এরশাদ কাকুরে যদি ‘বিশ্ববেহায়া’ উপাধি দেওয়া হয় তাহলে এই দুই মহিলার উপর উপাধি চলে আসে ‘মহাবিশ্বের মহাবেহায়া’। ৯০-এ নুর হোসেন যাকে গুলি করে হত্যা করেছে স্বৈরশাসক TSC-র সামনে। নূর হোসেন জীবন দিয়েছেন গণতন্ত্র’-কে পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আর পরবর্তীতে দেখেছি, সেই স্বৈরাচার কাকুরে নিয়া এই দুই মহিলার টানাটানি দলে ভেরানোর জন্য; উদ্দেশ্যেঃ শুধু ক্ষমতায় আসার জন্য। নুর হোসেনের জীবনের কি মূল্য দেশ ও জাতি দিয়েছে? অনুমান করি, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা মানুষরুপী ভূত, আর ভুতদের মানবিকতা এবং নৈতিকতা বলে কিছু থাকে না, তাই এমনটা হচ্ছে। কাকুরে নিয়া টানাটানির বিষয়ের ব্যপারে ৯০-র স্বৈরাচার বিরুধী গণ আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিল, তারাই এর উত্তর ভাল দিতে পারবেন বলে ধারণা করি।
আমাদের এই বাংলাদেশে ভূতের বসাবাস আছে এর প্রমান আগেও পেয়েছি এখনও পাচ্ছি। বিবর্তন যে হয় তার হাতেনাতে প্রমান এখন আছে বাংলাদেশ ব্যাংক নামক সংস্থায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে গরু বা ছাগল রাখলে কিছুদিন পর তা হাতি বা ডাইনোসর প্রানীতে বিবর্তিত হয়ে যায়। প্রমান এখানে। RCBC ব্যাংকটি অত্যাধুনিক কাঠামোতে তৈরি। বেশ উচু এবং পুরো বিল্ডিংটি সবুজ রঙের গ্লাস দিয়ে ঘেরা। ম্যানিলার মাকাতিতে RCBC ব্যাংকটি দেখতে চমৎকার লাগে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি হওয়ার ৮০০ মিলিয়ন ডলার এখনও কোন হাদিস নেই। হাদিস নেই দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ৭/৮টি ব্যাংকের। দেউলিয়া হওয়ার কারন, কে করেছে, কিভাবে হয়েছে…… তার হাদিস নেই। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয়। বঙ্গবন্ধু দুঃখ করে বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেলাম চোরের খনি। দুুই/চারটি ঘটনা হয়ত মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি। কত লক্ষ-কোটি ঘটনা লুকায়িত আছে যা জানা যাবে এবং প্রকাশ পাবে শুধু কিয়ামতের ময়দানে। ভোটে নির্বাচিত মানুষেরা তারা যা খুশী তাই করতে পারেন। জনগণের মধ্যে যারে খুশী গায়েব/গুম করে দিতে পারেন, খুন করতে পারেন, নির্যাতন করতে পারেন, সুযোগ-সুবিধা দিতে পারেন, জনগণের টাকায় সিঙ্গাপুর/লন্ডনে গিয়ে সর্দিকাশির চিকিৎসা দিতে পারেন, ওমরা-হজ্জ্ব করতে পারেন, বিদেশ ভ্রমন করেতে পারেন, বিলাসবহুল গাড়ি কিনেন, গভর্নরের সামনে টাকা পাচার হয় আর সে রিজাইন দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারেন, জনগণের টাকা যে যেভাবে মাইরা ফ্রি স্টাইলে খাচ্ছে তা শেয়ার বাজার, ব্যাংক, উন্নয়ন, ঘুষ, দুর্নীতি,…… আমরাই তো ভোটের মাধ্যমে তাদের এই ক্ষমতা দিয়েছি।
ম্যানিলার মাকাতির একাংশ
সংবিধানের ৭ক এর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা আছে, "সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস পরাহত করলে সে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আপরাধে দোষী হইবে"।– বেশ উত্তম কথা। আমরা স্বাগতম জানাই এবং মান্য করি। কিন্তু সংবিধান কি দেশের সকল মানুষের জন্য যথাপোযুক্ত ও মানানসই হয়েছে? তাহলে কেন দেশের নিরীহ মানুষদের এত বড় শাস্তির বিধান করা হল? অথচ দরিদ্রযুক্ত এই দেশ ও জাতির সংবিধানে থাকা উচিত ছিল, রাস্ট্রের সকল ক্ষমতার চেয়ারগুলোর জনগণের কাছে স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং তা রাস্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে সরকারী পিয়ণ/ঝাড়ুদার পর্যন্ত। এটা সংবিধানে থাকার দরকার ছিল সবচেয়ে বেশী জরুরী। "জবাবদিহিতা" প্রতিষ্ঠিত না হলে এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই তা সংবিধান রচয়িতাদের বুঝা উচিত ছিল। "জবাবদিহিতা" প্রতিষ্ঠিত না হলে 'সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ' প্রতিষ্ঠা হবে না, জনগণ অধিকার আদায়, দূর্নীতি সহ কোন কিছুই বন্ধ হবে না। শাসকশ্রেনীকে ভোগবিলাসিতা থেকে দূরে থাকা আবশ্যিক। এই দেশ সুইডেন বা নরওয়ে বা সুইজারল্যান্ড নয়, এই দেশের হিসাব এই দেশের প্রেক্ষিতে করতে হবে। যদি অযোগ্য শাসক ক্ষমতায় আরোহণ করেন তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কি হবে তা সংবিধানে নেই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয়ঃ একজন দেশপ্রধান বা রাস্ট্রপ্রধানের মানবিকতা ও নৈতিকতার কি কোয়ালিটি অর্জন করতে হয় তা সংবিধানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল এবং সেই মোতাবেক দেশপ্রধান বা রাস্ট্রনায়ক নিজের কোয়ালিটি জনগণের কাছে প্রমাণ করে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা। বিচার বিভাগ, সংসদ, প্রশাসন আলাদা তিনটি। এরা কতটুকু স্বাধীন? রাস্ট্র ধর্ম ইসলাম হলে সংবিধানের অনেক কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দেয়, তা নিয়ে মন্তব্য করা দুস্কর। কখন আবার এরেস্ট করে জেলে ঢুকায় এবং সাথে রিমান্ডে নিয়া পিটানী শুরু করে- সেই ভয়ে থাকি। (এমনিতেই খুব দুর্বল মানুষ আমি। রিমান্ডে চার/পাচ টা খাইলেই দুনিয়া থেকে আউট হয়ে যাব)।
মওলানা ভাসানী সাহেব, দেশপ্রধান হিসেবে আপনাকে এই দেশ ও জাতির দরকার ছিল। প্রবল স্রোতের মধ্য খরখোটা ধরে দেশ ও জাতিকে নিয়ে একটু বেঁচে থাকার চেষ্টা। অত্যাধিক জনসংখ্যায় এই দেশ কিছু দিন পর, সুপার নোভা নয়, হাইপার নোভায় বিস্ফোরণে বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে। এখনই এই দেশের মানুষের জীবনের মূল্য ইদুর-বিড়ালের মত, আর কিছু দিন পর আরো ভয়ানক হতে যাচ্ছে। যুগের পর যুগ এই দেশে কতক মূর্খরা ক্ষমতার চেয়ারে বসে আছে, তারা না জানে দেশের মুল সমস্যা, না জানে ইহার প্রতিকার। আমরা জনগণ বড় অসহায়। অদৃশ্য আগুনে দেশের মানুষের অলিন্দ-নিলয় পুড়ছে।

মোঃ তাজুল ইসলাম
জুলাই ২০, ২০১৮ at ৮:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"দেশপ্রেম" একজনের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে কি ধরণের কোয়ালিটি এবং জ্ঞান অর্জন করতে হয়? নিজ কর্ম ও চিন্তাশক্তিকে কোন প্লাটফর্মে সেট করতে হয়? -- কোন রাজনীতিবিদ বা পুলিশ বা সচিব বা সরকারী কর্মকর্তা আছেন যিনি বলে দিতে পারেন?
আমরা জনগণ শিখি এবং জানি।
ঠ্যাং ছেড়ে লাঠি ধরা বাঙালির বৈশিষ্ট্য