[নোট: এই ধরণের পোস্ট আসার কথা ছিল 'নাস্তিক-মুক্তমনা-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক-ইত্যাদি' দাবিদারদের ব্লগে। অথচ আজ পর্যন্ত এই ভণ্ডদের ব্লগ-ফেবুতে এগুলো নিয়ে একটি লাইনও লিখা হয়নি। এজন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও গোবরে হাত দিতে হলো! আর এই লেখায় এ-টু-জেড সবাইকে ঢালাওভাবে বুঝানো হচ্ছে না।]
১. তাদের ধর্মে দশজন অবতারের মধ্যে তিনজন অবতার হচ্ছে বরাহ্ (শূকর), মাছ, ও কচ্ছপ। অথচ তারা নিজেরাই শূকর, মাছ, ও কচ্ছপ তথা অবতারদেরকে হত্যা করে খায়! অন্যদিকে মুসলিমরা শূকরের মাংস খায় না (মানে শূকর হত্যা করে না) - তা যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। এমনকি মুসলিমদের কেউ কচ্ছপও খায় কি-না সন্দেহ। এজন্য তাদের উচিত ছিল মুসলিমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কিন্তু না, সেটা তারা কখনোই করবে না। বরঞ্চ তাদের ধর্মগ্রন্থের কোথাও গরুকে 'দেবতা' জাতীয় কিছু না বলা সত্ত্বেও এবং লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী থাকতে শুধুই গরুকে 'দেবতা' বানানো হয়েছে! অন্যান্য প্রাণীদের প্রতি এইটা এক ধরণের সাম্প্রদায়িকতা নয় কি?
এমনকি বিজ্ঞান-যুক্তিবাদী মহল থেকে শুরু করে তাদের ইহুদী-খ্রীস্টান প্রভুরা-সহ সভ্য জগতের আমিষভোজীদের প্রায় সকলেই যেখানে কম-বেশী গো-মাংস খায়, সেখানে তারা গো-মাংস না খেয়ে গো-মূত্র খায়! জন্মদাতা মায়ের মূত্র না খেয়ে গো-মূত্রকে 'পবিত্র' জ্ঞান করে খায়!
এ পর্যন্ত না-হয় ঠিক আছে। কিন্তু তাদের কাছে মোদিস্তানের গরুরাই শুধু গো-দেবতা বা গো-মাতা হিসেবে বিবেচিত হয়! মোদিস্তানের বাইরে সারা বিশ্বের গরুরা সব ডেভিল! তাদের শঠতার এখানেই শেষ নয়। সেই মোদিস্তানের মধ্যেই আবার খ্রিস্টান-অধ্যুষিত এলাকার গরুরাও ডেভিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে! কেননা খ্রিস্টান-অধ্যুষিত এলাকায় গো-হত্যা নিষিদ্ধ নয়। গো-হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর আইন করা হয়েছে শুধুই গুজরাটে। সোজা কথায় – আমেরিকান, ইউরোপিয়ান, ইহুদী, খ্রিস্টান, চাইনিজ, জ্যাপানিজ, উপজাতি, ও নাস্তিকরা তাদের গো-মাতাদেরকে হত্যা করলে কোনো সমস্যা নেই! এমনকি মোদিস্তানের বাইরে সারা বিশ্বের মুসলিমরাও গো-মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই! তার মানে তাদের 'ধর্মানুভূতি'টা মোদিস্তানের বিশেষ কিছু অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ!!! এমন ভণ্ড ধার্মিক সম্প্রদায় আর কোথাও আছে কি?
যোগীর রাজ্যেই না খেতে পেয়ে মরল দেড় শ গরু!
(মুক্তমনাদের একজন ধর্মগুরু যোগীজী)
২. গো-দেবতাকে হত্যার বিরুদ্ধে আইন করা হলেও সেই গো-দেবতার গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে পায়ে পরিধান করার বিরুদ্ধে কোনো আইন করা হয়নি! এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বেদে গো-হত্যার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কিংবা অমানবিক পন্থায় কঠোর শাস্তির কথা লিখা আছে। তার মানে 'ধর্মনিরপেক্ষ' মোদিস্তানে বেদের আইন প্রয়োগ করা হয়েছে! কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে এ নিয়ে 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনারা না-জানার না-শোনার ভাণ করে গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে আছে! বেদে যে গো-হত্যার জন্য শাস্তির কথা লিখা আছে সেটা মুক্তমনারা জানে না? অথচ তারা সারা দুনিয়ার মুসলিমদের চেয়ে কোরআন-হাদিস বেশি জানে!
তারা গো-রক্ষায় যতটা তৎপর, ধর্ষকদের হাত থেকে নারীদের রক্ষায় অতটা তৎপর মনে হয় না! আর দলিত-শূদ্র'রা তো গণনারই বাইরে। দলিত-শূদ্র'রা অবশ্য অভিজিতের মতো 'মুক্তমনা-বিজ্ঞানমনস্ক-মানবতাবাদী'দের কাছেই হিসাবের বাইরে থাকে!
সারা বিশ্বে এরাই হচ্ছে একমাত্র ধার্মিক যারা "অমুকের ফ্রীজে গো-মাংস আছে, অমুকে গো-মাংস বহন করছে, কিংবা অমুকে গো-মাংস খাচ্ছে" - এই ধরণের গুজব ছড়িয়ে মানুষকে হত্যা-নির্যাতন-ধর্ষণ করে। এরাই হচ্ছে একমাত্র ধার্মিক যাদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে নির্জীব মূর্তি ও গরুর মূল্য অনেক বেশি! উল্লেখ্য যে, 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনারা এগুলোর সাথে ধর্মের কোনো রকম সম্পর্ক কিংবা এগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের ভাইরাস জাতীয় কিছু খুঁজে পায়নি!
৩. প্রতি বছর তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করে মূর্তি বানিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নিজেরাই সেগুলোকে ভেঙ্গে ধ্বংস করে দেয়। লাথি দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দেয়। অথচ কোথাও দূর্বৃত্তদের দ্বারা দু-একটি মূর্তি ভাঙ্গার খবর প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে তাদের মূর্তিনাভূতিতে চরম আঘাত লেগে যায়! আরো মজার বিষয় হচ্ছে যাদের মূর্তি ভাঙ্গা হয় তারা কখনো এজন্য ইসলামকে দায়ি না করলেও 'মুক্তমনা-নাস্তিক-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক-ইত্যাদি' দাবিদারেরা নির্জীব দু-একটি মূর্তি ভাঙ্গার খবর শোনার সাথে সাথে মূর্তিনাভূতিতে চরম আঘাত পেয়ে দল বেঁধে ইসলামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে!
৪. এরা ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংস এবং সেই সাথে শত শত মানুষকে হত্যা করে, কথায় কথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে তালেবানদের দ্বারা পাথরের তৈরী একটি নির্জীব বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙ্গার জন্য মুসলিমদেরকে দায়ি করে!- যেখানে বৌদ্ধদেরকেই এ নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না! এ কেমন ধূর্তামী! মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি নাকি! এমনকি অভিজিৎ রায় কী করেছে, সেটা অনেকেরই হয়তো জানা। স্বয়ং ইহুদীদেরকেই যেখানে চৌদ্দশ' বছর আগের বানু কুরাইজা গোত্রের ইহুদীদের নিয়ে কোনো অভিযোগ করতে দেখা যায় না, এমনকি বিগত দু'হাজার বছরের ইতিহাসে ইহুদীদের উপর হত্যা-নির্যাতনের বিশাল লিস্টেও যেখানে বানু কুরাইজা গোত্রের ইহুদীদের কথা উল্লেখ নেই - সেখানে অভিজিৎ রায় বানু কুরাইজা গোত্রের কিছু বিশ্বাসঘাতক ইহুদীর জন্য মায়াকান্না করেছে! তার স্বগোত্রীয় দাস-মনোবৃত্তির বর্ণবাদীরা এখনো করছে। অথচ তাদের চোখের সামনে ভারতে দলিত-শূদ্রদের উপর নিয়মিত অত্যাচার-নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণ চলছে। এ নিয়ে তাদের কোনো লেখা নেই! এমনকি শ্রীকৃষ্ণের নেতৃত্বে শুধুমাত্র কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধেই প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ হতাহতের কথা অভিজিৎ রায় বা তাদের কারো লেখাতে ভুলেও কখনো আসেনি!!!
৫. "কোরআন বুঝে পড়লে কেউ জঙ্গি-সন্ত্রাসী হতে পারে না" - কারো লেখাতে এই ধরণের কোনো কথা দেখলে তারা ধর্মানুভূতিতে চরম আঘাত পেয়ে তার উপর ঘৃণা-বিদ্বেষ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে! অমুসলিমদের কেউ ইসলাম বা মুসলিমদের পক্ষে কিছু বললে তাদের ধর্মানুভূতিতে চরম আঘাত লাগে! নাস্তিকতার যৌক্তিক সমালোচনা দেখলে তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত পেয়ে তেড়ে আসে! বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন দেখলে তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত পেয়ে গালিগালাজ শুরু করে দেয়! জায়নবাদীদের কোনো সমালোচনা দেখলে তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত পেয়ে তেড়ে আসে! মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনো সমালোচনা দেখলে তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত পেয়ে তেড়ে আসে! এমনকি ট্রাম্পের সমালোচনা দেখলেও তাদের ধর্মানুভূতিতে ব্যাপক আঘাত লেগে যায়! এ ব্যাপারে তারা তাদের তসলিমা দেবীকেও ছাড় দেয় না! জীবনের ভয়ে ভাশুরদের নাম মুখে না নিয়ে তনা দেবীর আক্ষেপ দেখুন!-
আমরা তোমাকে 'দেবী' বানিয়েছি এই শর্তে যে, তুমি শুধু ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লিখবা। আমাদের ধর্মের একটু-আধটু সমালোচনা করলেও আমরা বৃহত্তর স্বার্থে সেটা হয়তো মুখ বুজে সহ্য করবো। কিন্তু তাই বলে আমগো একমাত্র শ্বেতাঙ্গ দেবতার বিরুদ্ধে লিখার অধিকার তোমারে কে দিয়েছে, তনা? তোমার মতো ছাগু-জঙ্গি পরিবারের দেবী আমগো আর দরকার নাই! আমগো শ্বেতাঙ্গ দেবতার বিরুদ্ধে লিখার অপরাধে তোমাকে ভাগাড়ে নিক্ষেপ করা হলো!
৬. হিন্দুত্ববাদ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের (মূল ধর্মের নয়) সমালোচনা করার জন্য তারা মোদিস্তানে ইতোমধ্যে কয়েকজন যুক্তিবাদীকে হত্যা করেছে। মোদিস্তানে কথায় কথায় কল্লার দাম হাঁকছে (মাত্র ৫টি সাম্প্রতিক প্রমাণ: ১, ২, ৩, ৪, ৫)। বাংলাদেশে পাথরের তৈরী কথিত শিবলিঙ্গ নিয়ে কটূক্তির কারণে একজন নারীকে সরাসরি হত্যা-ধর্ষণের হুমকি থেকে শুরু করে চরম অসভ্য ভাষায় আক্রমণ ও গালিগালাজ করেছে এবং তার বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ভেঙ্গে দিয়েছে (সূত্র)। একটি কবিতা লিখার দায়ে কলকাতায় কবি শ্রীজাতের বিরুদ্ধে তাণ্ডব তো চলছেই, তার বিরুদ্ধে এফআইআর-ও করা হয়েছে, কিন্তু সেই কবিতাটির প্রশংসা করায় কবি মন্দাক্রান্তা সেনকে গণধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে (সূত্র)। এমনকি চিত্রনায়ক সাকিব খান ও তার স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে নিয়েও এখানে, এখানে, ও এখানে-সহ ডজন ডজন পোস্টে কী অসভ্য-বর্বর তাণ্ডবই না চলছে! এই ধরণের প্রমাণ দিতে গেলে শেষ হবে না। চোখের সামনে এতোকিছু দেখেও 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনারা কিন্তু গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে আছে। অথচ সম্প্রতি ইসলাম নিয়ে আবল-তাবল কিছু একটা বলার জন্য পাকিস্তানে একজনকে হত্যার ঘটনা নিয়ে 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনারা ঠিকই ইসলামকে টার্গেট করে মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছে! অর্থাৎ ক্ষেত্রবিশেষে নিরীহ ভারতীয়দের চেয়ে ইসলাম-বিরোধী পাকিস্তানীরা 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনাদের কাছে প্রাধান্য পায়!!! উল্লেখ্য যে, আমি যেকোনো ধরণের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে কখনোই সমর্থন করি না। এ নিয়ে আলাদা একটি পোস্টও দিয়েছিলাম।
তো এই যখন বাস্তবতা - তখন তারাই আবার প্রতিনিয়ত একটি মুখস্ত বুলি আউরাচ্ছে এই বলে যে, তাদের ধর্মের বিরুদ্ধে লিখলে কেউ 'আল্লাহু আকবর' বলে 'চাপাতি' নিয়ে তেড়ে আসে না (এখানে মূল পয়েন্ট হচ্ছে 'আল্লাহু আকবর' ও 'চাপাতি'! কেমন ধূর্ত এরা!)। তারা সব 'সভ্য' হয়ে গেছে! এজন্য তারা একাধারে 'নাস্তিক-মুক্তমনা-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক-সেক্যুলার-ইত্যাদি' সেজে মুসলিমদেরকে 'সভ্য' বানানোর দায়িত্ব নিয়েছে!
৭. কবি শ্রীজাতের সেই কবিতা নিয়ে 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনাদের ভণ্ডামীটা দেখা যাক। কবি শ্রীজাতের সেই কবিতাটি নিচে হুবহু তুলে দেওয়া হলো। সবাই একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
অভিশাপ
সময়ে ওষুধ, নইলে বেড়ে যায় সবরকম রোগই
ভিখ পেতে পেতে তুমি রাজা হয়ে ওঠো, গেঁয়ো যোগী।
উঠেই নির্দেশ দাও, ধর্মের তলব দিকে দিকে
মৃগয়ায় খুঁজে ফেরো অন্য কোনও ধর্মের নারীকে।
যে–হরিণ মৃত, তারও মাংসে তুমি চাও অধিকার
এমন রাজত্বে মৃত্যু সহজে তো হবে না তোমার।
বাতাসে হাপর নামে, দেশ জুড়ে অধর্মের ছাই…
প্রতি নির্বাচনে আমরা শতাব্দীপিছনে ফিরে যাই।
যেখানে পুরুষধর্ম ধর্ম-পুরুষের অন্য নাম
আর আমি নারীর মৃত্যু পার করেও শিকার হলাম।
আমাকে ধর্ষণ করবে যদ্দিন কবর থেকে তুলে –
কন্ডোম পরানো থাকবে, তোমার ওই ধর্মের ত্রিশূলে!
আচ্ছা, পুরো কবিতার কোথাও কি তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় অবতার কৃষ্ণকে নিয়ে কিছু বলা হয়েছে? না! অন্য কোনো অবতার বা দেব-দেবীকে নিয়ে কিছু কি বলা হয়েছে? না! এই কবিতার কোথাও কি বেদ বা গীতা বা অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থ নিয়ে কিছু বলা হয়েছে? না! এমনকি পুরো কবিতার কোথাও 'হিন্দু' বা 'হিন্দু ধর্ম' বলেও কিছু উল্লেখ নেই! অথচ এমন একটি কবিতাকে 'মুক্তমনা'রূপী কোনো কোনো মোদিমনা কৌশলে 'হিন্দু ধর্মের উপর আঘাত' হিসেবে চালিয়ে দিয়ে বলার চেষ্টা করছে যে, ইসলামের চেয়ে হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে অনেক বেশী লেখালেখি হয়! তথাপি হিন্দুরা তাদেরকে জামাই আদর করে বুকে টেনে নেয়!
এমন একটি কবিতাকে তাদের কাছে যদি 'হিন্দু ধর্মের উপর আঘাত' মনে হয় তাহলে অভিজিতের মুক্তমনা স্ট্যাইলে রাম-কৃষ্ণ ও বেদ-গীতাকে নিয়ে দল বেধে ১৫-১৬ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কটূক্তি ও চরম ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক লেখালেখি করলে তারা যে কী করতো সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সত্যি বলতে, মুক্তমনা ব্লগ তিন মাসও টিকে থাকতে পারতো না। আর মুক্তমনা ব্লগ যদি ভারত-ভিত্তিক হতো, তাহলে সেই ব্লগের কাউকে আজ জীবিত অবস্থায় পাওয়া যেত কি-না সন্দেহ। একেবারে চ্যালেঞ্জ করা কথা। ওদের যেকেউ এই চ্যালেঞ্জ নিতে পারে।
এই ধার্মিক প্রজাতির চরম শঠতামূলক আচরণ আর 'ধর্মানুভূতি'র নামে ভণ্ডানুভূতি নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবে না। এমন শঠ ও অদ্ভুত ধার্মিক প্রজাতি মানব জাতির ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই। এই প্রজাতির মধ্যে থেকেই অভিজিতের মতো উচ্চ-শিক্ষিত কিছু অতি ধূর্ত আগেভাগে নিজেদেরকে 'মুক্তমনা-নাস্তিক-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক-মানবতাবাদী-নারীবাদী-ইত্যাদি' দাবি করে কী-ই না করছে!



এম_আহমদ
এপ্রিল ২৯, ২০১৭ at ৫:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই এই লেখাটি অত্যন্ত ভাল হয়েছে। এর কয়েকটি বিষয়ের কারণে। তুলনামূলক বিচারে গেলে দেখা যাবে, এবং সার্বিকভাবে বলতে গেলেও, এখানে এক শ্রেণীর হিন্দুদের মধ্যে ধর্ম-গ্রন্থের নির্বাচিত পঙক্তির উদ্ধৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ধিত অর্থে, ধর্মগ্রন্থসমূহের গোটা পরিধি বিবেচনা না করে এমন নির্বাচিত পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মানবিক প্রবণতা প্রায় সকল ধর্মেই দেখা যায়। আমাদের ধর্মেও এই প্রবণতা রয়েছে কিন্তু গরুর মত নয়। শূকর, মাছ ও কচ্ছপ অবতারদের উদরস্থ করে গরু দেবতার পঙক্তিকে বড় করে দেখা এবং নিজেদের বিশ্বাসকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপর শুধু চাপিয়ে দেয়াই নয় বরং গরু খাওয়ার অপরাধে তাদেরকে হত্যা করা –এটা কখনো মানবিক ধর্ম হতে পারে না। কিন্তু যারা এটা করে তারা কিন্তু শঠতামূলকভাবে করে না বরং নিরঙ্কুশভাবে ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে করে। কিন্তু একস্থানে ধর্মীয় হলেও এই “চেতনা” অন্যস্থানে পাশবিক ও অমানবিক। তাদের এই চেতনা গভীরভাবে ইসলাম বিদ্বেষে রূপায়িত হয়ে আছে এবং এই সম্প্রদায় তাদের বিদ্বেষী বিষ বাষ্পকে কৌশলে অপরাপর অনেক অঙ্গনে বিস্তৃত করে দিয়েছে। এই হচ্ছে মন্দের একটি দিক। এখান থেকে সার্বিকভাবে এটাও বলা যেতে পারে যে শুধু তাদের ক্ষেত্রেই নয় বরং নির্বাচিত তথ্যে সাধিত ধর্মীয় মানুষকে স্থানভেদে পশু করে তুলতে পারে, কেননা এতে মানবিক লক্ষ্য ভুলে যাওয়া হয়। এর নজির ছোট-বড় আকারে সকল ধর্মে ও সেক্যুলার আদর্শে খোঁজা যেতে পারে।
অপর কারণটি ধর্মীয় সত্যের সাথে জড়িত। ধর্মে অনেক লোক সত্যের অসংখ্য রূপকে একাকার করে ফেলে এবং নিজেদের বিভ্রান্তিকে ধর্ম মনে করে। কিন্তু যখন এই বিভ্রান্তি সামাজিক হয়ে পড়ে তখন সত্যের বহুব্রীহিতা নিয়ে অনেকে কথা বলতে সাহস পায় না। কেন পায় না, এখানে এই দিকটিও দিবালোকের মত স্পষ্ট। এই সত্য কোথাও নগ্ন, কোথাও শীর ঢেকে উলঙ্গ, কোথাও সর্বাঙ্গ ঢেকে উলঙ্গ নিতম্ব। তফাৎ প্রায়ই মাত্রার মধ্যে। কিন্তু এই মানবের বিপুল সাগরে তাদের চরম পার্থক্যের মধ্যে মানবিক রূপটি কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে –এই চিন্তা বড়ই নাজুক। বলা যায়, “সবার উপরে মানব সত্য” কথাটি মিথ্যা বরং মানুষও যে পশু –এই সত্যই অনেক সত্যের মধ্যে এক বড় সত্য।
কিংশুক
মে ১, ২০১৭ at ১২:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমাদের মুসলমান দের মধ্যেও অনেক ভুল বুজাবুজি রয়েছে ইসলাম যে সকল মারামারি কাটাকাটি, জুলুম, বৈষম্য দূর করে রাজা প্রজা ধনী গরিব সমান অধিকারী বানানো জীবন বেবস্থা তা ভুলে আমিন জোরে না আস্তে, নেকাব পরবে না পরবেনা ইত্যাদি নিয়ে মারামারি করে সময় ক্ষেপণ করছি । মোল্লারা গুস দুর্নীতি বৈষম্য দূর করে আল্লার নির্দেশ মত সকল বেক্তি তার চেয়ে গরিব্দের নিয়মিত সাহায্য এর পরিবরতে নানান দলিও কোন্দল এ বেস্ত।
এপ্রিল ২৯, ২০১৭ at ৫:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে একটি মন্তব্য পাঠালাম। কিন্তু প্রকাশ হয় নি। আমার মনে সাইটে এখন গণ্ডগোল হচ্ছে।
সদালাপ কর্তৃপক্ষ
এপ্রিল ২৯, ২০১৭ at ৮:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রকাশ হতে বিলম্ব হচ্ছে- এটা নোট করেছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি। সময় লাগতে পারে। ধন্যবাদ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
এপ্রিল ৩০, ২০১৭ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কি আর বলি। গত সপ্তাহে রামায়ন পড়া শেষ করলাম। সেই্টা নিয়ে লেখলে তো আমি সাম্প্রদায়িক হয়ে যাবো -- তাই ভাবছি।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩০, ২০১৭ at ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লেখা উচিত বলে মনে করি। তারপর কে বা কারা সাম্প্রদায়িক বলে সেটা দেখা যাবে।
এপ্রিল ৩০, ২০১৭ at ১০:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক দিন পর রায়হান ভাই এর লেখা দেখে খুব ভালো লাগছে। সনাতন মনারা এখনো আগের মতোই কুৎসিত, হিংসুক, জঙ্গি সাম্প্রদায়িক, অশ্লীল গালিবাজির মাধ্যমে নিজেদের ধর্ম রক্ষা করছে দেখে আশাহত হচ্ছি। মনা দাবির আড়ালে আসলে এক জঙ্গি সাম্প্রদায়িক সনাতনি ধর্ম পালন কারি সম্প্রদায় কল কাঠি নাড়ছে ! ওরা অবশ্য আমাদের অনেক চেনা। খুব কঠিন পারিবারিক বিপদ (যা এখনো বিদ্যমান), অফিসের কাজের প্রচণ্ড চাপ, সদ্য বিয়ে ইত্যাদির কারনে সদালাপে নিয়মিত কমেন্ট পারছিনা। কিন্ত সদালাপ এখনো নিয়মিত পড়ি।
সত্য সন্ধানী
মে ১, ২০১৭ at ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রতিটি কথার সাথে সহমত পোষন করছি ভাই। এই শঠগুলির তো আসলে কালচারই নাই। এরা যেসব কেচ্ছার বইকে নিজেদের ধর্ম গ্রন্থ বলে চালায় সেগুলি আদৌ হয় ধর্ম গ্রন্থ নয়, বা হলেও নিজেদের নয়, সব চুরি করা বা ছিনতাই করা।
আর এরা চুরিও করে বেছে বেছে খারাপ জিনিস গুলি।
এরা গু গোবর খাওয়া জাত, এরা ভাল কিছ নেবে কেন? এদের চোর পুরোহিত রা ভাবে নি যে এমন দিন আসবে যেদিন এসব নিয়ে তাদের বিব্রত হতে হবে, জানলে মনে হয় সাবধান থাকত। ত্রেতা দ্বাপরের (????!!!!) জজবাতে ভুলেই গেছে কলিযুগ কে, যে কলি যুগে ব্রাহ্মন দের ন্যাংটো করা হবে!
এস. এম. রায়হান
মে ৬, ২০১৭ at ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
গো-পূজারীরা তাদের গো'মাতার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাচ্ছে 😀 কেউ কেউ গো'মাতার দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছে!!! এমনকি গো'মাতাকে লাঠি দিয়ে পিটাচ্ছেও!!! এ কেমন মাতা, আর এ কেমন সন্তানেরা! পেগ্যান ধর্ম হলে যা হয় আরকি!
https://www.facebook.com/TimesofIndia/videos/10155353274747139/?hc_ref=PAGES_TIMELINE
এস. এম. রায়হান
মে ৬, ২০১৭ at ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু
টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত দেশের ৭৪ কসাইখানার মধ্যে ১০ টির মালিক হিন্দু। এমনকি ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
দেশের সবচেয়ে বড় কসাইখানা তেলেঙ্গানার মেডক জেলার রুদ্রম গ্রামে অবস্থিত। কমপক্ষে ৪০০ একরজুড়ে থাকা ওই কসাইখানার মালিক সতীশ সভারওয়াল। এটি ‘আল কবীর এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ চালিয়ে থাকে। ভারতের মুম্বাইয়ের নরিম্যান পয়েন্টে অবস্থিত সদর দফতর থেকে তারা মধ্য-পূর্বের কয়েকটি দেশে গবাদি পশুর গোশত রফতানি করে।
আল কবীরের দফতর দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত, জেদ্দা, দাম্মাম, মদিনা, মাসকট, দোহা এবং অন্যত্র রয়েছে। সংস্থাটি গতবছর কমপক্ষে ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে।
‘অ্যারাবিয়ান এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ –এর মালিক সুনীল কাপুর। এদের সদর দফতর ভারতের মুম্বাইতে। সংস্থাটি বিফের পাশাপাশি ভেড়ার গোশতও রফতানি করে। এর পরিচালক বোর্ডে বিরনত নাগনাথ কুডমুলে, বিকাশ মারুতি শিন্দে এবং অশোক নারং রয়েছেন।
এমকেআর ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টর্স প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক মদন অ্যাবট। অ্যাবট কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের কসাইখানা রয়েছে পাঞ্জাবের মোহালি জেলায়। এর পরিচালক সানি অ্যাবট।
‘আল নূর এক্সপোর্টস’-র মালিক সুনীল সুদ। কোম্পানিটির দফতর ভারতের দিল্লিতে। কিন্তু এর কসাইখানা এবং গোশত প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের শেরনগর গ্রামে। এছাড়া মীরাট এবং মুম্বাইতেও তাদের প্ল্যান্ট রয়েছে। সংস্থাটির অন্য অংশীদার হলেন অজয় সুদ। সংস্থাটি ১৯৯২ সালে তৈরি হয় এবং তারা ৩৫টি দেশে ‘গরুর গোশত’ রফতানি করে থাকে।
এওভি এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কসাইখানার অবস্থান উত্তর প্রদেশের উন্নাউতে। এদের গোশত প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে। এর পরিচালক ওপি অরোরা। সংস্থাটি ২০০১ সাল থেকে কাজ করছে। তারা মূলত গরুর গোশত রফতানি করে থাকে। কোম্পানির সদর দফতর নয়ডাতে। এওভি এগ্রো ফুডসের পরিচালক হলেন অভিষেক অরোরা।
স্ট্যান্ডার্ড ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমল ভার্মা। কোম্পানিটির কসাইখানা এবং প্ল্যান্ট উত্তর প্রদেশের উন্নাউতে অবস্থিত।
পোন্নে প্রোডাক্টস এক্সপোর্টসএর পরিচালক এস স্বস্তি কুমার। এদের গরুর গোশতসহ মুরগির গোশত এবং ডিমের ব্যবসাও আছে। এদের প্ল্যান্ট রয়েছে তামিলনাড়ুতে।
অশ্বিনী এগ্রো এক্সপোর্টসের কসাইখানা রয়েছে তামিলনাড়ুর গান্ধীনগরে। কোম্পানিটির পরিচালক কে রাজেন্দ্রন। তার মতে, ‘ধর্ম নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যবসার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।’
মহারাষ্ট্র ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজের হলেন সানি খাট্টার। তিনিও মনে করেন, ‘ধর্ম এবং ব্যবসা ভিন্ন জিনিস। দুটোকে মিশিয়ে ফেলা ঠিক নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি হিন্দু এবং গরুর গোশত ব্যবসা করি তাতে কী হয়েছে? এই ব্যবসা করে কেউ খারাপ হিন্দু হয়নি।’ কোম্পানিটির কসাইখানা মহারাষ্ট্রে অবস্থিত।
এসব ছাড়াও হিন্দুদের এমন কোম্পানি রয়েছে যারা গরুর গোশত রফতানি ক্ষেত্রে রয়েছে। এদের কসাইখানা না থাকলেও এরা গোশত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে তা রফতানি করে। কনক ট্রেডার্স এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান।
এর মালিক রাজেশ স্বামী বলেন, ‘এই ব্যবসায়ে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। দুই ধর্মের মানুষজন একসঙ্গে কাজ করে থাকে। এতে কেউ হিন্দু হলেও তা কোনো ব্যাপার নয়।’ তার মতে, কসাইখানা বন্ধ হলে হিন্দু-মুসলিম উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওই ব্যবসায়ে প্রচুর সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায় সরাসরি মালিক না হলেও তারা পরিচালক, গুণমান ব্যবস্থাপক, উপদেষ্টাসহ এ ধরণের বিভিন্ন পদে কাজ করেন। (সূত্র:পার্সটুডে)
http://www.tdnbangla.com/national/indian-biggest-and-modern-hindu-slaughter-house-owner/