পার্থক্যের বৈচিত্র্য
কতনা রঙ ও রূপের বৈচিত্র্যে রূপায়িত আমাদের এই জগত, আর কতনা বৈচিত্র্যময় আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব –আমাদের ধ্যান ও ধারণা। এই আলো-আঁধারের রাত-দিন, কতনা সৌন্দর্যে যে তা বিরাজে; কত যে কোলাহলে মেতে ওঠে আমাদের চারিধার। এই বিমল ধরার জলের কল কল, বৃষ্টির ঝির ঝির, এই সবুজে ঘেরা প্রাণবন্ত সৃষ্টির উচ্ছ্বাস, এই নানান কণ্ঠের নানান গান, নানান সুর, এই যে সুন্দরের ছড়াছড়ি -আমরা খুব কমই এসবের দিকে তাকাই; খুব কমই হৃদয়ের দোয়ার খোলে দিয়ে এই রূপের মহিমা ভিতরের দিকে টানি, খুব কমই বুঝতে চেষ্টা করি যেসব বৈপরীত্যে এই বিমলের রূপ অস্তিত্বে প্রকাশ পায়।
তারপর, কত যে ভিন্নতা আমাদের গঠনে, মন ও মানসিকতায়। আমাদের আগ্রহ, অনাগ্রহ ও বিগ্রহে কমতি নেই। এ সবই আবহমান কালের: সৃষ্টির মূল থেকেই। আর কালের এই চক্রেই আমাদের আসা ও যাওয়া। এই অস্তিত্বের স্ট্যাজে এসে যে পাখী যে গানে সুর ধরে, সে গান অনেক আগ থেকেই চলে আসা, এবং সে চলে যাবার পরও সেই গান চলতে থাকে। যে রাগ-সঙ্গীতের পরিধিতে (within the restraints of the raga) যে লোক সুর তুলে, সেখানে এদিক সেদিক বিচরণের কিছু স্বাধীনতা থাকলেও, সে সেই রাগের সীমানা ধরেই ব্যঞ্জনায় মত্ত হতে হয়। তবে রাগের ভিন্নতায়, কেহ এই রাগে, কেহ সেই রাগে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন। আমি কিন্তু রাগের কথা বলছি না। রাগ এখানে উপমা।
কোন পাঁচজন লোক কোন বাগানে ঢুকলে নিজেদের ভিন্নতার আঙ্গিকেই বাস্তবতা দেখেন। পরের দিন গল্পে বসলে দেখা যাবে একজন যা দেখেছেন অন্যজন হয়ত তা পুরাপুরি দেখেন নি, বা দেখেনই নি। একটি কবিতা বা উপন্যাস পাঁচজনকে পাঠ করিয়ে দেখুন। এখানে এমন অনেক লোক পাবেন যারা কবিতা পাঠ করে তেমন কিছু দেখেন না, বুঝেন না। তবে কোন শিক্ষক বুঝিয়ে দিলে আপাতদৃষ্ট মামুলি কবিতায়ও অনেক অর্থের বৈচিত্র্য দেখেন ও বিস্মিত হন।
এই জগতে আমরা যা কিছু সুন্দর বা অসুন্দর বলি তা সবই আমাদেরই বর্ণনা (description)। রঙধনু জানে না সে রঙধনু, আর গোলাপ জানে না সে গোলাপ। দুই আর দুইয়ে মিলে চার হয়, কিন্তু বাগানের পূর্ব-পশ্চিমে গাছের সংখ্যা যে চার –একথা গাছেরা জানে না (হয়তবা জানে, তা’ইবা কে জানে?)। আমরা আমাদের ধারণাই বস্তু জগতে আরোপ করি, আর ‘বিজ্ঞান বিজ্ঞান’ করি। মূলত বস্তুজগতকে “কন্ট্রোল” করাই উদ্দেশ্য। অন্য অর্থে, আমাদের স্বার্থে প্রকৃতিকে কন্ট্রোল করতে যে অবিরাম সাধনা করি, তার নির্যাসকে ‘(বি)জ্ঞান’ বলে উল্লেখ করি।
সুর ও সৌন্দর্য
আমাদের চোখে যা কিছু সুন্দর/অসুন্দর হয়ে ভাসে তা বিপরীত ধর্মী বস্তুর সমন্বয়েই। নিজেরাও বৈপরীত্যের সমন্বয়ে সুন্দরের রূপ দেই এবং তা করতে গিয়ে দীর্ঘ সাধনা করি। সঙ্গীতে দেখুন সাতটি স্বরের পার্থক্যে কত ব্যঞ্জনা সৃষ্টি হয়। আর তা করতে গিয়ে কতনা আয়োজন। বাঁশী বানাতে উপযুক্ত উপাদান বাঁশবন থেকে কেটে আনি, তারপর উত্তপ্ত লোহায় পুড়ে, ছিদ্র করে, তবেই তৈরি করি বাঁশি। এই বাঁশী ও সুরের অনেক অধ্যয়ন-অধ্যবসায়ের পরে আসে সুরের ব্যঞ্জনা। বাঁশি হাতে নিয়ে ৫/১০ বার ফুঁৎকার করলেই বিদ্যা অর্জিত হয় না। সুরের সৌন্দর্য আসে না। যেকোনো বিদ্যার আদ্য-পাদ্য বুঝতে ও আত্মস্থ করতে অনেক, অনেক সময় লাগে। এটাই নিয়ম। তবে নাস্তিকদের কোরান পাঠে সময় লাগে না। মোল্লারা না বুঝে ২৫/৩০ বছর পড়ে। বৌদ্ধ-তপস্যায় শ্বাস-নিশ্বাসে শিষ্য বছরের পর বছর কাটায়। এসবের কীসের প্রয়োজন? নাস্তিকের বুদ্ধিতে এত 'মামুলি' বিষয় কোলায় না, কেননা সে “বৈজ্ঞানিক”! বুঝে হোক অথবা না বুঝে।
এই মহাবিশ্ব
এই মহাবিশ্ব এক awesome বাস্তবতা, (awesome এর সঠিক বাংলা করতে পারছি না। এখানে বিশালতার বৈপরীত্য, অদ্ভুত-বিস্ময়, আতঙ্কদ্দীপক-সম্ভ্রম ইত্যাদির সমন্বয় র্যেছে এতে)। এখানে কীযে এক ভাব: বিমল-ভয়ঙ্কর, অপরূপ-বিধ্বংসী! এই বিস্ময় হেয়ালী যুক্তির বিষয় নয়। এখানে শুধু করুণা নয়, অকরুণের দিকেও তাকান। মানুষের দৃষ্টি আপেক্ষিক (relative)। কতনা কোটি প্রাণী এই অস্তিত্বের স্ট্যাজ থেকে বিলীন হয়েছে; কতনা গ্রহ-নক্ষত্র, আর কতনা তারকারাজি। লক্ষ-কোটি বছরে সেগুলো সৌন্দর্যে সুশোভিত হয়েছে, তারপর এক আঘাতে জাহান্নামের অগ্নিসম বিস্ফুরিত হয়েছে, চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে। এই বিধ্বংসী ভাঙা ও গড়ার ধারা অতি বৃহৎ থেকে অতি ক্ষুদ্র পরিসরে প্রতিনিয়ত ঘটছে।
জাহান্নাম শুনেই থুবড়ে যাবেন না। আপনার আমার যুক্তি-বুদ্ধি আর বোধ-আবেগ দিয়ে এই সীমাহীন সৃষ্টি রচিত নয়। তবে হয়তবা কোন রহস্যজনিত কারণে জাহান্নাম শুনেই কেউ খোদা বিমুখ হয়ে আছেন। হয়তবা এখানেই বৈপরীত্যের কোন এক প্রেক্ষিত নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সময় এভাবে হয় যে আপনি যাকে ঘৃণা করেন, দেখবেন, বেশি না হলেও, সেই ঘৃণার গুণগুলোর কিছু না কিছু আপনাতেই যেন নিহিত। আপনার অন্তরাত্মা আপনাতেই তা বুঝে নিয়ে আতঙ্কিত হচ্ছে মাত্র। কেউ হয়তবা এখনি জাহান্নামে –শুরুর পর্যায়ে। আগুণ হৃদয়েও থাকতে পারে। যার প্রকৃতির সংযুক্তি যেখানে, সে হয়ত তার নিজ যুক্তিধারাতেই সে পথে হাঁটছে। তার ইচ্ছাও হয়ত পরিষ্কার। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘The road to Hell is paved with good intentions.’
আমরা কি সর্বত্র যৌক্তিক?
ধরুন সংগীত চলছে। আয়োজনও সুন্দর। কিন্তু স্ট্যাজের পিছনে যে গোস্ত উনুনে উৎরচ্ছে, সেই মৃত সত্তা কে? কার দেহ টুকরো টুকরো হয়ে এখন উত্তপ্ত হাড়িতে তুল্পাড় খাচ্ছে? সে কী তার কোন অবিশ্বাসের কারণে এই স্থানে উপনীত হয়েছে? সে তো এখন এই সঙ্গীতের, এই আয়োজনের অংশ। আহা! সে এখানে কেন? এই ব্যঞ্জনার সাথে তার সম্পর্ক কি? যুক্তিটা কোথায়?
মুরগী ভুনা খেয়ে সৌন্দর্যের চিন্তা আসতে পারে, সঙ্গীত উপলব্ধি হতে পারে, কবিতায় মন মুগ্ধ হতে পারে। কিন্তু নিষ্ঠুরতায় যে পেট ভরে আছে, সেটা কী দেখার অংশ হতে পারে না? মানুষের দেখা ও যুক্তি চালনার সীমানাটা কী? প্রকৃতি কি? এটা কি সীমিত ও আপেক্ষিক নয়? যার পেট আছে এবং কথা বলতে পারে, তার যুক্তিও আছে। তাই না? যুক্তি ভাষায় তৈরি করা এক হাতিয়ার। তাই দেহ-ভক্ষণেরও যুক্তিও থাকতে হবে। সেই দেহধারী মুরগী হোক অথবা গাভী। যুক্তি নিজ কেন্দ্রিক, অস্তিত্বের স্বার্থ ঘিরে। তাই, নাস্তিকের যুক্তির গান শুনে দৌড় দেবেন না, তার যুক্তির ভিত্তিও একই: পেট, উপভোগ, অবাধ-যৌনতার বিস্তার, বেঁচে থাকা, এখানেই স্বর্গ –এসবের আঙ্গিকে ফুসফাস, এখানেই বিতণ্ডা: আল্লাহ নাই, রাসূল নাই, সব বুঝে ফেলেছি; জ্ঞান আর বিজ্ঞানে দিয়ে আত্মস্থ করেছি এই বিশ্ব! “তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুক্রকীট থেকে, অথচ দেখো! সে একজন প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী” (১৬:৪)।
বিপরীতে গঠিত সৌন্দর্য
ক্যানভাসের চিত্রের বিপরীতে যে ভিন্ন রঙগুলো রয়েছে, যেগুলোর আলোকেই চিত্র সুশোভিত; এটা সুপরিকল্পিত। এই সৃষ্টিলোকও স্রষ্টার পরিকল্পিত। তিনি ইচ্ছা অনুযায়ী সাজান। আগুন-পানি তৈরি করেন, ইতি-নেতি, আলো-আঁধার, রাত-দিন এমন বিপরীতে সৃষ্টি করেন। এভাবেই ইহকাল ও পরকাল: জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি, বিপরীতের মোকাবেলায় অস্তিত্বশীল। কেবল তিনিই বেজুড়, তিনি এক, তিনি অদ্বিতীয় –এখানেই তিনি সৃষ্টি জগত থেকে আলাদা। অনন্তে অনন্তে তিনি একা। তার মত কেউ নেই। তার কোন সাদৃশ্য নেই। তার কোন তুলনা নেই। তিনি বস্তুর অংশ নন, বস্তুর গুণে গুণান্বিত নন। তাই বস্তুর অনুসন্ধানে তাকে দেখা যাবে না, বুঝা যাবে না। তিনি আর এই সৃষ্টিলোক বিপুল পার্থক্যে বা ধারণাগত দূরত্বে। এই কথা আমরা নিজেদেরকে বার বার তার নাম উচ্চারণের সাথে সাথে স্মরণ করিয়ে দেই। বলি, ‘আল্লাহ সুবহানাহু ও তা’আলা’ অর্থাৎ আল্লাহ যাকে আমার সীমিত ধারণা যেভাবে ধারণ করে তিনি তার চাইতে পবিত্র, তিনি তার চেয়ে ঊর্ধ্বে, সুমহান। এই ধারণা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রার্থনায় কাজ করে। আমরা আল্লাহু আকবার, সুবহানা রাব্বি আল আ’লা, সুবহানা রাব্বি আল আযীম ইত্যাদি তাসবীহ যখন উচ্চারণ করি তখন সেই পবিত্রতার স্তুতি গেয়ে যাই, সেই পার্থক্যে এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতার আঙ্গিকে। এভাবেই তাকে স্মরণ করি। এখানে বস্তু-কেন্দ্রিক শিরক থেকে তাওহীদের ধর্ম ও ধারণা সম্পূর্ণ আলাদা।
বৈপরীত্যের অস্তিত্ব ও যুক্তি
বিপরীত ধর্মী বস্তুর সমন্বয়ে এই অস্তিত্ব: আছে ভাঙ্গা-গড়া, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, করুণ-অকরুণ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস। আপনি এই বৈপরীত্যের (binary অ র্থে) কোন পার্শে? মনে রাখতে হবে, আগেও বলেছি, এখানে সব যুক্তির বাহানা জীবনের প্রয়োজন ঘিরে ও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সৃষ্ট। নিজ সত্তা-কেন্দ্রিক-আপেক্ষিক (relative to the subject’s own interest)। ভাল-মন্দ, করুণ-অকরুণ, ন্যায়-অন্যায় সবই ‘মানব’ অস্তিত্বের রঙে রঞ্জিত, যুক্তিতে ধারিত। গরু যদি কথা বলতে পারত তবে বলত, ‘তোমার সঙ্গীতে আমার দেহ দান কেন হবে? একী নিষ্ঠুরতা! আপনার মত নৈতিক সত্তার কথা কী কল্পণা করা যায়?’
কিন্তু এই জগত না ভক্ষকের যুক্তিতে রচিত, আর না ভক্ষিতের। এটা কেবল আল্লাহর ইচ্ছায়ই রচিত। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন।তিনি কাউকে আগুনের ইন্দন করেন, কাউকে শান্তির নিলয়ে বসিয়ে দেন। আর এতে তার না আছে কোন প্রাপ্তি, আর না কোন ক্ষয়-ক্ষতি। তাকে কখনও আমাদের মত দেখতে নেই। তিনিই একমাত্রই তিনি। নিষ্ঠুর বলুন অথবা করুণাময় –তাতে তার কিছুই যায় আসে না। তবে বিশ্বাসীরা ভিন্ন। আমরা প্রার্থণায় তার উদ্দেশে বলি, ‘ওয়া নুসনি আলাইকাল খাইর –আমরা ভাল ও উত্তমের সমন্বয়ে আপনার স্তুতী জ্ঞাপন করি।’ আমরা কখনো বলি না, হে মন্দের স্রষ্টা, কেননা মন্দ আমাদের আপেক্ষিকতায় মন্দ, (it is only relative to us, human)।
জাহান্নাম শুনে কারো মনে বিব্রতি জাগতে পারে। জাগুক। যদি আল্লাহকে অস্বীকার করে মনের অবস্থা লাঘব হয়, তবে করুক। তবে চিন্তা করুন, তিনি কিন্তু এখনো আপনার মন জুড়ে আছেন, আপনার চিন্তা তার থেকে মুক্ত নয়। বিষয়টা শুধু রিভার্স। আপনি এই আলোচনাতেই আছেন, তবে বিপরীত পক্ষে। আপনি ম্যাজিসিয়ানের পর্দার অন্তরালে, তার কব্জায়। যখন প্রয়োজন হবে, তখন পর্দা উন্মোচিত হবে। এই মানবিক অস্তিত্বে যারাই এসে গিয়েছেন, তাদের মুক্তি নেই। লোকাবার স্থান নেই। ম্যাজিসিয়ান যে স্ট্যাজ যে কালের জন্য স্থাপন করেছেন, সে কালের সীমায় যাকে যেখানে রাখছেন, সে সেখানেই থাকতে হবে। অতঃপর পুণরুত্থান। এখানে “আমরা অথবা তোমরা সঠিক পথের উপর, অথবা নির্ঘাৎ পথভ্রষ্টতায়” (৩৪:২৪)।
||_____________ ২য় পর্ব এখানে [ক্লিক করুন] __________||

Syed Iqbal
অক্টোবর ৬, ২০১৫ at ১০:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ ……..! বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী নির্বিশেষে সকলকে লেখাটির মর্মার্থ বোঝার ক্ষমতা হোক!
এম_আহমদ
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@Syed Iqbal: পাঠ ও মনব্যের জন্য ধন্যবাদ।
কিংশুক
অক্টোবর ৬, ২০১৫ at ১১:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ চিন্তাদীপ্ত লেখা ভাই। আপনি মনের ভাব ভাষায় খুব সুন্দরভাবে ব্যক্ত করতে পারেন । এ অসীম মহাবিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে মিনিটে কত বিশাল বিশাল আয়তনের কত গ্রহ নক্ষত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কত সৃষ্টি হচ্ছে! যিনি এত লাখ কোটি গ্রহ নক্ষত্র অবহেলায় সৃষ্টি করতে ধ্বংস করতে পারেন তিনি সকল বিশ্বাসী ভৃত্যকে গ্রহের সমান বড় বড় বেহেশত দিয়ে দিবেন এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে! পৃথিবী ছাড়া অন্য গ্রহ গুলো মাইনাস শত ডিগ্রি ও লাখ ডিগ্রি তাপমাত্রার মহাজাগতিক তেজক্রিয়ার অপার্থিব , নক্ষত্র গুলো লাখ ডিগ্রি তাপমাত্রার হতে পারলে দোযখের কঠিন আগুনে শাস্তি দেয়াও সর্বশক্তিমানের পক্ষে কোনও ব্যাপারই না। পুরো মহাবিশ্বে ক েয়ামত ঘটিয়ে ধ্বংস করে পুনরায় ইচ্ছামতো বানানো তাঁর পক্ষে খুবই সম্ভব যিনি মহাবিশ্বের শুরু থেকেই তা করে যাচ্ছেন । এখন পর্যন্ত কারো সাহায্য ছাড়াই যিনি সবকিছু করে দেখাচ্ছেন তিনি সবসময়ই পারবেন- এখানে অবৈজ্ঞানিক কিছু নেই। বেশী বিজ্ঞান কপছে, পার্থিব ভোগবিলাশের মোহে এত বড় রিস্ক নেওয়া পাগলামি ।
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@কিংশুক: বেশ সুন্দর বলেছেন, যথার্থ: পার্থিব ভোগবিলাসের মোহে মানুষ অন্ধ হয়, সুচিন্তা হারিয়ে বসে। আজকে একদল লোক যেন অযথাই পথহারা হচ্ছে। দুঃখ হয়, তারা কোরান-হাদিসের ব্যাখ্যার স্থান অবগত থাকবে না, যেখানে আটকে যাবে সেখানে বিজ্ঞ কাউকে জিজ্ঞেস করবে না, বরং নিজেদের ভুলকে অহংকারের সাথে চালিয়ে যাবে।
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আবু সাইফ
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ১১:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ…
মূল লেখা এবং মন্তব্য- উভয়ই অন্তরে দোলা দিয়ে গেল
গভীর মনযোগ সহকারে বার বার পড়ার মত
জাযাকুমুল্লাহ
কাজী নজরুল ইসলামের ঐ গানটা মনে পড়ে-
খেলিছো এ বিস্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে….
……………………..
…………………..
ভাঙ্গিছো গড়িছো নিতি ক্ষণে ক্ষণে………
তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন
এম_আহমদ
অক্টোবর ১১, ২০১৫ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবু সাইফ: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
এম_আহমদ
অক্টোবর ৮, ২০১৫ at ৪:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখায় কিছু কিছু শব্দ ও বাক্য বিশেষ প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন 'মোল্লা' শব্দ। যেমন এখানে: 'তবে নাস্তিকদের কোরান পাঠে সময় লাগে না। মোল্লারা না বুঝে ২৫/৩০ বছর পড়ে। বৌদ্ধ-তপস্যায় শ্বাস-নিশ্বাসে শিষ্য বছরের পর বছর কাটায়। এসবের কীসের প্রয়োজন? নাস্তিকের বুদ্ধিতে এত 'মামুলি' বিষয় কোলায় না, কেননা সে “বৈজ্ঞানিক”!'
বর্তমানে এক শ্রেণির লোক এটাকে derogatory অর্থেও ব্যবহার করে থাকেন। আমি শব্দটিকে নাস্তিকদের প্রসঙ্গে ব্যবহার করেছি তাদের অবস্থানকে derogatory অর্থে নিয়েই। এখানে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের জন্য বিষয়টি স্পষ্ট করলাম।
মহিউদ্দিন
অক্টোবর ১০, ২০১৫ at ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নিবন্ধটি পড়ে ভাল লাগল। রঙ ও রূপের বৈচিত্র্যে রূপায়িত আমাদের এই জগতের ব্যাপারে আপনার অনুভূতির সুন্দর অভিব্যক্তি প্রকাশ করে যে বার্তাটি দিয়েছেন তা পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করবে আশা করি। পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় রইলাম।
সংগীতের রূপকতায় একটি গানের কথা স্মরণ হল। এটি শুনতে আমার খুব ভাল লাগে।
এম_আহমদ
অক্টোবর ১১, ২০১৫ at ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ। বাকি অংশ দেবার জন্য space এর অপেক্ষা করছিলাম। আগামী কাল দেবার চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ, অনেকটা রেডি। জাজ সঙ্গীতে আপনার স্বাদ তো কম নয় দেখছি। তাও লুইস আর্মস্ত্রোংগের! অপূর্ব উপস্থাপন -তাই না? লিরিক, অর্থ, উচ্চারণ, মুখাবয়ব -সবকিছু যেন একাকার হয়ে আছে।