বলেছে? যাদের ইজতিহাদ করার ক্ষমতা আছে তাদের জন্যতো কোন মাযহাবের অনুসরণ জায়েজই নয়। মাযহাবের অনুসরণতো করবে যাদের সেই যোগ্যতা নেই।
আজকের কথিত আহলে হাদীসের ক'জন লোক কয়টা হাদীস সনদসহ মুখস্ত জানে? নিজেকে ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর মত সরাসরি কুরআন সুন্নাহ দেখেই আমল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে?
ইমাম ইবনে তাইমিয়া লাগামহীনভাবে যে মাযহাব মনে চায় সেটাকে মানা সুষ্পষ্ট হারাম ও অবৈধ ঘোষণা করেন। {ফাতওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া-২/২৪১}
৩
আপনি একটি মজাদার তথ্য দিলেন-চার মাযহাব লিপিবদ্ধ হবার সময় হাদীসের কিতাব লিপিবদ্ধ না হওয়ায় তারা তাদের মাযহাব সহীহ হাদীসের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নি। তাই তারা বলে গেছেন- হাহ হা! হাসালেন ভ্রাতা! হাদীস লিপিবদ্ধ হবার আগে তাহলে কি হাদীস ছিলনা? ইমাম আবু হানীফা যেখানে বলে গেলেন-যেটা সহীহ হাদীস সেটাই আমার মাযহাব। একথাইতো স্পষ্ট দলিল যে, তিনি তার মাযহাবের ভিত্তি সহীহ হাদীসের উপর রেখেছেন, কোন দুর্বল হাদীসের উপর রাখেন নি। যদি দুর্বল হাদীসের উপর রাখতেন, তাহলে স্পষ্ট করে একথা কি করে বললেন যে, যা সহীহ হাদীস তাই আমার মাযহাব? আর ইমাম বুখারী রহঃ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর হাদীসের ছাত্রের ছাত্র। এমনিভাবে ইমাম মুসলিমও দু' তিনজন পরের ছাত্র। আর বাকিরাতো আরো পরে, তাহলে আগে এসেছেন ইমাম আবু হানীফা রহঃ আর আমরা জানি-হাদীস দুর্বল সহীহ হয় সুত্রের মাঝে মূলত দুর্বল ও সহীহ ব্যক্তি আসার মাধ্যমে। আর এটাতো দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট বিষয় যে, সুত্র যত বাড়বে, তাতে সমস্যা হবার সম্ভাবনা তত বেশি। সুতরাং যে হাদীসে সুত্র যত কম, সেই হাদীস ততই নিরাপদ। তাই নয়কি? সুতরাং এটি স্পষ্টই বুঝা যায় যে, ইমাম আবু হানীফা রহঃ যখন তার মাযহাব লিপিবদ্ধ করান তখন যেই হাদীসটি চূড়ান্ত পর্যায়ের সহীহ ছিল সুত্র কম থাকার কারণে সেটি ইমাম বুখারীর কাছে যেতে যেতে মাঝখানে কোন দুর্বল বর্ণনাকারী আসার কারণে সেটি দুর্বল হয়ে গেছে। এটিইতো যৌক্তিক তাই নয়কি? যেহেতো ইমাম আবু হানীফা রহঃ তার মাযহাব দুর্বল হাদীসের উপর প্রতিষ্ঠিত করবেন না, সেই স্বীকারোক্তি আপনারাই দিলেন যে, তিনি বলেছেন যে, যা সহীহ তাই তার মাযহাব। সুতরাং তিনি তার মাযহাব কি করে দুর্বল হাদীসের উপর প্রতিষ্ঠিত করলেন? এর উত্তর আশা করি পেয়েছেন!
৪ এ জন্যে সিহাহ সিত্তাহ এর ইমামগণও চার মাযহাবের অনুসারী ছিলেন না, তারা নিজেরাই মুজতাহীদ ছিলেন ও তারা নিজেরা তাদের ইসত্মিম্বাতকৃত মাসআলা অনুযায়ী আমল করতেন৷
এই কথাটি আপনি বলেছেন-মুহাদ্দিসীনদের সম্পর্কে না জানার কারণে-
মুহাদ্দিসগন কি মাযহাব মেনেছেন?
এই কথাটি বুঝার আগে একটি কথা আগে বুঝে নিন। সেটা হল-রাসূল সাঃ এর যুগ থেকেই দু’টি দল চলে আসছে, একটি দল হল যারা ইজতিহাদ তথা উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী। তারা ইজতিহাদ করতেন তথা মত দিতেন বিভিন্ন বিষয়ে। আর একদল ছিলেন যাদের এই ক্ষমতা ছিলনা, তারা সেই মুজতাহিদদের মতের তথা মাযহাবের অনুসরণ করতেন।
ঠিক একই অবস্থা ছিল সাহাবাদের যুগে। একদল ছিল মুজতাহিদ, যাদের একটি তালিকা ইতোপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। আর বিশাল এক জামাত ছিল যারা ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখতেন না। তারা সেই সকল মুজতাহিদদের মাযহাব তথা মতের অনুসরণ করতেন। তেমনি তাবেয়ীদের একই অবস্থা ছিল, একদল মুজতাহিদ, আরেকদল মুকাল্লিদ তথা অনুসারী। এমনি মুহাদ্দিসীনদের মাঝেও দুই দল ছিল, একদল ছিল যারা ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখতেন, আরেকদল ছিল যারা ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখতেন না। তাই তাদের মাঝে কারো কারো মাযহাব রয়েছে কারো কারো নেই। কেউ কেউ নিজেই মাসআলা বের করেছেন, কেউ কেউ অন্য কোন ইমামের অনুসরণ করেছেন।
যেমন ইমাম বুখারী মুজতাহিদ ছিলেন, তাই তার কারো অনুসরণের দরকার নাই। তবে কেউ কেই তাকে শাফেয়ী মাযহাবী বলে মত ব্যক্ত করেছেন। {আল ইনসাফ=৬৭, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ-২/২, আবজাদুল উলুম—৮১০}
এমনিভাবে ইমাম মুসলিম রহঃ ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। {আল হিত্তাহ-১৮৬}
নাসায়ী শরীফের সংকলক ইমাম নাসায়ী রহঃ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ এর মাযাহাবের অনুসারী ছিলেন।, ইমাম আবু দাউদ রহঃ, ও ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী। {ফয়জুল বারী-১/৫৮, আবজাদুল উলুম-৮১০, ইলাউল মুয়াক্কিয়ীন-১/২৩৬}
ইমাম তাহাবী রহঃ ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী। যা তার সংকলিত তাহাবী শরীফ পড়লেই যে কেউ বুঝতে পারবে। এছাড়াও বাকি সকল মুহাদ্দিস হয়ত মুজতাহিদ ছিলেন, নতুবা ছিলেন মুকাল্লিদ কোননা কোন ইমামের।
৫
ইমাম ইবনে তাইমিয়ার তাকলীদ বিরম্নধী এ ফতোয়ার উপওে একমত পোষণ করেছেন অলস্নামা ইকবাল, শাহ ওয়ালীউলস্নাহ মোহাদ্দেস দেহলভী (র:) সহ আরো অনেকেই৷
আপনার এই ব্ক্তব্যটিও তাদের জীবনী সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বলছেন- আল্লামা ইকবাল শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। পড়ুন শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী লিখিত হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ও আল ইনসাফ গ্রন্থ দু'টি। আপনার অজ্ঞতার অন্ধকার আশা করি ঘুচবে।
৬
আর ওহাবীর যে বিষয়টির কথা বলেছেন-সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। ওহাবী দুই প্রকার লোকদের বলা হত সে সময়। এক হচ্ছে ইংরেজ বিরোধীদের, আরেক দল হচ্ছে ইংরেজ পক্ষপাতীদের। প্রথমে ওহাবী বলে গালি দেয়া হত ইংরেজ পক্ষপাতীদের। যেমন গালি দেয়া হত ইংরেজদের পক্ষে লেখা কথিত আহলে হাদীসদের ভারতবর্ষীয় ইমাম মুহাম্মদ হাসান বাটালবীর দালালীপূর্ণ লিখা "আল ইকতিসাদ ফি মাসায়িলিল জিহাদ" লিখার পর সাধারণ জনতা তাদের দেশদ্রোহীতার কারণে ডাকত ওহাবী।
তারপর ইংরেজদের পা চেটে যখন তাদের নাম রেজিষ্টি্ করায় আহলে হাদীস, তখন ইংরেজরা সেই ওহাবী গালিটি ইংরেজদের বিপক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার পায়তারা করে দেওবন্দী স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর সেনানীদের ডাকতে থাকে বৃটিশ বিরোধী হবার কারণে ওহাবী। যেমন আমেরিকা নিজেদের সন্ত্রাসীপনা ঢাকার জন্য সব সময় চিল্লিয়ে চলে সন্ত্রাস দমন, সন্ত্রাস দমন এরকম আরকি!
আশা করি বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। ভাল থাকুন।
আপনি এই প্রশ্নোত্তরটি দেখতে পারেন
Najibullah
মার্চ ১৫, ২০১২ at ৯:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Please attech the bijoy, amra jara bijoy sara onno kono typing keybord parina tara type korte partesina.
Najibullah
মার্চ ১৬, ২০১২ at ১১:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, আমি নিজেও হানাফী মাযহাবের অনুসারী। কিন্তু কিছু শংসয় কাটানোর জন্যেই আমার প্রশ্নগুলো করা।
আপনি তিন নং পয়েন্টে যেটা বললেন সেটা ঠিক নয়। ইমাম আবু হানিফা বলেছিলেন, “যদি আমার পরে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় তবে তোমরা আমার মাযহাব অনুসরণ না করে সহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করবে।” আর তার সহীহ হাদীস প্রাপ্যের সল্পতার যে অভিযোগ আহলে হাদীসরা করে তার করণ হল ইমাম আবু হানিফা (র:) ছিলেন তাবেয়ী যুগের লোক। তার সময়ে সকল সহীহ হাদীস একত্রে সন্নীবেশীত অবস্থায় ছিল না। হাদীস জানলেওয়ালা সমস্ত সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ছিলেন বিভিন্ন দেশে ছড়ানো ছিটানো। আর ইমাম আবু হানীফা (র:) তাদের সকলের কাছে গিয়ে গিয়ে সমস্ত হাদীস সংগ্রহও করেন নি। তারও অনেক পরে শুধুমাত্র সিহাহ সিত্তার যুগেই সকল হাদীস একত্রে সন্নীবেশীত করা হয়। এ কারনেই ইমাম বুখারী (র:) ইমাম আবু হানীফা (র:) এর সহীহ হাদীসের বিপরীত রায় দেখে বুখারী শরীফে ১৭ স্থানে “কীলা বা’য” (কতিপয় লোক বলে) উল্লেখ করে ইমাম আবু হানিফার সমালোচনা করেছেন। আর এ জন্যেই ইমাম আবু হানিফা (র:) অনেক সহীহ হাদীস জানতেন না বলে আহলে হাদীসরা অভিযোগ করে। আমি আপনার কাছে এ পয়েন্টের যু্িংঁঢ়৩; খন্ডন চাচ্ছিলাম।
আপনার ৫ নং পয়েন্টের জবাবে আমি আল্লামা ইকবালের “ইসলামে ধর্মীয় চিন্তার পুনর্গঠন” ও দেহলভীর “আল-ইনসাফের“ কতিপয় লিখা উপস্থাপন করছি। আশা করি জবাব দিবেন।
আল্লামা ইকবাল ইসলামকে চারমাযহাবে বন্দী করে স্থবির করার তীব্র নিন্দা করেন। এবং আব্দুল ওহাব নজদীর মাযহাব বিরোধী অবদানের ভুয়োশী প্রশংসা করেন। আমি তার বই “ইসলামে ধর্মীয় চিন্তার পুনগর্ঠন“ এর ১০৬ পৃষ্ঠা থেকে ১২৭ পৃষ্ঠার কতিপয় অংশ তুলে ধরছি।
১. “ ———- আমাদের প্রাচীন আরবীয় এবং অনারবীয় আইন পন্ডিতগণ সংগৃহীত আইনগুলোর সংস্কার করেছিলেন যতক্ষণ না তারা আমাদের অনুমোদিত আইন গোষ্ঠীসমূহের স্বীকৃতি পেয়েছিল। এই আইন গোষ্ঠী ইজতিহাদের তিনটি স্তরের কথা বলে :
১. আইনের উপর পূর্ণ কর্তৃত¦ যা প্রকৃতপক্ষে সীমাবদ্ধ ছিল আইন গোষ্ঠির প্রতিষ্ঠাতাদেও মধ্যে।
২. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যা একটি বিশেষ গোষ্ঠির জন্য কাজ করবে।
৩. বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নকারী, যেসব ক্ষেত্রে আইন গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতাগণ কোন নির্দেশ দিয়ে যান নি।
এই ব্ংঁঢ়৩;ব্যে আমি ইজতিহাদের প্রথম স্তর নিয়ে আলোচনা করব। ইজতিহাদের এই স্তরে তাত্ত্বিক সম্ভাবনার কথা সুন্নীগণ স্বীকার করেছিল। কিন্তু এই গোষ্ঠীসমূহ প্রতিষ্ঠা করার পূর্ব পর্যন্ত এর বাস্তব প্রয়োগকে অস্বীকার করেছিল, এই কারণে যে পূর্ণ ইজতিহাদ একটিমাত্র ব্যা্িংঁঢ়৩;র পক্ষ্যে অসম্ভব। যে আইন পদ্ধতির ভিত্তিমূল কোরআন তার এরূপ দৃষ্টিভ্িভৎধপ১২; অদ্ভ’ত। আমরা সম্মুখে অগ্রসর হবার পূর্বে এই বৌদ্ধিক দৃষ্টিভ্িভৎধপ১২;র কারণ অনুসন্ধান করতে চেষ্টা করব যা ইসলামী আইনকে প্রকৃতপক্ষে স্থির অবস্থায় এনেছে।———————-। “
২. “————- ত্রয়োদশ শতক এবং তার পরে ইসলামি আইনে অতীত ইতিহাসের প্রতি অন্ধ শ্রদ্ধার জন্য যে অতি সংগঠনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, যা ছিল ইসলামের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের বিরোধী; পরিণতিতে আহ্বান করেছিল ইবনে তাইমিয়ার প্রতিক্রিয়া, ইসলামের অক্লান্ত লেখক এবং ধর্মপ্রচারক, যার জন্ম হয়েছিল ১২৬৩ খৃ: বাগদাদের পতনের পাচ বছর পর। ইবনে তাইমিয়া নিজের জন্য ইজতিহাদের স্বাধীনতা দাবি করে এই গোষ্ঠীসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উত্থাপন করেন, এবং নতুন করে শুরু করার উদ্দেশ্যে প্রথম নীতিতে ফিরে গিয়েছিলেন, ইবনে হাজামের মত যিনি জাহিরি আইনের প্রতিষ্ঠাতা হানাফি মাযহাব এর উদাহরণ এবং ইজমার দ্বারা বিচার পদ্ধতি বাতিল করেছিলেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন চু্িংঁঢ়৩; কুসংস্কারের ভিত্তি এবং নি:সন্দেহে তার সময়ের জরাজীর্ণ নৈতিক এবং বৌদ্ধিক পরিস্থিতি বিচার করে তিনি ঠিকই করেছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীতে সুয়ূতী ইজতিহাদের একই একই সুবিধা দাবি করেন যার সাথে তিনি য্ংুঁঢ়৩; করেছিলেন প্রত্যেক শতাব্দীর শুরুতে নবীয়কারকের ধারণা। ইবনে তাইমিয়ার শিক্ষার মূলকথা প্রকাশ পায় বিশাল সম্ভাবনায্ংুঁঢ়৩; এক বিপ্লবে যার শুরু হয়েছিল অষ্টাদশ শতকে নজদেও বালুকা থেকে; ম্যাকডোনাল্ড বর্ণনা করেছিলেন, “ক্ষয়শীল ইসলাম জগতে পরিচ্ছন্নতম স্থান” এটি ছিল প্রকৃতপক্ষে আধুনিক ইসলাম জীবনে প্রথম হৃদস্পন্দন, এই বিপ্লবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুপ্রেরণা ছিল এশিয়া এবং আফ্রিকায় সমস্ত বৃহৎ মুসলিম বিপ্লব যেমন, সেনুসী বিপ্লব, প্যান-ইসলামিক বিপ্লব, কবি বিপ্লব, যা কেবলমাত্র আরবীয় প্রগতিবাদের পার্সি পতিক্রিয়া। বিখ্যাত পিউরিটান সংস্কারক মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী, যিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৭০০ খৃ: শিক্ষা লাভ করেছিলেন মদীনায় এবং ভ্রমন করেছিলেন পার্সিয়াতে, শেষ পর্যন্ত সমগ্র ইসলাম জগতে তার আত্মার আগুন ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন গ্ভাৎধপ৩৪;ালীর শিষ্য মুহাম্মদ ইবনে তুমারাত এরম ত, যিনি ছিলেন ইসলামের বার্বার পিউরিটান সংস্কারক, মুসলিম স্পেনের ধ্বংসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাকে নতুন অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। —————————————————-। “
৩. “————-- আমি আপনাদেরকে আধুনিক ইসলামে ইজতিহাদের ইতিহাস এবং ক্রিয়াকলাপ সম্বন্ধে সামান্য ধারণা দিলাম। আমি এখন দেখতে অগ্রসর হব ইসলামি আইনের নীতিসমূহ কোন নতুন বিশ্লেষণের সম্ভাবনা নির্দেশ করে কিনা। অপর কথায়, যে প্রশ্ন আমি উত্থাপন করতে যাচ্ছি তা হল ইসলামি আইন কি বিবর্তনে উপযোগী ? ——————————-- ইসলামের আধুনিক ইউরোপীয় সামালোচকগণের এই দৃষ্টিভ্িভৎধপ১২; একটি বিষয় সুস্পষ্ট করেছে, বিষয়টি হল নতুন জীবনের আগমনের সাথে সাথেই ইসলামের অন্তনিহিত উদারনীতি ক্রিয়া করতে শুরু করে, পন্ডিতগণের রক্ষণশীলতা সত্ত্বেও এবং আমার মনে হয় বিশাল ইসলামি আইন সাহিত্যের মনোযোগী, গবেষণা ইসলামের আধুনিক সমালোচকগণকে এই কল্পিত ধারণা ম্ংুঁঢ়৩; করবে যে, ইসলামি আইন স্থির এবং এর ক্রমবিবর্তন অসম্ভব। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশের রক্ষণশীল মুসলিম জনসাধারণ এখনো ‘ফিকাহ‘র কোনরূপ পর্যালোচনামূলক আলোচনার জন্য প্রস্তুত নন, যা করা হলে অধিকাংশ মানুষই অমন্তুষ্ট হতে পারেন এবং তা থেকে সাম্প্রদায়িক বিতর্কের উদ্ভব হতে পারে। তবুও এখানে আমাদের নিজেদের সম্মুখে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করছি।
১. প্রথমত- স্মরণ রাখা প্রয়োজন ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে আব্বাসীয় উত্থান পর্যন্ত কোরআন ব্যাতিত ইসলামের কোন লিখিত আইন ছিল না।
২. দ্বিতীয়ত- লক্ষ্য করার মত বিষয় হল,-প্রথম শতাব্দির মধ্যভাগ থেকে চতুর্থ শতাব্দীর আরম্ভ পর্যন্ত উনিশটি আইন সম্প্রদায় (মাযহাব) এবং মতবাদ ইসলামে প্রকাশিত হয়েছিল। আমাদের আদি গবেষকরা বিকাশমান সভ্যতার সহিত সামাঞ্জস্য বিধানের প্রয়োজনে কিরূপ নিরলস কাজ করে গেছেন এই ঘটনাই তা দেখানোর জন্য যথেষ্ট। ইসলামের বিজয়ের বিস্তৃতি এবং ফলস্বরুপ ইসলামের দৃষ্টিভ্িভৎধপ১২;র বিস্তৃতির সাথে সাথে প্রথমদিকের আইনজ্ঞগণকে একটি উদার দৃষ্টিভ্িভৎধপ১২; গ্রহণ করতে হয়েছিল। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের আলোকে বিভিন্ন আইনি মতবাদেও মনোযোগী গবেষণা প্রমাণ করে বিশ্লেসণ পদ্ধতির দৃষ্টিভ্িভৎধপ১২; আরোহ থেকে ক্রমশ আরোহমূলক এ পরিবর্তিত হয়েছিল।
৩. তৃতীয়ত- আমরা যদি মুসলিম আইনের চারটি স্বীকৃত উৎস এবং যে বিতর্কে তারা জড়িয়ে পড়েছিল, তা লক্ষ করি- আমাদের স্বীকৃত সম্প্রদায়গুলির কল্পিত রক্ষণশীলতা দূরীভুত হয়ে যাবে। এবং আরও বিবর্তনের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”
মুলত আল্লামা ইকবাল মৌলিক যে সকল ইবাদত বন্দেগী রয়েছে যেমন, নামায, রোযা ইত্যাদি এগুলোর হুকুম আহকামের ব্যাপারে মাযহাবের তাকলীদে বন্দী হবার বিরোধীতা করেন নি। তিনি বিরোধীতা করেছেন, ইসলামের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ও আর্ন্তজাতিক বিষয়সমূহে পুরাতন মাযহাবগলো হুকুম-আহকামের তাকলীদে বন্দী না হয়ে যুগোপোযোগী আইন প্রণয়োনে আমাদের অনীহার বিরুদ্ধে।
এবারে আসি শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দেস দেহলভী (র:) এর আল-ইনসাফে কিতাবে। উনি এ কিতাবে চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাবের তাকলীদের বিরোধীতা করেন নি। বরং হানাফী মাযহাবেরই এক বিরাট সংখ্যক ইমামদের সমালোচনা করেছেন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে। তাই আমার প্রশ্ন হল আসলে হানাফি মাযহাব মূলত কোন কোন ইমাম গণ রচনা করেছিলেন এবং এর অনুসারী পরবর্তী হক ইমামগণ কারা। যেহেতু আমাদের আলীয়া ও দেওবন্দী মাদ্রাসায়ও পঠিত হেদায়া প্রভৃতি হানাফি ইমামদেরও তিনি এখানে সমালোচনা করেছেন।
তিনি চার মাযহাবের ইমামের যুগের আলোচনা করার পর চতুর্থ শতককেই ফিতনার যুগ হিসেবে চিহিৃত করে বর্ণনা করেন, “ চতুর্থ হিজরী শতাব্দীর পর ফিকহী মতপার্থক্য : ফিতনার যুগ এলো। এ যাবত যাদের কথা আলোচনা করলাম, তাদের সময়কাল অতীতের কোলে পাড়ি জমায়। তাদের পরে আবির্ভাব ঘটে মুসলমানদের নতুন প্রজন্মের। এই নতুন প্রজন্ম ডানে বামে যেতে থাকে। (তাদের জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের বিপ্লব ঘটে)। জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে যেসব ধ¦ংসাত্মক রোগ তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে, সেগুলোর কয়েকটি নিম্নরূপ”
ফিকহী বিবাদ : ———————-
মুজতাহিদ ইমামদের মধ্যকার মতপার্থক্যের কারণ সম্পর্কে অজ্ঞতা : —————————-
ফিকহী মতামতের তাৎপর্য সম্পর্কে অজ্ঞতা : আমি দেখতে পেয়েছি এদের (হানাফিদের) কিছু লোক মনে করে ফিকাহ ও ফতোয়ার গ্রন্থাবলীতে যতো টিকা টিপ্পনী ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আছে সবই আবু হানীফা কিংবা সাহিবাইনের মতামত। মূল জিনিস আর তাখরীজের মধ্যে তারা কোন পার্থক্য করে না। ———-- আমি আরো দেখেছি কিছুলোক মনে করে, আবু হানীফার মাযহাব সারাখসী প্রণীত মাবসূত এবং হিদায়া ও তিবঈন প্রভৃতি গ্রন্থাবলীতে ছড়িয়ে থাকা বিবাদমূলক বাহাছসমূহের উপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ তারা জানে না যে, তার্কিক বাহাছের উপর তার মাযহাব প্রতিষ্ঠিত নয়। তাদের মধ্যে এরূপ বাহাসের সূত্রপাত করে আসলে মুতাজিলারা। ফলে পরবর্তী লোকেরা ধারনা করে বসে, ফিকহী আলোচনার মধ্যে হয়তো এরূপ কথাবার্তার অবকাশ রয়েছে। তাছাড়া এর ফলে শিক্ষার্থীদের মনমস্তিষ্কও তর্কবাহাছের তীক্ষèতা স্থান করে নিয়েছে। ———————-
রায় এবং যাহেরিয়াত এর তাৎপর্য সম্পর্কে অজ্ঞতা
অন্ধ অনুকরণের প্রাধান্য: আরেকটি প্রধান বিপর্যয় হল, এ সময় লোকেরা চরমভাবে অন্ধ অনুকরণে (তাকলীদে) নিম্িভৎধপ৩৪;ত হয়ে পড়ে। এতোটা নিশ্চিন্তে তারা এ পথে অগ্রসর হয় যে, তা তাদের অস্থি-ম্ভৎধপ৩৪;ায় মিশে যায়। এর পিছনে নিম্ন্ংোঁঢ়৩; কারণগুলো কাজ করছিল: ———————————————————--
শাস্ত্রীয় গবেষণার অপ্রয়োজনীয় হিড়িক : এ সময় আরেকটি রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তা হল, শরীয়তের আসল উৎসকে উপেক্ষা করে অধিকাংশ লোক বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গবেষণার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে কেউ আসমাউর রিজাল এবং জারাহ ও তাদীলের ক্ষেত্রে গবেষণায় নিম্িভৎধপ৩৪;ত হয় প্রাচীণ ও সমকালীন ইতিহাস গবেষণায়। কেউ কেউ তার গবেষনার ঘোড়া দৌড়ান উসূলে ফিকাহর ক্ষেত্রে। স্বীয় অনুসারীদের জন্য আবিষ্কার করেন বিবাদ করার নিয়ম কানুন। অত:পর অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তুফান ছুটান। বীবদর্পে জবাব দেন অন্যদের অভিযোগের। প্রতিটি জিনিসের সংজ্ঞা প্রদান করেন। মাসআলা এবং বাহাছকে শ্রেণী বিভ্ংঁঢ়৩; করেন। এভাবে এসব বিষয়ে দীর্ঘ হ্রস্ব গ্রন্থাদী রচনা কওে যান।
অনেকে আবার এমনসব ধরে নেয়া বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা গবেষণা চালান, যেগুলো ছিল নিতান্তই অনর্থক এবং কোন জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান ব্যা্িংঁঢ়৩; যেগুলোকে তাকিয়ে দেখারও যোগ্য মনে করে না।
এসব মতবিরোধ, ঝগড়া বিবাদ ও বাহুল্য গবেষণার ফিতনা ফিলো প্রায় সেই ফিতনার মতো, যার শিকার হয়েছিল মুসলমানরা তাদের প্রাথমিক যুগে। যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয় আর প্রত্যেকেই নিজ নেতাকে ক্ষমতাসীন করা বা ক্ষমতা পাকাপ্ংোঁঢ়৩; করার কাজে আদাজল খেয়ে লেগে পড়েছিল। এর ফলে তখন যেমন মুসলমানদের উপর যালিম অত্যাচারী একনায়ক শাসকরা সওয়ার হয়ে বসেছিল এবং ইসলামের ইতিহাসের সবচাইতে ন্যাক্কারজনক ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছিল, ঠিক তেমনি এই নব ফিতনাও মুসলিম সমাজে অজ্ঞতা, অন্ধতা, সন্দেহ-সংশয় ও ধারণা কল্পনার চরম ধ্বংসকারী ঝড় তুফান বইয়ে দেয়।
অত:পর আসে এদের পরবর্তী জেনারেশন। এই জেনারেশন তাদের পূর্বসূরীদের অন্ধ অনুকরণ করে সম্মুখে ধাবিত হয়। ফলে, তারা সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যার্থ হয়। ঝগড়া বাহাছ এবং সঠিক ইস্তিম্বাতের মধ্যে পার্থক্য করার চেতনাই তারা লাভ করেনি। এখন সেই ব্যা্িংঁঢ়৩;ই ফকিহ উপাধি পেতে থাকে যে বেশী বকবক করতে এবং জটিলতা পাকাতে পারে, যে কোন বিষয়ে নীরব থাকতে এবং সত্য মিথ্যা যাচাই করতে জানে না এবং ফকীহদের দুর্বল ও মযবুত ব্ংঁঢ়৩;ব্যের পার্থক্য নির্নয় করতে পারে না। একইভাবে এমনসব লোকদের মুহাদ্দিস বলা হতে থাকে, যারা সঠিক ও ভ্রান্ত হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করতে জানে না এবং সঠিক ও ভ্রান্ত হাদীসকে সমানভাবে চালিয়ে দেয়।
অত:পর এদের পরে যে জেনারেশনের আগমন ঘটে, তারা এদের চাইতেও বড় ফিতনাবজ প্রমাণিত হয়। তারা বিদ্বেষশূলক তাকলীদের দিক থেকেও ছিল অগ্রগামী। তাদের অন্তরে না ছিল জ্ঞানের আলো আর না ছিল অন্তরদৃষ্টি। তারা দ্বীনি বিষয়ে চিন্তা গবেষণা করাকে বেদাত বলে আখ্যায়িত করে সদর্পে ঘোষনা দিয়েছে: “আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এভাবেই চলতে দেখেছি আর আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করতে থাকবো।”
এখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই এ বিষয়ে অভিযোগ করা য়ায়! তার কাছেই সাহায্য চাওয়া যেতে পারে। তিনিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সত্তা আর তার উপরই ভরসা করা যেতে পারে। “
শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র:) এখানে কোন কোন হানাফী ইমাম ও কিতাবের সমালোচনা করেছেন ? হানাফী মাযহাব মূলত কোন কোন কিতাবে সংকলিত আছে এবং পরবর্তী হানাফী ইমামগণ কেন পথচ্যুত হলেন ? আর আমরা কেনইবা ঐ সকল কিতাবে এখনো পড়তেছি যেমন হেদায়া, মাবসূত।
লুৎফর ফরাজী
মার্চ ১৭, ২০১২ at ৫:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাইজান! এত বিশাল মন্তব্যের জবাব আপনাকে লিখার মাধ্যমে দিলে কতটা বুঝতে পারবেন বুঝতে পারছি না। যদি সত্যি আপনি জানতে চান, বিতর্ক করতে নয়, তাহলে আমি একটি বই পড়ার আমন্ত্রণ করছি , সেটি হল রফিকুল ইসলাম মাদানী সাহেবের লিখা "মাযহাব মানি কেন" বইটিতে আপনার সব প্রশ্নের মনমুগ্ধকর জবাব পাবেন, যদি আপনি গোড়ামী না করেন। আশা করি গোড়ামী করবেন না।
http://www.islamiakutubkhana.com/index.php?option=com_djcatalog2&view=item&id=18:2011-05-07-16-19-25&cid=14:2011-04-28-09-58-57&Itemid=82
লেখাগুলি পড়ার পর রিপ্লাই জানাবেন আশা করি। ভাল থাকুন।
fuad
এপ্রিল ১৮, ২০১২ at ৩:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখটি ইসলাম কে ধংশ করার জন্য
লুৎফর ফরাজী
মে ২৮, ২০১২ at ৩:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আর ইংরেজ সৃষ্ট কথিত আহলে হাদীসদের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বুঝি ইসলামকে খুব মোহাব্বত করার জন্য? সারাক্ষণ কি ঘোরেই থাকেন?
এবার একটু চোখ খুলুন। কারা এদেশে হাজার বছরের মুসলিম সম্প্রীতি ধ্বংস করছে হাদীস মানার মিথ্যা স্লোগান দিয়ে।
কারা মুখরোচক স্লোগানের আড়ালে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ আর বিবাদের আগুন।
মসজিদে মসজিদে কারা লাগাচ্ছে ঝগড়া?
কারা ইবাদতের মাস রমযানে সৌদী সহ সারা বিশ্বে নবীজী সাঃ এর যুগ থেকে পড়া ২০ রাকাত তারাবীহকে বানিয়ে দিচ্ছে ৮ রাকাত?
কারা এদেশের হাজারো বেদআতি ও শিরকের বিরোধীতাকারীদের মুশরিক বলে গালি দিচ্ছে?
চোখ খুলে এগুলো দেখে তারপর ইসলামের দরদী সাজার চেষ্টা করুন।
moidmoni
মে ২৬, ২০১২ at ৫:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
lekha dekhlam আর জানলাম যে আপনি আখেরাত কে ভালোবাসেন না। আপনি বালোবাসেন দুনিয়ার বাহবা কে আপনার লেখা পড়ে বাহবা দিল এতাই চান
তাইতো মন যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই মিথ্যা বলেছেন।ছিঃ ছিঃ ইমাম আবু হানিফার কথাকে উপড়ে উঠাতে আপনারা রাসুল সাঃএর কথা আল্লাহর কথা
পা দিয়ে দলন মলন করতে দ্বিধা করেন না ছিঃ ছিঃএবং ছিঃ
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
মে ২৭, ২০১২ at ২:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
।উনারা রাসুল(সাঃ)-কে শেষ নবী মানেন,নাকি ইমাম আবু হানিফাকে,সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।ইমাম আবু হানিফা আজকে জীবিত থাকলে আছাড় মেরে উনাদের হাড়গোর ভেঙে দিতেন।
লুৎফর ফরাজী
মে ২৮, ২০১২ at ৩:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
لَّعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ } [آل عمران:61]
মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর অভিশম্পাত। {সূরা আলে ইমরান-৬১}
রাসূল সাঃ আমাদের নবী। তিনি শেস নবী। তার পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী আসবে না। যে তা মানে না সে মুসলমান নয়। কাফের।
এ হল আমাদের বিশ্বাস। তাই আপনার কথাটি মিথ্যা। অর্থাৎ আপনি মিথ্যাবাদী। আর মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ আল্লাহ পাক কুরআনে বলেছেন।
ইমাম আবু হানীফা রহঃ একজন কুরআন হাদীস ব্যাখ্যাকার। যিনি রাসূল সাঃ এর বলা শ্রেষ্ঠ যুগের ব্যক্তিত্ব। বাহ্যিক বিপরীতমুখী হাদীস বা কুরআনের আয়াত এবং অস্পষ্ট আয়াত ও হাদীসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমরা এ পৃথিবী বিখ্যাত এবং আহলে ইলম ও আহলে হক সমর্থিত এ মনীষীর ব্যাখ্যা মানি কুরআন হাদীস মানতে। তাকে অনুসরনের জন্য নয়। কুরআন হাদীস অনুসরণের জন্য তার সাহায্য নেই মাত্র।
সুতরাং আপনি একটি মিথ্যাবাদী। আর মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত কুরআনের ভাষায়।
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
মে ২৮, ২০১২ at ৫:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আচ্ছা রাসুল(সাঃ) কি ইমাম আবু হানিফার আগমন সম্পর্কেও ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন নাকি ?আপনার কথায় তো এই প্রশ্নও জাগছে মনে।আপনাদের মতে ইমাম আবু হানিফা ছাড়া বাকি সব ইমাম অপগণ্ড,রামছাগল,মূর্খ।সেদিন আমাদের এলাকার মসজিদের ইমামের সাথে কথা হচ্ছিল।উনিও আপনার মত অন্ধ হানাফি।উনি যে ভাষায় ইমাম বুখারির সমালোচনা করলেন,কানে হাত দিয়ে কোনোমতে সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম।
এক কাজ করুন।ইসলামের বদলে "হানাফি" ধর্ম প্রচার করুন,অনেকটা সম্রাট আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহী্র মত।কারণ আপনাদের মতানু্যায়ী যেহেতু ইমাম আবু হানিফা ছাড়া ইসলামের ব্যাখ্যা আর কেউ জানেন না,সেহেতু ইসলামের সাথে হানাফি ধর্মের খিচুড়ি মিশিয়েই সেটা আপনাদের প্রচার করা উচিৎ।
লুৎফর ফরাজী
মে ২৮, ২০১২ at ৩:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হি হি
আপনি মনে হয় মনোবিজ্ঞানী?
আমি আখেরাতকে ভালবাসি না দুনিয়া ভালবাসি সেটা আল্লাহ তায়ালা জানেন। আপনার কাছে কি এ ব্যাপারে অহী আসে নাকি?
আপনাদের কাছে হাদীস দুর্বল আর সহীহ বলার বিষয়ে সরাসরি আল্লাহ থেকে অহী আসার মতই বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তাই সন্দেহ হতেই পারে-এ ব্যাপারেও অহি আসার দাবি করেন নাকি
Engl
এপ্রিল ২৯, ২০১৩ at ১১:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার লেখা বেশিরভাগই আক্রমনাত্বক। আমি হানাফী মাযহাবের অন্তর্গত কিন্তু অন্ধ ভক্ত নই। আপনার আক্রমনাত্ব কথা থেকেই আপনি কতটা উগ্র।
al-ihsan.net
জুন ৩, ২০১২ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখাতে অনেক সহীহ কথা রয়েছে। আহলে হাদীস নামক লা-মাজহাবীরা যে ব্রিটিশ দালালদের দ্বারা সৃষ্ট এটা যারা না বুঝে তারা এখনও প্রসূতির গৃহে অবস্থান করছে। হেমপারের ডায়রীতে চমৎকারভাবে সব বলা আছে। আর কখনোই এসব লামাজহাবী রা তাদের ইবনে বাজ, ইবনে তাইয়িয়া, আলবানী বা জাকির নায়েক এর রেফারেন্স দ্বারা সফল হতে পারবে না। কারন এসব লোকের আমল আখলাক আকিদাতে এমন সুস্পষ্ট কুফরী শেরকী দেখাতে পারবো যা ইবলিশও করেনি। সে মাত্র একটি আদেশ লংঘন করেছিলো।
islam0375
আগস্ট ২৩, ২০১৩ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আচ্ছালামু আলাইকুম
লুত্ফর ফরাজী ভাই আপনি একটি চরম মিথ্যা কথা বলেছেন ।উলামায়ে দেওবন্দ ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোনো দিনো বিদ্রোহ করেন নি ।বরং তারা ইংরেজদের দালাল ছিলেন, যে টা তাদের কিতাব থেকেই পাওয়া যায় । আর যারা বিদ্রোহ করেছেন তাদের কেই ওয়াহাবী বলে বেরাতো ঐ দেওবন্দীরা ।
আর তাই ইংরেজ রা ওয়াহাবীদের কে থুজে খুজে খুন করতো ।এবার বলুন ইংরেজ রা কেনো ওয়াহাবী দেরকে খুন করতেন ?
এরপর দেওবন্দিদের কান্ড কে আপনি গোপন করেছেন এটা আপনার মিথ্যাচারে আরেক প্রমান ।গাংগুহি সাহেবের জীবনীর কিতাব ‘তাজকেরাতুর রাশ্বিদ’ কি কোনো দিন পঢ়েছেন? নিশ্চয় পঢ়েন নাই তাইতো এভাবে মিথাচার ছরাচ্ছেন ।
Anonymous
জুন ১৫, ২০১৭ at ১:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই্, আপনি ঠিক বলেছেন। ওয়াহাবিরা তো তখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়েছে । এখন দেখছি দেওবন্দ/বিদাতিদের বিরুদ্ধে আবার ওহাবীজম চালু করতে হবে। আমাদের পূর্বপুররুষ বাপ দাদাদের আকীদা গুলোকে তারা এক্কেবারে কয়লা করে দিয়া গেছে। (আল্লাহ উনাদের শান্তিতে রাখুক) তবে তাদের দিন এখন শেষ।
এখন মানূষ কোরান আর হাদিস পড়ে। না বুঝলে সেইসব বিজ্জ আলেমদের কাছে যায় যাদের কথা কুরান আর হাদিসের সাথে মিলে। কারচুপি করে না দেওবন্দ মূর্খদের মত।
ভারতে ৬ জুন ২০০৫ এ ইমরানা নামে একজন গৃহ বধূ ধর্ষনে কি বাজে আর মূর্খের মত একটা ফতোয়া দিয়েছিলেন দেওবন্দ মূর্খরা্, এত বড় আর হাজার হাজার দেওবন্দ মাথাওয়ালারা মিলেও একটা সাধারণ ফতোয়া দিতে পারল না তারা মূর্খ নয় তো কি?
আর জাকির নায়েক সেই ফতোয়া দেয় ১ মিনিটে, তারা জাকির নায়েকের একটা জুতার সমানও না । আবার তাকে গালি গালাজ করে হিংসুক আর বিদাতীর দল। লজ্জা থাকা উচিত ,,,,আবার এদেরই কিছু সাংঘু পাংঘু আর ছইট্টা মইট্টারা নেটে জাকির নায়েককে গালি গালাজ করে না বুঝে শূনে কিন্তু আবার পারে না তাকে সরাসরি প্রশ্ন করে আটকিয়ে দিতে। কাপুরুষের মত দূর থেকে ঠিল মারে আর গালি গালাজ করে।
Abu Monsur
আগস্ট ২৭, ২০১৩ at ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Thank you for this useful post,dear brother
shaiful
জানুয়ারি ১২, ২০১৪ at ৯:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নিজে নিজে কুরআন হাদীস কেন বুজব না?
কুরআন হাদীসতো এসেছে সাধারন মানুষের জন্য
অমুসলিমরা যদি কুরআন পড়ে মুসলিম হতে পারে তবে আমরা মুসলিমরা কেন বুজব না???
নাকি হিন্দুরা যেমন বলে "শুধু ব্রাহ্মণরাই বেদ পড়তে পারবে"
তেমনি আপনি বলতে চাইছেন শুধু আলেমরাই কুরআন হাদীস বুজবে
১৪০০বছর আগে সাহাবিরা যদি কুরআন হাদীস বুজতে পারে তবে আমরা কেন পারব না?
আর মাজহাব তো রাসুল(সঃ) এর সময় ছিল না,এমনকি সাহাবিরাও এটা তৈরি করেন নাই।
আর তাবলীগের বইতে যেসব শিরকই কথাবার্তা লিখা থাকে তা কি দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকব নাকি?
rel="nofollow">
যেই লোকগুলো ১৮টি স্ত্রী রাখে একসাথে, এপ্রসঙ্গে হাসান(রাঃ) ৯জন স্ত্রী ছিল।
তিনি কি আপনার থেকে কম ইসলাম জানতেন???
মুস্তাক
মার্চ ২৫, ২০১৪ at ৯:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখা পড়ে আহলে হাদীস আন্দোলনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল। আর বেরেলিভী ও দেওবন্দী দের প্রতি আহ্বান জানাই কুরআন ও সহিহ হাদীস ভিত্তিক আমল করুন আর সবাই শুধু এরই ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হোন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের তাওফীক দিন। আমীন!
নাজিম উদ্দীন
মে ২৮, ২০১৫ at ৯:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি আপনার সাথে একমত; তবে আহলে হাদীসদের কুফরী আক্বীদাগুলো উল্লেখিত হলে আরো সুন্দর ও পরিপূণর্ হতো।
সজল আহমেদ
জুন ১, ২০১৫ at ৭:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লুত্ফুর ফরাজী দীর্ঘদিন যাবত্ একদল মুসলমানদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফিত্না ছড়াচ্ছে youtube এ তাঁর ভিডিওগুলো দেখতে পারেন ,তিনি ওলামাদের বক্তব্য কেঁটে চিড়ে একাংশ প্রচারের মাধ্যমে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে ।আর তাঁরমত একজন ফিতনাবাজের লেখা সদালাপের পাতায় রাখা হয়েছে দেখেও তো খারাপ লাগল ।সদালাপ কে তর্কযুদ্ধে নাস্তিকদের জম বলে জেনে আসছি তবে এখানে যে একদল মিথ্যা ইতিহাস ,বানোয়াট তথ্যের চাষাবাদ করে তা জানা ছিলনা ।এখানে যে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একজন ছাপোষা লেখককে স্থান দেয়া হয়েছে যিনি কিনা ইসলামকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে নিয়েছেন ।এই লেখক সত্যিই সদালাপের জন্য একটা অভিশাপ ।দেখা যাবে একদিন নাস্তিকরা বলে বেড়াবে যে
yunus anwar
মার্চ ২৮, ২০১৬ at ৭:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লুতফুর রহমান ফরাজী ভাইয়ের নাম অনেক শুনেছি। ফারাজী ভাইয়ের আজকের এই লেখাটি পড়ে আমি বুঝতে পেরেছি, লা-মাজহাবিরা কেন তাকে এতো গালমন্দ করে। ইলম আমলে দৈন্য লা-মাজহাবীরা ফারাজী ভাইয়ের একটি প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারবে না। আজ থেকে আমিও একজন ফারাজী ভাইয়ের ফ্যান হলাম। ভাই! আপনি চালিয়ে যান।
Bangla Health News
মার্চ ২৯, ২০১৬ at ৩:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
This is an insightful post on আহলে হাদীস গ্রুপ and we should be more careful.May Allah reward the author with goodness
shahriar
মার্চ ৩১, ২০১৬ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Faltu topic….not good at all.
আবু সায়েম
নভেম্বর ১২, ২০১৬ at ৭:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তাঁরা আহলে হাদীস কে গালি দেয়। কিন্তু আহলে হাদীস মানে বুঝে? না বুঝে গালি দেওয়া হচ্ছে পাপের অন্তর্ভুক্ত। হয়তো তাঁদের এই বিষয়ে জ্ঞান কম আছে। নেটে সার্চ দিয়েও তো জেনে নিতে পারে এটা কি?
Wikipedia লিংক দিলাম https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8
shahriar al salafi
নভেম্বর ১৮, ২০১৬ at ৩:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবু সায়েম: good bro….my name is shahriar naeem salafi
Sayhan
মার্চ ২৯, ২০১৭ at ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যারা যারা লিখেছেন সবাইকে ধন্যবাদ! অনেক কিছুই জানতে পারলাম! আল্লাহ সবাইকে সঠিকটা জানার বুঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুক! আমিন!!!!!
BD Islam
জুলাই ৫, ২০১৭ at ৫:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Thank you very much for the post -ইংরেজ সৃষ্ট কথিত আহলে হাদীস গ্রুপঃ ধর্মীয় বিভক্তির ভয়ংকর খেলায় মত্ত
It is full of insight on .Jazakallahu khairan
Mijan
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ at ৩:৪৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইমাম আজম আবু হানিফা (রহঃ)র মৃত্যুর ২৫০ বছরের ও বেশী সময় পর যে মাজহাব প্রতিষ্ঠা হয় তা যে ইমাম আজম (রহঃ)র মত তা কিভাবে নিশ্চিত হবেন? যেখানে ইমাম আজমের ব্যক্ত মতের প্রায় অর্ধেকেরও বেশী মতের সাথে সাহেবাইন দ্বিমত করেছেন এই বলে যে, ইমাম আজম (রহঃ) বলেছেন "আমার মত দিয়ে কারো জন্য ফতোয়া দেয়া জায়েজ নয় যদি সে না জানে যে আমি মতটি কোথা থেকে নিলাম।" তিনি আরো বলেছেন, "আমার মতের বিপরীতে যদি সহীহ হাদিস পাও তবে আমার মত দেয়ালে ছুঁড়ে মার, এবং সহিহ হাদিস মান।"
চার ইমামই এরকম কথা বলেছেন যে, আমার মত যদি সহীহ হাদিসের বিপরীতে হয় তবে তা বাতিল। সুতরাম মাজহাব একটাই নবী (সঃ)এর মাযহাব। কুরআনুল কারীম ও হাদিস কিয়ামত পর্যন্ত ফিক্সড। এর আর কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন হবেনা। কিন্তু ইজমা-কিয়াস কেয়ামত পর্যন্ত ওপেন থাকবে। ৮০হিজরী থেকে ২৪১হিজরীর স্কলার তথা সম্মানিত ফুকাহাদের মতই কেয়ামত পর্যন্ত ফাইনাল নয়। এটাও বিধিত নয় যে ওই নির্দিষ্ট যগের পরে আর কোন স্কলার ইসলামের ইতিহাসে জন্ম নেবে না।
আমারা খুব ঘটা করে বলি, মুজতাহিদ সঠিক ইজতিহাদ করলে দুই নেকী পাবে আর ভুল ইজতিহাদ করলেও এক নেকী পাবে। সকল মুজতাহিদ সঠিক মনে করে ইজতিহাদ করেন এবং দুই নেকী পরবেন বলেই বিশ্বাস করেন। কিন্তু কখন তিনি এক নেকী পেয়েছেন বলে আমরা জানবো? যখন তার ইজতিহাদের বিপরীতে পরবর্তীতে অন্য কোন মুজতাহিদ (বা তিনি নিজে) নতুন ইজতিহাদ করেন। এটাতো জানা যে মুজতাহিদ ভুল করলেও ১ নেকী পাবেন কিন্তু কোন ইজতিহাদ ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর কেউ যদি তাকলীদের নামে ভুলটাকেই অন্ধ অনুসরণ করে সে কি পাবে?
আচ্ছা একজন মানুষের (অনুমান) ৭০ বছরের জীবনের ৬৯ বছর পর্যন্ত যদি একটা ইজতিহাদী বিষয় জারী থাকে আর সেটাই সে অনুসরণ করে তারপর তার বয়সের ৬৯তম বছরে যদি ঐ ইজতিহাদ ভুল প্রমাণ হয় তবে সে কি করবে জীবনের পরবর্তী ১ বছর পূর্বের ভুল ইজতিহাদ মানবে না-কি ৬৯তম বছরে প্রমাণিত নতুন ইজতিহাদ মানবে? ইজতিহাদী বিষয় কি কুরআন-হাদিস? অপরিবর্তনীয়? তাহলেতো চার ইমামই এ কথা বলতেন না যে, আমার কথার বিপরীতে যদি সহীহ হাদিস পাও তবে আমারটা ছেড়ে দাও, সহীহ হাদিস মান। এই কথা আরো একটা বিষয় নিশ্চিত করে যে, সম্মানিত ইমামগণ নিজেরাই বিশ্বাস করতেন যে তাঁরা সকল সহীহ হাদিস হয়তো পান নাই।
মাযহাবের ব্যপারে গোড়ামীর মানে কি এটাই দাঁড়ায় না যে নবীজীর হাদিস সহীহ জানার পরও আমরা তা আমল করা থেকে বিরত থাকছি মাজহাবের মতের নামে? অথছ মাজহাবের ইমাম বলেছেন আমার কথার বিপরীত যদি সহীহ হাদিস হয় তবে আমার কথে ছেড়ে দাও, সহীহ হাদিস মান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলমীন আমদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
পুনশ্চ: শাহ ওয়ালীউল্লাহ মেহাদ্দেস দেহলবী (রহঃ) বলেছেন, ৪০০হিজরীর পূর্বে কেউই এই ব্যপারে একমত ছিলেননা যে, যে কোন এক মাজহাবই মানতে হবে।
যারা জানতে চান তাদের জন্য নিচের লিংকটা উপকারী হতে পারে:
http://shoncharon.com/2015/04/26/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%A6-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AF/
Kamal
জুন ১৬, ২০১৮ at ৯:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই মিজান
আমাকে কি জানতে সাহায্য করবেন যে ইমামে আযম আবু হানিফা নিম্নের কথা গুলো কোন কিতাবে লিখেছেন?
আমার মতের বিপরীতে যদি সহীহ হাদিস পাও তবে আমার মত দেয়ালে ছুঁড়ে মার, এবং সহিহ হাদিস মান।"