"আমরা হেযবুত তওহীদ মনে করি (প্রকৃতপক্ষে জানি) আমরা সেরাতুল মোস্তাকীমে আছি এবং মানবজাতিকে সেরাতুল মোস্তাকীমে আহ্বান করছি।"
শ্রদ্ধেয় ভাই ও বোনেরা,
উপরে স্টেটমেন্ট-টি হেজবুত তওহীদের একজন কর্মীর যিনি সদালপে লিখে যাচ্ছেন এবং এই দলের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এই মস্তিষ্ক বিকৃত ব্যক্তিটি মনগড়া যা খুশী তাই বলে যাচ্ছে সদালাপে এসে। অনেক দিন যাবত এই কাজটিি করছে। এক আল্লাহ্ ছাড়া কাউ জানে না কে সঠিক পথে আছে? কে হেদায়েত প্রাপ্ত? আর কে সিরাতুল মুস্তাকীমের মধ্যে আছে? আর এই মস্তিষ্ক বিকৃত নিজেকে সঠিক পথের দাবী করছে, নিজের নেতা পন্নী এবং নিজ দলের সবাই সিরাতুল মুস্তাকীমে আছে বলে দাবী করছে। ব্রেইনওয়াশ এবং অন্তরওয়াশ হয় তখন, যখন কারো ভিতরে মোহ(আকর্ষণ) এবং কামনা একসাথে বারুদের ন্যায় হঠাৎ জ্বলে উঠে। যারা এই জ্বালিনীর কাজে নিয়োজিত তারা অবশ্যই মহা ধুরন্ধর। তারা তরুণদের টার্গেট করে কারন, তরুণদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ অন্য যে কোন বয়সীদের তুলনায়। তরুণদের আবেগপ্রবণ বেশী আর এই দুর্বলতাকে তারা পুঁজি করে। তাদের বাচনভঙ্গি এবং কথার ধরণ তরুনদের ভিতরের সত্ত্বার আবেগ কে মিথ্যা লোভ, বেহেশতের আরাম-আয়েশ ও হুরের প্রলোভনে আবদ্ধ করে ফেলে। কোরানের অপব্যাখ্যা এবং ভুল বোঝিয়ে তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী তরুণ ও তরুনীদের ব্রেইন ও অন্তর ওয়াশ করে তাদের টার্গেট তৈরি করে।
আমাদের দেশে উপরের তরিকা ছাড়াও ব্রেইনওয়াশ ও অন্তরওয়াশ তৈরি করার সহজ আরেকটি পদ্ধতি হল টাকা। এই দেশের মানুষ সিংহভাগ দরিদ্র। দরিদ্রতা ব্রেইন ও অন্তর ওয়াশের মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করে এই দেশে। টাকার বিনিময়ে, চাকুরী দিয়ে, সুযোগ-সুবিধা দিয়ে শুধু টার্গেট ব্যক্তিই নয়, প্রয়োজনে টার্গেট ব্যক্তির পুরো পরিবারকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা যায়। এম আহমেদ ভাই এবং মজলুম ভাই তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পরও তারা প্রচার কার্যাদি চালিয়ে যাচ্ছেন এই সাইটে। "ইসলামের নামে অন্ধ বিশ্বাস" লিখায় দেখিয়েছি একজন পীর বা ধর্মের শিক্ষক হতে গেলে কি কোয়ালিটিতে উর্ত্তীর্ণ হতে হয়। যে যার মত ইচ্ছা অনুযায়ী সায়েদাবাদী, দেওয়ানবাগী, চরমোনাই…. এদের মত পীর/সংস্কারক দাবী করলে তা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়। আর পন্নী এন্ড গ্যাংরা মোজেজা বলে যা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তা শুধু বিনোদনই দেয়।
বিস্মিত হই কিভাবে এই সকল মুর্খ এবং বেকুবেরা সদালাপে এসে হেজবুত তওহীদের প্রচার করে। আরো বিস্মিত হই, আল্লাহ্-কে নূন্যতম ভয় তাদের নেই।
সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে তার আপন গুনে। পন্নী এন্ড চেলাদের লজ্জ্বাশরম নেই। হেজবুত তওহীদ কিছুদিন পর এমনিতেই বিলুপ্তি হবে। পন্নীর ব্যক্তিগত সম্পদ যতদিন থাকবে ততদিন কিছু আস্ফালন দেখব এরপর নিজে থেকে অস্থিত্বহীন হবে।

মোহাম্মদ আসাদ আলী
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ at ১২:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার লেখাটি পড়লাম। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষে পরিপূর্ণ এবং অন্তসারশূন্য অযৌক্তিক প্রলাপমাত্র। আমার যে মন্তব্যটি থেকে কোটেশন নেওয়া হয়েছে তার মূলভাব বুঝতে পাঠকদেরকে পুরো মন্তব্যটি পড়তে হবে। আবু সাঈদ ভাইয়ের এক প্রশ্নের জবাবে আমার মন্তব্যটি ছিল এই যে-
‘‘ আবু সাঈদ ভাই, সহজ-সরলভাবে একটি চিন্তা করা যাক। সেরাতুল মোস্তাকীম নিশ্চয়ই হাজার হাজার হবে না; হবে মাত্র একটা। জান্নাতের রাস্তা হবে একটা। কিন্তু আমরা রাস্তা বানিয়েছি হাজার হাজার। কোনোটা সন্ত্রাসবাদী রাস্তা, কোনোটা সুফিবাদী রাস্তা, কোনোটা গণতান্ত্রিক রাস্তা, কোনোটা সমাজতান্ত্রিক রাস্তা, কোনোটা রাজতান্ত্রিক রাস্তা ইত্যাদি। আবার এই রাস্তাগুলোর মধ্যে গড়ে তুলেছি হাজারো অলি-গলি। একেকভাগ একেক অলিতে গলিতে ঢুকে আছি। এখন যেহেতু প্রত্যেকের রাস্তা আলাদা, প্রত্যেকের দিক ভিন্ন ভিন্ন, কাজেই সবাই সেরাতুল মোস্তাকীমে আছে, সবাই সঠিক পথে আছে সে কথা বলার সুযোগ থাকল কি? বড়জোড় এর মধ্যে একটি রাস্তা সঠিক হতে পারে এবং কোনো রাস্তা সঠিক হবার অর্থই হচ্ছে ঐটা বাদে অন্যান্য যত রাস্তা অর্থাৎ ফেরকা, মাজহাব, দল, উপদল, তরিকা ইত্যাদি আছে সবগুলো বেঠিক, পথভ্রষ্টতা।
আমরা হেযবুত তওহীদ মনে করি (প্রকৃতপক্ষে জানি) আমরা সেরাতুল মোস্তাকীমে আছি এবং মানবজাতিকে সেরাতুল মোস্তাকীমে আহ্বান করছি। এই যে নিজেদের হেদায়েতের ব্যাপারে অস্পষ্ট ধারণা না রাখা, সন্দেহ না রাখা, এটার মধ্যে খারাপ কিছু আছে কি? সন্দেহ থাকলে সেই রাস্তায় আমি উঠব কেন? যেটাতে নিশ্চিত থাকব যে, এই রাস্তা আমাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে আমি সেই রাস্তাতেই উঠব। কেন আমাকে সন্দেহগ্রস্ত দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে থাকতে হবে? আল্লাহ কাকে সঠিক রাস্তা দেখাবেন আর কাকে দেখাবেন না সেইটা আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত বিষয় অবশ্যই, কিন্তু যাকে সঠিক রাস্তা দেখিয়েছেন তিনি তো তার রাস্তাকে সঠিক বলতেই পারেন এবং কেবল পারেন নয়, বলতেই হবে। এটা ঈমানের অংশ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ at ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
— আপনি বলছেন (ব্রাকেটে) জানেন যে আপনারা সেরাতুল মুস্তাকীমে আছেন। এইটা কিভাবে জানলেন?
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ at ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমরা জানি সেরাতুল মোস্তাকীমে আছি কারণ সেরাতুল মোস্তাকীম বা সহজ-সরল রাস্তাটি আল্লাহ আমাদেরকে অপার অনুগ্রহে দেখিয়েছেন। সেরাতুল মোস্তাকীম হচ্ছে ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে হুকুমদাতা হিসেবে স্বীকার না করা’। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে- সমস্ত পৃথিবীতেই এখন আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে না কাউকে হুকুমদাতা হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি আমরা মুসলমানরাও আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের হুকুমদাতা হিসেবে আল্লাহকে গ্রহণ করলেও জাতীয় জীবনে আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসেবে মানছি না, সেরাতুল মোস্তাকীম হারিয়ে কার্যত শিরক করছি।
বিশ্বনবী একদিন সাহাবীদের সামনে একটি সোজা লাইন টানলেন, তারপর বললেন, এই হচ্ছে সহজ সরল পথ, সেরাতুল মোস্তাকীম। তারপর সেই সরলরেখা থেকে ডান দিকে কতকগুলো ও বাম দিকে কতকগুলো রেখা টেনে বললেন এইগুলো সেই সব পথ যেগুলোর দিকে শয়তান তোমাদের ডাকতে থাকবে। এই বলে তিনি কোর’আন থেকে সেই আয়াত পড়লেন যেটায় আল্লাহ বলছেন- নিশ্চয়ই এই হচ্ছে আমার সহজ সরল পথ। কাজেই এই পথে চল এবং থাক। অন্য কোনো পথে (মহানবী (দ.) ডাইনে বায়ে যে লাইনগুলো টানলেন সেগুলি) যেও না, গেলে তোমরা আমার পথ থেকে বিচ্যুত, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তিনি (আল্লাহ) তোমাদের আদেশ করছেন যাতে তোমরা অন্যায় থেকে বেঁচে ন্যায়ে থাকতে পারো।’ (হাদিস- আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রা.) থেকে, আহমদ, নিসায়ী- মেশকাত)
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আল্লাহর রসুল আমাদেরকে যে সহজ-সরল পথে (তওহীদে) উঠিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন সেই সহজ-সরল পথে আমরা খুব বেশিদিন থাকতে পারি নি। আকীদার বিচ্যুতির কারণে দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি ও তার ফলে অনৈক্য করতে করতে এই জাতি সত্যের মহাসড়ক থেকে বহু আগেই বিচ্যুত হয়ে মিথ্যার অন্ধকার অলিগলিতে ঢুকে পড়েছে। শয়তান বহু শতাব্দী আগেই আমাদেরকে সেরাতুল মোস্তাকীম ভুলিয়ে দিয়ে ডাইনে-বাঁয়ের লাইনগুলোতে ছিটকে দিয়েছে। আজ এক আল্লাহ, এক রসুল, এক কিতাবে বিশ্বাসী অখণ্ড উম্মতে মোহাম্মদী হাজার হাজার খণ্ডে বিভক্ত এবং এই প্রত্যেকটি খণ্ডের কাছে ইসলাম ভিন্ন ভিন্ন রকম। হাজার হাজার পীর রয়েছেন, তাদের বহু প্রকারের তরিকা। একটির সাথে আরেকটির আকীদাগত, পদ্ধতিগত তফাৎ তো আছেই, পোশাক আশাক খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত আলাদা। হাজার হাজার রাজনৈতিক দল রয়েছে, একটির সাথে আরেকটির আদর্শিক দূরত্ব আকাশ পাতাল। ধর্মভিত্তিক দলের অভাব নেই, যাদের একটির সাথে আরেকটির আকীদা মেলে না। এক আলেম অপর আলেমকে কাফের ফতোয়া দেন, এক দল অপর দলকে গোমরাহ, মুরতাদ, অমুসলিম ঘোষণা দেয়। এছাড়াও মাদ্রাসাভিত্তিক, সংস্থাভিত্তিক, মসজিদভিত্তিক, উদ্দেশ্যভিত্তিক মতপার্থক্য ও বিভক্তির কোনো শেষ নেই।
এমতাবস্থায় আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে সেরাতুল মোস্তাকীম বোঝার তওফিক দান করেছেন।আমাদেরকে হেদায়াহ দান করেছেন। আমরা জেনেছি আল্লাহর সত্যদ্বীন কেমন ছিল। আরও জেনেছি এই জাতির মুক্তির উপায় কী। ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হেযবুত তওহীদ মানুষকে পুনরায় সমষ্টিগত জীবনে আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসেবে স্বীকার ও বিশ্বাস করে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং সকল দল-মত-ফেরকা-মাজহাবের মানুষকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে পুনরায় ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
-সেই কথাটাই তো জানতে চেয়েছি। আল্লাহ কিভাবে "হেজবুত তাওহীদ"কে সরল পথটা দেখিয়েছেন। আমার জ্ঞান মতে আল্লাহ্ কোরান নাজিল করেছেন সিরাতুল মুস্তাকিম দেখানোর জন্যে -- যার শুরুতেই বলা হয়েছে -জালিকাল কিতাবুল রাইবা ফি, হুদাললিল মুস্তাকিম"। তাকওয়া ধারন করাই সিরাতুল মুস্তাকিম পাওয়ার পথ -- এই পথ তো সবার জন্যেই উন্তুক্ত।
যাই হোক -- দয়া করে কি জানাবেন যে কিভাবে আপনারা জানলেন সিরাতুল মুস্তাকীমের কথা -- যা অন্যরা জানে না।
মোঃ তাজুল ইসলাম
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ at ১০:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পন্নী তার গ্যাংকে অর্থ, চাকুরী, সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কি রকম ব্রেইনওয়াশ এবং অন্তরওয়াশ করেছিলেন তার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হেজবুত তওহীদের কর্মীর 1.1.1 কমেন্ট থেকে পরিস্কার। এই মস্তিষ্ক বিকৃত "সিরাতুল মুস্তাকীম"-এর অর্থ কি বলে??
দুনিয়া দূরে থাক, এই বাংলাদেশে মুসলিমদের মাধ্যে যে পরিমান মতবিরোধ এবং দলাদলি তা দেখলে মস্তিষ্ক কাজ করতে চায় না।
দুনিয়া ব্যপী কোরানের অসংখ্য ব্যাখ্যা গোত্র, দলাদলির সৃষ্টি করছে। যে যার মত ব্যাখ্যা করছে এবং মতবিরোধ বেড়ে চলছে। "ইসলামের নামে অন্ধবিশ্বাস" লিখায় জ্ঞানী সিনিয়র ভাইদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেছিলাম, দুনিয়াব্যপী একটি বিশুদ্ধ তফসীর রেখে বাকী সব তফসীর নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। এই সদালপের অনেক সিনিয়র ভাই অন্যান্য উন্নত দেশে স্থায়িভাবে বসবাস করছেন। তাঁরা কোন ইসলামিক সংস্থা কিংবা ইসলামিক স্কলারদের অবহিত করতে পারেন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নজর এবং সমাধান করার জন্য।
আল্লাহ্ দুনিয়ার সকল মুসলিম ভাইবোন-দের 'সিরাতুল মুস্তাকীম"-এর ভিতরে রাখুন। আমিন।