যাদের পৈত্রিক ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী ব্রহ্মার মাথা থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য, এবং পা থেকে শূদ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে (ঋগ্বেদ ১০.৯০.১১-১২) - যার উপর ভিত্তি করে অমানবিক বর্ণবাদ প্রথা চালু আছে - তাদের মধ্যে থেকে সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদীরা 'নাস্তিক-মুক্তমনা-বিজ্ঞানমনস্ক-বিনোদনবাদী-ইত্যাদি' সেজে নিজ ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্বকে চেপে যেয়ে আব্রাহামিক ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্বকে ভুল-ও-হাস্যকর ভাবে উপস্থাপন করছে, আর কথায় কথায় মুসলিমদেরকে বিগ্যান ও বিনোদনবাদ শিক্ষা দিচ্ছে! কেউ কেউ আবার প্রচার করছে এভাবে-
আমরা হাওয়ার পোলা নই, বানরেরই বংশধর।
অথচ তারা নাস্তিক হয়ে থাকলে তাদের বলার কথা ছিল- "আমরা ব্রহ্মার মাথা বা বাহু বা উরু বা পা থেকে সৃষ্ট নই, আমরা বানরের বংশধর।" কিংবা- "আমরা মনু-র পোলা/পুত নই, বানরেরই বংশধর।"
তাদের মডারেটমনা বডিগার্ড ও বিনোদনবাদ বিশেষজ্ঞ ড. আজীম মাহমুদ সমর্থন দিয়েছে এভাবে- "জ্বী গুরুজী! জ্বী প্রভুজী! আমরা বানরেরই পোলা, মুসলমানদের মতো হাওয়ার পোলা হতেই পারি না! পশ্চিমা বিশ্বের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাঘা বাঘা বৈজ্ঞানিক জার্নালেও একই কথা লিখা আছে। আমি নিজ চোখে সেগুলো দেখেছি। তথাপি মুসলমান নামের ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী অজ্ঞ-মূর্খ-অন্ধ-ভণ্ড-কাঠমোল্লার দল আপনাদের বৈজ্ঞানিক কথায় বিশ্বাস করবে না, গুরুজী! আর মুসলমানদের মধ্যে মডারেটরাই সবচেয়ে বেশি খ্রাপ। সেই তুলনায় সহি ইসলামিক আলকায়েদা-আইসিস মুমিন ভাইয়েরা অনেক ভালো ও সৎ। জ্বী গুরুজী! জ্বী! জ্বী!"
নোট: বর্তমান যুগের কোনো মানুষই আদম-হাওয়ার সরাসরি সন্তান (বানরের বংশধরদের ভাষায় 'পোলা' বা 'পুত') না। আব্রাহামিক ধর্ম অনুযায়ী আদম-হাওয়া (Adam-Eve) হচ্ছেন সকল যুগের মানুষের আদি পিতা-মাতা - অর্থাৎ বর্তমান যুগের মানুষেরা আদম-হাওয়ার বংশধর।
(তাদের দাবিই ঠিক। তারা আসলেই বানরের বংশধর। আমরাও সেটাই মনে করি!)
নোট: ইসলাম অনুযায়ী শুধুমাত্র প্রথম মানব-মানবীকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই মানব-মানবী থেকে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বংশ-পরম্পরায় পুরো মানবজাতির আবির্ভাব হয়েছে। দু-এক জন মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করার জন্য অতি সামান্যই মাটি লাগে। অথচ পুরো পৃথিবী-সহ বিশাল মহাবিশ্ব থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি প্রশ্ন করে - "মানুষরে যদি মাটি দিয়াই বানানো হইয়া থাকে, তাইলে মাটি এখনও আছে ক্যান?" - তাহলে বুঝতে হবে তার আইকিউ আসলে বানরের চেয়েও নিম্নমানের! তাদের প্রশ্নটা এরকম- "হাঁড়ি-পাতিলরে যদি মাটি দিয়াই বানানো হইয়া থাকে, তাইলে মাটি এখনো আছে ক্যান?" কিংবা- "মানুষ-সহ সকল প্রাণী প্রতিদিন পানি পান করা সত্ত্বেও পানি এখনো আছে ক্যান?" এই ধরণের প্রশ্ন কোনো বুদ্ধিমান মানুষ করতে পারে না নিশ্চয়। কাজেই তাদের দাবি অনুযায়ী তারা আসলেই বানরের বংশধর তথা বানর প্রজাতি।
বানরের কিচির-মিচিরকে গুরুত্ব দিতে নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এরা মনুষ্য সমাজে ঢুকে পড়ে মানুষের গায়ে খামচি দেওয়া শুরু করেছে। যেখানে সেখানে প্রলাপ বকে মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে তুলছে।
(খৎনাধারীরা কখনোই 'সহি নাস্তিক' হতে পারবে না! হায় কপাল! এতদিন ধরে সহি নাস্তিকদের দাসত্বগিরি করে তাহলে লাভ'টা কী হলো! হেঁহেঁহেঁ!)
(বিষাদে হরিষ!!!)
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। কেউ যদি নিজেকে 'চোর' দাবি করে জনসম্মুখে তা প্রচার করে সেক্ষেত্রে তাকে জোর করে সাধু বানানো উচিত হবে না নিশ্চয়। অনুরূপভাবে, যারা নিজেদেরকে 'বানরের বংশধর' দাবি করে প্রচার করছে তাদেরকে জোর করে মানুষের বংশধর বানানোও ঠিক হবে না। তাদের দাবি অনুযায়ী তাদেরকে বানরের বংশধরই ধরে নিতে হবে। মানুষ হিসেবে আমরাও সেটাই মনে করতাম। আমাদের ধারণার সাথে তাদের দাবি যেহেতু মিলে গেছে সেহেতু এ নিয়ে কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-বিতর্ক থাকতে পারে না।
তবে মানুষের বংশধর যেমন মানুষ-ই হয়, সিংহের বংশধর যেমন সিংহ-ই হয়, ইঁদুরের বংশধর যেমন ইঁদুর-ই হয়, তালগাছের বংশধর যেমন তালগাছ-ই হয় … তেমনি বানরের বংশধরেরা বানর-ই হবে। কিন্তু তারা দেখতে যেহেতু মানুষের মতো সেহেতু মানুষ ও বানর থেকে আলাদা করার জন্য তাদের আলাদা একটা নাম থাকা দরকার। প্রকৃতপক্ষে, প্রত্যেক প্রজাতিরই আলাদা নাম আছে। আমাদের মতো মানুষেরাই সেই নামগুলো দিয়েছে।
যারা নিজেদেরকে 'বানরের বংশধর' বলে দাবি করছে তাদের নাম 'হনুম্যান' রাখা হলো - যারা দেখতে মানুষের মতো হলেও বুদ্ধি ও আচরণে বানরের মতো। কুরআনের একটি আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ্ কিছু মানুষকে তাদের অপকর্মের শাস্তিস্বরূপ উল্লুকে (Apes) রূপান্তরিত করেছিলেন। তবে সেই রূপান্তরটা শারীরিক নাকি আচরণগত ছিল, সেইটা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। অবশ্য বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সেই রূপান্তরকে শারীরিক ধরে নিতেও কোনো সমস্যা নেই। তাদের উত্তরসূরীরাই হয়তো আজ নিজেদেরকে 'বানরের বংশধর' বলে দাবি করছে!
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- হনুম্যানদের নিয়ে মানুষের করণীয় তাহলে কী হবে? ওয়েল, মানুষ যেভাবে অন্যান্য পশুদেরকে ট্রিট করে, হনুম্যানদেরকেও সেভাবেই ট্রিট করতে হবে- যেহেতু তারা নিজেরাই নিজেদেরকে আর দশটা পশুর মতো একটি পশু বলে দাবি করছে। যেমন:
-মানুষেরা বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে থেকে কিছু প্রাণীকে বিনোদনের জন্য জোর করে চিড়িয়াখানায় বন্দী করে রেখেছে। এজন্য প্রাণীদের থেকে অনুমতি নেওয়ারও কোনো দরকার পড়েনি। স্বঘোষিত বানরের বংশধর হনুম্যানদের মধ্যে থেকেও দু-চার জনকে বিনোদনের জন্য মীরপুর চিড়িয়াখানায় রেখে দিতে হবে- যাদের নেতৃত্বে থাকবে বাংলা অন্তর্জাল জগতের বিখ্যাত বিনোদনবাদী হনুম্যান হরাস মাঙ্কি। উল্লেখ্য যে, মাত্র কয়েক দশক আগেও শিম্পাঞ্জি ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যকার 'মিসিং লিঙ্ক' হিসেবে জনগণকে দেখানোর জন্য আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানাতে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল।
-মানুষেরা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীকে নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকে। হনুম্যানদেরকেও মানুষের কাজে ব্যবহার করতে হবে।
-মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বানরের গলায় শেকল পরিয়ে গ্রামেগঞ্জে বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য নিয়ে যায়। বিভিন্ন প্রাণীকে সার্কাসের কাজেও ব্যবহার করা হয়। এভাবে তারা টাকা-পয়সা কামিয়ে সংসার চালায়। তারা চাইলে হনুম্যানদের মধ্যে থেকেও কিছু প্রাণীকে বেছে নিয়ে টাকা-পয়সা কামাতে পারে। যেমন-
-মানুষেরা কখনোই অন্যান্য প্রাণীদের সাথে কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্কে যায় না। হনুম্যানদের সাথেও মানুষের কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক হতে পারে না। ইট ডাজন'ট মেক সেন্স!
-অন্যান্য সকল প্রজাতির প্রাণীর ক্ষেত্রে ধর্ষণ ও হত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা না হলেও হনুম্যানদের ক্ষেত্রে ধর্ষণ, হত্যা, ইত্যাদি অপরাধের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে যেহেতু তারা দেখতে মানুষের মতো এবং মনুষ্য সমাজেই বাস করে।
-হনুম্যানদের দাবি অনুযায়ী অ্যাপেন্ডিক্স একটি ক্ষতিকর অঙ্গ। তাদের আরো দাবি অনুযায়ী পুরুষের স্তনগ্রন্থি কোনো কাজে লাগে না। তাদের ভালোর জন্যই তাদের সবার অ্যাপেন্ডিক্স ও স্তনগ্রন্থি কেটে দিতে হবে।
-মানুষ সাধারণত পশুদের সাথে ভালো ও মানবিক আচরণ করে থাকে। তবে কোনো প্রাণী যদি মানুষের জন্য হুমকী বা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে সেই প্রাণীকে খোয়াড়ে বন্দী করে রাখা হয়, কিংবা প্রয়োজনে মেরেও ফেলা হয়। মানুষের জন্য হুমকী হওয়ার কারণে প্রাণীদেরকে মেরে ফেলার অনেক উদাহরণ আছে। তবে আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হনুম্যানদেরকে স্রেফ বিনোদনের বস্তু হিসেবেই দেখবো।
হনুম্যানদের নিয়ে পাঠকদের আর কোনো পরামর্শ থাকলে জানাতে পারেন।

এস. এম. রায়হান
মে ৪, ২০১৮ at ১:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বছর কয়েক আগে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেসিস্ট ইউজিন ম্যাকার্থির বরাত দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি খবর বেরিয়েছিল। সেই খবর অনুযায়ী পুরুষ শুয়োর আর স্ত্রী শিম্পাঞ্জির মিলনের ফলেই পৃথিবীতে মানুষ এসেছিল! [সূত্র] বাংলা বিনোদনবাদীদের কেউই এই তত্ত্বের বিরোধীতা করেনি। কাজেই বিনোদনবাদীরা আসলে শুয়োর-শিম্পাঞ্জির বংশধর! অর্থাৎ তাদের আদি পিতা হবে একটি পুরুষ শুয়োর আর আদি মাতা হবে একটি নারী শিম্পাঞ্জি! এই তত্ত্ব অনুযায়ী বিনোদনবাদীদের নাম 'শুম্পাঞ্জি' (শুয়োর+শিম্পাঞ্জি)-ও রাখা যেতে পারে।
এস. এম. রায়হান
মে ৫, ২০১৮ at ২:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
স্বঘোষিত বানরের বংশধর ওরফে হনুম্যানেরা বুয়েট-পাশ (মুসলিম) ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষকদেরকে একাধারে জেনেটিক্স, প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা, ফিজিওলজি, এমব্রিয়োলজি, রসায়ন, ভূতত্ত্ব, বিনোদনবাদের র্যান্ডম মিউটেশন, কমন এঞ্চেস্টর, একুমুলেশন অব চেঞ্জেস ওভার টাইম, স্পেশিয়েশন, ন্যাচারাল সিলেকশন, এনভাইরনমেন্টাল ইফেক্ট, ও পদার্থ বিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্বের উপর জ্ঞান দিচ্ছে! হেঁহেঁহেঁ! 😛 ব্যাফক হনুদোন নেওয়ার জন্য বিশেষ করে বুয়েট-পাশ ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষকদের এখানে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
Ap
মে ২৮, ২০১৮ at ৪:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
As a hindu i don't believe man evolved from Brahma. Same way islamic explanation is also not correct.
মে ২৯, ২০১৮ at ১২:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
It's about creation, and not evolution! It's also from Rigveda -- the most sacred religious book of Hinduism. So it doesn't matter whether you believe it or not.
This is called "to cut off one's nose to spite one's face" logic. You don't have to worry about 'Islamic explanation' as you probably don't know anything about Islam to begin with. I also doubt about your knowledge on science if you claim yourself as a descendant of monkeys or pigs or any other species other than human.