সদালাপ: দেশী-বিদেশী বাংলাদেশীদের -জার্নাল

Shodalap: An inclusive e-journal for Bangladeshis at home and abroad
 

 

 

 

 

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

জালাল কবির

 

বেশ কয়েক মাস হলো বাংলাদেশ থেকে ঘুরে এলাম আমরা যারা বাংলাদেশে যাই আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বিভিন্ন  রকমের অভিজ্ঞতা হয় এবারে ও তার ব্যতিক্রম ছিলনা তবে আজকের বর্ণিত ভ্রমনটা ছিল একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার কারণ আমার আত্মীয় যারা আমাদেরকে জিয়া বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা করার কথা হঠাৎ এক জরুরী কারণে তারা কেউ আসতে পারেনি সুতরাং এয়ারপোর্টের ঝামেলা পোহাবার আশঙ্কায় মনটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল এবারে আমার সাথে আমার স্ত্রী এবং দ্বাদশ বয়েসী মেয়ে প্রতিভা ভ্রমন সাথী ছিল প্রতিভার বয়েস যখন সাড়ে তিন সে তখন বাংলাদেশে গিয়েছিল এর পর আর যাওয়া হয়নি তার মনে এবং আমার স্ত্রীর মনে ছিল দারুন রোমাঞ্চ।  অতীতের অভিজ্ঞতায় এয়ারপোর্টের জ্বালাতন কখনও ভুলে যাবার নয় তাই মনে নানা রকম চিন্তার তোলপাড় হচ্ছিল যথা সময়ে জিয়া বিমান বন্দরে পৌছার পর, গ্রীন চ্যানেল দিয়ে আমরা সহজেই ইমিগ্রেশান কাউন্টারে উপস্থিত হলাম মাত্র একজন অফিসার এই লাইনে কাজ চালিয়ে যাচ্চিলেন কিছুক্ষণের মধ্যে আরেক জন অফিসার এসে অপর একটি কাউন্টার খুললেন তারপর আমাদের দিকে দৃষ্টিপাত করে হাতের ইশারায় ডেকে বললেন প্লিজ কাম ইন দিস লাইন, লেডিজ ফাষ্ট এরকম আহবানে মন উৎফুল্ল হয়ে উঠলো কারণ ফেমেলির সাথে লেডিজ বলতে এই লাইনে মাত্র আমরা দুটি পরিবার ছিলাম সব কিছুই ঠিকটাক ভাবে হচ্ছিল তবে কানাডীয় পাসপোর্ট থাকার জন্য আমাদের তিন জনের জন্য  তিনটি অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হয়েছিল আমাদের বেগেইজ গুলোতে শুল্ক কর আরোপযোগ্য বিশেষ কিছু না থাকাতে ফরমটি পূরণ করতে আমাকে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি ইমিগ্রেশন কাউন্টার সহজেই অতিক্রম করা গেল কোন ঝামেলা ছাড়াই মনে মনে ভাবলাম বাংলাদেশ তাহলে সত্যি বদলে গেছে পাসর্পোটে সীল-ছাপ্পড় হয়ে গেল হাতের বেগেইজগুলো নিয়ে আমরা তিনজন খুঁজতে লাগলাম অন্যান্য মালামালগুলো একজন সিকিউরিটি অফিসারকে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন লাগেইজ কাউন্টার।  চেয়ে দেখি সেখানে বিশৃঙ্খল ভাবে যাত্রীরা মালামাল টানাটানি করছে ঠিক যেন জলা করার মত  একটা অবস্থা মালামালের দায়িত্বে  নিযুক্ত কর্মচারীরা ঘুর্ণায়মান বেল্ট থেকে বাক্সগুলি অপরিকল্পিত ভাবে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত করে ফেলে রেখেছে কার বাক্স কে নিয়ে যায় তার কোন চেকআপ নেই তাই শঙ্কিত মনে নিজেদের লাগেইজগুলো খুঁজছিলাম আমার স্ত্রী ও মেয়ে এতই ক্লান্ত যে মনে হচ্ছিল তারা হাঁটতেই পারবেনা তবুও বুদ্ধি করে হাতের সব লাগেইজ গুলো এক পাশে রেখে সেগুলো পাহারা দেয়ার দায়িত্বে তাদেরকে নিযুক্ত করে নিজে ছুটলাম লাগেইজগুলোর খোজ করতে বাংলাদেশ থেকে যে হারে বর্তমানে যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন বেড়েছে এতে করে এয়ারপোর্টে স্থানা সংকুলানের বিষয়টি সহজেই চোখে পড়ে।  প্রচুর যাত্রী  এবং লাগেইজগুলোর জন্য নড়াচড়া করা যাচ্ছিল না দুটো ভিন্ন বেল্ট দিয়ে মালামাল আসছিল কোন ফ্লাইটের মালামাল এগুলো? তার কোন নির্দেশ ছিলনা বলে ঝামেলাটা বেড়েই গেল অপেক্ষা, খোজাখুজি, গরম এবং বিরক্তিতে মনটা হাফিয়ে উঠছিল হঠাৎ পেয়ে গেলাম দুটো লাগেইজ, একটি বেল্টের উপরে অপরটি বেল্ট থেকে সরিয়ে রাখা কয়েকটি লাগেইজ এর নীচে চাপা পড়া অবস্থা এবার ট্রলি বা ওয়াগেন খোঁজার পালা কিছুদূর হেঁটে আমাকে নিয়ে আসতে হল একটি ট্রলি সেটার উপরে লাগেজ দুটো তুলে নিয়ে গেলাম আমার স্ত্রী ও মেয়ের কাছে ঘামে আমার শার্ট  ভিজে একাকার তাদের মুখে বিরক্তির চিহ্ন বুঝিয়ে বল্‌লাম অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই খুব সন্নিকটে ড্রিঙ্ক করার মত ও কোন সুযোগ নেই আর মালামাল রেখে শীতল পানীয় খুঁজতে যাওয়া নিরাপদ নয় ভেবে আমার স্ত্রী ও মেয়ের মনটা ভারী হয়ে আছে আমি আবার ছুটলাম অন্য লাগেইজ গুলো আনতে প্রায় দেড় ঘন্টার মত সময় পার হয়ে গেল বাকী লাগেইজগুলো পেতে একজন যুবক বয়েসী পোর্টার এসে আমাকে সাহায্যের জন্য আকুতি করতে লাগলো আমি বল্‌লাম কত দিতে হবে তা আগেই জেনে নেয়া দরকার যুবকটি বললো কোন নির্দিষ্ট ফি নেই স্যার আমরা আপনাদের হেলপ করি, যা খুশীমনে দেবেন তাই নেব বল্‌লাম এটাতো সেই পুরানো গান যুবকটি হাত জোড় করে বল্‌ল স্যার বর্তমান সরকার খুবই কড়া দেখতে পাচ্ছেন না ভিতরে কেউ ঢুকতে পারছেনা আমরা যারা এখানে লিগেলী চাকুরী করি তারা ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারেনা সুতরাং আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার কি কোন লোক বাইরে অপেক্ষায় আছে? আমি বল্‌লাম অবশ্যই আছে কিন্তু যোগাযোগ করার মত কোন মোবাইল ফোন নেই তুমি কি এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারো? তোমধ্যে আরেকটি লোক এসে আমাদের মালামাল গুলো বাইরে পৌছে দেবার জন্য উদযোগী হলো আমি বল্‌লাম উনি কে? যুবকটি বললো উনি এবং আমি আমরা সারাদিন একসাথে কাজ করি এবং দিন শেষে আমরা যা বখশিস পাই তা দুজনে সমান ভাগাভাগি করে নেই এ কথাটি বলতে বলতে যুবকটি তার পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে কোন নাম্বারে ফোন করতে চাই সেই নম্বরটি বলার জন্য অনুরোধ জানালো।  আমার স্ত্রীর হাত বেগ থেকে একখানা ছোট্ট ফোন বুক বের করে নাম্বার বলে দিলাম যার কাছে ফোন করেছি তিনি সম্পর্কে আমার স্ত্রীর তালতো বোন ঝুনু আপা ফোন ধরে তিনি বললেন তোমাদের ভাগ্য খুব ভাল, যদি আর দুই/ তিন মিনিট দেরী করতে তাহলে আমাদের কাউকে তোমরা পেতেনা কারণ আমরা এই মুহূর্তে অন্যত্র নিমন্ত্রণে চলে যেতাম কী ব্যাপার? বলা নেই  কওয়া নেই কেন আমাদেরকে তোমরা আসার খবরটা আগে জানাওনি কিছুটা আদুরে ধমক খেলাম বল্‌লাম বাসায় এসে বিস্তারিত বলবো যাক একটা উপায় হলো, ভাগ্যক্রমে আমার সমন্ধিকের ছেলে ও তার মামাতো ভাই এসময় ঢাকাতে ছিল তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বললো চিন্তা করবেননা আমরা ঘন্টা খানেকের মধ্যেই এয়ারপোর্ট আসছি লাগেইজ কয়টি? বল্‌লাম বড় ৬টি আর ছোট পাঁচটি যে ফোন থেকে আপনারা ফোন করেছেন এই নাম্বারে ফোন করলে কি আপনাদের সাথে যোগাযোগ হবে? আমি যুবকটিকে বল্‌লাম ভাই আপনার মোবাইল নাম্বারটিতে কি আমার আত্মীয়রা যোগাযোগ রাখতে পারবে? যুবকটি হাসিমুখে বললো কী যে বলেন স্যার আপনাদেরকে গাড়ীতে উঠিয়ে দিয়ে তবেই আমাদের কাজ শেষ হবে, এর আগে নয় আপনারা এখানে বসে অপেক্ষা করুন আপনার আত্মীয় ফোন দিলে আমি খবর নিয়ে আসবো এবং  আপনাদেরকে গাড়ীতে তুলে দেব আপনারা এখান থেকে অন্য কোথাও সরে যাবেন না তা না হলে আপনাদেরকে খুঁজতে আবার ঝামেলা হবে আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম যুবকটি তার সাথীকে বললো তুই স্যারদের দিকে নজর রাখবি, অন্য কেউ এসে যেন উনাদেরকে ডির্ষ্টাব না করে কেউ এসে হেলপ করতে চাইলে আপনারা বলবেন আমরা বুক্‌ড এভাবে ইংলিশ বাংলা মিশিয়ে কথা বলতে বলতে যুবকটি দ্রুত পায়ে চলে গেল অপর পাশের ভীড়ের দিকে নিশ্চয়ই তার উদ্দেশ্য আরো কাষ্টমারদের হেলপ করে বখশিস কামানো।  আমার আত্মীয়রা এয়ারর্পোট আসতে আরো ঘন্টা দেড়েক সময় চলে গেল মালামাল নিয়ে আমরা যখন গেট অতিক্রম করবো ঠিক তখনই একজন কাষ্টমস অফিসার এসে বললেন আপনারা কোথা থেকে আসছেন’ ? আমি বল্‌লাম ক্যানাডা থেকে তিনি পুরায় বললেন আপনাদের পাসপোর্টটা দেখি পাসপোর্ট দেখালাম ঠিক আছে, ধন্যবাদ এই বলে তিনি চলে গেলেন পোর্টার যুবক এবং তার সাথী মালামাল গুলো গাড়ীতে তুলে দিয়ে বখশিসের অপেক্ষায় আমাদের মুখপানে তাকিয়ে রইলো আমি বিশ ডলারের একটি নোট যুবকের হাতে গুঁজে দিলাম ছেলেটি খুশী হযে বল্‌ল স্যার আপনাকে ধন্যবাদ, যদি থাকে তবে আরও ১০টি ডলার দিন, আমরা গরীব মানুষ খুশী হয়ে আপনাদের জন্য দোয়া করবো একথা শুনে আমার স্ত্রী তার হাত বেগ খুঁজে  দশ ডলারের কোন নোট পেলেন না যা আছে তা একশো ডলারের নোট ইতিমধ্যে আমার আত্মীয়রা যুবকদের ধমক দিয়ে সরিয়ে দিলেন বললেন বিশ ডলার যথেষ্ট পয়সা কোন কমতি হয়নি যাও ভাগো এখান থেকে ওরা চলে গেল বাংলাদেশে এসে সবচেয়ে যে জিনিষটি আমার দৃষ্টি কেড়েছে তা হলো বাংলাদেশে সেল ফোনের বিপুল ব্যবহার ধনী গরীব বলে কথা নেই, সবাই চায় একটি নিজস্ব সেল ফোন বিদেশ থেকে কারো জন্য কিছু না নিয়ে বরং একটি সেল ফোন উপহার দিলে আত্মীয়রা ভীষন খুশী হন যেন সোনার হরিণ মাসে মাসে বিল পেমেন্টের ঝামেলা নেই নগদ টাকা দিয়ে ফোন কার্ড কিনলেই হলো অথবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে আছে ফ্লেক্সি লোডের ব্যবস্থা যত টাকার ইচ্ছে ফ্লেক্সি লোড করতে পারেন সাথে সাথে আপনার সেল ফোনের আর্থিক ক্ষমতা বেড়ে যায়।  অর্থাৎ কথা বলার জন্য আপনার সেল-ফোনে কত টাকা মজুত আছে তা  ফ্লেক্সি লোড করার সাথে সাথে জানা যায় এবং দেখা যায় বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই সেল ফোন বা মুঠোফোন বড়ই চমক বিশ্বের যে কোন যায়গায় যে কোন সময় আপনি কথা বলতে পারেন স্বচ্ছন্দে বাংলা লিংক, সিটি সেল, ওয়ারিদ এবং গ্রামীন ফোন  দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছে বাংলাদেশে।  গ্রামীন ফোনের ব্যবসা সবচেয়ে বেশী, তারপরে বাংলা লিংক এবং সিটি সেল সেট্‌ হিসেবে নকিয়া সিরিজের ফোন বাংলাদেশে ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশী দাম ও তুলনামূলক ভাবে কম এ ছাড়া স্যাসং, সনি, মটরোলা ইত্যাদি বিদেশী কোম্পানীর অনেক ধরনের সেট্‌ কিনতে পাওয়া যায় এগুলোর লক খোলা, লক লাগানো, মেমরীকার্ড সংযোজন, রিপিয়ারিং, গান ও ইমেইল সংযোজনের জন্য স্থানে স্থানে মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে দেশে প্রচুর রাস্তা ঘাট হয়েছে যদি ও তা পাশ্চাত্যের তুলনায় তেমন কিছু নয় কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি গরীব দেশের জন্য তা প্রশংসার দাবী রাখে শহরে এমনকি মফস্বলের অনেক এলাকায় শপিং করতে গেলে মনে হবে এই দেশে কাপড়ের কোন অভাব যেন কখনও ছিলনা কাপড় এবং ফ্যাশন ডিজাইনের ছড়াছড়ি বাংলাদেশের সর্বত্রই কিন্তু ক্রয় ক্ষমতা এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে মানুষ কি ভাবে আরও আধূনিক হবে, স্মাট হবে এই চিন্তাই যেন এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের দেশে প্রচুর নতুন লেখকদের বই বেরিয়েছে, বেরিয়েছে প্রচুর সাপ্তাহিক এবং মাসিক ম্যাগাজিন দেখে খুব ভাল লাগলো বাড়ছে কম্পিউটারের ব্যবহার তবে ইন্টারন্যাট সিসটেম বলতে প্রায় তরুন ও যুবকরা মনে করেন আন্তর্জাতিক ফোন করার ব্যবস্থা তদ্রুপ কমিউনিটি সেন্টার বলতে দেশের মানুষ মনে করেন বিয়ে বৌভাত ও  ব্যক্তিগত উৎসবের জন্য যেখানে খাবার দাবার এর ব্যবস্থা করা হয় উহাই কমিউনিটি সেন্টার যেমন করে আমরা ছোট্ট বেলায় লজেন্স ক্যান্ডি ও চকলেটের মধ্যে কোন পার্থক্য বুঝতামনা দেশে ভোগ্য-পণ্যের ব্যবহার বেড়ে চলছে অপ্রতিহত গতিতে বিদেশী কোম্পানীর পণ্যের কোন অভাব নেই পাশাপাশি দেশীয় ভোগ্য পণ্যের উৎপাদন ও কম নহে তবে বিদেশী কোম্পানীগুলো প্রচুর মুনাফা লুটছে বাংলাদেশ থেকে দেশের মানুষ যাহাতে নিজের দেশের তৈরী প্রতিটি দ্রব্য ব্যবহার করতে বাধ্য হয় এরকম কোন একটা ব্যবস্থা বের করা ঊচিৎ এতে আমাদের জাতীয়তাবোধ দৃঢ় হবে, বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা, বাড়বে কর্ম সংস্থা বাংলাদেশের সিরামিক ইন্ডাষ্ট্রির তৈরী তৈজষপত্র অত্যন্ত টেকসই যা ডিজাইনে ও শোভনে চমৎকার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এগুলো রপ্তানী হচ্ছে দেশে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় সংযোজিত হয়েছে উন্নত মানের কোচ সার্ভিস যা সত্যি প্রশংসার দাবী রাখে জাপান ও সুইডেনের তৈরী উন্নত মানের বিশাল কোচ গুলি বাংলাদেশের রাস্তা কাঁপিয়ে বিজয়ী বীরের মত ছুটে চলছে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় কিন্তু সাধারণ যাত্রীবাহী পরিবহন ও এর সার্ভিস ব্যবস্থা খুবই নাজুক এসব পরিবহনের মালিক ও ড্রাইবারদের চিন্তা চেতনায় সময় বা টাইমের কোন মুল্য নেই এসব পাবলিক পরিবহন গুলোতে নিয়মের অতিরিক্ত সিট বসিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে সিট গুলো চারদিক থেকে খুবই কৃপণসুলভ, বসলে মনে হবে মিলিটারীর শাস্তি দেয়া হচ্ছে যাত্রীদের হাটু ভাঁজ করে  বসা মহা মুশকিল এসব সীটে বসতে গেলে মনে হয় বাংলাদেশের মানুষের উচ্চতা কিছুতেই চার ফুটের বেশী হওয়া ঠিক নয় ভাড়া ও কোন অংশে কম নয় গাড়ীওয়ালাদের এই যে ধূর্তামীর অত্যাচার, এর থেকে কি কোন কালে আমাদের পরিত্রাণ হবেনা? একটি দেশের মানুষের মন মেজাজ কত উন্নত ও সুন্দর তার প্রমাণ হয় যদি সেই দেশের পরিবহন ব্যবস্থা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয় আমাদের জীবন যাত্রার অনেক  কিছুতেই উন্নতির ছোয়া লাগলেও  লঞ্চ, স্টীমার এবং সড়ক পরিবহনের মটর যানগুলোর যে সার্ভিস ব্যবস্থা চালু আছে তা অচিরেই রোধ করা উচিৎ অভার লোড বা অতিরিক্ত মাল বোঝাই বা মানুষ বোঝাই এর বিরুদ্ধে এই সরকার কোন দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারেনি এ কারণে অকাল মৃত্যু, পঙ্গুত্ব এবং নানাবিধ ছোয়াছে রোগ বেড়েই চলছে আমি বাংলাদেশের মিনিষ্ট্রি অব ট্র্যান্সর্পোটেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি যত দ্রুত সম্ভব পাবলিক ট্রান্সর্পোটেশনের পোড়ামড়াদাহ দোষটির প্রতি আপনারা নজর দেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের যাতায়াতকে নিরাপদ, নিরুদ্বেগ ও  স্বাচ্ছন্দ্যপুর্ণ সার্ভিস দিয়ে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত করুন নিকট পাল্লার যাতায়াতের জন্য দেশে এখন তিন চাকা বিশিষ্ট ক্ষুদ্র মটর-যানের ব্যাপক ব্যবসা চলছে এই যানগুলো ভারত থেকে একচেটিয়া আমদানী করা হচ্ছে দাম আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা আগে আগে আমরা এটাকে বেবী টেক্সী বলতাম এখন এই তিন চাকা বিশিষ্ট মটর যানটির দুটো নাম প্রচলিত আছে একটি হচ্ছে ফোরস্ট্রক যা কেবল পেট্রল দ্বারা চলে অপর নাম হচ্ছে সিএনজি যা আমাদের দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস দ্বারা চলে আমি একজন পরিচিত সিএনজি চালককে বল্‌লাম সিএনজি এর ব্যাখ্যা কি হয় জানেন? উনি বললেন সঠিক জানিনা, তবে আমার মনে হয় সিলিন্ডার ফর নেচারেল গ্যাস হবে কারণ এই গাড়ীর মধ্যে আমরা সিলিন্ডার এর মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করছি আমি তামাশা করে বল্‌লাম ক্যানাডিয়ান নিউ গ্রুপ কিংবা ক্যানাডিয়ান ন্যাশনেল গেইম হলে কেমন হয়? এই নিয়ে আমরা অনেক হাসাহাসি করলাম তুলনামুলক ভাবে সিএনজির ভাড়া ফোরস্ট্রক থেকে প্রচুর কম, প্রায় অর্ধেক

 

দেশে খাওয়া দাওয়ার প্রতি মানুষের রুচি এখন বাড়ছে মোটা হয়ে যাওয়াটা আজকাল মানুষ আর পছন্দ করছেনা দেশে অতি সুস্বাদু  মিষ্টিদ্রব্য,বেকারী বিস্কুট এবং দই পাওয়া যায় বনফুলের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে মধুবন, মউচাক, রাজমহল, মোহনলাল, মুসলিম প্রভৃতি নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশুদ্ধ পানির প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রচুর বাড়লেও গ্রাম গঞ্জে এখনও পানি ফুটিয়ে পান করা এবং ফিল্টার করে পান করার মধ্যে কি তফাৎ তা মানুষ পরিস্কার ভাবে বুঝে উঠতে পারেনি পানি ফুটালে জার্ম কিংবা ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়, কিন্তু ফিল্টার করা পানি কখনও জার্ম মুক্ত হয়না, যদিও তা দেখতে কিংবা পান করতে ভাল লাগে এই জ্ঞানটুকু জনমনে পৌছানোর দায়িত্ব অতি সহজ অথচ তা জানান দেয়া হচ্ছেনা অবহেলা, অলসতা এবং সচেতনতার অভাবে জনস্বার্থ  পরিকল্পনার আওতায় রেডিও টেলিভিশনে এর প্রচার দিলে মানুষ সচেতন হয়ে যাবে এতদ্ব্যতীত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বারা গ্রামীন হাট-বাজারে পোষ্টার লাগিয়ে এবং  শুক্রবারে মসজিদের ইমাম দ্বারা ঘোষণা দিলে সহজেই মানুষের কাছে এই বার্তা পৌছে যাবে মাম্‌স এবং প্রাণ নামের কোম্পানীগুলোর বোতলজান পানির ব্যবসা দেশে খুব ভালই চলছে এক বিংশ শতাব্দির শুরুতে বাংলাদেশের মানুষের মুক্ত বন্ধুত্ব এবং নারী অধিকারের প্রতি অনেক সচেতনতা বেড়েছে বলে বহু প্রমাণ পাওয়া যায় যদিও পাশাপাশি রক্ষণশীলতা  নিষ্ঠুরতা শঠতা ও স্বজনপ্রিয়তা দাপটের সাথে ঠিকে আছে সিলেটের মত রক্ষণশীল এলাকায় মেয়েরা শালীন পোষাক ও হিজাব পরে পুরুষের ভীড়কে তোয়াক্কা না করে শপিং করছে ইচ্ছে মত কদাচিৎ নারী-পুরুষদের মধ্যে হাত ধরাধরি করে হাঁটা ও চোখে পড়ে সিলেটের শহরাঞ্চলে এবং পৌর এলাকায় এসব নিয়ে মানুষ আর আগের মত মাথা ঘামায়না সারা দেশ জুড়ে নারী পুরুষরা মুঠো ফোনে কে কার সাথে কথা বলছে কিংবা বন্ধুত্ব করছে  তা নিয়েও এখন মানুষের মধ্যে কোন দুশ্চিন্তা নেই দেশে বেড়ে চলছে রূপ চর্চার জন্য বিউটি পার্লার এবং কাপড় চোপড়ের ফ্যাশন বুটিক পাশাপাশি আছে ইমিটেশনের আকর্ষণীয় গহনা সামগ্রী বা জুয়েলারী বিয়ে শাদীর উপলক্ষে বর পক্ষের মানুষ যখন কনে বা পাত্রী দেখতে যায় তখন পাত্রীরা চট করে বিউটি পার্লার থেকে এমন ভাবে সেজে আসে যা বুঝে উঠা দায় আসল রূপ ঢাকা পড়ে যায় নকলের কাছে হ্যারবাল আর ক্যামিক্যাল দুয়ের দাপট বড়ই প্রখর বর্তমান তত্বাবধায়ক সেনা সরকার আপ&