উত্তরাধুনিক ছড়া -
২
দেওয়ান আবদুল বাসেত
সব্যসাচী
সউদী আরবে কর্মরত আমার স্বজাতি ভাইদের মাঝে স্বঘোষিত সব্যসাচী লেখকদের
থুরে থুরে হাজারও পেন্নাম (প্রণাম) করেই আমার এই নতুন ছড়ার জন্ম।
‘সো’
আমার ঐ সকল তিরিক্ষি মেজাজের ছড়াগুলো মৌসুমী যে সকল লেখক বন্ধুদের
গাত্রদাহের সৃষ্টি করেছে,
ঠিক তাদেরই করকমলে আমার নতুন প্রজন্মের ছড়াটিকে অর্পণ করা হলো।
এরা কবিতা লিখেন অথচ কোন নিয়মকানুনের বালাই নেই তাদের লেখায়।
পড়াশোনাহীন রুগ্ন মানসিকতার এই লেখকদের হাতেই সুন্দরী কবিতারা
হর-হামেশা ধর্ষিত হচ্ছে।
সুন্দরী কবিতারা হচ্ছেই ধর্ষিত !!
শিরোনামে আমার একটি ছড়া (মূলত এই শ্রেণীর লেখকদের নিয়েই লেখা) ছড়াটি
পড়ে রিয়াদের সেরা রসিকজন ড. আরিফুর রহমানের মত পন্ডিত ব্যক্তির
প্রতিক্রিয়ার ভাষায় - ‘শরীয়া
কোর্টে এই সুন্দরী কবিতা ধর্ষকদের বিচার হওয়া উচিত’.......।
আমার সুন্দরী কবিতারা হচ্ছেই ধর্ষিত !! প্রকাশের পর হঠাৎ করেই জেদ্দার
আকাশে উদয় হলেন লেখক আবুল বাশার বুলবুল।
অসৌজন্য আর কটাক্ষের যত শব্দ আছে সবই তিনি তার লেখায় প্রকাশ করেছেন।
তাতে আমি নাখোশ না হয়ে খোশই হয়েছি।
তবে আমি যে শব্দ দুটির জন্য জনাব বুলবুলকে আমাদের ছড়াকারদের কাঠগড়ায়
সারাজীবনের জন্যে দাঁড় করালাম... তাহলো তিনি তাচ্ছিল্যের স্বরে বলেছেন
(সকল কবিগন হচ্ছেন ঈগল সেখানে ছড়াকারগন শুধুমাত্র টুনটুনি।)
বেশ ভালো কথা,
তবে তিনি (বুলবুল)
কিন্তু
বলেননি,
তিনি কোন প্রজাতির লেখক!!?
সব্যসাচী
তিনি নরম-গরম লেখেন
ঠান্ডা-শীতল চরম লেখেন
সভ্য লেখেন
ভব্য লেখেন
এক ফাঁকে অসভ্য লেখেন!
ইতিকথার কালটি লেখেন
বেশ্যা-মাগীর হালটি লেখেন
হাংকি লেখেন
পাংকি লেখেন
ডাংকি এবং মাংকি লেখেন !
তাতেই নাকি খেতাব পেলেন
সব্যসাচী গুরু !?
আমরা যারা ‘ব্লাকবেঙ্গল’
বাদ্য করি শুরু!।
ছড়া
লেখা নিয়ে ছড়াকারের কিছু কথা:
*কবি
গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো-গুরুজী বড়দের জন্য আপনার
লেখার ভান্ডার বিশালকায় কিন্তু
ছোট্ট শিশুকিশোরদের জন্য আপনার সে ভান্ডার এত ক্ষীণকায় কেন?
উত্তরে তিনি বলেছিলেন-...সহজ করে বলতে তোমরা কহ যে / সহজ কথা যায় না
বলা সহজে...।।
সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশে তাই কিছু বলতে চাই।
এই বলাটি ধৃষ্টতা হয়ে গেলে ক্ষমা করবেন।
আসলে ছড়াকারদের প্রধান চেষ্টা এবং দায়িত্বই হচ্ছে,
সহজ কথাকে সহজ করে বলা।
যার জন্য তারা সবসময়ই বৈরী বাতাসের মুখোমুখী হয়ে অপ্রস্তুত
হন।
অপ্রস্তুতই
বা হবেন না কেন?
আমরা জানি... সত্য কভু মিষ্টি নয় / দোয়েল শ্যামার শিষটি নয় / সত্য বলায়
কষ্ট হয় / কত্ত শত নষ্ট হয় / তবুওতো আসল নকল / সত্য দিয়েই পষ্ট হয়।।..
তবে সেই বৈরী বাতাসের ছোঁয়াটাও ছড়াকারদের একটি বড় প্রেরণা বলেই আমি
মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।
সেই উত্তরাধুনিক ছড়া দু’টি
প্রকাশ করেন আশির দশকের একজন মেধাবী ছড়াকার অষ্ট্রেলিয়া হ'তে
প্রকাশিত প্রথম ইন্টারনেট বাংলা পত্রিকা
’বাসভূমি’
সম্পাদক বন্ধুবর আকিদুল ইসলাম।
সেই ছড়া দু’টিই
অতীব যত্ম সহকারে প্রকাশ করলেন সুইজারল্যান্ড থেকে প্রকাশিত
‘সদালাপ’
এর সম্পাদক,
বন্ধুবর ড. ইঞ্জিঃ আমান উল্লাহ।
ছড়া দু’টি
নিয়ে এক বিশাল প্রতিক্রিয়া পেয়েছি আমি ই-মেইলে।
আমি সর্বমোট ৬২৩টি মেইল পেয়েছি।
যা আমাকে রীতিমতো বিস্মিত করেছে।
এই স্বল্প পরিসরে সবার নাম প্রকাশ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।
তবে আমি এখানে মাত্র তিনজন সম্মানিত পাঠকের মতামত বলছি- একজন হলেন
রিয়াদের ড. আরিফুর রহমান।
এক সময়ের বিটিভি’র
তুখোড়
অনুষ্ঠান উপস্থাপক।
এখনও যার উচ্চারিত শব্দগুলো থেকে যেন কুমিল্লার রসমালাইর রস টুপটাপ করে
ঝরে।
সদালাপ
এবং বাসভূমিতে প্রকাশিত আমার
উত্তরাধুনিক ছড়া দু’টি
নিয়ে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় ইংরেজী বর্ণমালা দিয়ে একটি বাংলা ছড়া লিখে
ইমেইল পাঠিয়েছেন।
যার বাংলা নমুনাটি বাসভূমি এবং সদালাপ এর মিলিয়ন পাঠকের সামনে তুলে ধরা
হলো-
দেওয়ান ভাই এর জন্য একটি জবরদস্তি
ছড়া... ছড়াকার দেওয়ান / তুমি যে মহান / লেখ ভালো ছড়া / কথাগুলো কড়া /
দিলে দেয় নাড়া / মন প্রাণ কাড়া / তোমাকে চায় না যারা / ঈর্ষাতে জ্বলে
তারা / চালু রাখ মসি / দেওয়ান তোমায় ভালোবাসি।
শেষান্তে
তিনি ছন্দ ছেড়ে ছন্দবিহীন কিছু কথা বলেছেন তাও ইংরেজী
বর্ণমালাতে বাংলায়- দেওয়ান বাসেত ভাই,
আপনার জন্যে ‘আদর্শ
লিপি অথবা মুকসুদুল মোমিন ষ্টাইলের জবরদস্তি
ছড়া ( জবরদস্তি মানে যারা
লিখায় অপারগ তবুও জোর করে লিখে ফেলে ) লিখলাম।
যা ছড়াকার ছাড়া কেউ পড়বে না।
তবুও আপনার সুন্দর দুটি ছড়া পড়ে আমার হঠাৎই চেতনা জেগে ওঠলো,
বিশেষ করে আপনার দ্বিতীয় ছড়াটির হিরোকে চিনতে পেরে।
থ্যাংক ইউ।
-ড.
আরিফ
*
এক অন্তবিহীন
ধন্যবাদ আপনাকে ড. আরিফুর রহমান আপনার ইংরেজী বর্ণমালায় লেখা বাংলা ছড়া
আর মতামতের জন্য - ছড়াকার দেওয়ান।
বষ্টন,
ইউ এস এ হ'তে
ড. এ কে আব্দুল মোমেন (বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং কলামিষ্ট) বরাবরের মতো
তিনি বলেই ফেলেছেন- ডিয়ার দেওয়ান বাসেত,
আপনি হলেন সউদী আরবের সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
ওনার মতামতের জন্য থাকলো আমার আন্তরিক
ধন্যবাদ।
তবে এমন মতামতের জন্য লজ্জাও পেয়েছি।
কেননা মহান সেই ছন্দের যাদুকরের কনিষ্ঠা আঙ্গুলের কাছাকাছি আমি আজও
আসতে পারিনি।-ছড়াকার
দেওয়ান।
সদালাপ এর আর একজন নিয়মিত তথ্য
ও তত্ত্বভিত্তিক শক্ত-সামর্থ কলামিষ্ট সেতারা হাশেম।
যিনি তাঁর পূর্বের একটি আলোচনায় (যা ছিলো রিয়াদের কমন দাদা
মেজবাহউদ্দিন জওহের এর ) একটি লেখার আলোচনা।
সেখানে তিনি ছন্দের জন্মকথা চমৎকারভাবে উপস্থাপন
করেছেন।
যা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে ওনার প্রতিটি শব্দের দ্যোতনায়।
সেখানে তিনি কিছুটা রাগ অনুরাগের সঙ্গেই উচ্চারণ করেছেন-দেওয়ান বাসেতের
উপরই ভর করেছে যত ছন্দের চঞ্চলতা।
সেতারা হাশেম আমার একজন প্রিয় লেখক।
ওনাকে তাঁর মতামতের জন্য বৃষ্টিভেজা কদম ফুলেরর্ শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ
জানাই।...ছড়াকার
দেওয়ান।
*এই
ছড়াটি লেখা শুরু করেছিলাম সেই ২০০০ সালের মার্চে আর সম্ভবতঃ চুড়ান্তে
আনতে পেরেছি এই জুন ০৮,
২০০৮ইং এ।।
রিয়াদ,
সউদী আরব।।