আধুনিক মুসলিম বিশ্বের এক জন প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার ড: তারেক সুয়েইদান। ফেইস বুক ও টুইটার মিলিয়ে ৯ মিলিয়নের ঊর্ধ্বে তাঁর অনুসারী। গত বছর অক্টোবর ১৮ , ২০১৪ তারিখে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এক সেমিনারে মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তৃতার করেন। বক্তৃতার বিষয়ের শিরোনাম ছিল ইসলাম, গণতন্ত্র এবং আইসিস (Islam, Democracy & ISIS) । তার সুদীর্ঘ আলোচনায় যে সব বিষয়ের আলোকপাত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ছিল আরব বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আরব বসন্তের সেই গণজাগরণের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির পর্যালোচনা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ইসলামী সভ্যতার ইতিহাস ও পুনর্জাগরণের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক।
ইসলাম ও মুসলিম বিশ্ব নিয়ে যারা আগ্রহী ও গম্ভীরভাবে চিন্তাভাবনা করেন তাঁদের জন্য পুরা ভাষণটি অবশ্যই শুনা খুবই দরকার। আর যারা দৌড়ের উপর আছেন তাদের জন্য কিছু পয়েন্ট তুলে ধরলাম। তবে বিস্তারিত জানতে হলে পুরা বক্তব্য শুনতে হবে সময়ের অভাবে সব পয়েন্ট আমার পক্ষে উল্লেখ করা সম্ভব হয় নাই ।
১) একটি জন গুষ্টি যখন কোন এক অত্যাচারী সমাজ ব্যবস্থার দাসত্বে বা ঔপনিবেশিক শাসনে দীর্ঘদিন নিপীড়িত থাকে তখন স্বভাবতই তাদের মাঝেও শাসক শ্রেণীর প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতি ও জীবন দর্শন গড়ে উঠে। ফলে কলুষিত সমাজের সকল কুপ্রথা ও আচার আচরণে তারাও অভ্যস্ত হয়ে অনেকটা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি ইতিহাসের সাথে সংযোগ করলে দেখা যায় মুসা (আ:) যখন ফেরআউনের দাসত্ব থেকে মুক্তি করতে বনী ইসরাইলদেরকে নিয়ে প্যলেষ্টাইন অভিমুখে রওয়ানা হন তখন পথিমধ্যে মহান আল্লাহর প্রদত্ত একাধিক অলৌকিক ঘটনা চোখের সামনে পর্যবেক্ষণ করা স্বত্বেও বনী ইসরাইলরা নবী মুসা (আ:) এর প্রদত্ত আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে তথা আল্লাহকে ভুলে তাদের পুরানা অভ্যাস মূর্তি পূজায়, পৌত্তলিকতায় বার বার ফিরে যেত! যার বর্ণনা আল্লাহ পাক কোরআনে দিয়েছেন। তাই যে কোন জন গুষ্টিতে কোন আদর্শের বিপ্লব সফল করতে হলে সে সমাজে মাঝে পরিস্রাবণ দরকার হয় তথা ফিল্টারিং প্রয়োজন এবং তা তখনই সম্ভব হয় যখন কোন আন্দোলনে বাধা বিপত্তি বা সাময়িক বিপর্যয় আসে। তখন মুনাফিকদেরকে চিনতে সহজ হয়। কেননা সুখের সময় সবাইকে পাওয়া যায় কিন্তু দু:খের সময় কেবল মাত্র নিবেদিত প্রাণ ও সাহসী লোকেরাই অবিচল থাকতে পারে। আর তারাই পারে সফলতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে। ইতিহাস তার প্রমাণ। তবে এ জন্য সময়ের প্রয়োজন।
২) মুসলিম বিশ্বের নতুন প্রজন্ম যারা ঔপনিবেশিক প্রভাব বা সে মানসিকতার বাহিরে বড় হয়েছে তাদের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে আরব বসন্তের গণজাগরণ শুরু করা। এ বিপ্লব যুব সমাজের সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টায় শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনের শুরুতে বিদেশী কোন মহলের হাত ছিল বলা ভুল হবে। এ গণজাগরণ অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে ডিসেম্বর ২০১০ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যে গণ বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। আসলে আরব বসন্তের গণ বিপ্লবের জন্য আরব বিশ্বের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সরকারি দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেকারত্ব এবং চরম দারিদ্র্যের অভিযোগের পাশাপাশি বিশাল যুব সমাজের অংশগ্রহণও অনুঘটক রূপে কাজ করেছে । যার সহায়ক ছিল ফেইস বুক এবং টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া । মাত্র ১৭ দিনে পতন হয় মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের প্রতাপশালী শাসন। আরব বসন্তের গণজাগরণ মুসলিম দেশগুলার স্বৈরাচারী শাসকদের সিংহাসনে কম্পন দেখা দেয়।
ড: তারেকের মতে আরব বসন্তের বিপ্লবকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, এক) পরিপূর্ণ বিপ্লব ( Full revolution), দুই) অর্ধেক বিপ্লব (Half revolution), তিন) এক চতুর্থাংশ বা সিকি বিপ্লব (Quarter revolution)
তিনি বলেন, "লিবিয়ার বিপ্লবকে বলা যায় পরিপূর্ণ বিপ্লব কেননা সেখানে বিপ্লবের পরে এমন কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রাখা হয়নি যা গাদ্দাফির অনুসারীদের দখলে বা তার গড়া লোকদের কবলে। ফলে লিবিয়ার সকল পাবলিক প্রতিষ্ঠান চলে আসে বিপ্লবীদের অধীনে। অবশ্য সে জন্য এক লাখের বেশী মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনও সংগ্রাম চলছে প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে । তবে প্রতিবিপ্লবীদের জনসমর্থন নাই এবং তারা সেখানে শক্তিশালী নয়। যদিও বিদেশী কিছু মহল বিশেষ করে তেল সমৃদ্ধ গালফ রাষ্ট্রের (Gulf States) অর্থায়নে চেষ্টা করা হচ্ছে বিমান হামলা চালিয়ে বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে।
লিবিয়ার তুলনায় মিশরের বিপ্লব ছিল অর্ধেক বিপ্লব (Half revolution) কেননা সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিবিপ্লবী শক্তির অস্তিত্ব ছিল অটুট। সেনাবাহিনীর পুরা প্রতিষ্ঠান সহ প্রশাসন যন্ত্র হচ্ছে মোবারক আমলের কায়েমি স্বার্থ-বাদীদের আস্তানা। তাই গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসীকে সরিয়ে শীঘ্রই সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহত্তর জনতা প্রেসিডেন্ট মুরসির পক্ষে থাকলেও শক্তি দিয়ে প্রতিবিপ্লবীরা আপাতত ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। তবে মিশরের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা খুব শান্তিতে নাই। পুরা মিশর এখনও অস্থিরতা ও অশান্তিতে ডুবে আছে। প্রতি নিয়ত বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, মিছিল আন্দোলন লেগেই আছে যদিও মিডিয়াতে তা প্রকাশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মিশরের অর্থনৈতিক অবস্থাও অত্যন্ত খারাপের দিকে দাবিত হচ্ছে।
মিশরের ব্রাদারহুডের ভুল
ড: তারেকের মতে অর্ধেক বিপ্লবের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া মিশরের ব্রাদারহুডের ভুল হয়েছে। তিনি বলেন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের পর যদিও তিনি মিশরের ব্রাদারহুড নেতৃবৃন্দকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সরাসরি ক্ষমতায় না যাওয়ার কৌশল অবলম্বন করতে কিন্তু তাঁরা তা না শুনে ক্ষমতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী ইতিহাস অনেকেরই জানা। এদিকে মিশরের সামরিক শক্তির ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদ করায় ড: তারেকের এখন সৌদি আরবে প্রবেশ নিষেধ! এমনকি একজন মুসলিম হিসাবে হজ, ওমরা করতে যেতেও ভিসা দেয়া নিষেধ।
ইয়েমেনের বিপ্লব
ড: তারেকের ইয়েমেনের বিপ্লবকে এক চতুর্থাংশ বা সিকি বিপ্লব বলেন কেননা সেখানে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ সালেহকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলেও তার বিশাল অর্থ ভাণ্ডার নিয়ে মুক্ত ছেড়ে দেয়া হয়। জানা যায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ সালেহের টাকার পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার। এত টাকার মালিক হয়ে তার পক্ষে ইয়েমেনের রাজনীতিতে আবার ফিরে আসার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র করাই স্বাভাবিক। যার কৌশল হিসাবে হুতিকে দিয়ে বিদ্রোহ করার হঠকারী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত করা হয়। হুতি বিদ্রোহিরা শিয়া এবং ইরানও তাদেরকে মদদ দিচ্ছে। হুতিরা ইরানের পক্ষের শক্তি হওয়ায় সৌদি আরবের জন্য দেখা দেয় নিরাপত্তার হুমকি। সে জন্য ইদানীং সৌদি আরব ইয়েমেনের উপর বিমান হামলা চালিয়ে হুতির সামরিক আস্তানা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
সিরিয়ার অবস্থা
ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বাশার সরকারের বিরোদ্ধে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবী নিয়ে সিরিয়ার গণআন্দোলন মিশরের মত শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও প্রেসিডেন্ট বাশারের নির্মম অত্যাচারে সে আন্দোন সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নিতি বাধ্য হয়। এবং মাত্র দুই বছরের মধ্যে বিদ্রোহীদের দখলে পুরা সিরিয়ার আসার পর দামেস্কের দিকে যখন বিদ্রোহিরা অগ্রসর হতে শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট বাশারের সরকারে পতন যখন প্রায় অত্যাসন্ন ঠিক সে সময় হঠাৎ ইরান প্রায় ৪০ হাজারের ঊর্ধ্বে সৈন্য পাঠিয়ে প্রেসিডেন্ট বাশারের স্বার্থ রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের সাথে তখন যোগ দেয় লেবাননের হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ারাও ফলে অসংখ্য সুন্নি বিদ্রোহিরা প্রাণ হারায় এবং প্রেসিডেন্ট বাশারের সরকার টিকে থাকতে সক্ষম হয়। আজ পাঁচ বছর ধরে যুদ্ধে প্রায় লাখো লাখো মানুষ প্রাণ হারায়। মিলিয়নের ঊর্ধ্বে মানুষ গৃহহীন হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমূহে মানবত্বর জীবন যাপন করছে। প্রেসিডেন্ট বাশার নিজে আলাওয়ী ধর্মে বিশ্বাসী। যদিও আলাওয়ীরা শিয়াদের থেকে বিচ্যুত তথাকথিত এক ধর্মীয় কাল্ট যাদেরকে ধর্মীয়ভাবে পথ ভ্রষ্ট বলে সুন্নি ও শিয়া উলেমাদের উভয়ই শুরু থেকে তাদেরকে অমুসলিম বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু তা স্বত্বেও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার রাজনীতি ও সিরিয়ার বিদ্রোহিরা সুন্নি হওয়ায় কারণে ইরান বাশারের মত একজন চরম স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ নেয়! এদিকে ইরাকেও ইরানিরা শিয়া সমর্থিত সরকারের পক্ষে থেকে ইরাকের সুন্নিদের প্রতি বৈষম্য ও অত্যাচার চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। যার ফলে ইরান সিরিয়ায় শিয়া সুন্নি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু করে বাসার বিরোধী সংগ্রামকে সাপম্রদায়িক গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত করে। তখন এ যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ থেকে সুন্নি যুবকেরাও যোগ দিতে শুরু করে এবং বিভিন্ন গ্রুপ ও দলের নামে শিয়াদের ও আলাওয়ীদের বিরুদ্ধে এ দাঙ্গা চলতে থাকে। তবে এক পর্যায়ে এ যুদ্ধের নেতৃত্ব চলে যায় চরমপন্থিদের কর্তৃত্বে এবং এরাই হচ্ছে আল কায়েদার মতাদর্শের তথাকথিত জেহাদি দল আইসিস। ডা: তারেক এদেরকে বর্তমান যুগের "খাওয়ারিজ" বলে আখ্যায়িত করেছেন। আইসিসের বাড়াবাড়ি, জঙ্গি কার্যকলাপ ও উগ্র মানসিকতা ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য জানতে তার বক্তব্য শুনতে হবে। সংক্ষেপে বলা যায় তিনি আইসিসের চরমপন্থি মতাদর্শ ও নির্মম আচরণকে ইসলামের ইতিহাসের বিপথগামী খাওয়ারিজদের সাথে তুলনা করেছেন। যারা ইসলামের ৪র্থ খলিফা হজরত আলিকে (রা:) হত্যা করেছিল। তাই তাদেরকে সমর্থন করা যায় না। ইসলামের খলিফা হজরত আলি (রা:) যেভাবে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন ঠিক সেভাবে আজও এধরণের ধরনের উগ্র মানসিকতার সন্ত্রাসীদেরকে যে কোন মূল্যে রুখতে হবে। পরিশেষে, ইসলামী ইতিহাস, আধুনিক বিশ্বে ইসলামের ভবিষ্যৎ এবং মুসলিম লিডারশীপের কি বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার ও কিভাবে তাদের যোগ্যতা বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপারে চমৎকার কিছু প্রস্তাব রেখেছেন যা অনুসরণ করা উচিত ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে। এছাড়াও নারী নেতৃত্বের উপরও তিনি হাদিসের আলোকে কিছু কথা রেখেছেন যা আমাদের দেশের অনেক আলেমরা বিবেচনা করেননা বলেই মনে হয়। আগামী কয়েক দশকের মাঝে মুসলিম দেশগুলা থেকে স্বৈরাচারী সরকারের পতন কীভাবে ঘটবে সে বিশ্লেষণ করে বক্তব্য শেষ করেন।

এম_আহমদ
এপ্রিল ২৮, ২০১৫ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুসলিম বিশ্বের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ নিশ্চয়ই গুরুত্বের দাবী রাখে। যেকোনো পর্যবেক্ষণে অনেকেরই কিছু বলার থাকতে পারে -সেদিক থেকে, এক্ষেত্রে, আমারও কিছু আছে। তাই কিছু কথা রাখছি।
ডা:সুয়েইদান সাহেবের লেখা ও কথার পরিধি অনেক প্রশস্ত। ব্যক্তি হিসেবে তার সব এনালিসিস যে একদম সঠিক হবে এমনটি নয়। তার ৪০ বৎসর পর প্র নেতৃত্ব পরিবর্তনের মওকা আসার বিষয়টির সাথে আমি একমত হতে পারি নি। নবী (সা.) যে নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন তার জন্য তাঁকে ৪০ বৎসর অপেক্ষা করতে হয় নি। সুয়াইডান সাহেব মুসা (আ.) থেকে যে উদাহরণ গ্রহণ করেছেন সেটা সঠিক বলে মনে হয় না। এটা তার ইন্টারপ্রেটেশন। আপনি একদিকে সমাজ ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা বলতে পারেন না আর অপর দিকে ৪০ বৎসর পর পর নেতৃত্ব পরিবর্তের থিওরি উত্থাপন করতে পারেন না। তাছাড়া কোন কাল থেকে ধরে নিয়ে কোন কালে ৪০ বৎসর পূর্ণ করে সেই পরিবর্তনের আশা পোষণ করবেন -সেতাও একটি কথা। এভাবে আরও ছোট বড় কিছু কথা রয়েছে যেখানে আমি ভিন্ন মত পোষণ করি।
তবে অনৈসলামী জীবন ব্যবস্থার আওতায় গড়ে ওঠা নেতৃত্ব পরিবর্তনের যে অপরিহার্যতার উদাহরণ মুসা (আ.) এঁর কাওম থেকে গ্রহণ করেছেন সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের মুসলিম বিশ্বের সমস্যা এখানে। আধিপত্যবাদী শাসন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতায় যে নেতৃত্ব ও শ্রেণী গড়ে ওঠেছে তা -আর ফিরাউনের শাসন ও শিক্ষায় গড়ে ওঠা শ্রেণীতে কোনো পার্থক্য নেই।
নবুয়্যতের পূর্বযুগে মক্কাবাসীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল –এটা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়, এটা হয়ত বেখেয়ালশত এসেছে। নবীর কিশোর বয়সেই ফুজ্জার যুদ্ধ হয়েছিল। হিজাযে তখনকার যুদ্ধংদেহি অবস্থাকে হবসজিয়ান (Hobbesian) সামাজিক war of all against all ধরণের ছিল। কেবল ব্যবসায় যাত্রার পথ (তাও নিজেদের অস্ত্রধারী সিকিউরিটির আওতায়) এবং হজ্জকালীন ৪ মাসে যাতায়াতের জন্য নিরাপত্তা ছিল। মদিনায় আওস ও খাজরাজের মধ্যে বু‘আস যুদ্ধ (حرب بعاث), কালীন বিরতির পর পর, ৪০ বৎসর ধরে (মতান্তরে আরও বেশি) চলে আসছিল যার শেষ পুনর্যুদ্ধ হিজরতের ৫ বছর আগে ঘটেছিল। তবে ঐক্য কোনো অপরিহার্য বিষয় নয়, তার এ কথার সাথে সম্পূর্ণ একমত। কিছু মৌলিক ইস্যুতে ঐক্য থাকলেই চলে।
লিঙ্কায়িত ভিডিওর শেষের দিকে ১৪০ মিনিটের পর থেকে কিছু অত্যন্ত মূল্যবান কথা এসেছে। আরেকটি কথা বলা জরুরি।
মূল কথা হচ্ছে আজকের জাহেলি সমাজ ও নেতৃত্বে কীভাবে পরিবর্তন আনা হবে সেই কথা। তার ধারণাগুলো পজিটিভ আলোচনা-সমালোচনার উন্মেষ ঘটাবে। যেসব ইসলামী দল রাজনৈতিক ময়দানে কাজ করছে তারা নানান সমস্যার মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সিদ্ধান্ত ও চলাপথ নিয়ে দূরের চেয়ারে বসে নানানভাবে সমালোচনা করা যেতে পারে। জীবনের ঝুঁকি ও সংগঠনের ঝুঁকি নিয়ে কালের এক পর্যায়ে নেয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী কালের কোনো ভিন্ন পরিসরের hindsight চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বস্তু।
আপনার এই ব্লগ উদ্যোগটি সুন্দর হয়েছে। এধরণের আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আজ বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যার যেখানে যতটুকু করার সামর্থ্য রয়েছে, সকল তর্কযুদ্ধ এড়িয়ে, তার ততটুকু করে যাওয়া উচিৎ। আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দিন। আমীন।
মহিউদ্দিন
এপ্রিল ২৯, ২০১৫ at ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠও মন্তব্য করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ডা: সুয়েইদান একজন ভিশনারী মুসলিম স্কলার, ইতিহাসবিদ, এনালিস্ট এতে কোন সন্দেহ নাই। তিনি আরব বিশ্বে ইসলামী পুনর্জাগরনের এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও বুদ্ধিজীবী। তিনি কুয়েতে ইখওয়ানেরও একজন উচ্চপর্যায়ের লিডার। এটা জরুরী নয় তাঁর সব কথায় আপনাকে, আমাকে একমত হতে হবে। বড় কথা হল ভদ্রলোক আরব বিশ্বের যুব সমাজকে চিন্তা করতে উত্তেজিত বা প্ররোচিত করেছেন বলা যায়। একথা তিনি নিজেও বলেন।
করতোয়া
এপ্রিল ২৮, ২০১৫ at ৩:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি এই লেকচারটা ২/৩ বার শুনেছি এবং বোঝার চেষ্টা করেছি তার ৪০ বছর অন্তন অন্তর নের্তৃত্ব পরিবর্তনের ত্বত্তটি। এই ধরনের আরো কয়েকটি লেকচার যেমন সুইডেন প্রফেসর তারিক রমাদান, সুদানী প্রফেসর (নামটা মনে নাই) আমেরিকার শেখ ইয়াসির কাদী প্রভৃতির আলোচনা থেকে সুদাইনী সাহেবের এই ত্বত্তটি আমার কাছে অভিনব মনে হয়েছে। আমিও তার এই ত্বত্তের সাথে একমত হতে পারিনি। তবেআমার মনেও প্রশ্ন ২০ বছর নয় ১০ বছর নয় আবার ৫০ বা ৬০ বছরও নয় কি কারনে আল্লাহ সোবহানা তালা বনি ইসরাইলদেরকে শাস্তি স্বরুপ ৪০ বছর নের্তৃত্তহীন রেখেছিলেন? আল্লাহ যা কিছু বর্ননা করেছেন তার সবকিছুর একটা লজিক আছে। সুতরাং এই ৪০ বছরের পেছনেও একটা লজিক আছে যা আধুনিক সময়ের ইসরাইল এমনকি নানা ধরনের টাইরেন্ট মুসলিম নের্তৃত্বের বেলাতেও বলবৎ থাকার কথা।
এপ্রিল ২৯, ২০১৫ at ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, অশেষ ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । তাঁর ভিডিরওটি একাধিক বার শুনেছেন জেনে বুঝতে পালাম আপনি সত্যিই ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন জনের মতামত জানতে আগ্রহী; তাই আপনাকে প্রশংসা না করে পারছিনা।
উপরের বক্তৃতার পর তাঁকে কিছু প্রশ্ন করা হয় এবং তার উত্তরে তিনি যা বলেছেন সে কথা গুলাও শুনা দরকার। লিংক দিলাম।
ভাল থাকুন।
monir hossain
এপ্রিল ৩০, ২০১৫ at ১০:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
i am very glad to read your comment for muslim world & others.
i have already read many kinds of religious book,although i am not a madrasa or religions student.
i love to think about religion. thats why i have read your lecture.
i already read Jarujalem in the Quran written by Imran nasor hosen.and also many other scolar book..
মহিউদ্দিন
মে ২, ২০১৫ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@Monir Hossain,
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি লিখেছেন মাদ্রাসার ছাত্র বা ধর্মীয় স্কুলের ছাত্র না হয়েও ইসলাম সম্পর্কে আপনার জানার আগ্রহ প্রচুর। আসলে প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে যথাসম্ভব সঠিক জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা। কিন্তু আমরা অনেকেই তা করতে পারিনা বিভিন্ন কারণে। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সে তৌফিক দান করেন সে প্রার্থনা করি।
Mohammad
মে ১, ২০১৫ at ১:৩২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম।
সাহাবীদের (রা:) জীবনই আমাদের প্রেরনা।
মহিউদ্দিন
মে ২, ২০১৫ at ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সহমত। তবে কেন ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম তা বুদ্ধিবৃত্তিক তথ্য ও যুক্তি দিয়ে মানুষকে বুঝাতে হবে যাতে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণার অবসান হয়। অন্যকে ধর্মান্তরিত করা মুসলিমদের কাজ নয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে কেবল সত্যের প্রচার করা তথা মানুষকে ইসলামের সঠিক তথ্য দেয়া। সিদ্ধান্ত নেয়া মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার।
Abed
মে ১৬, ২০১৫ at ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম। How do you sure??
Rasel
মে ১৭, ২০১৫ at ১২:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Abed: তো, আপনার মতে একমাত্র সত্য ধর্ম কোনটি?
জুলাই ২৮, ২০১৫ at ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পুরোটা পড়ার পর আমি একটা সিদ্ধান্তে আসতে চেয়েছিলাম , কিন্তু বুঝতে পারছি না , বাসার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে এখন করা এবং তাদের সমর্থন করতে পারি কি ?
মহিউদ্দিন
আগস্ট ১, ২০১৫ at ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া এখন সহজ নয়। সিরিয়ার পরিস্থিতি এখনও ঘোলাটে এবং সম্পূর্ণ কনফিউশন বিরাজমান। এখন বাহির থেকে কারো পক্ষে সঠিক কিছু বলা অসম্ভব। এ যেন আখেরি জামানার আলামত। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে আইসিসের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কিছু কথা শুনতে পাবেন পোষ্টে প্রদত্ত ড: তারিকের ভাষণে এবং তাঁর প্রশ্ন উত্তরের ভিডিওতে। সম্প্রতি আমার পরিচিত এক তুর্কী ভাইয়ের সাথে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের সামনে আলাপ প্রসঙ্গে জানতে পারলাম যে আইসিসের জঙ্গি সন্ত্রাসীরা এখন কুর্দি বিদ্রোহী দল PKK সন্ত্রাসীদের সাথে মিলে তুরস্কের উপর সন্ত্রাসী হামলা শুরু করেছে। (বিবিসির সংবাদেও তা জানা যাচ্ছে ) তার মতে ইসরাইল সহ অনেকেই চাচ্ছে তুরস্ককে সিরিয়ার যুদ্ধে জড়াতে। বর্তমান বিশ্বে তুরস্ক একমাত্র মুসলিম দেশ যেখানে ইসলাম পন্থীরা গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশ পরিচালনা করছে যা মুসলিম বিশ্বের সেক্যুলার গুষ্টি ও ইসলাম বিদ্বেষীরা সহ্য করতে পারছে না!