রিভার ব্লাইন্ডনেস -- যে রোগের নাম প্রথম শুনলাম
রাজ্জাক রাজা
জাতি সংঘ শান্তি রক্ষা মিশন,সুদানের
দুই b¤^i
সেক্টরের
ওয়াউ টিম সাইটে যোগদানের পর দিন আমার সহকর্মীরা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন
আমি রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগের প্রতিশেধক নিয়েছি কি না।
কিন্তু
রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগের টিকা নেয়া তো দূরের কথা আমি আজই প্রথম এই
রোগের নাম শুনলাম।
সবাই আমাকে
দ্রুত এই রোগের প্রতিশেধক নিতে বললেন।
আমি নার্সকে
রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগের ঔষধ দিতে বললে তিনি চারটি ট্যাবলেট দিলেন যা
খারারের পর এক সাথে খেতে হবে।
বড়ি গুলো
ছিল খুবই ছোট ছোট।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগের নাম হল
অনচুসারসিয়াসিস (onchocerciasis)|
শরীরের ভিতর
এক প্রকার প্রটোজোয়া বা পরজীবী জীবানু প্রবেশ করে এই রোগের সৃষ্টি করে।
ডাক্তারী
ভাষায় প্রটোজোয়াটির নাম নেমাটোড অনচোসার্কা
fjwfDjvm(Nematode
Onchocerca Volvulus)|
প্রকার কালো
রঙের মাছি থেকে এই রোগ ছড়ায়।
রিভার
ব্লাইন্ডনেস রোগের বাহক মাছির ডাক্তারী নাম হল সিমুলীয়াডী (Simuliidae)|
সিমুলীয়াডি
পরিবারের কালো স্ত্রী মাছিরা সাধারণতঃ রক্ত পান করে এবং রক্ত শোষণকালে
মানব শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
রিভার
ব্লাইন্ডনেস রোগের বিস্তার পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা জুড়ে।
এছাড়াও আরব
উপদ্বীপ ও আমেরিকা অঞ্চলেও এই রোগের সংক্রামণ লক্ষ্য করা যায়।
রোগের লক্ষণ
গুলো হলঃ পুরুষের ক্ষেত্রে অন্ডকোষ বড় হওয়া,
শরীরের
বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে,
পায়ের সিন
মাসলে ঘা হওয়া,
শরীরের
বিভিন্ন স্থানে আব বা টিউমার হওয়া এবং সর্বোপরি চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়া।
রিভার
ব্লাইন্ডনেস রোগের ফলে শরীরে চুলকানী জাতীয় ফুসকুড়ি তৈরী হয়।
এই ফুসকুড়ির
পরে শরীরের চামড়া নীচের রঞ্জক পদার্থ নষ্ট হয়ে যায় যা চামড়ার ক্যান্সার
বলে ভুল হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এখন প্রায় ০১ কোটি ৮০ হাজার মানুষ রিভার
ব্লাইড রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এদের মধ্যে
২০ লাখ লোকের কোন না কোন প্রকার দৃষ্টিহানী হয়েছে এবং চার লাখ লোক সম্পূর্ণরূপে অন্ধত্ব বরণ করেছে।
রিভার
ব্লাইন্ডনেস রোগের পরজীবী বহনকারী কালো মাছির আবাস
ও বংশ
বৃদ্ধির স্থান
হল
অপেক্ষাকৃত নিম্ন ভূমি,
সব ধরণের
জলাশয়,
নদী-নালা,
খাল-বিল
ইত্যাদি।
তাই
এই সব এলাকায় যারা বসবাস করে বা জীবীকার জন্য যারা এই সব এলাকায় কাজ
করে মুলতঃ তারাই এই রোগে আক্রান্ত হয়।
মধ্য ও
পশ্চিম
আফ্রিকার
কিছু কিছু দেশে রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগের সংক্রাম এক সময় এত ব্যাপক হারে
ছড়িয়ে পড়েছিল যে এই রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য
মানুষ
তাদের নিম্ন এলাকার উর্বর ভূমি পরিত্যাগ করে পাহাড়ী এলাকার অনুর্বর ভূমিতে বসবাস
করতে বাধ্য হয়েছিল।
গুয়াতেমালার
মতো কফি উৎপাদনকারী
দেশে কফি প্রক্রিয়াজাত করণ কাজে শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।
কারণ কফি
উৎপাদন কারী এলাকা সমূহেই এই রোগের
বাহক
কালো
মাছি সবচেয়ে বেশী
হারে বংশ বৃদ্ধি করে।
ইথিওপিয়ায়
একজন মানুষকে বিশেষ করে এক জন শিশুকে প্রতি বছর ২০
হাজারের
অধিকবার রিভার ব্লাইন্ডনেসের
বাহক মাছির
কামড় সহ্য করতে হয় বলে জানা যায়।
আমরা জাতি সংঘের শান্তি রক্ষক হওয়ায় রিভার ব্লাইন্ডনেস রোগের প্রতিশেধক
বিনা পয়সায় পেয়ে গেলাম।
কিন্তু
মধ্য ও পশ্চিম
আফ্রিকার হাজার
হাজার মানুষ প্রতি বছর এই রোগের আক্রমণের ফলে নানা রকমের শারীরিক জটিলতায়
ভুগছে।
কেউবা
চিরতরে অন্ধ
হয়ে যাচ্ছে।
অনেক স্থানে
এই রোগের
সংক্রামণের
ভয়ে
ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ তাদের
¯^vfvweK
কাজ কর্ম ছেড়ে
অন্যত্র চয়ে যাচ্ছে।
তাদের আবাদী
উর্বর
জমি অনাবাদী পড়ে
থাকছে এবং পরিণতিতে দেশে খাদ্যাভাব
দেখা
দিচ্ছে।
অথচ মাত্র
চারটি মিনি সাইজের টেবলেট এক বারে খেয়ে নিলেই এই রোগ থেকে রেহাই
পাওয়া যায়।
কিন্তু
কোথায়
পাবে তারা এই
প্রতিশেধক?
কোথায়
পাবে প্রতিশেধক কেনার প্রয়োজনীয় অর্থ?
সুদানের
যুদ্ধরত পক্ষ গুলোর সেনাবাহিনী
তো বটেই
এমনকি পুলিশ বাহিনীর হাতেও অত্যাধুনিক
অস্ত্র
দেখতে
পাওয়া যায়।
কিন্তু
রিভার ব্লাইন্ডনেস প্রতিরোধের মাত্র চারটি টেবলেট সরবরাহ
করার মতো
অর্থ তারা যোগাড় করতে পারে না।
(ওয়াউ,পশ্চিম
বাহার-উল-গজল,দক্ষিণ
সুদান)
১৫
মে/২০০৮