দানবীয়
বুটের নীচে দলিত বিবেক
রুদ্রাক্ষর
সামরিক
উর্দীর কেন এত আস্ফালন
?
ওতো
বর্বরতার এক উলঙ্গ প্রতীক
!
ও যে বিবেক-আদর্শের
টুঁটি চেপে ধরা
ভয়
জাগানো শোষকের হাতিয়ার
!
আইন-মন্ত্রে
বন্দী দানব,
কপটাচারী আইন-ডক্টরের
চাটুকারী ফতোয়া পেয়ে,
আইন-খাঁচা
ভেঙ্গে নেমেছে লোকালয়ে।
চালাচেছ নির্যাতন পৈশাচিক ত্রাসে,-
পিতৃসম
অধ্যাপক,
সাংবাদিক,
কলামিষ্ট ও শিল্পসেবীদের উপর
!
ওদের
নিষ্ঠুরতার নির্বিকার বর্ণনা
কবিতার
শিল্প-সুষমাকে
করবে অমর্যাদা ।
ওরা
যে বর্বরতার নজীরবিহীন জাহেলিয়াতের চেয়েও তমসাগ্রস্থ
কলংক
ইতিহাস করছে রচনা
!
গুপ্তস্থানে নিয়ে জংলীরাজের নিয়মে
সশ্রদ্ধ
অদ্ধাপকের সবল স্বীকারোক্তির নাটক,-
কোন আইন-বিধিবলে
হলো
?
আইন মৌলভী বড়ই নীরব বিদেশী প্রভুর ঈশারায়,
বুঝি খনি ধ্বংসক তেলদৈত্যের বেতনভোগী
আইনজীবি,
দেশবিক্রির সহযোগী গণশত্রু,
নীরব রয়েছেন নতুন ঈনাম আশায়
?
দানব শক্তি আজ
অক্রয়লভ্য,
নির্লোভ,
আপোষহীন
বিবেক শক্তিরে ধ্বংস করতে চায়,-
র্যাব-সেনারুপ
বর্বর,
লেজ-না-কাটা
অসুরের দল-
রাখিতে
অন্ধকারে গণদেবতার চেতনার ইন্দ্রীয়চোখ
সূচাগ্র-তীক্ষ্ণ
দীর্ঘ-নখর
থাবায়
চেপে ধরে ঐ লোভ-আপোষহীন
তথ্যসৈনিকের
পেশাগত
পবিত্র ধর্ম,
রুধিছে কন্ঠ বিবেক-স্বাধীনতার
হিংস্র
পিশাচে দানবীয় হিংস্রতায়;
ইতিহাস হতে
মূর্খের দল শেখেনি বুঝি কিছুই
!
প্রগতিবাদী
চিন্তার কান্ডারীদের প্রতি
বড় আক্রোশ
বুঝি ঐ জল্লাদদের,
মূর্খরা
কি ভাবে,
দৈহিক নিধন-নিপীড়নেই,
বধ করা
যাবে বিবেকাদর্শ মুক্তচিন্তার সৈনিকদের
?
কী নির্মম
পরিহাস,
ছাত্রজনতা
!
এ সেনারা
নাকি এদেশেরই সন্তান
!
সত্য তো
এই-
বাঙালী নয়
ওরা,
নিজেদের
ওরা বাঙালী ভাবেনা-
মননে মগজে
ওরা,
নিরেট
পাকির নবতর সংস্করণ ।
প্রশিক্ষণ
পেতো করাচিতে আগে,
মগজধোলাই
হত,
এখন যে
পায় রাক্ষসের দেশে,
বদল করেছে
প্রভু ।
মধ্যরাতে
দানবের বুটের সশব্দ পদাঘাত পড়ে
চিন্তাবিদদের ঘরের দুয়ারে,
ছত্রিশ
বছর আগের এক ভয়াল রাতে,
এমনি করে হায়েনারা হেনেছিল আঘাত
জাতির প্রতিভাবান দিশারীদের ঘরের দুয়ারে ।
ধরে নিয়ে যায় পিশাচের দল,
গুপ্তস্থানে-
মেধাশুন্য প্রতিবাদহীন জাতি করে,
,
চেয়েছে রচিতে বিঘ্নহীন শোষনের নয়া-উপনিবেশ
।
ছত্রিশ বছর পরে আজ,
বিপন্ন কম্পিত শিক্ষাবিদের মনের ক্যানভাসে,
ভেসে উঠেছে কি ভয়াল কালোরাত্রির স্মৃতি-
নাৎসি
রচিত বিয়োগান্ত নাটক দৃশ্য
?
শত ধিক্
ঐ অসুরীয় সামরিক উর্দীকে,
লুকোছাপার
কোন চেষ্টাই করেনা ওরা,
অসহিষ্ণু,
বর্বর তবে সচেতন শ্রেণীবিদ্বেষ,
তাই
ঘটিয়েছে বারবার তার উদ্ধত প্রকাশ
!
অসুরদের
হাতে নির্মম নির্যাতনে,
শহীদ হতে
হয় সততার প্রতীক,
গণমানুষের
শেকড়লগ্ন মাটির মানুষ,
বিরল
সমাজকর্মী আদিবাসী চলেশ রিছিলদের ।
চলেশ
রিছিলকে শহীদ হতে হয়,
তিনি যে
বহুজাতিকের বনধ্বংসের প্রতিবন্ধক
!
তিনি যে
আদিবাসীদের অধিকারে সোচ্চার
!
অশুভ
শোষকচক্র সমূল উৎপাটন চায় সমাজদেহ থেকে
সৎ-আদর্শবাদী
প্রতিবাদী মানুষদের ।
সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক
!
নহে কোন
সার্বভৌমের প্রতীক
!
ওদেরই
নির্লিপ্ত চোখের সামনে ৭১'-এ
হলো
মঞ্চস্থ ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা
!
তখনো যে
ওরা কায়েমী স্বার্থে
একই জাতের
পাকি প্রভুদের আদেশ পালনরত
!
যোগ
দিয়েছিল ঐ সেনারা একাত্তরের যুদ্ধে,
পাকি
জমানায় কখনো ওদের
জেনারেল
বানাতোনা বলে
!
কায়েমী
স্বার্থের হিসাব যে বড় পাকা
!
যুদ্ধে ওরা
যোগ দিয়েছিল
স্বাধীন
দেশের নয়া প্রভু হবে বলে,
কোন
চেতনার তরে করেনি যুদ্ধ তারা ।
আমি থুতু
দেই বর্বরতার প্রতীক
ওই সামরিক
ঊর্দীর গায়ে,
যে
ঊর্দীধারী নরাধম পিশাচেরা
জাতির
পিতাকে বধে উন্মত্ত উল্লাসে
!
আজিকার ঐ
সামরিক ঊর্দীধারীর দল,
ওদেরই যে
সুযোগ্য পদাঙ্কধারী
!
জনক
হত্যার বিচারের পদে পদে তাই বুঝি
জংলীশাসক-ঊর্দীধারীর
শত বাধা প্রহসন ।
সেনা-রাক্ষসদের
অসহিষ্ণু শ্রেণীবিদ্বেষের
উৎকট
হিংস্র প্রকাশ,
দেখেছে বাংলার মানুষ
ফুলবাড়ীয়ার বুকে,
যখন
উন্মত্ত পাশবিকতা নিয়ে
এশিয়া
এনার্জির ভাড়াটে কুকুর হয়ে,
ঝাঁপিয়ে
পড়েছে ঘরে ঘরে ঢুকে-
প্রহার
থেকে পায়নি রেহাই কিশোর নারী ও বৃদ্ধ
!
যারা ওদের
গায়ে দেশপ্রেমিকের তক্মা লাগাতে চায়,
হয় তারা
ধুরন্ধর সুবিধাবাদী,
নয়তো
বেহদ্দ বেয়কুফ মূর্খ,
সত্য তো
এই-
ওরা
বহুজাতিক আর দেশীয় লুটেরা শ্রেণীর
দাসানুদাস
চাকর মাত্র,
দূর
নিয়ন্ত্রিত নিপীড়ন যন্ত্র
!
বিশ্বব্যাংক আর বহুজাতিকের স্বার্থপ্রহরী হয়ে,
এদেশবাসীর
করের অর্থ দিয়ে,
চালায় যে
গুলি বীরত্ব ফলাতে স্বদেশবাসীর বুকে ।
পড়েছে
আঘাত আজ যুগ-যুগের
মূল্যবোধে,
বঙ্গহৃদয়ে
শিক্ষাগুরুর পবিত্র আসন-
লুন্ঠিত
আজ অসুরের উদ্ধত বুটের ধুলিতলে,
গুরুমর্যাদার প্রশ্নহীন আসন,
নবপ্রজন্মমানসে প্রশ্নবিদ্ধকরনের
এ কী
কুটিল চক্রান্ত সমরামলা শাসকশ্রেণীর
?
বাঙালী কি ভুলেছে পাকি শাসকচক্রের বারম্বার আঘাত
রবিঠাকুরের
অমর
সৃষ্টি,
ভাষা-কৃষ্টি
আর মুক্তবুদ্ধি মানুষদের উপর
!
ভুলেছে কি এ দেশ বুদ্ধিজীবি হত্যার কৃষ্ণ-করুণ
ইতিহাস
!
ওদেরই প্রেতাত্মা এ দেশের সেনা-আমলা-গোয়েন্দারা
পাকিষ্টাইলে আজও হানছে আঘাত
মুক্তচিন্তার সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের উপর
!
পিতৃসম সশ্রদ্ধ অদ্ধাপকদের উপর
!
বঙ্গমানসের চিরায়ত আবেগসিক্ত শ্রেয়বোধে
শঠতার
নির্মম অবমাননার গ্লানি-
আপন
শিক্ষকের লাঞ্চনা-অপমান
কি
ছাত্রসমাজের আত্মগৌরবকে করেনা বিদ্ধ
?
এ দেশের ছাত্রযুবা কি বিস্মৃত হয়েছে পূর্বসুরীদের গৌরবগাঁথা
?
একুশের মহান চেতনা রক্তমূল্যে কেনা
-
অন্যায় অসত্য আর কায়েমি প্রতিষ্ঠানের কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা?
আর কত পাপ-অন্যায়
শোষণ নিষ্পেষণের
ক্ষোভ জমা
হলে বিসুভিয়াস জেগে উঠবে
?
এখনো কি ভাঙ্গবে না ঘুম
?
উঠবে না জেগে আগ্নেয়গিরি মহাবিস্ফোরণে
ধ্বংস স্তব্ধ করে দিয়ে অশুভ কালো শক্তির সদম্ভ আস্ফালন
!