Published on: 18 November 2025
Archival location: 4 October 2025
তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে… -রজনীকান্ত সেন
মানুষের কালীন বিশ্বাস
মানুষ প্রাচীন কাল থেকে এই বিশ্ব জগতের স্রষ্টা ও মালিকের সাধনা করে আসছে: তাকে মনের মধ্যে খুঁজেছে, মনের বাইরে খুঁজেছে, সুখে-দুখে খুঁজেছে, আশা-আকাঙ্ক্ষায় খুঁজেছে, কাজে কর্মে খুঁজেছে। এই প্রভুর সাধনা, চিন্তা-চেতনা মানুষের মনের গহীন থেকে উৎসারিত হয়েছে, এবং তার জীবনকে ঘিরে রয়েছে। সকল ধর্মের মধ্যে এই বিশ্বাসের স্থানটি খুঁজে পাওয়া যায়; সকল ধরণের বক্তব্য অতিক্রম করে এক খোদার ধারণাও পাওয়া যায়।
কিন্তু মানুষের এই চলার পথে রয়েছে অনেক করুণ কাহিনী, অনেক করুণ কারণও: তারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করেছে, অপরের সাথেও করেছে। তারা এই ভব-সংসারের নানান টানা-পোড়নে নানান ভূখণ্ডে ছড়িয়েছে, নানান আচার-আচরণ ও প্রথায় বিভক্ত হয়েছে। এতে যেমন রয়েছে দ্বন্দ্ব তেমনিই সংহতি: এই দ্বিত্বরূপ তার প্রকৃতির অংশ। তারপর, বেঁচে থাকা ও নিরাপত্তার জন্য নিয়ম-নীতি তৈরি করেছে, কিন্তু সর্বত্র রয়েছে প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য: তাদের সহজাত স্বার্থ, অস্তিত্বের টানা-টানি, শান্তি-অশান্তি, যুদ্ধ-সন্ধি ইত্যাদি। আবার সকল কিছুর মধ্যে তারা খোদাকে জড়িয়েছে: তাকে খুঁজেছে, তার সাহায্য প্রার্থনা করেছে। এজন্য, করুণ হলেও সত্য যে সকলের খোদা সকল পক্ষের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে –কেননা তিনি সকলের আষ্টেপৃষ্ঠে, মনের গভীর পর্যন্ত। পরের গল্প হল, লক্ষ-কোটি ভুখা প্রাণী নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে, অপর লক্ষ-কোটি প্রাণ গিলে নিজেদের মধ্যে বিলীন করেছে, আর এভাবে, বলতে পারেন, এই অস্তিত্বের শক্তি (existential energy) স্থানান্তরিত হয়েছে।
পার্থক্য ও অভিন্নতা
যদিও ইতিহাসের অনেক কাহিনী করুণ, অনেক তিক্ততায় ভরপুর, তথাপি এসবের পরতে পরতে পাওয়া যাবে মানবিক ভালবাসা, পারস্পারিক সম্পর্ক, সাহায্য-সহযোগিতা। তাদের ধর্মসমূহ ভিন্ন হলেও, বিশ্বাস ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে আছে অসংখ্য সামঞ্জস্যতা: চুরি, ব্যভিচার, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যা –এগুলো মন্দ। প্রতিবেশীর ভালবাসা, অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসা, পারস্পারিক সহযোগিতা –এগুলো ভাল। এমন অসংখ্য কিছু।
অতীতে মানুষ ভৌগলীকভাবে অনেক বিচ্ছিন্ন ছিল। আজ সেই বিচ্ছিন্নতা অনেক দূরীভূত হয়েছে। আজ বিভিন্ন জাতি-ধর্মের লোক, যে কারণেই হোক, অনেক পাশাপাশি হয়েছে। তাই, এখন তাদের সম্পর্ক এক নতুন ধারায় গড়ে তোলার অবকাশ এসেছে। সকলের খোদা এক সময় অনেকটা পাক্ষিক দেখা গেলেও, মূলের বিষয়টি আগের মতই রয়েছে: তিনি সবার, তিনি এক, অদ্বিতীয় –তিনি সকলের মালিক। তাকে ঘিরেই সকলের জীবন সংসার, নীতি-নৈতিকতা। তাকে বাদ দিলে ধীরে ধীরে এই জগত সংসার ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পড়বে। অতীত কালের গ্রন্থিক ব্যাখ্যা যাই হোক, সকল গ্রন্থসমূহে সকলের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পারিক সৌহার্দের বাণীও রয়েছে। আজ তারা চাইলে সেই বাণীসমূহকে, নিজ নিজ ধর্মে থেকেও, পারস্পারিক ভালবাসায় এক নতুন সমাজ গড়ার ব্যাখ্যায় আনতে পারেন।
উগ্র-নাস্তিকতাবাদ -তথ্য বিনাশ, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ
কিন্তু এই কাজটির অন্তরায় হচ্ছে উগ্রনাস্তিকতাবাদ: এটি হচ্ছে যায়োদবাদী ধনতান্ত্রিক একটি আন্দোলন। এর উদ্দেশ্য মানুষকে এক নব্য-গোলামীর ইন্দ্রজালে আবদ্ধ করা, এবং তাদেরকে এক ধরণের ‘পণ্যে’ রূপান্তরিত করা। মেশিন থেকে যে পণ্য (product) বেরিয়ে আসে, তা বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে একই। তারপর ইলেক্ট্রনিক হলে, এগুলোকে একই কোডে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই যায়োনবাদী বৈশ্বিক আন্দোলনটি মানবতার বিষবৃক্ষ। এটিই মানব জাতির হাজার হাজার বছরের নৈতিক ভিত্তি উড়িয়ে চরম পাশবিকতায় উপনীত করতে ব্যস্ত। এটা নিরঙ্কুশ ব্যক্তি স্বাধীনতা, অধিকার, ও বিজ্ঞানের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কেবল ধর্মীয় আক্রমণ চালাচ্ছে, কিন্তু বিকল্প হিসেবে কী দেবে সেই আলোচনা করছে না। যুদ্ধ ব্যবসার বাজার সৃষ্টি করে চামচা-গোলামদের মাধ্যমে হাজার বছর আগের যুদ্ধের সমালোচনা চালিয়ে নিচ্ছে। নারীদেরকে যৌন-পণ্যে রূপান্তরিত করে হাজার বছর আগে কোথায় কে কী করেছিল সেই ইতিহাস ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আলোচনায় আনছে। এভাবে মানুষের ধর্মীয় নৈতিকতা ধ্বংস করে মানব সভ্যতায় মরুভূমি রচনা করছে।
আমি অন্তর্নিহিত দিক দিয়ে নাস্তিক বিশ্বাস নিয়ে উদ্বিগ্ন নই –এটি নিছক একটি বিশ্বাস, বরং ‘নাস্তিক্যবাদ’ নিয়ে। অতীত কাল থেকে যেসব ইজম/বাদ এই মানবতাকে নানান চাকচিক্য দেখিয়ে বিপর্যয়মুখী করেছে এটি তাদের অন্যতম। এটি একটি বস্তুতান্ত্রিক খোদাহীন আদর্শ -খোদার নাম শুনলেই আঁতকে উঠে। মানুষ ধর্ম ছেড়ে দিলে নাকি এই জগত শান্তির আধার হয়ে যাবে, এখানে মান্না-সালয়ার সয়লাব হবে, দানা-দানি হানা-হানি থাকবে না –এমন অসংখ্য চৌকশ আশ্বাস। কিন্তু যারা মানব প্রকৃতিকে গভীর থেকে দেখেছেন, তারা এই বাণীর মিথ্যাচার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই আন্দোলন চালানো হচ্ছে স্থূলদর্শী পঙ্গপালের মাধ্যমে –যায়োনবাদী মিডিয়া, আর্থিক আনুকূল্য ও কালচার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে।
সবকিছু নষ্টের পথে
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘মানুষ দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝে না।’ এই বিশ্ব মানবতা হাজার হাজার বছরে সমাজ-কাঠামোর যে নৈতিক-ভিত্তি গড়েছে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলে আবার ফিরিয়ে আনা দুষ্কর হবে। পূর্ণ বিবেচনার দিক দিয়ে এই নাস্তিকতাবাদে আদৌ নৈতিকতার কোন ধারণা নেই। যেসব চুনোপুঁটি নৈতিকতার কথা বলছে তা মূলত ধর্মীয় নৈতিকতা: বলার স্বার্থে ধার করা কথা। এই বিষবৃক্ষের একটি উদাহরণ নেয়া যাক।
ধরুন কোনো মা-ছেলে উভয়ই নাস্তিক্যবাদী, এবং উভয়ই নিজেদের স্বাধীন বিবেক ও যুক্তির ব্যবহারের পক্ষপাতী। উভয় আধুনিক, না বরং সর্বাধুনিক। তারা ব্যক্তি স্বাধীনতার ও ব্যক্তি অধিকারের কঠোর প্রবক্তা। তারা যৌন-কাজকে নিছক একটি আনন্দ (physical and creative exercise) হিসেবে গ্রহণ করেন। তারা যদি নিজেদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক রাখতে চান, তাহলে কি কোনো অন্তরায় থাকতে পারে? তারা বাচ্চা নেবেন না; তাদের নিজ ঘরে কেউ দেখতে পাবে না, (আর দেখলেই বা কী?); তারা কারো ক্ষতি করছেন না, নিছক আনন্দ করতে যাচ্ছেন, পরস্পরকে আনন্দ দিতে যাচ্ছেন। তারা গর্ভনিরোধক (contraceptive) ব্যবহার করে নিরাপদ যৌনতা উপভোগ (safe sex) করবেন। এক্ষেত্রে উভয়ই যদি তাদের পরিপক্ব (mature) সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সেই কাজটি করেন, তবে তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে কে খর্ব করার অধিকার রাখবে, এবং কোন যুক্তির ভিত্তিতে? এই নৈতিকতা কি পদার্থবিদ্যা বা প্রাণীবিদ্যা থেকে পাওয়া যেতে পারে?
আমি যে উদাহরণ দিয়েছি তা যে এখনো বাস্তবে হচ্ছে না তা নয়: ইউটিউবে গিয়ে মা-ছেলে, ভাই-বোন ইত্যাদি যৌন সম্পর্ক নিয়ে সার্চ দিন, দেখবেন বাস্তবতা কোন দিকে যাচ্ছে।
একটু চিন্তা করুন, এসব বিষয় বিজ্ঞানের নয়। ‘বিজ্ঞানবাদ’ আর ‘যুক্তিবাদের’ মাধ্যমে এবং নির্বাচিতভাবে ধর্মীয় কিছু টেক্সটের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করে, ধর্ম-নির্মূলের যে যায়োনবাদী আন্দোলন চলছে এর শেষ পরিণতি কি? এই মানবের সমুদ্র কি পঙ্কিল হয়ে পড়বে?
হে সখা, মম হৃদয়ে রহো/সংসারে সব কাজে ধ্যানে জ্ঞানে হৃদয়ে রহো -রবীন্দ্রনাথ

মোঃ তাজুল ইসলাম
নভেম্বর ১৮, ২০১৭ at ৮:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আহমেদ ভাই,
আসসালামু আলাইকুম।
অনেক ধন্যবাদ আপনার লিখার জন্য। অনেক দিন অপেক্ষায় ছিলাম। আপনার লিখা থেকে সব সময় কিছু শিখি এবং জানি। এই লিখার নাস্তিক্যবাদ নিয়ে যা বলেছেন তা ভাল লেগেছে। শেষে যে উদাহারণ দিলেন, তা নাস্তিকদের যদি চিন্তার খোঁড়াক যোগার না করে তাহলে আর কিসে তাদের বিবেক জাগ্রত হবে বা সুস্থ চিন্তা করতে শিখবে? তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করেছেন এবং এইজন্যই আল্লাহ্ তাদের অন্তরের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন, পর্দার উপর পর্দা রেখেছেন।
আপনার সুস্থ্যতা কামনা করি। ভাল থাকুন।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২০, ২০১৭ at ১১:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ তাজুল ইসলাম
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এখানে অন্তরে মহরের ব্যাপারটা একপাশে রেখে আমি বলব বৈশ্বিক আন্দোলন ও সেই আন্দোলনের আদর্শের সয়লাবেই এমনটি হচ্ছে। কোন একটিই আদর্শ বা বিশ্বাসকে গ্রহণ-বর্জনের জন্য যে মাপের ভাষা-জ্ঞান ও ভাষিক যুক্তির প্রয়োজন হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের কর্মীদের তা নেই। ইসলামের উপর এই আক্রমণ অপেক্ষমাণ ছিল: ১৯৮৯ সালের বার্লিনওয়াল ধ্বংসের পর থেকে এটি সামনে আসে। ৯/১১ এর পরে কাজটি নগ্নভাবে প্রকাশ পায়। এখন যা দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি আরও অগ্রসর হবে। কিন্তু সমস্যা হল মুসলিম জগতে এটা মোকাবেলা করার কোন ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না: দলাদলি, কোন্দল, গদি, টাকা ইত্যাদি সবকিছু খেয়ে ফেলেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলিম দেশগুলো আধিপত্যবাদের চরম গভীরে। তো দোয়া করতে থাকুন।
আপনার লেখাটি পড়েছি। ভাল হয়েছে। সেখানে সময় করে একটি মন্তব্য করব। সালাম।
মহিউদ্দিন
নভেম্বর ১৯, ২০১৭ at ১২:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধর্মের ধারণাগত (conceptual) ভাবনা ও ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে এবং সেই শুরু থেকেই ছিল। একজন সত্যিকার ধার্মিক তার ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘৃণা বিদ্বেষ করতে পারেনা। সঠিক ধর্ম সে শিক্ষা দেয় না। যখনই কেউ সে পর্যায়ে পৌঁছে যায় বুঝতে হবে সে ধর্মের আদর্শ থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।
আপনি যথার্থ বলেছেন "নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস" একে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই বিশ্বাস যখন ‘নাস্তিক্যবাদ’ রূপ নিয়ে সমাজের নেতৃত্বে চলে আসতে চাচ্ছে তখনই আমাদেরকে সাবধান হতে হবে। এই মতবাদের পিছনে যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে তারা চাচ্ছে মানুষের ধর্মীয় নৈতিকতাকে ধ্বংস করে মানুষকে রক্ত মাংসের রোবটে তৈরি করতে এবং বিশ্বজুড়ে একটি ভোগবাদীর পঙ্গপাল সৃষ্টি করতে। তারা শুধু দুনিয়ার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চায়। তারা দুনিয়া, দুনিয়া করে মত্ত কিন্তু দুর্ভাগ্য এই দুনিয়া থেকে শীঘ্রই তারা হবে বিতাড়িত! শুধু বছর কয়েক মাত্র, কয়েকটি সংখ্যার খেলা! একজন মানুষ গড়ে বাঁচে কয় বছর? ধরেন গড়ে সর্বাধিক ৮০ বছর। এর ৪০ বছর তো চলে যায় ঘুমায়ে শুধু শরীরের প্রায়োজনে অন্য কোন কাজে নয়। ইমাম গাজ্জালি (রা:) বলে ছিলেন, "ঘুম হচ্ছে মৃত্যুর ভগ্নি" (sister of death)। আর এই ৪০ বছরের ২০ বছর তো চলে যায় "টিনএইজের" খেলা দোলায়। বাকী থাকল ২০ বছর মানে মাত্র দুটি দশক সেটা তো শেষ হয়ে যায় চোখের পলকে। কারো বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞাসা করেন যাঁরা পৌঁছেছেন ৬০ বছরে।
আপনার সাথে সহমত যায়োনবাদী মিডিয়া, আর্থিক আনুকূল্য ও কালচার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে মানবতার হাজার হাজার বছরে সমাজ-কাঠামোর যে নৈতিক-ভিত্তি গড়েছে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সৃষ্টি হয়েছে উগ্র-নাস্তিক্যবাদের আরেকটি বিষবৃক্ষ।
তবে বিশ্বাসীদের জন্য আশ্চর্য হবার কথা নয় যে, কেন মুসলিম স্বর্ণযুগের স্কলাররা বলতেন, " জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীন পর্যন্ত যাও"। তাঁরা ভাল করে জানতেন অজানার দেশ চীনে দ্বীনি জ্ঞান নয় সেখানে দুনিয়াবি জ্ঞানই পাওয়া যাবে যা দিয়ে দ্বীনি জ্ঞানকে আরো পরিপক্ব করা যাবে। একজন বিশ্বাসীর দ্বীনি জ্ঞান যখন দুনিয়াবি জ্ঞান দিয়ে হবে পরিপক্ব তখন তার মর্যাদা বেড়ে যাবে অনেক উপরে। আর চিন্তা করেন, এ পরিপক্বতা যখন একটি জাতীর বৈশিষ্ট্য হয়ে যাবে তখন সে জাতী যে আসলেই হতে পারবে "খাইরু-উম্মাহ", যাদের কথা উল্লেখ হয়েছে কোরআনে।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২১, ২০১৭ at ৪:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার মন্তব্য ঘিরে অজাচার সম্পর্কে আরেকটি পয়েন্ট এখানে সংযোগ করব।
বিবর্তনবাদী নাস্তিকরা প্রচলিত সামাজিক অজাচারি (incestuous) সম্পর্কের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করছেন; প্রাণী জগতের বায়োলজিক্যাল ধারায় অজাচার (incest) প্রকৃতিরই অংশ। ১.২ বিলিয়ন বছর পূর্বে প্রাণীতে যৌন-কর্ম ছিল না: সিংগল সেল নিজে নিজেকে ক্লোন করত। (এই বিষয়টি এই লিঙ্কে বাকিটুকু পড়ে নেবেন)। বিবর্তনের ধারায় অজাচারে নৈতিকতা বহির্ভূত কিছু হয় না। বিবর্তনবাদীদের দৃষ্টিতে ‘ধর্ষণ’ও মূলের দিক থেকে মন্দ কিছু নয়, নিছক সামাজিক দৃষ্টিতে মন্দ। জার্মানিতে আগামীতে অজাচার বৈধতা পেতে পারে। এটা দেখুন, In September 2014 the German Ethics Council recommended that the government abolish laws criminalizing consensual incest between adult siblings, arguing that such bans impinge upon citizens (Wikipedia).
আমার এই লেখায় মা-ছেলে নিয়ে নৈতিকতার যে উদাহরণ এসেছে সেটি নৈতিকতার ভিত্তি থেকে। ঐশী নির্দেশই এই ভিত্তি। বনি আদমের অতি প্রাথমিক অবস্থায় অজাচার –ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে -বৈধ ছিল: আল্লাহই সেটা বৈধ করেন। তারপর এক সময় তা আর বৈধ থাকে নি: আল্লাহই সেটা অবৈধ করেন। গ্রিক সমাজের মিথোলজিতে মা-সন্তানের মধ্যে যৌন সম্পর্কের উল্লেখ দেখা যায় –অনেক মিথ বাস্তবতা ঘিরেই উঠত। সপ্তম শতক পর্যন্ত জাহেলি যুগে সৎ-মাতাকে বিয়ে করার প্রথায়ও আরব দেশে বৈধ ছিল –ইসলাম এসে তা অবৈধ করেছে। কিছু কিছু নাস্তিক এত মূর্খ গোয়ার, গণ্ডার, বেহায়া যে তারা পড়াশুনা ছাড়াই ঝগড়া করতে আসে, আর মনে মনে ভাবে তারা ‘শিক্ষিত’, কারণ তারা এখন নাস্তিক হতে পেরেছে!
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
Madhumangal Saha
নভেম্বর ১৯, ২০১৭ at ৮:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক দিন বাদে সদালাপে সৎ আলাপ পেলাম, মন থেকে লিখছি, ভাল লাগল।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২০, ২০১৭ at ৫:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি মন থেকে লিখেছেন, আপনার ভাল লেগেছে -একথা শুনে খুশি হলাম। আমার লেখাটিও আমার মন থেকে এসেছিল। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
সত্য সন্ধানী
নভেম্বর ১৯, ২০১৭ at ৮:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম ভাই। অনেক দিন পর লিখলেন এবং যথারীতি অসাধারন লেখা।চমৎকার কিছু জিনিস পয়েন্ট আউট করেছেন।
কিছুটা অস্বস্তি লাগলেও খুব জোরালো যুক্তি। বঙ্গ ব্রাহ্মন্য বাদী নাস্তিক গুলা এই জিনিস কে ( অজাচার) কিভাবে আর কোন নৈতিকতার আলোকে ব্যখ্যা দেবে জানার ইচ্ছা হচ্ছে আমার। এরা তো সমকাম কে স্বাভাবিক বলে চালাতে মরিয়া!
Madhumangal Saha
ডিসেম্বর ৯, ২০১৭ at ৯:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ সত্তসান্ধানি ্ ৭২ টা হুরী সম্পর্কে জানতে চায় ,বিস্তারিত ভাবে জানাবেন, আশা করি নিরাশ করবেন না ,আগের মন্তব্বের উত্তর পায়নি , পেলে আনন্দ পাব ।
সত্য সন্ধানী
ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ at ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Madhu mongol Saha,কিসের উত্তর? যদি অন্য পোষ্টে বিশষ ঘটনা কেন্দ্রিক ব্যাপার টা বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে বলব যে সভ্যভাবেই জবাব দিয়েছিলাম আপনাকে।
কিন্তু সেই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত সব মন্তব্যই কর্ত্রি পক্ষ মুছে দিয়েছিলেন তাই আপনার চোখ হয়ত এড়িয়ে গেছে। যাক সেসব আর নাই বা বললাম।
তবে এবারের জবাব টা একটু কড়া ভাবেই দেই।
আর শুনেন, আপনার সাথে আমি ইসলাম নিয়ে কোন আলাপ করব না।
কারন মজলুম ভাইয়ের এক লেখায় আগেই বলেছি আমি যে, যে সম্প্রদায়ের নিজস্ব কোন ধর্মই নেই, কোন অবস্থানই নেই, পক্ষ নেই তাদের আমি ধর্ম নিয়ে আলাপের যোগ্য বলে মনে করি না।
ব্যক্তিগত ভাবে নেবেন না প্লিজ, আসলে সমস্যা টা ব্যক্তিগত না একেবারেই, সমস্যা হল ধর্ম সম্প্রদায় গত। তাই এসব আলোচনার যোগ্য বলে আমি তাদের কেই মনে করি যাদের নির্দিষ্ট পক্ষ আছে। অযথা আপনাদের ধার দেনা করা বই গুলোর কাহিনী টেনে এনে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করাটা অন্যায় হবে, কারন সেসব সম্পর্কে আপনার নিজেরই জানা নেই।
আগে নিজের সব (ধার করা) ধর্ম বই পড়ে আসুন,পঞ্চ স্বামীর
মাহাত্ম্য জেনে আসুন,
অথবা খৃষ্টান বা বৌদ্ধ ধর্ম (যেগুলার উৎস আছে) গ্রহন করে কোপাতে আসেন,
তখন ৭২ হুর নিয়ে ইনশাল্ললাহ
কথা বলা যাবে।
ধন্যবাদ ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
এস. এম. রায়হান
ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ at ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@Madhumangal Saha,
১মত- ৭২টা হুরী সম্পর্কে কে বা কারা জানতে চায়, তা তো বুঝা গেল না!
২য়ত- কুরআনের কোথাও ৭২টা হুরীর কথা লিখা নেই। লক্ষ লক্ষ অথেন্টিক-আনঅথেন্টিক হাদিসের মধ্যে কোনো একটি হাদিসে ৭২টা হুরী-টুরী জাতীয় কিছু একটা লিখা আছে সম্ভবত। তবে সেটি মৃত্যুপরবর্তী জীবনের জন্য। কাজেই আপনি যদি মৃত্যুপরবর্তী জীবনের এই হাদিসকে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি আসলে ইসলামে বিশ্বাসী!
আপনার ৭২টা হুরী সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হলো। এবার শ্রী কৃষ্ণের ষোল হাজার (১৬,০০০)-এরও বেশী স্ত্রী ও গোপী সম্পর্কে সদালাপের পাঠকগণ জানতে চায়। বিস্তারিতভাবে জানাবেন, আশা করি নিরাশ করবেন না।
Madhumangal Saha
ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ at ৪:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@SM রায়ান , 'রসের বশবর্তী হোয়ে কোরতে হয় রাস আসসাদন কামের বশবর্তী হোয়ে নয় ,আপনি যদি রস এবং কাম এক করে দেখেন তাহলে আপনি মূর্খ ।আপনার উত্তরে জানাই স্বামী বিবেকানন্দ সমস্ত বিশ্ব কে জানিয়ে দিয়েছেন সনাতান ধর্ম কি ,বর্তমানে মুসলিমরাও তাদের জাতির পরিচয় জানাছে । ঃ'' নিষ্কাম প্রেম '' এর সংজ্ঞা যদি জেনে থাকেন বলবেন আমি অনাদির আদি পরমেশ্বর শ্রী কৃষ্ণ ১৬০০ গোপী নিয়ে লেখা পাঠাব ্ আর আপনি চালাকি করে ৭২ হুরী এড়িয়ে গালেন ্ ,
এম_আহমদ
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ at ৬:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ Madhumangal Saha
আপনি উত্তেজনা না দেখালে ভাল হত। যে ব্লগে হুরী নিয়ে কোন কথা নেই সেখানে আপনি হুরী নিয়ে জানার কথা তুললেন, কিন্তু কে জানতে চায় সে কথা বললেন না। রায়হান সাহেব আপনাকে হুরী সম্পর্কে কোরান হাদিস দিয়ে বিস্তারিত জানালেন।
তারপর আপনার প্রশ্নের ন্যায় শ্রীকৃষ্ণের ১৬,০০০ স্ত্রী/গোপী কুমারী নিয়ে জানার কথা এল। এতে শ্রীকৃষ্ণের নারী-লীলা ‘নিষ্কাম’ ছিল, না ‘কামুক’ ছিল, না তার রূপ পরিবর্তন করে গোপী-মহলে ঢুকে তার কাজ দৈব-লীলা ছিল –এমন কিছু বলা হয় নি। তখন গোপীদের কাম-ভাব থাকত, না নিষ্কামী, এমনটিও বলা হয় নি। কিন্তু আপনার এই বাক্য: “আপনি যদি রস এবং কাম এক করে দেখেন তাহলে আপনি মূর্খ”- এটা কি abrupt ও অসুন্দর হয়ে গেল না? এমনটা আগামী না করলে ভাল হয়।
আপনাদের ধর্মে অসংখ্য কাহিনীর মত কৃষ্ণের ১৬,১০০ রমণীর ব্যাপারে “ব্যাখ্যা” থাকতে পারে, খৃষ্টিয়ানদের ধর্মে বিগত ২০০০ বছর ধরে চালিত নারীমঠে খৃষ্টের জন্য উৎসর্গিত কোটি কোটি খৃষ্টবধু থাকতে পারে এবং “ব্যাখ্যাও” থাকতে পারে, কিন্তু সমস্যা হল মুহাম্মাদের। এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো “ব্যাখ্যা” চলবে না। তার কেন ৮/১০ বউ থাকবে?
আমার মনে হয় এখন সময় হয়েছে –এসব বাদ দেবার, নিজ নিজ ধর্মে থেকে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা গড়ার।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২০, ২০১৭ at ১:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ চমকপ্রদ, সত্য সন্ধানী, Abdul Awal, তাজুল ইসলাম
আমার দৃষ্টিতে 'Ahmed' নিকের এই শয়তানটা কোন নাস্তিক নয়, আর তার নিকও একটা/দুটা নয় -অসংখ্য। সে এক চরম ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী উগ্র-হিন্দু, উগ্র-নাস্তিকতার মুখোশে ইতরামি করে। প্রায় দু বছর আগে সে বলেছিল সে লেখালেখি করে, কিন্তু কোথায় করে সেটা সাহস করে বলতে পারে নি। কারণ, তার লেখার লুঙ্গি খুলে তার মাথায় বেণী পেড়ে তার মূর্খামির উপর থাপ্পড় পড়বে –এই ভয়ে। সম্ভবত মুক্তমনা, ইস্টিশন, নবযুগ বা এমন ধরণের কোন ব্লগে লেখে। তার কাজ হচ্ছে সাইটে সাইটে গিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলা, উত্যক্ত করা, তারপর তার দলের অন্যদের মাধ্যমে সেই মন্তব্যগুলো কালেক্ট করা, আর দেখানো মুসলমানরা ‘উগ্র’। সে হয়ত ইউরোপে কাজ করে –কোন উগ্র-এন্টি-মুসলিম ফ্যাসিস্টদের সাথে। এরা মুসলিম মহিলাদের আক্রমণ করে, মসজিদের দরজায় শুকরের মাথা রাখে, কোনোটা এক্স-মুসলিম সংগঠনে জড়িত, কোনোটা এক্স-মুসলিমের ছদ্মাবরণে, কোনোটা সরাসরি ফ্যাসিস্ট রাজনীতিতে জড়িত। বাংলাদেশে এদের মতো লোক মন্দিরে আগুণ দেবে, তারপর মুসলমানদের উষ্কাবে, তারপর তাদের নেটওয়ার্কে এগুলো ফলাও করবে।
আমি এই কুকুরটার মন্তব্য মুছে দেব, এবং আমার ব্লগে তাকে মন্তব্য করতে দেব না। এখন যেহেতু ‘Ahmed’ নিকটাও ধরা পড়েছে, তাই অন্য কোনো নিক গ্রহণ করবে। লোকটা অত্যন্ত বেহায়া।
চমকপ্রদ
নভেম্বর ২০, ২০১৭ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এম আহমদ ভাই,
বর্ণিত ব্যক্তির ইসলামবিরোধী বর্ণবাদী তৎপরতা সম্পর্কে আপনার Analysis প্রণিধানযোগ্য। তবে একটা বিষয়ে আমার অভিমত হলো, একজন হিন্দু বা খ্রিস্টান সম্ভবত নাস্তিক সাজতে যাবে না, বরং আল্লাহদ্রোহী নাস্তিকরাই হিন্দু বা খ্রিস্টান সেজে থাকতে পারে। যেহেতু পুরোপুরি আল্লাহবিদ্বেষী হওয়াটা অধিক গুরুতর অপরাধ, আর সেই তুলনায় আল্লাহর সাথে শরীককারী হিন্দু বা খ্রিস্টান হওয়াটা তুলনামূলক কম গুরুতর। একজন খুনী খুনের মামলা থেকে বাঁচার জন্য চোর সাজতে পারে লঘুদণ্ড লাভের আশায়, কিন্তু একজন চোর তার চুরি ঢাকার জন্য খুনী সাজতে যাবে না। তবে একথা ঠিক, আল্লাহবিদ্বেষী তথা নাস্তিক ব্যক্তিরা ইসলাম ও মুসলিমদের ধ্বংস করার কাজে হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদী যেকোন ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে একত্রে কাজ করতে পারে।
ইসলামের শত্রুদের মূল কাজ হলো আল্লাহর দ্বীন তথা ইসলামকে ধ্বংস করা; অন্য কোন ধর্মকে প্রমোট করা মূল উদ্দেশ্য নয়। অন্যান্য ধর্মের যেহেতু কোন ভিত্তিই নেই, তাই সেগুলো কায়েম করা কারো লক্ষ্য হতে পারে না। বিশেষ করে যারা জেনেশুনে অন্যান্য ধর্মকে প্রমোট করে, তাদের উদ্দেশ্যও সংশ্লিষ্ট ধর্মগুলোকে প্রতিষ্ঠা করা নয়, বরং স্রেফ মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই তাদের উদ্দেশ্য।
আমরা অনেক সময় নাস্তিকদেরকে ছদ্মবেশী হিন্দু বা মূর্তিপূজক ভেবে বসে বিতর্ক করতে গিয়ে নাস্তিকদের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। কারণ, আদতে তারা কোন কিছুর পূজক নয়, তাদের কোন ধর্ম নেই।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২০, ২০১৭ at ৫:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ সত্য সন্ধানী, Abdul Awal, চমকপ্রদ, তাজুল ইসলাম
ভাই আপনাদের সবাইকে সালাম। আমি ঐ ইসলাম বিদ্বেষী, ইতর, গালিবাজ লোকটির মন্তব্য মুছে দিয়েছি, সাথে করে তার নাম-সংশ্লিষ্ট মন্তব্যও। এদের মত লোকদের কারণেই আজকের জগতে এত ঘৃণা-বিদ্বেষ, এত দানা-দানি, হানা-হানি। মুসলিম, ইসলাম, কোরান, মোহাম্মাদ (সা) এসব নিয়ে তার যে পরিমাণ রাগ, ক্রোধ, উষ্মা তাতে মনে হয় তার হাতে যদি এই বিশ্ব-জগতের ক্ষমতা এসে যেত তবে সবাইকে মেরে নিঃশেষ করে দিত। কী যে আক্রোশ, আর কী যে ইতরি -বাপরেব্বাপ!
আমি সময় করে সবাই মন্তব্য ঘিরে সময় করে কিছু কিছু বলব। আপাতত সবাইকে ধন্যবাদ।
চমকপ্রদ
নভেম্বর ২০, ২০১৭ at ১১:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নাস্তিক দুই প্রকার। একধরনের হলো আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি, আরেক ধরনের হলো জেনেশুনে আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি। উগ্র নাস্তিকরা এই দ্বিতীয় ক্যাটাগরির মধ্যেই পড়ে।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২১, ২০১৭ at ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ সত্য সন্ধানী, Abdul Awal, চমকপ্রদ
আপনাদের পাঠ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। কিছু মন্তব্য একটি লিঙ্কের সাথে সংযুক্ত থাকায় মুছে দিতে হল বলে দুঃখিত।
এই দুনিয়ায় টাকার মাধ্যমে অনেক কিছু করা যায় -আগেও করা যেত। নাস্তিকগণ প্রোপাগান্ডার একটি রঙিন লিস্ট তৈরি করে লাখো লাখো কর্মী ও হাজারও সংস্থার মাধ্যমে বার বার বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করছে। তাদের অভিযোগগুলোর উত্তর কী, তারা সেদিকেও যাচ্ছে না, বরং বার বার অভিযোগই চালিয়ে যাচ্ছে: এটিই গোবেলিয় (Goebbelsian) সত্য। আর্থ-রাজনৈতিক দিক দিয়ে তাদের আন্দোলনটি বৈশ্বিক। সাধারণ ব্যক্তিবর্গ কয়টা উত্তর কয়বার দেবে? এখানেই সীমাবদ্ধতা।
নাস্তিক্যবাদের বিষয়ে রায়হান ভায়ের এই ব্লগে কয়েকটি মন্তব্য করেছি (কমেন্ট ২, ২.১, ২.১.১), না পড়ে থাকলে, দেখে নিতে পারেন।
ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। সালাম।
শাহবাজ নজরুল
নভেম্বর ২২, ২০১৭ at ৯:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক দিন পরে আপনার লেখা পেলাম। পড়লাম। ভালো লাগলো।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২৪, ২০১৭ at ৬:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাম শাহবাজ ভাই। হ্যাঁ, অনেকদিন পরে লিখলাম। হঠাৎ সদালাপে আনাগোনা-করা পুরানো এক ফিতনাবাজের “ঝগড়ায়” হেয়ালিভাবে ঢুকে গিয়েছিলাম। তারপর এই লেখা। আজকাল লিখতে তেমন যেন আর ভাল লাগে না। উগ্ররা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে: কেবল অসার গর্জন, মিলিট্যান্সি, আক্রমণ আর হামসে-তুমসে। নেংটি পরে নতুন দু/চারটার আবির্ভাব হয়েছে। এরা নেমেই নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার নায়ক: ‘আমি বিশ্বের বড় তার্কিক, আমি দেশে দেশে ধর্ম ছড়ায়ে এখন হয়েছি নাস্তিক। আমি বড় আইনবিদ, আমি চর্চা করিনি আইন, শুধু ছিলাম রাজনীতির গালিবিদ। আমি ধর্মতত্ত্ব করিনি আত্মস্থ, তবুও ধর্মপাল। আমি চ্যালেঞ্জ করি সকল পণ্ডিতে ছিঁড়িয়া ফেলিব -াল। আমি হাফেজ, আমার কত সাধনা। আমি অন্যের কথা মুখস্থ করে বলি, আমি ভঙ, আমি মৌলানা।’
আপনিও তো অনেক দিন হল লিখা-লিখি করছেন না — কেন? কিছু কিছু লিখুন, তাতে আগের আবহটা খানিক বেঁচে থাকবে।
Anonymous
নভেম্বর ২৭, ২০১৭ at ৬:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালো লাগলো।
চমকপ্রদ
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭ at ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
উগ্র নাস্তিকেরা অত্যন্ত অশালীন ভাষায় ও বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে আল্লাহকে অক্ষম সাব্যস্ত করে এবং আল্লাহতাআলাকে অক্ষম ও অস্তিত্বহীন প্রমাণের জন্য যেসব যুক্তি দেখায় তা নিম্নরূপ:-
(১) মুমিনদের দোয়া কেন কবুল হচ্ছে না? মুসলমানরা কেন নির্যাতিত হচ্ছে বা দুরবস্থায় পড়ে আছে, বিশেষত জেরুজালেম মুক্ত করবার জন্য মুমিনদের ক্রন্দন কেন কাজে আসছে না?
(২) মানুষ কেন দু:খী অবস্থায় অনাহারে পড়ে থাকে?
(৩) আল্লাহ কেন অমুক অমুকের মৃত্যু বা মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে পারলেন না?
এসবের জবাব নিম্নরূপভাবে প্রদান করা হলো:-
(১) আল্লাহ তাআলার কোন পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত দোয়ার দ্বারা পরিবর্তিত হবার নয়। ইহুদীদের শত শত বছর দিগবিদিক ঘুরানোর পর শেষ জামানায় এসে আল্লাহ তাদেরকে একত্রিত করেছেন তাদেরকে বৃহত্তম ও চূড়ান্ত হলোকাস্টের শিকার বানানোর জন্য। যে কাজটি আল্লাহ তাঁর দুই মর্যাদাবান মহান বান্দার [ঈসা (আ.) ও ইমাম মাহদী] জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন, সে কাজটি যদি প্রাকৃতিকভাবে বা সাধারণ মুমিনদের দ্বারা আগেই সম্পাদন হয়ে বসে, তাহলে আর তাঁদের আগমনের প্রয়োজন থাকবে কি?
মুমিনরা যদি সত্যপথ অবলম্বনকারী হয়ে থাকে, তাহলে কাফেরদের চেয়ে তাদের অবস্থা বেশি শোচনীয় কেন- এই প্রশ্নটি কোন নতুন প্রশ্ন নয়। এটি ১৪০০ বছরের পুরাতন প্রশ্ন। আল্লাহর নবী যখন এ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন, তখন তার উত্তরে সূরা দোহা অবতীর্ণ হয়। ইতিহাস সাক্ষী, নবী ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের সেই দুরবস্থা স্থায়ী হয়নি, বরং মেঘের অমানিশা কেটে সূর্যের দেখা মিলেছিল। বলাবাহুল্য, নবী ও তাঁর সাহাবীগণ মক্কী জীবনে এখনকার মুসলমানদের চাইতে অধিক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ছিলেন।
এছাড়া মুমিনরা যদি সবখানে চাহিবা মাত্র বিজয় ও সাফল্য পেয়ে বসে, তাহলে তারা বিলাসী হয়ে পড়বে এবং আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে পড়তে পারে।
(২) আমি হলফ করে বলতে পারি, যদি আজ পৃথিবীতে একটা মানুষও অনাহারে না থাকত, তাহলে এই মতলববাজেরা বলত, কোন অদৃশ্য শক্তির দয়ায় এটি হয়নি, বরং এটা হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। জগতে মঙ্গল ও সফলতা যা কিছু সব বিজ্ঞানের বা মার্কসবাদের, আর অমঙ্গল ও ব্যর্থতাটা শুধু ধর্মের আর স্রষ্টার! তাদের বিজ্ঞানের যখন এতই বড়াই, তখন বিজ্ঞান দিয়ে তারা দুনিয়ার সব মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করতে পারে না কেন? অথচ এ কাজটাই নবী (সা.) করে দেখিয়েছেন ১৪০০ বছর আগে। নবী তাঁর আদর্শ দিয়ে এমন মানুষ তৈরি করে গেছেন, যে কিনা একটা কুকুর অনাহারে মরা নিয়েও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় করত।
(৩) দুনিয়াতে কে অমর হতে পেরেছে? যারা বিজ্ঞান নিয়ে লাফালাফি করে, তারা কি বিজ্ঞান দিয়ে মৃত্যুকে জয় করতে পেরেছে?
নেতা বলেন, আর সাধারণ দু:খিনী মা বলেন, আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য সবসময় নি:শর্তভাবে মেলে না, কোন কোন সময় শর্ত প্রযোজ্য হয়। আল্লাহর রহমত পেতে হলে আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে, আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। এছাড়া কাকে কখন কোন্টা দিলে ভালো আর না দিলে ভালো, তাও আল্লাহই ভালো জানেন। এ প্রসঙ্গে মূসা (আ.)-এর একটি ঘটনা বর্ণিত আছে যে, এক হতদরিদ্র ব্যক্তির অনুরোধে মূসা (আ.) তার জন্য দোয়া করে তাকে বড়লোক বানিয়ে দেবার পর সেটা তার জন্য বিপথগামিতা ও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেক সময় শর্ত পূরণ হলেও আল্লাহ মানুষকে অনাহার বা মৃত্যু থেকে রক্ষা নাও করতে পারেন, সেক্ষেত্রে ঘাটতিটা আখেরাতে সুদে-আসলে পুষিয়ে দেবার ব্যবস্থা থাকে।
এম_আহমদ
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭ at ৯:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই সালাম,
আপনারা যখন নাস্তিকদের উত্তর দিতে যাবেন তখন সব দিক ব্যাখ্যা করে দেয়া দরকার, বিশেষ করে তারাও যখন কোরান হাদিস দিয়ে কথা বলছে যেমন: ‘দোয়া ছাড়া কিছুই তকদীর পরিবর্তন করতে পারে না’ [১] [২]। কোরান: ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন এবং মূলগ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে’ [৩]।
তারপর “আল্লাহ তাদেরকে একত্রিত করেছেন তাদেরকে বৃহত্তম ও চূড়ান্ত হলোকাস্টের শিকার বানানোর জন্য” এমন কথা আমার কাছেও কঠিন হয়ে দেখা দেয়। আমার মতোদের বোঝ মতে যুদ্ধ করে সৈনিকেরা, যুদ্ধের ময়দানে। ‘একটি পাথরও ডেকে বলবে আমার পিছে একজন ইয়াদী লুকিয়ে আছে,’ এর অর্থ হবে: “আমার পিছনে একজন সৈনিক ইয়াদী লুকিয়ে আছে”। কোন সাধারণ মানুষ হত্যা-নির্যাতনের শিকার হওয়া কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এমনটি হওয়া আমার হিসাবের সম্পর্ণ বাইরে। আজকের সকল সমস্যার মধ্যখানেও বিষয়টির জটিলতাও বুঝতে হবে। আল্লাহ একটি ভূখণ্ডকে ৩টি ধর্মের লোকদের (ইয়াহুদী, খৃষ্টিয়ান ও মুসলিম) দিয়েছেন বলে তাদের প্রত্যেকের ধর্মীয় সাহিত্য দাবী করে যাচ্ছে এবং প্রত্যেকের কাছেই যার যার ব্যাখ্যাও রয়েছে। সুতরাং এখন ন্যায্যতার বাণীই অগ্রাধিকার পেতে হবে। যুদ্ধের ময়দান ব্যতীত সিভিল সমাজ যেন কোথাও যুদ্ধের মুখামুখি না হয় এবং আর কখনো যেন কোথাও কোন হলোকস্ট সৃষ্টি না হয় -এমন বিষয়ে মানব জাতিকে সতর্ক হবে, কেননা এতে "সর্বনাশ" ব্যতীত কিছুই নেই।