বর্তমান বাংলাদেশে বিচার হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের। অর্থাৎ একাত্তরে যারা নিরস্ত্রদের খুন, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ইত্যাদি করেছেন, লঙ্ঘন করেছেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনকে, তাদের বিচার হবে। আমরাও মনে করি এই রকমের জঘন্য অপরাধে কেউ জড়িত থেকে থাকলে এবং সেটা যথাযথ ভাবে প্রমাণিত হলে তার বিচার হওয়াই উচিৎ।
কিন্তু সাধারণ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কথা হচ্ছে একাত্তরের যুদ্ধ বিরোধিতা নিয়ে। এক শ্রেণীর মিডিয়ার প্রচারণায় তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুধু সমর্থনকেই মনে করা হচ্ছে অপরাধ। অখণ্ড পাকিস্তানে তখনকার বিশ্বাসীদের নতুন করে বলা হচ্ছে দেশের শত্রু । অথচ বাস্তবতা হলো, একটি যুদ্ধ বা নির্দিষ্ট আন্দোলনের বিরোধিতা দেশের সাথে শত্রুতা হতে পারে না। বড় একটি আন্দোলনে সহমত যেমন থাকে মতভিন্নতা স্বাভাবিক ভাবেই থাকতে পারে। ইতিহাসে এর নজির ভুরি ভুরি। সুভাস বসুর জঙ্গি আন্দোলনে কংগ্রেসের সমর্থন ছিল না। কিন্তু তিনি যদি স্বাধীনতা আনতেন, স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের সমর্থকগণ কি অচ্ছুত হয়ে যেতেন! অত:পর কংগ্রেসের অহিংস আন্দোলনে আনিত স্বাধীন ভারতেও বিপ্লবের সমর্থকরা অপয়া হয়ে যায় নি। একই চিত্র পাকিস্তানের বেলাতেও। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সহ পুরো পাকিস্তানে প্রত্যেকটি অঞ্চলে পাকিস্তানের সমর্থক যেমন ছিলেন- আবার অনেক মানুষ ছিলেন অখণ্ড ভারতের পক্ষে। পাকিস্তান আমলে তাদের দেশপ্রেমের নিষ্ঠায় কেউ খুঁত ধরেনি। দেশের শত্রু বলে গালও দেয়নি। পুরো দেশের জন্য যখনই কোন আন্দোলন হবে, ফলাফল অর্জিত হবার পর দেশের সব মানুষ সেটা ভোগ করার ক্ষেত্রে সমান। যদিও হতে পারে সেই আন্দোলনে কারো অসমর্থন ছিল। এবং এরকম অসমর্থন থাকবেই। আধুনিক স্বাধীন হওয়া অনেক দেশের ইতিহাসেই এটা আছে। কিন্তু বিশেষত বাংলাদেশে দেশের মানুষেরই একটা অংশকে বলা হচ্ছে পরাজিত শক্তি। একটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের মানুষই কীভাবে পরাজিত হতে পারে!
বিখ্যাত রাজনিতিক সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমেদের উদ্ধৃতিটা এখানে উপযোগী হবে। তাঁর দেশপ্রেমে নিশ্চই কারো সন্দেহ নেই। আওয়ামী লিগ তাকে গুরু মানে। যুক্তফ্রন্টের একুশ দফা এবং বিখ্যাত ছয় দফা মূলত তাঁরই রচিত। তিয়াত্তরে দালাল আইন প্রণয়ন করে বিচারের উদ্যোগ নেয়া হলে তিনি বলেছিলেন, যখন ইস্পাত কঠিন ঐক্যের সবচে’ বেশী প্রয়োজন ছিল তখন জাতিকে বিভেদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
এসব বোদ্ধা ব্যক্তিদের পরামর্শেই সম্ভবত শেখ মজিব সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁরই দল আওয়ামী লিগ এবং সমমনা বাম দলগুলো হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের পিতার সিদ্ধান্তকে ভুল সাব্যস্ত করে আবার দেশকে বিভেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পরিণতি সম্পর্কে সবার সচেতন হওয়া দরকার। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাধীনতার শত্রু আখ্যায়িত করে আপনি তারপর সেই স্বাধীনতার ব্যাখ্যা কিভাবে করবেন?

মুনিম সিদ্দিকী
জানুয়ারি ২৮, ২০১৩ at ৫:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সহমত!
যারা ঢালাও ভাবে বলা বলি করে আসলে তাদের বেশীর ভাগ আবেগ দিয়ে বলেন যুক্তি দিয়ে নয়। ঐ সময় বিভিন্ন কারণে হয়ত কেউ কেউ পাকিস্তান ভেংগে যাক তা মেনে নিতে পারেন নাই, কিংবা পাকিস্তান রক্ষা করার পক্ষে ছিলেন। পরবর্তিতে পরিবর্তিত অবস্থায় তাদের অনেকের চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। এই বাংলাদেশের জন্মকে আল্লাহর হুকুমে হয়েছে বলে মেনে নিয়েছে। অনেকে যে আকারে হোক বা যে নামেই হোক জন্ম ভূমি তো জন্ম ভূমি তাই তাকে ভালবাসা ঈমানের অংগ বলে জ্ঞান করে। তাই শুধু ঐ সময়ের ভুমিকার জন্য তাদেরকে দেশ বিরুধী ট্যাগ করা ঠিক নয়।
ঐ সময়ে যারা নিরীহ মানুষ জনদেরকে হত্যা ধর্ষন অত্যাচার করেছিলেন নিশ্চয় তারা দুনিয়ার আইনে যেমন অপরাধী তেমন আল্লাহর আইনেও অপরাধী । তাদের অবশ্য বিচার হওয়া উচিত।
আর এই বিচার যত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় তা দেশও জাতীর জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
ধন্যবাদ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জানুয়ারি ২৯, ২০১৩ at ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সায়েন্সটা খুবই সহজ -- তেল আর পানি এস সাথে মিশে থাকতে পারে না। তাদের হয় একটাকে সরে যেতে হয়। অবশ্য যদি বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ করে বা অন্য কোন কেমিকেল দিয়ে তাদের এক রাখা যায় -- যা প্রকৃতির সূত্রের বিপরীতে কাজ করে। যারা ৭১ সালে অপকর্মগুলো করেছিলো তারা এক সময় সবকিছু ভুলে যাও বলে আমাদের ধমক দিয়েছে। ভুলে যাওয়া কি এতো সহজ!
মুনিম ভাই -- জাস্টিজ ডিলেইড জাস্টিজ ডিনাইড -- জাস্টিজ হারি জাস্টিজ বারিড। ধৈর্য্য ধরা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। তাড়াহুড়া করা বা দেরী করা দুইটাই ভুল। একটা ভুল হয়ে গেছে দেরী করে -- তাড়াহুড়া করে আরেকটা ভুল যেন না হয় -- সেইটাই জরুরী।
আর রি-কনসিলিয়েশন একটা জটিল বিষয় -- ধমক দিয়ে, যুক্তি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কখনই সম্ভব নয়। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কথাই আগে ভাবতে হবে। চোখের বদলে চোখ চাইলেও তাই দিতে হবে। ভুলে যাও -- মিলে যাও বলে লাভ নেই।
ফারুক ফেরদৌস
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৩ at ২:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকে ধন্যবাদ। বিচার শেষ করার ইচ্ছা আওয়ামী লীগের নেই। মাঠগরম করার ইস্যু হাতে রাখতে হবে না! যাঁরা আসলেই চান একাত্তরে কৃত অপরাধের বিচার হোক, তাদের উচিৎ আওয়ামী লীগের ভণ্ডামীগুলো বুঝতে চেষ্টা করা। দেশের মানুষের আবেগকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত শুধু নোংরা রাজনীতিই করে গেছে।
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৩ at ১১:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার কথা বুঝলাম -- বিচার শেষ করার ইচ্ছা আওয়ামীলীগের নাই। আওয়ামীলীগ ভন্ডামী করছে। আপনার কথাই ঠিক।
এবার দয়া করে বলুন -- আমাদের বিচারের জন্যে কি করতে হবে? বিচারের জন্যে কাকে বিশ্বাস করবো?
ফারুক ফেরদৌস
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৩ at ১২:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
স্বচ্ছ সঠিক বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যাক্তির অধিনে ট্রাইব্যুনাল নতুন করে গঠন করতে হবে। বিদেশী পর্যবেক্ষক আইনজিবীগণের উপস্থিতি থাকতে হবে। আর বিচার হলে সব রাজাকারের বিচার হতে হবে। নিচের তথ্যগুলো ফেসবুকে আরমান চৌধুরী দিয়েছেন।
১৯৭১ সালে জামায়াত ছিল
একটি ক্ষুদ্র দল। জামায়াতের তুলনায়
মুসলিম লীগ ছিল শতগুণে বড় দল। আর
আওয়ামী লীগ ছিলো হাজার গুণ বড়।
যেহেতু জামায়াত ছোট দল ছিল সেহেতু
১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকাও খুবই নগণ্য
ছিল। শান্তি কমিটি, রাজাকার
ইত্যাদি সংগঠন ও বাহিনীর
তালিকা দেখলে বোঝা যাবে জামায়াতের
উপস্থিতি সেখানে নেই বললেই চলে।
সারাদেশে ১৯৭১ সালে গঠিত
শান্তিবাহিনীতে জামায়াতকে কোন
চেয়ারম্যানের পদ
দিতে চায়নি অতি ক্ষুদ্র দল ছিল
বলে এবং নেতা-কর্মী ছিলনা বলে।
বরং শান্তি কমিটি, রাজাকার সহ
অন্যান্য বাহিনীতে আওয়ামী লীগ ও
মুসলিম লীগের লোক জনই ৯৫% এর
চেয়েও বেশী ছিলো। একটি উদাহরণ
দিলে ব্যাপারটি আরো পরিস্কার হবে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে তৎকালীন
বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের
একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ভোট
পেয়েছিলো ১৫০ মতো। আর ১৯৭১
সালে ঐ এলাকায় তালিকাভূক্ত
রাজাকারই ছিলো ১১০০০ জনের উপরে।
যার মাত্র ৩৫ জন ছিল আওয়ামী লীগের
কথা মতো যদি জামায়াতের প্রাপ্ত সকল
ভোটকেই রাজাকার হিসেবে ধরা হয়
তাহলে বাকি ১১ হাজারেরও
বেশী লোকগুলো কারা? নিশ্চয়ই
তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-
কর্মী-সমর্থক বা ভোটার ছিল। কারণ ঐ
এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল
ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল।
সে হিসেবে সারাদেশের রাজাকার সহ
অন্যান্য বাহিনীর তালিকা প্রকাশ
করলেও দেখা যাবে ৯০% রাজাকার
আওয়ামী লীগ থেকে এসেছে।
সূত্র: Prothom Alo, Nov 13, 2025
Azash
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৩ at ৭:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@
ফারুক ফেরদৌস ,
Apnar jonno sundor ekta kobitar ekta link dilam:
http://www.sachalayatan.com/himu/47705
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জানুয়ারি ২৯, ২০১৩ at ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
>>> যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে আপনার কথার সাথে একমত। কিন্তু আপনি যে কথাটা বলেননি -- একটা স্বাধীন দেশে কিভাবে একটা দল এবং একদল মানুষ সেই বিচারের বিরোদীতা করে -- সেই বিচার বাতিলের জন্যে আন্দোলন করে -- বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করে? বিভক্তির সুরটা এখানে কি শুরু হয়নি।
।
>>>> এই উদাহারনটা তেমন যুতসই হলো না। সুভাস বসুর লক্ষ্য ছিলো স্বাধীন ভারত -- ঠিক তেমনি কংগ্রেসের লক্ষ্য ছিলো স্বাধীন ভারত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিরোধীতাকারী যারা আজ জামাত/শিবিরে ছত্র ছায়ায় এক হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে -- তাদের সাথে সুভাষ বোসের তুলনা না করে বরঞ্চ হিটলারের নাসী দলের সাথে তুলনা করা সঠিক হবে।
একই চিত্র পাকিস্তানের বেলাতেও। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সহ পুরো পাকিস্তানে প্রত্যেকটি অঞ্চলে পাকিস্তানের সমর্থক যেমন ছিলেন- আবার অনেক মানুষ ছিলেন অখণ্ড ভারতের পক্ষে। পাকিস্তান আমলে তাদের দেশপ্রেমের নিষ্ঠায় কেউ খুঁত ধরেনি। দেশের শত্রু বলে গালও দেয়নি।
পুরো দেশের জন্য যখনই কোন আন্দোলন হবে, ফলাফল অর্জিত হবার পর দেশের সব মানুষ সেটা ভোগ করার ক্ষেত্রে সমান। যদিও হতে পারে সেই আন্দোলনে কারো অসমর্থন ছিল।
>>> অবশ্যই -- বিজয়ীদের মতাদর্শ মেনেই পরাজিতরা বসবাস করবে। পরাজিতরা তাদের মতাদর্শকে যখন অভ্রান্ত প্রমান করতে চাইবে তখনই সমস্যা হবে।
>>> পরাজিত শক্তি যখন সংগঠিত থাকে এবং তাদের পরাজিত আদর্শকে বিজয়ী করতে সক্রিয় হয় -- তখন যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায় শুরু হয়। পরাজিতরা পরাজয় মেনে নিয়ে যদি বিজয়ীদের আনুগত্য মেনে নিতে না চায় -- সমস্যা সেখানেই শুরু হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। এখানে শুরু রাজনৈতিক বিরোধীতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না -- যার মধ্যে একটা সহিংস অংশ ছিলো। যারা সংহিসতার সাথে জড়িত ছিলো তারা রাজনীতির আড়ালে অপরাধকে লুকাতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। দায়টা অপরাধীদের -- তারা ৪১ বছর পরও কোন আক্ষেপ করেনি। তারা ক্ষমা চায়নি। বরঞ্চ উদ্ধত ভংগীতে বলছে -- ভুলে যেতে। তাদের উদ্ধত আচরনই তাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করতে সাহায্য করেছে।
>>>> শেখ মুজিরর রহমান সঠিক কাজটি করেছিলেন রাজনৈতিক বিরোধীতাকে অপরাধ হিসাবে ক্ষমার যোগ্য করেছিলেন। শেখ মুজিবের কাঁধের উপর বন্দুক রেখে ইতিহাস তৈরী করলে ভুল হবে। ইতিহাসের একটা গুরুত্পূর্ন অংশটা আপনি বলেননি -- সাধিরন ক্ষমায় অপরাধীদের ক্ষমা করা হয়নি -- তখন সুনির্দিষ্ট চারটি ( এখন যা হচ্ছে) অপরাধে বিচার চলছিলো ১১ হাজার অপরাধীর। রাজনৈতিক কুটকৌশলে এরা বিচারকে বন্ধ করে -- বিচারের বাইরে এসে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে একটা রাজনীতিক শক্তি হিসাবে আত্নপ্রকাশ করে এবং বিচারকে অস্বীকার করছে। দেশের বিপুল মানুষ বলতে কি বুঝায় জানি না। অপরাধী অপরাধীই। তাদের বিচার হতে্ই হবে্। এই বিচারে যারা বাঁধা সৃষ্টি করছে -- বাঁধা সৃষ্টির জন্যে রাজনৈতিক দল বা সংগঠন করে একটা শক্তি প্রদর্শন করছে -- রাস্তায় গাড়ী ভাংগছে -- পুলিশ পেটাচ্ছে। পরাজিত অপরাধীর পক্ষে শক্তিকে আপনি কি নামে ডাকবেন?
পরাজিতদের সংগঠিত শক্তির বিচার বিরোধী অবস্থানের জন্যে যে ঘৃনা অর্জন করছে সেই দায়টা অন্যের উপর না চাপিয়ে বিচার বিরোধীদের উপর চাপানোই কি যুক্তি সংগত না।
আহমেদ শরীফ
জানুয়ারি ২৯, ২০১৩ at ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুভাষ বসুকে 'জঙ্গী' অভিধায়িত করায় কৌতুকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সুভাষ বোসকে স্বাধীন ভারত মূল্যায়ন করেছে 'মহান বিপ্লবী' হিসেবে, সুভাষের দেশভক্তি নিয়ে তো কোন প্রশ্নই ওঠে না। সুভাষ বোস স্বদেশ থেকে বহিরাগত দখলদার শক্তি ইংরেজ তাড়াতে বিপ্লবের কথা ভেবেছিলেন, নিজের স্বার্থের জন্যে নয়। সেজন্যে ভারতবর্ষের জনগণ ও ইতিহাস তাঁকে একজন মহানায়কের স্থান দিয়েছে। এরকম বিশ্ববরেণ্য একজন মহানায়কের সাথে '৭১ এর রাজাকারদের মত ৩য় শ্রেণীর লুটপাট-ধর্ষণকারীদের কোন তুলনা করাটা খুবই হাস্যকর। বিশেষতঃ তারা, যারা একটি বিদেশী সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকার সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানী ছিঁচকে চোর-ছ্যাঁছড়ের মতো চুরি-লুটপাট-ধর্ষণ-হত্যার মহোৎসবে মেতে উঠে নৈরাজ্যের নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
জামাতে ইসলামীর নামের মাঝে ইসলাম ব্যবহৃত হলেও কাজে ইসলামের সাথে কোন মিল নেই। '৭১ এ যেখানে সমস্ত দেশবাসী ঐকান্তিকভাবে বহিরাগত পশ্চিম পাকিস্তানী দখলদারদের শোষণ-বঞ্চনা-নির্যাতন-জুলুম থেকে বাঁচার জন্য জীবন বাজি রেখে এক হয়েছিল _ সেখানে জামাতি রাজাকাররা চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে গোটা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে গিয়ে বিদেশী হানাদারদের দোসর হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিল। ইসলামের নাম দিয়ে ভন্ডামি করে তারা দেশজুড়ে প্রচুর পরিমাণে লুটপাট-ধর্ষণ-হত্যার দক্ষযজ্ঞ চালিয়েছে নিজেরই স্বজাতির মধ্যে, বিদেশী হানাদারদেরও তা করতে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। '৭১ এর ডিসেম্বরে যুদ্ধের শেষ পর্যায়েও সম্পূর্ণ বিজয়ের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত তারা তাদের নারকীয় অপকর্মের খতিয়ান অব্যাহত রেখেছিল, এমন না যে তারা শেষ পর্যন্ত এটা বুঝতে পেরে বিরত হয় যে 'দেশের মানুষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে'। যুদ্ধ শেষ হবার পূর্বমূহুর্তেও হানাদার বাহিনীকে সাথে নিয়ে তাদের সাধ্যের মধ্যে সর্বশেষ বড় ক্ষতি করে এ দেশের শ্রেষ্ঠতম সূর্যসন্তান সেরা বুদ্ধিজীবিদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। এসব তারা কোন আবেগ থেকে নয় বরং ঠান্ডা মাথায় করেছে।
সেজন্যে তারা এদেশের সন্তান নয়। এদেশে জন্ম নিলেও তাদের শোণিতধারায় বাংলার মাটি বাংলার জল নেই। তাদের ন্যূনতম লজ্জা ও বোধশক্তি থাকলে তারা অন্ততঃ নিজেদের অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত হত, ক্ষমাপ্রার্থী হত। তারা তো ক্ষমা চাওয়া দূরে থাক বরং বিকট দম্ভ ভরে বহুবার ঘোষণা করেছে যে ' '৭১ এ তারা ভুল করেনি।' আজ ৪০ বছর পর কালস্রোতের ঘূর্নিপাকেচক্রে ইতিহাসের অনিবার্য ধারায় সমস্ত রক্তঋণ সুদে আসলে পরিশোধ তাদের করতে হবে।
হ্যাঁ এতে তারা ও তাদের দোসররা অস্থির হবেই এটি স্বাভাবিক।
তবুও ইনএভিটিবিলিটি তীব্র অনিচ্ছা সত্বেও মেনে নিতেই হবে।
ফারুক ফেরদৌস
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৩ at ১:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আহমেদ শরীফ:জঙ্গী আর বিপ্লবীর মধ্যে পার্থক্য ভাষাগত। স্বাধীন ভারত তাঁকে মহান বিপ্লবী বলেছে সেটা নিয়েই কথা। তিনি কংগ্রেসকে সুবিধাবাদী ব্রিটিশ দালাল বলতেন। কংগ্রেস ভারত স্বাধীন করে তাঁকে মহান বলেছে এখান থেকে শেখার আছে। লেখায় আমি বলেছি অপরাধ যারা করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিৎ। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধীদের নয়। একাত্তরে আওয়ামী লীগ গণ্ডগোল বাঁধিয়ে যখন ভারতে পালাল, কেউ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে কেউ শান্তি কমিটি করেছে, কারো মধ্যে দেশপ্রেমের ঘাটতি ছিল না। মাঠের যোদ্ধাদের কাছে আমরা জানতে পারি যে শান্তি কমিটি মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে এমন নজির অহরহ। এগুলো আমাদের জানতে হবে। যুদ্ধের সময় কিছু মানুষ পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ফিরে তাদের মনে হয়েছে, গলাবাজি না করলে দেশের মানুষ তাদের তখনকার কাণ্ডকীর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ব্যাংক লুটের টাকার হিসাব চাইতে পারে। তারা গলাবাজি করছেন এবং বিদেশী প্রভুদের ইন্ধনে দেশের মানুষকে বিভক্ত করেছেন।
ফারুক ফেরদৌস
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৩ at ১:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কাউকে যথাযথ ভাবে অপরাধী প্রমাণিত করে যদি শাস্তি দেয়া হয়, সে ক্ষেত্রে বিরোধিতা করার মত লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখানে প্রশ্নটা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। যে ট্রাইব্যুনালের রায় সরকারী রাজনীতিকরা দিনে তিনবার দেন, সেই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সুভাস বসুর উপমা দিয়েছি মতভিন্নতা বোঝানোর প্রয়োজনে। তখন কংগ্রেস সুভাসকে হঠকারী বলত আর বিপ্লববাদীরা কংগ্রেসকে সুবিধাবাদী বলে গাল দিতেন।
পাকিস্তানে যাদেরকে দালাল বলে গাল দেয়া হয়েছে তারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেননি। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের পাণ্ডা ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল মূলত ইসলামপন্থীরাই। আমি লেখায় বলেছি যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিৎ। শুধু সমর্থন অপরাধ নয়।
আপনার পরাজিত আদর্শ তত্বটি কোনভাবে মেনে নিতে পারলামনা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোন আদর্শিক লড়াই ছিল না। জুলুম হয়েছে এবং জুলুমের প্রতিবাদে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আত্ম নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনি আদর্শ কোথায় পেলেন?
tausif
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৩ at ৮:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
The majority of people of East pakistan never wanted to get seprated from pakistan including sheikh mujib. Sheikh mujib tried his best to become prime minister of united pakistani until march 24th or 25th. Mujib voluntarily moved to pakistan leaving his family behind who were getting Rs 1500 per month from pakistan army. How about should the lcoal people of chittagong support chakmas for their war of independace or take up arms against chakmas, pls explain. tks
soptem das
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৬ at ২:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও বাংলাদেশে বসবাস করে সেই রাজা কারবাহীনি পাকিস্তানের জ্ঞান,মত প্রকাশ করাকে আপনি কি চোঁখে দেখবেন। জাতীর জনক বঙ্গ বন্ধু সাধারন ক্ষমার পরে, তারা (রাজাকার বাহীনি) বলে যাদের বিচার কার্য করা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশের পক্ষে চলে আসতো তাহলে ক্ষমা করার সস্মানটা বঙ্গ বন্ধু পেত।সে সস্মান তারা রাখেন নি।দুধ দিয়ে কালসাপ পোষার মত।স্বাধীনতাকেই তারা মানছে না।পূণরায় দেশকে অরাজগতা সৃষ্টি করছে। আপনি তো আপনার সংসারে চাইবেন না তৃতীয় পক্ষ কেউ মত প্রকাশ করুক। আর সেটা যদি হয়ে থাকে আপনার শএু পক্ষের কেউ।দায় ছাড়া কথা বল্লে মুর্খতাই শ্রয় হবে।পজে টিভ ভাবতে শিখুন।
এম_আহমদ
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৬ at ৮:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@soptem das:
দাদার জ্ঞান বুদ্ধি মাশাল্লাহ ভাল। যে ফুলের যে সুবাস তা তো বাতাসে ছড়াবেই। তো দাদা আপনি কোন দেশের লোক –ভারতের না বাংলাদেশের? বাংলাদেশের পরিবারে তৃতীয় পক্ষ কারা? আর প্রথম আর দ্বিতীয়ই পক্ষ কারা?
এম_আহমদ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬ at ৪:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@soptem das: উত্তর না পেলেও ধরে নিচ্ছি দাদা ভারতেরই লোক। বাংলাদেশের সংসারে ৩ পক্ষ, এদের মধ্যে পাস্পারিক শত্রুতা। তবে এক পক্ষের প্রতি ভারতের উদারদৃষ্টি, এরাই আসল আসল জাতি। এরা আর ভারত ‘জাতের’ দিক থেকে বিশেষভাবে ‘এক’, তাই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের নামে বিভক্তির আক্রোশ এদের পেটে ও খোদ ভারতের পেটে সমান। এরা ছাড়া ভারতের খাটি বন্ধু কে হতে পারে? এরা ভারতি এজেন্ডায় ভারতি দুশমনদের বিপক্ষে খড়্গহস্ত, খাটি রাজাকার। আপনার মন্তব্যের ‘বিচারকার্য’ও এই আঙ্গিকের। এক প্রশ্নবিদ্ধ বিচারকার্য্য ও আদালত ও যুদ্ধরাধের বিচার –এই দুয়ের পার্থক্য এই শ্রেণীতে এমনইভাবে, ঘুলিয়ে, গিলিয়ে দেয়া হয়েছে যে প্রথমটি বিপক্ষে কেউ কথা বললেই তারা দ্বিতীয়টির বিপক্ষ মনে করে। এরাই ভারতসোহাগী ৩ পক্ষের খাটি বাংগালী জাতি। আর বাকি ২ পক্ষ পাকিস্তানের রাজাকার –তাই না?