মরক্কোর রোজনামচা-পর্ব ৪
শারজাহতে থাকা, খাওয়া. গোসল, চিকিৎসা ইত্যাদি কোম্পানির তরফ থেকে প্রদত্ত হলেও তা পর্যাপ্ত সুখকর নয়। অফিসারদের জন্য তিনটি আলাদা পিস সেন্টার থাকলেও যখন তিনের অধিক ব্যক্তির একসাথে প্রয়োজন হয়ে পড়ে তখন বিরাট সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়।
খাবার জন্য ক্যান্টিনে আম! ক্যান্টিনের কিচেনে রন্ধন কার্য সমাধানের জন্য মাত্র দুইজন লোক। একজন সেফ,একজন হেলপার। সেফের নাম আহমদ,বাড়ি ইণ্ডিয়ার কেরেলা। ক্যান্টিনের মালিক পাকিস্তানী রমজান আলী।
প্রথম দিন অন্য অফিসার/ম্যানেজারদেরকে অনুসরণ করে কিচেনে কুকের টেবিলেই খাবার খেতে বসেছি। পাশে বসে খাচ্ছেন, নবীগঞ্জের আবুল হাসান চৌধুরী, ফ্যাক্টরি ইনচার্জ আব্দুল হালিম যাকে শ্রীলংকানরা মাষ্টার বলে ডাকে। এই দুই ব্যক্তিকে সেফ আহমদে যে ভাবে ভি আইপি সার্ভিস দিলো তা দেখে মনে হলো সেফ আহমদ খুব দিলদার আদমি! আমি সম্পূর্ণ নতুন আগন্তুক! আমার উপস্থিতির প্রতি তার নির্লিপ্ততায় দেখে মনে খটকা লাগে! বুঝলাম সব কপালের কারণ!
পরদিন বুঝতে পারি আমাদের সাম্যবাদী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের মত অফিসারদের জন্য আলাদা কোন খাস ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করেননি। এখানে সব সমান, পাঠান, মোগল আর নমশূদ্র খানা খেতে হবে একসাথ!
সে কারণে বাংলাদেশের শ্রেণী বৈশম্যময় সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত অফিসার বা ম্যানেজারদের কেউ কেউ তাদের শোবার রুমে খাবার নিয়ে আসতেন, কেউ কেউ আবার কিচেনের ভেতর কুকের টেবিলে বসে খাবার সেরে নিতেন। যেখানে যে রীতি! সেদিন থেকে আমি কিচেনে ভি আই পিদের সাথে না খেয়ে বা ভাত শোবার রুমে না এনে, সেলফ সার্ভিস ক্যান্টিনে আমে গিয়ে ওয়ার্কারদের সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়া শুরু করি।
আমার এহেন কর্ম জানিনা আমার কলিগ অফিসার/ম্যানেজারদের মনে কোন বিরূপ ক্রিয়া করেছে কিনা তা জানার জন্য কোন চেষ্টা করিনি। তবে সাধারণ ওয়ার্কার আর ম্যানেজারদের মধ্যে যে বৈষম্যের দেয়াল জনিত হীনমন্যতা বিরাজ করেছে তা অনেক পরিমাণে আমাকে তাদের সাথে খেতে পেয়ে হালকা হয়ে যায়।
আলহামদুলিল্লাহ! কয়েকদিন এর মধ্যে আমাকে প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়, যখন দুপুরে ক্যান্টিনে খেতে আসি, সেফ আহমেদ কিচেন আর ক্যান্টিনের মধ্যে জানালার ওপাশ থেকে বিগলিত ভাবে বলে, আরে স্যার আপ কিউ উধার খায়ে গা? আপকা লিয়ে তো আন্দরমে স্পেশিয়াল টেবিল হ্যাঁয়।
তাকে বলি, আহমেদ মুজে ইধার আচ্ছা লাগরাহা হ্যাঁয়, আপ মেরা ফিকির মাত করো, বাচ্ছে লোগকা লিয়ে ফিকির করনা! আচ্ছাসে খানা পাকানা!
এবার এসে ক্যান্টিন ঘুরে বাটিতে করে মোরগের গোস্ত নিয়ে এলো,আমার প্লেটের সামনে রেখে বলে, স্যার আওর কিছি চিজ কা জরুরত হ তো মুজে আপনা লোগ সমজকে অর্ডার করনা!
আমি বুঝতে পারি এই লোক কোন টাইপের। আমি তাকে প্রশ্ন করি, সেফ বাচ্চে লোগ কো লিয়ে কেতনা পিস গ্রান্টটেড হ্যাঁয়? উত্তরে জানায় সব লোগকো লিয়ে এক এক পিস করকে!
আমি জিজ্ঞাস করি, তো তুম মুজে কিউ এতনা জিয়াদা পিস দেরাহা হ্যাঁয়?
আহমেদ জানায়, ইয়ে তো খাস আদমি কা লিয়ে হামারা কোম্পানি কা তোহফা হ্যাঁয়!
আহমদকে বলি, আহমেদ ম্যায় কুই খাস আদমি নেহি হ্যাঁয়। আওর মেরে লিয়ে কিসি রকম ভি আইপি ট্রিটমেন্ট নেহি করনা। ঠিক হ্যাঁয়? ইয়াদ রাখনা!
প্রিয় রিডার আমার ভুল ভাল হিন্দির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি!
প্রোডাকশন ম্যানেজারের দায়িত্ব নেবার সাথে সাথে বাঙ্গালী ছেলেদের কাছ থেকে ক্যান্টিনের সেফ কর্তৃক পক্ষপাত সুলভ আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেতে থাকি। ছেলেরা জানায় এই আহমদ বাঙ্গালী ছেলেদেরকে পাত্তা দিতে চায়না, একটি কাচা মরিচ বাড়তি চাইলে দেয়না অথচ শ্রীলংকান মেয়েরা যা চাইবে সে তাদেরকে তা দিয়ে দিতে দ্বিধা করেনা। এই নিয়ে আমি তদন্ত করে দেখেছি যে, ছেলেরা যে মিথ্যা কথা বলছেনা তার প্রমাণ নিজে পেয়েছি। সেফ আহমদকে এই বিষয়ে অনেক বার সতর্ক করে দেই কিন্তু সে বার বার অভিযোগ অস্বীকার করে। সে উলটা আরো বাঙ্গালীদের ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।
বিরক্ত হয়ে ছেলেদেরকে বলি, যখন তোমরা তার কাছে কাচা মরিচ চাইবে তখন না দেয়, তোমরা অপেক্ষা করবে কখন শ্রীলংকান মেয়েরা আসে এবং তাদেরকে সে কাচা মরিচ দেয়। সেই মূহুর্ত্যে হাতে নাতে ধরবে এবং আমাকে খবর পাঠাবে।
ছেলেরা পরের দিন বিকালে তাকে হাতে নাতে ধরে আমাকে ডাকতে থাকে তখন সেফ আহমেদ ছেলেদের সাথে হাতাহাতি শুরু করে দেয়। ছেলেরা তাকে বেশ উত্তম মধ্যম দিয়ে ফেলে যার ফলে তার নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
নিখিল নামক এক অপারেটর দৌড়ে গিয়ে আমাকে খবর দেয়। আমি রুম থেকে জলদি বের হয়ে আসি। দেখে বুঝতে পারি যে ছেলেদের মনের জ্বালা কিছুটা উপশম হয়েছে!
শারজার মত ভিনদেশে মারামারির সাথে রক্তপাত কি পরিণাম ডেকে নিয়ে আসতে পারে ভেবে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। দ্রুতবেগে বাঙ্গালী ছেলেদের প্রতি তীব্র বাক্যবাণ ছাড়তে শুরু করি। কাপড় দিয়ে নাক চেপে ধরি, ছেলেদেরকে বলি ফাস্টএইড বক্স থেকে রক্তপাত বন্ধের ঔষুধপট্টি নিয়ে আসার জন্য। আহমদ রাজী হচ্ছিলোনা তার রক্তঝরা বন্ধ করতে! আহমদকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকি, ভাই আহমদ তুমি চিন্তা করোনা, তোমার সাথে হওয়া এই অন্যায়ের কঠিন বিচার হবে, দোষী ব্যক্তিকে পুলিশে দেব, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব। ইশারায় বাংলাদেশী ছেলেদের বলি, যাও তার কাছে গিয়ে মাফ চাও। তার সাথে তার শরীর থেকে রক্তের দাগ তুলার ব্যবস্থা চালিয়ে যাই। উদ্দেশ্য পুলিশ আসলেও যাতে রক্তপাত দেখতে না পায়। ছেলেদের আমি যা যা করতে বলি তারা তা সাথে পালন করে। এবং বারবার ছেলে পেলে যখন আহমেদ ভাই মাফ করো বলে কাকুতি মিনতি করতে থাকে তখন আহমদের নরম হয়ে যায়। বলে স্যার আপনার বিচার আমি মেনে নেব।
বেকে বসে তার ভারতীয় হেল্পার, বলে না। কোন অবস্থায় এদেরকে ক্ষমা করা যাবেনা। সে কাপড় পরে বাইরে চলে যায়, যাবার সময় বলে বিচার না হলে সে এখানে কাজ করবেনা।
সেদিন ছিলো শুক্রবার, বস ছিলেন ইংল্যান্ড। সন্ধ্যার পর পাকিস্তানী রমজান আলী ওয়্যারলেস সেট মুখের সামনে ধরে কথা বলতে বলতে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে। পোশাক আশক আর চেহারায় তাকে অভিজাত ঘরের লোক মনে হচ্ছে! এসেই সে হেন করেগা তেন করেগা, এতনা হিম্মত মেরা আদমি কো সাত এয়সা সুলুক! পুলিশে দিবে, জেলে দিবে ইত্যাদি করে বড় গলায় হুমকি ধমকি দিচ্ছে! আমরা সবাই চুপ মেরে তার কথা শুনেছি।
আমাদের কমার্শিয়াল ম্যানেজার আতিক ভাই শান্ত ভাষায় রমজান আলীকে বললেন, স্যার আপনি যা করার করবেন। আসুন অফিসে একটু বসুন। আমাদের বাচ্চাদের কথা শুনুন। যদি আপনার বিবেচনায় মনে হয় আমাদের ছেলেদের অপরাধ তখন যে শাস্তি দিতে বলবেন আমরা সেই শাস্তিই তাদেরকে দেব।
জাত ব্যবসায়ীরা জাতে মাতাল থাকলেও তালে ঠিক থাকে। কাজেই রমজান আলী এসে অফিসে বসে। বসার পর তার কি কি পাওয়ার আছে, কি কি করতে পারে তার ফিরিস্তি শুনালো এবং তার লোকের গায় হাত তুলার বিহিত না করে সে এখান থেকে যাবেনা।
চিন্তা করে দেখলাম আমরা যত নরম কথা বলবো সে তত গরম কথা বলে যাবে। তাকে অবশ্যই কৌশলে ধমক দিতে হবে। তবে সে ধমকের শব্দ হবেনা কিন্তু কাজ করবে সারিবাদী সালসার মত।
আমি ভাঙ্গা হিন্দিতে বলতে শুরু করি, বলি আমাদের বস এখন ফ্যাক্টরিতে নাই তাই আপনার সাথে প্রটোকল রক্ষা করে কথা বলার কেউ নাই। আশাকরি আমাদের কথাকে আপনি নেতিবাচক ভাবে দেখবেননা। যেহেতু আমি প্রোডাকশনের দায়িত্বে আছি তাই ছেলে পেলের দায় দায়িত্ব আমার উপর এবং আমি ছেলেদের প্রতিনিধি হিসাবে আপনার সাথে এখন কথা বলছি।
আমাদের ছেলেদের যে কোন মতে আহমদকে মারা উচিত হয়নি তা স্বীকার করি এবং এর জন্য আমি ছেলেদের পক্ষ থেকে তার কাছে ক্ষমা চাই। বললাম- এরপর যদি আপনি খুশি না হোন তাহলে আপনি যা বলবেন তাই দোষী ছেলেদের প্রতি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রমজান আলীর চেহারায় রাগের ভাব কমে এসেছে! বুঝতে পারি আসল দাওয়াই দেবার সময় হয়েছে, এখন যা বলবো তা তার এন্টেনায় ধরবে। বললাম, শেঠ জানি আপনার ক্ষমতা আছে আপনি আমাদের ছেলেদেরকে পুলিশে দিতে পারবেন, এবং আমাদের বললে তাদেরকে দেশে পাঠিয়ে দিতে পারবেন কিন্তু শেঠ ভুলে যাবেনা আপনার ক্যাটারিং খাবার কিন্তু এই ওয়ার্কারগণ খাচ্ছে! যদি আপনার একশনের পালটা একশন হিসাবে আপনার ক্যাটারিং এর খাদ্য বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে কি আপনি পারবেন তাদের সকলকে আপনার ক্যাটারিং এর খাদ্য গ্রহণ করাতে?
সময় দিলাম দাওয়াই যাতে হজম হয়। ছেলেরা এতক্ষণ অফিস রুমের বাইরে অপেক্ষায় ছিলো, তাদেরকে ডেকে আনি। ছেলেদেরকে তাদের অপরাধের জন্য রমজান শেঠের কাছে এনে ক্ষমা চাইতে বলি। ছেলেরা এসে ক্ষমা চায়।
শেঠ রমজান আলীর টেম্পারেচার জিরোতে নিয়ে আসতে যে পেরেছি তা বুঝতে পারি! ছেলেদেরকে সুযোগ করে দেই তাদের যাবতীয় অভিযোগ যাতে তারা শেঠ রমজান আলীর কাছে তুলে ধরে।
ছেলেরা সুযোগ পেয়েই সেফ আহমদকে সামনে রেখেই রামধোলাই দিয়ে যায়, সেফ কি ভাবে শ্রীলংকান মেয়েদেরকে দুধ চিনি তেল পিয়াজ কাছা মরিচ যখন যে চায় তা দিয়ে যায় কিন্তু বাঙ্গালী ছেলেরা একটি কাঁচা মরিচ চাইলেও দিতে চায়না, এবং কাজ রেখে সে মেয়েদের সাথে ফষ্টি নষ্টি করার কথাও বাদ যায়না। অভিযোগ শুনে শুনে শেঠ রমজান আলী সেফের উপর ভয়ানক ভাবে চটে যায়। গালমন্দ করতে থাকে। সে যে বাঙ্গালী ছেলেদের হাতে মার খেয়েছে তা যথার্থ হয়েছে বলে স্বীকার করে।
এই সুযোগে তাকে বলি- শেঠ এবার শুনুন জেনুইন অভিযোগ, আপনার ক্যান্টিনে শুধু ফরজেন মোরগ, ফরজেন গোস্ত, ফরজেন সবজি খেতে দেয়া হয় যা অরুচিকর, আবার গরুর মাংস বলে মহিষের মাংস দেয়া হয় তাও অরুচিকর। যা খেতে আমাদের ছেলেরা আপত্তি জানায়। আশা করি আপনি তা বদল করে ফ্রেশ মোরগ আর খাটি গরুর গোস্ত আর সবজির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সে আমাদের কথা দেয় যে এখন থেকে গরুর মাংস আর ফ্রেশ মোরগ, ফ্রেস সবজি সাপ্লাই দেয়া হবে।
শারজার ফ্যাক্টরিতে আরো দুটি সমস্যা প্রকট। এক গোসল দুই খাটমল। কর্তৃপক্ষ কোথায় কোন পুরানো ফ্যাক্টরি থেকে দোতলা স্টিলের খাট এবং স্পঞ্জের বেড কিনে এনেছেন, যার মধ্যে এসেছে খাটমল! উহ! রাত্রে যখন দলবদ্ধ হয়ে তারা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন অ্যালফ্রেড হিচকচ এর দ্যা বার্ড ছবির পাখিদের আক্রমণ ম্লান করে দেয়। আলো জ্বালালে ফ্লোর আর দেয়াল খাটমলময় মনে হয়। এদের মারলেও দুর্গন্ধ ঘর ভরে যায়। এদের সম্মিলিত আক্রমণে তখন গান গেতে হয়, খেজুর গাছের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে অই, খাটমলের কামড়ে ঘুম আসেনা তাইতো জেগে রই!! দুই/তিন পরপর একবার এরোসল নামক কীটনাশক দিয়ে স্প্রে করতে হয়!
অন্যদিকে গোসল করতে গেলে আরেক জ্বালা! সূর্যের তাপে পানি আগুনের মত গরম হয়ে থাকে। সেই পানিতে গোসল করে কোন তৃপ্তি পাওয়া যায়না। ভোরে যদিও পানি ঠাণ্ডা থাকে কিন্তু সকালে মানুষ অন্য জরুরী কাজ সারতে হয়, যার জন্য ভোরে গোসল করার সুযোগ খুব কম মিলে!
চলবে-

Monowar Bin Zahid
ডিসেম্বর ১২, ২০১৫ at ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ ‘খাটমল’ বলতে কি ‘ছার-পোকা’ কে বুঝিয়েছেন?
--
@ যা বুঝলাম, আপনার মাঝে ‘নেতা-নেতা’ একটা ভাব রয়েছে।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ১২, ২০১৫ at ১:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হ্যাঁ ছারপোকাকে খাটমল বলে।
নেতা নেতা ভাব কিন্তু মুজিব কোটের অভাব। নারে ভাই নেতার ভাব কই থেকে আসবে? পড়ার এবং কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
Husneara
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫ at ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি কিছু দিন মরক্কোতে ছিলাম, মানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার ছোট খালা তখন রাবাতে ক্যানাডিয়ান হাইকমিশন অফিসে চাকরি করতেন। সেই সুবাদেই যাওয়া। আমরা রাবাত থেকে গাড়ি চালিয়ে ক্যাসাব্লাংকাতে গেলাম। ওহ কি বিশাল শহর। আটলান্টিকের পারে, ঘুড়ে বেড়ানো। এখনো ভুলতে পারি না @ মুমিন ভাই।
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫ at ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হ্যাঁ বোন কাসাব্লাংকা সত্যি বিশাল শহর। আপনি কোন সালে মরক্কো গিয়েছিলেন?
পড়া আর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। সাথে থাকবেন।
Husneara
ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যদি ভুল না করি, ২০০৫ এ, ডিসেম্বরে গিয়েছিলাম। প্রায় এক মাস ছিলাম ওখানে। আমারা মারাকেশ, মরুভুমির উপর একটা শহরেও গিয়েছি। লাল ইটের ঘর বাড়ী। তাবুর নিচে সব দোকান/পাট। ওখানে ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ে এদিক/সেদিন গিয়েছি। আমাদের দেশের মত রাস্তায় শাপের খেলাও দেখিছি।
আমার ধারনা ছিল, মরক্কোর মানুষ হয়তো কালো হবে। কিন্তু না, সব ফর্সা। বিশেষ করে ছেলেগুলো খুব সুন্দর, নাদুশ নুদুশ, লম্বা চওড়া।
তা, অনেক লম্বা গল্প। লিখে শেষ হবে না @ মুনিম ভাই।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫ at ২:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লিখুন আপনার অভিজ্ঞতার কাহিনী। লাল ঘর বাড়ি তো মারাকেশে দেখতে পাবার কথা আর তাবুর দোকান পাঠ আগাদির হবার কথা। হ্যাঁ মরক্কান ৯৯ ভাগ মানুষ সুন্দর/সুন্দরী। কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
Husneara
ডিসেম্বর ২০, ২০১৫ at ৩:৩০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মুমিন ভাই,
অভিজ্ঞতার কাহিনী লিখতে বলেছেন। শুনে ভাল লাগলো। কিন্তু সদালাপ সম্ভবত আমার লেখা ছাপাবেনা। তাই ইচ্ছে হয় না। তবে মরক্ক বিষয়ে একটি ছোট অভিজ্ঞতা আপনার সাথে শেয়ার করতে চাই।
ঐ যে বল্লাম, অনেক লম্বা গল্প। লিখে শেষ হয় না। তারপরও একটু বলি- মারাক্কেশ থেকে যেদিন ফিরে যাব রাবাতে তার আগের রাতের কথা। চাঁদনী পসর রাত, ঝলমলে চাঁদ। আমরা যে হোটেলে উঠেছি সেই হোটেলের 'বেল বয়' মানে রুম এটেন্ডেন্ট ছেলেটা। মারাত্মক বয়সের, ২০/২৫ হবে। নাম আবদেল রহমান। খুব করে ধরেছে তার সাথে কাছে একটা 'নাইট মার্কেট' এ যেতেই হবে। ওখানে নাকি অনেক মজা হয়। গান/বাজনা, নাটক, ম্যাজিক, খাবারের দোকান এসব। সারা রাত খোলা। তো খালার অনুমতি নিয়ে ওর সাথে গেলাম, এমদম কাছে, তাই। রাত ঠিক ১০টা। আমি আর আবদেল। বের হলাম। ঠিকিতো!! যেয়ে দেখি বিশাল মাঠে গমগমে নাইট মার্কেট। আলোক ঝর্ণাধারা। যেন আমাদের বৈশাখী মেলার উৎসব। ওদের ঢোল, ঢক্কর, বাজনা, হারমিনিয়াম। খুশিতে আমি আত্মহারা। ঝলমলে সব দোকান, এ দোকান, সে দোকান ঘুড়ে ঘুড়ে দেখছি। কোথাও পন্য পরসা, কোথাও গান বাজনা, কোথাও হাসি কৌতুক আবার কোথাও জিভে জল আসা খাবারের দোকান। এরমধ্যে হটাৎ আবদেল হারিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর খুঁজে পেলাম। ও আসলে আমার জন্য আইসক্রীম কিনতে গিয়েছিল। যাক, ছোটে খাটো কিছু কেনাকাটার পর এখন খাবের পালা। দারুন সব খাবার। হাটাহাটিতে খিদেও পেয়েছে বেশ। আমারা যেমন ছাগলের মাথাটা কেটে মগজটাকে আলাদা রান্না করি। ওরা তা করে না। মাথাটাকেই কেমন করে যেন রান্না করে আস্ত পরিবেশ করে। ছুড়ি/চামচ দিয়ে কেটে কেটে খেতে হয়। আহ! কি নরম মাথার মাংশ আর মগজ। এ খাবারটার নাম যে কি মনে করতে পারছি না। আপনি খেয়েছেন নিশ্চয়। খাবার শেষ করে আবার টইটই(ঘুড়াঘুড়ি), এটা ধরি, ওটা কিনি, গানের আসর, হাসি, ঠাট্টা………… এর কোন শেষ নেই। আসলেই শেষ হত না- যদি না হটাৎ ব্যাগ থেকে সেলফোন বেড় করে দিখি খালার ঠিক ৮ টা মিসকল। ফোনটা সাইলেন মোডে ছিল। আর কোন কথা নেই, আবদেলের হাত ধরে বল্লাল "খাইসে আমারে" চল তারাতারি চল। আবদেল ফরাসী ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারে। আর আমি কানাডার মনট্রিয়ালে আছি বলে ফ্রেন্চ ভাষাতে আমার কোন সমস্যা নেই। খালাকে ফোন ব্যাক করে আসস্ত করলাম। ব্যাক টু হোটেল। ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ঠিক ৩টা। সময় কি ভাবে যায়! চিন্তা করা যায়? পরদিন দুপুরে মারাক্কাশ থেকে রাবাত, দুদিন পর রাবাত থেকে সোজা মনট্রিয়াল, কানাডা।
ফিরে এলাম কানাডা। পাছে ফেলে এলাম মরক্কর সুদর্শন, লাজুক, নিঃস্বার্থ, অকৃতিম, উদার এক দরিদ্র বন্ধু আবদেল কে। এক রাতের বন্ধু। পরাণের বন্ধু।
আবদেল নেই। কোথায় আছে! কেমন আছে! জানিনা। কিন্তু মেলা থেকে তার কিনে দেয়া ঘড়িটি এখনো স্ব-যত্নে আমার কাছে আছে। এটুকুই আমার সুখ।
ধন্যবাদ মুনিম ভাই।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫ at ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ বোন Husneara আমার নাম মুমিন নয় মুনিম মুনিম সিদ্দিকী,
আপনার স্মৃতিচারণ পড়েছি। আমার হৃদয় থেকে লেখাটি এসেছে তা লেখার প্রতিছত্রে ফুটে উঠেছে। আপনার লেখার হাত আছে , আপনি খুব ভালো লেখেন। আশাকরি লেখে যাবেন। সদালাপে লেখা পাঠান আমি আমান ভাইয়ের সাথে মেলে অনুরোধ করবো লেখা সাহিত্য বিভাগে পেকাশের জন্য। ধন্যবাদ।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫ at ৪:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একটি কথা ভাবছি, আপনার খালা একা একা বেল বয়ের সাথে ঘুরতে দিলেন কেমন করে? কেমন যেন অসম্ভব অসম্ভব লাগছে। এই তো সনাতন বাঙ্গালী চেতনা ধারণ করছেনা।
Husneara
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫ at ১১:৪৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম ভাই,
খুব ভাল প্রশ্নের অবতারনা বরলেন। এটা নিয়ে অনেক কথা, বিতর্ক রাত/দিন চলতে পারে। পত্রিকায় আমার "লেখা-লেখি" মূলত এসব বিষয় নিয়েই। তবে আমি আপনার সাথে সে বির্তকে আপাতত যাছ্ছি না। 'মরক্কোর রোজনামচা' পোষ্টের বিষয়বস্তু সেটি নয়।
আমি শুধু ছোট্ট করে বলতে চাই- আজকের এডভান্সড গ্লোবে বদ্দি আমলের শনাতনি বাঙালি মুসলিম ধ্যান ধারনা কুক্ষিগত করে বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। সব কিছুতে নারী-পুরুষ বিভাজন/যৌনতা দেখলে হবে না। এর বাইরেও যে মানুষে-মানুষে একটি সুন্দর সম্পর্ক হতে পারে তা আমরা ভুলে যাই। তারচেয়ে বড় কথা ৭ শতকী আরব মরুভুমির ইসলাম পরবর্তি তথাকথিত 'মাহারাম' যুগ-প্রথা আর নেই। ঠিক কিনা?
এখন আমার কথায় আসি- বয়সের দিক দিয়ে আমি আর ছোট খালার খুব পার্থক্য না হলেও আমরা দুজন বন্ধুর মতই। দীর্ঘ দিন উত্তর আমেরিকায় আছি। শুধু মরক্ক কেন! একা একা আমি পৃথিবীর কত দেশ ভ্রমন করেছি। কোন সমস্যা হয় নি তো। মানুষের(নারী-পুরুষ) সাথে একান্ত ভাবে না মিশলে মানুষ চিনবেন কি করে?? ধন্যবাদ।
মুনিম সিদ্দিকী
ডিসেম্বর ২২, ২০১৫ at ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি আপনার জীবন কি ভাবে পরিচালিত করবেন তা আপনার ব্যক্তিগত বিষয় বলেই আমি বিশ্বাস করি। ৭ শতকিয় চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকলেও আমি জানি আপনার কৃত কর্মের জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন আমি নই। তাই আপনাকে বাগড়া দেবার আমার কোন ইচ্ছা নেই।
তবে আপনি যা বললেন তা ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম নিয়ে সমাজ বদ্ধ মানুষ চলতে পারেনা। আর নারী পুরুষের এই ধরণের মিলামিশার এই চিন্তা শুধু ৭শতকিয় মূল্যবোধের অন্তরায় নয়, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশীদের মূল্যবোধের অন্তুরায়ও বটে।
যাক আমার উদ্দেশ্য তাই নয়। আমার উদ্দেশ্য সদালাপে আপনার আইডেন্টিটি ক্রাইসিস আছে। আপনার কথাতে বুঝা যাচ্ছে আপনি আপনার আদর্শকে মানুষের কাছে পৌছে দিতেই লেখা লেখি করে থাকেন। তাহলে আসুন আপনার পরিচয় সংকট দূর করেদিন। সদালাপের গর্বিত সদস্য হয়ে আপনার লেখা লেখি চালিয়ে যান।
ধন্যবাদ।