«

»

Mar ১০

তথাকথিত “আহলে কুরানদের” (যারা শুধু কুরানকে মানে এবং হাদিসকে অস্বীকার করে) ভণ্ডামির জবাব । পর্ব ২

“আহলে কুরানদের” কুরআনের কিছু আয়াতের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভ্রান্ত ও অপব্যাখার জবাবঃ

77:50

১। “এখন কোন হাদিস তারা এরপর বিশ্বাস স্থাপন করবে?” (সূরা আল মুরসালাত ৭৭ আয়াত ৫০)

45:6

“এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে” ( সূরা আল জাসিয়া ৪৫ আয়াত ৬)

“আহলে কুরানরা” এই আয়াত দারা প্রমান করতে চায় যে হাদিস মানার কোন দরকার নেই। যে কেউ এই আয়াত পড়ার পর মনে করতে পারে যে কুরআন ছাড়া আর কোন হাদিসের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না । আপাত দৃষ্টিতে আয়াতটিও এমনি ইঙ্গিত বহন করে ! কিন্তু আসলেই কি তাই? আসুন বিষয়টি খোলাসা করা যাক । প্রথমতঃ কুরানিরা এই আয়াতটির বঙ্গানুবাদ করার সময় এই আয়াতটিতে হাদিস শব্দটিকে হাদিস হিসাবেই বঙ্গানুবাদ করে, এটাকে তারা বাংলায় অনুবাদ করেনা যাতে করে পাঠকদের মনে হয় যে আসলেই তো কুরআনেই বলা আছে যে হাদিস মানা যাবে না! এটা হয় তাদের বুঝার ভুল অথবা প্রতারণা । কারন আরবিতে  হাদিস শব্দটির মানে হল যেকোনো বক্তৃতা,  কথাবার্তা, বাক্য, বিবরণ, ইত্তাদি । কিন্তু হাদিস শব্দটি যখন মুহাম্মাদ(সঃ) এর জন্য ব্যাবহার করা হয় তখন এর দ্বারা তার কর্মপদ্ধতি, কথা, সম্মতি এবং অসম্মতিকে বুঝানো হয় । এখন, আমরা যদি এই আয়াতে হাদিসের মানে করি  কথা এর মানে দাড়ায়- এখন কোন কথায় তারা এরপর বিশ্বাস স্থাপন করবে”? অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থে তার মানে হল কুরআন ছাড়া আর কোন কথায় বিশ্বাস করা যাবে না । সুতরাং কুরানিদের বোঝ অনুযায়ী তাদের  কথার উপরও বিশ্বাস স্থাপন করা যাবেনা!!! দুনিয়ার কারও কথার প্রতিই বিশ্বাস স্থাপন করা যাবেনা । আমাদের মা-বাবা, ভাই বোন, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, পাড়াপ্রতিবেশি করোর কোন কথাই বিশ্বাস করা যাবে না । কিন্তু কুরানিরা প্রতিদিনই কারও না কারও কথার উপর বিশ্বাস করে । তার মানে তাদের বোঝ অনুযায়ী তারা আসলে কুরআনের এই আয়াত সঠিক ভাবে মানে না!!! এবার আসুন দেখি আল্লাহ আসলেই কি আমাদেরকে কুরআন ছাড়া অন্য কারও কথা বিশ্বাস করতে না করছেন? প্রথমতঃ যেকোনো বই সঠিক ভাবে বুঝতে হলে সেই বইয়ের কনট্যাক্স (context) বা এর প্রাসংগিকতা জানতে হবে, অর্থাৎ এর background বা প্রেক্ষাপট জানতে হবে তানাহলে প্রকৃত অর্থ বুঝা যাবে না এবং ভুল ও অপব্যাখ্যা করা হবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কুরানিরা এবং ইসলামের যারা ভুলঅপব্যাখ্যা ব্যাখ্যা করতে চায় তারা এই প্রতারণার আশ্রয় নেয় । তারা কুরআনকে  অপ্রাসংগিকভাবে তুলে ধরে । অর্থাৎ তারা যে অর্থ করতে চায় কুরআনকে দিয়ে সেভাবেই অর্থ করায় । একটা ছোট উদাহরণ হল- আল্লাহ কুরআনে বলেছেন দুর্ভোগ সেইসব সালাত আদায়কারীদের জন্য  (সূরা মাউন ১০৭ আয়াত ৪)   সালাতের ধারে-কাছেও যেওনা (সূরা আন নিসা আয়াত ৪৩) আসলেই কি আল্লাহ আমাদেরকে সালাত আদায় করতে নিষেধ করছেন? অবশ্যই না । দুটি আয়াতেই দুটি অবস্থার কথা বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেটা বুঝার জন্য পুরো প্রসঙ্গটা পড়তে হবে । সাধারণত context বা প্রাসংগিকতা দুই ধরনেরঃ  ক) internal বা অভ্যন্তরীণ- অর্থাৎ যার অর্থ একটা আয়াত বা এর আগে বা পরে কি আছে তার উপর নির্ভর করে খ) external বা বাহ্যিক- অর্থাৎ এর প্রেক্ষাপট, কোথায়, কেন, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়াতটি নাযিল হয়েছে ইত্তাদি ।  কুরআনকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য এই দুই ধরনের context বা প্রাসংগিকতা জানা আবশ্যক । এটা শুধু কুরআনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, যেকোনো বই বুঝার জন্য এটা আবশ্যক  

এখন আসুন দেখি কুরআনের এই আয়াতে আল্লাহ কি বলছেন । এই আয়াতটি হল এই সুরার সর্বশেষ আয়াত । প্রসঙ্গতই এর আগে কি আছে তা জানাটা জরুরি । এই সুরাটির বিষয়বস্তু হল কিয়ামত ও আখেরাতকে প্রমাণ করা এবং এ সত্যকে অস্বীকার করলে কিংবা মেনে নিলে পরিণামের যেসব ফলাফল প্রকাশ পাবে সে বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন করে দেয়া। 

কুরআন ও মুহাম্মাদ(সঃ) কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে খবর দিচ্ছেন তা যে অবশ্যই হবে প্রথম সাতটি আয়াত বাতাসের ব্যবস্থাপনাকে তার সত্যতা ও বাস্তবতার সপক্ষে সাক্ষ্যী হিসেবে পেশ করা হয়েছে। এতে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে, যে অসীম ক্ষমতশালী সত্তা পৃথিবীতে এ বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা কায়েম করেছেন তাঁর শক্তি কিয়ামত সংঘটিত করতে অক্ষম হতে পারে না। আর যে স্পষ্ট যুক্তি ও কৌশল এ ব্যবস্থাপনার পেছনে কাজ করছে তাও প্রমাণ করে যে, আখেরাত অবশ্যই সংঘটিত হওয়া উচিত। কারণ পরম কুশলী স্রষ্টার কোন কাজই নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন হতে পারে না। আখেরাত যদি না থাকে তাহলে এর অর্থ হলো, এ গোটা বিশ্ব-জাহান একেবারেই উদ্দেশ্যহীন।

মক্কাবাসীরা বারবার মুহাম্মাদ(সঃ) কে বলতো যে, তুমি আমাদের যে কিয়ামতের ভয় দেখাচ্ছো তা এনে দেখাও। তাহলে আমরা তা মেনে নেব৮ থেকে ১৫ আয়াতে তাদের এ দাবীর এ বলে তার জবাব দেয়া হয়েছে যে, তা কোন খেলা বা তামাশার বস্তু নয় যে, যখনই কোন ঠাট্টাবাজ বা ভাঁড় তা দেখানোর দাবী করবে তখনই তা দেখিয়ে দেয়া হবে। সেটা তো মানব জাতি ও তার প্রতিটি সদস্যের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালার দিন। সে জন্য আল্লাহ তা'আলা একটি বিশেষ সময় ঠিক করে রেখেছেন। ঠিক সে সময়ই তা সংঘটিত হবে। আর যখন তা আসবে তখন এমন ভয়ানক রূপ নিয়ে আসবে যে, আজ যারা ঠাট্টা-বিদ্রুপের ভংগিতে তার দাবী করছে সে সময় তারা দিশেহারা ও অস্থির হয়ে পড়বে। তখন ঐসব রসূলগণের সাক্ষ্য অনুসারেই এদের মোকদ্দমার ফায়সালা হবে, যাদের দেয়া খবরকে এসব আল্লাহদ্রোহী আজ অত্যন্ত নিঃশঙ্কচিত্তে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।অতপর তারা নিজেরাই জানতে পারবে যে, কিভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের আয়োজন করেছে।

১৬ থেকে ৮ আয়াত পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে কিয়ামত ও আখেরাত সংঘটিত হওয়া এবং তার অনিবার্যতার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। এসব আয়াতে বলা হয়েছে যে, মানুষের নিজের ইতিহাস, তার জন্ম এবং যে পৃথিবীতে সে জীবন যাপন করেছে তার গঠন, আকৃতি ও বিন্যাস, সাক্ষ্য পেশ করছে যে, কিয়ামতের আসা এবং আখেরাত অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব এরপর ২৮থেকে ৪০ পর্যন্ত আয়াতে আখেরাত অস্বীকারকারীদের পরিণাম বর্ণনা করা হয়েছে।

৪১ থেকে ৪৫ আয়াত পর্যন্ত সেসব লোকের পরিণাম বর্ণনা করা হয়েছে, যারা আখেরাতের ওপর ঈমান এনে দুনিয়ায় থেকেই নিজেদের পরিণাম গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। তারা আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা, নৈতিক চরিত্র ও কাজ-কর্ম এবং নিজের জীবন ও কর্মের সমস্ত মন্দ দিক থেকে দূরে অবস্থান করেছে যা মানুষের দুনিয়ার আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করলেও পরিণামকে ধ্বংস করে।

থেকে ৪ আয়াত পর্যন্ত যারা আখেরাতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর বন্দেগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, দুনিয়ার এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে যত আমোদ-ফূর্তি করতে চাও, করে নাও। শেষ অবধি তোমাদের পরিণাম হবে অত্যন্ত ধ্বংসকর। (সুত্রঃ তাফহিমুল কুরআন)

সবশেষে, ৫০ নম্বর আয়াত দ্বারা বক্তব্যের সমাপ্তি টানা হয়েছে এই বলে যে,  এখন এ কুরআন ছাড়া আর কোন বাণী এমন হতে পারে যার ওপর এরা ঈমান আনবে? অর্থাৎ কুরআনের প্রতি ঈমান আন । সুরার পুরো প্রসঙ্গ থেকে এটা পরিষ্কার যে আল্লাহ কিয়ামত, আখেরাত, দোজখ বেহেশত ইত্তাদি বর্ণনা করার পর উপরোল্লিখিত এইসব বিষয়ের ব্যাপারে মানুষ জাতিকে প্রশ্ন করছেন আমার কথা বিশ্বাস না করলে আর কার কথায় বিশ্বাস করবে? যেহেতু আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা । এখানে কথা আরবিতে হাদিস শব্দটিকে আক্ষরিক অর্থে বা generalized/সার্বজনীন ভাবে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই । আলাহ এখানে কথা দ্বারা  বিশেষভাবে নির্দিষ্ট উপরেল্লিখিত বিষয়ের কথা বলেছেন । আক্ষরিক অর্থ করলে পৃথিবীর কারও কথাই বিশ্বাস করা যাবে না! ভেবে দেখুন তো আপনি যদি কারো কথা বিশ্বাস না করেন কেমন হবে । একটা ছোট উদাহরন দিয়ে এটা বুঝা সম্ভব । ধরুন একজন শিক্ষক তার ছাত্রদেরেকে বলছেন- তোমরা যদি আমার কথা না শোন তাহলে পরীক্ষায় ফেল করবে ।  অর্থাৎ আমার কথা শোন । এটার মানে কি ছাত্ররা আর কারো কথা শুনতে পারবে না?

 

২। “আহলে কুরানদের (যারা শুধু কুরানকে মানে এবং হাদিসকে অস্বীকার করে) জন্য কুরআন থেকেই কমপক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রমাণ ।

2:238

 “সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। বিনীতভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হও” (সূরা আল বাক্বারাহ ২ আয়াত ২৩৮)

প্রথমে আমরা জেনে নেই যে আরবি ভাষায়  বচন  তিন প্রকার যথাঃ ক) এক বচন খ) দ্বি-বচন অর্থাৎ শুধু দুটি সংখাকে বুঝায় এমন বচন এবং গ) বহু বচন অর্থাৎ তিন বা তিনের অধিক জিনিসকে বুঝায় এমন বচন। এবার আয়াতটির দিকে খুব ভাল করে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই  আল্লাহ এই আয়াতে নামাজের( الصَّلَوَات) আরবি শব্দটি বহু বচন ব্যাবহার করেছেন অর্থাৎ যেটা দ্বারা তিন বা তিনের অধিক ওয়াক্ত নামাযকে বুঝানো হয়েছে যার একবচন হল الصَّلاَةِ। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে  “সমস্ত নামাযের" দ্বারা এখানে আল্লাহ তিন বা তার অধিক নামাজের কথা বলছেন । এর পরের অংশ শুরুর আগে আল্লাহ সংযোজক অব্যয় পদ(conjunction) و ব্যাবহার করেছেন যার মানে হল “এবং” যেটা  অতিরিক্ত বা আলাদা আরেকটা বিষয় উল্লেখ করার আগে ব্যাবহার করা হয় । তারপর আল্লাহ বলছেন  “বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামায”  এই  “মধ্যবর্তী নামায” পূর্বোল্লিখিত الصَّلَوَاتِ  দ্বারা যে “সমস্ত নামায” সমূহকে বুঝানো হয়েছে তার থেকে স্বতন্ত্র বা  অতিরিক্ত ।  অর্থাৎ সমস্ত নামায এবং “মধ্যবর্তী নামায”  তথা এই “মধ্যবর্তী নামায” “সমস্ত নামাযের” মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না । আসা করি বিষয়টা পরিস্কার । এখন আসুন একটু অংক কষাকষি করি । আমরা জানি যে সম বা জোর সংখার কোন  মধ্যবর্তী সংখ্যা হয়না । মধ্যবর্তী সংখ্যা কেবল অসম বা বিজোড় সংখ্যার মধ্যে নির্ধারণ করা যায় । সুতরাং এই “মধ্যবর্তী নামায” নির্ধারণ করতে হলে নামাযের মোট সংখ্যা হতে হবে একটি বিজোড় সংখ্যা ।  الصَّلَوَات আরবি শব্দটি বহু বচন অর্থাৎ এটা দ্বারা কমপক্ষে তিন বা তিনের অধিক ওয়াক্ত নামাযের কথা বুঝানো হয়েছে । আমরা কি এই শব্দটাকে তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারিনা? না এটা সম্ভব নয়!!! কেন? কারন হল যদি তিন ধরি ১, ২, ৩ তাহলে “মধ্যবর্তী নামায” হবে ২ কিন্তু আল্লাহ এই “মধ্যবর্তী নামায” কে স্বতন্ত্র বা  অতিরিক্ত ভাবে উল্লেখ করেছেন এটা  “সমস্ত নামাযের” মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় । সুতরাং এই “মধ্যবর্তী নামায” কে বের করতে হলে আমাদেরকে পরবর্তী বিজোড় সংখ্যায় যেতে হবে আর সেটা হল ৫  অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৫ এবং “মধ্যবর্তী নামায” হল ৩ . তার মানে হল এই আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে নামাজ কমপক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত । এবং আল্লাহও আমাদের জন্য তার রাসুলের(সঃ) মাধ্যমে ফরজ নামাজকে পাঁচ ওয়াক্ত বেঁধে দিয়েছেন ।  এর বাইরে যে ইচ্ছা করে সে যত খুশি তত পড়তে পারবে ।  

 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আল্লাহ আমাদের জন্য নামাজ কয় ওয়াক্ত সেটা বের করার জন্য এত কঠিন পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলেননি । এটা শুধু এই পথভ্রষ্ট একদল “আহলে কুরান যুবকদের জন্য আমার সামান্য প্রচেষ্টা । আমি কুরআন থেকেই রাসুলের সুন্নাতকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছি । আল্লাহ আমাদের জন্য তার রাসু(সঃ) কে অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের জন্য দ্বীনকে সহজ করে দিয়েছেন । আসলে এদেরকে “আহলে কুরান বলাও ঠিকনা যেহেতু “আহলে কুরান মানে হল যারা কুরআনকে অনুসরণ করে কিন্তু এরা কুরআনকে প্রকৃত পক্ষে অনুসরণ করেনা । এরা নিজেরদের মনস্কামনা চরিতার্থ করার জন্য সুবিধামত কুরআনের কয়েকটি আয়াতকে মানে । এরা কুরআনের কিছু অংশ মানে আর কিছু অংশকে মানে না । এদের কথাই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন এভাবে “ তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন” (সূরা আল বাক্বারাহ ২ আয়াত ৮৫)  আল্লাহ আমাদেরকে তার দ্বীনকে সথিকভাবে বুঝার এবং মানার তাওফিক দান করুক । আমিন ।  

২ comments

  1. 1

    অতিরিক্ত একজন

    সমস্যা হলো, এসব আহলে কুরআন নামদ্বারীদের কারণে অনেক সৎ মানুষও বিপথে যাবে। কারণ, তারা আরবী সম্পর্কে এতো ভালো জানে না। ফলে তাদের যা বুঝানো হয়, তারা তাই মেনে নিতে বাধ্য থাকে।

  2. 2

    মুহাম্মদ হাসান

    জি, ভাই । সে জন্যই ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা সবার উপর ফরজ করা হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.