সদালাপ: দেশী-বিদেশী বাংলাদেশীদের -জার্নাল

Shodalap: An inclusive e-journal for Bangladeshis at home and abroad
 

 

 

 

হাদীস দু’নম্বরী? শিব নবী? গীতাও কোরআন? দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত এই এই নিবন্ধনটির আলোচনার সমালোচনা ও পর্যালোচনা।
‘সংস্কার’পুস্তকটির সমালোচনার পর্যালোচনা 

আবুল খায়ের

 

 

হাদীস দুই নম্বরী? শিব নবী? গীতাও কোরআন? এই নিবন্ধটি লেখকের প্রতি আমাদের অভিনন্দন এখন লেখকের দায়িত্ব প্রাশ্নবোধক চিহ্নটি প্রত্যাহার করে নেওয়া আমাদের মহান উদ্দেশ্য পবিত্র কোরআনের হে মানব জাতি এর আহ্বানে যথার্থ মূল্যায়ন বিশ্বের সকল মানুষই আল্লাহর বান্দা মানুষ মানুষের কোন ভেদাভেদ নাই মানুষই সৃষ্টি করেছে সকল ভেদাভেদ মানুষের ধর্ম অভিন্ন, সৃষ্টিকর্তাও এক সকল সৃষ্টির দায়িত্ব স্রষ্টার বন্দেগী করা

জনাব হারুন অর রশীদ

গত ১৭-০৯-০৩ইং তারিখে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় পৃষ্ঠাব্যাপী আপনার নিবন্ধটি পড়ে আমার কোরআনের একটি আয়াতের কথা মনে পড়ে যায় যার বাংলা অনুবাদ এইভাবেঃ যারা কুফরী করে তাদের উপমা যেমন, কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে আহ্বান করিতেছে অথচ, শ্রোতারা তাঁর হাঁক-ডাক ব্যতীত আর কিছুই শ্রবণ করে না অতএব, তারা বোবা, বধির, অন্ধ সুতরাং তারা বুঝিবে না” (বাকারা-১৭১)সংস্কার পুস্তকটি সম্পূর্ণভাবে পবিত্র কোরআনের উপর ভিত্তি করে রচিত ও এরই উদ্ধৃতিতে সমৃদ্ধ এবং বাংলা ভাষায় বাংলার জনগণের জন্য সরলভাবে লিখিত, যেন তাঁরা বুঝতে পারে অথচ, আপনি অর্বাচীনের মতো পবিত্র কোরআনের পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গিকে এড়িয়ে হাদীসকে সমর্থন করেছেন, জন্মান্ধের মতো একজন সত্যিকার মুসলিমের পক্ষে এমন কাজ করা মোটেও সম্ভব ছিল না পবিত্র কোরআনের উপমানুসারে আপনি কুফরী করিয়াছেন, নিঃসন্দেহেসংস্কার পুস্তকটির সমালোচনা করার কোনই যোগ্যতা আপনার নেই সমালোচনা লেখা তো দূরের কথা, এমনকি কোন সিদ্ধান্ত বা সারমর্ম একেবারেই ব্যক্ত করতে পারেননি, বরং ঠেলে দিয়েছেন এদেশের আলেম-ওলামাদের উপর অথচ, তারা পবিত্র কোরআনকে গুরুত্ব না-দিয়ে হাদীসকেই বেশি গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে থাকে তাহলে, আপনার সমালোচনার অর্থ কি রইল? পত্রিকার পাঠকদেরকে যেতে হবে আলেম-ওলামাদের কাছে, তারা কি পবিত্র কোরআনের সাহায্য নিবে, না হাসীদের মৌলিক সত্যটি জানার জন্য এমন সমালোচনা না লিখলেই পারতেন প্রকৃতপক্ষে আপনার এই নিবন্ধটি অর্থের বিনিময়ে আপন ঈমান বা আদর্শকে বিসর্জন দিয়েছেন, বলেই মনে হয় এটা কোন সমালোচনাই হয়নি বরং বলা যেতে পারে উস্কানিমূলক বিবৃতি, বিদ্বেষবশত চিন্তাভাবনা ও সামপ্রদায়িকতা সৃষ্ট করার লক্ষ্যে, পূর্ব-পরিকল্পনা পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গিতে যা, ‘শয়তানের ধর্ম ইনকিলাবের মতো প্রথম শ্রেণীর পত্রিকায় কলামিস্ট হিসাবে আপনাকে মোটেই মানায়নিসংস্কার পুস্তকটির লেখক জামিলুল বাশার তার পুস্তককে অধিকাংশ উদ্বৃত্তি দিয়েছেন পবিত্র কোরআনকে ভিত্তি করে- অথচ আপনি মূল কোরানিক তত্ত্বগুলোকে এড়িয়ে নিজের মতো বিক্ষিপ্ত আলোচনা করে, অসংলগ্ন মন্তব্য করেছেন সরল মনের পাঠকরা বিভ্রান্ত তো হবেই আর, এই উদ্দেশ্যেই ছিল আপনার মূখ্য আপনার নিবন্ধটি পড়ে এ কথাই স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, ভুলভ্রান্তি মানুষের থাকতেই পারে - তবে যুক্তির আধারে খন্ডন করা একজন সত্যিকার মুসলিদের দায়িত্ব ইন্ধন লাগিয়ে মানুষের ক্ষতি করা যায় সহজেই কিন্ত, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, মুসলিমদের জন্য ফরজ আপনার আলোচনায় শান্তি বা ইসলামের কোন বার্তাই নেই এই অসংলগ্ন আলোচনার জন্য তীব্র ঘৃণা প্রকাশ ব্যতীত আমাদের আর কিছুই রইল না অবশ্য আমরা আপনাকে কিছু ধন্যবাদ দিবো, অনেক কষ্ট করে এই দীর্ঘ নিবন্ধটি লেখার জন্য কারণ, আপনি আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছেন, আলোচনার সুত্রপাত ঘটিয়ে তা না হলে, আমাদের অনেক না বলা কথা বা তত্ত্ব প্রকাশ করার সুযোগ হতো না আপনাকে আবারো ধন্যবাদ

আপনার নিবন্ধটি পড়ে মনে হলো, আপনারা ১৩০ কোটি মানুষের জন্য চিন্তিত, চমৎকার বাকী ৪৭০ কোটি বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য আপনাদের তেমন কোন চিন্তাভাবনা নেই - এ কেমন কথা অথচ, পবিত্র কোরআনে সার্বিকভাবে সকল মানুষদের পক্ষে আহ্বান রয়েছে, “হে মানবজাতি অথবা হে বনি-আদম হিসাবে কোরআনে কোথাও লেখা নেই হে মুসলিম একটা কথা মনে রাখবেন, বিশ্বের সকল মানবজাতির জন্যই পবিত্র কোরআন বিশ্ববাসীর মঙ্গলের জন্য ধর্ম, গোত্র, বর্ণ ভিত্তিতে মানুষদেরকে ঘৃণা করলে চলবেনা - তাদেরকে আপন করে নিতে হবে, ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে মানুষ মানুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ, ধর্ম, বৈষম্য এবং ধর্মের জন্য মানুষের উপর কোনই জোড়জবস্তি নেই, পবিত্র কোরআনে তা নিষিদ্ধ

এই ১৩০ কোটি মানুষের দোহাই দিয়ে আপনাদের নিকট আমাদের প্রশ্নঃ মসজিদে জামাতে ইমাম সাহেব নামাজ আদায় করার জন্য যে সূরাগুলো পড়েন, মুসল্লিরা ঐ সকল আয়াতের ইমাম সাহেবের উচ্চারণরণে আওয়াজ ব্যতীত অন্যকিছু কি শোনেন? অধিকাংশ মুসল্লিরা আওয়াজ ব্যতীত অন্যকিছু শোনে নাই কারণ, আরবি ভাষা অনেকেরই জানা নেই তবে কি, ইমাম সাহেবসহ সকল মুসল্লিরা কুফরী করিতেছেন? যারা কুফরী করে, তারাই তো কাফের, কি বলেন? পবিত্র কোরআনের উপমানুসারে এই বিষয়ে বিশ্বের সকল আলেমা-ওলামাদের প্রতি আমাদের প্রশ্নের উত্তরের জন্য ফতোয়ার দাবী রইল আমরা জানি, এই প্রশ্নের সরল উত্তর আপনাদের জানা নেই এবং স্পষ্টভাবে অনুভব করছি আপনরা আল্লাহ বাণীকে অর্থাৎ কোরানিক সত্যকে ধামা-চাঁপা দেয়ার জন্য শয়তানিক কায়দায় অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিবেন আর, এই কারণেই প্রায় ১৪শত বছর পূর্বে হযরত মুহাম্মদ ও চার খলিফার মৃত্যুর অনেক পরে হাদীসের জন্ম, যা ছিল ইসলামের ধংশ করার জন্য যথেষ্ট এরই পরিপেক্ষিতে মুসলমানরা নানা দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে, কোরআনে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও আপনারা নানা কৌশলে ধর্ম ব্যবসায়কে টিকে রাখার জন্য অযৌক্তিক ব্যাখ্যা অথবা ফতোয়া প্রদান করে কোটি কোটি মানুষকে প্রতারণা করে আসছেন, নিজেদের হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য আমাদের উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর কখনো দিতে পারবেন না, ১৩০ কোটি মানুষকে গুমরাহ্‌ করা ব্যতীত এই ধর্মপ্রাণ মানুষের গুমরাহ্‌ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই যুগে যুগে নবী-রাসুলরা এসেছেন, তাদের নিজস্ব ভাষার উপর ভিত্তি করেই পবিত্র কোরআনে এই কথাগুলো লেখা রয়েছ স্বর্ণাক্ষরে আপনাদের ভীত হওয়ার কোন যুক্তসংগত কারণ নেই যেহেতু, মজিবুল হক তাঁর প্রেরণার বাণীতে অত্যন্ত সরলভাবে প্রকাশ করেছেন তিনি স্পষ্ট করেছেন মানুষের সামাজিক মন্ত্রকে - পরার্থেই মানুষের মঙ্গল নিহিত ও জীবনের লক্ষ্য এই অভিষ্ট লক্ষ্যেই তিনি পবিত্র কোরআনকে সর্বত্রভাবে মূল্যায়ন ও প্রমাণ করেছেন বাংলার ভাষার মাধ্যমেই কারণ, মাতৃভাষাই মানুষের বুঝবার সর্বত্তোম উপায় তার প্রেরণার বাণীগুলোতে রয়েছে মানুষের মুক্তির পথ মুসলিম শব্দের বিপরীত শব্দ কাফের কাফের শব্দের অর্থ মুর্খ বা অজ্ঞ, আভিধানিকভাবে আবার, মুর্খের বিপরীত শব্দ জ্ঞানী আর জ্ঞানীরাই মুসলিম সকল মানুষের ইবাদাত বা উপাসনার অথবা প্রার্থনার মূল লক্ষ্যই হলো জ্ঞান অর্জন করা এছাড়া, মানুষের আর কোন লক্ষ্য নেই জ্ঞানই মানুষের সকল ক্ষমতার উৎস এই ক্ষমতার জন্যই মানুষ সকল প্রাণীকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও স্রষ্টার প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যমুসলিম কখনো কোন ধর্মাবলম্বী মানুষের নাম নয়, বরং মানুষের মহান্তসত্ত্বা, তথা মানবতাবোধ এই বোধেই মানুষ তার মানবিক-আচরণে মনুষ্যত্ব অর্জন করেছে মানুষের একটাই ধর্ম, তার মনুষ্যত্ববোধ এই বোধে কোন ধর্মেও মধ্যে কোন বিরোধ নেই মানুষের অন্যকোন ধর্মও নেই বিশ্বের সকল নবী-রসুলদের ধর্ম অভিন্ন আল্লাহ বলেন, তার নিয়মের কোন পরিবর্তন নেই আমাদের লড়াই সর্বদা কাফের তথা মূর্খতার বিরুদ্ধে, মানুষ মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ অবশ্যই মুর্খতার পরিচয় সকল সময়েই মানুষের লড়াই অজ্ঞতা বিরুদ্ধে

আল্লাহের ধর্ম কি? পবিত্র কোরআনে এই সম্পর্কে কি বলে, আপনাদের কি জানা আছে? না জানারই কথা কারণ পবিত্র কোরআন আপনারা বুঝে পড়েন না পবিত্র কোরআনে ১০৭ নং সূরা মাউন পড়লেই বুঝতে পারবেন, আল্লাহর ধর্ম সম্পর্কে সূরা মাউন পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে আল্লাহ ধর্মকে কারা অস্বীকার করে? যারা মানুষের মঙ্গল করে না, তারাই আল্লাহর ধর্মকে অস্বীকার করে তাদের নামাজও হবে না তারা নামাজ পড়ে লোক দেখানোর জন্য এবং তারা সম্পূর্ণভাবে নামাজ সম্পর্কে অজ্ঞ অতএব, মানুষের ধর্ম মানুষের মঙ্গলের জন্যেই মানবধর্মের মধ্যে কোন জাতিভেদ বা ধর্মাভেদ নেই সকল মানুষই আল্লাহর বান্দা, আদমের বংশধর - এমনকি হযরত মুহাম্মদও (স) আল্লার বান্দা একথাগুলো পবিত্র-কোরআন শরীফেরই

আমাদের সংগঠনের নাম ইয়ং মুসলিম সোসাইটি’, ব্রাকেটে ভদ্র যুব-সংসথা আপনার সমালোচনায় আপনি প্রথমেই আক্রমণ করলেন আমাদের সংগঠনের নামকরণের ভদ্র শব্দটি ঘিরে এই ভদ্র শব্দটা আপনাদের নিকট রহস্যজনক ও সন্দেহযুক্ত কিন্ত কেন, আমরা এই সংশয়ের যথার্থ কারণ বুঝতে পারছি না! এই ভদ্র শব্দটার সাথে কেন আপনারা এত অভদ্র ব্যবহার করছেন? নিশ্চয় আপনাদের মধ্যে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে? প্রকাশ করতে পারছেন না বাংলার মানুষের রোষানলে ভয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি আপনাদের পছন্দ নয় - আপনারা পশ্চিমাদের দালাল যদিও দালালী করে কিছু পান না আমাদের এই শুভ যাত্রাকে আপনারা কোনভাবেই ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন নাসংস্কার এগিয়ে চলবে, এই বিশ্বের সামাজিক ব্যবসথাকে সংস্কার করে কারণ, আমরাই মানবধর্মের সত্যের পথে রয়েছি, পবিত্র কোরআনের দিক নির্দেশনায় ব্রাকেট বন্দী ভদ্র যুব-সংসথা আমাদের সংগঠনের নামমাত্র এর মধ্যে অন্যকোন তাৎপর্য বহন করে নাভদ্র শব্দের তাৎপর্য হলো মুসলিম হওয়ার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য ভদ্রতা ব্যতীত কোন মানুষই মনুষ্যত্ব দাবী করতে পারে নি এই সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে অনেক উপমা রয়েছে, ‘ধৈর্য ও বিনীত হলো ভদ্রতার লক্ষণধৈর্য বিনীতরা ব্যতীত নামাজ পড়া অত্যন্ত কঠিন, কোরআনেরই কথা (সূরা বাকারা ৪৫)মুমিন শব্দটা কোরআনে বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ ভদ্র অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুসলিম শব্দের পাশে আমরা ভদ্র শব্দটা ব্যবহার করাতে আপনাদের এত গাঁ জ্বালা হলো কেন? আজ বিশ্বের সকল মুসলনামরা কোন না কোন ব্যক্তির নামে ব্রাকেটে বন্দী হয়ে আছে একথা কি আপনি জানেন? আপনি নিজেও হয়তো সুন্নী মুসলমান, ‘হানাফী মযহাবের আর, বিশ্বের সকল মুসলমানই শিয়া, সুন্নী, খারেজী, হাম্বেলী, হানাফী, মোসলেম, শাফীই আরো কত নামে বাংলাদেশে আটরশী, ফুরফুরা, শর্ষীনা, মাইজভান্ডারী ইদানিং শুনছি কাদিয়ানী মুসলিম্‌ এত ব্রাকেট বন্দী মুসলমান থাকা সত্ত্বেও মুসলিম হিসেবে আপনাদের কোন দুঃখ তো নেইই বরং নাঙ্গা তলোয়ার নিয়ে একে অপরের সাথে লড়াই করে চলেছেন ১৪শত বছর ধরে যা, পবিত্র কোরআনে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ আমরা নিজেদেরকে এই ধরণের মুসলিম হিসাবে পরিচিত করতে চাই না বরং ঘৃণা প্রকাশ এবং প্রত্যাখ্যান করে আসছি আমরা মুসলিম হবার চেষ্টা করছি মাত্র, তবে পার্শীয়ানদের দেওয়া নাম মুসলমান হিসাবে নয়, যদি আপনারা আমাদের পরিচিতিতে কোন অসুবিধা হয়, তবে আপনারা ভদ্র মুসলিম হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেন

আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখলাম, ভদ্র যুব-সংসথা আমাদের সংগঠনের নামমাত্র, অন্যকিছু নয় আর, ভাল নামকরণ অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য একটা উদাহরণ দিতে বাধ্য হলাম, আপনাদের বুঝার স্বার্থে যেমন, ধরুন আপনার নাম হারুন অর রশীদ ও ডাক নাম ঠান্ডা মিয়া অথবা নাবালক মিয়া এখন যদি আপনার নাম লেখার পর ব্রাকেট ঠান্ডা মিয়া লেখি, তবে কি কোন অপরাধ হবে? নাকি কোন রহস্যময় তাৎপর্য বহন করবে? এই বিবেচনার দায়িত্ব আপনার উপর রেখে দিলাম এই মুসলিম তত্ত্বটা হযরত মুহাম্মদ(সা)-এর দেয়া কোন নাম নয়মুসলিম এর আলোচনার সুত্রপাত ঘটেছিল হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জন্মের প্রায় তেইশশত বছর পূর্বে এই কথা কি আপনার জানা আছে? “মুসলিম তত্ত্বকে ভিত্তি করেই ইসলামের প্রবর্তন হয়েছে ইসলাম কোন ধর্ম নয় বরং মানুষের জীবনবিধান অথবা মানবজাতিকে অভিন্ন রাখারই সংবিধান বা উপায়, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পবিত্র কোরআনকে ভাল করে পড়ু, ‘ইসলাম মুসলিমের তাৎপর্য বুঝুন এবং হাদীসকে দুই নম্বরী থেকে এক নম্বরী করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন কারণ, আল্লাহ সকল সৎকর্মকে গ্রহণ করেন এবং যে কোন গুমরাহ বা কুফরীর জন্য আল্লাহর লানত বা অভিশাপসংস্কার পুস্ককটি এই কথাই বলতে চেয়েছে

আপনার নিবন্ধটি পড়ে মনে হয়েছে, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গিতে মুসলিম’-এর মূল-তত্ত্বটাই আপনাদের একেবারেই জানা নেই তাহলে, আপনারা মুসলিম হবেন কিভাবে? আপনারা এখনও মুসলিম হননি, পবিত্র কোরআন দিয়ে তা বহুভাবে প্রমাণ করা যায়মুসলিম কখনো হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলমানদের মতো কোন বংশানুক্রমে নাম নয় মানবতাবোধই হলো মুসলিম হওয়ার মূল তাৎপর্যমুসলিম শব্দের মাধ্যমেই ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল পবিত্র কোরআনেরই এর বর্ণনা রয়েছেমুসলিম শব্দের বাংলা করেছেন ইসলামী ফাউন্ডেশন, “আত্মসমর্পণকারী এই বাংলা অর্থটি যথার্থ বলে মনে করি এখন দেখুন পবিত্র কোরআন মুসলিম সম্পর্কে কি বলে

হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর আদেশে বলিয়াছিলেন আমি আত্মসমর্পণ করিলাম, জগৎ সমূহের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে” (সূরা বাকারা-১৩১) আরো দেখা যায় সুরা আনাম ১৬২নং আয়াতে আল্লাহ হযরত ইব্রাহীমকে আল্লাহ বলিলেন, “বল আমার সালাত আমার কর্ম, আমার জন্ম জগৎ সমূহের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সূরা আনআমের ১৬৩নং আয়াতে হযরত ইব্রাহীমের ঘোসণা করিলেন, “মহান স্রষ্টার কোন কোন শরীক নেই আমি আদিষ্ট হয়েছি ইহার জন্য এবং আমি প্রথম মুসলিম এই ছিল কোরআনের মুসলিম হওয়ার কাহিনী আল্লাহর উদ্দেশ্যে সর্বস্ব ত্যাগের বিনিময়ে হযরত ইব্রাহীমই প্রথম মুসলিম অতএব, মুসলিম হওয়া দীক্ষাই হলো ইসলামের ধর্ম অর্থাৎ ইব্রাহীমের আদর্শ সূরা বাকারা-১৩২ নং আয়াতে আল্লাহ ইসলামকে দ্বীন বা ধর্ম হিসাবে মনোনীত করেছে শুধু তাই নয়, নবীদের প্রতি আদেশ ছিল মুসলিম নাহইয়া মৃত্যু বরণ করিও না (সুরা বাকারা-১৩২) মুসলিমদের নিকট সালাতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কোন ফরজ নয় বরং জীবনের অংশ ও জীবিকার উপায় এই কথা আমাদের চিন্তাচেতনায় এখনও বিকাশ ঘটেনি বরং অনর্থভাবে প্রহসন করছেন,